‘আমি যোদ্ধা নই’— হুমকির সংস্কৃতি, তসলিমা বিতর্কে মুখ খুললেন কবি জয় গোস্বামী

Joy Goswami Interview showing the renowned Bengali poet speaking about threat culture, the Rabindra Sadan incident, Taslima Nasrin, and freedom of expression during an exclusive interaction.

Joy Goswami Interview: সময়ের প্রথম কলকাতার পত্রিকা হাতে নিয়ে মনোযোগ সহকারে বিভিন্ন প্রতিবেদন পড়লেন প্রখ্যাত কবি জয় গোস্বামী। পাঠের ফাঁকে প্রথম কলকাতার প্রতি জানালেন আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। কবির হাতে পৌঁছে গেল সময়ের প্রথম কলকাতা— যা হয়ে রইল সাহিত্য ও সংবাদজগতের এক স্মরণীয় মুহূর্ত। প্রথম কলকাতাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী তুলে ধরলেন পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ। প্রথম কলকাতার প্রতিনিধির প্রশ্নের উত্তরে তিনি রবীন্দ্রসদনে তসলিমা নাসরিনকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওঠা ‘গো ব্যাক’ স্লোগানের স্মৃতি, সাহিত্য জগতে ‘থ্রেট কালচার’-এর প্রবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং একজন কবির ভূমিকা নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, ভয় দেখিয়ে মত দমন করার সংস্কৃতি কোনও সুস্থ সমাজ বা সাহিত্যচর্চার পক্ষে শুভ নয়। কবি জয় গোস্বামী একান্ত সাক্ষাৎকারে সাহিত্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিসরেও এখন ‘ভয় দেখানোর সংস্কৃতি’ বা ‘থ্রেট কালচার’ প্রবেশ করেছে, যা তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করেন।

রবীন্দ্রসদনে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ওঠা ‘গো ব্যাক’ স্লোগানের প্রসঙ্গও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে। সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে জয় গোস্বামী জানান, প্রথম মুহূর্তে তিনি বুঝতেই পারেননি কী ঘটছে। কারণ তখন মঞ্চে নাম ঘোষণা চলছিল এবং চারদিকে এত আওয়াজ ছিল যে স্লোগান স্পষ্টভাবে তাঁর কানে পৌঁছায়নি। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কবি বলেন, তসলিমা নাসরিন ছিলেন অনুষ্ঠানের মূল ব্যক্তি। তাঁকে সম্মান জানাতেই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল। তাই সেই পরিস্থিতিতে মঞ্চ ছেড়ে চলে যান।

জয় গোস্বামীর কথায়, “আমি যোদ্ধা নই। সবাই যোদ্ধা হয় না। তসলিমা যোদ্ধা। আমার কাজ শব্দের মাধ্যমে পাশে দাঁড়ানো। শব্দের কাজ সৃষ্টি করা, আর স্লোগানের কাজ অবস্থান জানানো। এই দুই যখন মুখোমুখি হয়, তখন একজন কবি সেই সময়কে খুব গভীরভাবে অনুভব করতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ভয় দেখানোর সংস্কৃতি পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিসরে আগে এভাবে ছিল না। তাঁর মতে, সাহিত্যচর্চার জায়গায় মতের অমিল থাকতে পারে, কিন্তু ভিন্ন মতকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার প্রবণতা কখনও সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশের লক্ষণ নয়।

সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি যদি কোনও লেখক বা শিল্পীকে সম্মান জানাতে অনুষ্ঠানে আসেন, তাতে আপত্তির কিছু নেই। তাঁর কথায়, তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল একজন কবি হিসেবে, আর সেই আমন্ত্রণকেই তিনি সম্মান করেছেন। কে তাঁকে সমালোচনা করল বা কে স্লোগান দিল, তা নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিচলিত নন।

পুজোর আগে লেখালিখির পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জয় গোস্বামী জানান, তিনি এখন অনেকটাই অবসর নিয়েছেন। আগের মতো নিয়মিত ব্যস্ত না থাকলেও নিজের মতো করে লেখালিখি চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাক্ষাৎকারের শেষে কবি স্পষ্ট বার্তা দেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরিসর যেন কখনও ভয়, হুমকি বা স্লোগানের দখলে না যায়। তাঁর মতে, সৃজনশীলতার জায়গা সবসময় মুক্ত চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরই দাঁড়িয়ে থাকা উচিত।
#JoyGoswami #TaslimaNasrin #ThreatCulture #Kolkata #BengaliLiterature #FreedomOfExpression #WestBengal #BengaliNews

Exit mobile version