Tag: United States

  • চীনের আঙুলে গোটা বিশ্ব? নৌঘাঁটিতেই লুকিয়ে রহস্য! সমুদ্র বাণিজ্যে বড় টার্ন,  টেনশনে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র

    চীনের আঙুলে গোটা বিশ্ব? নৌঘাঁটিতেই লুকিয়ে রহস্য! সমুদ্র বাণিজ্যে বড় টার্ন, টেনশনে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    নজরে যুক্তরাষ্ট্র, গোটা বিশ্বে সামরিক জাল বিছিয়ে দিচ্ছে চীন। দেশে দেশে আরও ৮ টি নৌঘাঁটির প্ল্যান, বড় কোনো ছক কষছেন শি জিনপিং? মানচিত্রে কোন কোন জায়গা হাইলাইটেড? চীনের সমুদ্র বাণিজ্যে বড়সড় পরিবর্তন, জোর ধাক্কা খাবে যুক্তরাষ্ট্র। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আমেরিকার পাট চুকিয়ে দেবে। ভারতের ঘাড়েও ফেলবে নিঃশ্বাস। কোন কাজে লাগানো হবে এসব নৌঘাঁটি? সিক্রেট ফাঁস! এবার কি গোটা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণের ছক? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন আগামী কয়েকটা বছর কিন্তু খুব ইম্পর্ট্যান্ট একদিন দুদিন নয়, ২১টা বছর ধরে পরিকল্পনা সাজিয়েছে বেইজিং। বিশ্বের ৪৬টা দেশে ৭৮টি বন্দরে ১২৩টি প্রজেক্টে টাকা ঢেলেছে।অবকাঠামো নির্মাণও কমপ্লিট। টার্গেট, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে দেওয়া।

    এছাড়া বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং নিজের শক্তিমত্তার জানান দিতে বিভিন্ন মহাদেশে নৌঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা চীনের। নির্দিষ্ট আটটা জায়গার মধ্যে রয়েছে শ্রীলংকার হাম্বানটোটা, নিরক্ষীয় গিনির বাটা, পাকিস্তানের গোয়াদর, ক্যামেরুনের ক্রিবি, কম্বোডিয়ার রিম, ভানুয়াতুর লুগানভিল, মোজাম্বিকের নাকালা, মৌরিতানিয়ার নোয়াকচট শ্রীলংকার এই চীনা নৌঘাঁটি ভারতের রক্তচাপ বাড়াচ্ছে। কারণ এখান থেকেই চীন ভারত মহাসাগরে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। চীন এই বন্দরে অলরেডি ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করে ফেলেছে। যা এককভাবে কোনো বিদেশি বন্দরে চীনের সর্বোচ্চ খরচ। ২০১৭ সালে ৯৯ বছরের জন্য এই হাম্বানটোটা বন্দর ইজারা নেয় চীন। পশ্চিম আফ্রিকার গিনিতেও যথেষ্ট প্ল্যান করে বন্দর তৈরি করেছে চীন। এই ঘাঁটি আমেরিকা মহাদেশের খুব কাছে হওয়ায় এটা চীনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ফ্যাক্টর।

    এখান থেকে পশ্চিম আটলান্টিকে চীন তার সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায়। আর পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক বেশ ভালো। পাকিস্তানের নৌবাহিনী চীনা অস্ত্রের বৃহত্তম বিদেশি ক্রেতা, পাকিস্তানের নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণের কাজ করছে চীন। আর চীনা যুদ্ধজাহাজগুলো অলরেডি পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দরে অবস্থান করছে। এখান থেকে চীন এশিয়ার একটি বিশাল অংশের ওপর তার প্রভাব বজায় রাখতে পারে। ক্যামেরুনের ক্রিবি বন্দরটিতেও চীনের বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে। এখান থেকে মধ্য আটলান্টিকে চীন তার বাণিজ্যিক ও সামরিক কার্যক্রম চালায়।ঔ মধ্য-পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবে এই বন্দর চীনের জন্য ইম্পরট্যান্ট। কম্বোডিয়ার অভিজাতরা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ। ভারত মহাসাগর থেকে দক্ষিণ চীন সাগরের প্রবেশমুখে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়াড মোকাবিলায় কম্বোডিয়ার রেমে অবস্থিত এই বন্দর চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    এছাড়া, ভানুয়াতুর এসপিরিতু সান্টো দ্বীপের পোর্ট লুগানভিলে অর্থায়ন করেছে চীন। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে নিজের সামরিক অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করতে ছোট্ট এই দ্বীপ দেশের বন্দরে চীনের সামরিক ঘাঁটির সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা। এমনকি, মোজাম্বিকেও নৌঘাঁটি গড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া, পশ্চিম আফ্রিকার মৌরিতানিয়ার নোয়াকচট। ইউরোপের কাছাকাছি এবং জিব্রাল্টার প্রণালির মতো চোক পয়েন্টগুলোর- কাছাকাছি হওয়ায় এখানে চীন তার উপস্থিতি জরুরি বলে মনে করে। যদিও চীনের বিনিয়োগগুলো বেশিরভাগই উন্নয়নশীল দেশে তবুও চীন একাধিক রাশিয়ান নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। কারণ চীনা স্পষ্টভাবেই পশ্চিমাবিরোধী একটি উত্থান চায়। বিশ্লেষকদের মতে চীনা অর্থায়নে নির্মিত এই অবকাঠামোগুলো যে কোনো সময়ে চীন কিন্তু সামরিক কাজে ব্যবহার করতে পারবে। চীনা আইন অনুসারে এসব বেসামরিক বন্দরগুলো প্রয়োজনে চীনা নৌবাহিনীকে লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করবে। যে দেশের প্রজেক্টে চীনের বিনিয়োগ যত বড়, সেখানে বেইজিং তত বেশি সুবিধা চাইবে বলে মনে করা হচ্ছে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • সমুদ্রে তোলপাড় চীনের, রিস্ক জোনে যুক্তরাষ্ট্র। রক্তচাপ বাড়াচ্ছে জিন ক্লাস সাবমেরিন, অ্যাটাকের প্ল্যানে রাশিয়াও?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    জলের তলায় চীনের খেলা। ‘যুক্তরাষ্ট্রের বুকে’ আঘাতের প্ল্যান। কতটা চাপে পড়ে গেল আমেরিকা? পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত সাবমেরিন মোতায়েন করে দিল চীনা ফৌজ। মারাত্মক ভবিষ্যদ্বাণী করে দিলেন সামরিক বিশ্লেষকরা। রিস্ক বাড়ছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নৌবাহিনীকে বুস্ট আপ করতে চাইছে। ২০৩০ এ বড় বিপদের আশঙ্কা। স্নায়ুযুদ্ধের সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। আমেরিকার টেনশন বাড়াচ্ছে রাশিয়াও। পালিয়ে বাঁচার উপায় কোথায়?

    সমুদ্রপথেও যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচাপ বাড়াচ্ছে বেইজিং। চীনের আর্মি নেভিতে অত্যাধুনিক সাবমেরিন প্রথমবারের মতো। চীন তার সমুদ্র উপকূলে পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত সাবমেরিন নামিয়েছে। চীনের ‘জিন’ শ্রেণির ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সমৃদ্ধ সাবমেরিনের বহর হাইনান দ্বীপ থেকে দক্ষিণ চীন সাগর পর্যন্ত টহল দিচ্ছে। এতে বিরাট চাপে যুক্তরাষ্ট্র সহ তার মিত্ররা। চীনা সাবমেরিনগুলো তৃতীয় প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র জেএল-৩ সজ্জিত। আনুমানিক ১০ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে এক্সপার্ট। আর, রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী অত্যাধুনিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি ‘যুক্তরাষ্ট্রের বুকে’ আঘাত হানতে পারবে।

    অন্তত পাঁচজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, চারজন সমর বিশেষজ্ঞ সাবমেরিনগুলোকে চীনের সক্ষমতার ‘গুরুত্বপূর্ণ সূচক’ বলে মনে করছেন। সামরিক বিশ্লেষকদের ভবিষ্যদ্বাণী, ভীত নাড়িয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্রের। তাঁরা বলছেন চীনা কৌশলবিদেরা আর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে টহল দেবে না। পরিবর্তে জেএল-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ চীন সাগরে সাবমেরিনগুলো প্রস্তুত রাখবে। যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিঃসন্দেহে রিস্ক ফ্যাক্টর। একদিকে চীনের দ্রুত অস্ত্র সক্ষমতা অর্জন নিয়ে টেনশনে যুক্তরাষ্ট্র। যা কিনা স্নায়ুযুদ্ধের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়ার নৌবাহিনীকে ঠেকাতেও যুক্তরাষ্ট্র সজাগ। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কম যায়না। মাথায় রাখতে হবে, জলের নীচের যুদ্ধে শুধু অস্ত্রের দিক থেকে শক্তিশালী হলেই হয় না, কোন সাবমেরিন কত কৌশলে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে নিজেকে লুকাতে পারে সেটাই সবথেকে বেশি প্রয়োজন।

    এর উপরে নির্ভর করে আন্ডারওয়াটার নিউক্লিয়ার ওয়ার এর জয় পরাজয়। নিজেকে শত্রুপক্ষের সাবমেরিন থেকে বিপদ মুক্ত রাখার ক্ষমতা আর শত্রুর প্রতিরক্ষা ভেদ করে তার এলাকায় মিসাইল ছোঁড়ার সক্ষমতা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার সাবমেরিন গুলোর শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করে। সেদিক থেকে চিন্তা করলে জলে, স্থলে, আকাশে পারমাণবিক শক্তি প্রদর্শনে সাবমেরিন গুলোই যুক্তরাষ্ট্রের সেরা অস্ত্র। এরমাঝেই, আমেরিকা আগের চেয়েও বিশাল আকারে ১৬ টি মিসাইল বহনে সক্ষম কলম্বিয়া ক্লাস সাবমেরিন তৈরি করছে, যাতে ইলেকট্রিক ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে। যা, ভবিষ্যতের সাবমেরিন যুদ্ধে চীনকে পেছনে ফেলতে পারবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • মাটিতে পড়ে দৈত্যাকার বোমা, ফাটবে যে কোনো মুহূর্তে! কোন ভুলের মাশুল গুনছে জার্মানি?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    মাটিতে পড়ে ১ টনের দৈত্যাকার বোমা। কখন ফাটবে কেউ জানে না। যে কোন মুহূর্তে কেঁপে উঠবে পুরো দেশ। আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি করছে হাজার হাজার মানুষ। নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উস্কানি। না, এটা কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়। মহা চিন্তায় জার্মানি। মাটি খুঁড়লেই বেরিয়ে আসছে ভয়ঙ্কর বোমা। যুদ্ধ মিটেছে কবে, কিন্তু এখনও ঘুরপথে শত্রুতা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র! দেশটাকে কোন ভুলের মাশুল গুনতে হচ্ছে?

    জার্মানির ডুসেলডর্ফ শহরের পরিত্যক্ত এলাকায় উদ্ধার হয়েছে দৈত্যাকার বোমা। ঘর ছাড়া ১৩ হাজার মানুষ। চিড়িয়াখানা নির্মাণের কাজ চলছিল ঠিক তখনই বোমাটি চোখে পড়ে। একবার ভাবুন তো, এক টন ওজনের বোমা যদি একবার বিস্ফোরণ ঘটে তাহলে প্রলয় ঘটে যাবে। বোমাটির ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সমস্ত মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে পুরো এলাকা। বাতিল হয়েছে বেশ কয়েকটা ট্রেন। বন্ধ ট্রাম রাস্তা। সব রাস্তায় গাড়ি ঢুকতেও পারছে না। সবকিছু মিলিয়ে জার্মানিতে এখন হুলস্থুল কাণ্ড। বোমাটি নিষ্ক্রিয় হলে তবেই বিধি নিষেধ তোলা হবে। কখন ফাটবে কেউ জানে না। কাজ করছে চাপা উত্তেজনা। এই বুঝি কিছু হয়ে গেল। এর আগে ২০১৭ সালের ফ্রাঙ্কফুর্টের পরিত্যক্ত স্থান থেকে প্রায় ১.৪ টনের বোম উদ্ধার হয়েছিল। তখন রাতারাতি সরিয়ে ফেলা হয় ৬৫ হাজার মানুষকে। ২০২১ সালে মিউনিখ রেল স্টেশনেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহৃত বোমা পাওয়া যায়। বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হন ৪জন।

    কিন্তু কেন? কোন শত্রুতায় জার্মানি এত ভুগছে? যেখানে গোটা বিশ্বজুড়ে বারংবার যুদ্ধ নয় শান্তির কথা বলা হয়, সেখানে বোমা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে জার্মানি। জার্মানিতে এত পরিমাণে অতিকায় বোমা কোথা থেকে আসে এটা জানতে গেলে ফিরে যেতে হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। প্রায় ৭০ বছর আগে জার্মানির নাৎসি বাহিনীকে পরাজিত করতে উঠেপড়ে লেগেছিল যুক্তরাষ্ট্র আর তার মিত্র বাহিনী। কয়েক হাজার যুদ্ধবিমান নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল জার্মানির দিকে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছিল প্রচুর গোলাবারুদ। ১৯৪০ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে মার্কিন এবং ব্রিটিশ বিমান বাহিনী ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ২.৭ মিলিয়ন টন বোমা ফেলেছিল। যার অর্ধেকটা ফেলেছিল শুধুমাত্র জার্মানিতে। যার অধিকাংশ এখনো রয়েছে মাটির নিচে। তার মধ্যে কোনোটা বিস্ফোরণ ঘটে, আবার কোনোটা উদ্ধার হয়। মাঝেমধ্যেই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি। বর্তমানে জার্মান সেনাবাহিনীর বিশেষ রোবট রয়েছে। যেটি বোমা নিষ্ক্রিয় করার কাজ করে।

    বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে, পেরিয়ে গেছে অনেকটা সময়। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি দেশগুলোর ক্ষতিপূরণের হিসাব নিকাশ। যুদ্ধের শেষে চুক্তি অনুযায়ী এখনো দাবি মিটিয়ে যাচ্ছে জার্মানি। আর কিছু কিছু দেশ ক্ষতিপূরণ এখনো পুরোপুরি দিতে পারেনি। আশ্চর্যের বিষয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য সবথেকে বেশি ক্ষতিপূরণের দাবি করা হয়েছিল জার্মানির উপর। কিন্তু ঠিক কতটা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তা আজও অস্পষ্ট। ইউরোপ সহ মিত্রশক্তির দেশগুলো নানান সময় ভিন্ন ভিন্ন অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করে এসেছে। শুধু ক্ষতিপূরণই নয় জার্মানিকে খর্ব করতে হয়েছে নিজের শক্তি। জার্মানির মতো একইভাবে ক্ষতিপূরণের বোঝা বইতে হয়েছে জাপান, ইতালি, ফিনল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া সহ বেশ কয়েকটা দেশকে। একদিকে ক্ষতিপূরণ, তার উপর বোমা আতঙ্ক, যা জার্মানিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত ভুলতেই দেয় না।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • পাওয়ারফুল মিলিটারির জালে জড়িয়ে ভারত ! উড়ে গেল পাক-চীন ? কার্গিল পাওয়ালো বেশি নম্বর

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভয়ানক মিলিটারি কোন দেশে? যে দেশকে যুদ্ধে হারানো অসম্ভব। ভারতীয় সেনার সঙ্গে পেরে ওঠা সহজ নয়। চিরশত্রু পাক-চীনের চেয়ে কতটা এগিয়ে ভারত? গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার এর রিপোর্টে ১৪৫ দেশের ব়্যাঙ্কিং। কোন কোন বিষয়ের উপরে এই ব়্যাঙ্কিং দেয় জিএফপি? কোন ফর্মুলায় তালিকার এই নম্বরে উঠে এলো ভারত? সন্দেহ নেই, সামরিক শক্তির নিরিখে ভারত ক্রমশ ফুলে ফেঁপে উঠছে। সামরিক খাতে সরকারের বরাদ্দ, মিলিটারি পার্সোনেলের সংখ্যা, আকাশ, নৌ এবং সামরিক বাহিনীতে মোট কর্মীর সংখ্যা, তাঁদের গড় বেতন, সামরিক বাহিনীর কাছে থাকা অস্ত্রশস্ত্রের ওজন, অত্যাধুনিক অস্ত্রের উৎপাদন, সব দিক থেকেই ভারতের স্ট্রেন্থ দেখার মতো। কিন্তু অন্তত ৬০টি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে সামরিক শক্তির ব়্যাঙ্কিং দেওয়া সংস্থা গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের রিপোর্ট বলছে ফের একবার সৈনশক্তির দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের তকমা পেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থেকে আমেরিকার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে রাশিয়া-চীন। আর ভারত?

    প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ব়্যাঙ্কিংয়ে স্থান অপরিবর্তিত রয়েছে ভারতের। গত বছরের মতো এবারও চতুর্থ স্থানে রয়েছে নয়াদিল্লি। অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের জোগান এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বার বার সীমান্ত সংঘাত সেনার শক্তি বৃদ্ধি করেছে। চীনের দাদাগিরি বন্ধ করতে গত কয়েক বছর ধরেই সামরিক শক্তি বাড়িয়ে চলেছে ভারত। ফলে আগামী দিনে এই দেশ তৃতীয় স্থানে উঠে আসতে পারে বলে দাবি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের।অন্যদিকে, সামরিক শক্তির দিক থেকে গত বছর অষ্টম স্থানে ছিল ব্রিটেন। এবার পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে এই দেশ। অন্যদিকে ব়্যাঙ্কিং খারাপ হয়েছে জাপান ও ফ্রান্সের। গত বছরের তালিকায় পঞ্চম স্থানে ছিল জাপান। এবার তিন ধাপ নেমে অষ্টম স্থানে চলে এসেছে প্রশান্ত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্র। সপ্তম থেকে নবম স্থানে নেমেছে ফ্রান্সও।

    তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল GFP-র দেওয়া ব়্যাঙ্কিংয়ে ১৫ নম্বরে জায়গা পেয়েছে ইউক্রেন। যাকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সেদেশের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পাশাপাশি প্রথম দশে জায়গা পেয়েছে পাকিস্তানও। সপ্তম স্থানে রয়েছে পরমাণু শক্তিধর ভারতের প্রতিবেশী এই রাষ্ট্র।এর পাশাপাশি কম শক্তিশালী ১০টি দেশর তালিকাও প্রকাশ করেছে GFP। এর মধ্যে রয়েছে ভুটানের নাম। হিমালয়ের কোলের দেশটি ছাড়াও তালিকায় জায়গা পেয়েছে সোমালিয়া, মলডোভা, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও আইসল্যান্ড। কিন্তু, কী কী বিষয়ের উপরে এই ব়্যাঙ্কিং দেয় GFP? এক্ষেত্রে প্রথমে দেখা হয় কোনও দেশের মোট সৈন্য শক্তি। পাশাপাশি, ওই রাষ্ট্রের হাতে থাকা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও অর্থনৈতিক অবস্থাও বিবেচনা করা হয়।

    সেদিক থেকে দেখতে গেলে, দিল্লি বেজিংকে হারিয়েছে কেবলমাত্র একটি জায়গায়। চীনের ওই বিশাল সেনা শেষ বার যুদ্ধ করেছিল আজ থেকে ৪৪ বছর আগে। ১৯৭৯ সালে ভিয়েতনামের বিরুদ্ধেই লালফৌজের রণকৌশল দেখা গিয়েছিল শেষ বার। তার পর থেকে ৪৪ বছর চিন আর কোনও যুদ্ধ করেনি।অন্য দিকে, ভারত শেষ বার যুদ্ধ করেছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, মাত্র ২৪ বছর আগে। কার্গিলের সেই যুদ্ধে ভারতীয় সেনা জয় পেয়েছিল। তখনই ভারতীয় সেনার পারদর্শিতা শেষ বার দেখেছিল দুনিয়া। তাই, যুদ্ধের সরঞ্জাম থেকে শুরু করে সেনার ক্ষমতা, চিন দিনের পর দিন তার সামরিক শক্তি যতই বাড়িয়ে চলুক না কেন, তারা রণকৌশল ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়নি দীর্ঘ ৪৪ বছর। ফলে ভারত এ ক্ষেত্রে চিনের চেয়ে এগিয়ে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • যুক্তরাষ্ট্রে বড়সড় অস্ত্রের কারবার! রাশিয়া-চীন কোথায়, টার্গেট ইউক্রেন নাকি ইরান ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রের পাহাড়? এই দেশে অস্ত্র যেন হাতের মোয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কারখানা গুলোতে চলছে ব্যাপক তোড়জোড়। কী কী তৈরি হচ্ছে? ইউক্রেনের জন্যই কী সর্বশক্তি দিয়ে এতো এতো অস্ত্র বানাচ্ছে দেশটা? কেন নতুন করে অস্ত্র নির্মাণে এতো বরাদ্দ দিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর? নাকি অন্য কোনও যুদ্ধের প্ল্যান? অলরেডি সামরিক খাতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে পেন্টাগন। দেশটির বিভিন্ন কারখানায় তৈরি হচ্ছে আর্টিলারি শেল, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র। আর্টিলারি শেলের উৎপাদন বাড়ানো হবে ৫০০ শতাংশ

    তাছাড়া, প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল পিআরএসএম এর প্রাথমিক উৎপাদনের জন্য মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানি লকহিড মার্টিন কে ৪৪.৩ মিলিয়ন ডলার তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। নতুন এই গোলাবারুদ ব্যালিস্টিক মিসাইল এর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে যার রেঞ্জ ৩০০ কিলোমিটার। তাছাড়াও, লঞ্চার সিস্টেম, উইপন কন্ট্রোল সিস্টেম, মিসাইল তৈরির উপকরণ এবং আরো বেশ কিছু যন্ত্রাংশ তৈরির কাজ চলছে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এবং বিরোধী দেশগুলো হাইপার সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। নতুন এই অস্ত্র শব্দের চেয়েও পাঁচ গুণ বেশি গতিতে আকাশে ছুটবে।

    চীন, রাশিয়ার মতো দেশগুলো উন্নত প্রযুক্তির এই অস্ত্র তৈরিতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে। প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকতে নারাজ আমেরিকাও। গেল জুলাইয়ে আমেরিকা সফলভাবে মার্কিন লকহিড মার্টিন কর্পোরেশনের দুটো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। লকহিড মার্টিনের তৈরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এফ ৩৫ ফাইটার জেট মার্কিন এয়ার ফোর্স জয়েন করেছে। জানিয়ে রাখি, ইসরাইলের এফ থার্টি ফাইভকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান। তার নির্মাতাও কিন্তু লকহিড মার্টিন। লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি এই বিমানে আছে স্টিল্থ প্রযুক্তি। অর্থাৎ এই বিমান উড়লে শত্রুপক্ষের রাডারে তার অস্তিত্ব ধরা পরবে না।

    এমনকি, শত্রুপক্ষের বিমানের চোখ পড়ার আগেই এফ থার্টি ফাইভ সেটাকে খুঁজে নিতে পারবে। তাছাড়া বিমানটির পাইলটের হেলমেটে বসানো আছে একটা ডিসপ্লে সিস্টেম, যাতে অন্যদিকে মুখ করে থাকা অবস্থায়ও পাইলট শত্রু পক্ষের বিমানের দিকে গুলি করতে পারে, তাদের লক্ষ্য বস্তুর গতিবিধি চিহ্নিত করতে পারে, শত্রুপক্ষের রাডার জ্যাম বা অকার্যকর করে দিতে পারে, এমনকি আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে। মোদ্দা কথা, মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রজেক্ট এর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়াও উৎপাদন দ্বিগুণ হবে জ্যাভেলিন অ্যান্টি ট্যাঙ্ক‌ ক্ষেপণাস্ত্র, যেগুলো গাইডেড মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়, আর স্টিঙ্গার অ্যান্টি এয়ারক্রাফট ক্ষেপণাস্ত্র।

    ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা দিতে নিজেদের অস্ত্রের উৎপাদন পুরোদমে বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র রেকর্ড অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীত শেষে আরও বেশি যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে রাশিয়াকে প্রতিহত করতে মাঠে নামবে ইউক্রেন। সেই পরিমাণ অস্ত্র তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের সময় লাগবে কয়েক বছর। সেক্ষেত্রে, নিজেদের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক বেশি অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে হবে। এরই মাঝে লোহিত সাগর ঘিরে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা তুঙ্গে। তাই, সেই বিষয়টাকেও মাথায় রেখে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরিতে মন দিয়েছে আমেরিকা।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • ড্রোন রপ্তানিতে ব্যারিকেড, ফল ভুগবে যুক্তরাষ্ট্র, বিপদে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ? চীনের টিট ফর ট্যাট নীতিতে পরেশান বাকিরাও

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    চীনের দৌড় কতদূর? এবার হারে হারে টের পাবে যুক্তরাষ্ট্র। ড্রোন রপ্তানিতে বিধিনিষেধ চীনের। বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে যুক্তরাষ্ট্রকে ফাঁদে ফেলাই কি বেইজিং এর মূল টার্গেট? অনেক বড় ভুল হলো না তো? যুক্তরাষ্ট্রকে সবক শেখাতে গিয়ে বিপদে পড়বে না তো রাশিয়াও? কবে থেকে লাগু হবে বিধি নিষেধ? কোন অজুহাত দেখাচ্ছে বেইজিং? চীনের টিট ফর ট্যাট নীতিকে কিভাবে মোকাবেলা করবে পশ্চিমা বিশ্ব? বাইডেনের সামনে বড় পরীক্ষা। যুক্তরাষ্ট্র একাই পারে নাকি চারিদিকে বলাবলি, লেখালেখি হচ্ছে। ভুল করছে মার্কিনিরা, ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা চীনের প্রযুক্তি খাতকে দমিয়ে রাখতে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করে চলেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এটা একবারও ভাবছে না, যে চীনও একই ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে। আর সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি ঠিক কিরকম হতে পারে।

    চিপ নির্মাণ সরঞ্জামের মতো প্রধান প্রধান প্রযুক্তিতে চীনের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই নিষেধাজ্ঞার জবাবে চীনের দুর্লভ ধাতু রপ্তানিতে বিধিনিষেধের পর, এবার ড্রোন রপ্তানিতে চীনের বিধিনিষেধ। যে বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছে কয়েক ধরনের ড্রোনের ইঞ্জিন, লেজার, যোগাযোগ সরঞ্জাম ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। দেখে নেবেন, এরপর হাহুতাশ করবে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু কুলকিনারা পাবে না। জানেন কেন এতো বড় পদক্ষেপ করলো চীন? বেইজিং বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষার  খাতিরে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে বিশ্বে শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটা করা জরুরি বলে মনে করছে চীন।

    এটা ভুলে গেলে চলবে না চীন বিশ্বের অন্যতম ড্রোন উৎপাদনকারী দেশ। যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে ড্রোন রপ্তানি করে থাকে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া ড্রোনের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি চীনা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিজেআইয়ের তৈরি। এসব ড্রোনের যথেষ্ট জনপ্রিয়তাও রয়েছে। শুধুই কি তাই? বিভিন্ন সময় রিপোর্ট সামনে এসেছে, যে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া চীনা ড্রোন ব্যবহার করছে। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপদে ফেলতে গিয়ে চীনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাশিয়াও বিপাকে পড়বে না তো? যদিও, পশ্চিমা মিডিয়ার এমন অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে বারংবার উড়িয়ে দিয়েছে বেইজিং। তবে, চীন যাই বলুক। এই সিদ্ধান্ত ভোক্তা পর্যায়েও প্রভাব ফেলবে। এছাড়া সামরিক উদ্দেশ্যে কোনো বেসামরিক ড্রোন রপ্তানি করা যাবে না।

    ফলে বিপাকে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র সহ একাধিক দেশ। যদিও, চীনাভিত্তিক কোম্পানি ডিজেআই বলছে, তাঁরা কখনোই সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য পণ্য বা সরঞ্জাম তৈরি করিনি। কখনোই কোনো দেশে সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তাদের পণ্য বাজারজাত বা বিক্রি করা হয়নি। কিন্তু, তারপরেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তি জগতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বের মধ্যে ড্রোন ও ড্রোন সরঞ্জাম রপ্তানির ওপর চীনের এই বিধিনিষেধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় এফেক্ট ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাছাড়া, চীন যদি তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার্থে এই ধরনের বৈধ ও যৌক্তিক উদ্যোগ নিতে থাকে, তাহলে তা কতদিন ওয়াশিংটন উপেক্ষা করতে পারবে, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। এখন দেখার চীনের পাল্টা দিতে কোন পথে হাঁটে যুক্তরাষ্ট্র।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • যুক্তরাষ্ট্রের তুরুপের তাস, ব্ল্যাক হর্নেটের ট্র্যাপে পুতিন! এই ফর্মুলায় কাবু, মস্কোর মাস্টারপ্ল্যান ফাঁস ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    গোপনে রাশিয়ার উপর নজর রাখবে ব্ল্যাক হর্নেট। সব তথ্য হবে ফাঁস, বড় রিস্কে মস্কো। যুক্তরাষ্ট্র এটা কী পাঠাচ্ছে? রণাঙ্গনে কিস্তিমাত করবে ইউক্রেন? পশ্চিমাদের প্ল্যানে নাস্তানাবুদ হবে রাশিয়া? ব্ল্যাক হর্নেট আসলে কী? কারা তৈরি করে? কেনই বা রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ব্ল্যাক হর্নেট পাঠাচ্ছে ইউক্রেনে?
    মোক্ষম চাল দিয়ে দিল পশ্চিমা বিশ্ব। কীভাবে মোকাবিলা করবেন পুতিন? বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র সামরিক ড্রোন ব্ল্যাক হর্নেট। যুদ্ধে এটাই এখন ইউক্রেনের তুরুপের তাস। গোপনে নজরদারি চালাতে, বিভিন্ন গোয়েন্দা কার্যক্রমে ব্যবহার করতে ইউক্রেনকে ব্ল্যাক হর্নেট ন্যানো ড্রোন পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু, রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ এই ড্রোন ইউক্রেনে পাঠাচ্ছে কেন?

    ব্ল্যাক হর্নেট ন্যানো মূলত অত্যাধুনিক চালকবিহীন ড্রোন। যা একটানা সর্বোচ্চ ২৫ মিনিট আকাশে উড়তে পারে। গতি ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২১ কিলোমিটার। পাখির মতো দেখতে এই ড্রোনের ওজন মাত্র ১৭ থেকে ১৮ গ্রাম। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ প্রায় ২৫ মিলিমিটার। ব্ল্যাক হর্নেটের ভেতরে থাকে ডিজিটাল ডাটা লিংক। ফলে ১.৬ কিলোমিটার দূর থেকে এই ড্রোনের মাধ্যমে আশপাশের এলাকার উচ্চ মানসম্পন্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং তথ্য সংগ্রহ করা যায় অনায়াসেই!
    ক্ষুদ্রাকার ও শব্দ কম হওয়ায় ব্ল্যাক হর্নেট কে কাবু করা দুঃসাধ্য। মূলত নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় আকাশযান, সাঁজোয়া যানের সরঞ্জাম, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপণ ক্যামেরার জন্য এই ড্রোন পরিচিত। দাম কিরকম? একটি ব্ল্যাক হর্নেটের দাম আনুমানিক ২ লাখ মার্কিন ডলার। এটা অবশ্য বর্তমান মূল্য নয়, ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই দামে ১৬০টি ব্ল্যাক হর্নেট কেনে। এই দামের মধ্যেই রিমোট কন্ট্রোলার, টাচ স্ক্রিন, চার্জযোগ্য ব্যাটারি দেওয়া হয়েছিল।

    ২০১৩ সালে প্রথমবার যুদ্ধক্ষেত্রে এই ড্রোনের ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এর ব্যবহার শুরু হয় ২০১৫ সালে। বর্তমানে ব্ল্যাক হর্নেট ব্যবহার করে নরওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির সশস্ত্র বাহিনী। কিন্তু, কোন অস্ত্রে কাবু হয় ব্ল্যাক হর্নেট? বিশেষভাবে তৈরি আরএলকে–এমটি ভালদাই ব্যবহার করে এটিকে ধ্বংস করা সম্ভব। ভালদাই মূলত একটি বিশেষ রাডার, ছোট ও ক্ষুদ্রাকার নজরদারি ড্রোন ধ্বংসের লক্ষ্যেই এটি তৈরি করা। এছাড়া ড্রোনবিধ্বংসী অস্ত্রব্যবস্থা পিএআরএস–এস স্তেপাশকা ব্যবহার করে ব্ল্যাক হর্নেটকে ধ্বংস করা সম্ভব! স্তেপাশকা প্রায় ১০ কেজি ওজনের মূলত একটি ড্রোন বিধ্বংসী বন্দুক। এটি ব্যবহার করে ড্রোন ভূপাতিত করা যায়। এতেও কাজ না হলে, স্টুপোর নামে বিশেষ একধরনের বন্দুক দিয়ে ব্ল্যাক হর্নেটকে ধ্বংস করা সম্ভব।

    এতে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক প্রযুক্তি আছে, যা দিয়ে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ বা ভূপাতিত করা যায়। ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো ব্ল্যাক হর্নেট কে মোকাবেলা করতে রাশিয়া কে যে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে, সেটা বুঝতে বিশেষ অসুবিধা হচ্ছে না। তাহলে কী সেইমতো প্রস্তুতি নিচ্ছে রুশবাহিনী? কারণ, ন্যানো ড্রোন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র এই দফায় ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে আরো ৪০ কোটি ডলারের অস্ত্র সহায়তার ঘোষণা করেছে। যেসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ দেবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে। নাসমাস, স্টিঙ্গার, প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স মিসাইল, স্ট্রাইকার, টো ও জ্যাভেলিন, হাউৎজার কামানের গোলা, হিমার্স রকেট–ব্যবস্থা এবং ২ কোটি ৮০ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • সৌদির পথের কাঁটা যুক্তরাষ্ট্র, এইভাবে নিচ্ছে প্রতিশোধ ? পশ্চিমাদের ভুলের মাশুল গুণবে বিশ্ব

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    কেন যুক্তরাষ্ট্রকে তেল দিচ্ছে না সৌদি আরব? পারমানবিক অস্ত্র তৈরীর অনুমতি না পাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে সৌদি? দাবি আদায়ে ঘুরিয়ে কান ধরার নীতি, সৌদির সিদ্ধান্তে কতটা বিপদে যুক্তরাষ্ট্র? কোন সঙ্কটে বিশ্ব? ৩ রা জুলাই থেকে ক্রুড অয়েল উত্তোলন প্রতিদিন এক মিলিয়ন ব্যারেল কমিয়েছে সৌদি। এই তেল উত্তোলন হ্রাস অগাস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে দেশটা। আর এশিয়া যেহেতু দেশটির অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা, তাই সৌদির এই প্ল্যানের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে তেল সরবরাহ কমবে।

    এখন প্রশ্ন হল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সৌদির বাঁকা নজর কেন? কেন সৌদি যুক্তরাষ্ট্রের সাথেই এমনটা করছে? বড় প্রশ্ন।‌ শোনা যাচ্ছে, সৌদি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একরকম অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু, দেশটি সৌদি আরবকে এমন অনুমতি দিতে চাইছে না। মার্কিন মিত্র ইসরাইলও সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। পারমানবিক কর্মসূচি শুরুর অনুমতি না দিয়ে, উল্টে ইসরাইলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে যুক্তরাষ্ট্র এখন চাপ দিচ্ছে সৌদি আরবকে। তাহলে, এই দরকষাকষি, আর অন্যায় আব্দারই কি কোনও অচল অবস্থা তৈরি করছে?

    দেখুন, গোটা বিশ্ব খালি চোখে দেখে এসছে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি ঘটনায় মার্কিন তেলের বাজারকে ছোট করে আনার চেষ্টা করেছে সৌদি আরব। সেক্ষেত্রে তারই অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ হতেই পারে। অথচ, চীন এবং ভারতের বেলায় সৌদি আরব কিন্তু এমন কিছু করেনি তবে, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে যেন একটু বেশিই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে। ওপেক প্লাস, অর্থাৎ বিশ্বের খনিজ তেল রপ্তানিকারক দেশসমূহ এবং তাদের মিত্রদের সংগঠন, ২০২২ সালের অক্টোবর থেকেই দৈনিক দুই মিলিয়ন ব্যারেল তেলের উৎপাদন কমিয়েছে, যা বিশ্ব ব্যাপী তেলের মোট চাহিদার প্রায় দুই শতাংশ! ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত তেল উত্তোলন, আগেকার সীমাতে রাখার সিদ্ধান্ত ও নেওয়া হয়েছে।

    তেল রপ্তানিকারক দেশসমূহের জোটের নেতৃত্বে থাকা এবং বৃহত্তম রপ্তানিকারক হিসাবে, সৌদি আরব স্বেচ্ছায় আগস্ট মাস থেকে ক্রুড অয়েলের উত্তোলন প্রতিদিন এক মিলিয়ন ব্যারেল কমিয়ে দেওয়ার প্ল্যান করেছে। আর, ওই ঘোষণার পরপরই রাশিয়াও বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে তারাও প্রতিদিনের জ্বালানি তেলের উত্তোলন ৫ লক্ষ ব্যারেল কমাবে। ২০১১ সালের পর সৌদি আরব তার তেল উত্তোলন এবার এতোটা কমিয়ে আনলো। এর আগে অবশ্য ২০২০ সালে কোভিড মহামারীর পর এই সীমা নামিয়ে আনা হয়েছিল। আর ২০১৯ সালে আরামকোর স্থাপনায় হামলার সময় এমন করেছিল দেশটি।
    সৌদি আরব তেল উত্তোলন কমানোর ঘোষণা দিলেও, এশিয়ার বাজারে তেল সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সৌদি আরব। কিন্তু আরামকো যুক্তরাষ্ট্রে তেলের চালান কমাতে পারে। এতে তেলের বাজার ছোট হতে বাধ্য।

    আর তাতেই তো বিপদ। সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ সামনের মাসগুলোয় জ্বালানি চাহিদার অনিশ্চিত পরিস্থিতির শঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে মন্দার আশঙ্কা অপরিশোধিত তেলের দামের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আবারো অস্থির হয়ে উঠবে তেলের বাজার যার কারণে জ্বালাধি নির্ভর অর্থনীতির দেশগুলো রিস্কে পড়তে পারে। চান্স রয়েছে। জানিয়ে রাখি, ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর পর সৌদি আরব ও মিত্র দেশগুলোকে তেলের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে বাইডেনের আহবানে পাতা দেয়নি সৌদি। বরং রাশিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে তেলের উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব সহ ওপেক প্লাস ভুক্ত দেশগুলো।এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমার পাশাপাশি রাশিয়ার দাপট বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • হিরোশিমা-নাগাসাকিও ফেল, বোমা দিয়ে বাঁধা এই দেশ! তছনছের মূলে যুক্তরাষ্ট্র? প্রতিটা সেকেন্ড কাটে আতঙ্কে

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    বোমার স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে কোন দেশ? কোন দেশ ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বোমা হামলার শিকার? মুহুর্মুহু ক্লাস্টার বোমা বর্ষণ। দুর্ধর্ষ অঘটনের সাক্ষী জাপান, ইউক্রেন নাকি লাওস? রসাতলে যাচ্ছে কে? জানেন যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রে ভেতরে ভেতরে কোন দেশ ধসে গেছে? তছনছ হয়ে গেছে। বোমা হামলার স্থায়ী ক্ষত জেগে আছে এই দেশের বুকে। যে দেশে প্রত্যেকটা মিনিট, প্রতিটা সেকেন্ড কাটে আশঙ্কায়। এই দেশে ১৯৬৪ মানেই বিভীষিকা। জানলে অবাক হবেন ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বোমা হামলার শিকার হওয়া দেশের তালিকার আশেপাশেও নাম নেই ইউক্রেনের। ইউক্রেন তো দূরস্ত। জাপানের হিরোশিমা নাগাসাকিকেও হারমানিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট দেশ লাওস।

    লাওস কী পরিমাণ বোমাবর্ষণের শিকার হয়েছিল? জানেন? শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে। পুরো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যত বোমাবর্ষণ হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি বোমাবর্ষণের শিকার লাওস। যুক্তরাষ্ট্র কুড়ে কুড়ে খেয়েছে দেশটাকে। দেশটার কমিউনিস্টদের শায়েস্তা করতে লাওসে অভিযান শুরু করেছিল মার্কিনিরা। বাইরে থেকে নিরপেক্ষতা প্রকাশ করলেও ভেতরে ভেতরে চালিয়েছিল কঠিন ষড়যন্ত্র। তারপর ঝোপ বুঝে কোপ। ১৯৬৪ সালে মার্কিন সেনাবাহিনী লাওসে বোমাবর্ষণের গোপন অভিযান শুরু করে। এসি-১৩০ এবং বি-৫২, এই দুটি বোমারু বিমান দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে ক্লাস্টার বোমা বর্ষণ শুরু হয়। আনুমানিক ২ মিলিয়ন টন বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল ওই অভিযানে। নিক্ষেপ করা বোমার একটি বড় অংশ অবিস্ফোরিত থেকে গিয়েছিল। সেসব বোমার কবলে পড়ে পরবর্তীতে বিশ হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। আমেরিকার গোয়েন্দা বাহিনী সিআইএ আকাশপথে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার বার অভিযান পরিচালনা করেছিল।

    আল জাজিরার হিসাব মতে, নয় বছর ধরে প্রতিদিন গড়ে প্রতি আট মিনিট পর পর বোমা হামলা চালানো হয়েছিল দেশটিতে। পার্শ্ববর্তী থাইল্যান্ডের সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে হামলা পরিচালনা করা হয়। তাহলে, সেই দেশে আর কিছু থাকে? একদিকে গৃহযুদ্ধ অন্যদিকে মার্কিনিদের বোমা হামলা, তছনছ হয়ে গেছিল লাওস। লাওসের গৃহযুদ্ধ শেষ হয় ১৯৭৫ সালে‌। কিন্তু আমেরিকার নির্মম বোমা হামলায় প্রাণ হারায় দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-দশমাংশ‌। বোমা হামলায় মৃত ব্যক্তিদের ৯৮ শতাংশই বেসামরিক মানুষ। প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ বোমাবর্ষণে আহত হয়, যারা পরবর্তী জীবনে বোমা হামলার দুঃসহ স্মৃতি সঙ্গী করে বেঁচেছিলেন। চার ভাগের এক ভাগ মানুষ শরণার্থী হয়েছিলেন এই বোমা হামলার কবল থেকে বাঁচতে।

    আসলে, লাওসের মার্কিন বোমা হামলা একটি স্থায়ী ক্ষত তৈরি করে দিয়েছে দেশটির বুকে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই বোমা হামলার ক্ষয়ক্ষতি বয়ে বেড়াচ্ছে। এখনও লাওসের বিভিন্ন এলাকায় অবিস্ফোরিত বোমার পাওয়া যায়, যেগুলো উদ্ধারের জন্য অভিযান চলছে যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • এশিয়া-প্যাসিফিকে তীক্ষ্ণ নজর ন্যাটোর! ছেড়ে কথা বলবে না চীন, ভয়ানক খেলায় যখন তখন ডুববে ইউরোপ

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    এবার ন্যাটোর টার্গেটে এশিয়া প্যাসিফিক? ঘুরপথে চীনের সঙ্গে কোন খেলায় জড়াচ্ছে ন্যাটো? কোন লাভের আশায় এশিয়া প্যাসিফিকে ন্যাটোর আধিপত্য বিস্তারের স্বপ্ন? শুধু ন্যাটো নয়, পৃথিবীর জন্য রিস্ক ফ্যাক্টর চীন। চীনকে ঘিরে বড় আশঙ্কা দানা বাঁধছে। শত্রুদেশের সঙ্গে ন্যাটোর দহরম মহরম কে কোন চোখে দেখছে বেইজিং? ন্যাটোর নজরে সায় যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু ইউরোপ কেন মত দিচ্ছে না? ইউরোপের আধিপত্য মজবুত করে এবার ন্যাটোর চোখ এশিয়া প্যাসিফিকে। এই অঞ্চলের দেশ জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ন্যাটো সম্পর্ক পোক্ত করছে, কিন্তু কেন?

    অধিকাংশ পর্যবেক্ষক মনে করছেন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকা ও ন্যাটোর নজরের প্রধান কারণ এখন চীন গত বছরের ন্যাটো শীর্ষ বৈঠকে মহাসচিব স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে চীন দিনে দিনে কিভাবে ন্যাটোর জন্যেও রিস্ক ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাছাড়ারা শিয়ার সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতা যেভাবে বাড়ছে তাতে ন্যাটো জোটের অনেকেই এখন মনে করছে চীন, ইউরোপীয় নিরাপত্তায় যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। আবার কারও কারও মতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মনোযোগ এখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দিকে, ফলে ন্যাটোর প্রায়োরিটিতে সেই এফেক্টই কাজ করবে, এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু, চীনের প্রতি ন্যাটোর নজর নিয়ে ইউরোপের মাথা ব্যাথা কেন? জানা যাচ্ছে, টোকিওতে ন্যাটোর লিয়াজো কার্যালয় খোলা হোক এমনটাই চাইছে জাপান। কিন্তু এই ভাবনার বিরোধিতা এসেছে ন্যাটোর ভেতর থেকেই। আপত্তি তুলেছে ফ্রান্স। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেছেন নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটোর মূল লক্ষ্য উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলকে নিয়েই থাকা উচিত। এমনকি ইউরোপের অধিকাংশ দেশ তাইওয়ান ইস্যুর মত ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র বহির্ভূত ইস্যুতে জড়াতে আগ্রহী নয়।

    মোদ্দা কথা ন্যাটোর সদস্য ফ্রান্স চাইছে না যে উত্তর আটলান্টিকের বাইরে ন্যাটোর খবরদারি বাড়ুক। সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেছেন যে লড়াই ইউরোপের নয় ষ সেই লড়াইয়ে ইউরোপ জড়াবে না। যে কথাটা ছিল তাইওয়ান ইস্যুকে ইঙ্গিত করে। এদিকে জাপানে ন্যাটোর অফিস খুলতে হলে জোটটির সকল সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং বাকি ন্যাটোর সদস্যদের পক্ষে টানতে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। কারণ, ন্যাটো মহাসচিব নিজেই তো বলেছেন, এশিয়া প্যাসিফিকে সহযোগিতা বাড়ালে ন্যাটো লাভবান হবে যেমন, সাইবার সিকিউরিটি তে পৃথিবীকে নিরাপত্তা দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া, সেক্ষেত্রে দেশটির সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়ালে ন্যাটো জোটের দেশগুলোর সাইবার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা যাবে। সেক্ষেত্রে ইউরোপ রাজি হলেই হয়। তাহলে ফ্রান্স কী চাইছে?

    তাইওয়ানের পক্ষে ন্যাটোর থাকা উচিৎ বলে মনে করছে ফ্রান্স। কিন্তু এরজন্য সেখানেই ন্যটোর বিস্তৃতি ঘটালে পরবর্তীতে চীনের আক্রোশ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, আর সেটা মোকাবেলা সহজ হবে কী? ফ্রান্সের আশঙ্কা, চীনকে ফাঁদে ফেললে দেশটি যদি রাশিয়ার সামরিক মিত্র হয়ে যায় তাহলে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে বিপদ হবে। যা ইউরোপ সামাল দিতে পারবেনা। তাই শুধু চীনকে ঠেকাতে এশিয়া প্যাসিফিকে ন্যাটোকে নিয়ে যেতে চাইছে না ইউরোপ। ন্যাটোর নজরকে ভালো চোখে দেখছে না চীনও। শত্রুদেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ন্যাটো সামরিক জোটের এই দহরম মহরমে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত চীন। তারা মনে করছে তাদের কোণঠাসা করতে আমেরিকা ন্যাটো জোটকে এশিয়ায় সম্প্রসারিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এরপরেও ন্যাটো যদি এশিয়া প্যাসিফিকে আধিপত্য বিস্তার করে তাহলে পরিণতি কী হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে এশিয়ার তাদের বৈরি ভাবাপন্ন দেশগুলোর সঙ্গে ন্যাটো জোটের সহযোগিতা চুক্তি চীনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। এশিয়ায় অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়বে, ভূ-রাজনৈতিক “ফল্ট লাইন” বা ফাটল আরও চওড়া হবে পরিণতি হবে মারাত্মক।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Exit mobile version