নিউইয়র্কের ধুকপুকানি শুনতে পাবেন এখানে গেলেই টাইমস স্কোয়ার!যেখানে কখনো রাত হয় না। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার এমন এক জায়গা, যেখানে সময় যেন থমকে দাঁড়ায় আলো আর রঙের রোশনাইতে দ্য ক্রসরোডস অফ দ্য ওয়ার্ল্ড বলেও যাকে ডাকা হয় ।
কিন্তু একে টাইমস স্কোয়ার কেন বলা হয়?দিনে যেমন এটি স্বর্গরাজ্য, রাতে তেমনি রূপ নেয় এক স্বপ্নপুরীতে।টাইমস স্কোয়ার শুধু একটি জায়গা নয় ।এটি নিউ ইয়র্কের প্রাণ।
সেখানেই পৌঁছে গিয়েছিল প্রথম কলকাতা।বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা প্রথম কলকাতার কর্ণধার সুব্রত আচার্য ঘুরে দেখলেন সেই আশ্চর্যের পৃথিবীকে ।যে পৃথিবী কখনো ঘুমোয় না
আপনিও ঘুরে দেখুন আমাদের সঙ্গে।
টাইমস স্কয়ারে কেবলই আনন্দ। ছড়ানো আছে বিনোদনের নানা উপকরণ।এবার আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে এখানে ঠিক কি আছে? টাইমস স্কোয়ারের চারপাশে রয়েছে নানা রকম দোকান, থিয়েটার, রেস্টুরেন্ট ও বিনোদনের জায়গা। বিখ্যাত ব্রডওয়ে থিয়েটারগুলোও এখানেই , যেখানে প্রতিদিন অসাধারণ নাটক ও মিউজিক্যাল শো হয়। এখানে দাঁড়ালে মনে হয় যেন এক মুহূর্তের জন্যও শহরটি ঘুমায় না। প্রতিটি জায়গায় কেউ সেলফিতে মজে ,কেউ গান গাইছে, কেউ রাস্তার পাশে নাচছে। সব মিলিয়ে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। পুরো বিষয়টা এতটা লাইভলি যে আপনার মনের দুঃখ কষ্ট সব যেন নিমেষে উধাও হয়ে যাবে। টাইম স্কয়ারে ঘুরতে ঘুরতে একটি মূর্তি দেখে আপনি দাঁড়িয়ে পড়তে পারেন। ব্যস্ত জীবনে যেন কোন এক ইতিহাসের কথা বলছে এটি। কিন্তু নিউইয়র্কের এরকম এক জায়গায় কার মূর্তি রয়েছে? তাঁর পরিচয় বা কী?
আসলে এই মূর্তিটি ফাদার ডাফির । তিনি ছিলেন একজন মার্কিন সেনা যাঁর মূর্তি নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে রয়েছে। তাঁর অবদানের স্মৃতিতে এই মূর্তিটি বসানো রয়েছে।তিনি ছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর ৬৯তম ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট – র সৈন্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছেন। তার স্মরণে ব্যস্ত টাইম স্কয়ারে মূর্তি বসানো হয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে এখানে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইম্স স্কয়ারে প্রথমবার দুর্গোৎসব হয়। বেঙ্গলি ক্লাব ইউএসএ এবং হিন্দু কমিউনিটি অব নিউইয়র্কের আয়োজনে।
১৯০৪ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস সংবাদপত্র তাদের অফিস এই এলাকায় তৈরি করে সেই থেকেই এর নাম হয় টাইমস স্কোয়ার। ধীরে ধীরে নিউ ইয়র্কের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক আকর্ষণের জায়গা তৈরি হয়েছে এটি। আজ এটি শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং গোটা বিশ্বের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে নববর্ষের রাতে এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ একত্রিত হয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। সে দৃশ্য দেখার মত।জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্রগুলো ঘুরে বেড়ায় টাইমস স্কয়ারে।যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের প্রচারও চলে এখানে। এই জায়গাটি কখনো নিশ্চুপ হয়ে গেলে গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রী যেন অন্ধকারে ঢুকে যায়।
দ্য ক্রসরোডস অব দ্য ওয়ার্ল্ড- এ প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ আসে। বহু মানুষের রোজগারের ঠিকানা এই অঞ্চল। অনেকেই জানেন না প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এরও বেশি টাকা প্রতি বছর টাইম স্কয়ার অঞ্চলের রেস্তোরাঁ, দোকান, থিয়েটার, হোটেল ও বিজ্ঞাপন থেকে আসে।
তবে এই আলোর সাম্রাজ্যে হারিয়ে গেলে চলবে না। একটু চোখ-কান খোলা রাখুন। সেলফি তোলার হিড়িকে পড়তে হতে পারে বড় আর্থিক ক্ষতিতে। তখন বিদেশে গিয়ে সামলে উঠতে পারবেন তো?আপনিও কি একটিবার গিয়েছেন নাকি? টাইম স্কয়ারে? কমেন্ট করে আপনার মতামত দিতে ভুলবেন না।
