Tag: Joe Biden

  • Iran-Iraq: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ ! হতে পারে কী ইরান-ইরাকের মহা-জোট ?

    Iran-Iraq: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ ! হতে পারে কী ইরান-ইরাকের মহা-জোট ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Iran-Iraq: চরম শত্রুতার তিক্ততা ভুলে আবার কাছাকাছি ইরান আর ইরাক। বন্ধুত্বের দাম দিতেই কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন ইরাকের ধর্মীয় নেতা? মধ্যপ্রাচ্যের এত সংকটেও ইরাক চুপ ছিল, কিন্তু আর নয়। এবার মুখ খুললেন ইরাকের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা মুকতাদা আল সদর। ইরানের সাথে ইরাকের শত্রুতা মিটলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরাক এখনো কেন এত শত্রুতা জিইয়ে রেখেছে? রাফায় ইসরায়েলের হামলা দেখে যুক্তরাষ্ট্রের উপর ক্ষোভে ফেটে পড়ল ইরাক দেশটা। ব্যাপারটা কী? বিগত সাত মাস ধরে হামাস আর ইসরায়েলের যুদ্ধ চলছে, তাহলে এতদিন ইরাক কোথায় ছিল? মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটে বেশিরভাগই দেশ কিন্তু কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু ইরাকের চুপ থাকার কারণটা টা কী? ইসরায়েল নয় বরং হঠাৎ চিৎকার করতে শুরু করল যুক্তরাষ্ট্রের উপর। ইরাক, ইরান আর যুক্তরাষ্ট্র, এই তিন দেশের মধ্যে শত্রুতার আর বন্ধুত্বের ইতিহাস একটা সময় নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বিশ্ব রাজনীতির ভীত। একবার ইরান আর ইরাক এক হয়ে গেলে, মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে কোনঠাসা হয়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র আল ইসরায়েল।

     

    ইসরায়েলের রাগ যুক্তরাষ্ট্রের উপর মেটাচ্ছে ইরাক, সংঘাতে নতুন মোড়

    হামাসের হামলার পাল্টা জবাব দিতে গত সাত মাস ধরে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েল হামলা চালাচ্ছে। টার্গেট কিন্তু হামাস। কিন্তু মাঝখান দিয়ে পড়ে পড়ে মার খাচ্ছে গাজার সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি ফিলিস্তিনের গাজার একটা আশ্রয় শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় কয়েক ডজন বেসামরিক মানুষ মারা গিয়েছেন। আর এই ঘটনায় ঘুরপথে যুক্তরাষ্ট্রের উপর রাগ মেটালো ইরাক। ইসরায়েল নয়, বরং এই হামলায় প্রতিক্রিয়ায় একটি বিবৃতি পোস্ট করে ইরাকের ধর্মীয় নেতা মুকতাদা আল সদর সমালোচনা করে বলেন, গাজায় যে কর্মকাণ্ড চলছে সেখানে নির্লজ্জ সমর্থন দিচ্ছে ওয়াশিংটন। তিনি ইরাকের বাগদাদ থেকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার সহ রক্তপাত ছাড়া কূটনৈতিক কৌশলে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। অপরদিকে ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কথায়, ইসরায়েল নিজের দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এসব বন্ধ করতে এবং ইসরায়েলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে আহ্বান জানিয়েছে ইরাক।

     

    কিন্তু ইরাক এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্দরে ইরাকের ধর্মীয় নেতার কথা নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে জোড় সমালোচনা। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস থাকবে নাকি থাকবে না, এই প্রশ্নটা বহুদিনের। ইরাক কিন্তু কখনোই চায় না, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস থাকুক। শুধু তাই নয়, এর বিরোধিতাও করেছে। যার নেপথ্যে কাজ করছে তীব্র রক্তাক্তের ইতিহাস। একটা সময় মিলিশিয়া বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া ধর্মীয় নেতা এই মুকতাদা আল সদর। আগাগোড়াই তিনি মার্কিন বিরোধী হিসেবেই পরিচিত। ২০০৩ সালের পরবর্তীকালে তিনি মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু মূল সমস্যাটা কি বলুন তো, ইরাকের তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি। দেশটার অভ্যন্তরে এই নেতার রয়েছে লক্ষ লক্ষ অনুসারী। শুধু তাই নয়, ইরাকের জাতীয় রাজনীতিতেও তার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। যদি তিনি এভাবেই বারংবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধচারণ করেন, তাহলে দেশটার অভ্যন্তরে বেশ চাপে পড়বে মার্কিন দূতাবাস। আর সেটাই হচ্ছে। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করার জন্য ইরাকের নতুন অস্ত্র, গাজায় ইসরায়েলি হামলা।

     

    শত্রুতা নয়, বন্ধুত্বের নীতিতে ইরান আর ইরাক! ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্রের মাস্টারপ্ল্যান

    ২০০৩ সালে ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে বলে অভিযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র। তারপর মিত্রদের নিয়ে ব্যাপক হামলা চালায় ইরাকে। ক্ষমতাচ্যুত করে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে। পাশাপাশি দেশটাতে চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। যদিও ২০১১ সালে মার্কিন সেনাদের ইরাক থেকে প্রত্যাহার করা হয়, কিন্তু ঠিক তার তিন বছর পর অর্থাৎ ২০১৪ সালে সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট ইরাকে প্রভাব বিস্তার করলে তাদের দমনে আবার ফিরে আসে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা। মোটামুটি ভাবে নিজের দেশের অভ্যন্তরে মার্কিনী কোন প্রভাবই যেন সহ্য করতে পারে না ইরাক। এইতো গত বছরের কথা, যখন তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ইরাকের প্রেসিডেন্ট আব্দুল লতিফ রশিদ। তখন খামেনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র নাকি কারো নির্ভরযোগ্য কোনো বন্ধু হতেই পারেনা।

     

    ইরাকের মাটিতে কোন মার্কিন সেনাকেই থাকতে দেওয়া উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের বন্ধু নয়। এমনকি তারা তাদের ইউরোপীয় বন্ধুদের প্রতিও বিশ্বস্ত নয়। ইরাকের মতোই ইরান প্রতিবেশী এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি চরম বিরোধী। খামেনির মতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের অন্যতম কারণ, পশ্চিমী দেশগুলোর সেনাদের হস্তক্ষেপ। ইরান আর ইরাক একসময় দীর্ঘ ৮ বছর ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে ছিল, যেখানে বড় মাস্টারমাইন্ড এর কাজ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আর আজ সেই ইরাক আর ইরান মেতেছে বন্ধুত্বের নীতিতে। আর চাপে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান আর ইরাক কিন্তু নিজেদের মতো করে সম্পর্কের ক্ষত পূরণে ব্যস্ত। দুই দেশই নিজেদের সম্পর্ক উন্নয়নে বেশ সচেতন।

     

    ইরাক-ইরানের গভীর ক্ষতে প্রলেপ, রুখে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

    যদি মধ্যপ্রাচ্যের কুটনৈতিক রাজনীতির দিকে দেখে তাকান, দেখবেন কে যে কখন কার বন্ধু হয়েছে, আর কে যে কার কখন শত্রু হয়েছে, তা বোঝা মুশকিল। আজ যে ইরাক আর ইরান বন্ধুত্বের সম্পর্কে রয়েছে, একটা সময় ছিল এই দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মেতেছিল। শুরু হয়েছিল ১৯৮০ সালে। ১৯৮০ সালে ইরাকি সুপ্রিম লিডার সাদ্দাম হোসেন ইরান আক্রমণ করলে সূচনা হয় বিংশ শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, চলে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত। এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে চলা যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছিল প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের প্রাণ। বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ। এই বিরোধের অন্যতম কারণ ছিল দুই দেশের মধ্যে থাকা রাজনৈতিক আর সামরিক বিরোধ, যা বৃদ্ধি পেয়েছিল ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর। একদিকে যখন ইরাকে ক্ষমতায় আসছেন সাদ্দাম হোসেন, অপরদিকে ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের ক্ষমতায় আছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এই দুই ব্যক্তির মধ্যে কখনোই বন্ধুত্ব ছিল না।

     

    বলা হয়ে থাকে, এই যুদ্ধের পুরোটা সময় জুড়েই নাকি সৌদি আরব, কুয়েত তার প্রতিবেশী বহু আরব রাষ্ট্র সরাসরি ইরাককে সমর্থন করেছিল। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত কৌশলভাবে দাঁড়িয়েছিল ইরাকের পাশে। আবার অপরদিকে সিরিয়া, লিবিয়া ছিল ইরানের পক্ষে। তবে এই যুদ্ধে কুর্দি গণহত্যার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইরাকের আর সাদ্দামের ভাবমূর্তি। পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে ইরাকের তৈরি হয় একটা বিস্তর দূরত্ব। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার জন্য সরাসরি সাদ্দামকে দায়ী করেছিল।। অপরদিকে সাদ্দাম সেই অভিযোগ অস্বীকার করে তার দায় চাপিয়েছিল ইরানের উপর। ১৯৮৮ সালে যখন দুই দেশ যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, অর্থনীতি পৌঁছে যায় একদম ভাঙনের দোরগোড়ায়, তখন জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় অস্ত্র বিরতিতে সম্মত হয় ইরান। অপরদিকে ইরাক যুদ্ধ বিরতির জন্য মেনে নেয় ইরানের দেওয়া শর্ত সমূহ। ইরান থেকে সকল সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। যার মধ্যে শেষ হয় ৮ বছরব্যাপী ইরাক ইরান যুদ্ধ। এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কিন্তু কোনো পক্ষই জয়ী হয়নি। কারণ যে লক্ষ্য নিয়ে তারা যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল, তার বেশিরভাগটাই অপূর্ণ থেকে যায়। পাশাপাশি কোন দেশেই প্রতিপক্ষের সরকারের পতন ঘটেনি। উল্টে স্থবির হয়ে গিয়েছিল দুই দেশের ক্রমশ বর্ধমান অর্থনীতির চাকা। সেই জায়গা থেকে কিন্তু আজ দুই দেশ বন্ধুত্বের নীতিতে চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করছে, আর অপরদিকে পুরোপুরি ভাবে কালপ্রিট বানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

     

    ওদিকে ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বের কথা তো জানেনই। যার জেরে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য। ইরানের খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে, তেহরানের উপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, পারমাণবিক শক্তি অর্জনের আকাঙ্ক্ষাস সহ মধ্যপ্রাচ্যে উভয় রাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের আগ্রহ থাকায় এই দুই দেশের মধ্যে বিগত পাঁচ দশক ধরে যে দ্বন্দ্ব চলছে, তা এখন গোটা বিশ্বব্যাপী আলোচনা এবং ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ শুনলে আশ্চর্য হবেন, আজ যে যুক্তরাষ্ট্র আর ইরান একে অপরকে চরম শত্রুভাবে, একসময় তাদের ছিল বন্ধুত্বের সম্পর্ক। প্রায় দীর্ঘ ২৬ বছর ছিল সেই বন্ধুত্ব। কিন্তু আসলে কি বলুন তো, স্বার্থকেন্দ্রিক এই বিশ্ব রাজনীতিতে সম্পর্কের উত্থান কিংবা পতন অনেকটা রাত আর দিনের বদলের ঘটনার মতো। ১৯৭৯ সালে খামেনি ক্ষমতায় আসার পর, সেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ইরান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলকে। ১৯৯০ সালের পর থেকে ইসরায়েল অভিযোগ করে আসছে, ইরান নাকি পরমাণু অস্ত্র বানাচ্ছে, আর এই পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপাতেই, সেই যে শত্রুতার তিক্ততা শুরু হলো, তা এখনো মেটেনি। এবার মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত পুরনো সংঘাতকে নতুন করে উসকে দিচ্ছে হামাস আর ইসরায়েল দ্বন্দ্ব। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জোট বাঁধতে পারে ইরান আর ইরাক।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Israel-Saudi Arabia: ফিলিস্তিন ইরানকে উপেক্ষা সৌদি আরবের ! হঠাৎ কেন হাত মেলাচ্ছেন জো বাইডেন ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।। 

     

     

    Israel-Saudi Arabia: এবার মধ্যপ্রাচ্যের দ্বন্দ্বে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে চলেছে পশ্চিমা বিশ্ব। দলাদলিটা তাহলে শুরু হয়েই গেল। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, তো একদিকে চীন। ওয়াশিংটন যখন মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশকে হাতে রাখতে চাইছে, তখনই সেই মধ্যপ্রাচ্যে আবার একদল দেশ হাত মেলাচ্ছে চীনের সঙ্গে। চীন নাকি যুক্তরাষ্ট্র? মধ্যপ্রাচ্যে কার রাজত্ব চলবে? এটাই এখন একটা ভাইটাল প্রশ্ন। হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে কেন? এর থেকে বড় ফায়দা পেয়ে যাবে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যে থেকেও অন্যান্য দেশের থেকে আলাদা সৌদি, কারণটা কী? সৌদি যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একবার হাত মেলায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলো চাপে পড়তে বেশিক্ষণ সময় লাগবে না। আর ঠিক এটাই কি চাইছিলেন জো বাইডেন?

     

    ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের পর ইসরায়েল হামাসের সংঘাতে জড়িয়ে, বারংবার নানান বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে অবস্থান নিয়ে উঠেছে একগুচ্ছ প্রশ্ন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব হারাতে পারে দেশটা। সেই ভয়েই হয়ত যুক্তরাষ্ট্র এবার খেলছে একটু ঘুর পথে। হাতে রাখতে চাইছে সৌদি আরবকে। আবার ওদিকে মাস্টার গেম খেলছে চীন। চীন আর যুক্তরাষ্ট্র দুই শক্তিধর রাষ্ট্র ইসরায়েল ইরান আর হামাসের মধ্যে হওয়ার সংঘাতে কোনো ফায়দা লুটতে চাইছে না তো?

     

    সৌদি আরবকে কাছে টানছে যুক্তরাষ্ট্র, নেপথ্যে বড় স্বার্থ

    এত প্রশ্ন উঠতই না, যদি না হঠাৎ করে বেইজিং আর ওয়াশিংটন তাদের কূটনৈতিক চালে এত বড়সড় পরিবর্তন আনত। যে সৌদি আরবের উপর যুক্তরাষ্ট্র প্রাণঘাতী অস্ত্রের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, সেই যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। ইয়েমেনে বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যায় নাকি সৌদি আরব ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র। সেই উদ্বেগ থেকে বাইডেন সৌদিতে মারাত্মক সব অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেন। ২০১৮ সালে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে সৌদির উপর বেশ ক্ষেপে ছিল মার্কিন প্রশাসন। যদিও বহু আগে থেকেই যুগের পর যুগ মার্কিন সরকার সৌদির কাছে মারাত্মক সব অস্ত্র বেচে এসেছে। কিন্তু মাঝখানে নানান কারণে দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকে তিক্ততা। যার জেরে সৌদি আরবের উপর শক্ত অবস্থান নিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু হঠাৎ করে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের অবস্থান আরো শক্ত করতে সৌদি আরবের উপর নরম হচ্ছে দেশটা।

     

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের কথায়, যুক্তরাষ্ট্র আর সৌদি আরব নিজেদের মধ্যে সম্পর্ককে স্বাভাবিক করতে চায়। তাই পৌঁছে গিয়েছে একগুচ্ছ চুক্তির কাছাকাছি। সেই তালিকায় রয়েছে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি প্রভৃতি। দেখুন, এই সম্পর্ক স্বাভাবিকের দিকে যাওয়া মানে সৌদি উপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিতে পারে। এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। শুধু তাই নয়, কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে, হয়তো বা নেপথ্যে আর একটা বিষয় নিয়ে চলছে দরকষাকষি। সেটা হল, ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্থাপন। যেখানে বড় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে বাইডেন প্রশাসন। যদি তেল আবিব আর রিয়াদ একসাথে হাত মেলায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে দেখা দিতে পারে দ্বিধা বিভক্ত রাজনীতি। এমনি থেকেই গাজায় হামলার কারণে ইসরায়েল বেশ কোণঠাসা, এমত পরিস্থিতিতে যদি একবার প্রকাশ্যে সৌদি আরবের সাপোর্ট পেয়ে যায়, তাহলে কয়েকগুণ ক্ষমতা বেড়ে যাবে ইসরায়েলের। আরো মারাত্মক হতে পারে গাজা যুদ্ধ।

     

    বড় চাল চীনের, মধ্যপ্রাচ্যে ভেস্তে যাবে বাইডেনের প্ল্যান

    একদিকে যখন যুক্তরাষ্ট্র আর সৌদি আরব এক হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে, অপরদিকে মধ্যপ্রাচ্যকে হাতে রাখতে বড় চালটা চেলে দিয়েছে বেইজিং। চীন সফরে গিয়েছে মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন আর তিউনিসিয়ার নেতারা। যোগ দিয়েছেন চায়না আরব স্টেটস কো অপারেশন ফোরামের ১০ম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে। আরব নেতাদের তালিকায় রয়েছেনা মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, বাহরাইন এর বাদশাহ হামাদ আর তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদ। চীনে হঠাৎ করে আরব দেশের এই নেতাদের সফর কিন্তু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ চলমান হামাস আর ইসরায়েলের মধ্যে যে সংঘাত চলছে, তা নিরসনে মধ্যস্থকারীর ভূমিকা পালন করতে চাইছে চীন। আর ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে বেজিংয়ের সঙ্গে আরব নেতাদের এই সম্মিলন। চীন প্রথম থেকেই হামাস আর ইসরায়েলের সংঘাতে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সমর্থনকারী । আবার ঐতিহাসিকভাবে কিছুটা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতিশীল। ওদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে বেশ তিক্ততা রয়েছে দুই দেশের মধ্যে। গত নভেম্বরে ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘাত বাঁধলে চীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, সৌদি আরব আর জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছিল।

     

    কোন পক্ষে সৌদি আরব? ইসরায়েল নাকি ফিলিস্তিন?

    মধ্যপ্রাচ্যের যতগুলো প্রভাবশালী দেশ রয়েছে তার প্রথম সারিতেই রয়েছে সৌদি আরব। ধর্মীয় কারণে বিশ্বের বহু দেশের কাছে সৌদি আরবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজ হওয়ার পর থেকে নিজের ক্ষমতাকে আরো সুসংহত করতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শক্ত হাতে দমন করেছেন তিনি। এই যে এতদিন ধরে একদিকে ইসরায়েল আর অপরদিকে ইরান আর হামাস দ্বন্দের মাঝে সৌদি আরব কোন পক্ষ নেয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের একটা শক্তিশালী রাষ্ট্র হয়েও নিরপেক্ষ থেকেছে। ইরান বলুন আর ইসরায়েল, এই দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা মাখোমাখো নয়। সম্প্রতি সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা সমাধানে জোর দিয়েছেন দ্বিরাষ্ট্রের উপর। তার কথায়, এই অঞ্চলের স্থায়ী শান্তি আর নিরাপত্তার ভিত্তি হল দ্বিরাষ্ট্র সমাধান ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার আর নিরাপত্তার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যমতের লক্ষণ রয়েছে।

     

    এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবিলম্বে যুদ্ধ বিরতি সহ জিম্মিদের মুক্তির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত। কারণ দ্রুত খারাপ হচ্ছে গাজার মানবিক পরিস্থিতি। আর সেই অবস্থা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। শুধু তাই নয়, তিনি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রশংসা করেছেন নরওয়ে স্পেন এবং আয়ারল্যান্ডের। আরো বলেন, অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোরও এই একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার কথা বিবেচনা করতে হবে। সৌদির এই বক্তব্যে ফিলিস্তিনি পন্থী বহু রাষ্ট্রের কূটনীতিক মনে করছেন, দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের কথা বলছে সৌদি, মানে তাহলে কি ইসরায়েলকে স্বীকৃতির বড় ইঙ্গিত দিয়ে দিল? এখনো পর্যন্ত ইসরায়েল আর হামাসের সংঘাত বন্ধে বিবৃতি দেওয়া ছাড়া বড় কোন স্টেপ নেইনি সৌদি আরব। হয়ত ইসরায়েলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ঠিক করতে চলেছে। জোর গুঞ্জন কূটনৈতিক মহলে।

     

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Iran-Russia: ইরানকে পাশে নিয়ে রাশিয়ার কড়া জবাব ! কী করবে যুক্তরাষ্ট্র ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Iran-Russia: ইসরায়েল আর ইরানের সংঘাতে প্রচুর লাভ রাশিয়ার। ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের মোড় ঘুরছে ইরান আর ইসরায়েলের দিকে। যুক্তরাষ্ট্রকে নাগপাশে বাঁধতে, ইরানই রাশিয়ার শক্ত ঘুঁটি। তলে তলে ইরানকে ঘিরে বড় স্বপ্ন পুতিনের। শুধুই বন্ধুত্ব, নাকি বড় কোন স্বার্থ? মধ্যপ্রাচ্যকে হাতের মুঠোয় রাখতে পুতিনের নয়া প্ল্যান। ইরানের সাথে রাশিয়ার হঠাৎ এত বন্ধুত্ব কেন? পুতিন নিজের বদনাম ঘোচাতে অস্ত্র বানাচ্ছেন ইরানকে! সমালোচক মহলের এত সংশয় আদৌ কি সত্যি?

     

    ইরান রাশিয়ার নতুন জোট, স্বার্থ নাকি বন্ধুত্ব?

    যদি বলা হয়, ইরান আর ইসরায়েলের সংঘাতে রাশিয়া খুঁজছে স্বার্থের গন্ধ, তাহলে অনেকেই বিতর্ক খুঁজবেন। আবার কেউ বা খুঁজবেন আসল কারণ। দেখুন, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশই চলে নিজস্ব নীতিতে এবং নিজেদের স্বার্থে। আর সেই নীতিতেই গড়ে তোলে কূটনৈতিক সম্পর্ক। সেই জায়গা থেকে কিন্তু বিন্দুমাত্র পিছিয়ে নেই রাশিয়া। এই যে ইরান আর ইসরায়েলের সংঘাত কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনের সংঘাত, এখানে কিন্তু ইসরায়েলের বিপক্ষে থেকে বড় লাভ করতে চলেছে রাশিয়া। রয়েছে বেশ কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। রাশিয়ার সঙ্গে হামাসই বলুন, আর ইরান, দুই পক্ষের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। একদিকে যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রতিপত্তি বাড়াতে, ইসরায়েলের পক্ষে থেকে দল ভারী করার চেষ্টা করছে। তখন রাশিয়াও মেতেছে, সেই একই কূটনৈতিক খেলায়।

     

    বহুবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, মস্কো নাকি হামাসকে অস্ত্র সরবরাহ করে, পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দেয় হামাস সদস্যদের । যদিও এটা গুঞ্জন হিসেবেই থেকে গিয়েছে, পোক্ত প্রমাণ মেলেনি। তবে এটা ঠিক যে, হামাসের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। রাশিয়া কখনোই হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলেনি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, হয়ত ভ্লাদিমির পুতিন মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত চলছে তার জন্য সরাসরি দায়ী নন। কিন্তু এই সংঘাতের সুফল তিনি কিছুটা পেতে পারেন। সেই ২০২২ এ শুরু হয়েছে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ। গোটা বিশ্বের নজরও ছিল সেই দিকে। একের পর এক নিষেধাজ্ঞার বোঝা সামলাতে হচ্ছে রাশিয়াকে। তার উপর সাথে রয়েছে প্রচুর বদনাম। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই, আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এখন প্রধান খবর হয়ে উঠেছে ইরান, ইসরায়েল আর হামাস। অর্থাৎ খবরের শিরোনামগুলো রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে সরে গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে।

     

    কূটনৈতিক কৌশলে রাশিয়ার হাতিয়ার ইরান

    গোটা বিশ্ব জানে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে গিয়ে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ করছে পশ্চিমারা। রাশিয়ার কর্মকর্তারা মনে করছে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে পশ্চিমাদের অস্ত্র সরবরাহের একটা বড় অংশ এবার ইউক্রেন নয়, ঘুরে যাবে ইসরায়েলের দিকে। আর সেটাই কিন্তু হচ্ছে। আবার কোন কোন কূটনৈতিক সমালোচকের মতে, এই যে বারংবার রাশিয়া নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রতিষ্ঠায় ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছে, এই ধারণাটা ভুল। আসলে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব বাড়াতে ব্যস্ত। শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাশিয়ার যে বড় ভূমিকা থাকবে এটা একটা বিতর্কিত ভাবনা। কারণ রাশিয়া সেই দেশ, যে দেশ বিগত প্রায় দুই বছর ধরে প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানেও বহু মানুষের মৃত্যু ঘটছে, রীতিমত চলছে বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ।

     

    আরেকটা বড় কারণ হল, মধ্যপ্রাচ্যের একটা শক্ত ঘুঁটি ইরান। ইরান যদি ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়, তাহলে প্রতিরক্ষা কৌশলের ক্ষেত্রে রাশিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা দেশ। বিশেষ করে ইসরায়েলি স্টিলথ ফাইটার জেট কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র গুলি দমন করতে, ইরানিদের কাছে রাশিয়ার উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে। আর এই ফাঁকে, সামরিক ক্ষেত্রে চূড়ান্ত হতে পারে বড় বড় চুক্তি। সেখানেও লাভ রাশিয়ার। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার শীর্ষ বিদেশ নীতিতেও অগ্রাধিকার পাচ্ছে ইউক্রেনের যুদ্ধ। কিন্তু তাও মধ্যপ্রাচ্যের ছোট ছোট ঘটনাগুলোকে উপেক্ষা করতে পারছেন না পুতিন। দিনের পর দিন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে নতুন চুক্তির পরিণতি।

     

    যুক্তরাষ্ট্র দায়িত্বজ্ঞানহীন রাষ্ট্র, রাশিয়ার দাবি সত্যি হলে বড় লাভ!

    ইরান আর ইসরায়েলের মধ্যে যে সংঘাত চলছে তার অবসান কিন্তু অন্যান্য উপায়ে এই অঞ্চলে আরো শক্তিশালী করতে পারে রাশিয়ার প্রভাবকে। অপরদিকে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের মনে গেঁথে যাবে যে, যুক্তরাষ্ট্র দায়িত্বজ্ঞানহীন একটা রাষ্ট্র। সেখানেও আখেরে লাভ পুতিনেরই। কারণ গাজা যুদ্ধ চলছে প্রায় সাত মাস ধরে। এই নিরাপত্তাহীনতা অঞ্চলের মানুষের কাছে আরও শক্তিশালী করছে রাশিয়ার বার্তা। বার্তাটা হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর এই অঞ্চলে গিয়ে সঠিকভাবে ব্যালেন্স করতে পারছে না। এমত পরিস্থিতিতে যখনই মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যুক্তরাষ্ট্র বেশি ঝুঁকছে, অপরদিকে কিন্তু ইউক্রেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ কমছে। রাশিয়া হয়ত এটাই চাইছিল। যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা, ইউক্রেনে মার্কিন সমর্থনের ভবিষ্যৎকে ফেলে দিয়েছে সন্দেহের মধ্যে। আর সেই সুযোগে রাশিয়া ইউক্রেনে বহু অঞ্চলে আরো জোরদার করেছে হামলা। ইরানের ইব্রাহিম রাইসি আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে একটা অভিন্ন বিষয় ছিল। উভয়ই ব্যক্তিগতভাবে পড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে। দুজনে এই গাজার যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে মিলিত হয়েছিলেন রাশিয়ার ক্রেমলিনে।

     

    যদি ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকান তাহলে দেখতে পাবেন, একটা সময় রাশিয়া ইরান কিংবা চীনের মধ্যে এতটাও বন্ধুত্ব ছিল না। এরা ভিতরে ভিতরে সাম্রাজ্যবাদী। একটা সময় পরস্পরের প্রতিবেশী দেশগুলোয় হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে। এশিয়ার বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রীতিমত কাড়াকাড়ি করত। কিন্তু সবকিছুর পাশা পাল্টে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ আর কর্মকাণ্ডে এই দেশ গুলোই জোট বাঁধছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। একটা সময়ে ইরান ইসরায়েল আর রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক একেবারেই স্বাভাবিক ছিল না। আজ যে, ইসরায়েলের সঙ্গে রাশিয়ার অনেকটা তিক্ততা ভাব, বছর ছয় আগে এমনটা ছিল না। মস্কোর সঙ্গে ইসরায়েলের বেশ ভালই ঘনিষ্ঠতা ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় স্মরণে মস্কোতে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাক পেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। পুতিন সেই সময় ভারসাম্যের চেষ্টা করছিল, ইরান আর ইসরায়েলের সঙ্গে। সিরিয়ায় রাশিয়ার একটা বিমান ঘাঁটি রয়েছে, যেখান থেকে শক্তিশালী রাডার আর ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সহজেই ইরানের মিত্র হিসেবে ইসরায়েলের বিমান তৎপরতা বাধা দিতে পারতো। কিন্তু রাশিয়া সেই সময় এমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বরং সিরিয়া আর লেবাননের উপর হামলার জন্য ইসরায়েলের কাছে উন্মুক্ত করে দিয়েছিল আকাশপথেকে। তবে রাশিয়া আর ইরানকে অনেকটা কাছাকাছি এনেছে সিরিয়া যুদ্ধ ।

     

    এখন রাশিয়া, ইরান, চীন, এই তিন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি প্রায় একই। গড়ে তুলতে চায়, যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যহীন একটা বিশ্ব ব্যবস্থা। আরো দৃঢ় করতে চায় নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক বন্ধনকে। যেখানে লাভ ওই তিন রাষ্ট্রের। ২০২২ সাল থেকে ইরান রাশিয়াকে ড্রোন আর অস্ত্র সরবরাহ করছে, যে অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে ইউক্রেনে। শুধু তাই নয়, চলতি বছরের শুরুতে রাশিয়াকে ট্যাঙ্কার যোগে ইরান পাঠিয়েছিল প্রায় দশ লক্ষ ব্যারেল তেল। ইরান আর রাশিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষায় প্রচুর ভিন্নতা রয়েছে। তারপরেও নিজেদের কূটনৈতিক স্বার্থে হাত মিলিয়েছে দুই দেশ। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ, পারমানবিক চুক্তি কিংবা চীনের ভূমিকার মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই রাষ্ট্রের মতামত ভিন্ন। যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে থাকা পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসেছিলেন, তখন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেছিলেন, এই সিদ্ধান্তে নাকি বেশ খুশি রাশিয়া। কারণ যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপের জোট যদি ভাঙা যায়, তাহলে সেক্ষেত্রে জয় হবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির। মস্কো যুক্তরাষ্ট্রকে ফুটিয়ে তুলতে পারবে, একটা অনির্ভরযোগ্য রাষ্ট্র হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যেমন সিরিয়া, লিবিয়া, তুরস্কের মতো দেশ গুলো নীতি গ্রহণ করবে তাদের নিজের মতো করে। আর সেই জায়গায় মধ্যপ্রাচ্যের মাটি হারাবে ওয়াশিংটন, অপরদিকে ক্ষমতা বাড়বে মস্কোর।

     

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • India-Iran Relations: রাইসির মৃত্যুর পর কেমন হতে চলেছে ভারত ইরান সম্পর্ক; যুক্তরাষ্ট্রের নজর কোন দিকে ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    India-Iran Relations: ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর পরেই কি, ভারত ইরানের সম্পর্কের অঙ্কটা বদলে যাবে? তাহলে নিশ্চয়ই মনে মনে খুশি হবে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে নতুন প্রেসিডেন্ট এলে, তিনি ভারতের সঙ্গে হওয়া ইরানের সমস্ত চুক্তি বজায় রাখবেন, নাকি বাতিল করে দেবেন? কূটনৈতিক মহলে উঠছে একগুচ্ছ সংশয়। মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের জায়গা শক্ত করতে ইরানের বড় ভূমিকা। সেখানেই এবার কোপ পড়বে না তো? ভারত আর ইরানের বন্ধুত্বের গভীরতা জানলে অবাক হবেন। যেখানে হাজারো চেষ্টা করে ফাটল ধরাতে পারেনি পশ্চিমি দেশগুলো। এবার কোন দিকে মোড় নেবে ভারত-ইরানের সম্পর্ক?

     

    মোদীর পাশে ছিলেন রাইসি, ব্যাকফুটে পাকিস্তান

    ইরান এখন যাচ্ছে মারাত্মক খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে। তাদের দেশের স্ট্রং পিলার অর্থাৎ ইব্রাহিম রাইসি আর নেই। খুব শীঘ্রই নির্বাচন হবে, তারপর ক্ষমতায় আসবেন ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট। এসবের মাঝেই কূটনৈতিক মহলে জোরালো হয়েছে একটা প্রশ্ন। ভারত আর ইরানের মাঝে যে চুক্তি হয়েছে, যে সম্পর্ক দৃঢ়তা পাচ্ছিল, সেখানে কি ভাঙ্গন ধরবে? কারণ একটাই, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান নিরপেক্ষ থাকলেও, বিতর্ক কম নেই। বিগত ১০ বছর ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চেষ্টা করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছে ইরান। স্বাভাবিকভাবেই, ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর পর এমন কতগুলো পয়েন্ট তৈরি হয়েছে, যেখানে বড় লোকসান হতে পারে ভারতের।

     

    প্রথমেই আসবে কাশ্মীরের কথা। কিছু মাস আগে পর্যন্ত ইরান আর পাকিস্তানের সম্পর্ক কিন্তু একদমই ভালো ছিল না। একে অপরের ভূখণ্ডে হামলা পর্যন্ত করতে ছাড়েনি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময় ইব্রাহিম রাইসির হাত ধরেই জোড়া লেগেছে পাকিস্তান আর ইরানের ভাঙা সম্পর্ক। রাইসি পাকিস্তান সফরে গেলে, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে তাঁর সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কৌশলে বিষয়টা এড়িয়ে যান রাইসি। সোজা কথায়, পাকিস্তান আর ভারতের দ্বন্দ্বের মাঝে ঢুকতে চাননি তিনি। রাইসি কিন্তু আগাগোড়াই ইরান আর ভারতের বন্ধুত্বকে দেখেছেন আলাদা নজরে। বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাহলে বুঝতে পারছেন? আজ কিন্তু সেই মানুষটা নেই, তার পরিবর্তে যিনি আসবেন, তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে সমান গুরুত্ব দেবেন কিনা, সেটা বড় প্রশ্ন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, ইরানের দুই শত্রু রাষ্ট্র অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের ভালো সম্পর্ক। যদিও ভারত এই কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের মাঝে অত্যন্ত ব্যালেন্স করে। যার সব থেকে বড় প্রমাণ, ২০২১ সালে যখন রাইসি ইরানের প্রেসিডেন্টের পদে আসেন, সেই অনুষ্ঠান সভায় বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে । রাইসির মৃত্যুর কিছুদিন আগেই, ইরান আটক করেছিল একটা ইসরায়েলি জাহাজ। যেখানে ছিলেন বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাবিক। তাদেরকে মুক্তি দিতে দ্রুততার সঙ্গে তৎপরতা দেখিয়েছিল তেহরান। আর সেটা সম্পূর্ণ কিন্তু ভারতের সঙ্গে থাকা বন্ধুত্বের খাতিরে।

     

    ভারত-ইরান সহযোগী পার্টনার, পরস্পরকে কতটা গুরুত্ব দেয়?

    ভারত যদি ভারত আর ইরানের সম্পর্কের গভীরতা চুলচেরা ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে আরো দিক রয়েছে। যে জায়গা থেকে ইরান চাইলেও পিছু হটতে পারবে না। এইতো গত বছরে, যখন জোহানেসবার্গ এ ব্রিকস সম্মেলন হয়েছিল, তখন নরেন্দ্র মোদী দেখা করেছিলেন ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে। সেই সময় ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত ব্রিকসের যোগদানের জন্য তেহরানের আবেদনকে সমর্থন করেছিল নয়া দিল্লি। তারপর কয়েক মাস পরেই, আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকস সম্মেলনে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হয় ইরান। ইব্রাহিম রাইসি ভারত এবং শ্রীলঙ্কার সাথে দৃঢ় অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুললেও, পাকিস্তানের সাথে কিন্তু সেই সম্পর্কের খুব একটা অগ্রগতি হয়নি, মূলত তার সংগ্রামী অর্থনীতির কারণে। আসলে কি বলুন তো, রাইসি ক্ষমতায় আসার পরেই তার প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল এশিয়া।

     

    রাইসি তাঁর পূর্বসূরী হাসান রুহানির ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এক টানা পশ্চিমা ভিত্তিক কুটনৈতিক পদ্ধতির সমালোচনা করে গিয়েছেন। ক্ষমতায় আসতেই বেশি ফোকাস করেন এশিয়ার উপর। তারপর তো ভারতের সঙ্গে চাবাহার বন্দরের চুক্তির কথা শুনেইছেন। ইরান আর ভারতের এই বন্দর নিয়ে চুক্তিতে স্পষ্ট বলা আছে, ভারত এই বন্দরের উন্নয়ন আর ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করবে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার আর অবকাঠামোগত উন্নতির জন্য বিনিয়োগ করবে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার। দুই দেশের মধ্যে যথেষ্ট সুসম্পর্ক রয়েছে বলেই এত টাকার বিনিয়োগ। আর ইরানের চাবাহার বন্দরও ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা ভারতের কাছে বিশ্ব বাজারে দ্রুত প্রবেশ করার অন্যতম একটা পথ। ধারণা করা হচ্ছে, এই বন্দরে ভারতের মোট বিনিয়োগ পৌঁছে যাবে প্রায় ৫০ কোটি ডলারে। বন্দরটি রয়েছে গুজরাটের কান্ডালা বন্দর থেকে ৫৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে। যার মাধ্যমে ভারত খুব সহজে বাণিজ্য করতে পারবে আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়ার দেশসহ ইউরোপে।

     

    যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে ভারতের পাশে ইরান

    ইরানের সাথে বন্দর চুক্তির জন্য ভারতকে আবার পড়তে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখে। চাবাহার বন্দর চুক্তির মাধ্যমে ভারত এই প্রথম কোন বিদেশী সমুদ্র বন্দর পরিচালনা করার সুযোগ পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার হুমকির সামনেও ভারত সুন্দরভাবে সামলেছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। ইরানের সাথে এমনি থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো নয়। বিভিন্ন ইস্যুতে হোয়াইট হাউস ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকে। ইরানের রাষ্ট্রদূতের কথায়, এই বন্দর চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে না। ইরানের যুক্তি, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ভারতের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে তা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। আর ভারত এই বন্দরের দায়িত্ব নিয়েছে মানে, এই সমুদ্র বন্দর শুধুমাত্র ভারতই ব্যবহার করবে এমনটা নয়। এক্ষেত্রে যদি যুক্তরাষ্ট্র চাবাহার নিয়ে ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেও থাকে, তাহলে তা ওয়াশিংটনের বিপক্ষে চলে যেতে পারে বলে মনে করেছিলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তখনো কিন্তু একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্যুতে ভারতের হয়েই কথা বলেছে ইরান।

     

    ঐতিহাসিক আর সাংস্কৃতিক দিক থেকেও দুই দেশের মধ্যে রয়েছে গভীর সম্পর্ক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটলে, ভারত পশ্চিম এশিয়ার অধিকাংশ দেশের সাথে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। আর সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ইরান। দুই দেশ ১৯৫০ সালে প্রথম বন্ধুত্বের চুক্তির মধ্যে মাধ্যমে স্থাপন করেছিল কূটনৈতিক সম্পর্ক। ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবে দুই দেশের মধ্যে সূচনা হয় এক নতুন পর্যায়ের। নয়া দিল্লি আর তেহরানের মধ্যে বাণিজ্য আর সংযোগ কেন্দ্রিক সম্পর্কও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২.৩৩ বিলিয়ন ডলার। আসলে ২০২১ সালে রাইসি নির্বাচনের পরের অর্থবছরে বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, প্রায় ২১.৭৭ শতাংশ। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতের জন্য ইরান পারস্য উপসাগরে কাজ করে একটা স্থিতিশীল উপস্থিতি হিসেবে। আর তাই হয়তো দিনের পর দিন দুই দেশের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে সামরিক আর নিরাপত্তা সহযোগিতা।

     

    ইরানের পররাষ্ট্রনীতি সর্বদা বলে এসেছে, ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং আর্থিক দিক থেকেও তার দৃঢ় করতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে চায়। কিন্তু দুই দেশের সম্পর্কের বেশিরভাগ উত্থানপর্বটাই কিন্তু হয়েছে রাইসির সময়। স্বাভাবিকভাবেই, তিনি নেই মানে ,ওই ফাঁকা জায়গায় এখন কে আসবেন, আর তিনি আদৌ ভারতের সঙ্গে সেই সুসম্পর্ক বজায় রাখবেন কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি একবার চীন রাশিয়া পাকিস্তান আর ইরান জোট বাঁধে, তাহলে চাপে পড়তে পারে ভারত। তবে হ্যাঁ, এক্ষেত্রে হয়তো আশঙ্কাটা ফলপ্রসু নাও হতে পারে। কারণ ইরানের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার যতই হাত বদল হোক না কেন, ইরানের সমস্ত নীতি নির্ধারণ থেকে শুরু করে ক্ষমতার শীর্ষ পদে থাকেন ধর্মীয় নেতা। এখন সেই পদে রয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। রাইসির সময়ও তিনিই সমস্ত নীতি নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি ভারত আর ইরানের সম্পর্ক নিয়ে যথেষ্ট অবগত। তাই হয়তো ইরানের নতুন প্রেসিডেন্টে এলে, দুই দেশের সম্পর্কে খুব একটা বড় এফেক্ট পড়বে না বলেই মনে করছেন বহু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ।

     

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Israel-United States relations: ফিলিস্তিনের বড় স্বীকৃতি ! স্পেন নরওয়ে আয়ারল্যান্ড পাশে, বন্ধু ইসরাইলের সাথে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Israel-United States relations: আবার পাল্টি খেলেন জো বাইডেন! বাড়ছে ফিলিস্তিনের মর্যাদা, রাষ্ট্র হিসেবে একের পর এক দেশের থেকে পাচ্ছে স্বীকৃতি। রাগে ইসরায়েল নিল বড় স্টেপ। কূটনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণে ব্যাকফুটে নেতানিয়াহু, নরওয়েতে গেলেই গ্রেফতার হয়ে যাবেন। কোন বিপদে ইসরায়েল? যুক্তরাষ্ট্র যে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, তা কে না জানে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময় সেই বন্ধুত্বের অঙ্কে একটু গরমিল দেখা গিয়েছিল। তবে তা ছিল পুরোটাই ধোঁয়াশা। ইসরায়েল নাকি গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে না। আবারো নতুন করে জোট বাঁধছে ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্র। হামাসের সামনে নতুন বিপদ খাঁড়া করবে না তো? এবার নিষেধাজ্ঞা আসছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে।

     

    গাজায় গণহত্যা চলছে না? নেতানিয়াহুকে বাঁচাতে ব্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র

    গাজায় বেসামরিক মানুষের উপর হামলাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। ইসরায়েলে অস্ত্রের চালান স্থগিত করার কথা শোনা গিয়েছে বাইডেনের গলায়। কিন্তু সেসব পুরোটাই কি ছিল আইওয়াশ? কূটনৈতিক মহলে উঠেছে প্রশ্নের ঝড়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলেন আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান। একই সাথে তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানা চেয়েছেন হামাসের তিন কর্মকর্তা গাজার নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার, হামাশের কাসেম ব্রিগেড মিলিটারি উইং এর কমান্ডার মোহাম্মদ দাইফ এবং হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়ার বিরুদ্ধেও। আর এখানেই বড় আপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের। নেতানিয়াহুর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন পুনরায় আন্তর্জাতিক আদালতে উঠতেই নড়েচড়ে বসেছে মার্কিন আইন প্রণেতারা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলে দিয়েছেন, ইসরায়েলের নেতাদের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের যে প্রসিকিউটাররা গ্রেফতারি পরোয়ানা চেয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে মার্কিন আইন প্রণেতাদের সাথে একসঙ্গে কাজ করবেন।

     

    কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতদের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভুল। আর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বলা হচ্ছে, ব্লিঙ্কেনের এই ঘোষণা এমন একটা সময় এল, যখন আইসিসির কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষেত্রে চাপ বাড়ছে রিপাবলিকানদের উপর। এই বিষয়ে খুব দ্রুত ভোট হতে পারে। আসলে এখানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটা বড় জোর। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য দেশ নয়। আইসিসি যতই হম্বিতম্বি করুক না কেন, শুরুর দিকে কূটনৈতিক মহল বুঝে গিয়েছিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ক্ষমতা ঠিক কতটা। ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমের পুতিনের বিরুদ্ধেও আইসিসি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। কিন্তু তাতে পুতিনের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়নি। তখন আবার পুতিনের বিরুদ্ধে আনা আইসিসির সিদ্ধান্তকে সাপোর্ট করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখন যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, একটা দেশের স্বাধীন বৈধ এবং গণতান্ত্রিক বিচার প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই বিষয়ে নাক গলানো টা ঠিক হবে না। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আইসিসির পদক্ষেপ ভুল। আর তাতেই কূটনৈতিক মহলে উঠছে প্রশ্ন। যে যুক্তরাষ্ট্র বারংবার গাজায় বেসামরিক মানুষের হামলার বিরুদ্ধে ছিল, সেই যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ গ্রেফতারি পরোয়ানার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর পাশে কেন?

     

    হামাসকে হারাতে চান বাইডেন, নরওয়ে যা করতে পারে

    জো বাইডেন আপত্তি তুলে বলেছেন, গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদনটা আপত্তিকর। কারণ ইসরায়েল আর হামাসের মধ্যে কোন সমতা নেই। একই তালিকায় ইসরায়েল আর হামাসকে রাখার কোন মানেই হয় না। আপাতত যুক্তরাষ্ট্র শক্ত হাতে দাঁড়িয়েছে ইসরায়েলের পাশে। আইসিসির যে সমস্ত কর্মকর্তা এই মামলার সাথে জড়িত, তাদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা দেয়া হবে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে তাদের ভিসা প্রত্যাহার করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে তাদের যে কোন সম্পত্তি লেনদেনে চাপানো হবে নিষেধাজ্ঞা। আর এই প্রক্রিয়া ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত আইসিসি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের সুরক্ষিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে না নেয়। অপরদিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল নাকি গণহত্যা চালাচ্ছে না, বলে দাবি করেছেন বাইডেন। আর এই দাবি করে এখন তিনি ফিলিস্তিন বিক্ষোভকারীদের সমালোচনার মুখে। অথচ এই বাইডেন কিছুদিন আগে পর্যন্ত গাজায় বেসামরিক মানুষদের কথা বারংবার বলেছেন। তাদের হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গিয়েছেন। এখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করছে।

     

    এর আগেও কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অনুষ্ঠানে, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। ইসরায়েলকে কট্টর সমর্থন দেয়ার অভিযোগে, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিক্ষোভকারীরা দেগে দিয়েছে জেনোসাইড জো অর্থাৎ গণহত্যাকারী বলে। তবে বাইডেন এসবকে খুব একটা পাত্তা দেন না। উল্টে ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় দৃঢ় মার্কিন সমর্থনের কথা। বাইডেন জানিয়েছেন, তারা হামাস নেতা এবং হামাসের বাকিদের খুঁজে বের করতে ইসরায়েলের সঙ্গে আছে। যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে পরাজিত করতে চায়, আর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে হামাসকে পরাজিত করা যেতে পারে। পাশাপাশি হামাসের হাতে জিম্মি অসুস্থ বয়স্ক এবং আহত ইসরায়েলিদের মুক্ত করা যায়, সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। আর এই প্রস্তাবের সমর্থন জানিয়েছেন রিপাবলিক হাউসের অন্তত ৩৭ জন আইনপ্রণেতা। বুঝতে পারছেন? এই যে এতদিন ধরে জল্পনা চলছিল, নেতানিয়াহু নাকি গ্রেপ্তার হয়ে যেতে পারেন, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কি তাহলে আর এগিয়ে আসবে? প্রশ্নের উত্তরটা তাহলে শুনুন।

     

    আইসিসিতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যে ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়েছে, সেটা যদি সত্যি সত্যি জারি হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু তাঁকে গ্রেফতার করতে বাধ্য নরওয়ে। দেশটা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে পরোয়ানা জারি হলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করবে। এই প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে নরওয়ে এমন ঘোষণা করল। নরওয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডের কথায়, যদি হেগ ট্রাইব্যুনালের তরফ থেকে নেতানিয়াহু আর গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে, তাহলে তারা যখনই নরওয়েতে আসবে, তখনই নরওয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করতে বাধ্য থাকবে। নেতানিয়াহু নরওয়েতে গেলে যথেষ্ট রিস্ক রয়েছে।

     

    মর্যাদা বাড়ছে ফিলিস্তিনের, নয়া সমীকরণে চাপে ইসরায়েল

    একদিকে যখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সহ বহু দেশ বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে, তখন পাশে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে তখন নরওয়ে নিয়েছে বড় একটা সিদ্ধান্ত। বেশ কয়েকদিন ধরেই চর্চিত জল্পনাকে সিলমোহর দিল নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোর। তাঁর কথায়, আয়ারল্যান্ড আর স্পেনের পাশাপাশি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে নরওয়ে। তিনি মনে করেন, ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন উভয় পক্ষই শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। সাম্প্রতিক সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদের স্লোভেনিয়া, মাল্টা ইঙ্গিত দিয়েছিল তারা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিতে চলেছে। কারণ ওই অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রতিষ্ঠায় একটা দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান খুব দরকার। এবার একই সুর শোনা গেল, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর গলায়। তাঁর কথায়, যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ যখন মারা যাচ্ছে, তখন ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনিদের জন্য নিরাপদ ভূমি নিশ্চিত করতে হবে। আর তা হল দুই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।, যাতে তারা একে অপরের সঙ্গে শান্তিতে থাকতে পারে।

     

    প্রসঙ্গত এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে রাখি, এই নরওয়ে কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ নয়, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ। বহুদিন ধরেই বলে আসছে, যদি শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক হয় তবে ফিলিস্তিনকে তারা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। এই ধরনের কথা বলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম থেকেই ইসরায়েলকে বেশি সমর্থন করলেও, নরওয়ে প্রথম থেকেই রয়েছে ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনার মাঝে নিরপেক্ষ অবস্থানে। আগাগোড়াই শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে এসেছে দেশটা। এমত পরিস্থিতি থেকে যখন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছি ইউরোপে তিন দেশ, তখন সম্পর্কে আরো জটিলতা বাড়াচ্ছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনকে মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা করায় স্পেন, নরওয়ে আর আয়ারল্যান্ড এই তিন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার বার্তা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশে ফেরার নির্দেশও দিয়েছে ওই তিন দেশে থাকা ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতদের। যার জেরে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই তৈরি হতে চলেছে নয়া কূটনৈতিক সমীকরণ।

     

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Israel-US: ইরানের ভবিষ্যত কোন দিকে? ওঁত পেতেছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র, বড় বিপদের আশঙ্কা

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Israel-US: ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর পর ইরানের ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে? ভালো না খারাপ? চারিদিকে ছেয়ে আছে শত্রুরা। যে কোন মুহূর্তে ঘিরে ধরবে ইরানকে। এক খামেনি সবটা সামলাতে পারবেন তো? রাইসির অবর্তমানে বড় বিপদে মাঝে ফেঁসে গেল ইরান, দেশটার ভিতরেই বিদ্রোহের গন্ধ। নতুন প্রেসিডেন্ট রাইসির জায়গা আদৌ কি নিতে পারবে? মধ্যপ্রাচ্যে তিলে তিলে ইরান যে ক্ষমতা তৈরি করেছে, সেখানেই এবার বড় আশঙ্কা। ছেড়ে কথা বলবে না ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র। নতুন চালে ফাঁসিয়ে দিতে পারে রাইসির শত্রুরা।

     

    ইরানের অভ্যন্তরে ঘুন, রাইসির অবর্তমানে বিপদে দেশটা

    ইরানের কাছে যে মানুষটা ছিলেন প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রতীক, বলছি ইব্রাহিম রাইসির কথা। তিনি কিন্তু আর নেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পর এখন ইরানকে কে সামলাবে? ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তিত দেশটার বন্ধু প্রতিম রাষ্ট্রগুলো। কারণ গোটা বিশ্ব আন্দাজ করেছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পর ইব্রাহিম রাইসি আসবেন ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতায়। কিন্তু সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই সবটা শেষ। ইব্রাহিম রাইসি দাঁড়িয়েছিলেন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতার চূড়ার একদম খুব কাছাকাছি। কিন্তু হঠাৎ যেন একটা নাটকীয় মোড় ওলট-পালট করে দিও সাজানো অঙ্কটা। খামেনির পর ইরানের শীর্ষ ক্ষমতায় কে আসবেন, সেই জল্পনার অবসান ঘটালো রাইসির মৃত্যু। এখন শোকে বিধ্বস্ত গোটা ইরান। কিন্তু দেশটার দায়িত্ব তো সামলাতে হবে। বহুদিন ধরেই ৮৫ বছর বয়সী খামেনির শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। এই মুহূর্তে ইরানের একজন দক্ষ এবং দায়িত্বশীল নেতা দরকার। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ইরানের কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচিত ছিলেন রাইসি।

     

    যে নীতিতে অথবা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে ইরান চলতো, সেখানে কিন্তু একটা বড় ধাক্কা খেতে পারে দেশটা। কারণ রাইসির সময়কালে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা কম ছিল না। তাকে কম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি। সেই বিরোধীপক্ষ কিন্তু আবার নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করবে রাইসির নীতির বিপক্ষে। একটা সোজা হিসাব দেখুন, যিনি যে নিয়মে একটা দেশ শাসন করতেন কিংবা যে নিয়মে ইরানকে বেঁধে রেখেছিলেন, সেই ব্যক্তি যদি না থাকেন, সেই বাঁধন কিন্তু একটু না একটু আলগা হবেই। একটা বৃহত্তর দেশের ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি ছাড়া আগের নিয়মে চলাটা একটু মুশকিল। যদিও ইরানের ক্ষেত্রে, সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন আয়াতুল্লাহু আলি খামেনি। কিন্তু রাইসির শূন্যস্থান পূরণ করা বেশ দুষ্কর। যদিও ইরান এখন সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবে। পাশাপাশি এমন একজনকে প্রেসিডেন্টের সিংহাসনে বসাবে, যিনি খামেনির প্রতি আনুগত্য দেখাবে এবং পাশাপাশি তাদের রক্ষণশীল ঐক্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। কিন্তু হয়ত ব্যাপারটা অতটা সোজা নাও হতে পারে। কারণ বিরোধীরা ওঁত পেতে রয়েছে, তারা ইব্রাহিম রাইসির শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটাতে তৎপর। তারপর সাম্প্রতিক সময়ে, ইরান চলছিল আঘাতের বদলে আঘাতের নীতিতে। যা ইরানের শত্রু সংখ্যা অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। তৈরি করেছে একটা বিপ্পজনক পরিস্থিতি।

     

    এই মুহূর্তে তেহেরান রয়েছে একটা তীব্র বিপদের আশঙ্কায়। রাইসির নীতির কারণেই কিন্তু ইরানের ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছে দেশটার সাধারণ মানুষকে। পাশাপাশি অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতির কারণে তীব্র অর্থ কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে ইরানের বহু আমজনতাকে। যদি মুদ্রাস্ফীতির কথা বলেন, তাহলে ইরানের মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে প্রায় ৪০% এর বেশি, মান কমেছে রিয়ালের। ইরানের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই রাইসির নিয়ম-কানুনের বিরুদ্ধে ছিল। শুধু নাই নয়, তাদের উপর আরোপ করা বিধি নিষেধের বিরুদ্ধে আন্দোলনও শুরু করে। ইরানে ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সবচেয়ে কম ভোট পড়ার নজির সৃষ্টি হয়েছিল রাইসির নির্বাচনের সময়। রাইসি নির্বাচনে জিতেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তার পূর্বসূরী রুহানির মত অতটা জনপ্রিয়তা পাননি। রুহানি মূলত জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে কেন্দ্র করে। অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখান থেকে পিছু উঠে যাওয়ায় সেই চুক্তি শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। আর রাইসির সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেই আলোচনার খুব একটা অগ্রগতিও হয়নি। দেখুন, সব দেশেই কিন্তু সরকারবিরোধী একটা বিপক্ষ দল থাকে। আর ইরানের অভ্যন্তরে এই সুযোগে তারা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। সোজা কথায়, ইরানকে এখন দক্ষ হাতে সামলাতে হবে ঘর এবং বাইরের শত্রুকে।

     

    যুক্তরাষ্ট্রের উস্কানি, তেতে উঠবে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি!

    যদি অন্যান্য দেশের সঙ্গে বিশেষ করে ইসরায়েল আর পশ্চিমে দুনিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের কথা বলেন, সেখানেও রয়ে গিয়েছে একটা বড় দুর্বল পয়েন্ট। রাইসির মৃত্যুর পরেই, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের শোকবার্তায় বলা হয়, ইরান এখন বেছে নিচ্ছে নতুন প্রেসিডেন্ট। আর এই অবস্থায় ইরানের জনগণ তাদের মানবাধিকার আর মৌলিক স্বাধীনতার পক্ষে আছে। যুক্তরাষ্ট্র সেই পক্ষকেই সমর্থন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের শোকবার্তা রেওয়াজমাফিক। এক্ষেত্রে রাইসির প্রতি কোন রকম সমর্থন প্রকাশ করছেন না মার্কিন প্রশাসন। কারণ রাইসি সেই ব্যক্তি, যিনি বিচারক থাকা কালীনগণহারে রাজবন্দীদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। কঠোরভাবে দমন করেছেন নারী গণ আন্দোলন। এমনটাই অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ ইরানের অভ্যন্তরে রাইসির যে বিরোধীপক্ষ রয়েছে, তাকেই সমর্থন করে উস্কে দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। মোটামুটি ভাবে, ভূ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শোরগোল ফেলা পরপর কয়েকটি ঘটনায় চর্চিত হয়ে রইল রাইসির জীবনের শেষ অধ্যায়টা। তিনি শেষ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু যে পাকিস্তানের সঙ্গে চলতি বছরের প্রথম দিকে ইরানের যুদ্ধ বাধার উপক্রম হয়েছিল, শাহবাজ শরীফ সরকার গঠন করতেই সেই শত্রুতা মিটিয়ে এসেছিলেন রাইসি। এমনকি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও কড়া দর কষাকষির পক্ষপাতী ছিলেন তিনি। অনেকটা চলছিলেন মেপে মেপে, ছকে বাধা অঙ্কের হিসেব করে। সেখানেই এবার গুলিয়ে গেল ইরানের সমস্ত হিসেব।

     

    চারিদিকে ওঁত পেতেছে শত্রুরা, বিপদে ইরান!

    রাইসির মৃত্যুতে অস্থির হয়ে উঠতে পারে ইরান। এটা কোন অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। কারণ ইরান যে মুহূর্তে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটা কঠোর পন্থা বেছে নিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য কে নিয়ে গিয়েছে আঞ্চলিক যুদ্ধের কিনারে, ঠিক সেই সময় রাইসির মৃত্যু ইরানকে ফেলে দিল একটা বড় ঝুঁকিতে। গত তিন বছরে ক্ষমতাকালে রাইসি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে সামাজিক নীতি, সবকিছুকেই নিয়ে গিয়েছেন আগের থেকে বেশি কট্টর জায়গায়। গদিতে বসেই তিনি ক্রমাগত বাড়ি গিয়েছিলেন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের গতি। ইরান চুক্তি নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনাও কমিয়ে দিয়েছিলেন। অপরদিকে ইউক্রেন যুদ্ধে সমর্থন করে গিয়েছে রাশিয়াকে। মস্কোকে দিয়েছে শাহেদ ড্রোন সহ প্রচুর গোলা বারুদ। যার জেরে পশ্চিমি দুনিয়ার কাছে রীতিমত চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিল ইরান। তারপর ইসরায়েল আর হামাসের হামলার পর থেকে রাইসি যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত স্বার্থে বারংবার ঘা দিয়েছেন। আঞ্চলিক প্রক্সি যোদ্ধাদের দিয়ে হামলা চালিয়েছেন।

     

    বুঝতে পারছেন, এই মুহূর্তে ইরানের শত্রু সংখ্যাটা ঠিক কতটা? রাইসি যেভাবে পশ্চিমাদের সম্পর্কে ইরানের গ্রহণ করা একটা নীতি ঠিক করেছে, কিংবা একটা পোক্ত কৌশল অবলম্বন করে চলছিল, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে যে কেউ রাইসির জায়গায় নিয়ে নিতে পারবে না। সামান্য ডিস ব্যালেন্স হলেই দেশটা মুহূর্তে জড়িয়ে পড়তে পারে বড়সড় যুদ্ধে। ইতিমধ্যেই দেশটাতে প্রধান ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা আগামী ২৮ শে জুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে দিয়েছে। প্রার্থীদের নিবন্ধন করা হবে ৩০ শে মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত। ইরানের সংবিধানের ১৩১ নং অনুচ্ছেদ বলছে, প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৫০ দিনের মধ্যেই নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। তাই আপাতত দেশটার নির্বাচন অনুষ্ঠান আগামী ২৯ জুনের মধ্যে করার কিছুটা বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই জায়গা থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে তোড়জোড়।

     

    তবে যাই হয়ে যাক, নতুন প্রেসিডেন্ট এলেও ইরান ইসরায়েলের যে গভীর শত্রুতা রয়েছে, তা এখনই শেষ হওয়ার নয়। ইরান যেমন তার নীতি পরিবর্তন করবে না, তেমন ইসরায়েলও বলে দিয়েছে, তারা রয়েছে আগের অবস্থানে। শুধু তাই নয়, রাইসির অবর্তমানে ইরানের পররাষ্ট্র নীতি এবং পরমাণু কর্মসূচিতেও কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেই মনে করছে ইসরায়েল। আপাতত নতুন প্রেসিডেন্ট এলে ভূ রাজনৈতিক সমীকরণে ইরানের প্রভাব ঠিক কতটা পড়বে, সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে ইসরায়েল সহ তার মিত্র দেশগুলো। অপরদিকে ইরানের পাশে রয়েছে রাশিয়া, চীন, তুরস্কের মতো দেশ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনাটা জারি ছিল, সেটাই অব্যাহত থাকবে। ক্ষমতার হাত বদল হবে মাত্র। তবে ইরান কীভাবে আগের অবস্থান ধরে রাখতে পারে, সেটাই দেখার। কারণ রাইসি যেভাবে ইরানকে সামলাচ্ছিলেন, সেই জায়গায় তার বিকল্প পাওয়া দুষ্কর ব্যাপার। আর ইরানের ক্ষমতা কমা মানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরো বাড়বে বৈ কমবে না। যে কোন মুহূর্তে বেজে যেতে পারে যুদ্ধের দামামা।

     

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • China-Russia relations: চীন-রাশিয়ার জোটে নাজেহাল যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বে মোড়লগিরির দিন শেষ

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    China-Russia relations: যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের চক্ষুশূল, মধ্যপ্রাচ্যে নিজের জায়গা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে হাজির আরো বড় বিপদ। একে অপরকে জড়িয়ে ধরছে রাশিয়া আর চীনের রাষ্ট্রপ্রধান। আর তাতেই যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে কালো মেঘ। বিষয়টাকে সামনাসামনি তাচ্ছিল্য করলেও, যুক্তরাষ্ট্র বুঝে গিয়েছে, ভূ রাজনীতিতে পিঠ থেকে যাচ্ছে ওয়াশিংটনের। সেই ভয় থেকেই কি জড়িয়ে পড়ছে একের পর এক যুদ্ধে? কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের দাদাগিরি আর কতদিন? এই মোড়লগিরি করার ব্যাপারটা এবার হয়ত শেষ হতে চলেছে। ঠিক কী ভাবে কোণঠাসা হচ্ছে? পতনের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য।

     

    রাশিয়া-চীনের জোটে যুক্তরাষ্ট্রের মুখভার

    বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখন চলতে চাইছে তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র নীতিতে। কোন বিগ ব্রাদারের আন্ডারে নয়। চীন আর রাশিয়া যখন তাদের সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচন করে এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হচ্ছে, তখন বহু দেশ পিছু পিছু সাপোর্ট করছে এই দুই দেশকে। বেইজিং- মস্কোর সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপন বুঝিয়ে দিল, জো বাইডেনের পায়ের তলার মাটি এবার নড়ে যেতে পারে। সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গিয়েছিলেন চীনে। তাঁর এই সফরে চোখে মুখে এখন অন্ধকার দেখার জোগাড় যুক্তরাষ্ট্রের। চীন রাশিয়ার বন্ধুত্বে রীতিমত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুতিন আর শি জিনপিং নাকি এক হচ্ছে ক্ষতি করার পরিকল্পনা নিয়ে। ট্রাম্পের কথায়, তিনি শি জিনপিং কেও ভালোভাবে চেনেন। আবার পুতিন কেও ভালো করে চেনেন। যেখানেই তারা একত্রিত হন সেখানেই তারা ক্ষতি করেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর কূটনৈতিক মহলের মতে, তাহলে কি যুক্তরাষ্ট্রের মনে এতদিনে একটা ভয় কাজ করছিল? চীন আর রাশিয়ার নিজেদের মধ্যে কোলাকুলি করতেই প্রকাশ্যে বেরিয়ে এল সেই ভয়। যদিও সত্যি সত্যি একটা বড় ভয়ের কারণ রয়েছে। কারণ মস্কো আর বেইজিং একসাথে প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারিত্বের কথা বলেছে। এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। তাই হয়ত, মার্কিন প্রশাসন আগে থেকেই এই দুই দেশের অংশীদারিত্বের বিরুদ্ধে। প্রয়োজন পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করে দিল ওয়াশিংটন।

     

    যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লগিরির দিন শেষ, ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বিশ্ব

    এই যে এই যুক্তরাষ্ট্র মাঝে মাঝে হুমকি দেয়, কখনো সতর্কবার্তা দেয়, আবার কখনো বা সরাসরি নিষেধাজ্ঞা চাপায়, আদৌ কি বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সেই আগের জায়গাটা পোক্ত রয়েছে? মোটেও না, বরং অন্যান্য দেশগুলো অস্ত্র শানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। যদি উত্তর কোরিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বন্দ্বের দিকে তাকান, সেখানেও কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ফেঁসে আছে দক্ষিণ কোরিয়াকে সাপোর্ট করার জন্য। উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রকে বিন্দুমাত্র ছেড়ে কথা বলে না। শুধু তাই নয়, তার মুখে পরমাণু হামলার হুমকিও শোনা গিয়েছে। তলে তলে কিম জং উন আবার হাত মেলাচ্ছে চীন আর রাশিয়ার সঙ্গে। আবার ওদিকে যদি তাইওয়ান আর চীনের সংঘাতের দিকে তাকান, সেখানেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রয়েছে বড় বড় অভিযোগ। মার্কিন প্রশাসক নাকি অস্ত্র যুগিয়েছে তাইওয়ানকে। যার জেরে চীনের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র।

     

    আর সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা তো রয়েইছে। হামাস আর ইসরায়েলের সংঘাতের মাঝে প্রথমে ইসরায়েলকে সাপোর্ট করে বেশ বিতর্কের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই এখন পিঠ বাঁচাতে যুদ্ধ বিরতি কার্যকর করতে উঠে পড়ে লেগেছে ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিধর রাষ্ট্র বলে মনে করা হয় ইরানকে। একইভাবে ইরান আর ইসরায়েলের সংঘাতেও ইরানের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও একইভাবে, ইউক্রেনের পক্ষে থেকে মস্কোর চরম শত্রু হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন। একইভাবে যদি ভারতের কথা বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মাখোমাখো সম্পর্ক আর নেই। ইরান আর ভারতের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ভারতও ছেড়ে কথা বলেনি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর বিশ্বের দাদা নয়। বরং ক্রমশ কমে আসছে তার প্রভাব আর প্রতাপ। ঠান্ডা যুদ্ধের পর, গোটা বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে আধিপত্য ছিল তা আজ শেষের পথে। এখানে ভারত সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলছে না ঠিকই, কিন্তু স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে, বিদেশ নীতিতে দিল্লি এবার হাঁটছে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরতার পথে।

     

    সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে পররাষ্ট্রনীতি আর কূটনৈতিক ক্ষেত্রগুলো ছাড়া অন্যান্য সব ক্ষেত্রে দরকার পড়বে না। আর সম্প্রতি পান্নুন হত্যার ছক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ করেছিল তা খন্ডন করে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। একদিকে যখন ভারত আর রাশিয়ার সম্পর্ক আরো মজবুত হচ্ছে, অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র আর ভারতের মধ্যে থাকা সম্পর্কের যে টানাপোড়েন, সেখানে নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে ইরানের চাবাহার বন্দর। এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বিশ্লেষক মহল মনে করছে, বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানের অন্যতম কারণ নাক গলানোর অভ্যাস। মাঝেমধ্যেই যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কথা বলে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের মেরামত অনেকটা হলেও, বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময় যেভাবে ঢাকা আর ওয়াশিংটনের সম্পর্ক তিক্ততায় পৌঁছে ছিল, তা সবাই দেখেছে।

     

    অস্ত্রের বাজার হারাবে যুক্তরাষ্ট্র! রাশিয়াকে বাঁচাচ্ছে চীন

    আর একটা জায়গায় গিয়ে বড় ধাক্কা খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেটা হল অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে। বিশ্বের বহু দেশে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র বিক্রি করে। শুধু তাই নয়, যখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বৈঠক হয় সেখানে অস্ত্র বিক্রির প্রসঙ্গও তোলে। এই যেমন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইউক্রেন, তাইওয়ান, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, নরওয়ে, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো। ২০২২ থেকে বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। শুধুমাত্র ২০২৩ সালে অস্ত্র বিক্রি করেছে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের। সামরিক খাতেও ওয়াশিংটনের ব্যয় সবথেকে বেশি। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই, পূর্ব ইউরোপের আশপাশের দেশগুলো নিজেদের সুরক্ষা জোরদার করতে অস্ত্রের উপর একটু বেশি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের উপর। যার জেরে মার্কিন অস্ত্র ব্যবস্থায় এসেছে নতুন জোয়ার। অস্ত্র বাজারের দুনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য মানতে পারছে না চীন আর রাশিয়া। হয়তো তাই এইবার দুই দেশ জোট বেঁধেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। অস্ত্রের বাজারে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে রাশিয়াও। সেই জায়গায় গিয়ে কয়েক বছর পর যুক্তরাষ্ট্র বড় ধাক্কা খেতে পারে, শুধুমাত্র ভুল কূটনৈতিক চালে।

     

    সম্প্রতি বেইজিং সফরে থাকার সময় ভ্লাদিমির পুতিন আর শি জিনপিং যে একে অপরকে আলিঙ্গন করেছে, এইটুকু ছাড়া হোয়াইট হাউস চীন-রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্কে বিস্ময়কর কোন অগ্রগতি দেখেনি। দেখুন, যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও অনেকবার চীন রাশিয়ার সম্পর্কে নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন নাকি রাশিয়াকে ইউক্রেনে হামলার জন্য তলে তলে অস্ত্র সরবরাহ করছে। মস্কোর সশস্ত্র বাহিনীকে চীন সাহায্য করতে চায় বলেও মনে করে ওয়াশিংটন। ওদিকে আবার চীন আর রাশিয়া মনে করছে, তাদের মধ্যে থাকা সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বর্তমানে বিশ্বে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার সহায়ক হবে এই দুই দেশ। ভ্লাদিমির পুতিন আরো বড় পরিসরে সমর্থন জানাতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যেভাবে রাশিয়া পশ্চিমাদের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে মস্কোর অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে বেজিং।

     

    বুঝতে পারছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থাটা ঠিক কেমন? বিশ্বে যে সমস্ত দেশগুলো নিজেদের শক্তি নিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, সেই পরাশক্তি গুলোই কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে আর মানতে চাইছে না। যদি যুক্তরাষ্ট্র এই দেশগুলোর সাপোর্ট পেত, তাহলে হয়ত ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে বলা যেত, গোটা বিশ্ব জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে দাদাগিরি চলছে সেটা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু তা নয়। সেই সুরে এখন তাল কেটেছে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Russia-United States: ইরানের পর আফ্রিকা, মাটি হারাতে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র! রাশিয়ার চালেই বাজিমাত

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Russia-United States: যখন মধ্যপ্রাচ্যে কোনঠাসা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ঠিক তখন আফ্রিকায় কী হচ্ছে জানেন? সেখানেও মাটি হারাতে চলেছে জো বাইডেনের দেশ। ইরান না হয় শক্তিশালী রাষ্ট্র, কিন্তু আফ্রিকার অধিকাংশ দেশই তো অনুন্নত। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন হাল কেন? রাশিয়ার কোন চালে বাজিমাত ওয়াশিংটন? ছোট ছোট দেশগুলোতেও, সবাই মিলে রুখে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনার বিরুদ্ধে। শেষমেষ তবে কি হার মানতে হচ্ছে দুর্বল কিছু দেশের কাছে? আফ্রিকার বহু দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন রয়েছে, কিন্তু কিছু কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সেই আধিপত্য মানতে চাইছে না। সরাসরি নাকচ করে দিচ্ছে। যার জেরে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের পর এবার দেশটার পররাষ্ট্রনীতির তাল কাটতে চলেছে আফ্রিকাতেও।

     

    আফ্রিকার নাইজার যুক্তরাষ্ট্র নয়, আপন করে নিল রাশিয়াকে

    এক পাশে সাহারার ধুধু মরুভূমি। আর অন্যদিকে রয়েছে জঙ্গল। তার মাঝে আফ্রিকার ছোট্ট একটা দেশ নাইজার। সেখানে ঘাঁটি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেখানকার বাসিন্দারা আর যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের যেন সহ্য করতে পারছে না। শুধু তাই নয় রাস্তায় বেরিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে রাশিয়ার সৈন্যদের। যদিও শুধু নাইজারই, নয় সারা বিশ্বে প্রায় আশিটি দেশে ৭৫০ টির বেশি ঘাঁটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। যার মধ্যে ১২০টির বেশি ঘাঁটি রয়েছে শুধুমাত্র জাপানে। যেখানে অবস্থান করছে ৫৩ হাজারের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য। জাপানের পাশাপাশি তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, ব্রিটেন, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, পানামা, সৌদি আরব, ইটালি, নরওয়ে, কিউবা, অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রচুর দেশ। এই দেশগুলোতে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০ এর কম সৈন্য কোথাও দেখতে পাবেন না। প্রায় ৮০ টি দেশ মিলে যুক্তরাষ্ট্রের পৌনে ২ লক্ষ সেনা রয়েছে। কিন্তু নাইজারে গিয়ে এত বড় সমস্যা হল কেন? কেনই বা সেখানে রাশিয়া খুব সহজেই যুক্তরাষ্ট্রের জায়গা কেড়ে নিচ্ছে?

     

    আসলে, নাইজারের বাসিন্দাদের আর্থিক পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি এখানে নাকি কিছু সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠী বাসিন্দাদের টাকার লোভ দেখিয়ে প্রশিক্ষণ দেয। আর তারাই গিয়ে নাকি হামলা করে ইউরোপে। আর সেই জঙ্গিদের ছায়া থেকে বাঁচাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তাই সেখানে ঘাঁটি করেছে ওয়াশিংটন। আরেকটা কথা বলে রাখি, হতে পারে নাইজার অনেক অনুন্নত দেশ কিংবা আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া একটা দেশ। কিন্তু দেশটা ইউরেনিয়ামে সমৃদ্ধশীল। ২০২২ সালে প্রায় ২ হাজারের বেশি টন ইউনেরিয়াম উৎপাদন হয়েছিল। বলা হয়, গোটা বিশ্বে উৎপাদিত ইউরেনিয়াম খনিজের ৫ শতাংশ আছে শুধুমাত্র এই দেশে। একটা সময় ফ্রান্স তার দেশের মোট ইউরেনিয়ামের ১৫ শতাংশ আমদানি করত নাইজার থেকে। এছাড়াও দেশটা সোনা আর তেল উৎপাদনের জন্য বেশ বিখ্যাত। কিন্তু ফ্রান্সকে এখানে টিকতে দেয়নি নাইজার। তবে যুক্তরাষ্ট্র এতদিন টিকে গেলেও সেখানেও দেখা দিয়েছে সমস্যা। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা নাইজারে শান্তি ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু নাইজারের সেনারা তা চাইছে না। তারা চাইছে রাশিয়াকে। এখানেই রয়ে গিয়েছে একটা বড় প্রশ্ন। শুধু মাত্র নাইজারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, নাকি রাশিয়া ইউরেনিয়াম বিশাল ভান্ডারের দখল নেয়ার জন্য আফ্রিকার এই দেশটাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তা বোঝা মুশকিল। তবে হ্যাঁ, এই দেশের মাটিতে রাশিয়ার কাছে পরোক্ষভাবে হার মানতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

     

    নাইজারে যুক্তরাষ্ট্রের করুণ হাল, কারণটা কী?

    অবাক লাগলেও এটাই সত্যি, রাশিয়ার কূটনীতির কাছে মাঝে মাঝে প্রায় হারের মুখে পড়ছে পশ্চিমি দুনিয়া। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজার থেকে ইতিমধ্যেই নিজেদের সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়ে দিয়েছে, আফ্রিকার ওই দেশটি থেকে প্রায় এক হাজার সৈন্য তারা প্রত্যাহার করে নেবে। যা নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে। কিন্তু হঠাৎ এমন হাল কেন? শুধুমাত্র নাইজার নয়, আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে কিন্তু ওয়াশিংটনের এমন চিত্র। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকার দেশগুলো ক্রমশ ঝুঁকছে রাশিয়ার দিকে। আর সেখানে গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছে ওয়াশিংটন। নাইজারের রাজধানী নিয়ামে থেকে প্রায় ৯২০ কিলোমিটার দূরে মার্কিন সেনারা একটা বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করে আসছিল। যেটা মনুষ্যবাহী এবং মনুষ্যবিহীন নজরদারি ফ্লাইটসহ অন্যান্য অপারেশনের জন্য ব্যবহার করা হতো। কিন্তু সমস্যা বাঁধে, যখন নাইজারে সামরিক শাসন শুরু হয়। তখন থেকে, ওয়াশিংটন ওই স্থানের পরিবর্তে পশ্চিম আফ্রিকার অন্য কোথাও নিজেদের ড্রোন ঘাটি নির্মাণের জন্য আলোচনা করছে। এমনি থেকেই, নাইজারের অভ্যন্তরে চলছে তুমুল গন্ডগোল।

     

    দেশটার কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ঠিক সময় ঝোপ বুঝে কোপ মারার মত, কিছু সামরিক প্রশিক্ষক এবং একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার মূল উদ্দেশ্য, পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সম্পর্ক আরো গভীর করা। এই তো গত বছরের কথা, যখন নাইজার থেকে নিজেদের সেনাপ্রত্যহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মার্কিন মিত্র ফ্রান্স। সম্প্রতি আফ্রিকার দেশগুলোতে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর এমন অবস্থা, পশ্চিমা মিত্রদের জন্য বেশ খারাপ খবর। আবার পশ্চিমি দেশের সমালোচকরা এই খবর শুনে বেশ খুশি। কেউ বা বলছেন সঠিক কাজ হচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদের নিপাত ঘটছে। আবার কেউবা বলছে, রুশ কৌশলে ধরাশায়ী হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনারা নাইজারের রাজধানী নিয়ামির কাছে যে ঘাঁটিতে থাকছিল, সেখানে এখন অবস্থান করছে রুশ সেনা। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, যে সমস্ত সেনাপ্রত্যহার করা হয়েছে সেই সমস্ত সেনাকে আফ্রিকারই কোন একটা দেশে মোতায়েন করা হবে।

     

    তবে কোন দেশে পাঠানো হবে তা এখনো স্পষ্ট করে বলা হয়নি। আসলে মূল সমস্যাটা শুরু হয়েছিল যখন গত বছরে নাইজারের প্রেসিডেন্টকে অবরুদ্ধ করে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে নাইজারের প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের সদস্যরা। তারপর নাইজারের প্রধান হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করেন সেনাবাহিনীর বিশেষ শাখার প্রধান জেনারেল আব্দুর রহমান চিয়ানি। সে সময় ইউরোপের বহু দেশ কিন্তু এই অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করলেও, পরোক্ষভাবে সমর্থন জানিয়েছে প্রতিবেশী দুই দেশ বুরকিনা ফাসো আর মালি। আর অপরদিকে সমর্থন পেয়েছে রাশিয়া আর চীনের। বুঝতে পারছেন, কোথাও গিয়ে যেন পশ্চিমি দুনিয়ার বিরুদ্ধে জোট বাঁধছে আফ্রিকার দেশগুলো। আর সেখানে মদত রয়েছে রাশিয়া চীনের মত শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর। দেশটার সামরিক শাসকরা তো ঘোষণা করে বলেই দিয়েছে, নাইজারে নাকি মার্কিন সেনার অবস্থান অবৈধ। শুধু তাই নয়, ২০১২ সালের যুক্তরাষ্ট্র নাইজারের সাথে হওয়া সামরিক চুক্তিও বাতিল করে দেয় তারা। এ থেকে স্পষ্ট, আপাতত পশ্চিম আফ্রিকার নাইজার সহ বুরকিনা ফাসো আর মালিতেও কমছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপত্তি।

     

    নাইজারের পর চাদের পালা, বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র বিরোধিতা!

    সম্প্রতি আফ্রিকার আরেক দেশ চাদও মার্কিন সেনাদের বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। চাদ সরকার মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীকে একটা চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে মার্কিন সেনাবাহিনীকে সরাসরি চাদ ছাড়ার নির্দেশ না দিলেও মার্কিন বাহিনীর সকল সদস্যকে এনজামেনায় অবস্থিত ফরাসি ঘাঁটি ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। যদিও এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, চিঠিটি নাকি স্বীকৃত কূটনৈতিক মাধ্যম থেকে পাঠানো হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, চাদের মাটিতেও তলে তলে বাড়ছে মার্কিন বিরোধিতা। এই মুহূর্তে চাদে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান হারানো সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, আফ্রিকার দেশগুলোতে দিনের পর দিন সামরিক অভ্যুত্থানের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যেন কোন মতেই লাগাম টানা যাচ্ছে না। ১৯৫০ সালের পর থেকে আফ্রিকার দেশগুলোতে প্রায় ২০০ বারেরও বেশি এইরকম সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা ঘটেছে। আর প্রত্যেকটা দেশের মানুষ চাইছে তাদের নিজস্ব নীতিতে চলতে। কোন পরাশক্তির আধিপত্যের কাছে মাথা নত করতে চাইছে না।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Iran-India relations: ইরান-ভারতের বন্ধুত্বে যুক্তরাষ্ট্রের নজর, দিল্লিকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Iran-India relations: ভারত আর ইরানের মধ্যে হয়ে গেল বড় চুক্তি। আর তা দেখেই যেন নজর লাগছে যুক্তরাষ্ট্রের। রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলল, এর ফল ভালো নাও হতে পারে। ইরানের পাশে থাকার কারণে ভারতকেও পড়তে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে। যে যুক্তরাষ্ট্র বারংবার ভারতকে মিত্র রাষ্ট্র বলে দাবি করে এসেছে, সেই যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ ভারতের বিরুদ্ধে যাচ্ছে কেন? ইরানের সাথে যে যে দেশ হাত মিলিয়েছে, সেই সমস্ত দেশের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের চক্ষুশূল। তাহলে কি এবার ভারতের পালা? ভারত-ইরানের চুক্তি বদলে দিতে পারে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি। এটা একটা বড় চাল। সোজা কথায়, এক ঢিলে দুই পাখি। একটা চুক্তিতে ভারতের কাছে জব্দ পাকিস্তান আর চীন। কিন্তু কীভাবে? মধ্যপ্রাচ্যে আরো পাকা হচ্ছে ভারতের ঘুঁটি, আর তাতেই কি এত রাগ যুক্তরাষ্ট্রের? বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ইরান।

     

    ভারত-ইরান চুক্তিতে তেলেবেগুনে জ্বলছে যুক্তরাষ্ট্র

    ভারত আর ইরান চুক্তিতে তেলে বেগুনে জ্বলছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই হয়ত নিষেধাজ্ঞার এই হুঁশিয়ারি। ইরানের চাবাহার বন্দর বৈশ্বিক বন্ধুত্বের সমীকরণটা বদলে দিতে পারে। তাহলে কি সেই ভয়টাই পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে চাবাহার বন্দর নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে নয়া দিল্লি। তারপরেই যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এল হুঁশিয়ারি বার্তা। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেলের কথায়, কেউ যদি ইরানের সঙ্গে ব্যবসার কথা ভাবে, তাহলে কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারে। অর্থাৎ তিনি সরাসরি ভারতের নাম না করে বুঝিয়ে দিলেন, ভারতের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ খুব একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার হবে না। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কে বন্ধু রাষ্ট্র, আর কে শত্রু রাষ্ট্র, তা বিবেচনা করবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইরানের সঙ্গে কেউ ব্যবসা করার কথা ভাবলে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তার আগে থেকেই সজাগ থাকা উচিত। চাবাহার বন্দর নিয়ে ভারত আর ইরানের যে চুক্তি হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্র খুব ভালোভাবে জানে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ভারতের বিদেশ নীতি নিয়ে তাদের কিছু বলার নেই। কারন এই চুক্তি ইরান আর ভারতের সম্পর্কের আওতায় পড়ে। কিন্তু যেহেতু ইরানের উপর এখনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে, সেই নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতেও জারি থাকবে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, সবটা জেনে কেউ যদি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য করার কথা ভাবে, তাহলে সেই দেশের উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। আর সেই কথাটা যেন তারা মনে রাখে। এমন বক্তব্যে খুবই স্পষ্ট, এটা ভারতের উদ্দেশ্যে পরোক্ষভাবে একটা বড় হুঁশিয়ারি।

     

    যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ডোন্ট কেয়ার, ইরানের সাথে বন্ধুত্বে ভারতের লাভ

    প্রশ্নটা হল, এই যে যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, এটা নিয়ে ভারত কী ভাবছে? আদৌ কি এই হুঁশিয়ারি নিয়ে ভারতের ভয় পাওয়ার কোন কারণ রয়েছে? এই প্রথম নয়, এর আগেও কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু রাষ্ট্রগুলোর সাথে ভারতের মিত্রতার কারণে নয়া দিল্লিকে এমন হুঁশিয়ারি কিংবা সতর্কবার্তার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে ভারত সেগুলোকে পাত্তা দেয়নি। যখন রাশিয়া থেকে ভারত এস ৪০০ মিসাইল সিস্টেম কিনেছিল, তখনো একইভাবে দিল্লিকে হুঁশিয়ারি দেয় ওয়াশিংটন। যদিও ভারত তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। বরং এস ৪০০ মিসাইল সিস্টেম কিনেই ছেড়েছিল। এবারেও যে ভারত সেই নিষেধাজ্ঞার কথা শুনবে না, তা বলাই বাহুল্য। কারণ ইরানের সঙ্গে চুক্তি ভারতের রাজনৈতিক স্ট্যাটিজিতে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একটা স্টেপ। যেভাবে দিনের পর দিন ভারতকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার জন্য চীন বাণিজ্যিক করিডোর তৈরির পরিকল্পনা করছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে চীনের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে পারে ভারত- ইরানের চুক্তি।

     

    কারণ শি জিনপিং-এর স্বপ্নের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিসিয়েটিভের অংশ হল চীন-পাক অর্থনৈতিক করিডোর। যার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে জড়িত বালুচিস্তান প্রদেশের গদর বন্দর। এবার কিন্তু এই বন্দর আর ভারতের গলার কাঁটা হতে পারবেনা। ইরানের সঙ্গে ভারত চাবাহার বন্দর নিয়ে যে ১০ বছরের চুক্তি করেছে, তাতে এখন চীনের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার অবস্থা। চুক্তি অনুযায়ী, চাবাহার বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে ভারতের উপর । যার মাধ্যমে আফগানিস্তান সহ মধ্য এশিয়া এমনকি ইউরোপের সঙ্গে ভারত সহজে যোগাযোগ রাখতে পারবে। ইরান আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে পণ্য পরিবহন হবে আর সহজ। সহজ কথায়, ইরানের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া আর মধ্য এশিয়ার মধ্যে ভারতের সামনে খুলে গেল একটা নতুন বাণিজ্যক রুট। গদর আর চাবাহার বন্দরের মধ্যে সড়ক পথে দূরত্ব ৪০০ কিলোমিটার। আর সমুদ্র পথের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাবাহারকে যুক্ত করা হবে, ইন্টারন্যাশনাল নর্থ সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোরের সাথে। যারা আওতায় রয়েছে ভারত, ইরান, আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, রাশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং ইউরোপের জাহাজ রেল সড়কের প্রায় ৭২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ নেটওয়ার্ক।

     

    চাবাহার বন্দর চুক্তি আজকের নয়, বহুদিন ধরেই ইরানের ভারতের মধ্যে চলছিল আলোচনা। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইরানে গিয়ে এই চুক্তি করেছিলেন। তারপর ২০১৮ সালে ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি আসেন ভারতে। যেখানে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে চাবাহারের উন্নতি নিয়ে নানা আলোচনা হয়। তারপর চলতি বছরে জানুয়ারি মাসে ফের ইরানে যান ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। অবশেষে বহুদিনের দীর্ঘ আলোচনা, জল্পনা এবং অপেক্ষার নিরসন ঘটিয়ে সম্প্রতি ইরানের মাটিতে দাঁড়িয়ে চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হল চাবাহার বন্দর চুক্তি।

     

    ভারতের উপর ভরসা ইরানের, কী চাইছে যুক্তরাষ্ট্র?

    আসলে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে যে ভারত সরকার তার বিদেশনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বিস্তারিত জানাক। ইরানের সঙ্গে ভারতের যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে, চাবাহার বন্দর নিয়ে যে কথা হচ্ছে, সেসব নিয়ে নাকি ভারতের কথা বলা উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি, যারাই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করবে, তাদের মনে রাখা উচিত, তারা নিজেরাই নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পথ খুলে দিচ্ছে। এ থেকেই প্রমাণ হয়ে যায়, ইরানের সাথে সম্পর্ক রাখায় ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপালেও চাপাতে পারে জো বাইডেনের দেশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কথা প্রসঙ্গে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে এখনো অফিশিয়ালি কিছু জানানো হয়নি। আসলে কি বলুন তো, ভারত চলে নিজস্ব নীতিতে। ভারতের ফার্স্ট প্রায়োরিটি নিজের জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের মানুষ। সেক্ষেত্রে যে দেশের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জাতীয় স্বার্থের জন্য ঠিক, সেই পথেই চলবে ভারত। বছর ছয়েক আগে, ভারতে ইরানের তেল সরবরাহ নিয়েও কিন্তু নিষেধাজ্ঞা এসেছিল। তখনও জলঘোলার মূল কারিগর ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ভারত ইরান থেকে তেল নেওয়া বন্ধ করলেও, দুই দেশের সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ছেদ পড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিল করে দিলে ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের আরো অধঃপতন ঘটে। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভালো, সেই সূত্রে ইরান চেয়েছিল এই পরমাণু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরানোর ক্ষেত্রে তৎপর হোক নয়া দিল্লি। পরমাণু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভারত বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করেছিল ইরান। ট্রাম্প এই চুক্তিতে না ফিরলেও, এ থেকে বোঝা যায় ভারতের উপর ইরানের ভরসা কিন্তু কম নয়।

     

    সারমর্মে এটাই বলা যায়, দিনের পর দিন গোটা বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে নিষেধাজ্ঞার অস্ত্র কাজে লাগাচ্ছে, তা ভোতা হতে আর বেশি দেরি নেই। কারণ একের পর এক দেশ সেই নিষেধাজ্ঞার বোঝা নাকচ করে সামনে এগিয়ে চলেছে। প্রত্যেক দেশেরই একটা করে নিজস্ব পররাষ্ট্র নীতি থাকে। আর সেই জায়গা থেকে বন্ধু রাষ্ট্র নয়, বরং নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থটাই আগে ভাবা উচিত বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। এই সহজ অঙ্কটাই বুঝতে চাইছে না যুক্তরাষ্ট্র। উপরন্তু নিষেধাজ্ঞার বুলিতে ওয়াশিংটন নিজের সম্পর্কে ভূরাজনীতিতে তৈরি করছে একটা খারাপ ধারণা।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Israel-Hamas War: ভয়ঙ্কর চাপে ইসরায়েল, এক্ষুনি যুদ্ধ থামাতে হবে! যুক্তরাষ্ট্রের বড় দাবি

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Israel-Hamas War: বিশ্রী রকম চাপে জর্জরিত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। টানাটানি হচ্ছে তাঁর গদি নিয়ে। এই মুহূর্তে গাজায় যুদ্ধ না থামলে কপাল পুড়তে পারে তাঁর। সেই চাপে, ভিতরে ভিতরে আলোচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। জো বাইডেন বলেই দিলেন, একটা শর্তে এক্ষুনি থেমে যাবে গাজা যুদ্ধ। স্বস্তি পাবে গাজার মানুষগুলো। কিন্তু হামাস ইসরায়েলের কথা মানবে তো? যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের সম্পর্কের ফাটল জিতিয়ে দিচ্ছে হামাসকে! গাজা বাসীর করুণ অবস্থা, জল পর্যন্ত নেই। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বাইডেনের কথায় মিলল বড় স্বস্তি।

     

    •ইসরায়েল জুড়ে বিক্ষোভ, ভয়ঙ্কর চাপে নেতানিয়াহু

    আসলে জিম্মি মুক্তির বিষয়ে ভয়ঙ্কর চাপে রয়েছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। হামাসের হাতে বন্দিদের অবিলম্বে মুক্তির জন্য এবং নেতানিয়াহু সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ইসরায়েল জুড়ে বিক্ষোভ করছে হাজার হাজার মানুষ। যা আশঙ্কা করা হয়েছিল হয়ত সেটাই হতে চলেছে। এই যুদ্ধ নাড়িয়ে দিতে পারে নেতানিয়াহুর গদি। বিষয়টা কিন্তু শুধুমাত্র এখানেই থেমে থাকেনি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয় সামনে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা । গাজায় জিম্মিদের পরিবার ইসরায়েলে তেল আবিবের পাশাপাশি আন্দোলন করছে সিজারিয়া, রেহোভোত এবং হাইফা সহ অন্যান্য শহরে। জিম্মিদের পরিবারের কিছু কিছু সদস্যরা রীতিমত তীব্র সমালোচনা করছে নেতানিয়াহুর। তাদের মতে, শুধুমাত্র নেতানিয়াহুর কারণেই নাকি জিম্মি চুক্তি হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, তিনি নাকি ইসরায়েলকে সাফল্যও পেতে দিচ্ছেন না। তাদের দাবি, অবিলম্বে হামাসের কাছ থেকে জিম্মিদের মুক্ত করতে হবে। আর তাদের মুক্ত করতে হবে নেতানিয়াহুর কাছ থেকে। মানে আন্দোলনকারীরা আর মনে প্রাণে মেনে নিতে পারছে না নেতানিয়াহুর সরকারকে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই মুহূর্তে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে ইসরায়েলের। বেগতিক দেখে জিম্মি চুক্তি নিয়ে কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে। তাই হঠাৎ করেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এত বড় বয়ান দিলেন। হামাস জিম্মিদের মুক্তি দিলেই গাজায় অবিলম্বে কার্যকর হবে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি।

     

    গাজায় শুধুই হাহাকার, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

    গত বছরের ৭ই অক্টোবর ফিলিস্তিনের হামাস গোষ্ঠী দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ নজিরবিহীন হামলা চালায়। হত্যা করে প্রায় ১২০০ ইসরায়েলি। পাশাপাশি, গাজায় বন্দি করে নিয়ে আসে প্রায় ২৫০ ইসরায়েলি এবং বিদেশি নাগরিককে। তারপর থেকে হামাসকে নির্মূল করতে আর ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন নেতানিয়াহু। নভেম্বরে সাত দিনের যুদ্ধবিরতিতে প্রায় ১১০ জন ইসরায়েলিকে হামাস মুক্তি দিলেও, এখনো কিন্তু তাদের কাছে শতাধিক বন্দি রয়েছে। আর ওদিকে ইসরায়েলি হামলায়, গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার। আহতের সংখ্যা প্রায় ৭৮ হাজারের বেশি। ইরানের কিছু সংবাদ মাধ্যমের দাবি, গাজায় নিহতর সংখ্যা আরও বেশি। কারণ হামলার সময় বহু এলাকায় ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে অসংখ্য মৃতদেহ। গাজার বেশিরভাগ অঞ্চলই এখন পুরোপুরি ইসরায়েলের কবলে। যেখানে ২০ লক্ষেরও বেশি ফিলিস্তিনি কষ্ট পাচ্ছেন জ্বালানি থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, খাবার আর জলের অভাবে। গাজার হাসপাতালগুলোর অবস্থা তো আরো ভয়ঙ্কর। না আছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, না আছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নার্স। ওষুধে চলছে চরম হাহাকার। কঠিন দুর্দশার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি মহিলা। বিশেষ করে যাদের ছোট সন্তান হয়েছে, কিংবা যারা সদ্য সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, তাদের অবস্থা আরো শোচনীয়। শিশুদের জন্য ন্যূনতম দুধ পর্যন্ত কিনতে পারছেন না। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ এর মত বলছে, গাজায় এই মুহূর্তে প্রায় ১ লক্ষ ৫৫ হাজার অন্তঃসত্বা ভুগছে জলশূন্যতায়।

     

    হামাস জিম্মিদের মুক্তি দিলেই, যুদ্ধ বিরতি সম্ভব : জো বাইডেন

    এমত পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতিটা ভীষণ দরকার বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে শুরু করে অধিকাংশ দেশ। একদিকে মানবিক বিপর্যয় আরেক দিকে দুর্ভিক্ষ, আপাতত এর মাঝেই আটকে রয়েছে গাজা। দেখুন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান, ইসরায়েল হামাস। আর এখানে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে ওয়াশিংটন। এই সংঘাতের কথা আসলেই বারংবার চলে আসছে জো বাইডেনের নাম। তিনি বড় গলায় বলেছেন, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সব জিম্মিকে যদি হামাস মুক্তি দেয়, তাহলে যুদ্ধ বিরতি সম্ভব। সিয়াটেলের একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে তাঁর এমন কথায়, ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা বিশ্বে। তাহলে কি সত্যি যুদ্ধবিরতি হবে? যার আশায় প্রতিটা সেকেন্ড যেন এক একটা দিনের মতো গাজা বাসীর কাছে। মানুষগুলো চাতক পাখির মত চেয়ে আছে, কবে যুদ্ধ থামবে। সত্যি বলতে, গাজার অধিকাংশ মানুষ তাদের পরিবার হারা সর্বস্ব খুইয়ে প্রায় নিঃস্ব। তাদের কাছে যুদ্ধ বিরতি তো দূর, যুদ্ধ বিরতির আলোচনাও যেন একটা বড় পাওনার মতো। বাইডেন আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছেন, তিনি যেমনটা বলছেন ঠিক তেমনটাই হয়তো হতে পারে। আর এটা নির্ভর করছে হামাসের উপর। যদি হামাস জিম্মি মুক্তি দেয়, তাহলে যুদ্ধ বিরতি শুরু হয়ে যাবে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, হয়ত সম্প্রতি যে ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন হচ্ছে। তা নিয়ে তো দুই দেশের মধ্যেই আলোচনা হচ্ছিল। এর আগেও আলোচনা হয়েছিল যুদ্ধ বিরতি নিয়ে, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। যেখানে হামাস যুদ্ধ বিরতিতে রাজি ছিল, কিন্তু ইসরায়েল নয়। কারণ হামাসের সব শর্ত ইসরায়েলের পক্ষে মানা সম্ভব হয়নি। দেখতে দেখতে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ চলছে দীর্ঘ সাত মাস। যুদ্ধ শুরুর এক মাসের মাথায় হামাস আর ইসরায়েলের মধ্যে সাত দিনের একটা যুদ্ধ বিরতি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু তা সফলতার মুখ দেখেনি। এবার বাইডেনের কথায় দেখা দিল নতুন আশার আলো।

     

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বন্ধুত্ব শত্রুতার পথে!

    বাইডেনের কথা সত্যি হলেও হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখন উঠে পড়ে লেগেছে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি করতে। এখানে জড়িয়ে ওয়াশিংটনের প্রেস্টিজ ইস্যু। ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও চলে যাচ্ছে দেশটা। যেখানে গোটা বিশ্ব গত চার দশকে ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় বন্ধন দেখেছে, গভীর বন্ধুত্ব দেখেছে, একে অপরকে পাশে দাঁড়াতে দেখেছে, সেই জায়গাতেই তো এখন ফাটল। আন্তর্জাতিক মহলের।প্রশ্ন, তাহলে কি বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে শত্রুতায়? তাই এত বড় পাল্টি খেতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ? হামাসের হয়ে সরাসরি কথা না বললেও ইসরায়েলের প্রতি যে যুক্তরাষ্ট্র একেবারেই সন্তুষ্ট নয়, তা কিন্তু সাম্প্রতিক বিবৃতি আর তাদের কর্মকাণ্ডে বুঝিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। মূলত মার্কিন আর ইসরায়েলের যে জোট, তার মূল ভিত্তি অস্ত্র সহায়তা। বলা যেতেই পারে, বাইডেনের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের বক্তব্যে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, তথা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূ রাজনৈতিক কৌশলগত সম্পর্কে দেখা দিয়েছে একটা বড় চিড়। গত ৪ দশকে যুক্তরাষ্ট্র কোন অবস্থাতেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। বরং সব পরিস্থিতিতে সহযোগিতা করেছে। এমনটা হলো এই প্রথমবার। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই মুহূর্তে যুদ্ধ না থামলে, গাজায় আরও বড় বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। ক্রমবর্ধমান যে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, যার জেরেদেশী এবং বিদেশী নানামুখী চাপের মুখোমুখি রয়েছে ওয়াশিংটন। গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বাইডেনের নিজ দল ডেমোক্রেটিক পার্টি, আর বিরোধী দল ইজরাইলপন্থী রিপাবলিকান পার্টির তোপের মুখে রয়েছে তিনি।

     

    বাইডেনের কথায়, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বলেছেন যুদ্ধ বিরোধী এখন পুরোটাই নির্ভর করছে হামাসের উপর। যদি হামাদ জিম্মিদের ছেড়ে দেয় তাহলে সেই দিন থেকেই গাজায় ইসরায়েলি অভিযান বন্ধ হয়ে যাবে। তারপর দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে যুদ্ধ বিরতি। ওদিকে হামাস ইসরায়েলের বিভিন্ন সংগঠনের উদ্দেশ্যে এক বার্তায় লিখেছে, মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া প্রস্তাব ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে। শুধু তাই নয়, প্রস্তাবের উল্লেখিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে। ফলে কোর্টের বল এখন পুরোপুরি রয়েছে ইসরায়েলের হাতে। সারমর্মে এটাই বলা যায়, হামাস তার সিদ্ধান্তে অনড়। ওদিকে ইসরাইল তার সিদ্ধান্তে। সমঝোতা কিন্তু হয়নি। কেউ কারোর জায়গা থেকে এক চুলও সরে আসেনি। এমত অবস্থায় নয় হামাসকে ইজরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে, না হয় ইসরায়েলকে হামাসের চুক্তি মেনে নিতে হবে। তবেই কিন্তু যুদ্ধ যুদ্ধ বিরতি হওয়া সম্ভব। না হলে আপাতত গাজা বাসীর দুঃখ দুর্দশা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোন রাস্তা নেই।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Exit mobile version