Category: FIFA ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২ Qatar

FIFA WorldCup 2022 will held on Qatar

  • FIFA World Cup 2022: মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি, উত্তরসূরিদের সাফল্যে সবচেয়ে খুশি হলেন মারাদোনা!

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    অধরা স্বপ্নপূরণ! অবশেষে ‘সোনালী পরি’ ধরা দিল ফুটবল জাদুকরের হাতে। টানটান উত্তেজনা, প্রতি সেকেন্ডে উৎকণ্ঠা, রোমাঞ্চ সব মিলিয়ে অতি রঞ্জিত ফাইনাল। এমন হাইভোল্টেজ ফাইনাল শেষ কবে দেখেছে বিশ্ব ফুটবল তা মনে করা কঠিন। তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য চিত্রনাট্যের সমাপ্তিটা হয়ে গেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠার মধ্যে দিয়ে। পারলেন মেসি, করে দেখালেন। বুঝিয়ে দিলেন শুধু ক্লাব নয় দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ তিনি। আর হ্যাটট্রিক করে ট্র্যাজিক নায়ক রয়েই গেলেন কিলিয়ান এমবাপে।

     

    এদিনের ফাইনাল যেন মনে করিয়ে দিয়ে গেল ১৯৮৬ বিশ্বকাপে মারাদোনার আর্জেন্টিনার স্মৃতি। প্রথমে দুই গোল করেও সমতায় ফিরেছিল প্রতিপক্ষ। সেই একই স্মৃতি ফিরে এল মেসির আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে। তবে সেইবার অতিরিক্ত সময়ে বুরুচাগার গোলে বাজিমাত করেছিল আর্জেন্টিনা। আর এবার টাইব্রেকারে মার্টিনেজের অনবদ্য সেভে বাজিমাত করল আলবিসেলেস্তেরা। ফুরাল আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের বিশ্বজয়ের অপেক্ষা। হয়তো এর মধ্য দিয়ে সর্বকালের সেরা ফুটবলার নিয়ে বিতর্কের অবসান হবে। বিশ্বকাপ ট্রফি না পাওয়ায় অনেকে মেসিকে মানতে রাজি ছিলেন না। এবার আর না মানার কোন প্রশ্নই থাকলো। অধরা বিশ্বকাপ ট্রফিও যে নিজের সাফল্যের ঝুলিতে ভরে নিলেন লিওনেল মেসি। স্পর্শ করলেন মারাদোনাকে।

     

    আজকে আর্জেন্টিনার জয়ে সবথেকে বেশি খুশি যদি কেউ হতেন তিনি দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা। আর্জেন্টিনার ম্যাচ হলেই মেসিদের উৎসাহ দিতে তিনি ছুটে যেতেন মাঠে। দুই হাত উঁচিয়ে, বুকটা চিতিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়তেন। শেষ পর্যন্ত একরাশ হতাশা নিয়ে মুখ ঢেকে মাঠ ছাড়তে হতো কিংবদন্তিকে। দিনের পর দিন। টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্ট। বেঁচে থাকলে হয়তো কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে আজ থাকতেন তিনি। উচ্ছ্বাস, উল্লাসে ফেটে পড়তেন উত্তরসূরিদের শিরোপা অর্জনে। গভীর আলিঙ্গনে বাঁধতেন মেসি-ডি মারিয়াদের। কে জানে, হয়ত না ফেরার দেশে বসেই তিনি উপভোগ করছেন উত্তরসূরিদের সাফল্য! আবেগের বাঁধনহারা উল্লাসে ফেটে পড়ছেন। যেমনটা করতেন মাঠের গ্যালারিতে।

     

    দূর থেকে যে তিনি আশীর্বাদ করেছিলেন প্রিয় ছাত্র মেসিকে। সেকথা জানিয়েওছিলেন স্বয়ং মেসি। তাঁর আশীর্বাদেই হয়তো আজ কাতার হয়ে উঠল শুধুই নীল-সাদা। প্রিয় ছাত্রও যে জবাব দিলেন একাধিক সমালোচনার। ঘটালেন একাধিক বিতর্কের অবসান। নতুন এক যুগের সাক্ষী থাকলাম আমরা। যে যুগে থাকবে শুধু জাদুকর মেসির নাম। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপটা রাঙিয়ে দিয়ে গেলেন। একার কাঁধে দেশকে তুলে নিয়ে গেলেন ফাইনালে। স্বপ্ন দেখালেন, জয় করলেন। এটাই তো চেয়েছিল বিশ্বফুটবল। স্বপ্নের ফেরিওয়ালারা তো এমনি হন।

  • FIFA World Cup 2022: অবশেষে স্বপ্নপূরণ, মেসির হাত ধরে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয় আর্জেন্টিনার

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জয় আর্জেন্টিনার। ১৯৮৬ সালে মারাদোনার পর মেসির হাত ধরে স্বপ্নপূরণ আলবিসেলেস্তেদের। টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বজয়ের মুকুট উঠল আর্জেন্টিনার মাথায়। সেই সঙ্গে শেষ হলো মেসি সাম্রাজ্যের। নিজের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে রাঙিয়ে দিয়ে গেলেন বিশ্ব ফুটবলকে। ২০১৪ সালে বিশ্বজয়ের খুব কাছে পৌঁছেও ছুঁতে পারেননি সোনালী ট্রফি। অবশেষে সোনার পরির স্পর্শ পেলেন ফুটবলের এই জাদুকর। নিজের কাঁধে দলকে নিয়ে গেলেন ফাইনালে, স্বপ্ন দেখালেন এবং জয় করলেন। এটাই তো চেয়েছিল ফুটবলবিশ্ব।

    কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা ছন্দে ধরা দিল আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে ৬০ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে ফ্রান্স রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে গেল মেসি-ডি মারিয়ারা। ফ্রান্স আক্রমণের ত্রি-ফলা গ্রিজমান-এমবাপে-জিরুদকে খুঁজেই পাওয়া গেল না। ২৩ মিনিটে মেসির পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সে ডি মারিয়াকে ফাউল করে বসেন উসমান দেম্বেলে। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। হুগো লরিসকে ডানদিকে ফেলে বাঁ দিক দিয়ে বল জড়িয়ে দেন মেসি। সেই সঙ্গে চলতি আসরে ১২ গোল করে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি।

    ৩৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। এই গোলেও অবদান সেই লিওনেল মেসির। মেসির দুর্দান্ত একটি পাস ধরে এগিয়ে যান আলভারেজ। এরপর বল বাড়ান আলিস্টারকে। আলিস্টারের থেকে বল পেয়ে অসাধারণ দক্ষতায় লরিসকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ডি মারিয়া। ম্যাচের ৪১ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করেন ফরাসি কোচ দিদিয়ে দেশচ্যাম্প। উসমান দেম্বেল ও অলিভিয়ে জিরুদকে তুলে নিয়ে দুই ফরোয়ার্ড মার্কাস থুরাম ও রন্দাল কোলো মুয়ানিকে মাঠে নামান। তবে তাতেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি ফ্রান্স।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াল ফ্রান্স। ৬৪ মিনিটে ডি মারিয়াকে তুলে নিতেই খেলায় ফিরল ফরাসিরা। একের পর এক সুযোগে গোলের মুখ খুলতে মরিয়া হয়ে ওঠে দিদিয়ের দেশচ্যাম্পের দল। ৭৯ মিনিটে মোয়ানিকে ডি-বক্সে ওতামেন্দি ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপের সফল পেনাল্টি কিকে ব্যবধান কমায় ফ্রান্স। সেই গোলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ১ মিনিটের মধ্যে দলকে সমতায় ফেরালেন সেই এমবাপে। কোনাকুনি শটে দুর্দান্ত গোল করে মেসিকে টপকে চলতি বিশ্বকাপে সাতটি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যান পিএসজি ফরোয়ার্ড। ছন্নছাড়া ফুটবলে আর গোলের মুখ খুলতে পারল না আর্জেন্টিনা। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

    অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে গোল পায়নি দুই দলই। ১০৮ মিনিটে ফের এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেদের ত্রাতা সেই লিওনেল মেসি। ১১৮ মিনিটে এমবাপের হ্যাটট্রিকে ফের সমতায় ফিরল ফ্রান্স। পেনাল্টি থেকে দলকে সমতায় ফেরালেন কিলিয়ান এমবাপে। গোলের খাওয়ার পরই আক্রমণে ধার বাড়াল আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তে সহজ সুযোগ মিস করলেন লাউতারো মার্টিনেজ। খেলা গেল টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতে স্বপ্নপূরণ মেসির।

  • FIFA World Cup 2022: হার না মানা এক লড়াকু তরুণের স্বপ্নের ইতিহাসের হাতছানি

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    বাঁ পায়ের জাদুতে যেকোন সময় বদলে দিতে পারেন ম্যাচের রঙ। তিনি ছন্দে থাকলে জয়ের পাহাড় গড়ে আর্জেন্টিনা। সবুজ গালিচায় ডস, ড্রিবল দিয়ে ভেদ করতে পারেন প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ। তাঁর পায়ে বল থাকলে বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের ত্রাস তিনি। তিনি আর কেউ নন আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি। ফ্রান্সের পরপর দুইবার বিশ্বজয়ের সামনে সবথেকে প্রতিবন্ধকতা এই সাড়ে পাঁচ ফুটের মানুষটি। যাকে স্বপ্নের জাল বুনছে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। তবে মেসিকে রুখতে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশচ্যাম্পের তুরুপের তাস কিলিয়ান এমবাপে। বয়স মাত্র ২৩। তাঁর তারুণ্যের দীপ্তিতেই ইতিহাস লিখতে চান ফরাসি কোচ।

     

    কিলিয়ান এমবাপে ছোট থেকেই ফুটবল অন্ত প্রাণ ছেলেটা। ফুটবলে এমবাপের আদর্শের নাম যে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো তা সকলেরই জানা। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হেরে চোখের জলে বিদায় নিয়েছে এমবাপের আদর্শ। অন্যদিকে এমবাপে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। রবিবাসরীয় ফাইনালে মেসির স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে ঠাঁই করে নেবেন কিংবদন্তিদের সংক্ষিপ্ত তালিকায়। ক্ষিপ্র গতিই এমবাপের একমাত্র শক্তি। দাঙ্গা ও হাঙ্গামার মধ্যে বেড়ে ওঠা ছেলেটার গতির হার মেনেছে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা।

     

    চলতি বিশ্বকাপেও একাধিকবার দেখা গেছে এমবাপে ক্ষিপ্র গতি। উল্কার গতিতে ঢুকে গিয়ে এলোমেলো করে দেন প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ। এই এমবাপেকেই ভয় পাচ্ছে আর্জেন্টিনা। এমবাপের গতির কাছেই স্বপ্নভঙ্গ হতে পারে আলবিসেলেস্তেদের। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ২৩ বছরের ছেলেটার একটা দৌড়ই ধূলিসাৎ করে দিতে পারে সবকিছু। এমবাপে কোন ধাতুতে তৈরি তা আর্জেন্টিনা ছাড়া ভালো কেউ জানেনা। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে এমবাপের দৌড়ের কাছেই পরাজিত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। আজ ফাইনালে যদি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে মেসি সাম্রাজ্যের পতন অনিবার্য।

     

    দেশকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে অনেক জবাব দেওয়া বাকি ফরাসি ফরোয়ার্ডের। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপের জয়ের নায়ক ইউরো কাপে পেনাল্টি মিস করে রাতারাতি খলনায়ক বনে গিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় বারবার তাকে পড়তে বর্ণবৈষম্যের আক্রমণে। একটা সময় তো জাতীয় দলে না খেলার কথাও জানিয়েছিলেন এমবাপে। সেই এমবাপেই এখন ফরাসিদের স্বপ্নের প্রাণভোমরা। তাঁর হাত ধরেই স্বপ্নের জাল বুনছে ফরাসিরা। ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতলে জয় হবে হার না মানা এক লড়াকু তরুণের।

  • FIFA World Cup 2022: বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বপ্নপূরণ! মেসির সামনে একাধিক রেকর্ডের হাতছানি

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    রবিবাসরীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। জমজমাট এই ফাইনালে যার দিকে সবার নজর থাকবে তিনি আর কেউ নন আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে একার কাঁধে তুলে এনেছেন ফাইনালে। বার্সেলোনা থেকে প্যারিস বাঁ পায়ের কেরামতিতে রাঙিয়ে দিয়েছেন। আর প্রাণ ভরে তা উপভোগ করছে ফুটবল প্রেমীরা। বিশ্বকাপও তার অন্যথা হয়নি। মেসির পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছে বিশ্ব ফুটবল। নিজের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে যেভাবে তিনি আলো ছড়াচ্ছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ফুটবলের এই জাদুকর জাদুকরী পারফরম্যান্সে মাতিয়ে তুলেছেন বিশ্ব ফুটবলকে। ফাইনালে স্বপ্নপূরণের হাতছানির পাশাপাশি একাধিক রেকর্ডের সামনে লিওনেল মেসি।

    বিশ্বকাপে খেলোয়াড় হিসেবে সর্বাধিক ম্যাচ জয়: লিওনেল মেসি ফিফা বিশ্বকাপের টুর্নামেন্টে ১৬টি ম্যাচ জিতেছেন। যদি আর্জেন্টিনা ফাইনাল ম্যাচ জিততে পারে তবে এটি হবে তারকা স্ট্রাইকারের ১৭তম জয় যা তাকে বিশ্বকাপের মঞ্চে যৌথভাবে সর্বাধিক বিজয়ী করে তুলবে৷ বর্তমানে, জার্মানি কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজে তার ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে ১৭টি জয়ের সঙ্গে রেকর্ডটি ধরে রেখেছেন।

     

    বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা: রবিবাসরীয় ফাইনালে মেসি মাঠে নামলেই জার্মানির লোথার ম্যাথাউজকে (২৫টি উপস্থিতি) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়বেন।

     

    সর্বাধিক অ্যাসিস্ট: লিওনেল মেসি এখনও পর্যন্ত ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচে মোট নয়টি অ্যাসিস্ট করেছেন। বর্তমানে, ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে দশটি অ্যাসিস্ট করে তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। ফাইনালে যদি মেসি তাঁর সতীর্থদের অন্তত দুটি গোল করতে সাহায্য করতে পারেন, তাহলে রেকর্ডটি নিজের দখলে করে নেবেন।

     

    সর্বাধিক গোল্ডেন বল জয় : ২০১৪ রাশিয়া বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি গোল্ডেন বল পেয়েছিলেন। বিশ্বকাপের একটি সংস্করণে সেরা অলরাউন্ড খেলোয়াড়কে গোল্ডেন বল দেওয়া হয়। এবারও সম্মান পাওয়ার অন্যতম ফেভারিট আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা। যদি তিনি এই কাঙ্খিত পুরস্কার জিততে সক্ষম হন তবে তিনি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ‘গোল্ডেন বল’ জিতে নেবেন।

     

    গোল্ডেন বুট জয় : গোল্ডেন বল ছাড়াও, গোল্ডেন বুট নামে আরেকটি পুরস্কার রয়েছে যা বিশ্বকাপের একটি সংস্করণে সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া হয়। লিওনিদাস দা সিলভা (১৯৩৮), গ্যারিঞ্চা (১৯৬২), রোনালদো (১৯৯৮ গোল্ডেন বল, ২০০২ গোল্ডেন বুট), পাওলো রসি (১৯৮২), সালভাতোরে শিলাচি (১৯৯০) এবং আর্জেন্টিনার প্রাক্তন তারকা মারিও কেম্পেস (১৯৭৮) এই সাতজন খেলোয়াড় গোল্ডেন বুট এবং গোল্ডেন বল উভয় পুরস্কার পেয়েছেন। চলতি বিশ্বকাপে মেসি এবং এমবাপ্পে পাঁচটি গোল করে শীর্ষস্থানীয় গোলদাতা হিসেবে রয়েছেন। যদি একটি গোল বেশি করেন তবে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে গোল্ডেন বুটও জিততে পারেন মেসি।

     

    সর্বাধিক গোল অবদান: বিশ্বকাপের মঞ্চে ১১টি গোল এবং নয়টি অ্যাসিস্ট সহ মেসির ২০টি গোল রয়েছে। ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের ২২টি গোলের রেকর্ড রয়েছে যার মধ্যে ১২টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট। ফাইনালে মেসির কাছে পেলের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার বা সমান করার সুবর্ণ সুযোগ থাকছে।

  • FIFA World Cup 2022: রবিবাসরীয় ফাইনালে আর্জেন্টিনার স্বপ্নপূরণ নাকি ফ্রান্সের ইতিহাস

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    বহু ঘাত-প্রতিঘাত, চমক, রোমাঞ্চ, উত্তেজনা পেরিয়ে শেষ লগ্নে কাতার বিশ্বকাপ। কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। ফ্রান্সের কাছে শিরোপা ধরে রেখে ইতিহাস লেখার ম্যাচ। বিশ্ব ফুটবল সোনালী ট্রফি ধরে রাখতে দেখেছে ৬০ বছর আগে। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে বিশ্বকাপ জিতে এই কীর্তি গড়েছিল ব্রাজিল। এবার সেই ইতিহাসকে ফিরিয়ে আনার হাতছানি ফ্রান্সের সামনে। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলেছিল ফরাসিরা। ১৯৯৮ সালের পর এটাই ছিল তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়।

     

    অন্যদিকে বিশ্বকাপের জন্য তিন যুগের অপেক্ষার অবসান ঘোচানোর লড়াই। মারাদোনার হাত ধরে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর দুবার ফাইনালে উঠেও পুড়তে হয়েছে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায়। সর্বশেষ তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে। ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ আবারও পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। মেসির হাত ধরে স্বপ্নপূরণ হেলায় হারাতে চাইবে না আর্জেন্টিনা। যদিও এই মারাকানা স্টেডিয়ামেই মেসির হাত ধরে ২৮ বছরের ট্রফির খরা কাটিয়েছে আর্জেন্টিনা। ব্রাজিলকে কোপা আমেরিকা জয় করেছে তাঁরা। আর আর্জেন্টিনা ফুটবলের পুনর্জন্ম সেখান থেকেই। এরপর বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে হারিয়ে কনমেবল ও উয়েফার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফিনালিসিমা’ জয় করে আর্জেন্টিনা।

     

    আর্জেন্টিনার মাঠের নায়ক যদি লিওনেল মেসি হন তো মাঠের বাইরের নায়ক লিওনেল স্কোলানি। আর্জেন্টিনা দলটার খোলনলচে বদলে দিয়েছেন তিনি। স্কোলানির বুদ্ধিদীপ্ত কৌশলেই স্বপ্নের জাল বুনছে আলবিসেলেস্তেরা। অন্যদিকে গতবার বিশ্বকাপ জিতে খেলোয়াড় ও কোচ দুই ভূমিকাতেই বিশ্ব জয়ের নজির গড়েছেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশচ্যাম্প। একই আসনে জায়গা করে নিয়েছিলেন ব্রাজিলের মারিও জাগালো ও জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের সঙ্গে। আর এবার বিশ্বকাপ জিতলেই ছাড়িয়ে যাবেন জাগালো ও বেকেনবাওয়ারকে। সেই সঙ্গে কোচ হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপ জয় করে ছুঁয়ে ফেলবেন ভিত্তিরিও পোজ্জোকে। এই ইতালিয়ান কোচের দখলেই রয়েছে দুটি বিশ্বকাপ জয়ের নজির।

  • FIFA World Cup 2022 : মরক্কোকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান পেল ক্রোয়েশিয়া

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    চলতি বিশ্বকাপে আর ইতিহাসগড়া হল না মরক্কোর। চতুর্থ স্থানেই শেষ করল আফ্রিকার দেশটি। যদিও আগেই আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছিল মরক্কো। তবে ফ্রান্সের কাছে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। তৃতীয় স্থানে শেষ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোই ছিল একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু তা আর হল না। আল রাইয়ানের খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মরক্কোকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান পেল গতবারের রানার্সরা। ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতে এদিন শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন লুকা মদ্রিচ। ৩৫ বছর বয়সী মদ্রিচকে যে আর পরের বিশ্বকাপে দেখা যাবে না তা সকলরেই জানা। নিজের শেষ বিশ্বকাপ তৃতীয় স্থানেই শেষ করলেন ক্রোয়েশিয়ার প্রাণভোমরা।

     

    তৃতীয় স্থান অধিকারের ম্যাচ নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ থাকে না ফুটবলপ্রেমীদের। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল ভাঙা হৃদয় নিয়ে খেলতে নামে এই ম্যাচে। ম্যাচে থাকে না তেমন কোন উত্তেজনা। তবে এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ঝাঁপাল দুই দলই। সাত মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। মদ্রিচের ফ্রি কিক থেকে বল পেয়ে হেডে বক্সের মধ্যে বল বাড়ান ইভান পেরিসিচ, দুর্দান্ত হেডে গোলটি করেন ক্রোয়াট ডিফেন্ডার ইয়োস্কো গাভারদিওল। তবে চলতি বিশ্বকাপে চমক দেওয়া মরক্কোর সমতায় ফিরতে সময় লাগলো না। দুই মিনিট পর মরক্কোকে সমতায় ফেরান আশরাফ দারি।

    সমতায় ফেরার পরই আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় আফ্রিকার দেশটি। একের পর আক্রমণে ক্রোয়েশিয়া রক্ষণে সুযোগও গড়ে তোলে মরক্কো। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তাঁরা। উল্টে পাল্টা আক্রমণে ৪২ মিনিটে গোল খেয়ে বসে মরক্কো। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে ব্যবধান বাড়ান মিসলাভ অরসিচ। দ্বিতীয়ার্ধে ক্রোয়েশিয়ার জমাট রক্ষণে সামনে আক্রমণে তেমন সুবিধা করতে পারল না মরক্কো। অন্যদিকে সুযোগ তৈরি করেও আর ব্যবধান বাড়াতে পারল না ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সালে তৃতীয় হওয়ার ২৪ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে তৃতীয় হলো ক্রোয়েশিয়া। পর পর দুই ম্যাচে হারলেও মাথা উঁচু করে বিদায় নিল চলতি বিশ্বকাপে ইতিহাস তৈরি করা মরক্কো।

  • FIFA World Cup 2022: কেরালার আবেগী ব্রাজিল ভক্তদের ধন্যবাদ জানালেন নেইমার

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    ভারতের কেরালার কোঝিকোড জেলার পুল্লভুর নদীর তীরে নেইমারের বিশাল কাট-আউট তৈরি করে নেইমার ভক্তরা। ফুটবল-পাগল দক্ষিণী রাজ্য কেরালার ভক্তদের ধন্যবাদ জানালেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। কাতারে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২-এ ব্রাজিলিয়ান ভক্তদের দ্বার তৈরি কাট-আউটগুলি সারা বিশ্বের ফুটবল ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।

     

    নেইমার ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে লিখেছেন, “পৃথিবীর সব শিল্প থেকে স্নেহ আসে! আপনাদের অনেক ধন্যবাদ, কেরালা, ভারত।” ব্রাজিল এবং পর্তুগাল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়ার পরে, নেইমার এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর কাটআউটগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়।

     

    এর আগে, আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা পুল্লভুর নদীর তীরবর্তী কাটআউটগুলির একটি ছবি টুইট করে জানিয়েছিল, “#FIFAWorldCup জ্বর কেরালায় আঘাত করেছে। কেরালা এবং কেরলবাসীরা সবসময়ই ফুটবলকে ভালোবাসে এবং এটি #Qatar2022-এর সাথে পূর্ণ প্রদর্শন করা হয়।” টুইট করে প্রতিক্রিয়া দেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তিনি লেখেন, “খেলার প্রতি আমাদের অতুলনীয় আবেগকে স্বীকার করার জন্য @FIFA কে ধন্যবাদ।”

     

    টাইব্রেকারে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হৃদয়বিদারক হারের পর তিনি আবার ব্রাজিলের হয়ে খেলবেন কিনা তা নিশ্চিত নন বলে জানান নেইমার। তিনি বলেন, “এটা বলতে গেলে আমি নিজেই তাড়াহুড়ো করব, কিন্তু আমিও কিছুর নিশ্চয়তা দিচ্ছি না। দেখা যাক সামনে কী হয়। আমি এই সময়টা নিয়ে ভাবতে চাই, ভাবতে চাই নিজের জন্য কী চাই। আমি করব। ব্রাজিলের সাথে খেলার দরজা বন্ধ করব না, আমি একশো শতাংশ বলব না যে আমি ফিরে আসব।”

  • FIFA World Cup 2022 : তৃতীয় স্থান প্লেঅফের ইতিহাসে মরক্কো, দেখুন বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের তালিকা

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে মরক্কোর। মরক্কো ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে শেষ চারে পা রেখেছিল। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে আজ তৃতীয় স্থান অধিকারের ম্যাচে নামছে আশরাফ হাকিমি ও হাকিম জিয়াশরা। ইউরোপের দলটি দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হয়েছে। যদিও দুটি দল একটি ‘অতুলনীয়’ তৃতীয় স্থানের প্লে অফের জন্য লড়াই করবে।

     

    এখনও অনেক কিছুর অপেক্ষায় আছে, বিশেষ করে মরক্কোর জন্য যারা ইতিহাস তৈরি করতে পারে। মজার বিষয় হল, ইউরোপ এবং দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে কোনো দলই ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় স্থান অর্জন করতে পারেনি। আফ্রিকার দল হিসেবে মরক্কোর কাছে সেই সুযোগ রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে মরক্কো নিঃসন্দেহে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক দলগুলির মধ্যে একটি ছিল। যারা ফিফা ক্রমতালিকায় দ্বিতীয় নম্বরে থাকা বেলজিয়ামকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নক আউটে পৌঁছায়। এরপর শেষ ষোলোয় সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয়।

     

    মরক্কো যদি শনিবার ক্রোয়েশিয়াকে হারাতে পারে, তাহলে তারা ইউরোপ এবং দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হবে যারা আফ্রিকার দল হিসেবে তৃতীয় স্থান অধিকার করবে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের তালিকা,

    ১৯৩০ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
    ১৯৩৪ জার্মানি
    ১৯৩৮ ব্রাজিল
    ১৯৫০ সুইডেন
    ১৯৫৪ অস্ট্রিয়া
    ১৯৫৮ ফ্রান্স
    ১৯৬২ চিলি
    ১৯৬৬ পর্তুগাল
    ১৯৭০ পশ্চিম জার্মানি
    ১৯৭৪ পোল্যান্ড
    ১৯৭৮ ব্রাজিল
    ১৯৮২ পোল্যান্ড
    ১৯৮৬ ফ্রান্স
    ১৯৯০ ইতালি
    ১৯৯৪ সুইডেন
    ১৯৯৮ ক্রোয়েশিয়া
    ২০০২ তুর্কি
    ২০০৬ জার্মানি
    ২০১০ জার্মানি
    ২০১৪ নেদারল্যান্ডস
    ২০১৮ বেলজিয়াম

  • FIFA World Cup 2022: বিশ্বকাপকে বিদায়ের জন্য প্রস্তুত লিওনেল মেসি, আরও একটি মেসি ম্যাজিকের অপেক্ষায় ফুটবলবিশ্ব

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    সাঁইত্রিশটি ক্লাব ট্রফি, সাতটি ব্যালন ডি’অর পুরস্কার, ছয়টি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট, একটি কোপা আমেরিকা শিরোপা, একটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক এবং একাধিক ব্যক্তিগত পুরস্কারে নিজের ক্যারিয়ার রাঙিয়েছেন লিওনেল মেসি। ৩৫ বছর বয়সী মেসির শেষ লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়। সেই লক্ষ্যে এখন তিনি রয়েছেন চূড়ান্ত ধাপে। আর একটি মাত্র জিতলেই নিজের ক্যারিয়ারকে নিয়ে যাবেন এক অন্য মাত্রায়। বিশ্বকাপ জিতলেই পেলে, দিয়েগো মারাদোনা, আলফ্রেডো ডি স্টেফানো এবং জোহান ক্রুইফের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই আসনে জায়গা করে নেবেন।

     

    ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৩-০ ব্যবধানে মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছিলেন, “এটা বলতে আমার কোনো সন্দেহ নেই, তিনিই ইতিহাসের সেরা।” প্রাক্তন আর্জেন্টিনা ফরোয়ার্ড বুরুচাগার বলেন মেসি এমন এক যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় যেখানে শুধুমাত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো তার কৃতিত্বের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। কিন্তু পূর্ববর্তী প্রজন্মের সঙ্গে তুলনা করা বৃথা। হার হোক বা জিত যাই হোক না কেন মেসি ইতিহাসে থাকবেন।” তিনি আরও বলেন বিগত ৭০ বছরে পাঁচজন খেলোয়াড় আছেন যাদেরকে বিশ্বের সেরা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে – ডি স্টেফানো, জোহান ক্রুইফ, পেলে, মারাদোনা এবং মেসি।মেসি সেই তালিকায় আছে, সে বিশ্বকাপ জিতুক বা না করুক। তবে আমি আশা করি সে পারবে।”

     

    চলতি বিশ্বকাপে একার কাঁধে ফাইনালে টেনে গিয়েছেন দলকে। ইতিহাস লিখতে সেমিফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলকে। যে মেসি ম্যাজিকের অপেক্ষাতেই ছিল অনুরাগীরা। নিজের শেষ বিশ্বকাপে রাঙিয়ে দিচ্ছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের তিনি জানিয়ে দিয়েছেন ফাইনালই তাঁর নীল-সাদা জার্সিতে শেষ ম্যাচ। ফুটবল দেবতাও হয়তো অপেক্ষায় আছেন মেসির হাতে কাপ দেখার জন্য। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স যে সহজ প্রতিপক্ষ হবে না তা সকলেরই জানা। তবে এই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জয় পেতে দরকার আরও একটি মেসি ম্যাজিক।

  • FIFA World Cup 2022: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসি ও এমবাপে, বিশ্বকাপ ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কে এগিয়ে ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    দেখতে দেখতে অন্তিম লগ্নে পৌঁছে গিয়েছে বিশ্বকাপের আসর। তৃতীয়বার ট্রফি ঘরে তোলার জন্য কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে দুরন্ত ফর্মে থাকা আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। যা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে চলছে চরম উদ্দীপনা। ঠিক তেমনি কে পাবে গোল্ডেন বুট নিয়ে সেই নিয়েও চলছে জোর চর্চা। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল স্কোরারকে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। জমে উঠেছে চলতি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াই।

     

    লিওনেল মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে রয়েছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে। দুই পিএসজি তারকার গোল সংখ্যা ৫। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দুই তারকাই ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হবে। ফাইনালে যেই গোল করবেন সেই একে অপরকে এগিয়ে যাবেন। তবে দুজনেরই গোল সংখ্যা যদি সমান হয় তবে দেখা হবে কে বেশি অ্যাসিস্ট করেছেন। আর সেখানেই এমবাপেকে পিছনে ফেলে দিয়েছেন মেসি। শুধু তাই নয় ৪ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন আর্জেন্টিনার জুলিয়ান আলভারেজ ও ফ্রান্সের অলিভিয়ে জিরুদ। দুটি করে গোল করলেই টেক্কা দেবেন মেসি ও এমবাপেকে।

     

    এতো গেল চলতি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াই। চলুন পিছন ফিরে একবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে চোখ রাখি। দেখে নিই একটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করে গোল্ডেন বুটের রেকর্ডের তালিকায় কারা রয়েছেন। গোল্ডেন বুটের রেকর্ড রয়েছে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনের দখলে। ১৯৫৮ সুইডেন বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। ১৩ গোল করে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি গোলের পুরষ্কারটি পেয়েছিলেন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন। ফন্টেইনের এই রেকর্ড চলতি বিশ্বকাপেও অটুট থাকবে কারণ মেসি বা এমবাপের পক্ষে বাকি ম্যাচে ৯ গোল করা অসম্ভব।

     

    এরপর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন হাঙ্গেরির স্যান্ডর কোসিস। যিনি ১৯৫৪ সালের সুইৎজারল্যান্ড বিশ্বকাপে ১১ গোল করে গোল্ডেন বুট পুরস্কার পেয়েছিলেন। ১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে ১০ গোল করে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন জার্মানির গার্ড মুলার। চতুর্থ স্থানে পর্তুগালের ইউসেবিও। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ৯ গোল করে এই পুরস্কার জিতেছিলেন ইউসেবিও। আটটি গোল করে তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন মোট তিনজন। ১৯৩০ প্রথম উরুগুয়ে বিশ্বকাপে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট পান আর্জেন্টিনার গুইলারমো স্ট্যাবিলে। এছাড়াও ১৯৫০ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আদেমির ও ২০০২ জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট পান ব্রাজিলের রোনাল্ডো। শেষবার ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে এই পুরস্কার পান ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন।

Exit mobile version