West Bengal Dengue Cases: ফের গোটা রাজ্যে ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গি (Dengue) উদ্বেগ। বছর শেষ হওয়ার তিন সপ্তাহ আগে বঙ্গে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯৮,০০০। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সূত্র অনুসারে, গত বছর রাজ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিল ৬৬,০০০। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে মানুষের বেপরোয়া হয়ে ওঠা ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্তের অন্যতম কারণ। এছাড়ারাও দেরি করে বর্ষা ও দফায়-দফায় বৃষ্টিপাতের কারণেও এই প্রকোপ ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে। দ্বিতীয়ত, করোনা মোকাবিলা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তর মশা দমনে অবহেলা করেছিল। তাই অসুখের প্রকোপ এমন মাত্রাছাড়া পর্যায়ে চলে গিয়েছে চলতি বছর। কোনভাবেই ডেঙ্গুকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষ হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন। ডেঙ্গি দমনে যথেষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করছে প্রশাসন। এলাকায় কোথাও জমা জল, আবর্জনা জমা থাকলেই দ্রুত তা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ডেঙ্গি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও চালানো হচ্ছে প্রচারাভিযান।
স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের কথায়, বর্ষা চলে যাওয়ার সাথে সাথে ডেঙ্গির প্রকোপ কমে যাবে সেইরকম কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ, বর্ষার পরও বিভিন্ন জায়গায় জমা জল থাকে। সেই জমা জলে মশার লার্ভার জন্মায়। যত দিন না সেই জমা জল শুকোচ্ছে ততদিন ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকবে। তবে ঠান্ডা পড়লে আস্তে আস্তে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা কমবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা অস্তিত্ব বাঁচাতে চরিত্র বদল করছে এডিশ মশা। যে কারণেই এত বিপত্তি। এবারের ডেঙ্গিতে একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাচ্ছে। খামখেয়ালী আবহাওয়ার কারণেই বাড়ছে জ্বর-জ্বালা। এছাড়াও ভাইরাল ফিভার তো আছেই। তাই একদিন জ্বর হলেই পরের দিন আগে চিকিৎসকের কাছে যান। রক্তপরীক্ষা করান। পাশাপাশি সারাদিনে প্রচুর পরিমাণ জল খেতে হবে। খেতে হবে ফলও। ডেঙ্গিতে সবচেয়ে বেশি ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দেয়। সেই সঙ্গে হাই ফিভার থাকে। ঘাম, রক্তপাতেরও সম্ভাবনা থাকে। তাই ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এজন্য প্রচুর পরিমাণ জল, ডাবের জল খেতে হবে।
#WestBengal witnessed a record number of #Dengue-affected people in 2023, with number already having crossed 98,000 three weeks before year ends.
According to State health department sources, figure is significantly higher than that of around 66,000 in 2022. pic.twitter.com/l4xQ5vcthJ
মাঠে সোনার ফসল ফলান কিন্তু কৃষক ছাড়াও এই মানুষটির অন্য এক পরিচয় আছে। কেউ বিপদে পড়লে চুপ করে বসে থাকতে পারেন না। সে চেনা হোক বা অচেনা কেউ, চারদিকে যখন ডেঙ্গির বাড়াবাড়ি অকালে প্রাণ চলে যাচ্ছে কত মানুষের না পারেননি মুখ বুজে বাড়িতে বসে থাকতে চাষবাস মাথায় উঠেছে! ডেঙ্গি থেকে মানুষকে বাঁচাতেই হবে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে যা করছেন ইনি জানলে প্রণাম জানাবেন আপনিও। ঘরে ঘরে এখন জ্বর, সঙ্গে গায়ে-হাত-পায়ে ব্যথা। কিন্তু সঠিক সময়ে ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছেন কি? বুঝতে দেরি করে ফেলছেন অনেকেই। সেই ভাবনা থেকেই অভিনব প্রচার শুরু করলেন বাংলার এই কৃষক।
ডেঙ্গির মশা সেজেই সচেতনতামূলক প্রচারে বেরিয়ে পড়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ত্রিনাঙ্কুর। চোখের সামনে ছদ্মবেশি ডেঙ্গির মশা দেখে চমকে উঠছে পথচলতি মানুষ। কেউ এগিয়ে ছবি তুলতে আসলে ত্রিনাঙ্কুর বলছেন জল জমতে দেবেন না, রাতে মশারি ব্যবহার করুন, জ্বর হলেই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন, রক্ত পরীক্ষা করুন একপায়ে দাঁড়িয়ে থেকে এভাবে মশা সেজে প্রচার চালানো ভীষণ কষ্টের। মোটা জামা পড়ে দম বন্ধ লাগে অনেকসময় কিন্তু মানুষকে বাঁচাতে সব কষ্ট সহ্য করতে রাজি ত্রিনাঙ্কুর। করোনা পরিস্থিতি যখন প্রচন্ড খারাপ হয়েছিল তখনও রাস্তায় নেমে প্রচার করেছিলেন তিনি।কখনও বা প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে এগিয়ে আসেন। কখনও সাইকেল নিয়ে, কখনও আবার পায়ে হেঁটে কয়েক বছর ধরে নানা ধরনের সচেতনতা প্রচারে বেরিয়ে পড়ে ত্রিনাঙ্কুর।
প্রতি দিনই বহু মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হচ্ছেন মৃত্যুর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। উত্তর ২৪ পরগনায় প্রতি বছরই ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা যায়। অন্যান্য বারের তুলনায় এ বারে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। নিজের জেলাকেও নিয়ে চিন্তিত ত্রিনাঙ্কুর। তাই এই অভিনব পরিকল্পনা। ত্রিনাঙ্কুরেরর মতো মানুষরা নিজেদেরকে নিয়ে ভাবে না। মানুষের জন্য চিন্তা করে। তাই দিন রাত পথে ঘুরে ঘুরে এই কাজ করছেন। এদের কথা শুনু। সতর্ক হন। নাহলে একটা মশা আপনারও প্রাণ কাড়তে পারে যখন তখন।
DENGUE SYMPTOMS: খুব সাবধান, ডেঙ্গি হওয়ার এক সপ্তাহ আগে থেকেই কিন্তু সিম্পটম গুলো দেখা দেয়। সময়টা খারাপ, কোন কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন যে টেস্ট করালেই আপনি “ডেঙ্গি পজিটিভ”? ব্রেকবোন সিন্ড্রোমে ভুগছেন না তো? এটা মারাত্মক যন্ত্রনার। ডেঙ্গি ধরা পড়লেই কি হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে? কখন রোগীকে প্লেটলেট দিতে হবে? ডেঙ্গির শক সিনড্রোম কী? হেমারেজিক কতটা বিপজ্জনক? ডেঙ্গি হলে কী খাবেন? ডেঙ্গি থেকে সেরে উঠলেই কি নিশ্চিন্ত? জয়েন্ট পেইনে আগামী কয়েকটা বছর আপনাকে ভুগতে হতে পারে। আর কোন কোন দিক দিয়ে নাজেহাল হওয়ার চান্স থাকছে?সাধারণ জ্বর নাকি ডেঙ্গি? বিবিসির রিপোর্ট বলছে, সাধারণভাবে ডেঙ্গির লক্ষণ হচ্ছে জ্বর।
চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক সময় জ্বরের তাপমাত্রা খুব একটা বেশি থাকছে না। ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যাওয়ার পর আবারো জ্বর আসতে পারে। সঙ্গে মাথা যন্ত্রণা, হাড় ও পেশিতে তীব্র ব্যাথা, শরীরে ফুসকুড়ি ডেঙ্গির লক্ষণ। মাংসপেশী আর অস্থি সন্ধিতে ব্যথা থেকে জ্বর চলে আসে, গোটা গায়ে অসহ্য যন্ত্রণা। তাই ডেঙ্গির অপর নাম, “ব্রেকবোন ফিভার”। আর, ডায়রিয়া, বমি, নিউমোনিয়া, মাথা ব্যথা এগুলোকে নতুন উপসর্গ বলা হচ্ছে। চিকিৎসকদের কথা অনুযায়ী শক সিন্ড্রোম আর হেমারেজিক কন্ডিশন দুটোই রিস্কের। আসলে, ডেঙ্গির চারটি ধরন আছে। যারা আগে একবার ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং দ্বিতীয়বার এই চারটি ধরনের অন্য আর একটি দ্বারা আক্রান্ত, তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি। তারাই মূলত শক সিন্ড্রোমে চলে যান। এতে পালস, রক্তচাপ কমে যায়, শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে রক্ত চলাচল কমে যায়, বিভিন্ন অঙ্গের কোষে যে অক্সিজেন দরকার সেইঅক্সিজেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এমন অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন ব্রেইন, হার্ট, কিডনি এগুলোতে রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে না পেরে অঙ্গগুলো আস্তে আস্তে কাজ করা বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীর শক সিনড্রোম হলে তার লাইফ রিস্ক আছে বলছেন চিকিৎসকরা।অন্যদিকে, ডেঙ্গি রোগীদের শরীরের যে কোনও জায়গা থেকে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ মানেই তা হেমারেজিক ডেঙ্গিতে রূপ নিয়েছে। এতে চোখে রক্ত জমে যায়; নাক, দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত ঝরে, মুখ, কান, মলদ্বার এরকম যেকোনো একটি বা একের অধিক অংশ দিয়ে রক্ত বের হতে পারে। বমি ও কাশির সাথেও রক্ত বের হতে পারে। হেমারেজিক ডেঙ্গি হলে মেয়েদের মেনোরেজিয়া হতে পারে। কখনো সপ্তাহে একবার করেও পিরিয়ড হওয়ার চান্স থাকে। হেমারেজিক ডেঙ্গির এক পর্যায়ে অন্য কারো রক্ত থেকে প্লেটলেট নিয়ে রোগীর শরীরে প্লেটলেট দিতে হয়। তবে রাজ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়লেই প্লেটলেটের আকাল দেখা দেয়। তাই চলতি বছর, পরিস্থিতি মোকাবেলায় গাইডলাইন জারি করেছে স্বাস্থ্যভবন। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে
রোগীর প্লেটলেট কাউন্ট ১০ হাজারের নীচে গেলে প্লেটলেট দেওয়া যাবে।
যেসব রোগীদের প্লেটলেট কাউন্ট ১০ থেকে ২০ হাজারের মধ্যে, তাদের রক্তপাত না হলে প্লেটলেট দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
কোন গ্রুপের প্লেটলেট প্রয়োজন, প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করতে হবে।
প্লেটলেট ঘাটতি ঠেকাতে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করা হলেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে পরিস্থিতি কোন দিকে মন নেবে সেটা এখন থেকেই বলা যাচ্ছে না। তবে, অবশ্যই জ্বর হলে সচেতন থাকতে হবে। জ্বরে আক্রান্ত হলেই সাথে-সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গি জ্বরের তিনটে ভাগ ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’। এ ক্যাটাগরির রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই, বি ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা আর বমি সঙ্গে শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। সি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গি সবচেয়ে খারাপ। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে আইসিইউ’র প্রয়োজন হতে পারে, বলছে বিবিসির রিপোর্ট। আর মনে রেখে প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার খান। যেমন – ডাবের জল, লেবুর শরবত, ফলের জুস, খাবার স্যালাইন। এমন নয় যে প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে, তবে জৃ জাতীয় খাবার খেতে হবে। কিন্তু কোনোভাবেই অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না তাহলে বড় বিপদ হতে পারে। আর, ডেঙ্গি সেরে গেলেও ভীষণ সাবধানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
জ্বর সেরে গেলেও হেলাফেলা নয়। জয়েন্ট পেইন বেশ কয়েক বছর পর্যন্ত থেকে যেতে পারে, বলছেন বিশিষ্ট চিকিৎসকরা। তাছাড়া জ্বর থেকে ওঠার পর রোগী দুর্বল হয়ে পড়েন। ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া না করলে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে এনার্জি পান না! ফলে পুরোপুরি সেরে উঠতে বেশ অনেকটা সময় লেগে যায়। তাই ওষুধের পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়ার দিকে প্রপার নজর দিতে হবে। খেতে পারেন পেঁপে পাতার রস, সবজির রস, নিম পাতার রস, হারবাল টি চিকেন স্যুপ সহ হালকা পাতলা খাবার। জানিয়ে রাখি, রোগমুক্তির পরে অন্তত মাস তিনেক ডেঙ্গি রোগীকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা বলছেন, রক্তে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বারবার পরীক্ষা করে দেখতে হবে। শ্বেতকণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক না-হওয়া পর্যন্ত বাড়ির বাইরে বেরোনো উচিত নয়। ডেঙ্গি সংক্রমণে লিভারের বিভিন্ন এনজাইম বেড়ে যায়। এর ফলে লিভারের বিশ্রাম দরকার। তাই ভুলেও তেলেভাজা, ফাস্টফুড, কফি খাবেন না। নিজেও বিশ্রামে থাকুন।
Helth Tips: বর্ষা পড়তেই কনজাংটিভাইটিসের সাথে মাথাচাড়া দিচ্ছে ডেঙ্গি। কড়া নজর রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের। জ্বর সাথে গায়ে ব্যথা। ডেঙ্গি না সাধারণ জ্বর ? কীভাবে বুঝবেন! সতর্ক থাকতে কী করবেন আর কী করবেন না? এই উপস্বর্গ রয়েছে আপনার ? দেরি না করে জানুন কূী করবেন। জমা জলেই সবচাইতে বেশি জন্মায় মশার লার্ভা। আপনার শরীর কেমন আছে। আপনার যদি জ্বর আসে টেম্পারেচার নোট করুন। এসময়ে ভাইরালের প্রকোপও বাড়ছে। সাথে আবার চোখ লাল। সাধারণ জ্বর না ডেঙ্গি বুধবেন কীভাবে? সতর্ক থাকতে এই নিয়মগুলো মেনে চলুন। তাতে আপনার পরিবার সুস্থ থাকবে।
ফুলের পাত্র থেকে খালি বোতল ফ্রিজের পেছনেও যেন জল না থাকে। সন্ধ্যায় এবং ভোরে জানালা বন্ধ রাখুন অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন। চুপিসারে ডেঙ্গির মশা কামড়ালে গেলে টেরও পাবেন না। সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। রাজ্যের তরফে বেশ কিছু গাইডলাইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোগীর প্লেটলেট কাউন্ট ১০,০০০-এর নীচে নেমে গেলে রোগীকে প্লেটলেট দিতে হবে। সব রোগীর প্লেটলেট কাউন্ট ১০ হাজার থেকে ২০ হাজারের মধ্যে থাকবে। তাদের ক্ষেত্রে রক্তপাত না হলে প্লেটলেট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ডেঙ্গি আক্রান্তের কোন
গ্রুপের প্লেটলেট প্রয়োজন প্রেসক্রিপশনে তা উল্লেখ করতে হবে। ডেঙ্গি আর ভাইরাল জ্বরের সাথে গুলিয়ে ফেলছেন অনেকেই।
জ্বর থাকে খুব বেশি ১০২ থেকে ১০৩ চলে যায় শরীরে খুব ব্যথা হয়, বিশেষত হাড়ে যন্ত্রণা হয় চোখের পিছনে ব্যথা হয় সাধারণ ভাইরাল ফিভারে নাক দিয়ে জল গড়াতে পারে। গায়, হাত পায়ে সামান্য ব্যথা জ্বরের সাথে কাশি আবার কনজাংটিভাইটিসও দেখা যাচ্ছএ সমস্যা বেশি হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে কিছু ওষুধ কিনে খাবেন না এতে সমস্যা বাড়বে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গি টেস্ট করান। মনে রাখবেন রোগ যত দ্রুত ধরা পড়বে আপনার সুস্থ হয়ে আপনার সুস্থ হয়ে ওঠার চান্স তত বেশি। তাই কোথাও জল জমতে দেওয়া যাবে না। ছাদ থেকে শুরু করে ঘরের আনাচে কানাচে, নর্দমা পরিস্কার রাখুন। আর যদি ডেঙ্গির উপস্বর্গ দেখতে পান তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Dengue foods diet: বর্ষায় প্রতিবছরই ঘরে ঘরে ডেঙ্গিতে কাবু করে ফেলে। পাড়ায় পাড়ায় সতর্ক করা হচ্ছে। ডেঙ্গিতে প্লেটলেট কমলে প্রাণ যেতে পারে। আগেও আক্রান্ত হয়েছেন? তাহলে রিস্ক বেশি রয়েছে। মশার কামড়ে এই রোগ হলে কীভাবে প্লেটলেট বাড়াবেন? বর্ষায় রোজ এই সব খাবার রাখুন পাতে। ডেঙ্গি হলেও জীবন বাঁচবে। ডেঙ্গি হলে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আপনি যদি সতর্ক না হতে পারেন, তবে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা হতে পারে। এমনকী মৃত্যু হতে পারে! মাথায় রাখবেন, রাতারাতি প্লেটলেট বাড়ানো যায় না। প্লেটলেট বাড়াতে গেলে আপনাকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। ডেঙ্গি হলে কী কী খাবেন টিপস দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
পেঁপে পাতা যে প্লেটলেট বাড়ায় এটা সকলেই প্রায় জেনে গিয়েছেন। চিকিৎসকরাও অনেকক্ষেত্রে পরামর্শ দেন। কিন্তু ডাবের জল খেলেও প্লেটলেট বাড়ে তা কি জানতেন ? ডাবের জলে রয়েছে ভরপুর ইলেকট্রোলাইটস যা প্লেটলেট বাড়াতে সাহায্য করে। প্লেটলেট কমতে থাকলে রক্ত জমাট বাধা বন্ধ হয়ে যায়।রক্তপরীক্ষায় এই অুচক্রিকা কমেছে দেখলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আপনি যদি আগে থেকেই কয়েকটা খাবার খাওয়া অভ্যেস করেন। তাহলেও অনেকটা বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
বিটের রস প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ায় যেহেতু ভিটামিন সি প্লেটলেট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই ভিটামিন সি রয়েছে এমন খাবার প্লেটলেট বাড়ায়। অনেকেই জানেন না প্লেটলেট বাড়াতে পারে জাম। তাই জাম খাওয়া খুবই প্রয়োজন। ডেঙ্গি আটকাতে ও প্লেটলেটের পরিমাণ বাড়াতে কুমড়োর বীজ ও কুমড়ো দুই রাখুন ডায়েটে। কিশমিশও আয়রনে ভরপুর, যা ডেঙ্গি রোগীদের সাহায্য করতে পারে। যাদের প্লেটলেট খুব কম বেদানার মধ্যে আয়রন ছাড়াও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা দ্রুত প্লেটলেট বাড়ায়। সংবাদমাধ্যমে এমনটাই দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশ জুড়ে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হন অনেকেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা ও খাদ্যের মাধ্যমে বহু মানুষ সুস্থ হয়ে ওঠেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে অবস্থার অবনতি ঘটলে পরিনাম মৃত্যুও হয়। তবে প্রথম থেকেই যদি আপনার সঠিক চিকিৎসা করান। প্লেটলেট কমে যাওয়ার আগেই সতর্ক হন তাহলে কম সময়ের মধ্যেই আপনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন। মত চিকিৎসকদের।
Zika Virus: বিগত প্রায় দুটি বছর যেভাবে করোনা (Corona) একের পর এক প্রাণ কেড়ে চলেছিল তা বিশ্ববাসীর কাছে ভয়ঙ্কর স্বপ্নের থেকে কম কিছু নয়। যদিও এখন পরিস্থিতি একেবারেই স্বাভাবিক সবকিছু নিয়ন্ত্রণে। আবার স্বাভাবিক জীবন ছন্দে ফিরে এসেছে সাধারণ মানুষ। যদিও পশ্চিমবঙ্গে চলতি বছরে ডেঙ্গুর (Dengue) ব্যাপক বাড়বাড়ন্ত চোখে পড়েছিল। ডেঙ্গুর কারণে প্রাণ হারিয়েছেন এই রাজ্যের বহু মানুষ। তবে এবার মশা বাহিত আরও একটি রোগ ভারতে থাবা বসাতে চলেছে। কারণ এই দেশে খোঁজ মিলেছে নতুন জিকা ভাইরাসের (Zika Virus)। গবেষকরা বলছেন এই ভাইরাস হতে পারে মারাত্মক।
জিকা ভাইরাসের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় ১৯৪৭ সালে প্রথমবার উগান্ডাতে (Uganda) এই ভাইরাসের খোঁজ মেলে। এটি মশা বাহিত একটি অসুখ। অর্থাৎ ডেঙ্গি যেমন মশার কামড়ে ছড়ায় এটাও ঠিক মশার কামড়েই ছড়ায়। তবে ডেঙ্গির নির্দিষ্ট কিছু উপসর্গ রয়েছে নির্দিষ্ট চিকিৎসা রয়েছে। জিকা ভাইরাসের আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির তেমন কোন নির্দিষ্ট উপসর্গ কিংবা চিকিৎসা নেই। এটাই বর্তমানে ভাবাচ্ছে গবেষকদের। তাদের মতে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো মহিলা যদি গর্ভবতী হন তবে গর্ভস্থ সন্তানের ওপর এটি ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলতে পারে।
* কী লক্ষণ দেখা দেয় ?
WHO বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে ব্যাক্তি জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হন তাঁর শরীরে তেমন গুরুতর কোন উপসর্গই দেখা দেয় না। খুব কম সংখ্যক মানুষের শরীরে উপসর্গ দেখা দেয়। তবুও সেগুলি একেবারেই সামান্য। যেমন এই ভাইরাস সংক্রমনের ৩ থেকে ১৪ দিনের মাথায় জ্বর, পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, মাথায় ব্যথা, কনজাংটিভাইটিস প্রভৃতি দেখতে পাওয়া যায়।
কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয় ?
যেহেতু এই রোগের নির্দিষ্ট কোন উপসর্গ নেই তার জন্য রোগ নির্ণয় করা খানিকটা মুশকিল হয়ে থাকে। তবে রক্ত পরীক্ষা এবং অন্যান্য ফ্লুইড পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ ধরতে পারেন চিকিৎসকরা।
এই রোগ থেকে কী কী জটিলতা সৃষ্টি হয় ?
সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত মহিলা যদি সেই সময় গর্ভবতী হন তবে তাঁর গর্ভের সন্তান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। যেমন ওই শিশুর চোখে দেখতে সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় শিশুর শ্রবণ শক্তি পর্যন্ত থাকে না। এছাড়াও শিশুর মাসল টোনে জটিলতা দেখা যায় জিকা ভাইরাসের প্রভাবে।
* চিকিৎসা পদ্ধতি
যেহেতু এই রোগের উপসর্গগুলি একেবারে সামান্য জ্বর, মাথা যন্ত্রণা, গায়ে হাতে পায়ে যন্ত্রণার মত তাই এই গুলির চিকিৎসা নির্দিষ্ট অসুবিধাগুলির ওষুধ দিয়েই করা হয়। জিকা ভাইরাসের আক্রান্ত রোগীর জন্য আলাদা কোন চিকিৎসা নেই। শুধুমাত্র ওই রোগীর যে সকল লক্ষণ গুলি দেখা দেয় সেগুলিরই চিকিৎসা করেন চিকিৎসকরা। গবেষকরা বলছেন, এতেই বেশিরভাগ মানুষ সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। যেহেতু এটি মশা বাহিত রোগ তাই মশা থেকে বাঁচতে পারলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায় এক প্রকারে। আর যদি উল্লেখিত কোন উপসর্গগুলি দেখা যায় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
KMC: বিগত কয়েক মাস ধরে গোটা রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গি যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল তা পুরসভা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য দফতর সব জায়গাতেই উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। শহর কলকাতাতেও ডেঙ্গির ব্যাপক প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। যার উৎস হিসেবে যত্রতত্র ফেলে রাখা আবর্জনাকে দায়ী করেছিল পুর নিগম। এরপরে বহুবার পুরসভার কর্মীরা সেই বিভিন্ন জায়গায় ফেলে রাখা আবর্জনা পরিষ্কার করেছে। এছাড়াও আশেপাশের বাসিন্দাদের এই নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তাকে তোয়াক্কা না করায় এবার কলকাতা পৌরসভার তরফ থেকে জরিমানার নোটিশ পাঠানো হল বেশ কয়েকজন এলাকাবাসীকে।
উত্তর কলকাতার বেলগাছিয়া থেকে শুরু করে দক্ষিণ কলকাতার কায়স্থ পাড়া, অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে গোটা কলকাতা জুড়ে যেখানেই ফাঁকা জমি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে আশেপাশের বাসিন্দারা সেখানেই তাদের প্রতিদিনের পরিত্যক্ত ময়লা স্তূপাকারে রেখে চলে যাচ্ছেন। এর ফলে নতুন করে মশার উপদ্রব সৃষ্টি হচ্ছে। এই বিষয়টিতে কড়া নজরদারি রেখেছিল কলকাতা পুরসভা। মেয়র ফিরহাদ হাকিম নির্দেশ দিয়েছিলেন, যে সমস্ত জায়গায় এই ধরনের ঘটনা ঘটছে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর জন্য। আর সেই সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতেই পর্দা ফাঁস।
দেখা গেল ওই এলাকার আশেপাশের বাসিন্দারাই যথেচ্ছ ভাবে নিজেদের বাড়ির আবর্জনা ফেলে যাচ্ছেন ফাঁকা জায়গায়। আর তারপর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ধরে ধরে চিহ্নিত করা হয় প্রত্যেককে। তাদেরকে পাঠানো হয় জরিমানা নোটিশ। ইটিভি ভারত বাংলায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এইরকমভাবে বিগত দু মাসে মোট হাজার থেকে বারোশো জনকে কলকাতা পৌরসভা জরিমানার নোটিশ পাঠিয়েছে। যা এক কথায় প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু তারপরেও সাধারণ মানুষের সচেতনতা কিছুতেই বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না। মশা বাহিত রোগ ক্রমশ বেড়ে চলেছে শহর কলকাতার বুকে।
ডেঙ্গিতে একের পর এক প্রাণনাশের ঘটনা ঘটেছে এই শহরেই। তবে তারপরও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা এতটুকুও জাগরিত হয়নি। পৌরসভার তরফ থেকে বারে বারে প্রচার অভিযান চালানো হয়েছে , ক্যাম্পেইন করা হয়েছে। কিন্তু তেমন কিছু ফল পাওয়া যায়নি। যার কারণে এবার যথেষ্ট কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। সোজা নির্দেশ অমান্যকারীদের হাতে ধরানো হয়েছে জরিমানার নোটিশ।
Dengue Death: রাজ্যে ডেঙ্গির আতঙ্ক কোনভাবেই কমছে না। বরং যত দিন যাচ্ছে মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। তার সঙ্গে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। নতুন করে ফের রাজ্যে আরও আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়ে মৃত্যু হল এক ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীর। বেলেঘাটা আইডিতেই মৃত্যু হয় বছর ৩৮ এর ওই যুবকের। যদিও মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় ডেঙ্গি প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন শীত বাড়লে ডেঙ্গির প্রকোপ কমবে। একই আশা ছিল চিকিৎসকদেরও। কিন্তু সেই আশা কতটা পূরণ হবে তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যের দিকে বেলেঘাটা আইডিতে মৃত্যু হয় ভাঙড়ের বাসিন্দা আক্রামুল মোল্লার। তাঁর বয়স ৪০ এরও কম। মঙ্গলবার তাঁর ডেঙ্গি পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট পজিটিভ আশায় বেলেঘাটা আইডিতে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন আক্রামুল। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি । হাসপাতাল সূত্র আরও জানা যায় শুধুমাত্র ডেঙ্গি তাকে কাবু করেনি, তার আগে থেকেই ছিল কিডনি এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যা।
রাজ্যে বর্তমানে ডেঙ্গি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগ জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। যদিও পৌরসভা এবং স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে যথাসম্ভব চেষ্টা করা হচ্ছে ডেঙ্গি প্রতিরোধ করার। ডেঙ্গি প্রবণ যে সকল এলাকাগুলি রয়েছে সেখানে পৌরসভার তরফ থেকে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। এডিস মশার বংশ নষ্ট করার জন্য কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। পৌরসভার তরফ থেকে একটি দল নির্দিষ্ট জায়গা গুলিতে নজরদারি রাখছে। যাতে সেখানে কোনভাবেই জল না জমতে পারে। তারপরেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। যা ভবিষ্যতে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে পারে বলে চিন্তায় সাধারণ মানুষ।
Football match under mosquito net: বিশ্বকাপের আবহে মহানগরীতে চোখে পড়ল এক অভিনব উদ্যোগ। যা স্বাভাবিকভাবেই প্রশংসনীয়। মশারির নিচে একদল পথশিশুরা ফুটবল খেলতে ব্যস্ত। আর সেই মশারি ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন দেশের পতাকা। এই দৃশ্য দেখে স্বাভাবিকভাবেই পথ চলতি মানুষেরাও থমকে যান। ঘটনাটি দক্ষিণ কলকাতার খিদিরপুর মোড়ের। বর্তমানে যেভাবে পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গির প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে তার হাত থেকে পথ শিশুদের রক্ষা করতে, একইসঙ্গে খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশের জন্যেই এই উদ্যোগ।
বাংলাদেশি গণমাধ্যম সময় টিভিতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, শুধুমাত্র পথশিশুরা যাতে এডিস মশার দাপট মুক্ত হয়ে নিরাপদে ফুটবল খেলতে পারে তার জন্য তৈরি করা হয় ১০ ফুট বাই ২০ ফুটের একটি বড় মশারি। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন এক চিকিৎসক অজয় মিস্ত্রি। তাঁর কথায়, যে কোন শিশু বিশেষত পথ শিশুরা বাইরে ফুটবল খেলতে গিয়ে কোনোভাবে মশার কামড়ে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হোক তা একেবারেই কাম্য নয়। কিন্তু তাই বলে শিশুদের খেলাধুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে না। এর জন্যই একেবারে অভিনব উদ্যোগ তাঁর।
কাতারে যখন বসেছে বিশ্বকাপের আসর ঠিক তখনই কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গে দৌরাত্ম্য বেড়েছে এডিস মশার। ডেঙ্গিবাহক এই মশার কামড়ে একের পর এক ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। পথ শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে ডেঙ্গিতে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এই মশারির ভেতরে ফুটবল খেলার আয়োজন, এমনটাই দাবি আয়োজকদের। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল বিধানসভার প্রশ্ন উত্তর পর্বে জানান, রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তবে কলকাতার বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এ রাজ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে দাঁড়িয়ে প্রায় ৮০ হাজার এবং মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনেরও বেশি।
পথ শিশুদের ডেঙ্গি সম্পর্কে সচেতন করার জন্য যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন আয়োজকরা তা স্বাভাবিকভাবেই বহু মানুষের প্রশংসা পেয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এই রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছিল এক লাখের গণ্ডি। ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় শতাধিক মানুষের। সেই ছবি যেন পুনরায় রাজ্যে ফিরে না আসে তার জন্য যথেষ্ট তৎপর রাজ্য প্রশাসন।
Dengue Guideline: রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই ডেঙ্গি আক্রান্ত কোনো না কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর সামনে আসছে। এছাড়াও প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতি রাজ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তায় রয়েছে স্বাস্থ্য মহল। তাই এবার ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আরও বেশ কিছু বিধি নিয়ম বেঁধে দিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে গাইডলাইন। ১৪ দফার এই গাইডলাইন কতটা কার্যকরী হবে তাই পরবর্তীতে দেখার বিষয়।
কী কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গাইডলাইনে ?
১. রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যে ফিভার ক্লিনিকগুলি রয়েছে সেগুলিকে পুরো দমে চালু রাখতে হবে। এছাড়াও একটি রেজিস্ট্রার তৈরি করতে হবে যেখানে ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের সম্পর্কে তথ্য রাখা এবং তাদের ট্র্যাক করা সম্ভব হবে।
২. যেকোনো ব্যক্তির ডেঙ্গি পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট যাতে সেই দিনই পাওয়া যায় এই ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রত্যেকটি হাসপাতালে ২৪ ঘন্টার ল্যাব পরিষেবা চালু থাকবে।
৪. নিয়ম মেনে প্রতিদিন হাসপাতাল চত্বরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। অপরিচ্ছন্নতাই এডিস মশার আঁতুর ঘর তৈরি করছে । কাজেই নিয়ম করে হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার রাখার বিষয়টিতে বেশি জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।
৫. ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের দেখাশোনার জন্য যে সকল নার্সিং স্টাফেরা রয়েছেন তাদের কাজের সমস্ত সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।
৬. ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য প্লেটলেট এবং অন্যান্য রক্তের পরিষেবা একেবারে ত্রুটিহীন রাখতে হবে।
৭. প্রত্যেকটি হাসপাতালকে সজাগ থাকতে হবে যাতে প্রোটোকল মেনে ডেঙ্গি রোগীর চিকিৎসা হয়।
৮. ডিকেপিআই নামক একটি পোর্টালের ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে এন্ট্রি করতে হবে।
৯. প্রত্যেক সপ্তাহে স্টাফ মিটিং করতে হবে । ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের দেখাশোনার জন্য থাকা প্রত্যেক স্তরের কর্মীদের নিয়ে এই আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে । সেখানে নিয়মিত আপডেট দিতে হবে।
এরকমই আরও বেশ কয়েকটি নির্দেশিকা হয়েছে রাজ্য দফতরের ওই গাইডলাইনে। বিগত কয়েক মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু উদ্বেগ বাড়াচ্ছে রাজ্যে । কোনোভাবেই ডেঙ্গি সংক্রমণে রাশ টানা যাচ্ছে না। তাই পুনরায় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে বিশেষ গাইডলাইন প্রকাশের সিদ্ধান্ত।