প্রথম কলকাতা : দিল্লি বি/স্ফো/র/ণে/র সঙ্গে পুলওয়ামা যোগ? সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় এই একটা ছবি নিয়ে। সিসিটিভিতে দেখতে পাওয়া এক সন্দেহভাজনকে ঘিরে উঠে আসছে নানা তথ্য।ফরিদাবাদ মডিউলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সন্দেহভাজন ড. উমর নবির? এই হামলার রিমোট কি তবে তার হাতেই ছিল? বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, যে গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়, উমর নবির সেই গাড়ি চালাচ্ছিল। সে-ই সুইসাইড বম্বার ছিল বলে পুলিশের দাবি।
লালকেল্লার বি/স্ফো/র/ণ তবে কি আত্মঘাতী জ/ঙ্গি হামলা? কিন্তু কে এই উমর? পুলওয়ামার সঙ্গে কি যোগ রয়েছে তার?
২৬/১১-র মুম্বই হামালার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে ১০/১১-য় দিল্লি। সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লার কাছে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের প্রাণহানির খবর মিলেছে। জখম প্রায় ২০ জন। ভারত জুড়ে এখন হাই অ্যালার্ট জারি রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আটোসাটো করা হয়েছে। এই ঘটনা আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা কি না এই নিয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা না হলেও তথ্যপ্রমাণ সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। তবে এই ঘটনার দায় এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন স্বীকার করেনি। তবে বারবার একটা নাম উঠে আসছে ড. উমর নবির। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়া গাড়ির স্টিয়ারিং ছিল এই সন্দেহভাজন ডঃ উমরের হাতে। কিন্তু কে এই উমর?
ফরিদাবাদের আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ছিল উমর। তার জন্মের তারিখ ১৯৮৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। বাবার নাম গোলাম নবি ভাট। আদতে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামার কোলি এলাকার বাসিন্দা। অনন্তনাগ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক আদিলের ঘনিষ্ঠ ছিল উমর। চরমপন্থী চিকিৎসকদের যে গোষ্ঠী সোশ্য়াল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘টেলিগ্রাম’-এ সক্রিয়, সেই গোষ্ঠীর সদস্য ছিল উমরও। পুলিশের একটি সূত্রের খবর, অনন্তনাগের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে মেডিসিন বিভাগে এমডি ডিগ্রি নেওয়ার পরে সেখানেই সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিল। পরে সে দিল্লি চলে যায়।
পুলিশ জানায়, ফরিদাবাদ থেকে প্রচুর পরিমাণ অ্য়ামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরক, একে-৪৭ রাইফেল, কার্তুজ, ম্যাগাজিন উদ্ধারের পরে পালিয়ে যায় উমর। তাতেই তদন্তকারীদের দৃঢ় সন্দেহ, ফরিদাবাদ মডিউলই লালকেল্লার বিস্ফোরণে জড়িত। তার একটি ছবিও প্রকাশ করেছেন তদন্তকারীরা। ঘটনা চলে একটি পুড়ে যাওয়া হাতের অংশ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই অংশটি উমরেরই। ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলওয়ামা থেকে উমরের মা ও ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তে প্রকাশ, গাড়িটি লালকেল্লার অদূরে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা গিয়েছে দুপুর ৩:১৯ থেকে সন্ধ্যা ৬:৪৮ পর্যন্ত লালকেল্লার এক নম্বর গেটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। বিস্ফোরণের ঠিক আগেই চলতে শুরু করে গাড়িটি। তার পরেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে লালকেল্লা চত্বর।
জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের পর প্রথম তল্লাশিতে নেমে হুন্ডাই আই-২০, নম্বর HR26CE7624 গাড়ির মালিক সন্দেহে মহম্মদ সলমন নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। গাড়ির RC-ও উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। কিন্তু পরে জানা যায় সলমন গাড়ির মালিক নন। RC-ও ভুয়ো। আসলে সলমনের নামে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে সেটা অন্য কাউকে গাড়িটি বিক্রি করা হয়েছিল। এর পরে একাধিক বার গাড়িটি হাত বদল হয়। পুলওয়ামার বাসিন্দা তারিক নামে এক যুবককে বিক্রি করা হয়েছিল শেষবার। সেটাও ভুয়ো নথি দিয়ে। কিন্তু গাড়ির আসল মালিক কে, সেটা এখনও ধোঁয়াশাই।
