“তুমি দেখতে খুব কুৎসিত।” একজন নবাগত অভিনেতার মুখের ওপর এমন নির্মম কথা শুনতে হয়েছিল। আর যিনি বলেছিলেন, তিনি বলিউডের স্বপ্নসুন্দরী হেমা মালিনী!
তখন শাহরুখ খান মাত্রই ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখছেন। ছাদ ছিল না মাথার ওপর, বাবা-মা হারানোর শোক তখনও তাজা। রাত কাটত বন্ধু বিবেক বাসওয়ানির বাড়িতে। কাজের খোঁজে ঘুরছেন, কিন্তু কেউ সুযোগ দিতে চায় না। ঠিক তখনই একদিন হঠাৎ বেজে উঠল ফোন — ওপারে হেমা মালিনী নিজে!
বিবেকের বাবা ফোন ধরেছিলেন। তিনি হেমাজির নাম শুনে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “হেমা মালিনী কে?” ওপাশ থেকে উত্তর এসেছিল, “হেমা মালিনী, সুপারস্টার।” হেমাজি জানতে চাইলেন, “ওই ছেলেটা, শাহরুখ খান, এখনও তোমাদের বাড়িতেই ঘুমোচ্ছে?”
‘হ্যাঁ’ শুনেই তিনি বললেন, “ওকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে আমার বাড়িতে পাঠাও।”
হেমা মালিনীর বাড়িতে প্রথম দেখা
বিকেলে পৌঁছে গেলেন শাহরুখ আর বিবেক। দরজার ভেতর এক ভদ্রলোক পত্রিকা পড়ছিলেন— পরে দেখা গেল তিনি ধর্মেন্দ্র! তারপর ঘরে ঢুকলেন হেমা মালিনী।
তিনি এক নজর তাকিয়ে বললেন, “তুমি তো বেশ কুৎসিত!” বিবেক তখন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “তাহলে ওকে নেবেন কেন?”
হেমাজি শান্ত গলায় বললেন, “আমির খান আর সালমান খান না করে দিয়েছে। কিন্তু আমি একটা নতুন মুখ চাই।”
প্রথম সই ‘দিল আশনা হ্যায়’
তারপর বললেন, “আমি তোমাকে ৫০ হাজার টাকা দেব। আমি হেমা মালিনী— আমার কথার জবাব হয় না।”
সেই ছবির নাম ‘দিল আশনা হ্যায়’। সঙ্গে ছিলেন জিতেন্দ্র, মিঠুন, অমৃতা সিং, ডিম্পল কাপাডিয়া, কবীর বেদি— একেবারে তারকাখচিত দল।
এভাবেই শাহরুখ সই করলেন জীবনের প্রথম সিনেমায়। যদিও মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি ছিল রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান, কিন্তু তাঁর প্রথম সাইন করা ছবি ছিল ‘দিল আশনা হ্যায়’ (১৯৯২)— হেমা মালিনীর পরিচালনায়।
অপমান থেকে অনুপ্রেরণা
যে ছেলেটিকে একদিন বলা হয়েছিল, “তুমি দেখতে কুৎসিত”, সেই ছেলেই আজ কোটি মানুষের হৃদয়ের রাজা। ৮ থেকে ৮০— সবাই তাঁর প্রেমে পাগল।
শাহরুখ খানের জীবন যেন প্রমাণ, অপমানই অনেক সময় সাফল্যের সবচেয়ে বড় জ্বালানী।
তাই যখনই কেউ আপনাকে ছোট করে কথা বলবে, মনে রাখবেন— জবাব কথায় নয়, কাজে দিন। কারণ, শাহরুখ খানের মতোই হয়তো একদিন আপনিও নিজের গল্পের ‘বাদশা’ হয়ে উঠবেন।
