Tag: west bengal

  • “আমরা বন্ধু দেশ না হয়ে শত্রু দেশ হয়ে যাচ্ছি”— একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রথম কলকাতাকে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় আর কী কী জানালেন

    Shirshendu Mukhopadhyay Interview: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর জন্মভূমি, শৈশবের স্মৃতি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের নানা কথা। প্রথম কলকাতার সম্পাদক সুব্রত আচার্য কে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে সাহিত্যিকের ব্যক্তিগত জীবন, স্মৃতির টান এবং দুই বাংলার সাংস্কৃতিক যোগসূত্রের কথাও বিশেষভাবে জানা যায়।

    বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধু একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নয়। ময়মনসিংহের মাটিতে জন্ম, ব্রহ্মপুত্রের সামনে শৈশব, কালীবাড়ি লেনের বাড়ি, বড় বড় নৌকা, পাটের চাষ আর পাট পচানোর সেই দৃশ্য—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে স্মৃতি ও শিকড়ের ভিতর দিয়ে। তাই ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন তাঁর কাছে কেবল দুই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমীকরণ নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু পুরনো এক আবেগের জায়গা।

    প্রথম কলকাতার সম্পাদক সুব্রত আচার্যকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলা সাহিত্যের এই প্রবীণ কথাসাহিত্যিক কথা বলেছেন তাঁর জন্মভূমি ময়মনসিংহের স্মৃতি থেকে শুরু করে প্রয়াত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, সাহিত্যজীবনের আড্ডা, বর্তমান প্রজন্মের মোবাইল-আসক্তি এবং ভারত–বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে নিজের ভাবনার কথা। তাঁর কথায় এসেছে একটি গভীর আক্ষেপ—যে দুই দেশকে তিনি আরও কাছাকাছি দেখতে চেয়েছিলেন, সেই দুই দেশের মধ্যে আজ কেন শত্রুতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর কথায়, দুই দেশের মানুষের সম্পর্ক আরও অবাধ ও সহজ হওয়াই ছিল তাঁর প্রত্যাশা।

    শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ময়মনসিংহে। তাঁর কথায়, বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সবচেয়ে গভীর জায়গাটি তৈরি হয়েছে শৈশবের স্মৃতিতে। তিনি মনে করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ তার শৈশব ও কৈশোরের জায়গাগুলিতে বারবার মনে মনে ফিরে যায়। বাস্তবে সেই জায়গায় ফিরে যাওয়া সবসময় সম্ভব হয় না, আর ফিরে গেলেও হয়তো আগের মতো অনুভূতি তৈরি নাও হতে পারে। কিন্তু স্মৃতির ভিতর সেই ফিরে যাওয়া থামে না।

    ময়মনসিংহের বাড়ির কথা বলতে গিয়ে তাঁর স্মৃতিতে ভেসে ওঠে মাটির ভিতের বাড়ি, টিনের ঘর এবং তার সামনে থাকা ব্রহ্মপুত্র। কালীবাড়ি লেনে তাঁদের বাড়ির সামনে ছিল নদী। বড় বড় নৌকা যেত, পাটের চাষ হতো, পাট পচানো হতো—এই সমস্ত দৃশ্য তাঁর শৈশবের বাংলাদেশের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

    তাঁর কাছে সেই সময়ের জীবন ছিল অনেক বেশি সরল। তখন হাতে হাতে মোবাইল ছিল না, ছিল না টেলিভিশন বা নানা ধরনের আধুনিক যন্ত্র। ছুটি পেলে ঘোরাঘুরি, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ঘোড়ায় চড়া—এই সাধারণ আনন্দগুলিই ছিল জীবনের অংশ। তাই সেই সময়ের কথা মনে পড়লে তাঁর ভালো লাগে। আবার একইসঙ্গে তিনি জানেন, সেই সময়ে আজকের মতো এত সুযোগ-সুবিধাও ছিল না। ফলে শৈশবকে মনে পড়ার মধ্যে যেমন টান রয়েছে, তেমনই বর্তমান জীবনের সুবিধাগুলির বাস্তবতাও তিনি অস্বীকার করেন না।

    ময়মনসিংহে পরে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তখন সেই পুরনো বাড়িটিকে আর খুঁজে পাননি। শহরটি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তবু স্মৃতির ভিতরে ময়মনসিংহ রয়ে গিয়েছে সেই পুরনো ছবিতেই—নদী, নৌকা, পাট, বাড়ি আর কৈশোরের দিনগুলির সঙ্গে মিশে।

    বাংলাদেশের প্রতি তাঁর টান তাই কোনও সাময়িক আবেগ নয়। তাঁর নিজের কথায়, রাষ্ট্র মানুষের নিত্যসঙ্গী হলেও পরিণত বয়সে মানুষ তার গ্রাম, শহর ও পুরনো দিনের স্মৃতির কাছে ফিরে যায়। সেই ফিরে যাওয়া বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি মনের ভিতরের।

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক: বাঙাল পরিচয়ের চেয়ে লেখক হিসেবে বন্ধুত্ব (Shirshendu Mukhopadhyay Interview)

    শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এবং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়—দুজনেই বাংলা সাহিত্যের দীর্ঘ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নাম। দুজনের জন্মই বাংলাদেশের মাটিতে। সাক্ষাৎকারে যখন তাঁদের মধ্যে ‘বাঙাল’ হিসেবে কোনও বিশেষ টানের কথা জানতে চাওয়া হয়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় জানান, তাঁদের সম্পর্কটা শুধু বাঙাল পরিচয়ের ভিত্তিতে তৈরি হয়নি।

    তাঁর কথায়, সুনীলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল লেখক হিসেবে। একইভাবে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর বন্ধুত্ব ছিল, যদিও শক্তির জন্ম দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়। অর্থাৎ তাঁদের বন্ধুত্বকে কোনও নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিচয়ের মধ্যে আটকে রাখেননি তিনি। সাহিত্য ও ব্যক্তিগত সম্পর্কই ছিল মূল জায়গা।

    সুনীলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের আরেকটি বিশেষ দিক ছিল—তাঁরা একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতেন না। একই সময়ে পাশাপাশি লিখেছেন, একই সাহিত্যজগতে কাজ করেছেন, কিন্তু একজনের ভালো লেখা মানেই অন্যজনের জন্য কোনও প্রতিযোগিতা—এমন মানসিকতা তাঁদের মধ্যে ছিল না।

    বরং কোনও লেখা ভালো লাগলে একজন আরেকজনের প্রশংসা করতেন। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কথায়, তাঁদের মধ্যে ছিল ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মানের সম্পর্ক। আজকের মতো একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা বা ঈর্ষার মানসিকতা তাঁদের সময়ে ছিল না বলেই তিনি মনে করেন।

    সুনীলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সহকর্মীজীবনের কথাও উঠে এসেছে সাক্ষাৎকারে। আনন্দবাজার পত্রিকায় তাঁরা পাশাপাশি বসতেন। বিশেষ করে বিকেলের দিকে অফিস প্রায় ফাঁকা হয়ে গেলে দুজনের মধ্যে অনেক কথা হতো। সেই আলোচনার বিষয় শুধু সাহিত্য ছিল না। আধ্যাত্মিকতা, সিনেমা, ক্রিকেটসহ নানা প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁদের কথা হতো।

    সুনীল তাঁর বিভিন্ন ছদ্মনাম—নীললোহিত, সনাতন পাঠক ইত্যাদি—নিয়ে লিখতেন। সেই লেখার পেছনের আলাদা মানসিকতা নিয়ে শীর্ষেন্দুর সঙ্গে কথাও হয়েছে। ‘প্রথম আলো’-র নাম ঠিক করার সময়ও সুনীল তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন বলে তিনি জানান। তাঁর স্মৃতিতে এই সম্পর্ক তাই শুধু দুই সাহিত্যিকের পরিচয় নয়; দীর্ঘদিনের সহকর্মী, বন্ধু এবং পরস্পরের লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল দুই মানুষের সম্পর্ক।

    মানুষ হিসেবে সুনীল কেমন ছিলেন? (Shirshendu Mukhopadhyay Interview)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক পরিচিতি নিয়ে যত কথা হয়, মানুষ সুনীলের চরিত্রের একটি দিক শীর্ষেন্দুর কথায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তাঁর মতে, সুনীলের মধ্যে এমন এক আকর্ষণ ছিল, যা মানুষকে সহজেই তাঁর কাছে টেনে আনত।

    তিনি বলেন, সুনীলের মধ্যে ঈর্ষাপরায়ণতা ছিল না, অহংকার ছিল না। তিনি মানুষকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করতেন। কারও সঙ্গে উঁচু গলায় কথা বলা বা কাউকে ধমক দেওয়ার স্বভাব তাঁর ছিল না। বরং কারও সঙ্গে পরিচয় হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই মানুষটি সুনীলকে ভালোবেসে ফেলতেন—এমনটাই তাঁর অভিজ্ঞতা।

    শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মতে, এই গুণ অর্জন করার বিষয় নয়। মানুষ কিছু গুণ নিয়ে জন্মায়। সুনীলের মধ্যে সেই বিরল গুণটি ছিল।

    সুনীলের জন্মদিনের স্মৃতিও এসেছে কথায়। জীবিত অবস্থায় তাঁর জন্মদিন প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হতো। রবীন্দ্রসদন বা অন্য কোনও হলে সেই অনুষ্ঠান হতো এবং শীর্ষেন্দুও একাধিকবার সেখানে আমন্ত্রিত হয়েছেন। সেখানে সুনীলকে নিয়ে কথা বলেছেন, তাঁর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    তাঁর কথায়, শেষের দিকে সুনীলের শরীর ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছিল। জীবনযাপনের অনিয়মও তার একটি কারণ ছিল বলে তিনি মনে করেন। সুনীলের মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের জন্য বড় ক্ষতি—এ বিষয়ে তাঁর কোনও দ্বিধা নেই। বন্ধু হিসেবে ব্যক্তিগত ক্ষতি তো হয়েছেই, পাশাপাশি সাহিত্যও হারিয়েছে একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখককে।

    শীর্ষেন্দুর কাছে সুনীল তাই শুধু সমসাময়িক একজন সাহিত্যিক ছিলেন না। তিনি ছিলেন এমন একজন বন্ধু, যাঁর সঙ্গে সাহিত্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং আড্ডা, আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান এবং ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।

    বাংলাদেশে শেষ কবে গিয়েছেন? (Shirshendu Mukhopadhyay Interview)

    বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের কথা উঠতেই শীর্ষেন্দু জানান, প্রায় দশ বছর আগে তিনি শেষবার বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। বিশ্ব সাহিত্য উৎসবে যোগ দিতে গিয়েছিলেন সেখানে। তার পরে আর যাওয়া হয়নি।

    বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগও নেই। মাঝে মাঝে বাংলাদেশ থেকে কোনও পাঠক কলকাতায় এলে দেখা করে যান। অতীতে প্রকাশকরাও আসতেন, কিন্তু এখন সেই যোগাযোগও আর আগের মতো নেই।

    বাংলাদেশে আবার যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা আছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তাঁর ব্যক্তিগত বাস্তবতার কথাও উঠে আসে। তাঁর বয়স এখন একানব্বই চলছে। শরীর আগের মতো ভালো নেই। ছেলে-মেয়েরাও তাঁকে এখন আর সহজে কোথাও যেতে দিতে চান না। তার সঙ্গে তাঁর খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টিও রয়েছে। তিনি নিরামিষভোজী হওয়ায় বাইরে গিয়ে নানা অসুবিধা হয় বলেও জানান।

    ফলে ময়মনসিংহে তাঁর স্মৃতি যত গভীরই হোক, বাস্তবে বাংলাদেশে আবার যাওয়ার পরিকল্পনা এখন তাঁর নেই। কিন্তু যাওয়া না গেলেও সেই বাংলাদেশ তাঁর স্মৃতির মধ্যে রয়েছে। ময়মনসিংহের বাড়ি, ব্রহ্মপুত্র, শৈশবের দিন, নদীর সামনে দাঁড়িয়ে দেখা নৌকা—সবই তাঁর মনে ফিরে আসে।

    এই জায়গাটিই তাঁর কাছে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের মূল। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাইরে, একটি মানুষের শৈশবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা জন্মভূমির স্মৃতি।

    মোবাইল থেকে শিশুদের দূরে রাখা নিয়ে দায়িত্ব কার? (Shirshendu Mukhopadhyay Interview)

    সাক্ষাৎকারের অন্য একটি অংশে বর্তমান প্রজন্মের মোবাইল ব্যবহারের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, ছোটদের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের দায়িত্ব রয়েছে।

    তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক সময় শিশুকে শান্ত রাখার জন্য বা চুপ করিয়ে রাখার জন্য বাবা-মা নিজেরাই মোবাইল হাতে তুলে দেন। শিশুরা তখন খেলায় মগ্ন হয়ে পড়ে। এর ফলে ধীরে ধীরে মোবাইলের প্রতি আসক্তি তৈরি হতে পারে।

    নিজের নাতনির উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, তার বয়স তেরো বছর এবং তাকে মোবাইল দেওয়া হয় না। একবার মোবাইল ব্যবহার করায় তার মা-বাবা তাকে শাসন করেছিলেন। তাঁর মতে, সন্তানকে মোবাইলের আসক্তি থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে বাবা-মাকেই সংযত এবং কঠোর হতে হবে।

    শুধু শিশুকে দোষ দিয়ে লাভ নেই—এই কথাটিই তিনি স্পষ্ট করে বলেন। কারণ মোবাইল শিশুর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক সময় বড়রাই নেন। তাঁর মতে, শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষের মধ্যেই মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। তাই এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শাসন ও সচেতনতা দুটোই দরকার।

    তবে তিনি সব তরুণকে একভাবে দেখতেও চান না। তাঁর বক্তব্যে এসেছে, বর্তমান প্রজন্মের অনেকে পড়াশোনা ও কর্মজীবন নিয়ে ব্যস্ত এবং সবাইকে একইভাবে মোবাইল-আসক্ত বলে দেখা ঠিক নয়। কিন্তু ছোটদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলেই তিনি মনে করেন।

    ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে শীর্ষেন্দুর আক্ষেপ: ‘বন্ধু দেশ থেকে শত্রু দেশ হয়ে যাচ্ছি’

    সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলির একটি ছিল ভারত–বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক। দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে শীর্ষেন্দুর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর ব্যক্তিগত আক্ষেপ।

    তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ছে বলে যে আলোচনা চলছে, সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ কোথায়। উত্তরে তিনি বলেন, তিনি ঠিক জানেন না। কিন্তু নিজের একটি পুরনো প্রত্যাশার কথা জানান।

    তাঁর ইচ্ছা ছিল, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও যাতায়াত আরও সহজ হবে। পাসপোর্ট বা ভিসার জটিলতা থাকবে না, মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে সহজে যেতে পারবে—এমন একটি সম্পর্কের কথা তিনি ভেবেছিলেন।

    কিন্তু তাঁর সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং তিনি মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে এখন একটি শত্রুতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আর এই পরিস্থিতিই তাঁর কাছে সবচেয়ে দুঃখজনক।

    তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা বন্ধু দেশ না হয়ে শত্রু দেশ হয়ে যাচ্ছি, এটা আমার পক্ষে একটা দুঃখজনক ব্যাপার। এটাকে আমি মানতে পারি না।’

    ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিভাজন ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে এসেছে। তিনি এই ধরনের রাজনীতিকে পছন্দ করেন না বলে জানান। তাঁর কাছে দুই দেশের মানুষের সম্পর্ক আরও সহজ, স্বাভাবিক এবং ঘনিষ্ঠ হওয়া উচিত ছিল।

    তাঁর বক্তব্যে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের ব্যাখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে মানুষের সম্পর্ক। কারণ তাঁর কাছে বাংলাদেশ মানে শুধু একটি রাষ্ট্র নয়। সেটি তাঁর জন্মভূমি, শৈশব এবং স্মৃতির দেশ। তাই সেই দেশের সঙ্গে ভারতের দূরত্ব তৈরি হওয়ার বিষয়টি তিনি একজন সাহিত্যিক এবং একজন মানুষের জায়গা থেকেই দেখছেন।

    সুনীল বেঁচে থাকলে কীভাবে দেখতেন এই সম্পর্ক? (Shirshendu Mukhopadhyay Interview)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বাংলাদেশ নিয়ে দীর্ঘদিন লিখেছেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল—এই প্রসঙ্গ সামনে রেখে শীর্ষেন্দুকে প্রশ্ন করা হয়, সুনীল আজ বেঁচে থাকলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কষ্ট পেতেন কি না।

    উত্তরে তিনি জানান, বাংলাদেশ চাইলে ভারতীয় সাহিত্যিকদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নটি এখন আগের মতো সহজ নয়। ভারতীয় সাহিত্যিকদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও সেই ইচ্ছা পূরণ করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

    তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, চাওয়া শুধু এক পক্ষের থাকলে হবে না। দুই দেশের সম্পর্ক ভালো করার জন্য দুই পক্ষেরই উদ্যোগ দরকার। শেষ পর্যন্ত তিনি চান, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও ভালো এবং আরও মজবুত হোক।

    এই কথার মধ্যেই তাঁর বক্তব্যের মূল সুরটি স্পষ্ট হয়ে যায়। ময়মনসিংহে জন্ম নেওয়া একজন সাহিত্যিকের কাছে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক কোনও দূরের রাজনৈতিক বিষয় নয়। তাঁর শৈশবের নদী, বাড়ি, নৌকা, পাটের গন্ধ, কৈশোরের স্মৃতি এবং দীর্ঘ জীবনের সাহিত্যিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সেই দেশ জড়িয়ে আছে।

    তাই দুই দেশের মধ্যে যখন দূরত্বের কথা ওঠে, তাঁর কণ্ঠে আসে আক্ষেপ। তিনি যে সম্পর্কের কথা ভেবেছিলেন, সেখানে সীমান্ত থাকতে পারে, রাষ্ট্র আলাদা থাকতে পারে, কিন্তু মানুষের যাতায়াত, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও ভালোবাসার পথে যেন এতটা দূরত্ব না থাকে—এই প্রত্যাশাই তাঁর কথার ভিতরে বারবার ফিরে এসেছে।

    শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কথায় শেষ পর্যন্ত একটি সরল আকাঙ্ক্ষাই থেকে যায়—দুই দেশের সম্পর্ক আরও ভালো হোক, আরও মজবুত হোক। তাঁর কাছে সেই সম্পর্কের ভিত্তি রাজনীতির চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে মানুষের সম্পর্ক, ভাষা, সাহিত্য, স্মৃতি এবং দুই বাংলার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ।

    বিস্তারিত জানতে অবশ্যই দেখুন প্রথম কলকাতা (PROTHOM KOLKATA) youtube চ্যানেল

    #shirshendukumhopadhyayinterview #shirshendukumukhopadhyay #bengaliliterature #banglaliterature #bengaliauthor #bengaliwriter #bangladesh #westbengal #bengaliculture #literatureinterview #authorinterview #twobengals #banglasahitya

  • কৃষ্ণনগরের ‘বাচ্চা গ্যাংয়ের মা’ সুদীপা ২৩ বছর বয়সে ৩৫০ পথশিশুর মা!

    Sudipa Chatterjee Pathshala: মাত্র ২৩ বছর বয়সে প্রায় ৩৫০ পথশিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন কৃষ্ণনগরের সুদীপা চ্যাটার্জী। একসময় যাদের হাতে ছিল ভিক্ষার বাটি, আজ তাদের হাতে বই তুলে দিচ্ছেন তিনি। খাবার, পোশাক ও ওষুধের ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থায়ী বিদ্যালয় গড়ার স্বপ্নও দেখছেন এই তরুণী।

    প্রথম কলকাতা:  বয়স মাত্র ২৩। যে বয়সে নিজের পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ আর স্বপ্ন নিয়েই ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সেই প্রায় ৩৫০ পথশিশুর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন নদিয়ার কৃষ্ণনগরের তরুণী সুদীপা চ্যাটার্জী। এলাকার মানুষের কাছে তিনি এখন পরিচিত ‘বাচ্চা গ্যাংয়ের মা’ নামে। কারণ, যেসব শিশু একটা সময় রাস্তা, স্টেশন বা স্টেশনের পাশের বস্তিতে ঘুরে বেড়াত, কারও কাছে হাত পাতত, আজ তাদের হাতেই বই-খাতা তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন সুদীপা। শুধু পড়াশোনা নয়, শিশুদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, নতুন পোশাক, প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা—নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সবকিছুই করার চেষ্টা করেন তিনি। আর এই পথচলার শুরু হয়েছিল আরও কয়েক বছর আগে, যখন নিজেই ছিলেন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। মাত্র দু’টি শিশুকে খাবার দেওয়ার ঘটনা থেকেই জন্ম নেয় একটি বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আজ ৩৫০ শিশুর ভবিষ্যৎ বদলের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

    দু’টি শিশুর জন্য খাবার কিনেই শুরু হয়েছিল পথচলা (Sudipa Chatterjee Pathshala)

    সালটা ২০১৯। তখন সুদীপা চ্যাটার্জী একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। একদিন দু’টি শিশু তাঁর কাছে এসে ভিক্ষা চায়। সেই মুহূর্তে অন্যভাবে ভাবেন সুদীপা। হাতে টাকা তুলে না দিয়ে তিনি ওই শিশু দু’টির জন্য কেক ও বিস্কুট কিনে দেন। সামান্য খাবার পেয়ে শিশু দু’টির মুখে যে আনন্দ তিনি দেখেছিলেন, সেটাই গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল তাঁকে।

    সুদীপার মনে প্রশ্ন জাগে, যে শিশুগুলির কাছে সামান্য খাবারও এত আনন্দের, তাদের জীবনে শিক্ষা, নিরাপত্তা আর স্বাভাবিক শৈশবের জায়গাটা কোথায়? আমরা অনেকেই প্রতিদিন দু’বেলা খাবার পাই, মাথার উপর ছাদ থাকে, স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাই। কিন্তু রাস্তার ধারে থাকা এই শিশুদের জীবন কতটা কঠিন, সেই বাস্তবতা অনেক সময় আমাদের চোখের সামনে থাকলেও আমরা তা অনুভব করি না।

    সেদিন সুদীপা উপলব্ধি করেন, শুধু ভিক্ষা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। এই শিশুদের প্রয়োজন শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের একটা পথ। সেই ভাবনা থেকেই স্টেশনের পাশের বস্তির প্রায় ৪০ জন শিশুকে নিয়ে শুরু হয় তাঁর নতুন উদ্যোগ।

    ৪০ জন থেকে আজ ৩৫০, নাম ‘বাচ্চা গ্যাং পাঠশালা’ (Sudipa Chatterjee Pathshala)

    প্রথমে মাত্র ৪০ জন শিশুকে নিয়ে শুরু হয়েছিল পড়াশোনার ব্যবস্থা। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগের পরিসর বাড়তে থাকে। তৈরি হয় ‘বাচ্চা গ্যাং পাঠশালা’। একসময় যে সংখ্যাটা ছিল ৪০, তা বাড়তে বাড়তে আজ প্রায় ৩৫০ পড়ুয়ায় পৌঁছেছে।

    এই শিশুদের অনেকেরই একটা সময় রাস্তা বা স্টেশনই ছিল পরিচিত জায়গা। কারও হাতে ছিল ভিক্ষার বাটি। কিন্তু সুদীপার উদ্যোগে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বই-খাতা। পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

    সুদীপার এই উদ্যোগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, তিনি শুধু শিক্ষক বা সংগঠকের ভূমিকা পালন করছেন না। শিশুদের প্রয়োজনের জায়গাগুলিও নিজের মতো করে পূরণ করার চেষ্টা করছেন। নিজের পকেটের টাকা বাঁচিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করেন। প্রয়োজন হলে নতুন জামাকাপড় কিনে দেন। ওষুধপত্রের প্রয়োজন হলেও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ান।

    শুরুতে এই কাজ তিনি একাই করতেন। পরে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আরও কিছু সহৃদয় তরুণ-তরুণী। দাদা-দিদির মতো তাঁরাও সুদীপার সঙ্গে হাত মিলিয়ে শিশুদের পড়াশোনা ও অন্যান্য প্রয়োজনের কাজে সহযোগিতা করছেন।

    পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের মুখে খাবারও তুলে দেন

    সুদীপার কাছে শিক্ষা মানে শুধু বইয়ের পাতায় পড়াশোনা নয়। যে শিশুর পেটে খাবার নেই, তার হাতে বই তুলে দিলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না—এই বাস্তবতাটিও তিনি বুঝেছেন।

    তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শিশুদের খাবারের ব্যবস্থাও করেন তিনি। নিজের পকেটমানি থেকে টাকা বাঁচিয়ে যতটা সম্ভব তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। কখনও খাবার, কখনও পোশাক, আবার কখনও ওষুধ—শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী সাহায্য করার চেষ্টা চলে।

    এই কাজের পিছনে বড় কোনও আর্থিক সংস্থা বা বিশাল পরিকাঠামো নেই। রয়েছে একজন তরুণীর ইচ্ছাশক্তি এবং তাঁর পাশে দাঁড়ানো কয়েকজন মানুষের সহযোগিতা। শুরুটা একেবারেই ছোট ছিল। কিন্তু সেই ছোট উদ্যোগই ধীরে ধীরে বড় হয়েছে।

    যে শিশু একসময় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে মানুষের কাছে খাবার চাইত, সেই শিশুর হাতে যদি আজ একটি বই থাকে, তাহলেই সুদীপার কাছে সেই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাঁর ভাবনায় শিক্ষাই এমন একটি পথ, যা একজন শিশুকে ভিক্ষার জীবন থেকে বেরিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে পারে।

    নিজের পড়াশোনার মাঝেই এত শিশুদের দায়িত্ব (Sudipa Chatterjee Pathshala)

    এই গল্পের সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের জায়গা সম্ভবত এখানেই। সুদীপা যখন এই কাজ শুরু করেন, তখন তিনি নিজেই পড়াশোনা করছিলেন। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার পাশাপাশি এতগুলো শিশুর দায়িত্ব নেওয়া মোটেই সহজ ছিল না।

    একদিকে নিজের পড়াশোনা, অন্যদিকে পাঠশালার শিশুদের পড়ানো, তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা—সবকিছু সামলাতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু কাজটা ছেড়ে দেননি।

    ক্রমে তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন তরুণ-তরুণী যুক্ত হন। ফলে একার উদ্যোগ ধীরে ধীরে একটি সামাজিক প্রয়াসের রূপ নেয়। আজ প্রায় ৩৫০ শিশুকে নিয়ে কাজ করার পিছনে তাই সুদীপার পাশাপাশি তাঁর সহযোগীদের ভূমিকাও রয়েছে।

    সুদীপাদের মতো তরুণদের এই উদ্যোগ একটা বিষয় স্পষ্ট করে দেয়—মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবসময় বড় অঙ্কের টাকা প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় প্রয়োজন হয় শুধু সমস্যাটাকে নিজের চোখে দেখা এবং অন্যভাবে ভাবার সাহস। সুদীপা সেই সাহসটাই দেখিয়েছেন।

    স্বপ্ন এখন স্থায়ী বিদ্যালয়, বদলানোর চেষ্টা অনেক জীবনের (Sudipa Chatterjee Pathshala)

    সুদীপার পথচলা এখানেই থেমে নেই। তাঁর এখনকার স্বপ্ন একটি স্থায়ী বিদ্যালয় তৈরি করা। এমন একটি জায়গা, যেখানে দুঃস্থ, অনাথ এবং পথশিশুরা নিয়মিত পড়াশোনার সুযোগ পাবে। একটি স্থায়ী পরিকাঠামোর মধ্যে থেকে তারা যেন শিক্ষার পাশাপাশি নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বপ্ন দেখতে পারে, সেটাই তাঁর লক্ষ্য।

    কারণ, একটি শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া মানে শুধু তাকে পড়তে শেখানো নয়। তার সামনে অন্য একটি জীবনের দরজা খুলে দেওয়া। যে শিশু আজ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চাইছে, আগামী দিনে সেই শিশুই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে—শিক্ষার মাধ্যমে সেই সম্ভাবনাটাই তৈরি করতে চান সুদীপা।

    তাঁর এই উদ্যোগের গল্পে তাই শুধু আবেগ নেই, রয়েছে একটি বড় সামাজিক বার্তাও। সমাজের পিছিয়ে থাকা শিশুদের সামনে এগিয়ে আনতে শুধু সরকারি বা বড় প্রতিষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে থাকলেই হবে না। সমাজের সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মও যদি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসে, তাহলে ছোট ছোট উদ্যোগ একসময় বড় পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।

    সুদীপার গল্প সেই বিশ্বাসকেই আরও শক্ত করে। মাত্র ২৩ বছর বয়সে প্রায় ৩৫০ শিশুর দায়িত্ব নেওয়া সহজ কোনও কাজ নয়। নিজের পকেটের টাকা বাঁচিয়ে খাবার কিনে দেওয়া থেকে শুরু করে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে মানুষের পাশে থাকার এক গভীর ইচ্ছা।

    একদিন যে দু’টি শিশুর হাতে তিনি কেক আর বিস্কুট তুলে দিয়েছিলেন, সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয়েছিল এই যাত্রা। আজ সেই পথচলায় যুক্ত হয়েছে শত শত শিশু। ভিক্ষার বাটির বদলে হাতে বই তুলে দেওয়ার যে স্বপ্ন নিয়ে সুদীপা এগিয়েছিলেন, সেটাই এখন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ।

    তাঁর এই সাহসিকতা ও মানবিকতাকে কুর্নিশ। কারণ, সমাজ বদলের গল্প সবসময় বড় কোনও মঞ্চ থেকে শুরু হয় না। কখনও কখনও তার শুরু হয় একজন তরুণীর ছোট্ট একটি সিদ্ধান্ত থেকে—একটি শিশুকে টাকা না দিয়ে খাবার কিনে দেওয়ার মতো একটি ছোট সিদ্ধান্ত থেকেই।

    #SudipaChatterjeePathshala #SudipaChatterjee #BacchaGangPathshala #BacchaGangMaa #Krishnanagar #Nadia #WestBengal #StreetChildrenEducation #RuralEducation #ChildEducation #UnderprivilegedChildren #EducationInitiative #SocialWork #WomenChangemakers #InspiringWomen #ChildWelfare #FreeEducation #HumanitarianWork


  • ৪৩ থেকে বেড়ে ৫৩ টি ওয়ার্ড হতে চলেছে দুর্গাপুর নগর নিগম, বিজ্ঞপ্তি দিল পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর

    Durgapur Municipal Corporation Wards: ৪৩ থেকে বেড়ে ৫৩টি ওয়ার্ড হচ্ছে দুর্গাপুর নগর নিগম। ৩১ অগস্টের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নতুন ওয়ার্ড সংখ্যা নির্ধারণ করেছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। জনসংখ্যা, জনঘনত্ব, ভৌগোলিক পরিস্থিতি, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং আর্থিক বিষয় বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    দুর্গাপুর: ৪৩ থেকে বেড়ে ৫৩টি ওয়ার্ড হচ্ছে দুর্গাপুর নগর নিগম। নতুন করে নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। ৩১ অগস্ট জারি হওয়া সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে দুর্গাপুরের জন্য ৫৩টি ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। জনসংখ্যা, জনঘনত্ব, ভৌগোলিক পরিস্থিতি, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং আর্থিক বিষয় বিবেচনা করেই ওয়ার্ডের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। এতদিন দুর্গাপুর নগর নিগমে ওয়ার্ড সংখ্যা ছিল ৪৩। নতুন নির্দেশিকায় তা ৫৩ টি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, দুর্গাপুর নগর নিগমে নতুন করে ১০টি ওয়ার্ড যুক্ত হচ্ছে। পুরনির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে দুর্গাপুরের মানুষ। সরকারি নির্দেশিকার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন, পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক, দুর্গাপুর নগর নিগমের কমিশনার-সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের কাছে। একই নির্দেশিকায় শিলিগুড়ি পুরনিগমের জন্য ৬৩টি ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

    আরও পড়ুন : পোড়া বাড়ির নীরব দেয়ালে কি লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের ইতিহাস?

    #Durgapur #MunicipalCorporation #WestBengal #MunicipalWards #UrbanDevelopment

  • স্বাধীনতা দিবসে রাজভবনের চা-চক্রে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি, সৌজন্য সাক্ষাতে রাজ্যপাল

    Raj Bhavan Tea Party: স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজভবনে আয়োজিত বিশেষ চা-চক্র ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজভবনে তাঁর উপস্থিতি, রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে এবারের আয়োজন ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া।

    যেখানে রাজ্যপালের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকে কথোপকথনে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি রাজভবনে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গেও রাজ্যপাল ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁদের শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।

    রাজভবনে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ আবহ

    স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজভবনে প্রতি বছরই চা-চক্রের আয়োজন হয়ে থাকে। তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এবার অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন সংস্থা ও শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    এর ফলে রাজভবন চত্বর জুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। শুধু পরিচিত মুখ নয়, সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণও এবারের অনুষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।

    রাজ্যপালের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাৎ

    অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল রাজ্যপালের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সৌজন্য সাক্ষাৎ। দু’জনকে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যায়। স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনে রাজভবনের এই সাক্ষাৎ স্বাভাবিকভাবেই অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত দৃশ্য হয়ে ওঠে।

    একইসঙ্গে রাজ্যপাল অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আগত মানুষদের সঙ্গে তাঁর এই ব্যক্তিগত যোগাযোগ আয়োজনটিকে আরও আন্তরিক আবহ দিয়েছে।

    নানা ক্ষেত্রের মানুষের মিলনমেলা

    রাজভবনের চা-চক্রে বিভিন্ন পেশা ও ক্ষেত্রের মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শিল্প ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রের ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ফলে স্বাধীনতা দিবসের এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান না হয়ে বিভিন্ন স্তরের মানুষের মিলনক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

    প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের আয়োজনের পরিসরও ছিল তুলনামূলকভাবে বড়। অতিথিদের উপস্থিতিতে রাজভবনের অনুষ্ঠানস্থল জমজমাট হয়ে ওঠে এবং মূল অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে চলে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কথোপকথন।

    সৌজন্যের বার্তা স্বাধীনতা দিবসে

    স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সৌজন্য ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছবিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর কথোপকথন এবং অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে রাজ্যপালের সরাসরি যোগাযোগ সেই সৌজন্যেরই প্রতিফলন হিসেবে সামনে এসেছে।
    #RajBhavan #RajBhavanTeaParty #IndependenceDay #ShubhenduAdhikari #Governor #WestBengal #IndependenceDayCelebration

  • ‘আমি যোদ্ধা নই’— হুমকির সংস্কৃতি, তসলিমা বিতর্কে মুখ খুললেন কবি জয় গোস্বামী

    Joy Goswami Interview: সময়ের প্রথম কলকাতার পত্রিকা হাতে নিয়ে মনোযোগ সহকারে বিভিন্ন প্রতিবেদন পড়লেন প্রখ্যাত কবি জয় গোস্বামী। পাঠের ফাঁকে প্রথম কলকাতার প্রতি জানালেন আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। কবির হাতে পৌঁছে গেল সময়ের প্রথম কলকাতা— যা হয়ে রইল সাহিত্য ও সংবাদজগতের এক স্মরণীয় মুহূর্ত। প্রথম কলকাতাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী তুলে ধরলেন পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ। প্রথম কলকাতার প্রতিনিধির প্রশ্নের উত্তরে তিনি রবীন্দ্রসদনে তসলিমা নাসরিনকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওঠা ‘গো ব্যাক’ স্লোগানের স্মৃতি, সাহিত্য জগতে ‘থ্রেট কালচার’-এর প্রবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং একজন কবির ভূমিকা নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, ভয় দেখিয়ে মত দমন করার সংস্কৃতি কোনও সুস্থ সমাজ বা সাহিত্যচর্চার পক্ষে শুভ নয়। কবি জয় গোস্বামী একান্ত সাক্ষাৎকারে সাহিত্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিসরেও এখন ‘ভয় দেখানোর সংস্কৃতি’ বা ‘থ্রেট কালচার’ প্রবেশ করেছে, যা তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করেন।

    রবীন্দ্রসদনে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ওঠা ‘গো ব্যাক’ স্লোগানের প্রসঙ্গও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে। সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে জয় গোস্বামী জানান, প্রথম মুহূর্তে তিনি বুঝতেই পারেননি কী ঘটছে। কারণ তখন মঞ্চে নাম ঘোষণা চলছিল এবং চারদিকে এত আওয়াজ ছিল যে স্লোগান স্পষ্টভাবে তাঁর কানে পৌঁছায়নি। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    কবি বলেন, তসলিমা নাসরিন ছিলেন অনুষ্ঠানের মূল ব্যক্তি। তাঁকে সম্মান জানাতেই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল। তাই সেই পরিস্থিতিতে মঞ্চ ছেড়ে চলে যান।

    জয় গোস্বামীর কথায়, “আমি যোদ্ধা নই। সবাই যোদ্ধা হয় না। তসলিমা যোদ্ধা। আমার কাজ শব্দের মাধ্যমে পাশে দাঁড়ানো। শব্দের কাজ সৃষ্টি করা, আর স্লোগানের কাজ অবস্থান জানানো। এই দুই যখন মুখোমুখি হয়, তখন একজন কবি সেই সময়কে খুব গভীরভাবে অনুভব করতে পারেন।”

    তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ভয় দেখানোর সংস্কৃতি পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিসরে আগে এভাবে ছিল না। তাঁর মতে, সাহিত্যচর্চার জায়গায় মতের অমিল থাকতে পারে, কিন্তু ভিন্ন মতকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার প্রবণতা কখনও সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশের লক্ষণ নয়।

    সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি যদি কোনও লেখক বা শিল্পীকে সম্মান জানাতে অনুষ্ঠানে আসেন, তাতে আপত্তির কিছু নেই। তাঁর কথায়, তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল একজন কবি হিসেবে, আর সেই আমন্ত্রণকেই তিনি সম্মান করেছেন। কে তাঁকে সমালোচনা করল বা কে স্লোগান দিল, তা নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিচলিত নন।

    পুজোর আগে লেখালিখির পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জয় গোস্বামী জানান, তিনি এখন অনেকটাই অবসর নিয়েছেন। আগের মতো নিয়মিত ব্যস্ত না থাকলেও নিজের মতো করে লেখালিখি চালিয়ে যাচ্ছেন।

    সাক্ষাৎকারের শেষে কবি স্পষ্ট বার্তা দেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরিসর যেন কখনও ভয়, হুমকি বা স্লোগানের দখলে না যায়। তাঁর মতে, সৃজনশীলতার জায়গা সবসময় মুক্ত চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরই দাঁড়িয়ে থাকা উচিত।
    #JoyGoswami #TaslimaNasrin #ThreatCulture #Kolkata #BengaliLiterature #FreedomOfExpression #WestBengal #BengaliNews

  • দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান! প্রায় দুই দশক পর কি আবার কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন?

    Taslima Nasrin Kolkata Return: দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর আবারও কলকাতায় দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে। আগামী ১ আগস্ট রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত একটি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা।

    আয়োজকদের দাবি, ঢাকা ছাড়ার পর তসলিমা নাসরিন কলকাতাকেই নিজের ঘর বলে মনে করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই এই শহরে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন। সেই ইচ্ছারই আংশিক বাস্তবায়ন হতে চলেছে বলে তাঁদের আশা।

    জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিনের লেখা কবিতা নিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন, সাহিত্য আলোচনা এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম নিয়ে বিশেষ পর্বের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।

    আয়োজকদের অন্যতম এক সদস্য জানান, তাঁদের সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই তসলিমা নাসরিনের যোগাযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তা গ্রহণ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। আয়োজকদের বক্তব্য, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান নয়, বরং সম্পূর্ণ একটি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আয়োজন।

    তবে তসলিমা নাসরিন কলকাতায় স্থায়ীভাবে ফিরবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

    কলকাতার সঙ্গে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক

    তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে কলকাতার সম্পর্ক বহু বছরের। বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় এই শহরে কাটিয়েছেন। কিন্তু ২০০৭ সালে কলকাতায় অশান্তির ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাঁকে শহর ছাড়তে হয়। এরপর থেকে কার্যত কলকাতায় প্রকাশ্যে সাহিত্য বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি।

    ২০১২ সালে কলকাতা বইমেলায় তাঁর একটি বই প্রকাশের অনুষ্ঠানও শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে।

    তসলিমা নাসরিনের একাধিক লেখাকে ঘিরে ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠনগুলির আপত্তি ও প্রতিবাদের জেরে বহুবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কলকাতায় ফেরা অনিশ্চিত ছিল।

    এবার ১ আগস্টের এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে লেখিকার সফর ও অনুষ্ঠানে উপস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত নিশ্চিত তথ্যের জন্য আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করা হচ্ছে।

    #TaslimaNasrin #Kolkata #RabindraSadan #BengaliLiterature #ExiledWriter #WestBengal #LiteraryEvent #AuthorNews #Bangladesh #Culture

  • অরণ্য সপ্তাহের সূচনায় বড় বার্তা! কেন প্রত্যেককে মায়ের নামে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর?

    West Bengal Tree Plantation Drive: অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে সবুজায়ন কর্মসূচিকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বনদপ্তরের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গে ৭ কোটি ২০ লক্ষ চারা গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু গাছ লাগানো নয়, সেগুলির নিয়মিত পরিচর্যার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে বনদপ্তরের নবনিযুক্ত মন্ত্রী মনোজ ওরাও-কে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বনদপ্তর আরও কার্যকরভাবে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদী।

    তিনি জানান, দ্রুত নগরায়ণের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সবুজের পরিমাণ কমছে। তাই নতুন আবাসন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা সরকারি-বেসরকারি পরিকাঠামো নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত খোলা জায়গায় বৃক্ষরোপণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সেখানে চলতি বছরে ২৬ কোটি চারা গাছ লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একইভাবে কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর লোকসভা কেন্দ্র গান্ধীনগরে ১ কোটি ২০ লক্ষ চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গও একটি বড় রাজ্য হিসেবে এই ধরনের বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সফলভাবে অংশ নিতে পারে।

    তিনি আরও জানান, নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে ব্যাপক হারে চারা গাছ বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন শিল্প সংস্থা, সামাজিক সংগঠন এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে এই সবুজায়ন অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

    শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, শুধু চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। অন্তত দুই বছর ধরে গাছের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে তবেই এই উদ্যোগ সফল হবে।

    শেষে তিনি রাজ্যবাসীর উদ্দেশে আবেদন জানান, অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে প্রত্যেকে নিজের মায়ের নামে অন্তত একটি করে গাছ লাগান। তাঁর মতে, পরিবেশ রক্ষা ও দূষণমুক্ত, সবুজ পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    #WestBengal #TreePlantation #ForestWeek #ShubhenduAdhikari #GreenInitiative #Afforestation #Environment #PlantationDrive #SaveTrees #GoGreen

  • দিঘায় রথযাত্রা নিয়ে বড় ঘোষণা! দিনক্ষণ জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    রথ তো চলেই এল। কিন্তু দিঘায় রথের চাকা গড়ালনা। এত দেরি কেন? এটা নিয়ে নানা জল্পনা মাথা চাড়া দিয়েছে। আর এবার সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সদ্যই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছর গড়াচ্ছেনা রথের চাকা। তবে পরের বছর থেকেই রথযাত্রা শুরু হবে সৈকত শহরে।

    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পুরীর আদলে জগন্নাথ দেবের মন্দির তৈরি হচ্ছে দিঘায়। চলতি বছর এপ্রিলেই মন্দির উদ্বোধনের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে মাঝে নির্বাচনের জন্য বন্ধ রাখা হয় মন্দিরের কাজ। যে কারণে মন্দির তৈরির কাজ এখনও অনেকটাই বাকি। মূর্তির প্রাণপ্রতিষ্ঠা কবে, সেটা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।

    আর এবার সেটা নিয়েই মুখ খুললেন বাংলার নেত্রী। শুক্রবার নির্মীয়মান মন্দিরের কিছু ছবি ভিডিও সহ মুখ্যমন্ত্রী মমতা লিখলেন, “দিঘায় রথযাত্রা পরের বছর থেকে পালিত হবে। কিছু কাজ এখনও শেষ হয়নি। পরের বছর থেকে রথযাত্রা শুরুর আগেই তা সম্পূর্ণ হওয়া জরুরি।”

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারই তিনটি রথের কাঠামো দেখা গিয়েছিল দিঘার জগন্নাথ মন্দির চত্বরে। সূত্রের খবর, ওড়িশা থেকে দক্ষ কারিগর এনে রথগুলি নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রতিটি রথের উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। তিনটি রথ একটি গাঢ় সবুজ রঙের, একটি কমলা এবং একটি হলুদ রঙের। চূড়াও বসানো ছিল রথের মাথায়।

    এখানে বলে রাখা ভালো, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের মত অনেক কিছুই এক রাখা হচ্ছে দিঘার মন্দিরের। মন্দিরের পারিপার্শ্বিক নকশাটাও অনেকটাই এক। পুরীর মত দিঘার মন্দিরেও ভোগ দেওয়ার আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। পুরীর মন্দিরের মত এখানেও রোজ ধ্বজা বদল করা হবে বলে খবর। তবে পদ্ধতিটা হয়ত একটু আলাদা হবে। যারা পুরী গেছেন তারা তো জানেনই যে, জগন্নাথ দেবের মন্দিরের এই ধ্বজা বদল প্রক্রিয়াটাই দেখার মত একটা দৃশ্য। মন্দিরের গা বেয়ে সোজা উপরে উঠে যান ৩ জন। কেউ সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকেন তো কেউ মন্দিরের দিকে। চূড়োয় উঠে ধ্বজা বদলে সমুদ্র-আরতি সেরে নিচে নামেন তারা। এখন দীঘায় কীভাবে ধ্বজা বদল হবে তা এখনও জানা যায়নি যদিও।

  • Nandini Chakraborty: রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদল, নন্দিনী চক্রবর্তীকে স্বরাষ্ট্রসচিব করলেন মুখ্যমন্ত্রী

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Nandini Chakraborty: রাজ্যপালের সচিব পদ থেকে অপসারিত নন্দিনী চক্রবর্তীকে এবার স্বরাষ্ট্রসচিব করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দিনী চক্রবর্তীকেই এবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এর আগে তিনি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের প্রধান সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে নন্দিনী পর্যটন দফতরের সচিব পদে রয়েছেন। সেখান থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব পদে আনা হবে তাঁকে।

    উল্লেখ্য, নন্দিনী চক্রবর্তী ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার। অতীতে তিনি পালন করেছেন রাজ্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ দফতরের প্রশাসনিক দায়িত্ব। নন্দিনী রাজভবনে যাওয়ার পরেই ‘শাসক দলের লোক’ তকমা পান। এই সমগ্র বিষয়টি খুব একটা ভালো চোখে দেখেনি রাজ্যের বিজেপি নেতারা। রাজ্যের বিজেপি নেতাদের মধ্যে অনেকেই, রাজভবনে তাঁর (পড়ুন নন্দিনী চক্রবর্তী ) উপস্থিতি পছন্দ করছিলেন না।

    অন্যদিকে, আজ অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর মেয়াদ শেষ হচ্ছে মুখ্যসচিব পদে । কয়েকদিন আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যসচিব পদের জন্য বি এস গোপালিকার নামে অনুমোদন মিলেছে। আজ থেকেই দায়িত্ব নিচ্ছেন বি এস গোপালিকা। এতদিন স্বরাষ্ট্র সচিবের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। অন্যদিকে, হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীকে রাজ্যের আর্থিক উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Swasthya Sathi Card Rule Changed: পঞ্চায়েত দপ্তরের কর্মীদের জন্য সুখবর, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে নয়া সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য!

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Swasthya Sathi Card Rule Changed: রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসা পর থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন জনমুখী প্ৰকল্পের সূচনা করেছে। যার মধ্যে অন্যতম হল “স্বাস্থ্য সাথী” প্রকল্প। পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সবসময় অগ্রাধিকীর দিয়ে এসেছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নানা ধরনের প্রকল্পের তালিকায় নতুন সংযোজিত হয়েছে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্প। পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এনে বাংলার লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার দুর্দান্ত এক সুযোগ করে দিয়েছে। কয়েক বছর আগেও যারা অসুখ হলে কীভাবে চিকিৎসা করবেন ভেবে পেতেন না ২০১৬ সালে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আসার পর থেকে তাঁরাই বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করে দিব্যি সুস্থ হয়ে উঠছেন।

    খবর মিলেছে, এবার থেকে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের সুবিধা পাবেন পঞ্চায়েত দপ্তরের কর্মীরাও। নয়া সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। পঞ্চায়েত দপ্তরে যারা কাজ করেন তারা এতদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের সুবিধা পেতেন না। তবে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে এবার পঞ্চায়েত দপ্তরের সকল কর্মীদের পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বীমা পাবেন স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে।

    সম্প্রতি কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করে বেসরকারি হাসপাতালে হাড়ের অস্ত্রোপচার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছিল। তবে সমস্ত সরকারি হাসপাতালে সেই সুযোগ মিলবে। শুধুমাত্র বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রেই কিছুটা সংশোধন করা হল নিয়ম। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছিল, যাঁরা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এবং হাড়ের অস্ত্রোপচার করতে হবে, তাঁরা সেই নয়া নিয়ম(বেসরকারি হাসপাতালে হাড়ের অস্ত্রোপচার) থেকে ছাড় পাবেন।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Exit mobile version