Tag: United States

  • যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের স্বপ্নে বড় ধাক্কা? গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য এক লক্ষ ডলারের জামানত বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন

    যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের স্বপ্নে বড় ধাক্কা? গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য এক লক্ষ ডলারের জামানত বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন

    Trump Green Card Bond: যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের (গ্রিন কার্ড) স্বপ্ন দেখা লাখো মানুষের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বাধা তৈরি হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এমন একটি নতুন প্রস্তাব বিবেচনা করছে, যেখানে বিদেশ থেকে আবেদন করা নির্দিষ্ট কিছু গ্রিন কার্ড প্রার্থীকে ১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকারও বেশি) পর্যন্ত ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হতে পারে। প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে এটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

    কেন আনা হচ্ছে এই প্রস্তাব?

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন অভিবাসীরা যেন সরকারি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হন এবং নিজেদের খরচ নিজেরাই বহন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য। প্রশাসনের দাবি, এতে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর অভিবাসীদের উৎসাহিত করা যাবে।

    কারা এই নিয়মের আওতায় আসতে পারেন?

    আলোচনায় থাকা পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জামানতের নিয়ম মূলত বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।

    তবে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক হবে কি না, কোন দেশগুলো প্রথম পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হবে, কিংবা কী মানদণ্ডে আবেদনকারী নির্বাচন করা হবে—এসব বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রথমে সীমিত কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) এটি চালুর কথা ভাবা হচ্ছে।

    জামানতের অর্থ কীভাবে ফেরত মিলবে?

    প্রস্তাব অনুযায়ী, আবেদনকারী বা তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী আত্মীয় এই অর্থ জমা দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে। তবে নাগরিকত্ব পেতে সাধারণত কমপক্ষে পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় লাগে।

    ভারতীয়দের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?

    ভারত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ পারিবারিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। তাই এই নীতি কার্যকর হলে ভারতীয় আবেদনকারীদের ওপরও বড় আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। যদিও এখনও ভারতের নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় অঙ্কের জামানত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক আবেদনকারীকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

    আগেও কড়াকড়ি বাড়িয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন

    এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি কঠোর করার ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে নাগরিকত্বের আবেদন ফি বৃদ্ধি, গ্রিন কার্ড যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা এবং কিছু ভিসা আবেদনকারীর জন্য ফেরতযোগ্য ভিসা বন্ড চালুর মতো একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নতুন প্রস্তাব সেই নীতিকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

    সমালোচকদের আপত্তি

    অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের একাংশের দাবি, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া ধনী ব্যক্তিদের জন্য সহজ হলেও কম আয়ের আবেদনকারীদের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাঁদের মতে, এটি একটি “অর্থের বিনিময়ে সুযোগ” ধরনের ব্যবস্থা তৈরি করবে, যা সমান সুযোগের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এটি এখনও আইনে পরিণত হয়নি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি পর্যায়ে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    #Trump #GreenCard #USImmigration #DonaldTrump #VisaPolicy #ImmigrationNews #UnitedStates #GlobalNews #GreenCardBond

  • United states: তীব্র তাপে গলে গলে পড়ছে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মূর্তি, হিট ওয়েভের সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রে

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    United states: প্রচন্ড গরমে গলে গেল আব্রাহাম লিঙ্কনের মোমের মূর্তি। জলবায়ু যে সত্যিই বদলাচ্ছে তা এবার মানছে আমেরিকাও। ছয় ফুট লম্বা মোমের এই বিখ্যাত মূর্তির অবস্থা চোখে দেখা যাচ্ছেনা। গরমের চোটে পালটে গেছে মূর্তির আদল। গলে গলে পড়ছে মূর্তির বিভিন্ন অংশ। ভয়ঙ্কর হিটওয়েভ গোটা আমেরিকা জুড়ে। তীব্র গরমে কাবু আমেরিকার বহু দেশ।

     

    আপনি যদি ভাবছেন, তীব্র গরমে কেবল বাংলাই হাঁসফাঁস করছে, তাহলে একেবারেই ভুল। আমাদের দেশ তো বটেই, সাথে গোটা বিশ্বই এই হিট ওয়েভের সামনা করছে। শীত প্রধান দেশগুলিতেও অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। ওয়াশিংটন ডিসির অবস্থা এমন যে, ইতিমধ্যেই প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের বিখ্যাত মোমের মূর্তিটি গলতে শুরু করেছে। হ্যাঁ, গরমের চোটে ৬ ফুটের মোমের মূর্তি হু হু করে গলছে। লিঙ্কনের মূর্তির ওই অবস্থা হওয়ায় স্তম্ভিত সকলেই।

     

    এই মূর্তিটি তৈরি করেছিলেন শিল্পী স্যান্ডি উইলিয়ামস। শিল্পীর ‘দ্য ওয়াক্স মনুমেন্ট সিরিজ’র একটি অংশ এই মূর্তি। মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল উত্তর-পশ্চিম ওয়াশিংটনের গ্যারিসন এলিমেন্টারি স্কুলের মাঠে। এককালে এই এলাকা সেদেশের গৃহযুদ্ধের রিফিউজি ক্যাম্প এলাগুলির মধ্যে ছিল অন্যতম। যাতে গ্রীষ্মকালেও এই মূর্তির কোনও ক্ষতি না হয়, সেই কারণেই গাছের নিচে স্থাপন করা হয়েছিল এটি। কিন্তু ২০২৪ এর গরম কোনও বাধাই মানলো না। একটানা গরম বজায় থাকার কারণে জাস্ট গলে গেল একটা আস্ত মোমের মূর্তি।

     

    মূর্তিটির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মাথার দিকটা। মূর্তির পায়ের দিকটাও নাকি অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে মূর্তির ডান দিকের পায়ের অংশটা তো প্রায় পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি যে চেয়ারটিতে বসে আছেন সেটিও হু হু করে গলতে শুরু করেছে। এমন মহান এক নেতার মূর্তির এই হাল দেখে মন খারাপ সকলেরই। দেশের প্রতি তাঁর অবদান তো নেহাত কম নয়।

     

    মার্কিন মুলুকের ১৬ তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্রাহাম লিঙ্কন। তাঁর নেতৃত্বেই স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিল বহু মানুষ। তাঁর নেতৃত্বেই উন্নতির শিখরে পৌঁছেছিল আমেরিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আধুনিকীকরণে অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে আব্রাহাম লিঙ্কনের। অথচ মজার বিষয় হল, এই মহান মানুষটির কিন্তু কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই ছিল না। বন্ধুদের পুরনো বই নিয়েই চলত তার পড়াশোনা। কখনও কখনও মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে যেতেন কেবল মাত্র একটা বই আনার জন্য। তাহলেই ভাবুন তাঁর শেখার চেষ্টা কতটা ছিল।

     

    সেই মানুষটির মূর্তি দেখে উদ্ভুত হত ওয়াশিংটনের গ্যারিসন এলিমেন্টারি স্কুলের ছোট ছোট পড়ুয়ারাও। তবে খুব সম্ভবত মূর্তিটিকে আর ঐ স্কুলের মাঠে রাখা হবেনা। ইকোনমিক টাইমসের একটি রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, এই মূর্তিটিকে নাকি আর রিপেয়ার করতে চাইছেনা সংস্থাটি। বরং গ্রীষ্মের ছুটি শেষ হওয়ার আগেই মূর্তিটিকে স্কুলের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

     

    আব্রাহাম লিঙ্কনের শৈশবটাও যে খুব একটা সুখকর ছিল তা তো নয়। আইন নিয়ে পড়ার আগ্রহ থাকলেও কোথাও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাননি। অনেক চেষ্টার পর ইলিনয় বারে আইন বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। রাজনীতিতে আসেন ১৮৪৬ সালে। ইলিনয়ের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। তবে মাঝে রাজনীতি থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু আব্রাহাম লিঙ্কনকে তো রাজনীতিতে ফিরে আসতেই হত। নাহলে ইতিহাস কিভাবে তৈরি করতেন তিনি? ১৮৫৪ সালে ডেমোক্রেটিক দল যখন প্রেইরি ল্যান্ডে দাসপ্রথা চালু করে, তখন আর দূরে থাকতে পারলেন না।

     

    ছোট থেকে অন্যায় অত্যাচারটা বড় সামনে থেকে দেখেছিলেন। তাই দাসপ্রথার তীব্র বিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। এরপর ১৮৫৬ সালেই তিনি নাম লেখান রিপাবলিকান দলে। ১৮৬০ সালে বেশকিছু প্রভাবশালী নেতৃত্ত্বদের টেক্কা দিয়ে দেশটির ১৬ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন আব্রাহাম লিঙ্কন। এরপর ১৮৬৩ সালে গড়েন ইতিহাস। এককথায় দাসপ্রথার বিলুপ্তি ঘোষণা করেন। এটিই ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে নেওয়া সবথেকে বড় পদক্ষেপ। সেইদিন লক্ষ লক্ষ মানুষকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন তিনি।

     

    আর এই মহান মানুষটির স্মৃতির উদ্দেশ্যেই এই মোমের মূর্তি তৈরি করেছিল Cultural DC নামক এক সংস্থা। তবে এখন গরমের চোটে সেটাও নষ্ট প্রায়।

    এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, যে ওয়াশিংটন ডিসিতে এখন তাপমাত্রা কত? তাহলে উত্তর হল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি। এবার মনে হতেই পারে যে, মাত্র ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই কীভাবে একটা মূর্তি গলে যেতে পারে? যেখানে নির্মাণকারী সংস্থা Cultural DC-র দাবি ছিল, এই মূর্তি ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অবধি তাপমাত্রা সহ্য করে নিতে পারে। উত্তরটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বলা হচ্ছে, টানা হিটওয়েভ এবং বাতাসের আর্দ্রতা কারণেই ঘটেছে এই ঘটনা। এছাড়া মোম দিয়ে মূর্তিটি বানানোর সিদ্ধান্ত আদৌ সঠিক ছিল কি না,সেটা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তবে একটা উত্তর বেশ পরিষ্কার যে, পৃথিবীর জলবায়ুর অবস্থা কিন্তু খুব একটা ভালো নয়।

    https://fb.watch/s_IEbYO3dK/

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • United states-Iran: হুতিদের দিয়ে ইরানের মারাত্বক প্ল্যান ! পালাবে কোথায় যুক্তরাষ্ট্র ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    United states-Iran: ইরানের ইন্ধনে হুথিরা চাপে ফেলল যুক্তরাষ্ট্রকে! তাণ্ডব চালাচ্ছে লোহিত সাগরে। যুক্তরাষ্ট্রের হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে লোহিত সাগর। বিশ্ব বাণিজ্যে পড়তে চলেছে মারাত্মক প্রভাব। যে লোহিত সাগরে কিনা যুক্তরাষ্ট্র সবসময় নজরদারি চালায়, সেখান থেকেই পালিয়ে গেল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী! তাহলে কি এবার লোহিত সাগরে রাজ চালাবে হুথিরা? ইরান সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে এখন মারাত্মক পাওয়ার। যে কোনো মূল্যে লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনঠাসা করতে কষে ফেলেছে সব প্ল্যান। শুধু ইরান, নাকি হুথিকে পিছন থেকে সাহায্য করছে অন্য কোনও শক্তি? হুথিরা মুখে বলছে, গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে লোহিত সাগরে। কিন্তু মনে মনে অন্য প্ল্যান। এই যে লোহিত সাগর থেকে মার্কিন রণতরীকে পিছু হটতে হল, এটা কি আদৌ ভালোভাবে মেনে নেবে যুক্তরাষ্ট্র? এর পাল্টা হুথিদের উপর বড় হামলা চলবে না তো? তখন কোথায় যাবে হুথি? শক্তির নেপথ্যে আসল মাস্টারমাইন্ড কিন্তু সেই ইরান।

     

    * যুক্তরাষ্ট্রের দানব রণতরী কি হার মানল হুথিদের কাছে?

    ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। বিগত কয়েক দশকে লোহিত সাগরের অন্যতম ত্রাস। সম্প্রতি নাকি ইয়েমেনিরা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আইজেনহাওয়ারের উপর হামলা করেছে। যদিও পেন্টাগন এই খবরকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ওদিকে ইয়েমেনিদের দাবি, তারা সত্যি সত্যি হামলা চালিয়েছে। পেন্টাগনের বিশেষজ্ঞরা ঘোষণা করেছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লোহিত সাগরে এই রণতরীর মিশন শেষ হয়েছে। তাই রণতরীটি লোহিত সাগর থেকে ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টাকে হালকা ভাবে নিচ্ছে না হুথি। তারা মনে করছে, তাদের হামলাতেই নাকি এমনটা কাণ্ড ঘটাল যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের ইজ্জত বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন যুক্তি দিয়ে বলছে অন্য কথা। দুই পক্ষ যে যাই বলুক, এ কথা ঠিক যে এখন বেশ উত্তপ্ত লোহিত সাগর। যেখানে বড় ভূমিকা রয়েছে হুথিদের। এদের কর্মকাণ্ড ভাবিয়ে তুলেছে ওয়াশিংটনকে। গাজা থেকে পরিচালিত হামাস আর ইসলামী জিহাদের অভিযানের কারণে নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই রণতরী লোহিত সাগরে ছুটে এসেছিল। কিন্তু এখন সেটি অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কথায়, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে লোহিত সাগরে আইজেনহাওয়ারে পিছু হটা দরকার। সম্ভবত এবার সেখানে যাবে ‘থিওডোর রুজভেল্ট’ রণতরী।

     

    কিন্তু প্রশ্নটা হল, এই যে আইজেনহওয়ার ফিরে গেল, কেন এটাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? কেনই বা বারংবার হাইলাইটেড করা হচ্ছে বিষয়টাকে? হুথিদের ক্ষমতা কতটা বেড়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র লোহিত সাগরে কতটা দুর্বল হয়ে পড়ছে, সেটাই কি শুধুমাত্র বোঝানোর জন্য? আসলে কি বলুন তো, এই রণতরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দশটি বড় রণতরীর অন্যতম। বলা হয়ে থাকে, এটি নাকি মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম একটা প্রধান পেশী শক্তি। সবচেয়ে শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থা আর নেভিগেশন সহায়ক যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত। এই রণতরী সাবমেরিনের সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর পাশাপাশি গতির উপর নজর রাখতে পারে। আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা স্পেরো ক্ষেপণাস্ত্রের নৌ ও স্থল সংস্করণের অধিকারী। গতবছরের অক্টোবরে হামাসের হামলায় যখন ইসরায়েল একটু কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল, তখনই এই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছিল আইজেনহাওয়ারকে। অভিযোগ উঠেছিল, ইসরায়েলের আশেপাশে একটা ভাসমান বিমান ঘাঁটি হিসেবে নাকি কাজ করবে এই রণতরীটি। দরকার পড়লে যুদ্ধবিমান গুলো খুব অল্প সময়ে এখান থেকে অভিযান চালাতে পারে। কিন্তু হুথিদের একের পর আর এক হামলার মুখে লোহিত সাগর ছেড়ে চলে যাচ্ছে সেই জাহাজ, দাবি ইয়েমেনিদের। যা মোটেই প্রত্যাশিত ছিল না। কিন্তু এটা কি মেনে নেওয়া যায়, যে হুথিদের মতো একটা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার মুখে নাকি মার্কিন রণতরী? আসলে এখানেও এমন কিছু ফ্যাক্ট রয়েছে, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্র কিছু করতে পারছে না।

     

    * লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের হাল বেহাল, হুথিরা হারাচ্ছে স্ট্র্যাটেজিতে

    লোহিত সাগরকে কোনদিনও কি যুক্তরাষ্ট্র হুথি মুক্ত করতে পারবে না? রয়েছে বড় সংশয়। আসলে, হুথির মতো একটা সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে কোথাও গিয়ে যেন স্ট্র্যাটেজিতে মার খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে গিয়ে হুথিরা মিসাইল, রাডার, হেলিকপ্টার, ছোট নৌকা কিংবা ড্রোনের সমন্বয়ে আক্রমণ পরিচালনা করছে। হুথিদের ব্যবহার্য ড্রোনের দাম বড় জোর ২০০০ ডলার, আর সেই ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে যখন প্রায় ২০ লক্ষ ডলার দামের মিসাইল ব্যবহার করতে হচ্ছে, তখন পোষাচ্ছে না। অনেক দিন আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে কয়েক ডজন দেশের সেনা নিয়ে গঠিত কম্বাইন্ড মেরিটাইম ফোর্সেস মধ্যপ্রাচ্যকে নজরদারির আওতায় রাখছে। যারা সফলভাবে সোমালিয়ার জলদস্যুর মতো হুমকিকে মোকাবিলা করছে। কিন্তু হুথিরা যেভাবে আক্রমণ করছে, বা বলা ভালো যে আক্রমণ কৌশল বেছে নিয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র শতভাগ সক্ষম হবে কিনা তা বলা মুশকিল। তাছাড়া হুথিদের মূল শক্তিই তো ইরান। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে অস্ত্রশস্ত্র আর্থিকভাবে নানান সুবিধা পেয়ে থাকে। প্রসঙ্গত আরেকটা কথা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আট বছর ধরে সৌদি আরব ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একেবারে হারাতে পারেনি। উল্টে সৌদি সরকারকে হুথিদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করতে হয়েছে। তার উপর বর্তমানে যেন হুথিদের কপাল কিছুটা ভালো যাচ্ছে বলতে হয়। এই অঞ্চলে থাকা বাহরাইনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বহু ঘনিষ্ঠ মিত্র হুথিদের হামলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ানের যোগ দেয়নি। এমনকি মিশর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই হুথি বিরোধী জোটে যোগ দিতে রাজি হয়নি। কারণ একটাই। যদি এই জোটে যুক্ত হয়, তখন আরব দেশগুলো তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষ সমর্থনের অভিযোগ আনতে পারে। আর তাই, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে হুথিদের হুমকি সামাল দেওয়া যেন আরো কঠিন হয়ে পড়ছে।

     

    লোহিত সাগরের অশান্তির জেরেই কিন্তু গোটা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, চলতি বছরের জানুয়ারির গোড়াতেই, এশিয়া থেকে উত্তর ইউরোপে ৪০ ফুটের কন্টেইনার পাঠানোর খরচ বেড়ে পৌঁছেছে ৪ হাজার ডলারে। আর জানুয়ারির শুরু থেকে মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত, ২৪ ফুটের একটা শিপিং কন্টেইনার ভারত থেকে ইউরোপ আর মার্কিন পূর্ব উপকূলে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমাণ ৬০০ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে দেড় হাজার ডলার। সত্যি কথা বলতে, যেন খরচ বাড়ছে অস্বাভাবিক ভাবে। যার জন্য কিছুটা দায়ী হুথিরা।

     

    * লাইমলাইটে আসতে চাইছে হুথি, ইরানের সাথে গভীর সখ্যতা

    ইরান সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রথম থেকেই দাবি, গাজায় চলমান ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না করলে তাদের হামলা চলতেই থাকবে। আর সেটা কাজেও করে দেখাচ্ছে। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংশ্লিষ্ট জাহাজ গুলোর উপর লোহিত সাগর অঞ্চলে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এই ইয়েমেনের হুথিরা। আসলে তারা খুব ভালোভাবে বুঝে গিয়েছে, এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট বিশ্বের শিপিং ট্রাফিকের প্রায় ১৫ শতাংশের জন্য দায়ী। তাদের হামলার জেরেই কিন্তু ইতিমধ্যেই বহু শিপিং কোম্পানি তাদের জাহাজগুলিকে আফ্রিকার দক্ষিণ দিয়ে ঘুরপথে চলাচল করতে বাধ্য করছে। সময়ও লাগছে প্রচুর, দূরত্ব বাড়ছে। পণ্য নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এই সমস্ত ক্ষতির দায় পরোক্ষভাবে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের উপর। তাই দেশটা আপ্রাণ চাইছে হুথিকে দমন করতে। কিন্তু পারছে কি? ইমেজ খারাপ হচ্ছে ইসরায়েলেরও। আর গোটা বিশ্ব জানে হুথি একটা সশস্ত্র গোষ্ঠী। তাই লোহিত সাগরের সংকটে পুরো দায়ভারটা গিয়ে যেন পড়ছে পশ্চিমা দুনিয়ার উপর।

     

    ইরান সমর্থিত হুথিরা ২০১৪ সালে ক্ষমতা দখলের পর ইয়েমেনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। যার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর সানা, দেশটার উত্তর অংশ আর লোহিত সাগরের উপকূল অঞ্চল। আর এই অঞ্চলটা ইউরোপের সাথে এশিয়ার যোগাযোগের সংক্ষিপ্ততম পথ, সেই পথকেই নিজেদের অস্ত্রের আওতায় নিয়ে নিচ্ছে হুথি। বহু সমালোচক সাম্প্রতিক সময় বলছে, হুথিরা যে জাহাজে হামলা করছে, তার মধ্যে বহু জাহাজের সাথে কিন্তু ইসরায়েলের কোনও সম্পর্ক নেই। আসলে এরা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে কাজে লাগিয়ে গোটা বিশ্বের আলাদা করে গোটা বিশ্বের নজরে আসতে চাইছে। কোথাও গিয়ে দেখাতে চাইছে তারা একটা বড় সশস্ত্র গোষ্ঠী। হয়তো বা পরিকল্পনা করে রেখেছে, ইয়েমেনের ক্ষমতায় আসার। নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করার জন্য বেছে নিয়েছে লোহিত সাগরকে। কারণ এখানেই তারা টক্কর দিতে পারবে বিশ্বের তাবড় তাবড় পরাশক্তি গুলোর সাথে। স্বাভাবিকভাবেই তারা তখন চলে আসবে লাইমলাইটে। আর সেটাই কিন্তু হচ্ছে। হুথিরা যেন ইরানের কাছে গিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে, তারা ইরানের কার্যকরী মিত্র। হুথিদের সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক একদমই ভালো নয়। আবার ইরানের সাথেও সৌদির সম্পর্ক ভালো নয়। তাই হুথিরা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের জোর বাড়াতে আরো বেশি করে ঘনিষ্ঠ হতে চাইছে ইরানের সাথে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Usa-Russia: যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া কী যুদ্ধেই জড়িয়ে পড়বে ! কী প্রশ্ন তুলছে ক্রিমিয়া সংকট ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Usa-Russia: যুক্তরাষ্ট্রকে সবক শেখাবে রাশিয়া, ক্রিমিয়ায় হামলা যুদ্ধ বাঁধালো বলে। যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া ফল ভোগ করতে হবে। হুঁশিয়ারি রাশিয়ার। ক্রিমিয়ায় হামলা চালালো ইউক্রেন, আর রাশিয়া হুমকি দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে! আর আড়াল থেকে নয় কিংবা প্রক্সি যুদ্ধও নয়। আশঙ্কাই কি তবে সত্যি হবে? যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়া এবার সম্মুখ সমরে নামবে না তো? যদি বিশ্বের এই দুই শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে, তাহলে সেটা বিশ্বযুদ্ধের থেকে কম হবে না, তা বলাই বাহুল্য। আর সেটা কাম্য নয়। বহুদিন ধরেই এই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে বিশ্বের বহু দেশ। এই দুই দেশের মিত্র রাষ্ট্রগুলোও জানে, রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র এর সরাসরি যুদ্ধ বাঁধলে, তার পরিণামটা সত্যি ভয়ঙ্কর হবে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? যুক্তরাষ্ট্রও কি রাশিয়ার হুমকির মুখে চুপ থাকবে? পাল্টাপাল্টি হুমকির জেরে পুঞ্জিভূত ক্ষোভ যে কোন মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। তখন কী হবে?

     

    আজ যে রাশিয়া বলছে যুক্তরাষ্ট্রকে পরিনাম ভোগ করতে হবে, সেই পরিণাম শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং রাশিয়া সহ গোটা বিশ্বকে সেই দাম দিতে হবে। আর এই যে ক্রিমিয়ায় হামলা নিয়ে এত কথা, এই অঞ্চল নিয়ে কিন্তু কম জটিলতা নেই। ক্রিমিয়ার উপর নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়ার। ক্রিমিয়াকে রাশিয়া ছিনিয়ে নিয়েছিল। ক্রিমিয়া হবে কার? এই নিয়ে একটা সময় গোটা বিশ্ব ছিল উত্তপ্ত। রীতিমত যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল পরাশক্তিগুলো। আর তাই ক্রিমিয়ায় ঘা লাগা মানে, রাশিয়ার আতেঁ ঘা লাগা। সেটা খুব ভালোভাবেই জানে ওয়াশিংটন। কিন্তু হঠাৎ ইউক্রেন ক্রিমিয়ার হামলা করতে গেল কেন? পুরোটাই কি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ছক? কারণ যে ক্রিমিয়া একসময় রাশিয়া যুদ্ধ করে জিতে নিয়েছিল, সেই ক্রিমিয়া যদি রাশিয়ার হাতছাড়া হয়ে যায়, কিংবা সেই ক্রিমিয়ায় যদি রাশিয়ার ভিত দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে গোটা বিশ্বের কাছে রাশিয়া দুর্বল প্রতিপন্ন হবে।। আর তাই কি যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়াকে কোনঠাসা করার অস্ত্র হিসেবে বেছে নিল ক্রিমিয়াকে ? প্রশ্ন তো উঠছে, আর উঠবেও।

     

    •যুক্তরাষ্ট্র বনাম রাশিয়া, যুদ্ধের মূল অস্ত্র এবার ক্রিমিয়া

    বিশ্বে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা লড়াইয়ে আগেই নেমেছে এই দুই শক্তিধর রাষ্ট্র। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে তলানিতে ঠেকেছে সম্পর্ক। রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাভাবিক কথোপকথন এখন লক্ষ্য করাই যায় না। বেশিরভাগ সময়ই একে অপরের সঙ্গে হুমকির সুরে কথা বলে। ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতেই এবার আরো ক্ষেপল রাশিয়া। হামলায় চারজন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় রাশিয়া সরাসরি দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্রকে। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এর পরিণাম ভোগ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। শুধু তাই নয়, মস্কোয় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে রাশিয়া। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া বনাম যুক্তরাষ্ট্র। যার ফলে এই দুই শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ যে এখনই থামার নয় তা স্বাভাবিক। ইউক্রেনকে সাপোর্ট করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আগাগোড়া দুষে আসছে রাশিয়া। এবার ক্রিমিয়ার সবথেকে বড় শহর সেভাস্তোপলেতে হামলা চালাতেই রাশিয়া বুঝতে পারছে, এভাবে চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র সত্যি সত্যি একদিন ক্রিমিয়া দখল করার চেষ্টা করবে। তাই আগে থেকেই সতর্ক হয়ে গিয়েছে দেশটা। এই হামলাকে বর্বর বলে বর্ণনা করেছে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন রাশিয়ার শিশুদের হত্যা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণের ফলে প্রাণ দিতে হচ্ছে রাশিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের। যার পরিণাম অবশ্যই ভোগ করতে হবে ওয়াশিংটনকে। কীভাবে তার জবাব দেওয়া হবে, তা সময়ই বলে দেবে। এতদিন যেটা আড়ালে চলছিল, এবার রাশিয়া সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মুখের ওপর চরম হুমকিটা দিয়েই দিল।

     

    ২০১৪ সালে এক ইউক্রেনের এই উপদ্বীপ দখল করে নিয়েছিল রাশিয়া। রাশিয়ার তথ্যমতে, ক্রিমিয়ায় হামলার ক্ষেত্রে ইউক্রেন ব্যবহার করেছে অ্যাটাকমস নামক এক ক্ষেপণাস্ত্র। যেখানে ছিল গুচ্ছবোমা। রাশিয়ার দাবি, কিয়েভকে এই ভয়ঙ্কর অস্ত্র দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনকে পশ্চিমা দেশগুলো যে দূরপাল্লার অস্ত্রগুলো দিচ্ছে, তা নিয়ে বারংবার সমালোচনা করেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলে দিয়েছেন, যদি রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেনকে কোন দূরপাল্লার অস্ত্র দেয়া হয়, তাহলে পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলা চালাতে অন্যান্য দেশকে রাশিয়া অস্ত্র দেবে। আসলে কি বলুন তো, এই সব কিছুর মূলে রয়েছে এখন ক্রিমিয়া। যাকে টার্গেট করছে যুক্তরাষ্ট্র আর ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মতে, ক্রিমিয়া মানেই তো ইউক্রেন। আর তাই ওই উপদ্বীপটিকে রাশিয়াকে অবশ্যই ছেড়ে যেতে হবে। সেখান থেকে সরিয়ে নিতে হবে সেনাবাহিনী আর সামরিক সরঞ্জাম। আর ক্রিমিয়ার সামরিক স্থাপনায় হামলা করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে ইউক্রেনের।

     

    প্রশ্ন তো এখানেই। তাহলে কি রাশিয়াকে এবার হারাতে যুক্তরাষ্ট্র আর ইউক্রেনের জোট প্রাণপণ চাইছে ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার থেকে ছিনিয়ে নিতে? যে ক্রিমিয়া অধিকার করে রাশিয়া গোটা বিশ্বের কাছে সুনাম আবার কখনো সমালোচনা কুড়িয়েছিল, সেই ক্রিমিয়া যদি রাশিয়ার হাতছাড়া হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু সেটা রাশিয়ার জন্য নেতিবাচকই হবে।

     

    * ক্রিমিয়া আসলে কার? রাশিয়া নাকি ইউক্রেনের?

    দেখুন ইউক্রেনের অখণ্ডতার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়ার মধ্যে কিন্তু তর্কবিতর্কের শেষ নেই। যার শুরুটাই হয়েছিল একে অপরকে হুমকি দিয়ে। যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ওবামা ছিলেন, তখনও তিনি স্পষ্ট ভাষায়, কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন। আশার আলো দেখা দিয়েছিল, হয়ত ক্রিমিয়া আর ইউক্রেন নিয়ে যে দ্বন্দ্ব চলছে তার সমাধান হবে।। কিন্তু সেই সময় থেকে রাশিয়ার যে অ্যাকশন, যে ভূমিকা, তা শুধু ওই অঞ্চলেই নয়, বিশ্বশক্তি হিসেবে জানান দিচ্ছিল রাশিয়া মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, বিশ্বে একক পরাশক্তি হিসেবে জন্ম হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের ফলে অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছিল রাশিয়ার প্রতিপত্তি। কিন্তু ক্রিমিয়াতে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রাশিয়া নিজেকে তার আগের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।

     

    যখন পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়াকে ইউক্রেন আর ক্রিমিয়ার মধ্যেকার ভাঙনের জন্য দোষারোপ করছে, তখন থেকেই রাশিয়া তক্কে তক্কে ছিল ক্রিমিয়াকে দখল করার জন্য। রাশিয়া খুব ভালোভাবেই জানত, ইউক্রেন আর ক্রিমিয়াতে যদি পশ্চিমা বিশ্বের একটা কর্তৃত্ব সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়, তখন কিন্তু রাশিয়ার যে ক্ষমতা সেটা অনেকটা কমে যাবে। আর তাই হয়তো বছরের পর বছর ধরে ক্রিমিয়ার টানাপোড়েন অনেকটা চেনা ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কতবার যে এই অঞ্চলের হাত বদল হয়েছে, তার কোনও ইয়ত্তা নেই। তার উপর পুনরায় ২০১৪ সালে রাশিয়া কর্তৃক ক্রিমিয়া দখলের ঘটনাটা গোটা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তৈরি করেছিল। যা ছিল ১৯৪৫ সালের পর মস্কোর প্রথম সরাসরি রাজ্য বিস্তার। স্বভাবতই, এটি ইউরোপ আর উত্তর আমেরিকায় তৈরি করে একটা নতুন রুশ ভীতি। পশ্চিমা বিশ্ব কিন্তু এটা মেনে নিতে পারেনি, বরং রাশিয়ার উপর চাপায় কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। যা এখনো পর্যন্ত জারি রয়েছে।

     

    ইউক্রেন আর বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র এখনো পর্যন্ত ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই দাবি করে। অপরদিকে রাশিয়া ক্রিমিয়াকে ‘ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্র’ আর ‘সেভাস্তোপোল’ কে কেন্দ্র শাসিত শহর হিসেবে নিজের প্রশাসনিক কাঠামোতে যোগ করে দেয়। আর সেই কেন্দ্রশাসিত একটা শহরেই এবার হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। স্বাভাবিকভাবে এই বিষয়টা নিয়ে যে বিস্তর জল ঘোলা হবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ রুশদের মতে ১৯৫৪ সালে সোভিয়েত সরকার অবৈধভাবে ক্রিমিয়াকে রাশিয়া থেকে ইউক্রেনের কাছে নাকি হস্তান্তর করেছিল। যার আগে পর্যন্ত ক্রিমিয়া ছিল রাশিয়ার অন্তর্গত। শুধু তাই নয়, ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক এবং জাতিগত দিক থেকে ক্রিমিয়া রুশভূমি।

     

    দেখুন, যদি এখন বলতে শুরু করি এই ক্রিমিয়া কার, রাশিয়ার নাকি ইউক্রেনের? কেনই বা হস্তান্তর হল, কেনই বা এই অঞ্চল নিয়ে এত টানাপোড়েন, তাহলে কিন্তু সেখানে বড় লম্বা কাহিনী রয়েছে। তবে হ্যাঁ, এই ক্রিমিয়া এখন হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়ার দ্বন্দ্বের নতুন ভূমি। রাশিয়ার হুমকির পাল্টা হিসেবে এবার যুক্তরাষ্ট্র কি বলে, কিংবা ঠিক কি অ্যাকশন নেয় এবার সেটাই দেখার।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • US-Israel: ইজরায়েলকে সমর্থন করেই বিপদে যুক্তরাষ্ট্র ! লেবানন হবে দ্বিতীয় গাজা ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    US-Israel: মহাসংকটে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলকে আশ্বাস দিতেই ফুঁসছে ইরান। মহাসংকটে যুক্তরাষ্ট্র। কাকে বাছবে? কোন দিকে যাবে? হিজবুল্লাহ নাকি নেতানিয়াহ? নাকি থাকবে নিরপেক্ষ অবস্থানে? যুক্তরাষ্ট্রের এখন শাঁখের করাতে অবস্থা। আবারো বড় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে চলেছে মধ্যপ্রাচ্য। ওদিকে ফুঁসছে ইরান। হিজবুল্লাহকে জেতাতে মরিয়া দেশটা। ইসরায়েল আর লেবাননের সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা। গদি নিয়ে টানাটানি হতে পারে। সরকার পড়ে যেতে পারে ইসরায়েলের। আর তার আঁচ পড়বে যুক্তরাষ্ট্রেও! দ্বিতীয় গাজা হয়ে যাবে না তো লেবানন? হামাস ইসরায়েলের পর এবার লেবানন-ইসরায়েল। ইরান যে এত জোর গলায় বলছে, ইসরায়েল নাকি হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে চূড়ান্ত পরাজিত হবে, আদৌ কি ইরানের কথা মিলবে? নাকি শেষে হাসি হাসবে ইসরায়েল? যুদ্ধের ময়দানে কোমর বেঁধে নামছে হিজবুল্লাহ।

     

    ইসরায়েলকে সাপোর্ট করে চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র, শক্তি বাড়াচ্ছে হিজবুল্লাহ

    হিজবুল্লাহ আর ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি আক্রমণে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। সেই জায়গাতেই উঠছে বড় প্রশ্ন। যদি সর্বাত্মক যুদ্ধ বাঁধে, তখন কী করবে যুক্তরাষ্ট্র? জো বাইডেন কিন্তু একদমই যুদ্ধ চাইছেন না। ছোটাছুটি করছেন যাতে যুদ্ধটা আটকানো যায়। কিন্তু পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে যদি ইসরায়েল কিংবা হিজবুল্লাহ কারোর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে যুদ্ধ বাঁধবেই বাঁধবে। ইতিমধ্যেই নতুন করে আরেকটি ফ্রন্টে যুদ্ধ না বাঁধাতে ইসরায়েলকে বারংবার সতর্ক করছেন জাতিসংঘের মহাসচিব সহ বিশ্ব নেতারা। কিন্তু আদৌ শেষ রক্ষা হবে কিনা, তা বলা মুশকিল। মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট চাপে রয়েছে। সামনেই প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন। তাই পদক্ষেপ নিচ্ছে একটু ভেবে ভেবে। কিন্তু সর্বাত্মক যুদ্ধ বাঁধলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকেই সমর্থন করবে। যদিও এটা জানা কথা। ইতিমধ্যেই তার আভাস দিয়ে দিল। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র হয়ত বিতর্ক থেকে বাঁচতে কিংবা বাইডেন নিজের গদি বাঁচাতে এই যুদ্ধ এড়িয়ে যাবেন। নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকবেন। তবে সেটা হওয়া চাপের।

     

    ওয়াশিংটনে সফরকারী ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা। আর যে সময় ইসরায়েল এত বড় আশ্বাস পেল, ঠিক তখনই কিন্তু লেবানন আর ইসরায়েল সীমান্তে দুই বাহিনীর সংঘাত আরো বেড়েছে। এই সময় নেতানিয়াহুর দরকার প্রচুর অস্ত্র। তাই অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকাশ্যে দোষারোপ করতে শুরু করে দিয়েছেন। এই নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের মধ্যে চলছে মন কষাকষি। যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু এখনো সেই বোমার চালানটি ছাড়া অন্য অস্ত্র ইসরায়েলকে সরবরাহ করছে। শোনা যাচ্ছে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ইসরায়েলের উত্তর সীমান্ত পরিস্থিতি, ইরান, গাজায় যুদ্ধ বিরতি আর জিম্মি মুক্তি সহ বহু বিষয়। আর সেই প্রসঙ্গেই মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের বিষয়ে তারা ইসরায়েলকে নিরাপত্তা সহায়তা দেবে। তবে হ্যাঁ, এক্ষেত্রে নিজেদের কোনও সেনা মোতায়ন করবে না। যুক্তরাষ্ট্র যে ইসরায়েলের হাত ছাড়বে না তা প্রথম থেকেই বলে এসেছে, আর সেটাই করছে। যদিও বাইডেন প্রশাসন বেশ কয়েক দফায় বলেছে, ইসরায়েলের উত্তরে নতুন করে কোনও যুদ্ধ চায় না। তারা এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে। কিন্তু যুদ্ধ বাঁধলে ইসরায়েলকে যুদ্ধের মাঠে একা ফেলে দেবে না।

     

    এই যুদ্ধে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের যেন শেষ নেই। বহু প্রতিবেদন বলছে, ইসরায়েল আর হিজবুল্লাহর যুদ্ধে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে আয়রন ডোম সহ ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুলো। বলা হচ্ছে, তেল আবিবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যত ক্ষেপণাস্ত্র আছে, হিজবুল্লাহর হাতে তার চেয়েও আছে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র আর রকেট। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানো মানে, বড় অস্ত্র ভান্ডার দিয়ে সাহায্য করা। তার উপর তো রয়েছে বিতর্ক। সেই গাজা যুদ্ধ থেকেই ইসরায়েলকে সাপোর্ট করার জন্য গোটা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রকে কম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি। লেবাননের সংঘাত ঘিরেও সেই ঘটনার আবার রিপিট হতে পারে। তাই একটু ভাবনা চিন্তা করছে ওয়াশিংটন।

     

    লেবাননের যুদ্ধে নেতানিয়াহুর লাভ-ক্ষতি

    লেবাননের সাথে যুদ্ধে গেলে ক্ষতি হবে নেতানিয়াহুর। এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ এখনো পর্যন্ত গাজা যুদ্ধ চলমান রয়েছে। যেখানে যুদ্ধ একেবারের জন্য বন্ধ হবে, এমন চুক্তিতে তিনি যেতে নারাজ। তবে হ্যাঁ আংশিক যুদ্ধ বিরতিতে প্রস্তুত। যেখানে সবাইকে না হলেও অন্তত কয়েকজন ইসরায়েলের জিম্মিকে গাজা থেকে ফিরিয়ে আনা যাবে। নেতানিয়াহু বারংবার হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা আর গাজায় হামাসের রাজত্ব নির্মূল করা। অর্থাৎ তিনি যা চাইছেন সেখানে কখনোই হামাসের স্বার্থ রক্ষা হবে না। বরং ইসরায়েলের একতরফা স্বার্থরক্ষা হবে। যার জেরে এখনো মাটি কামড়ে গাজায় পড়ে রয়েছে হামাস। দেখতে দেখতে প্রায় আট মাসের বেশি হয়ে গেল। জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে হাজার হাজার ইসরায়েলি নাগরিক সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন। মূল দাবি, যে কোন মূল্যে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে হবে। মহাফাঁপরে পড়েছেন নেতানিয়াহু। না নিজের লক্ষ্য থেকে পিছু হটতে পারছেন, না জিম্মিদের মুক্ত করতে পারছেন।

     

    তার উপর দোরগোড়ায় নির্বাচন। যদি হিজবুল্লাহর সঙ্গেও যুদ্ধ বাঁধে, তাহলে সেটা টানতে পারবেন তো? গোটা মধ্যপ্রাচ্য এক হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গেলে রুখে দাঁড়াতে পারবেন তো নেতানিয়াহু? প্রশ্নটা তো এখানেই। শুধু মুখে বলা, আর কাজে করে দেখানোর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। একটা যুদ্ধ মানে বুঝতে পারছেন? প্রচুর লোকবল, অর্থ আর অস্ত্রের প্রয়োজন। এমত পরিস্থিতিতে নতুন করে আর একটা যুদ্ধ টানা মুখের কথা নয়। যদিও হাল ছাড়তে নারাজ নেতানিয়াহু সরকার। আত্মরক্ষার খাতিরে উত্তর সীমান্তে বেশি করে সেনা মোতায়েন করবে। শুধু তাই নয়, উদ্বাস্তুদের ফেরাতেই নাকি এই পরিকল্পনা। এই যুদ্ধ ইসরায়েলের কাছে হতে পারে একটা বড় ধাক্কা। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ যেমন বাড়বে, তেমনই গোটা বিশ্বের কাছে ইসরায়েলের ইমেজ খারাপ হবে। দেখুন, বর্তমান দিনে দাঁড়িয়ে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ কিন্তু যুদ্ধ বিরোধী। শক্তির আধিপত্যের লড়াইয়ে অনেকেই শামিল হতে চায় না। তাই যুদ্ধ বাঁধলে, ইসরায়েল আর হিজবুল্লাহকে যুদ্ধবাজ বলে দেগে দিতে পারে কূটনৈতিক মহল।

     

    লেবানন হবে দ্বিতীয় গাজা! হিজবুল্লাহকে উস্কাচ্ছে ইরান

    যখন দুই পক্ষই যুদ্ধ করতে প্রস্তুত, তখন মহাচিন্তায় জাতিসংঘ। গোটা বিশ্ব দেখেছে গাজায় কি হচ্ছে। লেবানন যদি আরেকটি গাজা হয়, তাহলে বিশ্ব মেনে নিতে পারবে না বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। তাঁর মতে, একটা বেপরোয়া পদক্ষেপ, একটি ভুল বোঝাবুঝি মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। যেটি সীমান্ত ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে বহু দূর পর্যন্ত। খোলাখুলি বললে, তা কল্পনারও বাইরে। মধ্যপ্রাচ্যের বাসিন্দা এবং পুরো পৃথিবীর মানুষ লেবাননের আরেকটি গাজায় পরিণত হওয়ার ধকল নিতে পারবে না। এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বকে জোর গলায় স্পষ্ট করে বলতে হবে, দ্রুত উত্তেজনা কমাতে হবে। এটা খুব জরুরী। যেখানে সামরিকভাবে সমাধানের কিচ্ছু নেই। ২০০৬ সালেও কিন্তু ইসরায়েল আর হিজবুল্লাহর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখন উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টির হুমকির মাধ্যমে হয়তো পরস্পরকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে, নাকি সত্যি অর্থেই তারা পুরোদমে যুদ্ধে জড়াবে, তা এখনো কিন্তু নিশ্চিত নয়। গাজার ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহর তুলনা করাটা ঠিক হবে না। কারণ হামাসের তুলনায় হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা অনেক বেশি প্রশিক্ষিত এবং সুসংগঠিত। তাদের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্রের সংখ্যাটাও অনেকটা বেশি। তাই এই যুদ্ধ হলে ইসরায়েলকে কড়া মূল্য চোকাতে হতে পারে।

     

    ওদিকে আবার হিজবুল্লাহকে উস্কাচ্ছে ইরান। জাতিসংঘে ইরান মিশন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলে দিয়েছে, নিজেকে বাঁচাতে ইসরায়েল সরকারের যে কোন হঠকারী সিদ্ধান্তও মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন যুদ্ধে নিমজ্জিত করতে পারে। ধ্বংস হতে পারে লেবাননের অবকাঠামো। শুধু তাই নয়, ১৯৪৮ সালের অধিকৃত অঞ্চলগুলোর অবকাঠামো ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। ইরানের মতে, নিঃসন্দেহে এই যুদ্ধে একটি পক্ষের চূড়ান্ত পরাজয় হবে। আর তা হল ইসরায়েল। কারণ হিজবুল্লাহর নিজেকে আর লেবাননকে রক্ষা করার ক্ষমতা রয়েছে। সম্ভবত এবার ইসরায়েলের আত্মবিনাশের সময় এসেছে। লেবাননকে হুমকি দেওয়া মানে ইরানকেও ঘুরপথে হুমকি দেওয়া। তাই হিজবুল্লাহর দিকে বিন্দুমাত্র আঁচ এলে ফুঁসে উঠছে ইরানও।

     

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • China-Russia: খেলা শেষ যুক্তরাষ্ট্রর ! মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে চীন-রাশিয়া

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    China-Russia: অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে এক্কেবারে শেষ করে দিতে উঠে পড়ে লেগেছে চীন রাশিয়া। এই দুই শক্তিধর দেশ যা প্ল্যানিং করছে, তাতে কুপোকাত করে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিধর দেশকে। আর মোড়লগিরি নয়, এবার যুক্তরাষ্ট্রের দিন শেষ হয়ে আসার পালা। অদূর ভবিষ্যতের জন্য সেই প্ল্যানই করছে চীনা রাশিয়া। কাছে টানার চেষ্টা করছে ভারত ইরানের মত দেশগুলোকে। হয়ত এমন একটা দিন আসবে, যখন চীন রাশিয়ার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যাবে। মূল অস্ত্র মুসলিম বিশ্ব। ‘বিগ ফিশ’ ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে একাট্টা হচ্ছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো। চীনা রাশিয়া যেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রকে বাজিমাত করবেই। সাহায্য চাইছে ইসলামপন্থীদের। পাশে পাবে তো? অর্থনৈতিক সামরিক কিংবা ভূ রাজনৈতিক কৌশলে, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করছে? যুক্তরাষ্ট্রের শেষ পরিণতিটা ঠিক কেমন হবে? চলুন স্টেপ বাই স্টেপ জেনে নেওয়া যাক।

    চীন-রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মাত যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্রকে থামাতে চীন রাশিয়ার জোটের ভীষণ দরকার। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বদলে গিয়েছে ভূ রাজনীতি আর অর্থনীতির গতি। রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা এলে, চীন সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। আরো ঘনীভূত হয়েছে দুই দেশের রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক সম্পর্ক। রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে দুই দেশের মধ্যেকার বাণিজ্য। রাশিয়া চীন থেকে কিনছে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম, বিনিময়ে চীনের ক্রেতারা ব্যবহার করছে কম মূল্যে রাশিয়ার তেল। চীন এখন রাশিয়ার বড় অর্থনৈতিক অংশীদার। গত বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পৌঁছে গিয়েছে ২৪ হাজার কোটি ডলারে।

     

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল চুরি, চীনের ভয়ঙ্কর প্ল্যান

    যদি সামরিক শক্তির বিচার করা হয়, তাহলে চীনের উপরে কিন্তু আছে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করতে বহুদিন আগেই রাশিয়াকে পাশে পেয়েছে চীন। এবার পশ্চিমাদেরই কৌশল চুরি করে নিচ্ছে বেজিং। চীনের এই কৌশল মরণবান হতে পারে পশ্চিমাদের জন্য। চীনের পাইলটদের দক্ষতা আর কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে, পশ্চিমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলটদের ভাড়া করে আনছে। উদ্দেশ্য একটাই, নিজের দেশের পাইলটদের পশ্চিমাদের মতোই শক্তিশালী করে তোলা। পশ্চিমা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই পাইলটরা খুব সহজেই চীনের সামরিক কর্মকর্তাদের শিখিয়ে দেবেন, এয়ার কমব্যাট কৌশল থেকে শুরু করে এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ারে কিভাবে অবতরণ করা যায়, সবকিছু। যখন পশ্চিমাদের সঙ্গে সামনাসামনি যুদ্ধ হবে, তখন পশ্চিমাদের যুদ্ধ কৌশল জেনে যাবে চীন রাশিয়া। সেই কৌশল সামাল দেওয়ার টেকনিকটাও কিন্তু এদের জানা থাকবে।

     

    একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, অপরদিকে এক ঝাঁক দেশ, বাঁধবে জোর টক্কর

    গোটা বিশ্বে যারা যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লগিরিকে পছন্দ করে না, তারা কিন্তু ধীরে ধীরে চীন রাশিয়ার জোটের প্রতি ঝুঁকছে। লক্ষ্য একটাই, জোটবদ্ধ হয়ে পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া। যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন আর রাশিয়া। মতাদর্শ গত জায়গা থেকে ভিন্নতা থাকলেও শুধুমাত্র পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তারা সামিল হচ্ছে একসাথে। ইতিমধ্যেই উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসে মালয়েশিয়া যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। যেভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে পশ্চিমারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ব্রিকস সদস্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্রিকসের সদস্য হয়েছে সৌদি আরব, ইরান, ইথিওপিয়া, মিশর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। শুধু তাই নয়, আরো অন্তত ৪০ টি দেশ ব্রিকসের সদস্য হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আর এই উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো চীন রাশিয়ার বলয়ে ঢুকে যাওয়ায়, বেশ চাপে যুক্তরাষ্ট্র।

     

    ভারত আর ইরানকে দলে টানার চেষ্টা, দ্বিগুণ শক্তি পাচ্ছে চীন-রাশিয়ার জোট

    যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে, যুক্তরাষ্ট্রকে কোনঠাসা করতে চীন আর রাশিয়া কিন্তু ভারতকেও নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করছে। দেখুন, গোটা বিশ্বে ভারতের ভালো ভাবমূর্তি রয়েছে। শুধু পশ্চিমারা নয়, মধ্যপ্রাচ্যের মিশর, সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মুসলিম দেশের সঙ্গেও ভারতের বেশ ভালই সম্পর্ক। রাজনৈতিক স্বার্থে বৈশ্বিক নেতৃত্ব হয়ে ওটা ভারতকে কাছে টানা এখন চীন রাশিয়ার জন্য অনেকটাই লাভের। কারণ একটাই, বিশ্বব্যবস্থা এগোচ্ছে বহুমুখীতার দিকে। সেখানে কোন একক দেশ নয়, ক্ষমতা থাকবে বহু দেশ আর অঞ্চলের হাতে। মার্কিন সাম্রাজ্য যে দুর্বল হয়ে পড়ছে, তা বলাই বাহুল্য। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বর্তমানে বড় হুমকি, ডলারের আধিপত্যের অবসান। অপরদিকে উত্থান ঘটছে চীনের। মার্কিনিরা যে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি, সেই বুলি কিন্তু আর ধোপে টিকছে না। অর্থাৎ তাদের সাম্রাজ্যবাদের সময় ফুরিয়ে আসছে। সেই জায়গাটা নিতেই তো চীন রাশিয়া হাত মিলিয়েছে। সেখানে কাছে টানছে ভারতকেও।

     

    ভারতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সুপার পাওয়ার হিসেবে পরিচিত ইরানকেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে চাইছে চীন আর রাশিয়া। না, এই জোটটা আনুষ্ঠানিক ভাবে হয়নি। কিন্তু ইতিমধ্যেই ইরান নিজেদের সীমানা এবং আশেপাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খর্ব করতে বেশ তৎপর। যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং সমন্বয় বাড়িয়ে চলেছে অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে। অর্থনৈতিক কূটনৈতিক ছাপিয়ে রাশিয়া আর ইরানের সম্পর্কের এখন প্রধান ভিত্তিটাই সামরিক সহযোগিতা। ইরানের সাথে চীনেরও যথেষ্ট কৌশলগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি অগ্রাহ্য করে, প্রায় এক দশক ধরে প্রকাশ্যে, কখনো বা গোপনে দুই হাতে ইরানের জ্বালানি তেল কিনে চলেছে চীন। কয়েক বছর আগে, এই দুই দেশ সহযোগিতার চুক্তিও করে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাশিয়া চীন ইরানের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী এক ত্রিদেশীয় অক্ষ শক্তি।

     

    এই তিনটি দেশ যেমন একদিকে নিজেদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয়ভাবে আরো ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভূ রাজনৈতিক ইস্যুতে কথা বলছে একই সুরে। একে অন্যের পাশে দাঁড়াচ্ছে। নীতির সমন্বয় করছে। যদি ইরান আর রাশিয়ার কথা বলা হয়, সেখানে কিন্তু আদর্শগত আর ইতিহাস বিবেচনা করলে তফাৎ অনেকটা। এই দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা কিছুটা বিস্ময়করও। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রকে কোণঠাসা করতে, আর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে, ইরান রাশিয়ার এত মাখোমাখো ভাব।। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের যে গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট অর্থাৎ জিপিএস ব্যবস্থা রয়েছে, তার উপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে চীন রাশিয়া। সেই চেষ্টায় শামিল করেছে ইরানকে। জল যখন এতদূর গড়িয়েছে, তখন কিন্তু ভালো চোখে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র। চীন রাশিয়ার সম্প্রসারিত জোট এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় অশনি সংকেত। শুধু সামরিক অর্থনৈতিক কিংবা ভূ রাজনৈতিকগত দিক নয়, বরং প্রযুক্তিগত দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে মাত দিতে উঠে পড়ে লেগেছে দেশগুলো।

     

    আসলে কি বলুন তো, বশ্যতা আদায়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার মতো যে বৈদেশিক নীতি ব্যবহার করছে, তাতে বহু দেশ ক্ষুব্ধ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসি নীতিকে আর মানতে চাইছে না। মাতব্বরি ফলানো টা পছন্দ করছে না। তাই চীন রাশিয়া একটা প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে চাইছে। এই দুই দেশ বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধর গুলোকে নিজেদের দলের সামিল করতে চাইছে। যাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে করা তাদের লড়াইটা খুব সহজে জেতা যায়।

     

    মূল টার্গেট মুসলিম বিশ্ব, যুক্তরাষ্ট্র জিততে পারবে তো?

    এমত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র যে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে, এমনটা ভাবা এক্কেবারে ভুল। যে দেশটা দশকের পর দশক গোটা বিশ্বে মোড়লগিরি ফলিয়ে এসেছে, তাকে দমানো খুব একটা সহজ ব্যাপার হবে না। তাহলে চীন রাশিয়াকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটাই রাস্তা খোলা। তা হল ইসলামপন্থীদের সঙ্গে মিত্রতা গড়া। কিন্তু সেটা কী করবে? লক্ষণীয় ব্যাপার, যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম প্রধান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গে তো বেশ ভালোই সম্পর্ক।। আর মধ্যপ্রাচ্যে সৌদির দাপট ঠিক কতটা তা তো জানেনই। চীন রাশিয়ার জোটের বিরুদ্ধে পশ্চিমারা কাজে লাগাতে পারে মুসলিম বিশ্বকে। যুক্তরাষ্ট্র ইরাক সিরিয়া আফগানিস্তান থেকে সরে আসার সময় কিন্তু তার কৌশল ধীরে ধীরে পরিবর্তন করে ফেলেছে। বরং ফিরে যাচ্ছে সেই পুরনো পথেই। কূটনৈতিক মহলের গুঞ্জন বলছে, একটা সময় সন্ত্রাসী জঙ্গি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যাদের চিহ্নিত করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আবার তাদের সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধতে পারে। এই সম্ভাবনাটা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আপাতত চীন রাশিয়ার জোটকে আটকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ভালো কোন অপশনও নেই। যুক্তরাষ্ট্র এখন কাজ করছে দুটি ফ্রন্টে। একটা রাশিয়াকে নিজের সীমার মধ্যে বেঁধে ফেলা, অপরদিকে চীনের প্রভাব কমানো। ইতিমধ্যেই কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তালেবানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করে ফেলেছে। এই শান্তি চুক্তি অন্য ইসলামপন্থীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘনিষ্ঠ হতে সাহায্য করবে।। শুধু তাই নয়, এই অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এবং বিভিন্ন দেশে চীনের বাণিজ্য এবং স্থাপনার বিরুদ্ধে।

     

    চীনে উইঘুর মুসলিমদের উপর যেভাবে নির্যাতন আর দমন পীড়ন, চলছে তা তো জানেনই। যেটা মুসলিম বিশ্বের কাছে চীনের একটা নেগেটিভ পয়েন্ট। যদি যুক্তরাষ্ট্র এই জায়গাটা কাবু করে ফেলে, ইসলামপন্থীদের গোটা বিশ্বে আলাদা করে জায়গা দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের মনোভাব ঘুরে যেতে বেশি দিন সময় লাগবে না। বরং যাদের বিরুদ্ধে এতদিন যুদ্ধ করল, তাদের দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করবে। আর সেটা করার চেষ্টাও করছে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ এবং প্রতিষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। যাতে দেশগুলোকে রাশিয়া আর চীনের থেকে সরিয়ে আনতে পারে। আর তার থেকেও বড় কথা কি বলুন তো, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রনীতিতে কিন্তু কোন চিরস্থায়ী মিত্র বা শত্রু নেই। যুক্তরাষ্ট্র সবার সঙ্গেই কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্র যেমন ব্রাদারহুডের সঙ্গে কাজ করেছে, আবার সমর্থন করেছে হোসেন মোবারককেও। একটা সময় ইরাকে সাদ্দাম হোসেনকে আস্কারা দিয়েছে, আবার পরে সেই সাদ্দামের মৃত্যুদণ্ডে মদদ দিয়েছে। যখন যাকে প্রয়োজন তার সঙ্গেই রাজনীতি করে যুক্তরাষ্ট্র। পরাজয় নিশ্চিত জেনে শত্রুর সঙ্গে বন্ধুত্বও করে ফেলতে পারে। যদিও এই পয়েন্টটা নজর রেখেছে চীনা আর রাশিয়া। চীন ইতিমধ্যেই উইঘুর মুসলিমদের মন পেতে চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও আরো জোরদার করছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। এখানেও কিন্তু অকেজো হয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অস্ত্র।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Canada-Iran relations: শেষ যুক্তরাষ্ট্রের প্ল্যানিং ! ইরানকে ভয় পাচ্ছে পশ্চিমারা ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Canada-Iran relations: ইরানকে ভয় পাচ্ছে কানাডা! বিপ্লবী গার্ডকে সন্ত্রাসী তকমা কেন? ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে সন্ত্রাসী তকমা। হঠাৎ কানাডার এমন জোরালো পদক্ষেপ কেন? তাহলে কি ইরানকে ভয় পাচ্ছে? নাকি রয়েছে অন্য কোনও কারণ? শুধু কানাডা নয়, এর আগেও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বারংবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে চেয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের এই বাহিনী বহুদিন ধরেই রয়েছে কালো তালিকায়। প্রশ্নটা এখানেই। একটা দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ করে পশ্চিমারা কেন বারংবার টার্গেট করছে? কেনই বা ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে মোটা দাগে দেগে দেওয়া হচ্ছে সন্ত্রাসী বলে? কোথাও কি ইরানকে রুখে দেওয়ার জন্য চেষ্টা? কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আধিপত্য কমাতে পশ্চিমারা বেঁধে ফেলতে চাইছে ইরানকে? দেশটার মূল অস্ত্র কিন্তু এই বিপ্লবী গার্ড। এমত পরিস্থিতি, ইরানি বা কতটা শঙ্কিত? সত্যি কি এই বিষয়টা ইরানকে ভাবায়?

     

    ইরানের রক্ষাকবচ বিপ্লবী গার্ড, তেহরানকে দূর্বল করার মূল অস্ত্র!

    সম্প্রতি কানাডা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস অর্থাৎ আইআরজিসিকে তালিকাভুক্ত করল সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে। কানাডা সরকারের এই পদক্ষেপকে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটা তাৎপর্যপূর্ণ হাতিয়ার বলে বর্ণনা করেছেন কানাডার জন নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঙ্ক। এর অর্থ হল, ইরান সরকারের বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আর কানাডায় প্রবেশ করতে পারবে না। তাদের মধ্যে রয়েছেন আইআরজিসির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারাও। কানাডার এমন পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিল, ইরানের সঙ্গে দেশটার সম্পর্ক মোটেই সুমধুর নয়। যদিও এই দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততার ইতিহাস বহুদিনের। এবার তার বহিঃপ্রকাশ হতেই ক্ষেপেছে ইরানও। কারণ ইরানে আইআরজিসিকে একটা অভিজাত বাহিনী হিসেবে মনে করা হয়। দেশটার সামরিক বলুন, রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই বাহিনীর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এই বাহিনীর নিজস্ব স্থল, জল এবং বিমান বাহিনী রয়েছে। প্রায় ২ লক্ষ সক্রিয় সদস্য সহ এত বড় একটা বাহিনীকে দুম করে যদি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেগে দেওয়া হয়, তা যে কোন দেশের পক্ষেই একটু অস্বস্তিকর। একইভাবে যেটা ঘটছে ইরানের সঙ্গে। শুধু ইরান নয় গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই এই গার্ডের প্রভাব যথেষ্ট। যারা ইরানের শত্রু দেশ কিংবা ইরানকে ভালো চোখে দেখেনা, তাদের কাছে এই সামরিক সংগঠন রীতিমত চক্ষুশূল। আর এই সংগঠন আছে বলেই কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য সহ পশ্চিমা দুনিয়ার বহু দেশ ইরানকে সমঝে চলে।

     

    সোজা কথায়, যে ইরান গোটা বিশ্বের কাছে পাওয়ারফুল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে, তার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড। যা সব সময় ইরানকে ভিতর কিংবা বাইরে থেকে আসা যেকোনো রকম হুমকি প্রতিরোধে কাজ করে। ১৯৭৯ সালের পর থেকে এই বাহিনী শিয়া ধর্মীয় নেতার শাসনের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। শুধু নিজের দেশের সীমানায় নয়, বাইরেও সক্রিয়। ইরাক আর সিরিয়ায় কাজ করছে তেহরানের স্বার্থ সুরক্ষায়। ইরানেও রয়েছে এই বাহিনীর কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে ইরানের সামরিক ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরতে চাইছে, কিন্তু তাও পারছেনা। তার নেপথ্যে রয়েছে আইআরজিসির ক্ষমতা। ইরানের মিত্র দেশগুলো সহ বহু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে তেহেরানপন্থী এই সশস্ত্র সংগঠন অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করে। যার জেরে ইরানের মিত্র দেশগুলো এমন পদক্ষেপে কানাডার উপর বেশ রুষ্ট। আইআরজিসির শাখা কুদস ফোর্স যার মাধ্যমে ইরান দেশের বাইরের অভিযান সহ বহু তৎপরতার সঙ্গে নানান কাজ চালায়।। এই কুুদস ফোর্সকে কানাডা কিন্তু বহু আগেই সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর এবার বাদ দিল না আইআরজিসিকেও। কানাডার এই পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিচ্ছে, ইরান বিপ্লবী গার্ডের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে, আর যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কানাডা তার হাতে থাকা সমস্ত অস্ত্র ব্যবহার করবে। কানাডার আরো অভিযোগ,ইরানের শাসক গোষ্ঠী নাকি দেশ সহ দেশের বাইরে ক্রমাগত মানবাধিকারের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে। ইরান আন্তর্জাতিক আইন কানুন ভিত্তিক নিয়ম-শৃঙ্খলাকে অস্থিতিশীল করতে চায়। ইতিমধ্যেই কানাডায় থাকা ইরান সরকারের বহু সাবেক এবং বর্তমান কর্মকর্তাকে তদন্তের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি তাদেরকে কানাডা থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে।

     

    ইরানের অবস্থা নিয়ে কি ভয় পাচ্ছে পশ্চিমারা? ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্ল্যানিং

    আপাতত ইরানে যে সমস্ত কানাডি নাগরিকরা রয়েছেন তারা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করে দিয়েছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি। আশঙ্কা, কানাডার নাগরিকদের নির্বিচারে আটক করা হতে পারে। আর তাই তো উঠছে বড় প্রশ্নটা। তাহলে কি কানাডা এখন ইরানের অবস্থান নিয়ে একটু শঙ্কিত কিংবা ভয় পাচ্ছে? নাগরিকদের বারংবার সতর্ক করে যাচ্ছে দেশটার সরকার। ইরানও যে ছেড়ে কথা বলবে না ,তার পাল্টা পদক্ষেপ নেবে তা বলাই বাহুল্য। এর আগে কিন্তু কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে চাননি। তিনি বারংবার বলেছিলেন, যদি এই পদক্ষেপ নেয়া হয় তাহলে কানাডায় অবস্থান করা বহু ইরানি ব্যক্তি অন্যায্য আচরণের শিকার হতে পারেন। বিশেষ করে যারা ইরানের বর্তমান শাসকদের বিরোধিতা করছে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তবে এবার যেন আর কোনো রাখঢাক নয়। শুধু কানাডা নয়, পশ্চিমা দেশগুলো কিন্তু ইরানের এই সশস্ত্র বাহিনীকে নজরে নজরে রাখে। সেই ২০১৯ সালে, যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকা ভুক্ত করেছে। যুক্তরাজ্যও বারংবার বলে এসেছে তারাও একই পদক্ষেপ নেবে। তবে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। অর্থাৎ যুক্তরাজ্যেরও ইরানের এই বাহিনীর উপরে যথেষ্ট রাগ রয়েছে। ২০২২ এ শোনা গিয়েছিল, রেভল্যুশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে কিনা সেই বিষয়ে নাকি যাচাই-বাছাই করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর জার্মানি। তখন পরিস্থিতিও ছিল ইরানের হাতের বাইরে। পুলিশের হেফাজতে থাকা তরুণী মাসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুমুল বিক্ষোভ প্রতিবাদ চলছিল তেহেরানে। বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড। ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যার আওতায় ছিল ইরানের নীতি পুলিশ, রেভল্যুশনারি গার্ডের সাইবার বিভাগ, আর তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী। অভিযোগ উঠেছিল, ইরানের চলমান বিক্ষোভে নাকি মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে।

     

    তবে হ্যাঁ কয়েক বছর আগে গুঞ্জন উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্র নাকি তার সিদ্ধান্ত বদলাবে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের কালো তালিকা থেকে বাদ দেবে। কিন্তু বিনিময়ে যে সমস্ত শর্ত রাখতে চেয়েছিল, তার নিশ্চয়তা দিতে হবে ইরানকে। আসলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই বাহিনীর লাগাম টেনে ধরতে চেয়েছিল। ইরানকে হাতে রাখা মানে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশটাই কাবু করে ফেলা। সেক্ষেত্রে আইআরজিসি যদি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকে, তাহলে ইরানকে নিয়ে পশ্চিমাদের আর মাথা ব্যাথার কোন কারণই থাকবে না। যদিও শোনা যায়, তেহরানের পক্ষ থেকে কোন ধরনের গ্রহণযোগ্য প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে এমন পদক্ষেপ হবে, সেই বিষয়ে ওয়াশিংটন কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইরানের ক্ষমতা কাঠামো এই ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এমনক সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর পাশাপাশি দেশটার বাণিজ্য খাতা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এই বাহিনী। তাই তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বহুবার বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ করেছে।

     

    মধুর নয়, কানাডা-ইরানের তিক্ততার সম্পর্ক

    কানাডার সঙ্গে যদি ইরানের সম্পর্কের কথা বলা হয়, তা কিন্তু একদমই ভালো নয়। বহুবার ইরান অভিযোগ করেছে, কানাডা নাকি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। শুধু তাই নয়, কানাডার বিরুদ্ধে চলমান সরকার বিরোধী বিক্ষোভে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটা। একই অভিযোগের আঙুল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দিকেও। ২০১৮ সাল নাগাদ ইরান বলে, আন্তর্জাতিক রীতি নীতি ভেঙে ইরানে চলমান বিক্ষোভে অনধিকার চর্চা করছে কানাডা। আর যুক্তরাষ্ট্র দেশটার শাসক বিরোধীদের মদদ দিচ্ছে। অপরদিকে কানাডার যুক্তি ছিল, ইরানের জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার শান্তিপূর্ণ লড়াইয়ে উজ্জীবিত বোধ করছে কানাডা। আর তখন ইরানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা সত্যি খুব খারাপ ছিল। জর্জরিত হয়ে পড়ছিল একের পর এক বিক্ষোভে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে লিখেছিলেন, ইরানের বড় বড় বিক্ষোভ গুলো প্রমাণ করে দিয়েছে, দেশটার মানুষ বুঝতে শিখেছে কিভাবে তাদের অর্থ আর সম্পদ চুরি হয়ে সন্ত্রাসে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে, তারা আর এটা মানবে না। তখন ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন হাসান রুহানি। ইরানিদের সতর্ক করে বলেন, শত্রুরা সুযোগ নিতে পারে দেশকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলা উচিত নয়। বিষয়গুলোকে এড়িয়ে যেতে হবে। তখন থেকে কিন্তু ইরান সরকার কানাডা সম্পর্কে একটু বেশ সতর্ক। দুই দেশের মধ্যে তিলে তিলে যে ক্ষোভটা বাড়ছিল এবার তা পুঞ্জীভূত হয়ে বিস্ফোরকের আকার নিতে শুরু করেছে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • China-US conflict: ছেড়ে দেবেনা চীন ! পুতিনের সফরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামনে এলো বড় ষড়যন্ত্র

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

     

    China-US conflict:  চীনের বাজিমাত, পুতিনের সফরে আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্র! নেপথ্যে বড় ষড়যন্ত্র। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চীনের। কূটনৈতিক স্বার্থে বেজিংয়ের কাছে এখন বড় অস্ত্র রাশিয়া আর উত্তর কোরিয়া। কিমের দেশের পর পুতিনের ভিয়েতনাম সফর কেন ভাবাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে? কিম-পুতিনের বন্ধুত্বের আসল মাস্টারমাইন্ড শি জিনপিং! যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দিতে কোন অস্ত্র শানাচ্ছে চীন? তৈরি করছে নতুন বন্ধুত্বের সমীকরণ। ভূ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে যাবে না তো? পাল্টি খাচ্ছে একের পর এক দেশ। কিম-পুতিনের দরকার চীনকে। শি জিনপিং সেই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। আতঙ্কে ওয়াশিংটন।

     

    যখন গোটা বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা। চরম উত্তেজনায় ফুটছে আঞ্চলিক শক্তিগুলো। ঠিক সেই সময় কূটনৈতিক সফরে বেরিয়েছেন পুতিন। প্রথমে উত্তর কোরিয়া, তারপর ভিয়েতনাম। যার জেরে কাল ঘাম ছুটছে যুক্তরাষ্ট্রের। ইউক্রেন যুদ্ধ কিন্তু এখনো অব্যাহত। না ইউক্রেন হার মেনেছে, না রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা থামিয়েছে। এমত পরিস্থিতিতে, রাশিয়ার সাপোর্টের সত্যি প্রয়োজন ছিল। আর সেই সাপোর্টটাই কি দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া আর ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো? নাকি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জোট বাঁধতে পুতিন এতটা তৎপর? তাই হয়ত চিন্তায় পড়ে গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওদিকে আবার বহু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই যে পুতিনের একের পর এক দেশ সফর, কূটনৈতিক সম্পর্ক পোক্ত করার পিছনে বড় হাত রয়েছে চীনের। চীন প্রকাশ্যে কূটনৈতিক জোটটা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাঁধতে পারছে না। কৌশলে করতে চাইছে, পুতিনের আড়াল থেকে। কিন্তু চীন সামনেই বা আসছে না কেন? পুতিনের সফর যুক্তরাষ্ট্রের কোন পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিতে পারে?

     

    ভিয়েতনামে পুতিন, সিদ্ধান্ত বদলালেই ধাক্কা খাবে যুক্তরাষ্ট্র

    উত্তর কোরিয়ার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভিয়েতনামে যেতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পুতিনের এই সফরের মাধ্যমে মস্কো আর হ্যানয়ের মধ্যে যে নতুন সম্পর্ক স্থাপন হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য। পুতিন ভিয়েতনামে গিয়েছেন সঙ্গে কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী আর ব্যবসায়ীসহ একটা বড় প্রতিনিধি দল নিয়ে। এই দেশটা কিন্তু সবসময়ের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আলাদা চোখে দেখে। যদিও একটা সময় ছিল, এই সম্পর্ক ইউরোপ আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে কাজ করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি একদম উল্টো। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণ বদলেছে। আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, ইউক্রেনে যুদ্ধ চলাকালীন পুতিনের সফর নিয়ে তীব্র সমালোচনায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র।দাবি, পুতিনের সফর ইউক্রেনে যুদ্ধের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই কিন্তু রাশিয়া আর উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চুক্তি সই হয়ে গিয়েছে অংশীদারিত্ব চুক্তি। দুই দেশই রাজনৈতিক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতিক, নিরাপত্তা বিষয়ে একে অপরকে সাহায্য করবে। এই ধরনের চুক্তিকে যখন পুতিন বলছেন ‘ব্রেক থ্রু’ তো তখন কিম এটাকে বলছেন ‘সন্ধিক্ষণ’। তার ওপর ভিয়েতনাম সফর স্বাভাবিক ভাবেই শক্ত হচ্ছে পুতিনের হাত।

     

    রাশিয়া আর ভিয়েতনামের সম্পর্ক সেই ১৯৫০ এর দশক থেকে। ভিয়েতনাম রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে আনুগত্য আর কৃতজ্ঞতায় পরিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। যদিও ভিয়েতনামের অর্থনীতি বিশ্ববাজারে একীভূত হওয়ার পর চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের তুলনায় রাশিয়া ভিয়েতনামের কাছে একটু কম উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য অংশীদার। তবে এখনো পর্যন্ত ভিয়েতনাম প্রাথমিক ভাবে রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ চীন সাগরের তেল অনুসন্ধানের জন্য অংশীদারিত্ব রয়েছে রাশিয়ার কোম্পানিগুলোর সঙ্গে। ভিয়েতনামের পররাষ্ট্রনীতি বলছে, আনুষ্ঠানিক জোট নয় বরং সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ নীতিতে চলা। সেই সঙ্গে বৈশ্বিক শক্তির গতিশীলতার সঙ্গে নমনীয়ভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়া। অতীতের দ্বন্দ্ব খুব একটা মনে রাখে না। একদিকে যেমন চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। আর সমস্যাটা তো এখানেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহু ঐতিহাসিক জোট থাকা সত্ত্বেও কিন্তু থাইল্যান্ড রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে। সেই জায়গায় যদি ভিয়েতনামও হঠাৎ পাল্টি খায়, সেক্ষেত্রে চাপে পড়বে ওয়াশিংটন। কারণ ইতিমধ্যেই ভিয়েতনাম বিকল্প সামরিক সরবরাহকারী দরকার। তাই রাশিয়ার সরঞ্জামের উপর দেশটার নির্ভরতা আরো বাড়তে পারে।

     

    কিম-পুতিনের বন্ধুত্বে চীনের কৌশল, মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে থামানো

    এই যে কিম পুতিনের বন্ধুত্বের এত রসায়ন, এখানেও কিন্তু বেশ চাপে রয়েছে চীন। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লগিরি রুখতে উত্তর কোরিয়া চীন রাশিয়ার মতো দেশগুলো একই নীতিতে চলছে। একে অপরকে সাপোর্ট করছে। কিন্তু তলে তলে এই রাষ্ট্রগুলোর বন্ধুত্বের রয়ে গিয়েছে ফাঁকফোকর। দীর্ঘ ২৪ বছর পর উত্তর কোরিয়ায় গিয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন পুতিন। যেখানে এই দুই দেশের বিরুদ্ধে যে কোন আগ্রাসোনে তারা পরস্পরকে সাহায্য করবে। এই চুক্তি ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি করেছে পশ্চিমাদের মধ্যে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হল, এই দুই নেতাই জানেন, তাদের পরস্পরকে ঠিক কতটা প্রয়োজন। যেমন পুতিনের যুদ্ধে চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন গোল বারুদ,তেমনি নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা উত্তর কোরিয়ার দরকার অর্থ। পুতিন ভালোভাবে জানেন, তারও একটা সীমা আছে। আর সেই সীমা হল, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

     

    সম্প্রতি শি’য়ের কিছু কার্যকলাপ বোঝা যাচ্ছে, তিনি এই দুই সহযোগী অর্থাৎ রাশিয়া আর উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সখ্যতায় খুব একটা সন্তুষ্ট নয়। এইতো গত মে মাসে, মস্কো বেজিং এর বৈঠকের পর পুতিনকে পিয়ংইয়ং সফরে না যেতে সরাসরি বলে দিয়েছিলেন শি জিনপিং। তাই তো কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, চীনা কর্মকর্তারা চীন রাশিয়ার বন্ধুত্বের মাঝে উত্তর কোরিয়াকে টেনে আনাটা যেন খুব একটা পছন্দ করছে না। আর এমনি থেকেই চীনা প্রেসিডেন্ট শি মস্কোকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে আর ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তা হয় এমন কিছু বিক্রি না করতে যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপের মাঝে বিস্তর চাপে রয়েছে। আবার তিনি এই বিষয়গুলো পুরোপুরি উপেক্ষাও করতে পারছেন না। চীনের বিদেশি পর্যটক আর বিনিয়োগ দরকার। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীনের অবস্থানটা ধরে রাখার জন্য উত্তর কোরিয়াকে পাশে চাই। কারণ চীন সব সময় বৈশ্বিক পর্যায়ে নিজের বড় ভূমিকা ধরে রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে চায়। অপরদিকে উত্তর কোরিয়ার চীনকে দরকার আরো বেশি। চীন একমাত্র দেশ যেখানে কিম সফর করেছেন। উত্তর কোরিয়ার এক চতুর্থাংশ থেকে অর্ধেক পর্যন্ত তেল আসে শুধুমাত্র রাশিয়া থেকে।

     

    অপরদিকে দেশটার ৮০ ভাগ ব্যবসা চীনের সাথে। তাই যতই পুতিন আর কিম নিজেদের সহযোগী হিসেবে দেখান না কেন, চীনের সাথে তাদের সম্পর্ক আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রসঙ্গত বলে রাখি, যখন পশ্চিমাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল, তখন কিন্তু এই পুতিন উত্তর কোরিয়ার উপর দু দুবার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। উত্তর কোরিয়া যাতে মারাত্মক নিষিদ্ধ অস্ত্রের কর্মসূচি বন্ধ করে, সেজন্য একই সুরে সুর মিলিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র চীন দক্ষিণ কোরিয়া আর জাপান। বর্তমানে সেই সমস্ত ফাটলে প্রলেপ পড়েছে। এখন রাশিয়া আর উত্তর কোরিয়া দুজনেই চীনের সাহায্যপ্রার্থী। চীনকে ছাড়া সংকটে পড়বে। ফলে উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক বলুন, আর বহুপাক্ষিক সম্পর্ক, সেখানে কিন্তু চীনের বড় ভূমিকা রয়েছে। আর চীনও নিজের জায়গা ধরে রাখতে এই দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। কিন্তু কিম আর পুতিনের বন্ধুত্বকে ভালো চোখে দেখছে না। কারণ ভবিষ্যতে এই দুই রাষ্ট্রের জোট বিপদে ফেলতে পারে চীনকেও। যদিও এখন ফার্স্ট টার্গেট যুক্তরাষ্ট্রকে থামানো। তাই চুপ করে রয়েছে শি জিনপিংয়ের দেশ।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Iran-United States relations: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গন্ডগোল শুরু ! ১৯৫৩ সালের অভিশাপ কাটাচ্ছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Iran-United States relations: ইরানের ক্ষমতা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র! আজ পিঠে মারছে ছুরি। আজ যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের এত ক্ষমতা, এত প্রতিপত্তি, জানেন? একটা সময় ইরানের ক্ষমতা বাড়িয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। শুনতে হয়ত একটু অবাক লাগছে, কিংবা আকাশ থেকে পড়ছেন, কিন্তু এটাই বাস্তব। একটা সময় ছিল যখন যুক্তরাষ্ট্র মনেপ্রাণে চেয়েছিল ইরানের ভালো হোক। শুধু তাই নয়, ব্রিটেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে গিয়ে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আর আজ দুই দেশের সম্পর্ক সাপে নেউলে। শুধুই কি তেল অর্থনীতি, নাকি রয়েছে অন্য কোনও রহস্য? ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র কেন সহ্য করতে পারে না? দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হওয়ার কি আর কোনও সম্ভাবনাই নেই? যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ইরানকে সাহায্য করতে চেয়েছিল, নাকি ছিল শুধু স্বার্থের সম্পর্ক? অতীত ইতিহাসে রয়েছে বিস্তর জলঘোলা।

     

    ইরানের শক্তি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র! বন্ধুত্ব দেখলে অবাক হবেন

    যে দেশ একটা সময় ইরানের শক্তি বাড়িয়েছে, ইরানকে আধুনিক করে তোলার চেষ্টা করেছে, ইরানের শিক্ষা খাত থেকে শুরু করে চিকিৎসা খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে, আজ সেই দেশটাই মনেপ্রাণে চাইছে ইরান কোনঠাসা হয়ে যাক। এ যেন এক অদ্ভুত ভূরাজনীতি। আসলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমীকরণে কে যে কার বন্ধু, আর কে যে কার শত্রু তা বলা ভীষণ মুশকিল। ১৯৮০ সাল থেকে ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোন আনুষ্ঠানিক সম্পর্কই নেই। বিশ্ব রাজনীতিতে যখনই কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রসঙ্গ আসে, তখনই দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। অথচ এই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল যথেষ্ট সমৃদ্ধ। যেটা শুরু হয়েছিল উনিশ শতকের মধ্য থেকে শেষ নাগাদ। তখন পশ্চিমাদের কাছে ইরান ছিল পারস্য। একদিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, অপরদিকে রুশ সাম্রাজ্য, আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী মধ্য এবং দক্ষিণ এশিয়াকে ধীরে ধীরে তাদের সাম্রাজ্যবাদী নীতিতে গ্রাস করছিল। স্বাভাবিকভাবেই তখন ইরান জড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক আর কূটনৈতিক বিরোধে। দেশটার নিরাপত্তা নিয়ে ছিল যথেষ্ট অনিশ্চয়তা। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে ইরান। আর ঠিক তখন ইরানের হাতটা শক্ত করে ধরেছিল যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান সেই সময় সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মিত্র শক্তি বলে মনে করত।

     

    শুধু তাই নয়, তৎকালীন সময়ে শাহ সরকারের ট্রেজারার জেনারেল হিসেবে বসিয়ে দেওয়া হয় দুই মার্কিনিকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটিশ আর রাশিয়া ইরান আক্রমণ করে। এই দুই পক্ষই তখন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ছিল, তাও যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের হাত ছাড়েনি। বরং সম্পর্কটা যাচ্ছিল বেশ ভালোই। জানলে আশ্চর্য হবেন, তখন ব্রিটেন ইরানের মাটিতে উৎপাদিত তেল থেকে মাত্র ১৬% ইরানকে দিত, আর ৮৪% নিজে নিত। ধীরে ধীরে গরীব হতে শুরু করে ইরানের সাধারণ মানুষ। ব্রিটেন ইরানের মানুষকে ভাবত দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। অথচ ইরানের মানুষ সেই সময় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে কিছু বলতেও পারত না। কারণ তৎকালীন ইরানের রাজা ছিলেন স্বয়ং ব্রিটিশদের সমর্থক। যার মাত্রা আরো বেশি পরিমাণে বাড়তে থাকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর। উনিশ শতক আর বিশ শতকের প্রথম দিকে যখন ব্রিটিশ আর রাশিয়ান সাম্রাজ্যর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ইরানকে একটা শোষিত অবস্থানে ফেলেছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বারংবার সেই পরিস্থিতি থেকে টেনে বার করে আনার চেষ্টা করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে লাভের কোন প্রত্যাশা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জন্য কাজ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সেই সময় ইরানে প্রায় কয়েক শোর বেশি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। চিকিৎসা এবং সামাজিক কল্যাণেও প্রচুর কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বহু বেসরকারি মিশন।

     

    ইরানের তেলে নজর, সম্পর্ক ভাঙনের সূত্রপাত

    হঠাৎ করে ইরানের ফুলেফেঁপে ওঠা তেল সম্পদে নজর পড়তে থাকে পরাশক্তিগুলোর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, ইরানের বিশাল তেলের ভাণ্ডার গুলো দখল করতে প্রতিযোগিতায় নামে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন নেতৃত্বাধীন ব্লক আর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ব্লক। গোপনে চলতে থাকে গোয়েন্দা গিরি। স্বাভাবিকভাবে বিষয়টা টের পেয়ে গিয়েছিলেন তৎকালীন ইরানের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক। মার্কিন ব্লক যে ইরানের তেল শিল্পকে জাতীয়করণ করতে চেয়েছিল সেই নীতি তার পছন্দ হয়নি। তখন থেকেই শুরু হয় আসল ফাটলটা। মোসাদ্দেক হয়ে ওঠেন পরাশক্তিগুলোর চক্ষুশূল। যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রিটেন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ তৎপরতায় ১৯৫৩ সালে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় তাকে। ক্ষমতায় বসে যুক্তরাষ্ট্রেরই পছন্দের সরকার। ইরানের মানুষ যাকে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল সরকার, মোহাম্মদ রেজা শাহ। এনার সময় কিন্তু যুক্তরাজ্যের কোম্পানিগুলো ইরানের তেল শিল্পে প্রবেশের জন্য একটা অবাধ সুযোগ পেয়েছিল। আশ্চর্যজনকভাবে তখনও জানা যায়নি, মোসাদ্দেককে কেন ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। প্রায় ২০০০ সাল নাগাদ কোথাও কোথাও দাবী করা হয়, সবটাই ছিল নাকি পশ্চিমা পরাশক্তি গুলোর ষড়যন্ত্র। রেজা শাহ আর যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চাইলেও ক্রমেই তা অসম হয়ে ওঠে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে রেজা শাহ যুক্তরাষ্ট্রের উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন।

     

    আর সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৭ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র আর ইরান সই করে ফেলে বেসামরিক আণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে। ১৯৬৮ সালেও ইরান আণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে সই করে দেয়। তার ঠিক দুই বছর পর, দেশটি বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য আণবিক কর্মসূচি চালানোর অনুমতি পায়।সেই সময় ইরানকে আধুনিক করে তুলতে সাহায্য করে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু তা পছন্দ হয়নি ইরানের বহু মানুষের। যার কারণে ক্ষোভের মুখে পড়েন রেজা শাহ। ইরানের জনগণ ভাগ হয়ে যায় দুই ভাগে। তৈরি হয় একটা বড় ভুল বোঝাবুঝি। মনে করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্যের মদতেই নাকি ইরানের মধ্যে এত গন্ডগোল। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ক্ষোভ আর অসন্তোষ। স্বাভাবিকভাবেই তার একদিন বিস্ফোরণ ঘটে। ইরানের অভ্যন্তরে ১৯৭৯ সালে শুরু হয়ে আন্দোলন। ইরান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন রেজা শাহ। ঠিক তার দুই সপ্তাহ পর নির্বাসন থেকে দেশে ফেরেন ওই আন্দোলনের অন্যতম নেতা, আয়াতুল্লাহু আলি খামেনি।তার নেতৃত্বে ইরানে ঘটেছিল ইসলামী বিপ্লব।

     

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সম্পর্ক কি কোনদিনও জোড়া লাগবে? আশা কতটা?

    দুই দেশের তিক্ততা বাড়িয়ে দেয় ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ইরান আর ইরাক যুদ্ধ। ইরাককে নানান ভাবে সাহায্য করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হয়, সেই যুদ্ধে নাকি মারা গিয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ। টানা ৮ বছর পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন খামেনি। ১৯৮০ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে থাকা ইরানের সমস্ত সম্পদ জব্দ করা হয়। এমনকি ইরানের উপর চাপানো হয় বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা। না, তারপর থেকে আর কখনোই দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি। বরং উত্তেজনার পারদ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। একের পর এক চলেছে বাকযুদ্ধ। তবে অল্প বিস্তার বাণিজ্য চললেও ১৯৮৪ সালে ইরানকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে দেগে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক তার চার বছর পর, ইরানের একটি যাত্রীবাহী জাহাজে চলে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা। যেটি ইরান থেকে যাচ্ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে। এই ঘটনাটা ছিল অনেকটা আগুনে ঘি ঢালার মতো। মার্কিনি বাহিনীর যুক্তি ছিল, তারা ওই বিমানটিকে যুদ্ধবিমান ভেবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।

     

    তারপর থেকে ইরান আচরণে বুঝিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েল তাদের প্রধান শত্রু। ২০১৫ সালে চুক্তির মাধ্যমে ইরান সম্মত হয়েছিল, তার আণবিক কার্যক্রম কমিয়ে দেবে। তার পরিবর্তে ইরানের শর্ত ছিল যে তার উপর থেকে তুলে নিতে হবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই কথা রাখেনি। ১৯১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান। ইরানও একরোখা। মুহূর্তে পাল্টি খায়। নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই, ব্যালেন্সটিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান বুঝে গিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার কথা বুঝছে না। তেহরানের স্বার্থের কথা ভাবছে না। তখন ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ফিরেও তাকাতে চায় না। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটা রীতিমত ফলাও করে ঘোষণা করে দিয়েছে, ২০১৫ সালে আণবিক চুক্তির দ্বারা আরোপিত বিধি নিষেধ তারা মানবে না। ২০২০ তে এসে ইরাকে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি মারা গেলে, চরমে পৌঁছায় দুই দেশের উত্তেজনা। তারপর থেকে আপাতত যা পরিস্থিতি, দেখতেই তো পাচ্ছেন। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার যেন কোনো আশাই যেন আর নেই। উল্টে ইরানকে দাবিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে আণবিক কর্মসূচি। যদি বড় কোন ভূ রাজনৈতিক স্বার্থ না থাকে, তাহলে এই দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে কোনদিনও হাত মেলাবে না।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Israel in Hezbollah’s trap: হিজবুল্লার ফাঁদে ইসরায়েল ! নাজেহাল আমেরিকাও এবার দূরে সরে যাচ্ছে

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Israel in Hezbollah’s trap: মধ্যপ্রাচ্যে বাঁধবে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ, মুখোমুখি ইরান-ইসরায়েল। ইসরায়েল-হামাসের পর আবারো মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা। ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তড়িঘড়ি সবটা সামলাতে চাইছেন জো বাইডেন। না হলে যে মারাত্মক বিপদ। এবার আর চুপ থাকবে না ইরান। হিজবুল্লাহর ফাঁদে পড়ে গেল না তো ইসরায়েল? ইরান হয়তো এটাই চাইছিল। যুদ্ধে যুদ্ধে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ুক ইসরায়েল। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের কোন নতুন প্ল্যান? মুহূর্তে সুর পাল্টে ফেলছে যুক্তরাষ্ট্র, এবার আর ঘুরপথে নয়। সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে ইরান-ইসরায়েল! লেবানন তো মাধ্যম মাত্র। মধ্যপ্রাচ্যের ভয়ঙ্কর পরিণতির আঁচ পড়বে যুক্তরাষ্ট্রে। রিস্কে জো বাইডেনের গদি।

     

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়, বানচাল বাইডেনের স্বপ্ন!

    গোটা মধ্যপ্রাচ্য যেন বসে আছে উত্তেজনার কড়াইতে। আবারো বড় যুদ্ধের আশঙ্কা। কিন্তু এবারও সেই ঘুরে ফিরে চলে এল ইসরায়েলের নাম। তবে হামাস বা ফিলিস্তিন নয়, লড়াইটা শুরু হতে পারে লেবাননের সঙ্গে। দুই পক্ষই যুদ্ধের জন্য একদম প্রস্তুত। যে কোনো মুহূর্তে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আর একবার যদি ইসরায়েল আর লেবাননের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যায়, তাহলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতের বাইরে চলে যাবে। তাই তড়িঘড়ি জো বাইডেন ইসরায়েল আর লেবাননের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিনিধি পাঠালেন ইসরায়েলে। কিন্তু কেনই বা যুক্তরাষ্ট্র এত ভয় পাচ্ছে? আদৌ কি ভয় পাওয়ার কোন কারণ রয়েছে? কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সামনে ওয়াশিংটনকে ফেস করতে হবে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের জেরে ফেল হয়ে যেতে পারে জো বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি। যা বাইডেন সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি করবে। হয়ত বা যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে কোন বড় রকমের ঝামেলা চাইছে না।

     

    তার উপর যে মধ্যপ্রাচ্যে এতদিন যুক্তরাষ্ট্র মোড়লগিরি ফলাতে চেয়েছিল, সেই মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশই কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্রকে মানে না। উল্টে বিরুদ্ধে চলে গিয়েছে। ইসরায়েল আর লেবাননের যুদ্ধ বাঁধা মানে, আবারো সেই দলাদলি। কিন্তু পক্ষ আর বিপক্ষের অঙ্কের সমীকরণে খুব একটা বদল আসবে না। অর্থাৎ লেবাননের পক্ষে থাকবে ইরান ফিলিস্তিন সহ মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ। ওদিকে ইসরায়েলের সাপোর্টে থাকবে পশ্চিমারা। অনেকটা ইসরায়েল হামাসের যুদ্ধের মতোই পরিস্থিতি। শুধুমাত্র হামাসের পরিবর্তে এখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে লেবাননের হিজবুল্লাহ্। গাজা যুদ্ধের প্রথম থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে থেকেও গোটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্বাস অর্জনের জন্য মাঝেমধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছে। অস্ত্র দেবে না বলে হুমকিও দিয়েছে। কিন্তু শেষমেষ অটুট রেখেছে তেল আবিব-ওয়াশিংটনের বন্ধুত্ব। যা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম প্রধান দেশগুলোর কাছে চক্ষুশূল ব্যাপার। এটা প্রথম থেকেই আঁচ করতে পেরেছেন জো বাইডেন। তাই এবারে আর কোন ভুল পদক্ষেপ নয়। তিনি খুব ভালো করে জানেন, যুদ্ধ বাঁধলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার ক্ষমতা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলবে। আর একবার যদি হিজবুল্লাহ্ হামাস সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো জোট বেঁধে একসাথে ইসরায়েলকে আক্রমণ করে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু দেশের পক্ষে তা ভালো হবে না। বলে রাখা ভাল, ইসরায়েল যথেষ্ট শক্তিধর দেশ। পশ্চিমাদের প্রচুর সাপোর্ট রয়েছে। কিন্তু শত্রু সংখ্যা বেড়ে গেলে, সামাল দেওয়া মুশকিল।

     

    ইসরায়েলকে বোঝাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, নেতানিয়াহু আদৌ শুনবেন তো?

    এই সম্ভাব্য যুদ্ধ যদি না ঠেকানো যায়, তাহলে সত্যি সত্যি এবার মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বলে উঠবে। আর তাই হয়ত যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে তড়িঘড়ি মাঠে নেমে পড়েছে। বোঝানোর চেষ্টা করছে ইসরায়েলকে। কারণ ইসরায়েল লেবাননে হামলার সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। ওদিকে হুঙ্কার ছাড়ছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের সাথে ইসরায়েলের শত্রুতা কম নেই। গাজায় হামলার শুরুর পর থেকেই নেতানিয়াহুর সরকার লেবাননের দিক থেকে প্রচুর প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। প্রতিনিয়ত চলছে হিজবুল্লাহ আর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর লড়াই। কিন্তু কি বলুন তো, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের কথা যে অক্ষরে অক্ষরে শুনবে, এমনটা কিন্তু কোনও গ্যারান্টি নেই। এর আগেও যখন যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের মধ্যে একটু মনোমালিন্য চলেছিল। তখন স্পষ্ট বোঝা গিয়েছিল, নেতানিয়াহু স্বার্থের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনকে পাত্তা দেন না। নিজের নীতিতেই চলেন। তাই তিনি যদি মনে করেন, লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন তো অবশ্যই যুদ্ধ করবেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কথাকে কোন রকম ভাবেই তোয়াক্কা করবেন না। তার বড় উদাহরণ সাম্প্রতিক সময়। গাজায় যুদ্ধ বিরতি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কম চেষ্টা করেনি। এমনকি ইসরায়েলকে বারংবার বোঝানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু ইসরায়েল তার সিদ্ধান্তেই অনড়।

     

    পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে বাইডেন চুপ করে বসেও থাকতে পারছেন না। তাই বিশেষ দূত আমোস হোচস্টেইন পাঠিয়েছেন নেতানিয়াহু আর ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের সঙ্গে বৈঠক করতে। হোচস্টেইনকে বাইডেন নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে এই ইসরায়েল আর লেবাননের মধ্যে শত্রুতার ব্লু লাইন কোনভাবেই অতিক্রম না হয়। সেই চেষ্টা চালাতে হবে। হোচস্টেইনের সাথে ছিলেন মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি স্টেফানি হ্যালেট। যদিও বৈঠকে বিস্তারিত কী আলোচনা হয়েছে তা এখনও পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার জানায়নি। তবে হোচস্টেইন ইয়োভ গ্যালান্টের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক করেছেন। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে জরুরী ভিত্তিতে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। শুধু তাই নয় , হোচস্টেইন গিয়েছিলেন লেবাননেও। দেশটার রাজধানী বৈরুত সফরে গিয়ে বলেন, ইসরায়েল আর লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এই সংঘাত চলছে। এই ইস্যু কূটনৈতিকভাবে খুব দ্রুত সমাধান করা জরুরী। পাশাপাশি স্পষ্ট বলেছেন, ওয়াশিংটনে এই অঞ্চলে বড় যুদ্ধ এড়াতে চায়।

     

    ইসরায়েলের ত্রাস হিজবুল্লাহ, লড়াই লাগবে ইরানের সাথে

    বিগত আট মাস ধরে ইসরায়েল এবং লেবাননে একের পর এক চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা। ইসরায়েলের উপর এই হামলাগুলো মূলত চালাচ্ছে লেবাননের ইরান সমর্থিত ইসলামিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। ইরানের সাথে হিজবুল্লাহর সখ্যতা কিন্তু অত্যন্ত গভীর। তাই তো কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, যদি লেবানন আর ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে, আর সেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সেখানে ইরান জড়িয়ে পড়তে পারে। এমনি থেকেই হিজবুল্লাহ্কে সমস্ত রকম সাপোর্ট দিয়ে থাকে ইরান। তেহরানের ক্ষমতাতে এত জোর পায় এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। না হলে ইসরায়েলের মত শক্তিধর দেশে একটা সশস্ত্র গোষ্ঠীর পক্ষে বারংবার হামলা চালানো অত সহজ ব্যাপার ছিল না। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা, প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে উচ্চ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের। ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে তারা যে জোট বাঁধতে একে অপরের সঙ্গে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তা জোর গলায় ঘোষণাও করেছে। আর তাই হয়ত, ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ লেবানন ইসরায়েলের যুদ্ধ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে। যুদ্ধটা তখন শুধু এই দুই পক্ষের মধ্যে থাকবে ন, দলাদলি হয়ে দুভাগ হয়ে যাবে গোটা অঞ্চল। যেখানে এক দিকে থাকবে ইরান সমর্থিত দেশ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। অপরদিকে থাকবে ইসরায়েল সমর্থিত দেশগুলো। লড়াই হবে শেয়ানে সেয়ানে। ইসরায়েল যুদ্ধ করা মানেই পশ্চিমারা জড়িয়ে পড়বে। আর এই মুহূর্তে নির্বাচনের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যুদ্ধের এত বড় ধকল নেয়া সম্ভব নয়।

     

    আসলে মধ্যপ্রাচ্যে লেবানন-ইসরায়েলের উত্তেজনা ধীরগতির। কিন্তু সমস্যা হল তা ক্রমাগত বাড়ছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে সীমান্তে দুই পক্ষের হতাহতের সংখ্যা আর হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরণ। যা ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি তৈরি করেছে। এই দুই পক্ষের যুদ্ধ প্রায় কয়েক দশক ধরে চলছে। ১৯৮২ সালে ইসরায়েল লেবাননে আক্রমণ চালিয়ে রাজধানী বৈরুত পর্যন্ত ট্যাংক পাঠিয়েছিল। এখানেও কিন্তু ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল লেবাননে থাকা ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের প্রসঙ্গ। তার দীর্ঘ ২২ বছর পর দক্ষিণ লেবানন দখল করে নেয় ইসরায়েল। আর সেই সময় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে হিজবুল্লাহ। ওই অঞ্চল থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় ইসরায়েল। তারপর থেকেই গোটা বিশ্বে একটা ক্ষমতাশীল সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পেতে থাকে হিজবুল্লাহ্। এই গোষ্ঠীর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী আধা সামরিক বাহিনী রয়েছে। তারা সবসময় ইসরায়েলকে প্রতিহত করার দায়িত্বে নিজেদের নিয়োজিত করেছে। ইসরায়েলকে বিবেচনা করে এসেছে একটা শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে। তাই তো পশ্চিমা বিশ্বে হিজবুল্লাহকে প্রায়ই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করা হয়। দুপক্ষ বারংবার দিয়েছে কঠোর বক্তব্য। এর আগেও নেতানিয়াহু স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, যদি কেউ মনে করে, তারা ইসরায়েলের ক্ষতি করবে, তখন কিন্তু ইসরায়েল নীরব থাকবে না। যেভাবেই হোক ইসরায়েল উত্তরের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনবে। অপরদিকে হিজবুল্লাহ্ ইসরায়েলকে দমিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। এমত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ বাঁধার আশঙ্কা প্রবল।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Exit mobile version