Tag: Joe Biden

  • Middle East policy: দাদাগিরিতে ফেল মধ্যপ্রাচ্য নীতি ! জো বাইডেনের হারের কারণ কী হতে পারে ?

    Middle East policy: দাদাগিরিতে ফেল মধ্যপ্রাচ্য নীতি ! জো বাইডেনের হারের কারণ কী হতে পারে ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Middle East policy: মধ্যপ্রাচ্যর প্রশ্নে কি জর্জরিত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন? তাহলে কি, মধ্যপ্রাচ্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাকে নাড়িয়ে দিতে চলেছে? না, ব্যাপারটা কিন্তু অতটাও তুচ্ছ ভাবে নেবেন না। বিশ্বের অন্যতম অর্থনীতির দেশকে যখন আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে এমন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, একের পর এক সমালোচনা ফেস করতে হচ্ছে, তখন নিশ্চয়ই বিষয়টা ভালো দেখাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময় বিশ্বজুড়ে যে সংঘাত চলছে, সেখানে বারংবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কথা উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই নাক গলানো মনোভাবকে মেনে নিতে পারছে না। বিশেষ করে সামনেই যখন দেশটার প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন। মুখোমুখি লড়বেন জো বাইডেন আর ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখনও ঘুরে ফিরে সেই চলে আসছে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কথা। কেনই বা মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এতটা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে? এই মধ্যপ্রাচ্যে কি আছে বলুন তো? যার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তার পররাষ্ট্র নীতিতে বারংবার মধ্যপ্রাচ্যকে জুড়ে দিয়েছে? মধ্যপ্রাচ্যে নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে কেনই বা যুক্তরাষ্ট্র এত মরিয়া? তাহলে কি সত্যি সত্যি, এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটই হবে জো বাইডেনের হারের বড় কারণ?

     

    * ম্লান বাইডেনের আশ্বাস, ফেল মধ্যপ্রাচ্যের নীতি

    বলছি বছর চারেক আগের কথা, তখন ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে বাইডেন বলেছিলেন যে তিনি এশিয়া নীতি পাল্টে ফেলবেন। ঝুড়িঝুড়ি আশ্বাসও দিয়েছিলেন। বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তন আর যুক্তরাষ্ট্রকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েই কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়েছিলেন তিনি। বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের সামনে তখন রেখেছিলেন একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি। সৌদি আরব আর আরব আমিরাতের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি স্থগিত, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, আণবিক চুক্তি, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্র সমাধান, চীনের আধিপত্যের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি, মিত্র জাপানের পক্ষে অবস্থানের বার্তা দিয়েছিল ওয়াশিংটন।

     

    কিন্তু কই? বিগত কয়েক বছরে বাইডেনের শাসনামলে সেই প্রতিশ্রুতি গুলো কি পূরণ হয়েছে? না হয়নি বোধহয়। এই খটকাটা বাইডেন এড়িয়ে যেতে পারবেন না, আর পারছেনও না। ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তো স্বাভাবিক হয়নি, উল্টে দিনের পর দিন সম্পর্ক আরো খারাপ হয়েছে। যে ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনের দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের কথা বলেছিল যুক্তরাষ্ট্র, সেই সমাধান তো দূর, উল্টে ইসরায়েল আর গাজার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। চীনের আধিপত্যের জাল আরও বেশি করে গ্রাস করেছে মধ্যপ্রাচ্যকে। শুধু তাই কি? বর্তমানে যে ইয়েমেনের হুতিদের বারংবার সামনা করতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে, বাইডেন ক্ষমতায় এসে কিন্তু বলেছিলেন বিষয়টা খতিয়ে দেখবেন। কিন্তু আজ দেখুন কি হচ্ছে! বর্তমান দিনে দাঁড়িয়ে হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যতম শত্রু বলে মনে করে।

     

    বহু কূটনীতিকদেরই ধারণা, মার্কিন হস্তক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটা যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাস গুলোতে, গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলকে যে সমর্থন, তা এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাব মূর্তিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সেটা দেখতেও পাচ্ছেন নিশ্চয়ই।

     

    * যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মধ্যপ্রাচ্যের প্রসঙ্গ কেন? কোন পয়েন্টে ব্যর্থ বাইডেন?

    প্রতিবেদনটা শুনতে শুনতে আপনিও নিশ্চয়ই এতক্ষণে ভাবা শুরু করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিধর রাষ্ট্রের নির্বাচনের প্রসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কথা আসছে কেন? আসলে কি বলুন তো, গত কয়েক দশক ধরেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বেশ সক্রিয়। সেই ইরাক আক্রমণ থেকে শুরু করে ইসলামিক স্টেট বলুন কিংবা আইএস এর বিরুদ্ধে লড়াই, অথবা যদি বলেন ইসরায়েল আর সৌদি আরবকে অস্ত্র পাঠানোর প্রসঙ্গ। সেখানেও নানান বিষয়ে সম্পৃক্ত থেকেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিঃসন্দেহে এখনো যুক্ত রয়েছে। কূটনৈতিক মহলের বিশ্লেষকরা মনে করে থাকেন জ্বালানি, সম্পদ, বাণিজ্য রুট, ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী মিত্রতার কারণে এই অঞ্চলের প্রতি দেশটা আগাগোড়াই একটু বেশি আগ্রহী।

     

    তবে এ কথা বলতেই হয়, নাটকীয়ভাবে কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা সংখ্যা কমছে। যেখানে ২০০৭ সালে কেবলমাত্র ইরাকেই ছিল ১ লক্ষ ৬০ হাজার মার্কিন সেনা। বর্তমানে মিশর থেকে আফগানিস্তান পর্যন্ত মার্কিন সেনা সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজারেরও কম। আসলে যুক্তরাষ্ট্রের যে আধিপত্যবাদের নীতি, তা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আর মানতে চাইছে না। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি আরও কমিয়ে আনা হবে কিনা তা নিয়েও কিন্তু ওয়াশিংটন ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের কাছে, এটা এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রশ্ন বটে।

     

    আর তাছাড়া কয়েক দশক ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি নির্ধারণের একটা প্রধান কারণ সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত আর সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বহু দেশের তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ভান্ডার। জানেনই তো, বৈশ্বিক তেলের বাজারের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভাবে জড়িয়ে। সেখানে যদি সরবরাহের ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে শুধু তেলের দামই নয় বরং পুরো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব পড়বে। এটা বিগত কয়েক বছর ধরে হচ্ছেও। যার ফল হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বিশ্বের কম বেশি প্রত্যেক দেশ। এখানে আবার যুক্তরাষ্ট্রের একটা ভয় কাজ করছে। যখনই মধ্যপ্রাচ্যে দেশটা জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমাচ্ছে, ঠিক তখনই চীন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। সেটাকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মেনে নেওয়া আবার সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিদ্বন্দ্বীই তো চীন। এখানে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট রয়েছে।

     

    মধ্যপ্রাচ্য যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আর পরিষেবা, বিশেষ করে সামরিক হার্ডওয়ারের একটা বিশেষ বাজার বলতে পারেন। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে সবথেকে বেশি রপ্তানি হয়েছে মার্কিন অস্ত্র। মোট মার্কিন অস্ত্রের রপ্তানির ৩৮ শতাংশই যায় মধ্যপ্রাচ্যে। যার মধ্যে সবথেকে বেশি অস্ত্র কেনে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত আর ইসরায়েল। আর তাছাড়া সমুদ্রপথে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য মধ্যপ্রাচ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা। সেই জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজের হাল ছেড়ে দেয়, তাহলে অর্থনীতিতেও দেশটা ধাক্কা খাবে। যুক্তরাষ্ট্র আগাগোড়াই তাই মধ্যপ্রাচ্যের রাশ নিজের হাতে রাখতে চেয়েছে, এখনো চায়। কিন্তু ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এই সুযোগটা থাকবে কিনা সেটা বলা মুশকিল। কারণ ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফুঁসছে। তারা চাইছে না যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘরের বিষয়ে নাক গলাক।

     

    মিশরের যে সুয়েজ খাল আর ইরানের অদূরে রয়েছে হরমুজের সরু প্রণালী। সেটাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত দরকার। ভালো করে ভাবুন, এই জায়গায় গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে চটিয়ে ফেলে, যদি মধ্যপ্রাচ্যকে নিজের হাতের বাইরে করে ফেলে, তখন কিন্তু আরও বিপদে পড়বে। তাই যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। দেশগুলোর সঙ্গে শত্রুতা করার আগেই যুক্তরাষ্ট্র দুবার ভাবে। কূটনৈতিক ভাবে সমস্ত বিষয়টা সামলানোর চেষ্টা করছে ঠিকই, কিন্তু পারছে কই? বরং উল্টোটাই হচ্ছে।

     

    সাম্প্রতিক সময় দেখবেন, গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক প্রশ্নে জর্জরিত। তার উপর এই অঞ্চলটাকে বলতে পারেন চীন আর রাশিয়ার সঙ্গে ক্ষমতা প্রতিযোগিতার একটা মূল নাট্যমঞ্চ। যেখানে যে যত বেশি ভালো পারফর্ম করতে পারবে, তার হাতেই থাকবে এই অঞ্চল। বলা ভালো, এই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য করার বড় সুযোগটা পাবে সেই দেশ। ইউরোপ, এশিয়া আর আফ্রিকাকে সংযুক্ত করছে মধ্যপ্রাচ্য। তাই কৌশলগত দিক থেকে মার্কিন বাণিজ্য বলুন আর সামরিক অভিযান, সব দিক থেকেই এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা।

     

    * বাইডেনের ভোট ব্যাংকে প্রভাব খাটাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত

    এবার আসা যাক সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে। যেটা এতক্ষণ ধরে বলা হচ্ছিল। আশঙ্কাটা কতটা সত্যি হবে? প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্যপ্রাচ্য কতটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনাদের মনে হয়? কমেন্ট করে তো অবশ্যই জানাবেন। দেখুন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে সেখানে নির্বাচনে নানান স্তম্ভ রয়েছে। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য হয়তো বড় কোনও স্তম্ভ নয়। কিন্তু কম বয়সী যে ভোটাররা তারা কিন্তু এই বিষয়টা নিয়ে ভাবছে। বলা ভালো অলরেডি তারা সেটা নিয়ে ভাবা শুরু করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সব ভোটারদের জন্য পররাষ্ট্র নীতির ব্যাপারটা কিন্তু খুব একটা বড় ইস্যু নয়। বিষয়টাকে আপনি আবার পুরোপুরি বাদও দিতে পারবেন না। ২০২৪ এ এর এই যে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, এটা কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী বছর। কারণ যেখানে মধ্যপ্রাচ্য সহ অন্যান্য সংঘাতের একটা রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। দেশটার অভ্যন্তরীণ গুঞ্জন এও বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের যে তরুণ প্রজন্ম রয়েছে বা প্রগতিশীল ভোটাররা রয়েছেন তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সমালোচনা করছে। ইসরায়েলকে সমর্থন করার জন্য তারা বাইডেনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেও ছাড়ছেন না। কিন্তু উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই তরুণসমাজ যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে খুব একটা পছন্দ করছে ব্যাপারটা আবার সেরকম নয়।

     

    কিন্তু হ্যাঁ, ট্রাম্প পররাষ্ট্র বা নিরাপত্তা নীতির প্রতি জনগণের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি কোন মতেই বাইডেন কে কোন অ্যাঙ্গেলেই ছেড়ে দেবেন না। এখানে আরেকটা কথা বলে রাখা ভালো। যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্ম কিংবা ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে অনেকেই আদৌ ভোটে যাবেন নাকি ভোটে যাবেন না, তার মাঝেও বেশ সংশয় রয়েছে। কারণ অনেক ভোটার আবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও খুব একটা পছন্দ করেন না। চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের একটা সমীক্ষা বলছে, দেশটার ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী অনেকেই গাজায় স্থায়ী যুদ্ধ বিরতিকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করেছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তার পরিবর্তে তারা ট্রাম্পকে ভোট দেবেন। আসলে, মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়টা অনেকটা জটিলতা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে। আবার যারা একটু গভীরভাবে বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি বিচার করছেন, তারা কিন্তু কিছুটা হলেও সাপোর্ট করছেন ট্রাম্পকে। সত্যি বলতে, বিতর্ক যাই থাকুক, নির্বাচনের রেজাল্টই বলবে কে জিতবে আর কে হারবে। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ কাকে চাইছে এটাই মূল কথা। কিন্তু তার আগে বাইডেন বেশ চাপে রয়েছেন।

     

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচার মাধ্যম সিএনএন আয়োজিত প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে বাইডেনের পারফরম্যান্স ছিল কিছুটা হতাশাজনক। আর তাই বাইডেনকে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদক। তাঁর দাবি, বাইডেন দ্বিতীয় মেয়াদে কি করবেন তা ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নাকি হিমশিম খেয়েছেন। ঠিকভাবে ট্রাম্পের উস্কানির জবাব দিতে পারেননি। যদিও এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারণা শিবির।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • US Elections: ফিলিস্তিন গাজা ইস্যু ! যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মারাত্বক প্রভাব পড়বে

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    US Elections: গাজা যুদ্ধের এফেক্ট বাইডেনের গদিতে, মোড় ঘুরবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে। জো বাইডেনকে হারাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্ত্র হামাস ইস্যু। ইউক্রেন যুদ্ধে বাইডেনের সিদ্ধান্ত নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কি তবে বাইডেন হেরে যাবেন? যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কোন দিকে? বাইডেনের দুর্বল পয়েন্ট ধরে ফেলেছেন ট্রাম্প। সব দোষ গিয়ে পড়ছে হামাসের ঘাড়ে। নির্বাচনের আগে প্রশ্নে জর্জরিত বাইডেন। তবে কি তিনি ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে কোনো ভুল করে ফেললেন? গাজা যুদ্ধ নিয়ে বলা কথায় পাল্টি খেলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হামাস নিয়ে এত কথা কেন? কেনই বা বিষয়টা ভাবাচ্ছে বাইডেনকে? তাহলে কি ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের মারাত্মক এফেক্ট পড়েছে বাইডেনের ক্ষমতায়? শেষমেষ গদি টিকিয়ে রাখতে পারবেন তো? ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও উঠে এল বড় বয়ান।

     

    * গাজা যুদ্ধে বাইডেনের ভুল স্ট্র্যাটেজি, জর্জরিত প্রশ্ন বাণে

    মুখোমুখি কথার আক্রমণে নামলেন জো বাইডেন আর ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেশ উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে কিনা ঘুরে ফিরে চলে আসছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রসঙ্গ! বিশেষ করে বাইডেন আর ট্রাম্পের মধ্যে কথার ঝড় উঠল হামাস-ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে! বাদ পড়েনি, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ প্রসঙ্গ। দেখুন, এর আগে বহু প্রতিবেদনে আমরা বারংবার বলেছি, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ কিংবা হামাস ইসরায়েলের যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের মোড় ঘোরাতে চলেছে। শুধু তাই নয়, বহু কূটনীতিকদের ধারণা, এই সংকট ফেলে দিতে পারে জো বাইডেনের গদি। তাহলে কি সেই আশঙ্কাই সত্যি হবে? কারণ ইতিমধ্যেই ট্রাম্প আর বাইডেনের মুখোমুখি বিতর্কের পর বাইডেন সমর্থকরা একদম চুপ। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কিংবা যুদ্ধ প্রসঙ্গে যেভাবে বাইডেনকে খুঁচিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, ট্রাম্প কিন্তু বুঝে গিয়েছেন বাইডেনের দুর্বল জায়গাটা কোথায়?

     

    প্রশ্নটা তো এখানেই। তাহলে কি, হামাস ইসরায়েলের যুদ্ধে বাইডেন বড় ভুল কোনও স্টেপ নিয়ে ফেলেছেন? রাশিয়ার যুদ্ধের প্রথম থেকেই পুতিনকে বাইডেন দোষারোপ করেছেন। কিন্তু যখন ইসরায়েল আর হামাসের যুদ্ধের প্রসঙ্গ এসেছে, তখনই বাইডেন ঘুরে গিয়েছেন ইসরায়েলের দিকে। সেখানে সমস্ত দোষ তিনি দেখছেন হামাসের মধ্যে। ট্রাম্প কি তাহলে, দেখে দেখে সেই পয়েন্টটাকেই টার্গেট করলেন? দেখুন, যদি ইসরায়েল আর হামাসের যুদ্ধের প্রসঙ্গ আসে, তাহলে গত অক্টোবরে হামাস ইসরায়েলে আক্রমণ করেছিল। তাতে বহু ইসরায়েলি নাগরিক প্রাণ হারান। শুধু তাই নয়, এখনো হামাসের হাতে বন্দি রয়েছেন বহু ইসরায়েলি নাগরিক। তারই পাল্টা, গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

     

    প্রথম থেকেই নেতানিয়াহু বলে এসেছেন, তাঁর লক্ষ্য একমাত্র হামাস নির্মূল করা। কিন্তু মাঝে যে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে গাজা বাসীকে, তা নিয়ে তাঁকে কম সমালোচিত হতে হচ্ছে না। একটা সময় জো বাইডেন এই বিতর্ক বলুন কিংবা সমস্যা, এখান থেকে নিজের পিঠ বাঁচাতে, নিজের ইমেজ ঠিক রাখতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও কথা বলেছিল। কিন্তু বলে রাখা ভালো, কখনই তিনি ইসরায়েলের হাত ছাড়েননি।

     

    এই জায়গাটাই দাঁড়িয়ে, বাইডেন আর ডোনাল্ড ট্রাম্প, দুজনের নীতি একই। দুজনেই ইসরায়েলকে অত্যন্ত কাছের বন্ধু রাষ্ট্র বলে মনে করেন। যাই হয়ে যাক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র আগাগোড়াই ইসরায়েলের পাশেই থেকেছে। কিন্তু যখন গাজা কিংবা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধের প্রসঙ্গ এসেছে, তখন বাইডেন আর ট্রাম্পের মতের মধ্যে মিল নেই। এই যে এতদিন ধরে গাজা যুদ্ধ চলছে, এই যুদ্ধের কারণে ট্রাম্প দোষারোপ করছেন বাইডেনকে। বাইডেনের কারণেই নাকি, এই যুদ্ধ এত দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বাইডেনের ভুল কূটনৈতিক স্ট্র্যাটেজি কিংবা পররাষ্ট্রনীতির কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গাজার মানুষকে। ট্রাম্প যে এত বড় অভিযোগ করলেন, এটা কতটা সত্যি? আরও একগুচ্ছ অভিযোগ এনেছেন বাইডেনের বিরুদ্ধে। কিন্তু তা কতটা ধোপে টিকল যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে? সে প্রসঙ্গে একটু পরে আসছি।

     

    * পুতিন যুদ্ধাপরাধী, ইসরায়েল কেন নয়? হামাস কী দোষ করল?

    প্রায় চার বছর পর মুখোমুখি বিতর্কে দাঁড়িয়েছেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। সেখানে যে দুজনের কথা একদমই হালকা ছলে হবে না, তা তো বুঝতেই পারছেন। তার উপর যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশ। যেখানে আগামী প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী করবেন একজন বর্তমানে প্রেসিডেন্ট আর একজন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। দুজনের বিতর্কই বলে দিচ্ছে, যেন একটা হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ হয়ে গেল। সিএনএন’এর আটলান্টা স্টুডিওতে আয়োজন করা হয়েছিল এই প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট। প্রথা অনুসারে, করমর্দন করার কথা, কিন্তু বিতর্ক মঞ্চে উঠে জো বাইডেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প একে অপরের সাথে হাত মেলাননি।

     

    বুঝতে পারছেন, আগামী দিনে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন ঠিক কতটা টক্কর দিতে চলেছে একে অপরকে? ট্রাম্প তো প্রথম থেকেই, বাইডেনকে একের পর এক দুর্বল পয়েন্টে গিয়ে টার্গেট করতে থাকেন। বিশেষ করে বাইডেনের জমানায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক হাল, কর, স্বাস্থ্য পরিষেবা, এমনকি আফগানিস্তানের থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই সমস্ত প্রসঙ্গও তুলেছেন ট্রাম্প। বাইডেন নাকি জাতীয় নিরাপত্তায় অবহেলা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেননি। একদিকে ট্রাম্প যখন তার কড়া নিশানায় বাইডেনকে রেখেছেন, তখন চুপ করেন ছিলেন না বাইডেনও। তিনি ট্রাম্পের জমানার ক্যাপিটল হিংসা, ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া, কোভিড নীতি প্রভৃতি নিয়ে রীতিমত কড়া আক্রমণ শানান।

     

    গোটা বিশ্ব দেখেছে, একটা সময় ট্রাম্পকে বারংবার ছোটাছুটি করতে হয়েছিল আদালতে। এমনকি আদালত তাঁকে জরিমানাও করেছে। সেই প্রসঙ্গ তুলতে ছাড়েননি বাইডেন। তাঁর কথায়, একজন অপরাধীর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া আদৌ নৈতিকভাবে ঠিক কিনা সেটা ভেবে দেখা দরকার। কিন্তু কি বলুন তো? দুই প্রার্থীর মধ্যে বিতর্ক হবে, একে অপরকে নিশানা করে কথা বলবে, এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু যখন আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ গুলো আসছে, তখন কেউ সেই উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, আবার কেউবা তার মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে চাইছে।

     

    এই বিতর্কের সঞ্চালক ডানা বাশ যখন রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে পুতিনের দেওয়া শর্ত তোলেন, তখন কিন্তু ট্রাম্প প্রথমে সেই উত্তর দিতে চাননি। বরং বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইছিলেন। আসলে পুতিন শর্ত দিয়েছিলেন, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হতে পারবে না। আর এই শর্ততে যুক্তরাষ্ট্রের আগাগোড়াই আপত্তি। বিতর্কে সঞ্চালক দ্বিতীয়বার আবার একই প্রশ্ন করেন ট্রাম্পকে। যদিও তখন ট্রাম্পের উত্তর না দিয়ে উপায় নেই। একটা বিতর্ক মঞ্চে তিনি আর কতক্ষণই বা চুপ থাকবেন। শেষে বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের শর্তের তাঁর সায় নেই।

     

    তবে হ্যাঁ, এই যে পুতিনের শর্তে বাইডেনের যে সায় নেই, সে প্রসঙ্গে কিন্তু বাইডেন যাননি। বরং তিনি সরাসরি বলে দিয়েছেন, পুতিন একজন যুদ্ধাপরাধী। অপরদিকে উল্লেখযোগ্যভাবে গাজার যুদ্ধের জন্য সরাসরি দায়ী করেন ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে। পুতিন নাকি পুরনো সোভিয়েত সাম্রাজ্য আবার প্রতিষ্ঠা করতে চান বলেও বাইডেন অভিযোগ তুলেছেন। উল্টে সঞ্চালকের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন, “পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে চান বলে কি আপনি মনে করেন?” “পোল্যান্ডে, বেলারুশে, ন্যাটো দেশগুলোতে কি ঘটছে বলে আপনি মনে করেন?” বাইডেন আরো জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধের চেয়ে বেশি অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে। আর এইসব কারণেই যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী।

     

    এ কথা মানতেই হবে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী। না, সেখানে কোন খাদ নেই। কিন্তু কি বলুন তো, যখন কম শক্তিশালী দেশগুলো একজোট হয়ে লড়াই করবে, তখন কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের থেকে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। আর সেটাই তো হচ্ছে । যুক্তরাষ্ট্র কোথাও গিয়ে যখন দম্ভ করে কিংবা বড়াই করে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করছে, তখন সেই আধিপত্যবাদ মানসিকতা মেনে নিতে চাইছে না বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো। ইতিমধ্যেই চীন রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার সহ বহু রাষ্ট্র একজোট হতে শুরু করে দিয়েছে। প্রশ্নটা হল, এই জোট শক্তির কাছে যুক্তরাষ্ট্র পেরে উঠবে তো? আজকের বলা বাইডেনের কথাগুলো হয়তো থেকে যাবে। কিন্তু আজ যুক্তরাষ্ট্র যে জায়গায় রয়েছে, সেই জায়গাটা ধরে রাখতে গেলে কয়েক দশক পর দেশটাকে রীতিমত লড়াই করতে হবে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।

     

    * ঘুরেফিরে হামাসকে দোষারোপ, পাল্টি খেলেন ট্রাম্প!

    দেখুন, আগামী নভেম্বর মাসটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভীষণ ভাইটাল। ওই মাসেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের প্রচারে সুর চড়াচ্ছেন। সেখানে বিন্দুমাত্র খামতি রাখছে না। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যখন গোটা বিশ্বের নানান প্রসঙ্গে নাক গলায়, তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সেই প্রসঙ্গগুলো উঠে আসবে এটাই স্বাভাবিক। আর সেটা উঠছেও। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কি বলুন তো? দেশটার জনমত সমীক্ষা গুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাইডেনের তুলনায় নাকি একটু এগিয়েই রয়েছেন ট্রাম্প। যদিও এটা চূড়ান্ত ফলাফল নয়। কিন্তু বিষয়টা বেশ ভাবাচ্ছে বাইডেনকে। অপরদিকে আবার কিছু কিছু সমীক্ষা ট্রাম্পের যুক্তি গুলোকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে না।

     

    এমনি থেকেই, গাজা ইসুকে কেন্দ্র করে বাইডেনের ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের একাংশের বিরোধিতা মুখে রয়েছেন তিনি। যখন বিতর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, হামাস আর ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ করতে তিনি কি করবেন? উত্তরে তখন বাইডেন কি বলেন জানেন? হামাস নাকি এই যুদ্ধের শেষ চায় না। প্রসঙ্গত বলে রাখি, কিছুদিন আগেই হামাস আর ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি করানোর জন্য বাইডেন আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন। যেখানে হামাস ইতিবাচক ভাবে কিছুটা সায় দিলেও, নেতানিয়াহু যুদ্ধ বিরতি নিয়ে খুব একটা এগিয়ে আসেননি। যদিও হামাস তাদের দাবিতে ছিল একদমই অনড়, এখনো আছে। বাইডেন কিন্তু ইসরায়েলের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ঘুরেফিরে সেই একই পয়েন্টে তিনি ফিরে গিয়েছেন। বলেছেন হামাসকে নির্মূল করতে হবে।

     

    গত এপ্রিলেই কিন্তু গাজা যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের মুখে ছিল অন্য সুর। তখন তিনি বলেছিলেন, এই যুদ্ধ দ্রুত থেমে যাক। সাধারণ মানুষ যেন আর হত্যার শিকার না হয়। কিন্তু এখন ট্রাম্প ভোট ব্যাংকের জন্য পুরোটাই পাল্টি খাচ্ছেন। বিতর্কে বলেছেন, ইসরায়েল চায় যুদ্ধ চলুক। আর সেই যুদ্ধ চালাতে আর কাজ সম্পন্ন করতে দেওয়া উচিত। অর্থাৎ গাজায় যে যুদ্ধ চলছে তাতে সহমত ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

     

    ট্রাম্প এর আগে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তিনি যদি প্রেসিডেন্ট থাকতেন তাহলে ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাস হামলাই চালাতে পারত না। শুধু তাই নয়, তিনি বাইডেনকে বোকা বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। বাইডেনের বিদেশ নাকি খুবই ভয়ংকর। তখন ট্রাম্প ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছিল, যদি এভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যায় তাহলে তারা আন্তর্জাতিক সমর্থন হারাতে পারে। আর সেটাই হচ্ছে।

     

    দেখুন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের সামনে এখন একগুচ্ছ চ্যালেঞ্জ। শুধু দেশটার অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো নয়, দেশটার বাইরে অর্থাৎ অন্যান্য দেশের সঙ্গে পররাষ্ট্র নীতিগুলো কোন ব্যক্তি সুচারুভাবে সামলাতে পারবেন, তার দিকে ঝুঁকবে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ। আপাতত সেই ট্রেন্ডটাই দেখা যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প কিন্তু সেই জায়গাটা ধরে ফেলেছেন। তিনি ইতিমধ্যেই বিতর্কে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি যদি নির্বাচনে যেতেন, তাহলে ইউক্রেনের যুদ্ধ থামাবেন। যদিও নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প এমন ধরনের কথা বলে থাকেন। কিন্তু তিনি কীভাবে যুদ্ধ থামাবেন, তা কিন্তু স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। আপাতত নির্বাচনের ফলাফলই বলবে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কাকে আগামীতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চান।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • United states-Iran: হুতিদের দিয়ে ইরানের মারাত্বক প্ল্যান ! পালাবে কোথায় যুক্তরাষ্ট্র ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    United states-Iran: ইরানের ইন্ধনে হুথিরা চাপে ফেলল যুক্তরাষ্ট্রকে! তাণ্ডব চালাচ্ছে লোহিত সাগরে। যুক্তরাষ্ট্রের হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে লোহিত সাগর। বিশ্ব বাণিজ্যে পড়তে চলেছে মারাত্মক প্রভাব। যে লোহিত সাগরে কিনা যুক্তরাষ্ট্র সবসময় নজরদারি চালায়, সেখান থেকেই পালিয়ে গেল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী! তাহলে কি এবার লোহিত সাগরে রাজ চালাবে হুথিরা? ইরান সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে এখন মারাত্মক পাওয়ার। যে কোনো মূল্যে লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনঠাসা করতে কষে ফেলেছে সব প্ল্যান। শুধু ইরান, নাকি হুথিকে পিছন থেকে সাহায্য করছে অন্য কোনও শক্তি? হুথিরা মুখে বলছে, গাজায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে লোহিত সাগরে। কিন্তু মনে মনে অন্য প্ল্যান। এই যে লোহিত সাগর থেকে মার্কিন রণতরীকে পিছু হটতে হল, এটা কি আদৌ ভালোভাবে মেনে নেবে যুক্তরাষ্ট্র? এর পাল্টা হুথিদের উপর বড় হামলা চলবে না তো? তখন কোথায় যাবে হুথি? শক্তির নেপথ্যে আসল মাস্টারমাইন্ড কিন্তু সেই ইরান।

     

    * যুক্তরাষ্ট্রের দানব রণতরী কি হার মানল হুথিদের কাছে?

    ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। বিগত কয়েক দশকে লোহিত সাগরের অন্যতম ত্রাস। সম্প্রতি নাকি ইয়েমেনিরা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আইজেনহাওয়ারের উপর হামলা করেছে। যদিও পেন্টাগন এই খবরকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ওদিকে ইয়েমেনিদের দাবি, তারা সত্যি সত্যি হামলা চালিয়েছে। পেন্টাগনের বিশেষজ্ঞরা ঘোষণা করেছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লোহিত সাগরে এই রণতরীর মিশন শেষ হয়েছে। তাই রণতরীটি লোহিত সাগর থেকে ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টাকে হালকা ভাবে নিচ্ছে না হুথি। তারা মনে করছে, তাদের হামলাতেই নাকি এমনটা কাণ্ড ঘটাল যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের ইজ্জত বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন যুক্তি দিয়ে বলছে অন্য কথা। দুই পক্ষ যে যাই বলুক, এ কথা ঠিক যে এখন বেশ উত্তপ্ত লোহিত সাগর। যেখানে বড় ভূমিকা রয়েছে হুথিদের। এদের কর্মকাণ্ড ভাবিয়ে তুলেছে ওয়াশিংটনকে। গাজা থেকে পরিচালিত হামাস আর ইসলামী জিহাদের অভিযানের কারণে নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই রণতরী লোহিত সাগরে ছুটে এসেছিল। কিন্তু এখন সেটি অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কথায়, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে লোহিত সাগরে আইজেনহাওয়ারে পিছু হটা দরকার। সম্ভবত এবার সেখানে যাবে ‘থিওডোর রুজভেল্ট’ রণতরী।

     

    কিন্তু প্রশ্নটা হল, এই যে আইজেনহওয়ার ফিরে গেল, কেন এটাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? কেনই বা বারংবার হাইলাইটেড করা হচ্ছে বিষয়টাকে? হুথিদের ক্ষমতা কতটা বেড়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র লোহিত সাগরে কতটা দুর্বল হয়ে পড়ছে, সেটাই কি শুধুমাত্র বোঝানোর জন্য? আসলে কি বলুন তো, এই রণতরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দশটি বড় রণতরীর অন্যতম। বলা হয়ে থাকে, এটি নাকি মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম একটা প্রধান পেশী শক্তি। সবচেয়ে শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থা আর নেভিগেশন সহায়ক যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত। এই রণতরী সাবমেরিনের সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর পাশাপাশি গতির উপর নজর রাখতে পারে। আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা স্পেরো ক্ষেপণাস্ত্রের নৌ ও স্থল সংস্করণের অধিকারী। গতবছরের অক্টোবরে হামাসের হামলায় যখন ইসরায়েল একটু কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল, তখনই এই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছিল আইজেনহাওয়ারকে। অভিযোগ উঠেছিল, ইসরায়েলের আশেপাশে একটা ভাসমান বিমান ঘাঁটি হিসেবে নাকি কাজ করবে এই রণতরীটি। দরকার পড়লে যুদ্ধবিমান গুলো খুব অল্প সময়ে এখান থেকে অভিযান চালাতে পারে। কিন্তু হুথিদের একের পর আর এক হামলার মুখে লোহিত সাগর ছেড়ে চলে যাচ্ছে সেই জাহাজ, দাবি ইয়েমেনিদের। যা মোটেই প্রত্যাশিত ছিল না। কিন্তু এটা কি মেনে নেওয়া যায়, যে হুথিদের মতো একটা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার মুখে নাকি মার্কিন রণতরী? আসলে এখানেও এমন কিছু ফ্যাক্ট রয়েছে, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্র কিছু করতে পারছে না।

     

    * লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের হাল বেহাল, হুথিরা হারাচ্ছে স্ট্র্যাটেজিতে

    লোহিত সাগরকে কোনদিনও কি যুক্তরাষ্ট্র হুথি মুক্ত করতে পারবে না? রয়েছে বড় সংশয়। আসলে, হুথির মতো একটা সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে কোথাও গিয়ে যেন স্ট্র্যাটেজিতে মার খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে গিয়ে হুথিরা মিসাইল, রাডার, হেলিকপ্টার, ছোট নৌকা কিংবা ড্রোনের সমন্বয়ে আক্রমণ পরিচালনা করছে। হুথিদের ব্যবহার্য ড্রোনের দাম বড় জোর ২০০০ ডলার, আর সেই ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে যখন প্রায় ২০ লক্ষ ডলার দামের মিসাইল ব্যবহার করতে হচ্ছে, তখন পোষাচ্ছে না। অনেক দিন আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে কয়েক ডজন দেশের সেনা নিয়ে গঠিত কম্বাইন্ড মেরিটাইম ফোর্সেস মধ্যপ্রাচ্যকে নজরদারির আওতায় রাখছে। যারা সফলভাবে সোমালিয়ার জলদস্যুর মতো হুমকিকে মোকাবিলা করছে। কিন্তু হুথিরা যেভাবে আক্রমণ করছে, বা বলা ভালো যে আক্রমণ কৌশল বেছে নিয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র শতভাগ সক্ষম হবে কিনা তা বলা মুশকিল। তাছাড়া হুথিদের মূল শক্তিই তো ইরান। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে অস্ত্রশস্ত্র আর্থিকভাবে নানান সুবিধা পেয়ে থাকে। প্রসঙ্গত আরেকটা কথা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আট বছর ধরে সৌদি আরব ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একেবারে হারাতে পারেনি। উল্টে সৌদি সরকারকে হুথিদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করতে হয়েছে। তার উপর বর্তমানে যেন হুথিদের কপাল কিছুটা ভালো যাচ্ছে বলতে হয়। এই অঞ্চলে থাকা বাহরাইনের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বহু ঘনিষ্ঠ মিত্র হুথিদের হামলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ানের যোগ দেয়নি। এমনকি মিশর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই হুথি বিরোধী জোটে যোগ দিতে রাজি হয়নি। কারণ একটাই। যদি এই জোটে যুক্ত হয়, তখন আরব দেশগুলো তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষ সমর্থনের অভিযোগ আনতে পারে। আর তাই, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে হুথিদের হুমকি সামাল দেওয়া যেন আরো কঠিন হয়ে পড়ছে।

     

    লোহিত সাগরের অশান্তির জেরেই কিন্তু গোটা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, চলতি বছরের জানুয়ারির গোড়াতেই, এশিয়া থেকে উত্তর ইউরোপে ৪০ ফুটের কন্টেইনার পাঠানোর খরচ বেড়ে পৌঁছেছে ৪ হাজার ডলারে। আর জানুয়ারির শুরু থেকে মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত, ২৪ ফুটের একটা শিপিং কন্টেইনার ভারত থেকে ইউরোপ আর মার্কিন পূর্ব উপকূলে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যয়ের পরিমাণ ৬০০ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে দেড় হাজার ডলার। সত্যি কথা বলতে, যেন খরচ বাড়ছে অস্বাভাবিক ভাবে। যার জন্য কিছুটা দায়ী হুথিরা।

     

    * লাইমলাইটে আসতে চাইছে হুথি, ইরানের সাথে গভীর সখ্যতা

    ইরান সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রথম থেকেই দাবি, গাজায় চলমান ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না করলে তাদের হামলা চলতেই থাকবে। আর সেটা কাজেও করে দেখাচ্ছে। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংশ্লিষ্ট জাহাজ গুলোর উপর লোহিত সাগর অঞ্চলে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এই ইয়েমেনের হুথিরা। আসলে তারা খুব ভালোভাবে বুঝে গিয়েছে, এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট বিশ্বের শিপিং ট্রাফিকের প্রায় ১৫ শতাংশের জন্য দায়ী। তাদের হামলার জেরেই কিন্তু ইতিমধ্যেই বহু শিপিং কোম্পানি তাদের জাহাজগুলিকে আফ্রিকার দক্ষিণ দিয়ে ঘুরপথে চলাচল করতে বাধ্য করছে। সময়ও লাগছে প্রচুর, দূরত্ব বাড়ছে। পণ্য নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এই সমস্ত ক্ষতির দায় পরোক্ষভাবে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের উপর। তাই দেশটা আপ্রাণ চাইছে হুথিকে দমন করতে। কিন্তু পারছে কি? ইমেজ খারাপ হচ্ছে ইসরায়েলেরও। আর গোটা বিশ্ব জানে হুথি একটা সশস্ত্র গোষ্ঠী। তাই লোহিত সাগরের সংকটে পুরো দায়ভারটা গিয়ে যেন পড়ছে পশ্চিমা দুনিয়ার উপর।

     

    ইরান সমর্থিত হুথিরা ২০১৪ সালে ক্ষমতা দখলের পর ইয়েমেনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। যার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর সানা, দেশটার উত্তর অংশ আর লোহিত সাগরের উপকূল অঞ্চল। আর এই অঞ্চলটা ইউরোপের সাথে এশিয়ার যোগাযোগের সংক্ষিপ্ততম পথ, সেই পথকেই নিজেদের অস্ত্রের আওতায় নিয়ে নিচ্ছে হুথি। বহু সমালোচক সাম্প্রতিক সময় বলছে, হুথিরা যে জাহাজে হামলা করছে, তার মধ্যে বহু জাহাজের সাথে কিন্তু ইসরায়েলের কোনও সম্পর্ক নেই। আসলে এরা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে কাজে লাগিয়ে গোটা বিশ্বের আলাদা করে গোটা বিশ্বের নজরে আসতে চাইছে। কোথাও গিয়ে দেখাতে চাইছে তারা একটা বড় সশস্ত্র গোষ্ঠী। হয়তো বা পরিকল্পনা করে রেখেছে, ইয়েমেনের ক্ষমতায় আসার। নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করার জন্য বেছে নিয়েছে লোহিত সাগরকে। কারণ এখানেই তারা টক্কর দিতে পারবে বিশ্বের তাবড় তাবড় পরাশক্তি গুলোর সাথে। স্বাভাবিকভাবেই তারা তখন চলে আসবে লাইমলাইটে। আর সেটাই কিন্তু হচ্ছে। হুথিরা যেন ইরানের কাছে গিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে, তারা ইরানের কার্যকরী মিত্র। হুথিদের সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক একদমই ভালো নয়। আবার ইরানের সাথেও সৌদির সম্পর্ক ভালো নয়। তাই হুথিরা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের জোর বাড়াতে আরো বেশি করে ঘনিষ্ঠ হতে চাইছে ইরানের সাথে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Usa-Russia: যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া কী যুদ্ধেই জড়িয়ে পড়বে ! কী প্রশ্ন তুলছে ক্রিমিয়া সংকট ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Usa-Russia: যুক্তরাষ্ট্রকে সবক শেখাবে রাশিয়া, ক্রিমিয়ায় হামলা যুদ্ধ বাঁধালো বলে। যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া ফল ভোগ করতে হবে। হুঁশিয়ারি রাশিয়ার। ক্রিমিয়ায় হামলা চালালো ইউক্রেন, আর রাশিয়া হুমকি দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে! আর আড়াল থেকে নয় কিংবা প্রক্সি যুদ্ধও নয়। আশঙ্কাই কি তবে সত্যি হবে? যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়া এবার সম্মুখ সমরে নামবে না তো? যদি বিশ্বের এই দুই শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে, তাহলে সেটা বিশ্বযুদ্ধের থেকে কম হবে না, তা বলাই বাহুল্য। আর সেটা কাম্য নয়। বহুদিন ধরেই এই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে বিশ্বের বহু দেশ। এই দুই দেশের মিত্র রাষ্ট্রগুলোও জানে, রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র এর সরাসরি যুদ্ধ বাঁধলে, তার পরিণামটা সত্যি ভয়ঙ্কর হবে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? যুক্তরাষ্ট্রও কি রাশিয়ার হুমকির মুখে চুপ থাকবে? পাল্টাপাল্টি হুমকির জেরে পুঞ্জিভূত ক্ষোভ যে কোন মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। তখন কী হবে?

     

    আজ যে রাশিয়া বলছে যুক্তরাষ্ট্রকে পরিনাম ভোগ করতে হবে, সেই পরিণাম শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং রাশিয়া সহ গোটা বিশ্বকে সেই দাম দিতে হবে। আর এই যে ক্রিমিয়ায় হামলা নিয়ে এত কথা, এই অঞ্চল নিয়ে কিন্তু কম জটিলতা নেই। ক্রিমিয়ার উপর নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়ার। ক্রিমিয়াকে রাশিয়া ছিনিয়ে নিয়েছিল। ক্রিমিয়া হবে কার? এই নিয়ে একটা সময় গোটা বিশ্ব ছিল উত্তপ্ত। রীতিমত যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল পরাশক্তিগুলো। আর তাই ক্রিমিয়ায় ঘা লাগা মানে, রাশিয়ার আতেঁ ঘা লাগা। সেটা খুব ভালোভাবেই জানে ওয়াশিংটন। কিন্তু হঠাৎ ইউক্রেন ক্রিমিয়ার হামলা করতে গেল কেন? পুরোটাই কি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ছক? কারণ যে ক্রিমিয়া একসময় রাশিয়া যুদ্ধ করে জিতে নিয়েছিল, সেই ক্রিমিয়া যদি রাশিয়ার হাতছাড়া হয়ে যায়, কিংবা সেই ক্রিমিয়ায় যদি রাশিয়ার ভিত দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে গোটা বিশ্বের কাছে রাশিয়া দুর্বল প্রতিপন্ন হবে।। আর তাই কি যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়াকে কোনঠাসা করার অস্ত্র হিসেবে বেছে নিল ক্রিমিয়াকে ? প্রশ্ন তো উঠছে, আর উঠবেও।

     

    •যুক্তরাষ্ট্র বনাম রাশিয়া, যুদ্ধের মূল অস্ত্র এবার ক্রিমিয়া

    বিশ্বে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা লড়াইয়ে আগেই নেমেছে এই দুই শক্তিধর রাষ্ট্র। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে তলানিতে ঠেকেছে সম্পর্ক। রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাভাবিক কথোপকথন এখন লক্ষ্য করাই যায় না। বেশিরভাগ সময়ই একে অপরের সঙ্গে হুমকির সুরে কথা বলে। ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতেই এবার আরো ক্ষেপল রাশিয়া। হামলায় চারজন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় রাশিয়া সরাসরি দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্রকে। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এর পরিণাম ভোগ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। শুধু তাই নয়, মস্কোয় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে রাশিয়া। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া বনাম যুক্তরাষ্ট্র। যার ফলে এই দুই শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ যে এখনই থামার নয় তা স্বাভাবিক। ইউক্রেনকে সাপোর্ট করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আগাগোড়া দুষে আসছে রাশিয়া। এবার ক্রিমিয়ার সবথেকে বড় শহর সেভাস্তোপলেতে হামলা চালাতেই রাশিয়া বুঝতে পারছে, এভাবে চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র সত্যি সত্যি একদিন ক্রিমিয়া দখল করার চেষ্টা করবে। তাই আগে থেকেই সতর্ক হয়ে গিয়েছে দেশটা। এই হামলাকে বর্বর বলে বর্ণনা করেছে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন রাশিয়ার শিশুদের হত্যা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণের ফলে প্রাণ দিতে হচ্ছে রাশিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের। যার পরিণাম অবশ্যই ভোগ করতে হবে ওয়াশিংটনকে। কীভাবে তার জবাব দেওয়া হবে, তা সময়ই বলে দেবে। এতদিন যেটা আড়ালে চলছিল, এবার রাশিয়া সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মুখের ওপর চরম হুমকিটা দিয়েই দিল।

     

    ২০১৪ সালে এক ইউক্রেনের এই উপদ্বীপ দখল করে নিয়েছিল রাশিয়া। রাশিয়ার তথ্যমতে, ক্রিমিয়ায় হামলার ক্ষেত্রে ইউক্রেন ব্যবহার করেছে অ্যাটাকমস নামক এক ক্ষেপণাস্ত্র। যেখানে ছিল গুচ্ছবোমা। রাশিয়ার দাবি, কিয়েভকে এই ভয়ঙ্কর অস্ত্র দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনকে পশ্চিমা দেশগুলো যে দূরপাল্লার অস্ত্রগুলো দিচ্ছে, তা নিয়ে বারংবার সমালোচনা করেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলে দিয়েছেন, যদি রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেনকে কোন দূরপাল্লার অস্ত্র দেয়া হয়, তাহলে পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলা চালাতে অন্যান্য দেশকে রাশিয়া অস্ত্র দেবে। আসলে কি বলুন তো, এই সব কিছুর মূলে রয়েছে এখন ক্রিমিয়া। যাকে টার্গেট করছে যুক্তরাষ্ট্র আর ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মতে, ক্রিমিয়া মানেই তো ইউক্রেন। আর তাই ওই উপদ্বীপটিকে রাশিয়াকে অবশ্যই ছেড়ে যেতে হবে। সেখান থেকে সরিয়ে নিতে হবে সেনাবাহিনী আর সামরিক সরঞ্জাম। আর ক্রিমিয়ার সামরিক স্থাপনায় হামলা করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে ইউক্রেনের।

     

    প্রশ্ন তো এখানেই। তাহলে কি রাশিয়াকে এবার হারাতে যুক্তরাষ্ট্র আর ইউক্রেনের জোট প্রাণপণ চাইছে ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার থেকে ছিনিয়ে নিতে? যে ক্রিমিয়া অধিকার করে রাশিয়া গোটা বিশ্বের কাছে সুনাম আবার কখনো সমালোচনা কুড়িয়েছিল, সেই ক্রিমিয়া যদি রাশিয়ার হাতছাড়া হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু সেটা রাশিয়ার জন্য নেতিবাচকই হবে।

     

    * ক্রিমিয়া আসলে কার? রাশিয়া নাকি ইউক্রেনের?

    দেখুন ইউক্রেনের অখণ্ডতার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়ার মধ্যে কিন্তু তর্কবিতর্কের শেষ নেই। যার শুরুটাই হয়েছিল একে অপরকে হুমকি দিয়ে। যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ওবামা ছিলেন, তখনও তিনি স্পষ্ট ভাষায়, কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন। আশার আলো দেখা দিয়েছিল, হয়ত ক্রিমিয়া আর ইউক্রেন নিয়ে যে দ্বন্দ্ব চলছে তার সমাধান হবে।। কিন্তু সেই সময় থেকে রাশিয়ার যে অ্যাকশন, যে ভূমিকা, তা শুধু ওই অঞ্চলেই নয়, বিশ্বশক্তি হিসেবে জানান দিচ্ছিল রাশিয়া মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, বিশ্বে একক পরাশক্তি হিসেবে জন্ম হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের ফলে অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছিল রাশিয়ার প্রতিপত্তি। কিন্তু ক্রিমিয়াতে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রাশিয়া নিজেকে তার আগের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।

     

    যখন পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়াকে ইউক্রেন আর ক্রিমিয়ার মধ্যেকার ভাঙনের জন্য দোষারোপ করছে, তখন থেকেই রাশিয়া তক্কে তক্কে ছিল ক্রিমিয়াকে দখল করার জন্য। রাশিয়া খুব ভালোভাবেই জানত, ইউক্রেন আর ক্রিমিয়াতে যদি পশ্চিমা বিশ্বের একটা কর্তৃত্ব সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়, তখন কিন্তু রাশিয়ার যে ক্ষমতা সেটা অনেকটা কমে যাবে। আর তাই হয়তো বছরের পর বছর ধরে ক্রিমিয়ার টানাপোড়েন অনেকটা চেনা ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কতবার যে এই অঞ্চলের হাত বদল হয়েছে, তার কোনও ইয়ত্তা নেই। তার উপর পুনরায় ২০১৪ সালে রাশিয়া কর্তৃক ক্রিমিয়া দখলের ঘটনাটা গোটা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তৈরি করেছিল। যা ছিল ১৯৪৫ সালের পর মস্কোর প্রথম সরাসরি রাজ্য বিস্তার। স্বভাবতই, এটি ইউরোপ আর উত্তর আমেরিকায় তৈরি করে একটা নতুন রুশ ভীতি। পশ্চিমা বিশ্ব কিন্তু এটা মেনে নিতে পারেনি, বরং রাশিয়ার উপর চাপায় কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। যা এখনো পর্যন্ত জারি রয়েছে।

     

    ইউক্রেন আর বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র এখনো পর্যন্ত ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই দাবি করে। অপরদিকে রাশিয়া ক্রিমিয়াকে ‘ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্র’ আর ‘সেভাস্তোপোল’ কে কেন্দ্র শাসিত শহর হিসেবে নিজের প্রশাসনিক কাঠামোতে যোগ করে দেয়। আর সেই কেন্দ্রশাসিত একটা শহরেই এবার হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। স্বাভাবিকভাবে এই বিষয়টা নিয়ে যে বিস্তর জল ঘোলা হবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ রুশদের মতে ১৯৫৪ সালে সোভিয়েত সরকার অবৈধভাবে ক্রিমিয়াকে রাশিয়া থেকে ইউক্রেনের কাছে নাকি হস্তান্তর করেছিল। যার আগে পর্যন্ত ক্রিমিয়া ছিল রাশিয়ার অন্তর্গত। শুধু তাই নয়, ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক এবং জাতিগত দিক থেকে ক্রিমিয়া রুশভূমি।

     

    দেখুন, যদি এখন বলতে শুরু করি এই ক্রিমিয়া কার, রাশিয়ার নাকি ইউক্রেনের? কেনই বা হস্তান্তর হল, কেনই বা এই অঞ্চল নিয়ে এত টানাপোড়েন, তাহলে কিন্তু সেখানে বড় লম্বা কাহিনী রয়েছে। তবে হ্যাঁ, এই ক্রিমিয়া এখন হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়ার দ্বন্দ্বের নতুন ভূমি। রাশিয়ার হুমকির পাল্টা হিসেবে এবার যুক্তরাষ্ট্র কি বলে, কিংবা ঠিক কি অ্যাকশন নেয় এবার সেটাই দেখার।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • US-Israel: ইজরায়েলকে সমর্থন করেই বিপদে যুক্তরাষ্ট্র ! লেবানন হবে দ্বিতীয় গাজা ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    US-Israel: মহাসংকটে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলকে আশ্বাস দিতেই ফুঁসছে ইরান। মহাসংকটে যুক্তরাষ্ট্র। কাকে বাছবে? কোন দিকে যাবে? হিজবুল্লাহ নাকি নেতানিয়াহ? নাকি থাকবে নিরপেক্ষ অবস্থানে? যুক্তরাষ্ট্রের এখন শাঁখের করাতে অবস্থা। আবারো বড় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে চলেছে মধ্যপ্রাচ্য। ওদিকে ফুঁসছে ইরান। হিজবুল্লাহকে জেতাতে মরিয়া দেশটা। ইসরায়েল আর লেবাননের সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা। গদি নিয়ে টানাটানি হতে পারে। সরকার পড়ে যেতে পারে ইসরায়েলের। আর তার আঁচ পড়বে যুক্তরাষ্ট্রেও! দ্বিতীয় গাজা হয়ে যাবে না তো লেবানন? হামাস ইসরায়েলের পর এবার লেবানন-ইসরায়েল। ইরান যে এত জোর গলায় বলছে, ইসরায়েল নাকি হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে চূড়ান্ত পরাজিত হবে, আদৌ কি ইরানের কথা মিলবে? নাকি শেষে হাসি হাসবে ইসরায়েল? যুদ্ধের ময়দানে কোমর বেঁধে নামছে হিজবুল্লাহ।

     

    ইসরায়েলকে সাপোর্ট করে চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র, শক্তি বাড়াচ্ছে হিজবুল্লাহ

    হিজবুল্লাহ আর ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি আক্রমণে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। সেই জায়গাতেই উঠছে বড় প্রশ্ন। যদি সর্বাত্মক যুদ্ধ বাঁধে, তখন কী করবে যুক্তরাষ্ট্র? জো বাইডেন কিন্তু একদমই যুদ্ধ চাইছেন না। ছোটাছুটি করছেন যাতে যুদ্ধটা আটকানো যায়। কিন্তু পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে যদি ইসরায়েল কিংবা হিজবুল্লাহ কারোর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে যুদ্ধ বাঁধবেই বাঁধবে। ইতিমধ্যেই নতুন করে আরেকটি ফ্রন্টে যুদ্ধ না বাঁধাতে ইসরায়েলকে বারংবার সতর্ক করছেন জাতিসংঘের মহাসচিব সহ বিশ্ব নেতারা। কিন্তু আদৌ শেষ রক্ষা হবে কিনা, তা বলা মুশকিল। মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট চাপে রয়েছে। সামনেই প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন। তাই পদক্ষেপ নিচ্ছে একটু ভেবে ভেবে। কিন্তু সর্বাত্মক যুদ্ধ বাঁধলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকেই সমর্থন করবে। যদিও এটা জানা কথা। ইতিমধ্যেই তার আভাস দিয়ে দিল। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র হয়ত বিতর্ক থেকে বাঁচতে কিংবা বাইডেন নিজের গদি বাঁচাতে এই যুদ্ধ এড়িয়ে যাবেন। নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকবেন। তবে সেটা হওয়া চাপের।

     

    ওয়াশিংটনে সফরকারী ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা। আর যে সময় ইসরায়েল এত বড় আশ্বাস পেল, ঠিক তখনই কিন্তু লেবানন আর ইসরায়েল সীমান্তে দুই বাহিনীর সংঘাত আরো বেড়েছে। এই সময় নেতানিয়াহুর দরকার প্রচুর অস্ত্র। তাই অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকাশ্যে দোষারোপ করতে শুরু করে দিয়েছেন। এই নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের মধ্যে চলছে মন কষাকষি। যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু এখনো সেই বোমার চালানটি ছাড়া অন্য অস্ত্র ইসরায়েলকে সরবরাহ করছে। শোনা যাচ্ছে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ইসরায়েলের উত্তর সীমান্ত পরিস্থিতি, ইরান, গাজায় যুদ্ধ বিরতি আর জিম্মি মুক্তি সহ বহু বিষয়। আর সেই প্রসঙ্গেই মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের বিষয়ে তারা ইসরায়েলকে নিরাপত্তা সহায়তা দেবে। তবে হ্যাঁ, এক্ষেত্রে নিজেদের কোনও সেনা মোতায়ন করবে না। যুক্তরাষ্ট্র যে ইসরায়েলের হাত ছাড়বে না তা প্রথম থেকেই বলে এসেছে, আর সেটাই করছে। যদিও বাইডেন প্রশাসন বেশ কয়েক দফায় বলেছে, ইসরায়েলের উত্তরে নতুন করে কোনও যুদ্ধ চায় না। তারা এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে। কিন্তু যুদ্ধ বাঁধলে ইসরায়েলকে যুদ্ধের মাঠে একা ফেলে দেবে না।

     

    এই যুদ্ধে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের যেন শেষ নেই। বহু প্রতিবেদন বলছে, ইসরায়েল আর হিজবুল্লাহর যুদ্ধে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে আয়রন ডোম সহ ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুলো। বলা হচ্ছে, তেল আবিবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যত ক্ষেপণাস্ত্র আছে, হিজবুল্লাহর হাতে তার চেয়েও আছে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র আর রকেট। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানো মানে, বড় অস্ত্র ভান্ডার দিয়ে সাহায্য করা। তার উপর তো রয়েছে বিতর্ক। সেই গাজা যুদ্ধ থেকেই ইসরায়েলকে সাপোর্ট করার জন্য গোটা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রকে কম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি। লেবাননের সংঘাত ঘিরেও সেই ঘটনার আবার রিপিট হতে পারে। তাই একটু ভাবনা চিন্তা করছে ওয়াশিংটন।

     

    লেবাননের যুদ্ধে নেতানিয়াহুর লাভ-ক্ষতি

    লেবাননের সাথে যুদ্ধে গেলে ক্ষতি হবে নেতানিয়াহুর। এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ এখনো পর্যন্ত গাজা যুদ্ধ চলমান রয়েছে। যেখানে যুদ্ধ একেবারের জন্য বন্ধ হবে, এমন চুক্তিতে তিনি যেতে নারাজ। তবে হ্যাঁ আংশিক যুদ্ধ বিরতিতে প্রস্তুত। যেখানে সবাইকে না হলেও অন্তত কয়েকজন ইসরায়েলের জিম্মিকে গাজা থেকে ফিরিয়ে আনা যাবে। নেতানিয়াহু বারংবার হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা আর গাজায় হামাসের রাজত্ব নির্মূল করা। অর্থাৎ তিনি যা চাইছেন সেখানে কখনোই হামাসের স্বার্থ রক্ষা হবে না। বরং ইসরায়েলের একতরফা স্বার্থরক্ষা হবে। যার জেরে এখনো মাটি কামড়ে গাজায় পড়ে রয়েছে হামাস। দেখতে দেখতে প্রায় আট মাসের বেশি হয়ে গেল। জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে হাজার হাজার ইসরায়েলি নাগরিক সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন। মূল দাবি, যে কোন মূল্যে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে হবে। মহাফাঁপরে পড়েছেন নেতানিয়াহু। না নিজের লক্ষ্য থেকে পিছু হটতে পারছেন, না জিম্মিদের মুক্ত করতে পারছেন।

     

    তার উপর দোরগোড়ায় নির্বাচন। যদি হিজবুল্লাহর সঙ্গেও যুদ্ধ বাঁধে, তাহলে সেটা টানতে পারবেন তো? গোটা মধ্যপ্রাচ্য এক হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গেলে রুখে দাঁড়াতে পারবেন তো নেতানিয়াহু? প্রশ্নটা তো এখানেই। শুধু মুখে বলা, আর কাজে করে দেখানোর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। একটা যুদ্ধ মানে বুঝতে পারছেন? প্রচুর লোকবল, অর্থ আর অস্ত্রের প্রয়োজন। এমত পরিস্থিতিতে নতুন করে আর একটা যুদ্ধ টানা মুখের কথা নয়। যদিও হাল ছাড়তে নারাজ নেতানিয়াহু সরকার। আত্মরক্ষার খাতিরে উত্তর সীমান্তে বেশি করে সেনা মোতায়েন করবে। শুধু তাই নয়, উদ্বাস্তুদের ফেরাতেই নাকি এই পরিকল্পনা। এই যুদ্ধ ইসরায়েলের কাছে হতে পারে একটা বড় ধাক্কা। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ যেমন বাড়বে, তেমনই গোটা বিশ্বের কাছে ইসরায়েলের ইমেজ খারাপ হবে। দেখুন, বর্তমান দিনে দাঁড়িয়ে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ কিন্তু যুদ্ধ বিরোধী। শক্তির আধিপত্যের লড়াইয়ে অনেকেই শামিল হতে চায় না। তাই যুদ্ধ বাঁধলে, ইসরায়েল আর হিজবুল্লাহকে যুদ্ধবাজ বলে দেগে দিতে পারে কূটনৈতিক মহল।

     

    লেবানন হবে দ্বিতীয় গাজা! হিজবুল্লাহকে উস্কাচ্ছে ইরান

    যখন দুই পক্ষই যুদ্ধ করতে প্রস্তুত, তখন মহাচিন্তায় জাতিসংঘ। গোটা বিশ্ব দেখেছে গাজায় কি হচ্ছে। লেবানন যদি আরেকটি গাজা হয়, তাহলে বিশ্ব মেনে নিতে পারবে না বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। তাঁর মতে, একটা বেপরোয়া পদক্ষেপ, একটি ভুল বোঝাবুঝি মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। যেটি সীমান্ত ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে বহু দূর পর্যন্ত। খোলাখুলি বললে, তা কল্পনারও বাইরে। মধ্যপ্রাচ্যের বাসিন্দা এবং পুরো পৃথিবীর মানুষ লেবাননের আরেকটি গাজায় পরিণত হওয়ার ধকল নিতে পারবে না। এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বকে জোর গলায় স্পষ্ট করে বলতে হবে, দ্রুত উত্তেজনা কমাতে হবে। এটা খুব জরুরী। যেখানে সামরিকভাবে সমাধানের কিচ্ছু নেই। ২০০৬ সালেও কিন্তু ইসরায়েল আর হিজবুল্লাহর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখন উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টির হুমকির মাধ্যমে হয়তো পরস্পরকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে, নাকি সত্যি অর্থেই তারা পুরোদমে যুদ্ধে জড়াবে, তা এখনো কিন্তু নিশ্চিত নয়। গাজার ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহর তুলনা করাটা ঠিক হবে না। কারণ হামাসের তুলনায় হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা অনেক বেশি প্রশিক্ষিত এবং সুসংগঠিত। তাদের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্রের সংখ্যাটাও অনেকটা বেশি। তাই এই যুদ্ধ হলে ইসরায়েলকে কড়া মূল্য চোকাতে হতে পারে।

     

    ওদিকে আবার হিজবুল্লাহকে উস্কাচ্ছে ইরান। জাতিসংঘে ইরান মিশন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলে দিয়েছে, নিজেকে বাঁচাতে ইসরায়েল সরকারের যে কোন হঠকারী সিদ্ধান্তও মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন যুদ্ধে নিমজ্জিত করতে পারে। ধ্বংস হতে পারে লেবাননের অবকাঠামো। শুধু তাই নয়, ১৯৪৮ সালের অধিকৃত অঞ্চলগুলোর অবকাঠামো ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। ইরানের মতে, নিঃসন্দেহে এই যুদ্ধে একটি পক্ষের চূড়ান্ত পরাজয় হবে। আর তা হল ইসরায়েল। কারণ হিজবুল্লাহর নিজেকে আর লেবাননকে রক্ষা করার ক্ষমতা রয়েছে। সম্ভবত এবার ইসরায়েলের আত্মবিনাশের সময় এসেছে। লেবাননকে হুমকি দেওয়া মানে ইরানকেও ঘুরপথে হুমকি দেওয়া। তাই হিজবুল্লাহর দিকে বিন্দুমাত্র আঁচ এলে ফুঁসে উঠছে ইরানও।

     

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • North Korea-Russia: ভয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র ! কিম-পুতিনের যৌথ প্রতিশোধ, সামনে বড় সংঘাত

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    North Korea-Russia: কিমের দোরগোড়ায় মার্কিন রণতরী, হুঙ্কার ছাড়লেন পুতিন! ফল ভালো হবে না। উত্তর কোরিয়া অর্থাৎ কিমের দেশের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল যুক্তরাষ্ট্রের মারাত্মক যুদ্ধ জাহাজ। উস্কানি নাকি সতর্কতা? কিম পুতিন হাত মেলাতেই কি, ভয় পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ? যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়ে জানান দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রও কম শক্তিশালী নয়। দক্ষিণ কোরিয়াকে পুতিনের কড়া হুঁশিয়ারি। কিমের বিরুদ্ধে চলবে সামরিক মহড়া। মেনে নেবে তো ? আবারো পালটা হুঁশিয়ারির আশঙ্কা। কী করবেন এবার কিম? বেলুন পাঠাবে নাকি অন্য কিছু? দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্র আর জাপান মিলে আঁটছে নতুন ফন্দি। ক্ষমতা প্রদর্শনের লড়াইতে জিতবে কে? উত্তর কোরিয়া নাকি যুক্তরাষ্ট্র?

     

    •ক্ষমতার খেলায় মেতেছে যুক্তরাষ্ট্র, এবার অস্ত্র থিওডোর রুজভেল্ট

    প্রায় ২৪ বছর পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যখন উত্তর কোরিয়ায় গিয়েছিলেন, তখন কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র একদম চুপ ছিল। কয়েকবার সতর্কতা দিয়েছিল নামমাত্র। কিন্তু কোন স্টেপ নেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে তলে তলে অন্য কোনও ফন্দি আঁটছিল, এবার তা প্রকাশ্যে বেরিয়ে এল। এটা কে উস্কানি বলুন, আর সতর্কতা, যুক্তরাষ্ট্র এমনটা মাঝেমধ্যেই করে থাকে। যখন শত্রু দেশগুলোর পদক্ষেপ পছন্দ হয় না, তখনই সেই শত্রু দেশের কাছে গিয়ে নয় সামরিক মহড়া চালায়, নয় যুদ্ধবিমান দিয়ে টহলদারি করে।বিশেষ করে যখনই নিজেকে একটু কোণঠাসা মনে করে তখনই কিন্তু এমন কর্মকাণ্ড করে থাকে। ঠিক এক বছর আগে, উত্তর কোরিয়ার আকাশে গুপ্তচর বিমান পাঠিয়ে আকাশ সীমা নাকি লঙ্ঘন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই অভিযোগে সরব হয়েছিলেন কিম জং উন। শুধু তাই নয়, অভিযোগ ছিল কোরীয় উপদ্বীপের কাছে আণবিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকা ডুবোজাহাজ মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। যদিও এমত অবস্থায় যে কিম কিছুই করেন না, বা চুপ করে থাকেন এমনটা নয়। এর আগে বহুবার হয়েছে উত্তর কোরিয়ার আকাশে প্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বিমান গুলি করে ধ্বংস করেছে। বুঝতে পারছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কটা ঠিক কতটা তিক্ততার? অনেকটা সাপে নেউলের মতো।

     

    এবার দুই কোরিয়ার উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছে গেল মার্কিন ভয়ঙ্কর রণতরী। আণবিক শক্তি সম্পন্ন এই রণতরীটি অংশ নেবে ত্রিদেশীয় সামরিক মহড়ায়। বিষয়টাকে একদমই ভালো চোখে দেখছে না কূটনৈতিক মহল। মনে করছে, এতে আরো উত্তেজনার পারদ চড়তে পারে। দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা তুমুল। মার্কিন নৌবাহিনীর এই রণতরী থিওডোর রুজভেল্ট কিন্তু কম শক্তিশালী নয়। তাহলে কি, যুক্তরাষ্ট্র কিমকে বোঝাতে চাইছে, তাদের ক্ষমতা ঠিক কতটা? এটা ক্ষমতা প্রদর্শন এর একটা খেলা নয় তো? কারণ যুক্তরাষ্ট্র আর দক্ষিণ কোরিয়া জোটের শক্তিশালী যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে আরও জোরদার হতে চলেছে, তা কিন্তু বুঝিয়ে দিল এই রণতরী। উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির জবাব দিতে এই দুই দেশ যে বদ্ধপরিকর, লক্ষণ কিন্তু তাই বলছে। আপাতত পরিকল্পনা অনুযায়ী,.থিওডোর রুজভেল্ট পৌঁছে গিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান নৌঘাঁটিতে। এটি অংশ নেবে চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান আর যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ মহড়ায়। বলে রাখি, থিওডোর রুজভেল্টের ক্ষমতা মারাত্মক। উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় পারস্য উপসাগরে একে মোতায়েন করা হয়েছিল। অত্যাধুনিক মার্কিন এই বিমানবাহী রণতরী একটা সময় ইরাকি বাহিনীর জন্য হয়ে উঠেছিল দুঃস্বপ্ন। আর সেই রণতরীকে এবার দেখার দেখা যেতে চলেছে ভিন্ন ভূমিকায়। নৌ মহড়ার নাম দেয়া হয়েছে ‘ফ্রিডম এজ’। তিন দেশেরই নৌ বাহিনী আর সামুদ্রিক বাহিনী অ্যান্টি সাবমেরিন ওয়্যারফেয়ার আর এয়ার ডিফেন্স মহড়া চালাবে। যেখানে কমান্ড শিপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এই থিওডোর রুজভেল্ট। যদিও এই তিন দেশের যৌথ মহড়া একেবারেই নতুন নয়। গত বছরেও উত্তর কোরিয়ার হুমকির মুখে এই ধরনের মহড়া চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র জাপান আর দক্ষিণ কোরিয়া। এর আগে গত বছরের আগস্টে এক সম্মেলনে এই তিন দেশের নেতারা ঠিক করেছিলেন, প্রতি বছর তারা সামরিক প্রশিক্ষণ মহড়ার আয়োজন করবে।

     

    •দাঁতভাঙা জবাব পুতিনের, দক্ষিণ কোরিয়াকে কড়া হুঁশিয়ারি

    খটকাটা অন্য জায়গায়। কিছুদিন আগে পুতিন যখন উত্তর কোরিয়া থেকে রাশিয়ায় ফিরে গিয়েছেন, ঠিক তখনই এই তিন দেশ যৌথ মহড়ার আয়োজন করছে। শুধু তাই নয়, যেদিন মার্কিন রণতরীটি দক্ষিণ কোরিয়া গিয়েছে ঠিক তার একদিন আগেই দেশটিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। রাশিয়া আর উত্তর কোরিয়ার মধ্যে হওয়া যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিবাদ জানাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয়। যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন আর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। এই চুক্তি দক্ষিণ কোরিয়া একেবারেই ভালো মনে মেনে নেয়নি। দেশটার দাবি, বিশ্বের এক ঘরে হয়ে যাওয়া দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি তাদের নিরাপত্তার জন্য একটা বড় হুমকি। এর জবাব হিসেবে তারা ইউক্রেনে অস্ত্র সহায়তার বিষয়টা বিবেচনা করবে। অর্থাৎ এটা স্পষ্ট, ইট ছুঁড়লে পাটকেল ফেরত দিতে প্রস্তুত দক্ষিণ কোরিয়া। কারণ দক্ষিণ কোরিয়া জানে, তার বড় সাপোর্ট রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। যদি উত্তর কোরিয়ার তরফ থেকে তাদের দিকে বিন্দুমাত্র আঁচ আসে, তাহলে তারাও রুখে দাঁড়াবে। পুতিন কিমের বন্ধুত্বের মাঝে দক্ষিণ কোরিয়া রীতিমত হুমকি দিল। ভবিষ্যতে ইউক্রেনের যুদ্ধে দেশটা অস্ত্র পাঠালেও পাঠাতে পারে।

     

    আর এভাবেই তো দলাদলিটা শুরু হচ্ছে। যখন দক্ষিণ কোরিয়া ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তার কথা বলছে, তখন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়াকে। বলে দিয়েছেন, ইউক্রেনে যদি দেশটা যুদ্ধাস্ত্র দেয়, তাহলে একটা বড় ধরনের ভুল হবে। পুতিনের এই হুঙ্কার যে ঘুর পথে যুক্তরাষ্ট্রকেই দেওয়া, তা বলাই বাহুল্য। তিনি আরো বলেছেন, সিউল যদি কিয়েভকে অস্ত্র দেয় তবে মস্কো এমন সিদ্ধান্ত নেবে যা দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান নেতৃত্বকে একদমই খুশি করবে না। যারা ইউক্রেন যুদ্ধে অস্ত্র সরবরাহ করে মনে করছে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াচ্ছে না, এমন ধারণা একদমই ভুল। কারণ উত্তর কোরিয়া সহ বিশ্বের অন্য অঞ্চলেও অস্ত্র সরবরাহ আর সংরক্ষণ করার অধিকার রয়েছে রাশিয়ার। রীতিমত দাঁতভাঙা জবাব পুতিনের। এই যে একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্বের নীতিতে চলে, শক্তি বাড়ানোর বিষয়টা, যেন কোন রাষ্ট্রের পছন্দ হচ্ছে না যেমন দক্ষিণ কোরিয়ার পছন্দ হচ্ছে না উত্তর কোরিয়া আর রাশিয়ার বন্ধুত্ব। অপরদিকে ওই দুই পক্ষের পছন্দ হচ্ছে না দক্ষিণ কোরিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব। সোজা কথায়, পশ্চিমা দেশগুলো এখন মস্কো আর পিয়ংইয়ং এর মধ্যে হওয়া ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে বেশ উদ্বেগের চোখেই দেখছে।

     

    •পালানোর পথ পাবে না যুক্তরাষ্ট্র, আধিপত্যের লড়াইয়ে এগিয়ে কে?

    দেখুন, দুই কোরিয়ার মধ্যে শত্রুতার সম্পর্ক একেবারেই নতুন নয়, বহুদিনের। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে সামরিক তৎপর বাড়িয়েছে উত্তর কোরিয়ার সেনা সদস্যরা। একে অপরের ভূখণ্ডে বেলুন পাঠানোর মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে দুই দেশই। আর এই দুই দেশের চিরশত্রুতার মাঝে জড়িয়ে গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার মতো শক্তিধর দেশগুলো। ক্ষমতার আধিপত্যের লড়াইয়ে, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধেই থেকেছে।তাই সব সময় দক্ষিণ কোরিয়াকে সাহায্য করতে ব্যতিব্যস্ত ওয়াশিংটন। এমত পরিস্থিতিতে, কিম তার জোর বাড়াতে ঝুঁকছে রাশিয়ার দিকে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু রাষ্ট্র গুলোর দিকে।

     

    আর বড় প্রশ্নটা এখানেই, তাহলে কি যুক্তরাষ্ট্র আর তার মিত্ররা উত্তর কোরিয়া আর রাশিয়ার বন্ধুত্বকে ভয়ের চোখে দেখছে? কারণ এই দুই দেশের মধ্যে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি কিন্তু অনিবার্য ধ্বংস ডেকে আনতে পারে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ। বহুদিন ধরেই উত্তর কোরিয়া আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রকে নতুন রূপ দিতে চাইছে। কিন্তু সেই অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা। পুতিনের সফরের পর আশার আলো দেখছে দেশটা। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের বিশ্বাস, উত্তর কোরিয়াকে ভয়ঙ্কর সব অস্ত্র বানানোর প্রযুক্তিতে রাশিয়া সাহায্য করতে পারে। আর যদি এমনটা ঘটে তখন পালানোর পথ খুঁজে পাবে না যুক্তরাষ্ট্রসহ তার মিত্র দেশগুলো।

     

    এ কথা ঠিক যে, বিগত কয়েক দশকে এশিয়ায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রসহ তার মিত্ররা বেশ বিচলিত। তাই রাশিয়া চীন উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোকে রুখতে কি না করছে। তারপর সম্প্রতি আগুনে ঘি ঢালার মতো কিম পুতিনের পারস্পারিক প্রতিশ্রুতি, প্রতিরক্ষা চুক্তি অতিক্রম করে গিয়েছে সমস্ত সীমা। তাই উত্তর কোরিয়াকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র জাপান দক্ষিণ কোরিয়া এক জোট হয়ে যেন নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে। এর পরের পদক্ষেপটা কী হবে? নিশ্চয়ই চুপ করে বসে থাকবেন না কিম। তিনিও এর পাল্টা হুমকি বা করার স্টেপ নেবেন। এটাই স্বাভাবিক। কারণ কিমের আচরণ বিধি তাই বলে। কিম যে কথায় কথায় ক্ষেপনাস্ত্র ছোঁড়েন, তা সবাই জানে। তিনি কাউকেই বরদাস্ত করেন না। কোন হুমকি কিংবা নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কাই করেন না। এবার কিমের পাল্টা চালের পালা। সাথে নিশ্চয়ই থাকবে রাশিয়াও।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • China-Russia: খেলা শেষ যুক্তরাষ্ট্রর ! মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে চীন-রাশিয়া

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    China-Russia: অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে এক্কেবারে শেষ করে দিতে উঠে পড়ে লেগেছে চীন রাশিয়া। এই দুই শক্তিধর দেশ যা প্ল্যানিং করছে, তাতে কুপোকাত করে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিধর দেশকে। আর মোড়লগিরি নয়, এবার যুক্তরাষ্ট্রের দিন শেষ হয়ে আসার পালা। অদূর ভবিষ্যতের জন্য সেই প্ল্যানই করছে চীনা রাশিয়া। কাছে টানার চেষ্টা করছে ভারত ইরানের মত দেশগুলোকে। হয়ত এমন একটা দিন আসবে, যখন চীন রাশিয়ার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যাবে। মূল অস্ত্র মুসলিম বিশ্ব। ‘বিগ ফিশ’ ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে একাট্টা হচ্ছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো। চীনা রাশিয়া যেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রকে বাজিমাত করবেই। সাহায্য চাইছে ইসলামপন্থীদের। পাশে পাবে তো? অর্থনৈতিক সামরিক কিংবা ভূ রাজনৈতিক কৌশলে, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করছে? যুক্তরাষ্ট্রের শেষ পরিণতিটা ঠিক কেমন হবে? চলুন স্টেপ বাই স্টেপ জেনে নেওয়া যাক।

    চীন-রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মাত যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্রকে থামাতে চীন রাশিয়ার জোটের ভীষণ দরকার। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বদলে গিয়েছে ভূ রাজনীতি আর অর্থনীতির গতি। রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা এলে, চীন সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। আরো ঘনীভূত হয়েছে দুই দেশের রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক সম্পর্ক। রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে দুই দেশের মধ্যেকার বাণিজ্য। রাশিয়া চীন থেকে কিনছে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম, বিনিময়ে চীনের ক্রেতারা ব্যবহার করছে কম মূল্যে রাশিয়ার তেল। চীন এখন রাশিয়ার বড় অর্থনৈতিক অংশীদার। গত বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পৌঁছে গিয়েছে ২৪ হাজার কোটি ডলারে।

     

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল চুরি, চীনের ভয়ঙ্কর প্ল্যান

    যদি সামরিক শক্তির বিচার করা হয়, তাহলে চীনের উপরে কিন্তু আছে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করতে বহুদিন আগেই রাশিয়াকে পাশে পেয়েছে চীন। এবার পশ্চিমাদেরই কৌশল চুরি করে নিচ্ছে বেজিং। চীনের এই কৌশল মরণবান হতে পারে পশ্চিমাদের জন্য। চীনের পাইলটদের দক্ষতা আর কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে, পশ্চিমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলটদের ভাড়া করে আনছে। উদ্দেশ্য একটাই, নিজের দেশের পাইলটদের পশ্চিমাদের মতোই শক্তিশালী করে তোলা। পশ্চিমা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই পাইলটরা খুব সহজেই চীনের সামরিক কর্মকর্তাদের শিখিয়ে দেবেন, এয়ার কমব্যাট কৌশল থেকে শুরু করে এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ারে কিভাবে অবতরণ করা যায়, সবকিছু। যখন পশ্চিমাদের সঙ্গে সামনাসামনি যুদ্ধ হবে, তখন পশ্চিমাদের যুদ্ধ কৌশল জেনে যাবে চীন রাশিয়া। সেই কৌশল সামাল দেওয়ার টেকনিকটাও কিন্তু এদের জানা থাকবে।

     

    একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, অপরদিকে এক ঝাঁক দেশ, বাঁধবে জোর টক্কর

    গোটা বিশ্বে যারা যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লগিরিকে পছন্দ করে না, তারা কিন্তু ধীরে ধীরে চীন রাশিয়ার জোটের প্রতি ঝুঁকছে। লক্ষ্য একটাই, জোটবদ্ধ হয়ে পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া। যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন আর রাশিয়া। মতাদর্শ গত জায়গা থেকে ভিন্নতা থাকলেও শুধুমাত্র পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তারা সামিল হচ্ছে একসাথে। ইতিমধ্যেই উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসে মালয়েশিয়া যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। যেভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে পশ্চিমারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ব্রিকস সদস্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ব্রিকসের সদস্য হয়েছে সৌদি আরব, ইরান, ইথিওপিয়া, মিশর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। শুধু তাই নয়, আরো অন্তত ৪০ টি দেশ ব্রিকসের সদস্য হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আর এই উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো চীন রাশিয়ার বলয়ে ঢুকে যাওয়ায়, বেশ চাপে যুক্তরাষ্ট্র।

     

    ভারত আর ইরানকে দলে টানার চেষ্টা, দ্বিগুণ শক্তি পাচ্ছে চীন-রাশিয়ার জোট

    যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে, যুক্তরাষ্ট্রকে কোনঠাসা করতে চীন আর রাশিয়া কিন্তু ভারতকেও নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করছে। দেখুন, গোটা বিশ্বে ভারতের ভালো ভাবমূর্তি রয়েছে। শুধু পশ্চিমারা নয়, মধ্যপ্রাচ্যের মিশর, সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো মুসলিম দেশের সঙ্গেও ভারতের বেশ ভালই সম্পর্ক। রাজনৈতিক স্বার্থে বৈশ্বিক নেতৃত্ব হয়ে ওটা ভারতকে কাছে টানা এখন চীন রাশিয়ার জন্য অনেকটাই লাভের। কারণ একটাই, বিশ্বব্যবস্থা এগোচ্ছে বহুমুখীতার দিকে। সেখানে কোন একক দেশ নয়, ক্ষমতা থাকবে বহু দেশ আর অঞ্চলের হাতে। মার্কিন সাম্রাজ্য যে দুর্বল হয়ে পড়ছে, তা বলাই বাহুল্য। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বর্তমানে বড় হুমকি, ডলারের আধিপত্যের অবসান। অপরদিকে উত্থান ঘটছে চীনের। মার্কিনিরা যে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি, সেই বুলি কিন্তু আর ধোপে টিকছে না। অর্থাৎ তাদের সাম্রাজ্যবাদের সময় ফুরিয়ে আসছে। সেই জায়গাটা নিতেই তো চীন রাশিয়া হাত মিলিয়েছে। সেখানে কাছে টানছে ভারতকেও।

     

    ভারতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সুপার পাওয়ার হিসেবে পরিচিত ইরানকেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে চাইছে চীন আর রাশিয়া। না, এই জোটটা আনুষ্ঠানিক ভাবে হয়নি। কিন্তু ইতিমধ্যেই ইরান নিজেদের সীমানা এবং আশেপাশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খর্ব করতে বেশ তৎপর। যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং সমন্বয় বাড়িয়ে চলেছে অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে। অর্থনৈতিক কূটনৈতিক ছাপিয়ে রাশিয়া আর ইরানের সম্পর্কের এখন প্রধান ভিত্তিটাই সামরিক সহযোগিতা। ইরানের সাথে চীনেরও যথেষ্ট কৌশলগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি অগ্রাহ্য করে, প্রায় এক দশক ধরে প্রকাশ্যে, কখনো বা গোপনে দুই হাতে ইরানের জ্বালানি তেল কিনে চলেছে চীন। কয়েক বছর আগে, এই দুই দেশ সহযোগিতার চুক্তিও করে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাশিয়া চীন ইরানের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী এক ত্রিদেশীয় অক্ষ শক্তি।

     

    এই তিনটি দেশ যেমন একদিকে নিজেদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয়ভাবে আরো ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভূ রাজনৈতিক ইস্যুতে কথা বলছে একই সুরে। একে অন্যের পাশে দাঁড়াচ্ছে। নীতির সমন্বয় করছে। যদি ইরান আর রাশিয়ার কথা বলা হয়, সেখানে কিন্তু আদর্শগত আর ইতিহাস বিবেচনা করলে তফাৎ অনেকটা। এই দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা কিছুটা বিস্ময়করও। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রকে কোণঠাসা করতে, আর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে, ইরান রাশিয়ার এত মাখোমাখো ভাব।। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের যে গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট অর্থাৎ জিপিএস ব্যবস্থা রয়েছে, তার উপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে চীন রাশিয়া। সেই চেষ্টায় শামিল করেছে ইরানকে। জল যখন এতদূর গড়িয়েছে, তখন কিন্তু ভালো চোখে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র। চীন রাশিয়ার সম্প্রসারিত জোট এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় অশনি সংকেত। শুধু সামরিক অর্থনৈতিক কিংবা ভূ রাজনৈতিকগত দিক নয়, বরং প্রযুক্তিগত দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে মাত দিতে উঠে পড়ে লেগেছে দেশগুলো।

     

    আসলে কি বলুন তো, বশ্যতা আদায়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার মতো যে বৈদেশিক নীতি ব্যবহার করছে, তাতে বহু দেশ ক্ষুব্ধ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসি নীতিকে আর মানতে চাইছে না। মাতব্বরি ফলানো টা পছন্দ করছে না। তাই চীন রাশিয়া একটা প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্ব ব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে চাইছে। এই দুই দেশ বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধর গুলোকে নিজেদের দলের সামিল করতে চাইছে। যাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে করা তাদের লড়াইটা খুব সহজে জেতা যায়।

     

    মূল টার্গেট মুসলিম বিশ্ব, যুক্তরাষ্ট্র জিততে পারবে তো?

    এমত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র যে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে, এমনটা ভাবা এক্কেবারে ভুল। যে দেশটা দশকের পর দশক গোটা বিশ্বে মোড়লগিরি ফলিয়ে এসেছে, তাকে দমানো খুব একটা সহজ ব্যাপার হবে না। তাহলে চীন রাশিয়াকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটাই রাস্তা খোলা। তা হল ইসলামপন্থীদের সঙ্গে মিত্রতা গড়া। কিন্তু সেটা কী করবে? লক্ষণীয় ব্যাপার, যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম প্রধান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গে তো বেশ ভালোই সম্পর্ক।। আর মধ্যপ্রাচ্যে সৌদির দাপট ঠিক কতটা তা তো জানেনই। চীন রাশিয়ার জোটের বিরুদ্ধে পশ্চিমারা কাজে লাগাতে পারে মুসলিম বিশ্বকে। যুক্তরাষ্ট্র ইরাক সিরিয়া আফগানিস্তান থেকে সরে আসার সময় কিন্তু তার কৌশল ধীরে ধীরে পরিবর্তন করে ফেলেছে। বরং ফিরে যাচ্ছে সেই পুরনো পথেই। কূটনৈতিক মহলের গুঞ্জন বলছে, একটা সময় সন্ত্রাসী জঙ্গি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যাদের চিহ্নিত করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আবার তাদের সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধতে পারে। এই সম্ভাবনাটা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আপাতত চীন রাশিয়ার জোটকে আটকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ভালো কোন অপশনও নেই। যুক্তরাষ্ট্র এখন কাজ করছে দুটি ফ্রন্টে। একটা রাশিয়াকে নিজের সীমার মধ্যে বেঁধে ফেলা, অপরদিকে চীনের প্রভাব কমানো। ইতিমধ্যেই কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তালেবানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করে ফেলেছে। এই শান্তি চুক্তি অন্য ইসলামপন্থীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘনিষ্ঠ হতে সাহায্য করবে।। শুধু তাই নয়, এই অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এবং বিভিন্ন দেশে চীনের বাণিজ্য এবং স্থাপনার বিরুদ্ধে।

     

    চীনে উইঘুর মুসলিমদের উপর যেভাবে নির্যাতন আর দমন পীড়ন, চলছে তা তো জানেনই। যেটা মুসলিম বিশ্বের কাছে চীনের একটা নেগেটিভ পয়েন্ট। যদি যুক্তরাষ্ট্র এই জায়গাটা কাবু করে ফেলে, ইসলামপন্থীদের গোটা বিশ্বে আলাদা করে জায়গা দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের মনোভাব ঘুরে যেতে বেশি দিন সময় লাগবে না। বরং যাদের বিরুদ্ধে এতদিন যুদ্ধ করল, তাদের দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করবে। আর সেটা করার চেষ্টাও করছে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ এবং প্রতিষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। যাতে দেশগুলোকে রাশিয়া আর চীনের থেকে সরিয়ে আনতে পারে। আর তার থেকেও বড় কথা কি বলুন তো, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রনীতিতে কিন্তু কোন চিরস্থায়ী মিত্র বা শত্রু নেই। যুক্তরাষ্ট্র সবার সঙ্গেই কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্র যেমন ব্রাদারহুডের সঙ্গে কাজ করেছে, আবার সমর্থন করেছে হোসেন মোবারককেও। একটা সময় ইরাকে সাদ্দাম হোসেনকে আস্কারা দিয়েছে, আবার পরে সেই সাদ্দামের মৃত্যুদণ্ডে মদদ দিয়েছে। যখন যাকে প্রয়োজন তার সঙ্গেই রাজনীতি করে যুক্তরাষ্ট্র। পরাজয় নিশ্চিত জেনে শত্রুর সঙ্গে বন্ধুত্বও করে ফেলতে পারে। যদিও এই পয়েন্টটা নজর রেখেছে চীনা আর রাশিয়া। চীন ইতিমধ্যেই উইঘুর মুসলিমদের মন পেতে চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও আরো জোরদার করছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক। এখানেও কিন্তু অকেজো হয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অস্ত্র।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Canada-Iran relations: শেষ যুক্তরাষ্ট্রের প্ল্যানিং ! ইরানকে ভয় পাচ্ছে পশ্চিমারা ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Canada-Iran relations: ইরানকে ভয় পাচ্ছে কানাডা! বিপ্লবী গার্ডকে সন্ত্রাসী তকমা কেন? ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে সন্ত্রাসী তকমা। হঠাৎ কানাডার এমন জোরালো পদক্ষেপ কেন? তাহলে কি ইরানকে ভয় পাচ্ছে? নাকি রয়েছে অন্য কোনও কারণ? শুধু কানাডা নয়, এর আগেও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বারংবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে চেয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের এই বাহিনী বহুদিন ধরেই রয়েছে কালো তালিকায়। প্রশ্নটা এখানেই। একটা দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ করে পশ্চিমারা কেন বারংবার টার্গেট করছে? কেনই বা ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে মোটা দাগে দেগে দেওয়া হচ্ছে সন্ত্রাসী বলে? কোথাও কি ইরানকে রুখে দেওয়ার জন্য চেষ্টা? কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আধিপত্য কমাতে পশ্চিমারা বেঁধে ফেলতে চাইছে ইরানকে? দেশটার মূল অস্ত্র কিন্তু এই বিপ্লবী গার্ড। এমত পরিস্থিতি, ইরানি বা কতটা শঙ্কিত? সত্যি কি এই বিষয়টা ইরানকে ভাবায়?

     

    ইরানের রক্ষাকবচ বিপ্লবী গার্ড, তেহরানকে দূর্বল করার মূল অস্ত্র!

    সম্প্রতি কানাডা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস অর্থাৎ আইআরজিসিকে তালিকাভুক্ত করল সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে। কানাডা সরকারের এই পদক্ষেপকে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটা তাৎপর্যপূর্ণ হাতিয়ার বলে বর্ণনা করেছেন কানাডার জন নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঙ্ক। এর অর্থ হল, ইরান সরকারের বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আর কানাডায় প্রবেশ করতে পারবে না। তাদের মধ্যে রয়েছেন আইআরজিসির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারাও। কানাডার এমন পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিল, ইরানের সঙ্গে দেশটার সম্পর্ক মোটেই সুমধুর নয়। যদিও এই দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততার ইতিহাস বহুদিনের। এবার তার বহিঃপ্রকাশ হতেই ক্ষেপেছে ইরানও। কারণ ইরানে আইআরজিসিকে একটা অভিজাত বাহিনী হিসেবে মনে করা হয়। দেশটার সামরিক বলুন, রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই বাহিনীর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এই বাহিনীর নিজস্ব স্থল, জল এবং বিমান বাহিনী রয়েছে। প্রায় ২ লক্ষ সক্রিয় সদস্য সহ এত বড় একটা বাহিনীকে দুম করে যদি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেগে দেওয়া হয়, তা যে কোন দেশের পক্ষেই একটু অস্বস্তিকর। একইভাবে যেটা ঘটছে ইরানের সঙ্গে। শুধু ইরান নয় গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই এই গার্ডের প্রভাব যথেষ্ট। যারা ইরানের শত্রু দেশ কিংবা ইরানকে ভালো চোখে দেখেনা, তাদের কাছে এই সামরিক সংগঠন রীতিমত চক্ষুশূল। আর এই সংগঠন আছে বলেই কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য সহ পশ্চিমা দুনিয়ার বহু দেশ ইরানকে সমঝে চলে।

     

    সোজা কথায়, যে ইরান গোটা বিশ্বের কাছে পাওয়ারফুল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে, তার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড। যা সব সময় ইরানকে ভিতর কিংবা বাইরে থেকে আসা যেকোনো রকম হুমকি প্রতিরোধে কাজ করে। ১৯৭৯ সালের পর থেকে এই বাহিনী শিয়া ধর্মীয় নেতার শাসনের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। শুধু নিজের দেশের সীমানায় নয়, বাইরেও সক্রিয়। ইরাক আর সিরিয়ায় কাজ করছে তেহরানের স্বার্থ সুরক্ষায়। ইরানেও রয়েছে এই বাহিনীর কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে ইরানের সামরিক ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরতে চাইছে, কিন্তু তাও পারছেনা। তার নেপথ্যে রয়েছে আইআরজিসির ক্ষমতা। ইরানের মিত্র দেশগুলো সহ বহু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে তেহেরানপন্থী এই সশস্ত্র সংগঠন অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করে। যার জেরে ইরানের মিত্র দেশগুলো এমন পদক্ষেপে কানাডার উপর বেশ রুষ্ট। আইআরজিসির শাখা কুদস ফোর্স যার মাধ্যমে ইরান দেশের বাইরের অভিযান সহ বহু তৎপরতার সঙ্গে নানান কাজ চালায়।। এই কুুদস ফোর্সকে কানাডা কিন্তু বহু আগেই সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর এবার বাদ দিল না আইআরজিসিকেও। কানাডার এই পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিচ্ছে, ইরান বিপ্লবী গার্ডের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে, আর যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কানাডা তার হাতে থাকা সমস্ত অস্ত্র ব্যবহার করবে। কানাডার আরো অভিযোগ,ইরানের শাসক গোষ্ঠী নাকি দেশ সহ দেশের বাইরে ক্রমাগত মানবাধিকারের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে। ইরান আন্তর্জাতিক আইন কানুন ভিত্তিক নিয়ম-শৃঙ্খলাকে অস্থিতিশীল করতে চায়। ইতিমধ্যেই কানাডায় থাকা ইরান সরকারের বহু সাবেক এবং বর্তমান কর্মকর্তাকে তদন্তের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি তাদেরকে কানাডা থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে।

     

    ইরানের অবস্থা নিয়ে কি ভয় পাচ্ছে পশ্চিমারা? ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্ল্যানিং

    আপাতত ইরানে যে সমস্ত কানাডি নাগরিকরা রয়েছেন তারা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করে দিয়েছেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি। আশঙ্কা, কানাডার নাগরিকদের নির্বিচারে আটক করা হতে পারে। আর তাই তো উঠছে বড় প্রশ্নটা। তাহলে কি কানাডা এখন ইরানের অবস্থান নিয়ে একটু শঙ্কিত কিংবা ভয় পাচ্ছে? নাগরিকদের বারংবার সতর্ক করে যাচ্ছে দেশটার সরকার। ইরানও যে ছেড়ে কথা বলবে না ,তার পাল্টা পদক্ষেপ নেবে তা বলাই বাহুল্য। এর আগে কিন্তু কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে চাননি। তিনি বারংবার বলেছিলেন, যদি এই পদক্ষেপ নেয়া হয় তাহলে কানাডায় অবস্থান করা বহু ইরানি ব্যক্তি অন্যায্য আচরণের শিকার হতে পারেন। বিশেষ করে যারা ইরানের বর্তমান শাসকদের বিরোধিতা করছে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তবে এবার যেন আর কোনো রাখঢাক নয়। শুধু কানাডা নয়, পশ্চিমা দেশগুলো কিন্তু ইরানের এই সশস্ত্র বাহিনীকে নজরে নজরে রাখে। সেই ২০১৯ সালে, যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকা ভুক্ত করেছে। যুক্তরাজ্যও বারংবার বলে এসেছে তারাও একই পদক্ষেপ নেবে। তবে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। অর্থাৎ যুক্তরাজ্যেরও ইরানের এই বাহিনীর উপরে যথেষ্ট রাগ রয়েছে। ২০২২ এ শোনা গিয়েছিল, রেভল্যুশনারি গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে কিনা সেই বিষয়ে নাকি যাচাই-বাছাই করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর জার্মানি। তখন পরিস্থিতিও ছিল ইরানের হাতের বাইরে। পুলিশের হেফাজতে থাকা তরুণী মাসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুমুল বিক্ষোভ প্রতিবাদ চলছিল তেহেরানে। বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড। ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যার আওতায় ছিল ইরানের নীতি পুলিশ, রেভল্যুশনারি গার্ডের সাইবার বিভাগ, আর তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী। অভিযোগ উঠেছিল, ইরানের চলমান বিক্ষোভে নাকি মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে।

     

    তবে হ্যাঁ কয়েক বছর আগে গুঞ্জন উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্র নাকি তার সিদ্ধান্ত বদলাবে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের কালো তালিকা থেকে বাদ দেবে। কিন্তু বিনিময়ে যে সমস্ত শর্ত রাখতে চেয়েছিল, তার নিশ্চয়তা দিতে হবে ইরানকে। আসলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই বাহিনীর লাগাম টেনে ধরতে চেয়েছিল। ইরানকে হাতে রাখা মানে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশটাই কাবু করে ফেলা। সেক্ষেত্রে আইআরজিসি যদি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকে, তাহলে ইরানকে নিয়ে পশ্চিমাদের আর মাথা ব্যাথার কোন কারণই থাকবে না। যদিও শোনা যায়, তেহরানের পক্ষ থেকে কোন ধরনের গ্রহণযোগ্য প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে এমন পদক্ষেপ হবে, সেই বিষয়ে ওয়াশিংটন কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইরানের ক্ষমতা কাঠামো এই ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এমনক সামরিক ও গোয়েন্দা বাহিনীর পাশাপাশি দেশটার বাণিজ্য খাতা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এই বাহিনী। তাই তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বহুবার বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ করেছে।

     

    মধুর নয়, কানাডা-ইরানের তিক্ততার সম্পর্ক

    কানাডার সঙ্গে যদি ইরানের সম্পর্কের কথা বলা হয়, তা কিন্তু একদমই ভালো নয়। বহুবার ইরান অভিযোগ করেছে, কানাডা নাকি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। শুধু তাই নয়, কানাডার বিরুদ্ধে চলমান সরকার বিরোধী বিক্ষোভে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটা। একই অভিযোগের আঙুল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দিকেও। ২০১৮ সাল নাগাদ ইরান বলে, আন্তর্জাতিক রীতি নীতি ভেঙে ইরানে চলমান বিক্ষোভে অনধিকার চর্চা করছে কানাডা। আর যুক্তরাষ্ট্র দেশটার শাসক বিরোধীদের মদদ দিচ্ছে। অপরদিকে কানাডার যুক্তি ছিল, ইরানের জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার শান্তিপূর্ণ লড়াইয়ে উজ্জীবিত বোধ করছে কানাডা। আর তখন ইরানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা সত্যি খুব খারাপ ছিল। জর্জরিত হয়ে পড়ছিল একের পর এক বিক্ষোভে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে লিখেছিলেন, ইরানের বড় বড় বিক্ষোভ গুলো প্রমাণ করে দিয়েছে, দেশটার মানুষ বুঝতে শিখেছে কিভাবে তাদের অর্থ আর সম্পদ চুরি হয়ে সন্ত্রাসে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে, তারা আর এটা মানবে না। তখন ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন হাসান রুহানি। ইরানিদের সতর্ক করে বলেন, শত্রুরা সুযোগ নিতে পারে দেশকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলা উচিত নয়। বিষয়গুলোকে এড়িয়ে যেতে হবে। তখন থেকে কিন্তু ইরান সরকার কানাডা সম্পর্কে একটু বেশ সতর্ক। দুই দেশের মধ্যে তিলে তিলে যে ক্ষোভটা বাড়ছিল এবার তা পুঞ্জীভূত হয়ে বিস্ফোরকের আকার নিতে শুরু করেছে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • China-US conflict: ছেড়ে দেবেনা চীন ! পুতিনের সফরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামনে এলো বড় ষড়যন্ত্র

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

     

    China-US conflict:  চীনের বাজিমাত, পুতিনের সফরে আতঙ্কে যুক্তরাষ্ট্র! নেপথ্যে বড় ষড়যন্ত্র। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চীনের। কূটনৈতিক স্বার্থে বেজিংয়ের কাছে এখন বড় অস্ত্র রাশিয়া আর উত্তর কোরিয়া। কিমের দেশের পর পুতিনের ভিয়েতনাম সফর কেন ভাবাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে? কিম-পুতিনের বন্ধুত্বের আসল মাস্টারমাইন্ড শি জিনপিং! যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দিতে কোন অস্ত্র শানাচ্ছে চীন? তৈরি করছে নতুন বন্ধুত্বের সমীকরণ। ভূ রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে যাবে না তো? পাল্টি খাচ্ছে একের পর এক দেশ। কিম-পুতিনের দরকার চীনকে। শি জিনপিং সেই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। আতঙ্কে ওয়াশিংটন।

     

    যখন গোটা বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা। চরম উত্তেজনায় ফুটছে আঞ্চলিক শক্তিগুলো। ঠিক সেই সময় কূটনৈতিক সফরে বেরিয়েছেন পুতিন। প্রথমে উত্তর কোরিয়া, তারপর ভিয়েতনাম। যার জেরে কাল ঘাম ছুটছে যুক্তরাষ্ট্রের। ইউক্রেন যুদ্ধ কিন্তু এখনো অব্যাহত। না ইউক্রেন হার মেনেছে, না রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা থামিয়েছে। এমত পরিস্থিতিতে, রাশিয়ার সাপোর্টের সত্যি প্রয়োজন ছিল। আর সেই সাপোর্টটাই কি দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া আর ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো? নাকি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জোট বাঁধতে পুতিন এতটা তৎপর? তাই হয়ত চিন্তায় পড়ে গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওদিকে আবার বহু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই যে পুতিনের একের পর এক দেশ সফর, কূটনৈতিক সম্পর্ক পোক্ত করার পিছনে বড় হাত রয়েছে চীনের। চীন প্রকাশ্যে কূটনৈতিক জোটটা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাঁধতে পারছে না। কৌশলে করতে চাইছে, পুতিনের আড়াল থেকে। কিন্তু চীন সামনেই বা আসছে না কেন? পুতিনের সফর যুক্তরাষ্ট্রের কোন পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিতে পারে?

     

    ভিয়েতনামে পুতিন, সিদ্ধান্ত বদলালেই ধাক্কা খাবে যুক্তরাষ্ট্র

    উত্তর কোরিয়ার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভিয়েতনামে যেতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পুতিনের এই সফরের মাধ্যমে মস্কো আর হ্যানয়ের মধ্যে যে নতুন সম্পর্ক স্থাপন হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য। পুতিন ভিয়েতনামে গিয়েছেন সঙ্গে কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী আর ব্যবসায়ীসহ একটা বড় প্রতিনিধি দল নিয়ে। এই দেশটা কিন্তু সবসময়ের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আলাদা চোখে দেখে। যদিও একটা সময় ছিল, এই সম্পর্ক ইউরোপ আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে কাজ করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি একদম উল্টো। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণ বদলেছে। আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, ইউক্রেনে যুদ্ধ চলাকালীন পুতিনের সফর নিয়ে তীব্র সমালোচনায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র।দাবি, পুতিনের সফর ইউক্রেনে যুদ্ধের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। ইতিমধ্যেই কিন্তু রাশিয়া আর উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চুক্তি সই হয়ে গিয়েছে অংশীদারিত্ব চুক্তি। দুই দেশই রাজনৈতিক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতিক, নিরাপত্তা বিষয়ে একে অপরকে সাহায্য করবে। এই ধরনের চুক্তিকে যখন পুতিন বলছেন ‘ব্রেক থ্রু’ তো তখন কিম এটাকে বলছেন ‘সন্ধিক্ষণ’। তার ওপর ভিয়েতনাম সফর স্বাভাবিক ভাবেই শক্ত হচ্ছে পুতিনের হাত।

     

    রাশিয়া আর ভিয়েতনামের সম্পর্ক সেই ১৯৫০ এর দশক থেকে। ভিয়েতনাম রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে আনুগত্য আর কৃতজ্ঞতায় পরিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। যদিও ভিয়েতনামের অর্থনীতি বিশ্ববাজারে একীভূত হওয়ার পর চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের তুলনায় রাশিয়া ভিয়েতনামের কাছে একটু কম উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য অংশীদার। তবে এখনো পর্যন্ত ভিয়েতনাম প্রাথমিক ভাবে রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ চীন সাগরের তেল অনুসন্ধানের জন্য অংশীদারিত্ব রয়েছে রাশিয়ার কোম্পানিগুলোর সঙ্গে। ভিয়েতনামের পররাষ্ট্রনীতি বলছে, আনুষ্ঠানিক জোট নয় বরং সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ নীতিতে চলা। সেই সঙ্গে বৈশ্বিক শক্তির গতিশীলতার সঙ্গে নমনীয়ভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়া। অতীতের দ্বন্দ্ব খুব একটা মনে রাখে না। একদিকে যেমন চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। আর সমস্যাটা তো এখানেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহু ঐতিহাসিক জোট থাকা সত্ত্বেও কিন্তু থাইল্যান্ড রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে। সেই জায়গায় যদি ভিয়েতনামও হঠাৎ পাল্টি খায়, সেক্ষেত্রে চাপে পড়বে ওয়াশিংটন। কারণ ইতিমধ্যেই ভিয়েতনাম বিকল্প সামরিক সরবরাহকারী দরকার। তাই রাশিয়ার সরঞ্জামের উপর দেশটার নির্ভরতা আরো বাড়তে পারে।

     

    কিম-পুতিনের বন্ধুত্বে চীনের কৌশল, মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে থামানো

    এই যে কিম পুতিনের বন্ধুত্বের এত রসায়ন, এখানেও কিন্তু বেশ চাপে রয়েছে চীন। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লগিরি রুখতে উত্তর কোরিয়া চীন রাশিয়ার মতো দেশগুলো একই নীতিতে চলছে। একে অপরকে সাপোর্ট করছে। কিন্তু তলে তলে এই রাষ্ট্রগুলোর বন্ধুত্বের রয়ে গিয়েছে ফাঁকফোকর। দীর্ঘ ২৪ বছর পর উত্তর কোরিয়ায় গিয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন পুতিন। যেখানে এই দুই দেশের বিরুদ্ধে যে কোন আগ্রাসোনে তারা পরস্পরকে সাহায্য করবে। এই চুক্তি ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি করেছে পশ্চিমাদের মধ্যে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হল, এই দুই নেতাই জানেন, তাদের পরস্পরকে ঠিক কতটা প্রয়োজন। যেমন পুতিনের যুদ্ধে চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন গোল বারুদ,তেমনি নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা উত্তর কোরিয়ার দরকার অর্থ। পুতিন ভালোভাবে জানেন, তারও একটা সীমা আছে। আর সেই সীমা হল, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

     

    সম্প্রতি শি’য়ের কিছু কার্যকলাপ বোঝা যাচ্ছে, তিনি এই দুই সহযোগী অর্থাৎ রাশিয়া আর উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সখ্যতায় খুব একটা সন্তুষ্ট নয়। এইতো গত মে মাসে, মস্কো বেজিং এর বৈঠকের পর পুতিনকে পিয়ংইয়ং সফরে না যেতে সরাসরি বলে দিয়েছিলেন শি জিনপিং। তাই তো কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, চীনা কর্মকর্তারা চীন রাশিয়ার বন্ধুত্বের মাঝে উত্তর কোরিয়াকে টেনে আনাটা যেন খুব একটা পছন্দ করছে না। আর এমনি থেকেই চীনা প্রেসিডেন্ট শি মস্কোকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে আর ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তা হয় এমন কিছু বিক্রি না করতে যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপের মাঝে বিস্তর চাপে রয়েছে। আবার তিনি এই বিষয়গুলো পুরোপুরি উপেক্ষাও করতে পারছেন না। চীনের বিদেশি পর্যটক আর বিনিয়োগ দরকার। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীনের অবস্থানটা ধরে রাখার জন্য উত্তর কোরিয়াকে পাশে চাই। কারণ চীন সব সময় বৈশ্বিক পর্যায়ে নিজের বড় ভূমিকা ধরে রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে চায়। অপরদিকে উত্তর কোরিয়ার চীনকে দরকার আরো বেশি। চীন একমাত্র দেশ যেখানে কিম সফর করেছেন। উত্তর কোরিয়ার এক চতুর্থাংশ থেকে অর্ধেক পর্যন্ত তেল আসে শুধুমাত্র রাশিয়া থেকে।

     

    অপরদিকে দেশটার ৮০ ভাগ ব্যবসা চীনের সাথে। তাই যতই পুতিন আর কিম নিজেদের সহযোগী হিসেবে দেখান না কেন, চীনের সাথে তাদের সম্পর্ক আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রসঙ্গত বলে রাখি, যখন পশ্চিমাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল, তখন কিন্তু এই পুতিন উত্তর কোরিয়ার উপর দু দুবার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। উত্তর কোরিয়া যাতে মারাত্মক নিষিদ্ধ অস্ত্রের কর্মসূচি বন্ধ করে, সেজন্য একই সুরে সুর মিলিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র চীন দক্ষিণ কোরিয়া আর জাপান। বর্তমানে সেই সমস্ত ফাটলে প্রলেপ পড়েছে। এখন রাশিয়া আর উত্তর কোরিয়া দুজনেই চীনের সাহায্যপ্রার্থী। চীনকে ছাড়া সংকটে পড়বে। ফলে উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক বলুন, আর বহুপাক্ষিক সম্পর্ক, সেখানে কিন্তু চীনের বড় ভূমিকা রয়েছে। আর চীনও নিজের জায়গা ধরে রাখতে এই দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। কিন্তু কিম আর পুতিনের বন্ধুত্বকে ভালো চোখে দেখছে না। কারণ ভবিষ্যতে এই দুই রাষ্ট্রের জোট বিপদে ফেলতে পারে চীনকেও। যদিও এখন ফার্স্ট টার্গেট যুক্তরাষ্ট্রকে থামানো। তাই চুপ করে রয়েছে শি জিনপিংয়ের দেশ।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Iran-United States relations: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গন্ডগোল শুরু ! ১৯৫৩ সালের অভিশাপ কাটাচ্ছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Iran-United States relations: ইরানের ক্ষমতা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র! আজ পিঠে মারছে ছুরি। আজ যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের এত ক্ষমতা, এত প্রতিপত্তি, জানেন? একটা সময় ইরানের ক্ষমতা বাড়িয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। শুনতে হয়ত একটু অবাক লাগছে, কিংবা আকাশ থেকে পড়ছেন, কিন্তু এটাই বাস্তব। একটা সময় ছিল যখন যুক্তরাষ্ট্র মনেপ্রাণে চেয়েছিল ইরানের ভালো হোক। শুধু তাই নয়, ব্রিটেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে গিয়ে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আর আজ দুই দেশের সম্পর্ক সাপে নেউলে। শুধুই কি তেল অর্থনীতি, নাকি রয়েছে অন্য কোনও রহস্য? ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র কেন সহ্য করতে পারে না? দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হওয়ার কি আর কোনও সম্ভাবনাই নেই? যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ইরানকে সাহায্য করতে চেয়েছিল, নাকি ছিল শুধু স্বার্থের সম্পর্ক? অতীত ইতিহাসে রয়েছে বিস্তর জলঘোলা।

     

    ইরানের শক্তি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র! বন্ধুত্ব দেখলে অবাক হবেন

    যে দেশ একটা সময় ইরানের শক্তি বাড়িয়েছে, ইরানকে আধুনিক করে তোলার চেষ্টা করেছে, ইরানের শিক্ষা খাত থেকে শুরু করে চিকিৎসা খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে, আজ সেই দেশটাই মনেপ্রাণে চাইছে ইরান কোনঠাসা হয়ে যাক। এ যেন এক অদ্ভুত ভূরাজনীতি। আসলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমীকরণে কে যে কার বন্ধু, আর কে যে কার শত্রু তা বলা ভীষণ মুশকিল। ১৯৮০ সাল থেকে ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোন আনুষ্ঠানিক সম্পর্কই নেই। বিশ্ব রাজনীতিতে যখনই কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রসঙ্গ আসে, তখনই দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। অথচ এই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল যথেষ্ট সমৃদ্ধ। যেটা শুরু হয়েছিল উনিশ শতকের মধ্য থেকে শেষ নাগাদ। তখন পশ্চিমাদের কাছে ইরান ছিল পারস্য। একদিকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, অপরদিকে রুশ সাম্রাজ্য, আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী মধ্য এবং দক্ষিণ এশিয়াকে ধীরে ধীরে তাদের সাম্রাজ্যবাদী নীতিতে গ্রাস করছিল। স্বাভাবিকভাবেই তখন ইরান জড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক আর কূটনৈতিক বিরোধে। দেশটার নিরাপত্তা নিয়ে ছিল যথেষ্ট অনিশ্চয়তা। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে ইরান। আর ঠিক তখন ইরানের হাতটা শক্ত করে ধরেছিল যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান সেই সময় সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মিত্র শক্তি বলে মনে করত।

     

    শুধু তাই নয়, তৎকালীন সময়ে শাহ সরকারের ট্রেজারার জেনারেল হিসেবে বসিয়ে দেওয়া হয় দুই মার্কিনিকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটিশ আর রাশিয়া ইরান আক্রমণ করে। এই দুই পক্ষই তখন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ছিল, তাও যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের হাত ছাড়েনি। বরং সম্পর্কটা যাচ্ছিল বেশ ভালোই। জানলে আশ্চর্য হবেন, তখন ব্রিটেন ইরানের মাটিতে উৎপাদিত তেল থেকে মাত্র ১৬% ইরানকে দিত, আর ৮৪% নিজে নিত। ধীরে ধীরে গরীব হতে শুরু করে ইরানের সাধারণ মানুষ। ব্রিটেন ইরানের মানুষকে ভাবত দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। অথচ ইরানের মানুষ সেই সময় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে কিছু বলতেও পারত না। কারণ তৎকালীন ইরানের রাজা ছিলেন স্বয়ং ব্রিটিশদের সমর্থক। যার মাত্রা আরো বেশি পরিমাণে বাড়তে থাকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর। উনিশ শতক আর বিশ শতকের প্রথম দিকে যখন ব্রিটিশ আর রাশিয়ান সাম্রাজ্যর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ইরানকে একটা শোষিত অবস্থানে ফেলেছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বারংবার সেই পরিস্থিতি থেকে টেনে বার করে আনার চেষ্টা করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে লাভের কোন প্রত্যাশা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জন্য কাজ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সেই সময় ইরানে প্রায় কয়েক শোর বেশি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। চিকিৎসা এবং সামাজিক কল্যাণেও প্রচুর কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বহু বেসরকারি মিশন।

     

    ইরানের তেলে নজর, সম্পর্ক ভাঙনের সূত্রপাত

    হঠাৎ করে ইরানের ফুলেফেঁপে ওঠা তেল সম্পদে নজর পড়তে থাকে পরাশক্তিগুলোর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, ইরানের বিশাল তেলের ভাণ্ডার গুলো দখল করতে প্রতিযোগিতায় নামে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন নেতৃত্বাধীন ব্লক আর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ব্লক। গোপনে চলতে থাকে গোয়েন্দা গিরি। স্বাভাবিকভাবে বিষয়টা টের পেয়ে গিয়েছিলেন তৎকালীন ইরানের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক। মার্কিন ব্লক যে ইরানের তেল শিল্পকে জাতীয়করণ করতে চেয়েছিল সেই নীতি তার পছন্দ হয়নি। তখন থেকেই শুরু হয় আসল ফাটলটা। মোসাদ্দেক হয়ে ওঠেন পরাশক্তিগুলোর চক্ষুশূল। যুক্তরাষ্ট্র আর ব্রিটেন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ তৎপরতায় ১৯৫৩ সালে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় তাকে। ক্ষমতায় বসে যুক্তরাষ্ট্রেরই পছন্দের সরকার। ইরানের মানুষ যাকে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল সরকার, মোহাম্মদ রেজা শাহ। এনার সময় কিন্তু যুক্তরাজ্যের কোম্পানিগুলো ইরানের তেল শিল্পে প্রবেশের জন্য একটা অবাধ সুযোগ পেয়েছিল। আশ্চর্যজনকভাবে তখনও জানা যায়নি, মোসাদ্দেককে কেন ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। প্রায় ২০০০ সাল নাগাদ কোথাও কোথাও দাবী করা হয়, সবটাই ছিল নাকি পশ্চিমা পরাশক্তি গুলোর ষড়যন্ত্র। রেজা শাহ আর যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চাইলেও ক্রমেই তা অসম হয়ে ওঠে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে রেজা শাহ যুক্তরাষ্ট্রের উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন।

     

    আর সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৭ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র আর ইরান সই করে ফেলে বেসামরিক আণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে। ১৯৬৮ সালেও ইরান আণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে সই করে দেয়। তার ঠিক দুই বছর পর, দেশটি বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য আণবিক কর্মসূচি চালানোর অনুমতি পায়।সেই সময় ইরানকে আধুনিক করে তুলতে সাহায্য করে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু তা পছন্দ হয়নি ইরানের বহু মানুষের। যার কারণে ক্ষোভের মুখে পড়েন রেজা শাহ। ইরানের জনগণ ভাগ হয়ে যায় দুই ভাগে। তৈরি হয় একটা বড় ভুল বোঝাবুঝি। মনে করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্যের মদতেই নাকি ইরানের মধ্যে এত গন্ডগোল। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ক্ষোভ আর অসন্তোষ। স্বাভাবিকভাবেই তার একদিন বিস্ফোরণ ঘটে। ইরানের অভ্যন্তরে ১৯৭৯ সালে শুরু হয়ে আন্দোলন। ইরান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন রেজা শাহ। ঠিক তার দুই সপ্তাহ পর নির্বাসন থেকে দেশে ফেরেন ওই আন্দোলনের অন্যতম নেতা, আয়াতুল্লাহু আলি খামেনি।তার নেতৃত্বে ইরানে ঘটেছিল ইসলামী বিপ্লব।

     

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সম্পর্ক কি কোনদিনও জোড়া লাগবে? আশা কতটা?

    দুই দেশের তিক্ততা বাড়িয়ে দেয় ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ইরান আর ইরাক যুদ্ধ। ইরাককে নানান ভাবে সাহায্য করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হয়, সেই যুদ্ধে নাকি মারা গিয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ। টানা ৮ বছর পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন খামেনি। ১৯৮০ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে থাকা ইরানের সমস্ত সম্পদ জব্দ করা হয়। এমনকি ইরানের উপর চাপানো হয় বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা। না, তারপর থেকে আর কখনোই দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি। বরং উত্তেজনার পারদ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। একের পর এক চলেছে বাকযুদ্ধ। তবে অল্প বিস্তার বাণিজ্য চললেও ১৯৮৪ সালে ইরানকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র হিসেবে দেগে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক তার চার বছর পর, ইরানের একটি যাত্রীবাহী জাহাজে চলে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা। যেটি ইরান থেকে যাচ্ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে। এই ঘটনাটা ছিল অনেকটা আগুনে ঘি ঢালার মতো। মার্কিনি বাহিনীর যুক্তি ছিল, তারা ওই বিমানটিকে যুদ্ধবিমান ভেবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।

     

    তারপর থেকে ইরান আচরণে বুঝিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েল তাদের প্রধান শত্রু। ২০১৫ সালে চুক্তির মাধ্যমে ইরান সম্মত হয়েছিল, তার আণবিক কার্যক্রম কমিয়ে দেবে। তার পরিবর্তে ইরানের শর্ত ছিল যে তার উপর থেকে তুলে নিতে হবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই কথা রাখেনি। ১৯১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান। ইরানও একরোখা। মুহূর্তে পাল্টি খায়। নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই, ব্যালেন্সটিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান বুঝে গিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার কথা বুঝছে না। তেহরানের স্বার্থের কথা ভাবছে না। তখন ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ফিরেও তাকাতে চায় না। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটা রীতিমত ফলাও করে ঘোষণা করে দিয়েছে, ২০১৫ সালে আণবিক চুক্তির দ্বারা আরোপিত বিধি নিষেধ তারা মানবে না। ২০২০ তে এসে ইরাকে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি মারা গেলে, চরমে পৌঁছায় দুই দেশের উত্তেজনা। তারপর থেকে আপাতত যা পরিস্থিতি, দেখতেই তো পাচ্ছেন। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার যেন কোনো আশাই যেন আর নেই। উল্টে ইরানকে দাবিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে আণবিক কর্মসূচি। যদি বড় কোন ভূ রাজনৈতিক স্বার্থ না থাকে, তাহলে এই দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে কোনদিনও হাত মেলাবে না।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Exit mobile version