।। প্রথম কলকাতা ।।
Covid-19: চিন সহ বেশ কয়েকটি দেশে করোনায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যার জেরে রাজ্যগুলিকে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। চিঠিতে বলা হয়েছে যে, ভারতে গত কয়েক দিন ধরে কেসের সংখ্যা গড়ে ১৫৩। দু’বছর আগে মহামারী (Corona) শুরু হওয়ার পর থেকে এটি সর্বনিম্ন। কিন্তু নতুন বছরের সূচনায় চারপাশে উৎসবের মরশুমে যাতে নতুন করে কেসের সংখ্যা না বাড়ে, তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
টেস্ট-ট্র্যাক-ট্রিট-ভ্যাক্সিনেশন এবং কোভিড উপযুক্ত আচরণের প্রতি লক্ষ্য দিতে বলেছে মন্ত্রক। অর্থাৎ মাস্কের ব্যবহার, হাইজিন এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলেছে নয়া দিল্লি (Central Government)। পাশাপাশি রাজ্যগুলিকে সমস্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জেলা-ভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় অসুস্থতা এবং গুরুতর তীব্র শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা সংক্রান্ত কেসগুলি পর্যবেক্ষণ করে কেন্দ্রকে রিপোর্ট করতে হবে। মূলত এগুলি হল প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ। চিঠিতে রাজ্যগুলিকে বলা হয়েছে, পরীক্ষা বাড়াতে হবে। সমস্ত জেলায় পর্যাপ্ত নমুনা পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। RT-PCR এবং অ্যান্টিজেন পরীক্ষার কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে। মূলত নমুনা পরীক্ষা এই কারণেই বাড়াতে বলা হয়েছে, যাতে নতুন কোনও ভ্যারিয়েন্ট যদি থাকে তাহলে তার হদিশ পাওয়া যাবে। ভারতে গত ছয় মাসে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের BF.7 সাব ভ্যারিয়েন্টে চারটি ঘটনা ঘটেছে।
সেইসঙ্গে রাজ্যগুলিকে আরও বলা হয়েছে যে, হাসপাতালে রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোন হাসপাতালে কতগুলি বেড রয়েছে বা অক্সিজেন এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনের জিনিসের কী ব্যবস্থা উপস্থিত আছে, সেই সংক্রান্ত খবর নিতে হবে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের যে কোনও সময় যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বলা হয়েছে, হাসপাতালগুলিতে ‘ড্রাই রান’-এর দরুন ক্যাপাসিটি টেস্ট করা যাবে। অন্যদিকে জোর দেওয়া হয়েছে টিকাদানে (Vaccination)। বুস্টার ডোজের (Booster Dose) উপর বিশেষ মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে। কারণ বেশিরভাগ রাজ্যে বুস্টার ডোজ গ্রহণের মাত্রা কুড়ি শতাংশ।
একদিকে চিনে (China) দিন দিন করোনায় পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। সেখানকার জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সম্ভবত ডিসেম্বরের প্রথম ২০ দিনেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। সাম্প্রতিককালে সেখানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতেই, রাজ্যগুলি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। যদিও এখনও কোনও বাধ্যতামূলক নিয়ম তৈরি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও (Narendra Modi) একটি পর্যালোচনা সভা করেছেন এবং মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যান্য রাজ্যগুলির মধ্যে কর্ণাটক (Karnataka) এবং দিল্লিতে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইউপিতে আগ্রার তাজমহলে (Taj Mahal) বিশেষভাবে সতর্কতা জারি হয়েছে। দর্শকদের প্রবেশের আগে কোভিড পরীক্ষা করাতে হবে বলে, জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে কেন্দ্রের নির্দেশে আগত বিদেশী যাত্রীদের স্ক্যান করা হচ্ছে। দু’বছর আগে মহামারী শুরু হওয়ার পর দিয়ে চিন থেকে সরাসরি ফ্লাইট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বলতে গেলে, সেখানে করোনার বাড়বাড়ন্তের জেরে নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সেখানকার ভয়াবহতা চিন্তায় ফেলেছে এখানকার মানুষজনকে।
খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়
সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম
