Dhanmondi 32 Porabarir Samlap: এ যেন ইতিহাস, স্মৃতি, আত্মপরিচয় ও মানবিক বিবেকের এক অনন্য সাহিত্যিক অভিযাত্রা। বাস্তব ইতিহাসের প্রেক্ষাপটকে কল্পনা, দর্শন ও প্রতীকের সঙ্গে মিশিয়ে লেখক নির্মাণ করেছেন এক ভিন্নধর্মী আখ্যান, যেখানে একটি পোড়া বাড়ি হয়ে ওঠে একটি জাতির স্মৃতি, বেদনা, সংগ্রাম ও আত্মজিজ্ঞাসার প্রতীক। এভাবেই বোধ হয় উল্লেখ করা যায় লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এফ এম শাহীনের নতুন গ্রন্থ ‘ধানমণ্ডি ৩২ পোড়াবাড়ির সংলাপ’-এর উপন্যাস গ্রন্থটিকে। সম্প্রতি বইটি প্রকাশিত হল কলকাতার পরম্পরা প্রকাশনী থেকে।
গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পদ্মশ্রী ড. নারায়ন চক্রবর্তী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই বইয়ে অতীতের চোখে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ দেখার দারুণ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন লেখক। বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ, রাজনীতি, অর্থনীতি তাঁর আলোচনায় উঠে আসে। তিনি আরও বলেন, ‘ বাংলাদেশের মানুষের নিজেদের ঠিক করতে হবে তারা কোন পরিচয়ে টিকে থাকবে । বাঙালি না ভিন্ন কোন পরিচয়ে। পোড়াবাড়ির সংলাপ যেন আজকের বাংলাদেশের জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে। ‘
বর্ষীয়ান সাংবাদিক মানস ঘোষ বলেন, ‘ এফ এম শাহীন ধানমন্ডি ৩২ এর শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি নিয়ে অসাধারণ সাহিত্য চর্চা করেছেন। ইতিহাস যে চলমান এবং সাধারণ মানুষ লিখে চলেছেন সেটি এই উপন্যাসে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। ‘
মানস ঘোষ আরও বলেন, ‘ আমি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করেছি। একাত্তরের পাকিস্তানীদের গণহত্যা রিপোর্ট থেকে শুরু কিন্তু আজও আমি বাংলাদেশের মানুষকে চিনে উঠতে পারিনি। ২০২৪ এ শেখ হাসিনার সরকার বদলের পর মুজিবের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে দেখবেন কিছুদিন পর বাটপার ইউনুস বাহিনী মব করে সাভার স্মৃতিসৌধ ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। ‘
অধ্যাপক রুবি সাইন বলেন, ‘ শাহীনের উপন্যাস বাংলাদেশ, বাঙালির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে একটি সেতুতে বেঁধেছে, যা অসাধারণ ভাবনা। তবে আজ বাংলাদেশে যা দেখছি, এটা সত্যি ভীষণ ভয়ের এবং উদ্বেগের। দেশটাকে পরিকল্পিতভাবে শেষ করে দেয়া হচ্ছে। ‘
লেখক এফ এম শাহীনের কথায়, ‘ মানব সভ্যতার বিকাশ সংলাপের মধ্য দিয়ে হয়েছে। তাই আমাদের সংলাপ জারি রাখতে হবে, যেকোন সময়ে, যেকোন মুহূর্তে। সকল সংকট মোকাবেলায় সংলাপ জরুরী।’
ধানমণ্ডি ৩২-এর ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং সমকালীন বাস্তবতার নানা প্রশ্নকে সাহিত্যিক সংলাপের আঙ্গিকে তুলে ধরার প্রয়াস রয়েছে বইটিতে।
আলোচক ও উপস্থিত অতিথিদের মতে, গ্রন্থের শিরোনাম ‘ধানমণ্ডি ৩২ পোড়াবাড়ির সংলাপ’ মূলত একটি প্রতীকী উচ্চারণ। ধানমণ্ডি ৩২ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। সেই স্মৃতি, ধ্বংস, ইতিহাসের পাঠ এবং সময়ের পরিবর্তনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লেখক বইটিতে অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি সংলাপ নির্মাণের চেষ্টা করেছেন।
এফ এম শাহীন দীর্ঘদিন ধরে লেখালেখি, চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর সৃষ্টিশীল কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ইতিহাস, সমাজ, রাষ্ট্র, মানবিকতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে শিল্পের ভাষায় তুলে ধরা। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মাইক’ ইতোমধ্যে মুক্তি পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে তাঁর অন্যান্য সৃজনশীল কাজও পাঠক ও দর্শকমহলে আলোচিত হয়েছে।
প্রকাশক গৌতম দাসের মতে, বইটি দুই বাংলার পাঠকের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক স্মৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করবে।
#Dhanmondi32 #PorabarirSamlap #FMShaheen #BanglaLiterature #BangladeshHistory #BengaliNovel #ParamparaPrakashani #BangladeshIdentity
