Category: FIFA ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২ Qatar

FIFA WorldCup 2022 will held on Qatar

  • Argentina: বিশ্বকাপে একাধিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ, শাস্তির মুখে পড়তে পারেন মেসিরা!

    Argentina: বিশ্বকাপে একাধিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ, শাস্তির মুখে পড়তে পারেন মেসিরা!

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    ৩৬ বছর পর বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ জয়ের পর বাঁধনহারা উচ্ছাস হবে না তা কি হয়! তবে উচ্ছাসই যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছে মেসিরা। সে মার্টিনেজের সেলিব্রেশন হোক বা সল্ট বে-র বিশ্বকাপ স্পর্শ, সবেতেই উঠে এসেছে মেসির দলের সমালোচনা। এমনকি বিশ্বকাপ জয়ের উদযাপনেও নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠেছে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে। এবার ফিফার শাস্তির মুখে পড়তে চলেছে আর্জেন্টিনা দল। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আসরে নেমেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। যদি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে মেসিদের।

     

    কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। বিশ্ব জয়ের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমলিয়ানো মার্টিনেজ গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের পর অদ্ভুত সেলিব্রেশন করেন। মার্টিনেজের এই আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে বিশ্বজুড়ে। শুধু তাই নয় আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সের রাস্তায় আর্জেন্টাইন দলের বাসে করে ঘোরার সময় মার্টিনেজের কোলে দেখা গিয়েছিল একটি পুতুলের মধ্যে এমবাপের মুখোশ পড়ানো কাটআউট। যা নিয়ে ফ্রান্সের ফুটবল ফেডারেশন ফিফাকে চিঠি দিয়ে ঘটনার তীব্র আপত্তি জানায়।

     

    বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর থেকেই ফরাসি ফুটবল সংস্থা ফিফাকে একের পর এক চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানায়। এরপরই নড়েচড়ে বসে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। এক বিবৃতি প্রকাশ করে ফিফা জানায়, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর একাধিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে আর্জেন্টিনা। এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চলেছে তাঁরা। বিজ্ঞপ্তিতে ফিফা আরও জানিয়েছে, ফাইনালের রাতে আর্জেন্টিনা দল ফিফার নির্দিষ্ট নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আপত্তিকর আচরণ ও ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের অসভ্য আচরণ। সেই সঙ্গে ৪৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের কারণে ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে চলেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাটি।

     

    তবে এখনও পর্যন্ত ব্যক্তি বিশেষে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করেনি ফিফা। সামগ্রিকভাবে গোটা আর্জেন্টিনা দলের কথা বলা হয়েছে ফিফার জারি করা বিবৃতিতে। তবে ফিফার তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া শাস্তি পেতে পারেন মার্টিনেজ সহ গোটা আর্জেন্টিনা দল। ইতিমধ্যেই আর্জেন্টিনা ছাড়াও মেক্সিকো, ইকুয়েডর, ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

  • Lionel Messi: ‘ফুটবলের বরপুত্রের’ নামে জাদুঘর! মেসির বিশ্বজয় স্মরণীয় করে রাখতে অভিনব উদ্যোগ কাতার প্রশাসনের

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    বিশ্বকাপ জয় করে দেশে ফিরে গেছে আর্জেন্টিনা দল। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর মেসির হাত ধরে তৃতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসির স্মৃতি অক্ষত রাখতে তাঁর থাকার ঘরটিকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার। বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে অন্যান্য সকল দল হোটেলে থাকলেও মেসিরা ঘাঁটি গেঁড়েছিলেন কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে। সেখানে থেকেই নিজের স্বপ্নের বিশ্বকাপ জয়ের পথটা তৈরি করেছিলেন মেসি। মেগা টুর্নামেন্ট চলাকালীন সেই ছাত্রাবাসকে মুড়ে ফেলা হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তার চাদরে। অনুশীলন মাঠের কাছাকাছি থাকার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আর্জেন্টিনা দল।

     

    মেসিদের জন্য সাজিয়ে তোলা হয়েছিল কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস। ঝাঁ চকচকে ছাত্রাবাস দেখে বোঝার উপায় ছিল না এটা হোটেল নাকি ছাত্রাবাস। মেসিদের জন্য আয়োজনের কোন ত্রুটি রাখেনি কাতার প্রশাসন। কি ছিল না সেখানে, অত্যাধুনিক জিম, সুইমিং পুল থেকে দশ হাজার আসন বিশিষ্ট স্টেডিয়ামও ছিল এই ছাত্রাবাসে। ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেই ছাত্রাবাসের বি-২০১ নম্বর ঘরে থাকতেন লিওনেল মেসি। মেসির ব্যবহৃত ঘরটিই এবার বানানো হবে জাদুঘরে। মেসির নামেই তৈরি হবে জাদুঘর।

     

    মেসিকে সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থেকে শিক্ষক সকলেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ঘরে থাকা মেসির ব্যবহৃত কোন জিনিস থেকে ঘর কোনকিছুই বদল করা হয়নি। জানা গেছে কাতার প্রশাসনের তরফে ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে যে মেসিকে দিয়েই সেই মিউজিয়ামের উদ্বোধন করানোর।

     

    ১৮ ডিসেম্বর লুসাইল স্টেডিয়ামে রূপকথার গল্প লিখেছিলেন লিওনেল মেসি। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে তৃতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। অনেকেই বলছেন এই ফাইনালই নাকি সর্বকালের সেরা। রূপকথার নায়কের সেই স্মৃতি আজীবন রেখে দিতে এবং দর্শকদের সামনে ফুটবলের বরপুত্রের ব্যাবহৃত সামগ্রী দেখার সুযোগ করে দিয়েছে কাতার প্রশাসন। একটি হোয়াইট বোর্ডে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সইও সংগ্রহ করা হয়েছে। এই উদ্যোগে খুশি গোটা ফুটবল বিশ্ব। কাতার প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের খবর চাউর হতেই প্রিয় তারকার ব্যাবহৃত সরঞ্জাম দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শকরা।

     

     

  • FIFA World Cup 2022: মেসিকে নিয়ে সমস্যায় পিএসজি! কারণ জানলে আপনিও হতবাক হবেন

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে ফর্মের চূড়ায় রয়েছেন লিওনেল মেসি। দেশকে একার কাঁধে ফাইনালে তুলেছেন, দেশকে দিয়েছেন অধরা বিশ্বকাপের স্বাদ। সেই সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছেন সর্বকালের সেরাদের তালিকায়। এই মুহূর্তে স্বপ্নের ভেলায় ভাসছেন এলএমটেন। চলতি মরসুমের শুরু থেকেই ছন্দে রয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের আগে ক্লাব ফুটবলে পিএসজির জার্সি গায়ে আলো ছড়িয়েছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। বর্তমানে বিশ্বফুটবলে বেশ চর্চায় রয়েছেন লিও। তার মধ্যেই মেসিকে নিয়ে সমস্যায় পড়েছে ফরাসি ক্লাব পিএসজি।

     

    আসুন বিষয়টি একটু খোলসা করা যাক। বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে উচ্ছাসে মেতেছে আর্জেন্টিনা দল। দোহা থেকে বুয়েনস আয়ার্স হুড খোলা বাসে চড়ে উদযাপনে মাতোয়ারা মেসি-ডি মারিয়ারা। ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ে আবেগে গা ভাসিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিও। বিশ্বকাপ নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থার ছবি পোস্ট করেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। যেন এক স্বস্তির ঘুম। যে ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। মেসির বিশ্বজয়ের আনন্দ থেকে তাঁর ক্লাব বাদ যাবে তা তো হতে পারেনা। আর এখানেই বেঁধেছে গোল। মেসি চান তাঁর ক্লাবেও হোক বিশ্বজয়ের উদযাপন।

     

    জানা গেছে মেসি নাকি পিএসজি ক্লাবের সিইও নাসের-আল-খেলাইফিকে জানিয়েছেন পিএসজির পরবর্তী হোম ম্যাচে দেখানো হোক বিশ্বকাপ ট্রফি। আর এতে বেজায় সমস্যায় পড়েছে ফরাসি ক্লাবটি। সাধারণত ক্লাবের কোন ফুটবলার বিশ্বকাপ জিতলে ক্লাবের পরবর্তী হোম ম্যাচে সেই বিশ্বকাপ ট্রফির প্রদর্শন করা হয়। কিন্তু সমস্যা হল আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয় করেছে ফ্রান্সকে হারিয়েই। ফ্রান্স পরাজিত হওয়ার পরই দেশজুড়ে বিক্ষোভ দেখায় ফরাসি সমর্থকরা। বেশকিছু জায়গায় দেখা গেছে মেসির বিরুদ্ধে মিছিল ও আগুন ধরানোর মতো ঘটনা।

     

    শুধু তাই নয় ফরাসি ক্লাবটিতে রয়েছেন মেসির সতীর্থ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা এবং গোল্ডেন বুট জয়ী কিলিয়ান এমবাপে। এমবাপে সঙ্গে মেসির সম্পর্ক বিশ্বফুটবলে কারো অজানা নয়। ম্যাচ শেষে দুই তারকা হাত ধরাধরি করলেও, ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন সেই দৃশ্য দেখা যায়নি। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতায় কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দিতে রাজি ছিলেন না। মেসি গোল করার পর এমবাপের সামনে মুষ্টিবদ্ধ হাত দেখিয়ে উদযাপন করেছিলেন। এমবাপেও তা মেসিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

     

    একদিকে সমর্থকদের মেসির বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ মনোভাব আর অন্যদিকে সতীর্থর সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতা। এমন পরিস্থিতিতে ক্লাবের হোম ম্যাচে বিশ্বকাপ ট্রফি প্রদর্শন করলে কিরূপ প্রভাব পড়বে তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন ফরাসি ক্লাবটি। তাই এই বিষয় নিয়ে মেসিকে এখনও পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি পিএসজির পক্ষ থেকে।

  • Ballon d’Or : সর্বোচ্চ অষ্টমবার ব্যালন ডি অ’র জিততে চলেছেন লিওনেল মেসি, লড়াইয়ে এমবাপে-হালান্ড

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    স্বপ্নপূরণ করে স্বপ্নের ভেলায় ভাসছেন লিওনেল মেসি। অধরা বিশ্বকাপ জয় করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রোনাল্ডোকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। মেসির বিশ্বজয়ের পর অনেকেই মনে করছেন এবার প্রতিদ্বন্দ্বীতায় অষ্টমবার ‘ব্যালন ডি অ’র’ জিততে চলেছেন ফুটবলের এই বরপুত্র। বর্তমানে সাতটি ‘ব্যালন ডি অ’র’ জিতে সর্বোচ্চ তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন মেসি। একজন ফুটবলার হিসেবে সাতবার এই সম্মান পাওয়া অন্যান্য ফুটবলারদের কাছে কল্পনার বিষয়।

     

    পাঁচটি ‘ব্যালন ডি অ’র’ জিতে মেসির ঠিক পরেই রয়েছেন পর্তুগিজ সুপাসটার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। গত প্রায় দুই দশক ধরে এই পুরস্কারটি নিজেদের দখলে রেখেছিলেন মেসি ও রোনাল্ডো। মাঝে লুকা মদ্রিচ ও করিম বেনজেমা ছাড়া আর কেউই সেই তালিকায় ঢুকতে পারেননি। ফুটবলারদের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মান হল ‘ব্যালন ডি অ’র’। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেওয়া হবে এই পুরস্কার। আর তার আগে বিশ্বফুটবলে সবচেয়ে চর্চার বিষয় ৬৭ তম ‘ব্যালন ডি অ’র পুরস্কার কার হাতে উঠবে।

     

    লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ জয়ের পর এটা সকলের কাছেই পরিষ্কার ব্যালন ডি অ’র পুরস্কার উঠছে আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের হাতে। ১৯৫৬ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যৌথভাবে এই পুরস্কার প্রদান করত ফিফা ও ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশন। তবে ২০১৬ সাল থেকে এই পুরস্কার এককভাবে দেয় ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশন। চলতি বছরের মার্চে একটি বিবৃতিতে ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশন জানায় একটি ক্যালেন্ডার ইয়ারের বদলে এই পুরস্কার দেওয়া একটি ফুটবল মরসুমের শেষে। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের পরিবর্তে ধরা হবে জুন থেকে পরের বছর জুলাই পর্যন্ত।

     

    যার কারণে কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ ব্যালন ডি অ’র-এ অন্তর্ভুক্তি হয়নি। তাই কাতার বিশ্বকাপের শেষ হতেই চর্চায় উঠে এসেছে ২০২৩ ব্যালন ডি অ’র। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স মেলে ধরেছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে। টুর্নামেন্টে আটটি গোল করে গোল্ডেন বুট জয় করলেও সাতটি গোল করে ঠিক তার পরেই রয়েছেন মেসি। ছিনিয়ে নিয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা গোল্ডেন বলের খেতাব। এই দুই তারকার মধ্যেই হবে ২০২৩ ব্যালন ডি অ’র জয়ের লড়াই তা হলফ করে বলা যায়।

     

    এই পুরস্কার ঘোষণায় ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যকে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বকাপ জয় করে এমবাপেকে অনেকখানি পিছনে ফেলে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের হাত ধরে ৩৬ বছর পর বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। দুই তারকাই ক্লাব ফুটবলে মঞ্চ মাতান ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে। পিএসজি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতলেও সেই দলে থাকবেন মেসি। আর বিশ্বকাপের মতো দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রাখতে পারলে সর্বোচ্চ অষ্টম বার ব্যালন ডি অ’র খেতাব জিততে চলেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।

     

    গোল ডট কমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুই তারকার পরেই লড়াইয়ে রয়েছেন নরওয়ে সুপারস্টার আর্লিং হালান্ড। ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন নরওয়ের ফরোয়ার্ড। নতুন মরসুমে ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে ২৪ টি গোলের পাশাপাশি করেছেন তিনটি আসিস্ট। তবে হালান্ডের একটাই আক্ষেপ তার দেশ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তবে তিনি যেভাবে গোলের রেকর্ড গড়ছেন। মরসুম শেষে তিনি যে কোথায় গিয়ে থামবেন তা বলা মুশকিল। চলতি মরসুমে যদি ম্যানচেস্টার সিটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ঘরে তুলতে পারে তাহলে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন না করেই ব্যালন ডি অ’র জিততে পারেন। তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

  • Lionel Messi : ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামের ‘হল অফ ফেমে’র জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলে মেসিকে

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    ব্রাজিলের বিখ্যাত মারাকানা আইকনিক স্টেডিয়ামের ‘হল অফ ফেমে’ তার পদচিহ্ন রেখে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হল বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসিকে। ফাইনালে ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ গোলে পরাজিত করে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে মেসির আর্জেন্টিনা।

     

    বিশ্বকাপ জয়ের পর, মারাকানা স্টেডিয়ামের পরিচালনাকারী রিও ডি জেনিরো স্টেট স্পোর্টস সুপারিনটেনডেন্স মেসিকে আমন্ত্রণ জানায়। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসিকে পাঠানো একটি চিঠিতে সুপারিনটেনডেন্সের সভাপতি আদ্রিয়ানো সান্তোস বলেছেন, “মেসি ইতিমধ্যেই মাঠে এবং মাঠের বাইরে তার গুরুত্ব দেখিয়েছেন। তিনি এমন একজন খেলোয়াড় যিনি বছরের পর বছর ধরে ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “মারাকানার জন্য তাকে শ্রদ্ধা জানানোর চেয়ে উপযুক্ত আর কিছুই হতে পারে না। সর্বোপরি, মেসি বল পায়ে একজন প্রতিভা।”

     

    ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ব্রাজিলকে পরাজিত করে ২৮ বছরের ট্রফির খরা কাটায়। ব্রাজিলের এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম ১৯৫০ এবং ২০১৩ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালও আয়োজন করেছে। মেসি আমন্ত্রণ গ্রহণ করলে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে, গ্যারিঞ্চা, রিভেলিনো, রোনাল্ডো এবং চিলির ইলিয়াস ফিগুয়েরো, সার্বিয়ার দেজান পেটকোভিচ, পর্তুগালের ইউসেবিও, উরুগুয়ের সেবাস্তিয়ান আব্রেউ এবং জার্মানির ফ্রাঞ্জু ফ্রাঞ্জের সঙ্গে তাঁর পায়ের ছাপ পড়বে এই স্টেডিয়ামে।

     

    মঙ্গলবার ভোররাতে ৩৫ বছর বয়সী মেসি কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে আর্জেন্টিনায় ফিরেছেন। যদিও অবতরণের সময় ছিল স্থানীয় সময় ভোর ৩টা, হাজার হাজার মেসি এবং প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার ব্যানার, পতাকা নিয়ে এবং আনন্দে চিৎকার করে অপেক্ষা করছিল আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। বিশ্বকাপ জয়ী দলটি সেন্ট্রাল ওবেলিস্কো মনুমেন্টে পৌঁছাতে পারেনি কারণ স্থলপথটি প্রায় চার মিলিয়ন মানুষের দ্বারা অবরুদ্ধ ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ফুটেজে দেখা গেছে পুরো শহরের মানুষ তাদের নায়কদের এক ঝলক দেখার চেষ্টায় ভিড় করেন।

  • FIFA World Cup 2022: স্বপ্নের নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রথমবার বিশ্বকাপ অভিযান, হয়ে উঠেছেন আর্জেন্টিনার উজ্জ্বল নক্ষত্র

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    ১০ বছর আগে মেসির সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার এক খুদে সমর্থক। সেদিন ব্যস্ত তাঁর খুদে সমর্থকের সঙ্গে ছবিও তুলেছিলেন। আজ সেই স্বপ্নের নায়কের সঙ্গে দেশের জার্সিতে স্বপ্নপূরণ। তিনি আর কেউ নন আর্জেন্টিনার উঠতি নক্ষত্র জুলিয়ান আলভারেজ। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে দুটি গোলে ম্যাচের নায়ক বনে গিয়েছিলেন এই আলভারেজ। দুটি গোল করেছিলেন স্বপ্নের নায়কের মেসির পাস থেকে। শুধু তাই নয় দেশের জার্সিতে স্বপ্নের নায়কের হাত ধরে বিশ্বকাপ জয়। এইরকম সুযোগ কয়জনই বা পায়।

     

    আর্জেন্টিনার কর্ডোবা শহরে জন্ম নেওয়া আলভারেজ ছোট থেকেই মেসির ভক্ত। মেসিকে আইডল মেনে, তাঁকে অনুসরণ করেই ফুটবলে আসা আলভারেজের। মেসি তার সুপার হিরো। একবার এক সাক্ষাৎকারে আলভারেজ বলেছিলেন, “তাঁর পরিবারের সবাই মেসির ভক্ত। শৈশব থেকে মেসির খেলা দেখা বড় হয়েছেন। বাড়ির সদস্যরাও চাইতেন আলভারেজ মেসির সঙ্গে ফুটবল খেলুক।” বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যেখানে বিপক্ষের নাম ক্রোয়েশিয়া সেখানে কাজের কাজটা করে দিয়েছেন। ফাইনালেও ডি মারিয়ার গোলে রাখলেন অবদান। স্বপ্নের নায়কের এটাই শেষ বিশ্বকাপ অন্যদিকে আলভারেজের এটাই প্রথম বিশ্বকাপ। স্বপ্নের নায়কের সঙ্গে ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখলেন জুলিয়ান আলভারেজ।

     

    ২০০০ সালের ৩০ জানুয়ারি আর্জেন্টিনার ক্যালচিনের কর্ডোবা শহরে জন্ম জুলিয়ান আলভারেজের। ছোট থেকেই ফুটবলের প্রতি টান। মেসির খেলা দেখতে ভালোবাসতেন। আর্জেন্টিনার প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্লাব আতলেতিকো কালচিনের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন আলভারেজ। ২০১৮-১৯ সালে আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেটে যোগদান করেন আর্জেন্টিনার এই তরুণ তারকা। রিভার প্লেটের হয়ে ৯৬ ম্যাচে ৩৬ গোল করেছিলেন। ২০২২ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগদান করেন আলভারেজ। সিটির জার্সিতে ২০ ম্যাচে ৭ গোল করে ফেলেছেন তিনি। ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-২০ আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সুযোগ পান আলভারেজ। এরপর ২০১৯ সালে সাউথ আমেরিকান অনূর্ধ্ব ২০ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেন।

     

    ২০২১ সালে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে অভিষেক হয় জুলিয়ান আলভারেজের। ওই বছরই চিলির বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে ৬২ মিনিটে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামেন। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে প্রথম গোল পান ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে। লিওনেল স্কালোনির বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে ২০২২ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা হয়ে যায় আলভারেজের। স্বপ্নের নায়কের পাশে বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার সুযোগ চলে আসে জুলিয়ানের সামনে। সুযোগ পেয়ে কাজেও লাগান তিনি। কাতার বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম গোল পান আলভারেজ। এরপর নক-আউটে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এবং সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে নায়ক বনে যান আর্জেন্টিনার এই উঠতি নক্ষত্র। আর্জেন্টিনার জার্সিতে কম ম্যাচ খেললেও ভান্ডারে একের পর এক সাফল্য। ২০২১ কোপা আমেরিকার পর, ফিনালিসিমা কাপ, আর এবার বিশ্বকাপ জয়। স্বপ্নের নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধে এমন মধুর অভিযান বোধহয় স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি স্বয়ং জুলিয়ান আলভারেজ।

  • FIFA World Cup 2022: স্মরণীয় বিদায়! আর্জেন্টিনার একের পর এক সাফল্যের অবিসংবাদিত নায়ক ডি মারিয়া

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ফাইনালে গোল করে কেঁদে ভাসালেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। এই কান্না যে অবেগের কান্না, অনেক যন্ত্রণার কান্না, না পাওয়ার আক্ষেপের কান্না। অনেকেই বলছেন ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে যদি ডি মারিয়া থাকতেন তবে মেসির হাতেই উঠতো কাপ। কিংবা ধরুন ২০১৫ এবং ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা যদি খেলতেন, তবে কী ট্রফি জয় বঞ্চিত হতে হত আর্জেন্টিনাকে। মনে হয় না! কিন্তু সর্বনাশা চোটই বারবার ছিটকে দিয়েছে ডি মারিয়াকে। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে হারানোর পর অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে হাপুস নয়নে কাঁদতে দেখেছিল বিশ্বফুটবল। কারণটা সেই চোট। তিনি জেনে গিয়েছিলেন এই ম্যাচ জিতলেও চোটের কারণে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।

     

    কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে মেসির গোলটি আসে ডি মারিয়ার পাস থেকেই। এরপরই চোট তাকে বসিয়ে দেয় ডাগ আউটে। ফাইনালেও অনিশ্চিত ছিলেন আর্জেন্টিনার এই ফরোয়ার্ড। পোল্যান্ডের বিপক্ষে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়ার পর আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে আর দেখা যায়নি অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে। তবে ফাইনালের মঞ্চে ফ্রান্সের বিপক্ষে শুরুর একাদশে ফিরেই জ্বলে উঠলেন এই ফরোয়ার্ড। নিজের শেষ বিশ্বকাপে গোল করলেন, একটি পেনাল্টি আদায় করে দিলেন। সেই সঙ্গে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের ঐতিহাসিক এক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন ডি মারিয়া। এমন স্মরণীয় বিদায় কয়জনের হয়।

     

    তারকাখচিত আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসির পরেই যার স্থান তিনি হলেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। ২০০৮ সালের অলিম্পিক্সেও ডি মারিয়ার গোলেই সোনা জেতে লিওনেল মেসি, ম্যাসচেরানোদের আর্জেন্টিনা। বেজিংয়ে অলিম্পিক্সে তরুণ মেসির একমাত্র আন্তর্জাতিক জয়ের কারিগর হয়ে উঠেছিলেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। এরপর লিওনেল মেসির প্রথম সিনিয়র আন্তর্জাতিক খেতাব জয়ের রাতে ফাইনালে ফের গোল করেন ডি মারিয়া। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে তাঁর করা একমাত্র গোলেই মারাকানা স্টেডিয়ামে ব্রাজিলকে হারিয়ে ২৮ বছরের ট্রফির খরা কাটায় মেসির আর্জেন্টিনা।

     

    ডি মারিয়া বরাবরই বড় ম্যাচের প্লেয়ার। কোপা হোক বা বিশ্বকাপ ডি মারিয়া গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠেন। সমর্থকরা বলেন, যখনই মেসির দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তখনই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন এই ডি মারিয়া। এদিনও তার ব্যতিক্রম ঘটল না। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়েছিলেন। এদিনও চোখের জলে মাঠ ছাড়লেন। তবে সেটা ছিল যন্ত্রনার আর এটা আনন্দের। রাশিয়া বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর ম্যাচে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে হারের ম্যাচে গোল করেছিলেন আর্জেন্টিনার এই ফরোয়ার্ড। এদিন ফাইনালেও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে করলেন গোল। শুধু পার্থক্যটা সেইবার ছিটকে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা আর এবার বিশ্বজয়।

  • FIFA World Cup 2022: শুধু লিওনেল মেসি নন, আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের নেপথ্য নায়ক আর এক লিওনেল

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের কারিগর শুধু লিওনেল মেসি নন, রয়েছেন আর এক লিওনেল। লিওনেল সেবাস্তিয়ান স্কালোনি, যিনি আর্জেন্টিনার সাফল্যের নেপথ্য নায়ক। মাঠের মধ্যে আলো ছড়িয়ে মঞ্চ রাঙিয়েছেন মেসি। অন্যদিকে ডাগআউটে ক্ষুরধার মস্তিষ্ক ব্যবহার করে দলকে নিয়ে গেছেন এক অন্য মাত্রায়। লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স আর লিওনেল স্কালোনির স্ট্র্যাটেজিতে ধরা দিয়েছে সোনালী পরি। আর্জেন্টাইন ফুটবল ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তার নাম। আর্জেন্টিনার সাফল্যে এখন স্বপ্নের ভেলায় ভাসছেন আর্জেন্টাইন কোচ।

     

    সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের চোখের জল যেন ধরে রাখতে পারেননি লিওনেল স্কালোনি। ইতিহাস ছোঁয়ার আবেগ যে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। কোপা আমেরিকার পর বিশ্বজয়। তার হাত ধরেই আর্জেন্টিনার ঘরে এসেছে একের পর এক সাফল্য। আর্জেন্টাইন ফুটবল ইতিহাসে তিনি এখন আরেক বিশ্বকাপজয়ী কোচ। ১৯৭৮ সালে সিজার লুইস মোনোত্তি আর ১৯৮৬–তে কার্লোস বিলার্দোর সঙ্গে একই আসনে জায়গা করে নিলেন তিনি। বিশ্বকাপজয়ী কোচ হিসেবে নিজের কীর্তিটা গড়লেন ফ্রান্সের মহানাটকীয় ম্যাচের মধ্যে দিয়ে।

     

    প্রথম ম্যাচে হারের সৌদি আরবের কাছে হারের পর যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ জয় করেছে তাতে লিওনেল মেসি-ডি মারিয়াদের নিয়ে গর্বের অন্ত নেই লিওনেল স্কালোনির। ২০১৮ সালে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন এই আর্জেন্টাইন কোচ। দায়িত্ব নেওয়ার পরই খোলনলচে বদলে দেন আর্জেন্টিনা দলটিকে। স্কালোনির কোচিংয়ে প্রথম সাফল্য আসে গতবছর কোপা আমেরিকায়। ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ব্রাজিলকে ২৬ বছরের ট্রফি খরা কাটিয়ে কোপা আমেরিকা ঘরে তোলে আর্জেন্টিনা। এই স্কালোনির কোচিংয়ে ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে কাতারে পা রাখে আর্জেন্টিনা।

     

    আর এবার ৩৬ বছর পর বিশ্বজয়ের স্বাদ দিলেন দেশকে। সত্যিই তিনি অনন্য, অনন্য তাঁর স্ট্র্যাটেজি। ১৯৭৮ সালের ১৬ মে সান্তা ফে প্রদেশের ছোট্ট শহর পূজাতোতে জন্মগ্রহণ করেন লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনার প্রাইমারি ডিভিশন ক্লাব নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। তিনি রাইট ব্যাক বা রাইট মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে ভালোবাসতেন। ১৯৯৭ সালে যোগদান করেন স্পেনের ক্লাব দেপোর্তিভো লা কোরুনিয়ায়। সাড়ে আট বছর কাটান স্প্যানিশ ক্লাবে। তবে দেপোর্তিভোর লা লিগা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মরসুমে চোটের কারণে মাত্র ১৪ টি লা লিগার ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে যোগ দেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডে। সেইবার ওয়েস্ট হ্যামকে এফএ কাপের ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন।

     

    ২০০৩ সালের ৩০ এপ্রিল লিবিয়ার সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে অভিষেক হয় স্কালোনির। এরপর বিস্ময়করভাবে জাভিয়ার জানেত্তির বদলে আর্জেন্টিনার ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়ে যান। যদিও পুরো বিশ্বকাপে তিনি মাত্র একটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পান। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেন।

     

    কোচ হিসেবে তিনি ২০১৬ সালে লা লিগার ক্লাব সেভিয়াতে স্বদেশী সাম্পাওলির কোচিং স্টাফে যোগ দেন। ২০১৭ সালে সাম্পাওলিকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে নিযুক্ত করা হলে স্কালোনি তার সহকারী হিসাবে মনোনীত হন। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফল খারাপ হওয়ায় স্কালোনিকে সম্পূর্ণরুপে আর্জেন্টিনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর কোচিংয়ে ২০১৯ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনা তৃতীয় স্থান অধিকার করে। এরপর ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়। ২০২২ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে হারিয়ে ফিনালিসিমা জয়। আর এবার বিশ্বজয়। একের পর এক সাফল্যে স্বপ্নের ভেলায় ভাসছেন আর্জেন্টিনার এই কোচ।

  • FIFA World Cup 2022: বিশ্বজয়ের পাশাপাশি একাধিক রেকর্ড গড়লেন ফুটবলের বরপুত্র

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    অধরা স্বপ্নপূরণ ফুটবলের বরপুত্রের। কোপা আমেরিকার পর বিশ্বজয়। রঙিন ক্যারিয়ারে সবকিছুই পেয়ে গেলেন লিওনেল মেসি। জাদুকরী পারফরম্যান্সে একার কাঁধে দলকে দিলেন বিশ্বজয়ের স্বাদ। গোটা টুর্নামেন্টে আলো ছড়িয়ে দখল করলেন গোল্ডেন বল। মারাদোনাকে স্পর্শ করে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় জায়গা করে নিলেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। বিশ্বকাপের সোনালী স্পর্শ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ পাঁচটি বিশ্বকাপে গড়ে গেলেন একাধিক রেকর্ড।

     

    সর্বাধিক গোল্ডেন বল জয় : বিশ্বকাপের একটি সংস্করণে সেরা অলরাউন্ড খেলোয়াড়কে গোল্ডেন বল দেওয়া হয়। ২০১৪ রাশিয়া বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি গোল্ডেন বল পেয়েছিলেন। এবারও সেই সম্মান পেলেন আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ‘গোল্ডেন বল’ জিতে নিলেন।

     

    বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা: বিশ্বকাপে ২৫ ম্যাচ খেলে সেমিফাইনালেই জার্মানির লোথার ম্যাথাউজকে স্পর্শ করেছিলেন লিওনেল মেসি। রবিবাসরীয় ফাইনালে ম্যাথাউজকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়লেন।

     

    বিশ্বকাপে খেলোয়াড় হিসেবে সর্বাধিক ম্যাচ জয়: ফাইনাল জিতে লিওনেল মেসি ফিফা বিশ্বকাপের টুর্নামেন্টে ১৭টি ম্যাচ জিতলেন। যা তাকে বিশ্বকাপের মঞ্চে যৌথভাবে সর্বাধিক বিজয়ী করে তুললো৷ বর্তমানে, জার্মানি কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজে তার ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে ১৭টি জয়ের সঙ্গে রেকর্ডটি ধরে রেখেছিলেন।

     

    সর্বাধিক বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা: ৫টি বিশ্বকাপ খেলা ৬ জন ফুটবলারের একজন হলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন সুপারস্টার ছাড়া এই কৃতিত্ব গড়েছেন তিন ম্যাক্সিকান খেলোয়াড় আন্তোনিও কার্ভাজাল , আন্দ্রেজ গুয়াদ্রাদো ও রাফা মার্কুয়েজ। অন্য দুজন হলেন জার্মানির লোথার ম্যাথাউজ এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

     

    সর্বাধিক গোল অবদান: বিশ্বকাপের মঞ্চে ১৩টি গোল এবং নয়টি অ্যাসিস্ট সহ ২২টি গোল করে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের (২২টি গোলের রেকর্ড রয়েছে যার মধ্যে ১২টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট) রেকর্ড স্পর্শ করলেন মেসি।

     

    অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক ম্যাচ : অধিনায়ক হিসেবে ১৯ ম্যাচ খেলে অনন্য এক রেকর্ড গড়লেন মেসি। এর আগে এই নজির গড়েছিলেন ১৭ ম্যাচ খেলা মার্কুয়েজ এবং ১৬ ম্যাচ খেলা দিয়েগো মারাদোনা।

     

    সর্বাধিক সময়: বিশ্বকাপে রেকর্ড ২ হাজার ৩১৪ মিনিট খেলে ইতালিয়ান কিংবদন্তি পাওলো মালদিনির ২ হাজার ২১৭ মিনিট খেলার আগের রেকর্ড ভেঙেছেন মেসি।

     

    সর্বাধিক ম্যাচ সেরা: বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১১ বার ম্যাচ সেরা হয়েছেন মেসি। কাতার আসরে সাত ম্যাচের পাঁচটিতেই তিনি পান এই স্বীকৃতি। ২০০২ সালের জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপ থেকে পুরস্কারটি দেওয়া শুরু হয়।

  • FIFA World Cup 2022: দেশের জার্সিতে এখনই অবসর নয়! আরও কিছুদিন কাটাতে চান জানিয়ে দিলেন মেসি

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    এখনই জাতীয় দলে অবসর নয়, জানিয়ে দিলেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের আগে মেসি স্বয়ং জানিয়েছিলেন কাতার বিশ্বকাপই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। শুধু তাই নয় সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের আর্জেন্টাইন সুপারস্টার জানিয়েছিলেন নীল-সাদা জার্সিতে ফাইনালই যে তাঁর শেষ ম্যাচ। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে এমন ঘোষণায় হৃদয়ভাঙে মেসি ভক্তদের। মেসির বয়স এখন ৩৫। পরবর্তী বিশ্বকাপে তাঁর বয়স হবে ৩৯। এই বয়সে মেসি যে বিশ্বকাপ খেলবেন তা হয়তো কল্পনা করতে পারেননা মেসির অতিবড় ভক্তও।

     

    স্বপ্নপূরণ হয়েছে লিওনেল মেসির! অধরা বিশ্বকাপ ট্রফির ছোঁয়া পেয়েছেন বর্তমান ফুটবলের এই জাদুকর। ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর আর্জেন্টাইন সমর্থকদের স্বপ্নপূরণ করেছেন তিনি। গত বছর কোপা আমেরিকা জয়ের পর এবার বিশ্বজয়। একের পর এক সাফল্যের ভেলায় ভাসছেন আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা। আরও কিছুদিন নীল-সাদা জার্সিতে রাঙিয়ে দিয়ে যেতে চান লিওনেল মেসি। দেশের জার্সিতে সব কিছু পাওয়া হয়ে গেলেও সতীর্থদের সঙ্গে তিনি উপভোগ করছেন। “আমি সৌভাগ্যবান যে ক্যারিয়ারের সবই অর্জন করতে পেরেছি। যেটা এত দিন ছিল না, সেটাও হয়ে গেল।” তবে এত তাড়াতাড়ি অবসর নিতে চাননা মেসি।

     

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, “আমি ফুটবল ভালোবাসি। জাতীয় দলে বর্তমান সদস্যদের সঙ্গে থাকাটাকে উপভোগ করছি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে আরও কয়েকটা দিন দলের সঙ্গে কাটাতে চাই।” প্রিয় তারকার এমন ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তির হাসি ভক্তদের মুখে। হয়তো আগামী কোপা আমেরিকায় নীল-সাদা জার্সিতে আবারও মাতিয়ে দেবেন ফুটবলের এই জাদুকর।

Exit mobile version