Tag: hamas

  • Israel-Hamas war: গাজা যুদ্ধে জিতবে হামাস ! যে বড় ভুল করে ফেলেছে ইজরায়েল

    Israel-Hamas war: গাজা যুদ্ধে জিতবে হামাস ! যে বড় ভুল করে ফেলেছে ইজরায়েল

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Israel-Hamas war: গাজা যুদ্ধে জিতছে হামাস, হিসেবে বড় ভুল করে ফেলল ইসরায়েল! হামাস আর ইসরায়েলের যুদ্ধে নাকি জিতে যাচ্ছে হামাস! না, এটা আমাদের কথা নয়। স্বনামধন্য ম্যাগাজিনে বড় বড় করে ছাপা হয়েছে এই লেখা। হামাসকে হারাতে গিয়ে নাকানিচুবানি অবস্থা ইসরায়েলের। কোন কৌশলে এত বড় ভুল করে ফেললেন নেতানিয়াহু? হারানো তো দূর, উল্টে শক্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে হামাসের। গাজা যুদ্ধে হামাসের জেতার সম্ভাবনা কতটুকু? শেষমেষ কি তাহলে গাজাতে হামাসের জয় হবে? যদি হামাস আর ইসরায়েলের তুলনা করেন, তাহলে ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে সামরিক শক্তিতে হামাসের থেকে বহুগুণ এগিয়ে ইসরায়েল। বিগত নয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে গাজার যে কি অবস্থা গোটা বিশ্ব দেখছে। হামাসের সদস্য সংখ্যাই বা আর কত! সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, যদি বলা হয় হামাস জিতছে, তাহলে কথাটা একটু অবান্তর বলেও মনে হতে পারে। কিন্তু এমনটা বলার পিছনে প্রচুর যুক্তি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ম্যাগাজিন ফরেন অ্যাফেয়ার্স এর রিপোর্ট।

     

    •বাড়ছে হামাসের শক্তি, লড়াই করবে জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে!

    একটা সহজ হিসাব দেখুন, প্রায় ৯ মাস হয়ে গিয়েছে। গাজায় বিমান আর স্থল হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। কিন্তু হামাসকে পুরো দমে পরাজিত করতে পেরেছে কি? না, এখনো পারেনি। ইসরায়েল যে টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছে, হামাসকে সমূলে নির্মূল করবে। কিন্তু এখনো তো মাথা উঁচু করে রয়েছে হামাসের শীর্ষ বেশ কয়েকজন নেতা। যারা পরিবারের বহু সদস্য কে হারিয়েছেন, যুদ্ধে প্রিয়জনকে হারিয়েও তারা যুদ্ধের ময়দানে হাল ছাড়েনি। ইসরায়েলি হামলায় হমাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া হারিয়েছেন তার পরিবারের দশ সদস্যকে। কিন্তু সেই শীর্ষ নেতা কখনো সামনে এসে বলেননি, ঠিক আছে এবার সমঝোতায় আসা যাক। মাঝখানে যখন যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষের যুদ্ধ বিরতি নিয়ে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেছিল, তখন হামাস কিছুটা সম্মতি হয়েছিল। তবে হ্যাঁ, নিজেদের দাবিতে ছিল অনড়। অর্থাৎ স্থায়ী যুদ্ধ বিরতি ছাড়া তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনও রকম আপোসে আসতে রাজি নয়। হামাস যেন বদ্ধপরিকর, যতক্ষণ না তাদের লক্ষ্য পূরণ হবে, ততক্ষণ তারা নিজেদের শেষ বিন্দু দিয়ে লড়াই করবে। অপরদিকে ইসরায়েল হামাসের হাত থেকে জিম্মিদের ছাড়াতে চাইছে।

     

    গত ৯ মাসে আকাশ আর স্থল অভিযানে ইসরায়েল গাজায় হামাসকে না পেরেছে পরাজিত করতে, না পেরেছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে। যদি বিষয়টা উল্টো দিক থেকে বিবেচনা করেন, তখন কিন্তু ৭ই অক্টোবরের তুলনায় আজকের হামাস আরো শক্তিশালী। এমনটাই বলছে ফরেন অ্যাফেয়ার্স এর রিপোর্ট। গত বছরের অক্টোবরে হামাস ইসরায়েলে অতর্কিতভাবে আক্রমণ চালায়। তাতে বহু ইসরাইলি নাগরিক মারা যান। আবার অনেকেই জিম্মি হন হামাসের হাতে। তারপর ইসরায়েলি সেনা অভিযান শুরু করে উত্তর আর দক্ষিণ গাজায়। যার জেরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ। নিহত হয়েছেন প্রায় ৩৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। বলা হচ্ছে, এই গাজায় এখনো পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর ফেলেছে ৭০ হাজার টনের বেশি বোমা। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লন্ডন, ড্রেসডেন এবং হামবুর্গে ফেলা বোমার থেকে অনেক বেশি। ইসরায়েলি বাহিনীর বোমার হামলায় গুঁড়িয়ে ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছে গাজার অর্ধেকের বেশি ভবন। জল খাবার আর বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ এতটাই সীমিত করে দিয়েছে, যার কারণে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছে গাজার বাসিন্দাদের। বহু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ইসরায়েলের এমন আচরণকে অনৈতিক বলেছেন। তবে ইসরায়েলের নেতারা বারংবার বলে এসেছেন, তাদের উদ্দেশ্য একটাই। হামাসকে পরাজিত করা অর্থাৎ এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটাকে পুরো দুর্বল করে ফেলা যাতে তারা বেসামরিক ইসরায়েলিদের ওপর নতুন করে আর কোনও রকম আক্রমণ চালাতে না পারে। পাশাপাশি এও দাবি করে, ইসরায়েলিদের কাছে ফিলিস্তিনিদের জীবনে অগ্রাধিকার পায়। কিন্তু হামাসের শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য গাজার বাসিন্দারা যে শাস্তি ভোগ করছে তা মেনে নিতে হবে।

     

    * হামাসের মাথা গুনছে ইসরায়েল, গুলিয়ে ফেলছে রণনীতি!

    ইসরায়েল যে অঙ্কটা কষে এগোচ্ছিল, যে ছকে হামাসকে বন্দী করতে চাইছিল, তার পাশাটাই পুরো উল্টে গিয়েছে। রিপোর্টের দাবি, ইসরায়েলের আক্রমণ প্রকৃতি পক্ষে হামাসের শক্তি বাড়িয়েছে। এখন তো ধরাছোঁয়ার বাইরে হামাস। আসলে এখানে ফিলিস্তিনে ইসরায়েল তার কৌশলে ভুল করে ফেলেছে। ভিয়েতনামে ১৯৬৬-৬৭ সালে যেমন কৌশলে ভুল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। হঠাৎ করে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল ভিয়েতনামের সশস্ত্র সংগঠন ভিয়েত কং। তখন যুক্তরাষ্ট্রকে অনর্থক অনুসন্ধান আর অভিযানে বিপুলসংখ্যক সেনা পাঠাতে হয়েছে। সেই পথেই এগোচ্ছে ইসরায়েলও। ইসরায়েল ভাবছে, সামরিক শক্তি দিয়ে হামাসকে পরাজিত করবে, কিন্তু ভুল ভাবে প্রয়োগ করছে সেই শক্তি। উল্টে হামাস পরিণত হয়েছে একটা সুদৃঢ় ভয়ঙ্কর গেরিলা বাহিনীতে।

     

    ইসরায়েল যেন বুঝতেই পারছে না, যে তাদের সামরিক কৌশল ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েল যে ব্যর্থ, তার কারণেই কিন্তু শক্তিশালী হচ্ছে শত্রুপক্ষ। শুধু তাই নয়, রণনীতিতে রয়েছে প্রচুর ভুল। ইসরায়েল সরকার আর তার বিশ্লেষকরা কেবলমাত্র এই অভিযানে ঠিক কতজন হামাস সদস্য নিহত হয়েছেন তার মাথা গুনছেন। ভাবছেন হয়ত, অভিযানে এটাই সফলতা। এটা ঠিক যে, হামাসের বহু সদস্য নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের মতে যুদ্ধের আগে হামাসের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার জন সদস্য ছিল। যেখানে যুদ্ধ নিহত হয়েছেন অন্তত ১৪ হাজার সদস্য। আবার ওদিকে হামাস জোর দিয়ে বলছে, নিহত হয়েছে তাদের ৬ থেকে ৮ হাজার সদস্য। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র বলছে, হামাসের প্রকৃত নিহতের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার হবে। এই সংখ্যার উপর জোর দিয়ে হামাসের শক্তি মূল্যায়ন করাটা কঠিন। কারণ সদস্য হারানোর পরেও কিন্তু এককভাবে গাজার বৃহৎ অংশ এখনো হামাসের নিয়ন্ত্রণে। উল্টে হামাস চালাচ্ছে গেরিলা যুদ্ধ। যার মধ্যে রয়েছে অতর্কিত হামলা থেকে শুরু করে বন্দী হওয়া সেনার কাছ থেকে নেওয়া অস্ত্রে তৈরি ইম্প্রোভাইজড বোমা। নেতানিয়াহুর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা যখন মনে করছে, হামাসের এসব হামলা ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত বড় জোর স্থায়ী হতে পারে।

     

    কিন্তু হামাসে সম্ভবত আর ১৫ হাজার সংগঠিত যোদ্ধা রয়েছে। যা ৭ই অক্টোবর হামলা চালানোর যোদ্ধার সংখ্যার প্রায় ১০গুণ। উপরন্তু হামাসের ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্কের ৮০ শতাংশেরও বেশি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। সেখানে যত পরিমাণ অস্ত্র সংরক্ষিত রয়েছে, তা কিন্তু এখনো ইসরায়েলি নজরদারিতে পড়েনি। গাজায় হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই এখন অক্ষত। আর তারাই তো হামাসের মূল শক্তির উৎস।। আর একটা কথা কি বলুন তো, হামাস কিংবা যে কোনও সশস্ত্র গোষ্ঠীর ক্ষমতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস, নিয়োগের ক্ষমতা। বিশেষ করে এই গোষ্ঠীর নেতাদের নতুন প্রজন্মের যোদ্ধা আর কর্মীদের আকৃষ্ট করার ক্ষমতাই প্রধান। সেই জায়গাটাও বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগাচ্ছে হামাস। তাই তো বারংবার বলা হচ্ছে, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে হামাসের টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি। ৭ই অক্টোবরের আগের তুলনায় আজকের ফিলিস্তিনিদের মধ্যে হামাসের সমর্থন অনেকটা বেশি।

     

    * কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি ইসরায়েল, জিতবে কে?

    আসলে ইসরায়েলের সামনে এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে একটা বড় কঠিন বাস্তবতা। যেটা ইসরায়েলকে মেনে নিতেই হবে। না নেওয়া ছাড়া উপায় যে নেই। দীর্ঘ নয় মাস গেরিলা যুদ্ধের পরেও কিন্তু হামাসকে পরাজিত করার বা চূড়ান্তভাবে হারানোর জন্য ইসরায়েলের কাছে একক কোনো সামরিক সমাধান নেই। আসলে, হামাসের মধ্যে যে রাজনৈতিক আর সামাজিক একটা আন্দোলনের বীজ বুনে দিয়েছে, সেটা খুব সহজে হারিয়ে যাওয়ার নয়। সেটা কিন্তু অনুধাবন করতে পারছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীও। কিছুদিন আগে তা স্বীকারও করে নিয়েছে। বিগত ৯ মাসের সামরিক অভিযানে ইসরায়েল তার উদ্দেশ্যের দিকে খুব একটা এগোতে পারেনি হামাস পরাজিত তো হয়নি, উল্টে তাদেরকে পরাজয়ের কাছাকাছিও পাঠানো যায়নি। বরং আরো বেশি আবেদন আরো জনপ্রিয়তা তৈরি করেছে এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। দুঃখের বিষয় হল, এই যুদ্ধ এখন চলতেই থাকবে। প্রাণ যাবে গাজার বহু সাধারণ মানুষের। হুমকি মুখে পড়বে দুই পক্ষই অর্থাৎ হামাস আর ইসরায়েল। এখনো কিন্তু হামাসের হাতে বন্দি রয়েছে ইসরাইলের বহু মানুষ। তাদের দুর্ভোগও কম নয়। কিন্তু চূড়ান্তভাবে কোন পক্ষ পরাজিত হবে তার ফলাফল এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। ইসরায়েলের সাথে অনেকটা তুলনামূলক আলোচনায় চলে আসছে হামাস। আর এখানেই তো ভয় নেতানিয়াহুর।

     

    ফিলিস্তিন যে বহু আগেই বহু শক্তিধর রাষ্ট্রের সহানুভূতি পাচ্ছে তা তো জানেনই। সম্প্রতি চলমান যুদ্ধের মধ্যেই নাকি রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। গাজা ইসরায়েল যুদ্ধের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়েছিল রাশিয়া। যুদ্ধের শুরু থেকেই গাজায় যুদ্ধ বিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন পুতিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে রাশিয়া আগাগোড়াই মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য জোট মানে ফিলিস্তিন লেবানন ইরানের সাথে একটু বেশি সখ্যতা রয়েছে। শুধু রাশিয়া কেন, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হামাসকে সমর্থন করছে। অস্ত্র দিচ্ছে। এ যুদ্ধ এখনই শেষ হওয়ার নয়। কারণ ইসরায়েলও যে কম শক্তিশালী নয়। নেপথ্যে রয়েছে বড় বড় পশ্চিমাদেশের মাথা। তারাও ইসরায়েলকে প্রাণপণে সাহায্য করার চেষ্টা করবে। তখন আরো মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এই যুদ্ধ।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Israel-Hamas war: হামাসের বড় স্ট্যান্ড! গাজায় যুদ্ধ বিরতি না কী অন্য কিছু ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Israel-Hamas war: গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, ইতিবাচক সায় হামাসের। বড় বয়ান বাইডেনের। তাহলে কি মিটতে চলেছে নেতানিয়াহু আর হামাসের শত্রুতা? অবশেষে তাহলে রেহাই পাবে গাজার সাধারণ মানুষ? আর ধ্বংসলীলা নয়, ইসরায়েল আর হামাস ধীরে ধীরে সমঝোতায় আসতে চাইছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তো বলেই দিয়েছেন, এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সময় হয়ে এসেছে। বিগত আট মাস ধরে হামাসের হামলার পাল্টা জবাবে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, তাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে পুরো গাজা। লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ বাস্তহারা। প্রাণ গিয়েছে প্রায় ৩৬ হাজারের বেশি মানুষের। গোটা বিশ্ব এই যুদ্ধ দেখে স্তম্ভিত। ইসরায়েলকে গোটা বিশ্বের কাছে কম জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, বিস্তর সমালোচনার মুখেও পড়েছে দেশটা। একে একে পাশ থেকে সরে গিয়েছে বন্ধু রাষ্ট্রগুলো। তাহলে কি সেই ভয় থেকেই এই যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব? আদৌ কি হামাস যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাব মানবে? আর যদি মেনেও নেয়, কতটা সুরাহা পাবে গাজার সহায়- সম্বলহীন মানুষগুলো? পাল্টি খেতে পারেন নেতানিয়াহু।

     

    গাজায় যুদ্ধ বিরতির প্ল্যান, চক্রান্ত নাকি স্বার্থের খেলা?

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হামাস নির্মূল করতে, বেসামরিক নাগরিকদের উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। যার মূল ইন্ধনদাতা বলে সমালোচকরা মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরকারকে। এর আগেও দুই পক্ষের যুদ্ধ বিরতি নিয়ে প্রচুর আলোচনা চলেছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে কাতার আর যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু কোন ফল মেলেনি। এবার সমালোচনাই বলুন, আর বিতর্কই বলুন, নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে যেন ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বিরতিতে বেশ তৎপর। কোথাও গিয়ে যেন এবার থামা দরকার। বিশ্বের বহু দেশ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতামত, যুদ্ধ হচ্ছে দুই পক্ষের মধ্যে, কিন্তু মাঝখান থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে গাজার সাধারণ মানুষ। যেটা মানবতার বড় বিপর্যয়ের সমান। আর তাই হয়তো হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাইডেন ইসরায়েল আর হামাস যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানালেন। শোনা যাচ্ছে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

     

    যে প্রস্তাবটি তিনটি ভাগে বিভক্ত। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসে বাইডেন যুদ্ধ বিরতির জন্য একটা রোড ম্যাপের প্রস্তাবের কথা বলেছেন। এই প্রস্তাব নাকি আগে কখনো হামাসকে দেয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, এই প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন হামাসের উদ্দেশ্যে। সোজা কথায়, বাইডেন কিন্তু তার বক্তৃতার মাধ্যমে ইসরায়েল আর গাজাকে যুদ্ধ বিরতির জন্য একপ্রকার চাপ দিলেন। যদিও গাজার রাফায় ইসরায়েলি হামলা নিয়ে যে এত কথা চলছে, এত চর্চা চলছে, সেই বিষয়ে তিনি কিছুই বলেননি। কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, অনেকটা দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়ে জো বাইডেনের এমন সিদ্ধান্ত। কারণ চলতি বছরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। জো বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে যেখানে লড়বেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই নির্বাচনের আগে এমনি থেকেই গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বাইডেন যথেষ্ট সমালোচিত হচ্ছেন ঘরে-বাইরে, তাই নিজের গদি ধরে রাখতে যেন এক্সট্রা কোন চাপ নিতে চাইছেন না তিনি। তড়িঘড়ি যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইছেন। পুরোটাই বাইডেনের একটা জিও পলিটিক্সের নতুন চাল হতে পারে।

     

    তবে কি বলুন তো, শুধু ইসরায়েল নয়, হামাসও যেন চাইছে যুদ্ধ এবার বন্ধ হোক। কারণ গাজায় যুদ্ধ বিরতিতে ইসরায়েলের দেওয়া রূপরেখাকে ইতিবাচক হিসেবেই বিবেচনা করছে হামাস। হামাসের প্রতি যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাব মেনে নেওয়া এবং গাজার যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বাইডানের আহ্বানের সঙ্গে একমত ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও। বিষয়টা নিয়েও জোরালো আশা দেখছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ইসরায়েলের প্রস্তাব যুদ্ধ বন্ধের আশার আলোর একটা সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখছেন।

     

    যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাবে কার বেশি লাভ? হামাস নাকি ইসরায়েল?

    যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাবের তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বলা হয়েছে, ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতির কথা। এই সময়ের মধ্যে গাজার জনবহুল এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে ইসরায়েলি সেনাদের। পাশাপাশি হামাসও নির্দিষ্ট সংখ্যক ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। তার বিনিময়ে আবার ইসরায়েলে বন্দি কয়েকশো মানুষ মুক্তি পাবেন। গাজার সব এলাকার বেসামরিক ফিলিস্তিনিরা তাদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন। বাড়ানো হবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজাবাসীর জন্য সামরিক আবাসনের ব্যবস্থা করবে। আর এরই মাঝে চলমান থাকবে যুক্তরাষ্ট্র আর কাতারের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা। যদি সেই আলোচনা সফল হয়, তাহলে বাস্তবায়ন করা হবে পরবর্তী পর্যায়ের প্ল্যানিং।

     

    দ্বিতীয় পর্যায়ে হামাসের কাছে অবশিষ্ট ইসরায়েলি জিম্মিরা মুক্তি পাবেন। সেই তালিকায় থাকবেন জিম্মি সেনারাও। পাশাপাশি গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে ইসরায়েলি বাহিনীর সর্বশেষ সেনাকেও অর্থাৎ গাজায় আর ইসরায়েলের একজন সেনাও থাকবে না। সোজা কথায় পরিস্থিতি এগোবে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের দিকে।

     

    আর যদি এই দুই পর্যায় সফলতা পায়,তাহলে তৃতীয় পর্যায়ে গিয়ে গাজায় বাস্তবায়ন করা হবে পুনর্গঠন পরিকল্পনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সহায়তায় গাজা উপত্যকায় পুনঃনির্মাণ করা হবে, বাড়ি বিদ্যালয় আর হাসপাতাল। এই যুদ্ধ বিরতি চুক্তির মাধ্যমে কিন্তু গাজায় প্রতিদিন প্রায় ৬০০ ট্রাক মানবিক সহায়তা যাওয়া সহ বিপর্যস্ত অঞ্চলগুলোতে আরো মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি দেবে। এমনটাই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

     

    ইজরায়েলের প্রস্তাবে রাজি হামাস! নেতানিয়াহু পাল্টি খাবেন না তো?

    এই প্রস্তাবে রাজি হয়েও যেতে পারে হামাস। কারণ এটাই তো চাইছিল ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তারা সবসময় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা বলেছে। আগে যুদ্ধ বিরতি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেগুলো খুব একটা কাজে দেয়নি। তবে মনে করা হচ্ছে, বর্তমানে যে চুক্তিটা হতে চলেছে সেই আলোচনায় হয়ত হামাস পুরোদমে সায় দেবে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু ইসরায়েলকেও এই চুক্তির পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েলি নাগরিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তটাকে হারানো উচিত নয়। বাইডেন আরো বলেন, হামাস ৭ই অক্টোবর ইসরায়েলে যে রকম শক্তি দিয়ে হামলা চালিয়েছিল, সেই শক্তি বা সেই হামলা চালানোর মতো সামর্থ্য এখন তাদের আর নেই। অপরদিকে আবার নেতানিয়াহু বলেছেন, সমস্ত জিম্মিদের মুক্তিসহ হামাসের সামরিক এবং শাসন ক্ষমতা নির্মূল না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ কখনই শেষ হবে না।

     

    গাজায় বেসামরিক মানুষের উপর হামলার কারণে, কূটনৈতিক সম্পর্কের কম ভাঙাচোরা পথ দিয়ে যেতে হচ্ছিল না ইসরায়েলকে। যুদ্ধ বিরতি কিন্তু, দুই পক্ষের জন্যই ভালো। গাজার মানুষগুলো যেমন হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে, তেমনি বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েল ফিরে পাবে তার পুরনো জায়গা। কিন্তু এখানেও রয়েছে বিস্তর সংশয়। যদি যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হয়, তার ফলে কি ফিলিস্তিন আর ইসরায়েলের মধ্যে শত্রুতা চিরতরে মিটবে? যদি শত্রুতা জিইয়ে থাকে, তাহলে কিন্তু পরবর্তীকালে পুনরায় যুদ্ধ হতে বেশি সময় লাগবে না। প্রস্তাবটা ইতিমধ্যেই কাতার ভিত্তিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে হামাসের কাছে। তবে বহু ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা মনে করছেন, এই প্রস্তাবে এমন কোন গ্যারান্টি নেই, যার মাধ্যমে ইসরায়েল তার সেনাদের গাজা থেকে পুরোপুরি ভাবে ফিরিয়ে নেবে।

     

    জো বাইডেন কিন্তু তার বক্তৃতায় স্বীকার করেছেন, এই চুক্তির প্রথম আর দ্বিতীয় দফার মধ্যে সমঝোতা কঠিন হতে পারে। কারণ কিছুদিন আগেই নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে, এই যুদ্ধ বন্ধে কখনোই রাজি নন বলেই ঘোষণা করেছিলেন। যদিও যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রস্তাবকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বক্তব্য একটাই, যতই যুদ্ধ বিরতি চুক্তি হোক না কেন, সেখানে যেন স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইসরায়েল যেন তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। কিন্তু প্রশ্ন হল, নেতানিয়াহু আদৌ কি তার কথা রাখবেন? যুক্তরাষ্ট্র পাল্টি খাবে না তো? কারণ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখে কিছুটা বিশ্বাস করতে চাইছে না হামাস। কয়েকদিন আগেই, রাফা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪৫ জন ফিলিস্তিনি মারা যাওয়ার পর, কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন নেতানিয়াহু। তখন হোয়াইট হাউস বলেছে, তারা বিশ্বাস করে না যে রাফায় ইসরায়েলি অভিযান রেড লাইন ক্রস করতে পারে। আপাতত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে কথা হচ্ছে, এবার দেখা যাক কবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়। কখন বা কোথায় এই যুদ্ধ বিরতি চুক্তি হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

     

    https://www.youtube.com/watch?v=6s1tgyhFH64

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

     

  • Israel–Hamas war: হামাসের সাহসে ইসরায়েলের আঁতে ঘা, ফিলিস্তিনকে সাহস যোগাচ্ছে বড় বড় দেশ

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Israel–Hamas war: মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে এখন গোটা বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আবহ। আর সেখানে বারংবার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছে একটাই নাম। সেটা হল হামাস। গত সাত মাস হয়ে গিয়েছে, গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলের হামলা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত নির্মূল করতে পারেনি হামাসকে। সাম্প্রতিক ডেটা অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে হামাস। কোনমতেই ইসরায়েলের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে রাজি নয় ,অর্থাৎ নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। দু পক্ষের মধ্যে একটা পোক্ত যুদ্ধ বিরতি চুক্তি আর গাজাবাসীর সুরাহা না হলে ইসরায়েলি জিম্মিদের কখনোই মুক্তি দেবে না হামাস। ফিলিস্তিনের একটা সশস্ত্র গোষ্ঠী হয়ে এত ক্ষমতা কোথায় পাচ্ছে? রুখে দাঁড়িয়েছে ইসরায়েলের সামনে। শুধু তাই নয়, প্রথম দিকে হামাসকে রুখতে তৎপর হতে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশও । ভাবতে পারছেন ! হামাসের পাওয়ার তাহলে ঠিক কতটা। এত শক্তি কোথা থেকে পায় হামাস? পিছন থেকে সাপোর্ট করছে যারা কল্পনাও করতে পারবেন না। রয়েছে বড় বড় মাথা। হামাসের উত্থানপর্ব মধ্যপ্রাচ্যের বড় ইতিহাস। হামাসের মূল লক্ষ্য ইসরায়েলকে ধ্বংস করা। কিন্তু কেন? এত রাগের কারণটা কী?

     

    হামাসের সাহস vs ইসরায়েলের আত্মসম্মানের লড়াই

    ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ বেশ কয়েকটা দেশ এই হামাস বাহিনীকে জঙ্গি গোষ্ঠী বলে মনে করলেও, গাজা ভূখণ্ডে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি নাগরিকদের কাছে কিন্তু এই হামাস মুক্তিদাতার মতো। আবার বিশ্বের বহু দেশের কাছে, এই সশস্ত্র গোষ্ঠী পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা নামে। আবার কেউবা বলে এরা স্বাধীনতা সংগ্রামী। যদি গত সাত মাসের আগের কথা বলেন, তখন কিন্তু হামাস অতটা নজরে আসেনি। শুধুমাত্র একটা সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবেই পরিচিত ছিল। গোটা বিশ্বের ইতিহাসে হামাসকে নিয়ে এত তোলপাড়ও পড়েনি। কিন্তু যখন গাজা ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি এলাকাকে লক্ষ্য করে প্রায় পাঁচ হাজার রকেট ছুঁড়ল, তখন বুঝিয়ে দিল যে তাদের ক্ষমতা কতটা। স্থলপথে, জলপথে, আর আকাশ পথে সমান্তরাল ভাবে হামলা চালিয়ে কিছুক্ষণের জন্য রীতিমত নাস্তানাবুদ করে দিয়েছিল ইসরায়েলকে। ইসরায়েলের সীমানা লঙ্ঘন করে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছিল। এই হামলায় ইসরায়েলের যতটা না ক্ষতি হয়েছে, তার থেকে আঁতে ঘা লেগেছে বেশি। লাগাটাই তো স্বাভাবিক। ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব বহু পুরনো। আজ সেই ফিলিস্তিনের এক যোদ্ধা গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই হচ্ছে ইসরায়েলের। এই যুদ্ধ কবে থামবে এখনও বলা যাচ্ছে না। কারণ ইসরায়েলও একরোখা। ব্যাপারটা এখন পুরোটা চলে গিয়েছে আত্মসম্মানের দিকে। হামাসের কাছে যদি ইসরায়েল পরাজিত হয়, তাহলে বিশ্ব রাজনীতিতে হালকা হয়ে যেতে পারে নেতানিয়াহুর ক্ষমতা।

     

    হামাসের উত্থানে ফিলিস্তিনিদের নতুন স্বপ্ন, কতটা শক্তিধর এই গোষ্ঠী?

    হামাসকে অতটাও দুর্বল ভাবা আবার ভুল। সেই ২০০৭ সাল থেকে গাজা ভূখণ্ডের শাসন ক্ষমতা রয়েছে এই যোদ্ধা গোষ্ঠীর হাতে। এই গোষ্ঠীর জন্ম ১৯৮৭ সালে। ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এবং গাজা ভূখণ্ডে ইজরায়েলিদের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই আন্দোলন থেকে। মিশরীয় সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখা হিসেবে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আহমেদ ইয়াসিন আর আবদেল আজিজ আল রান্টিসি। এক বছর পর অর্থাৎ ১৯৮৮ সালে হামাস তৈরি করে তাদের সনদ। তখন প্রাথমিকভাবে দুটো উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত এর সামরিক শাখা ইজ্জেদিন আল কাশেম ব্রিগেডস এর মাধ্যমে মাধ্যমে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। আর দ্বিতীয়টা হল, ফিলিস্তিনে বিভিন্ন সমাজ কল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর যেভাবে সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল, ফিলিস্তিনের সেই সীমান্ত মেনে নেয় হামাস, তবে কখনো ইসরায়েলকে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেয়নি। একটা সময় গাজা ভূখন্ডে ছিল মিশরের দখলদারি। ২০০৭ সালে ৩৮ বছর পর তার অবসান ঘটতেই, হামাস সংসদীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে। তারপর সরকার গঠন করলেও ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

     

    ২০১৭ সাল নাগাদ হামাস নেতা খালেদ মিশাল বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন, যাই হয়ে যাক না কেন, ফিলিস্তিনি ভূখন্ডের এক ইঞ্চি মাটিও তারা ছাড়বে না। এই যে ইসরায়েল আর হামাসের মধ্যে এত দ্বন্দ্ব, তা মেটাতে ১৯৯০ দশকে ইসরায়েল ও পিএলওর মধ্যে সমঝোতা করার চেষ্টা করা হলেও, সব বিফলে যায়। তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিল হামাস। হামাসের প্রধান লক্ষ্যই নাকি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা। পাশাপাশি ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক, গাজা ভূখণ্ড আর ইসরায়েলে একটা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। হামাসের মতে, তাদের মূল শত্রু ইসরায়েল, আর লক্ষ্য ইসরায়েলকে ধ্বংস করা। মাঝে একবার ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবও দিয়েছিল। যেখানে ছিল একটা শর্ত। ১৯৬৭ সালে ৬ দিনের যুদ্ধের আগের যে অবস্থানে ছিল, ইসরায়েলকে তার দখলদারি ছেড়ে সেই অবস্থানে ফিরে যেতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের এবং ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুরা যাতে দেশে ফিরে যেতে পারে তার অনুমতি দিতে হবে। হামাস এও বলে যে, তারা মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক শেষ করবে। তখনো কিন্তু ইসরাইল হামাসের সেই দাবি মানেনি। বরং যুক্তি দিয়েছিল, ভালো ভালো কথা বলে নাকি গোটা বিশ্বকে বোকা বানাতে চাইছে হামাসগোষ্ঠী।

     

    স্বাভাবিকভাবেই তখনও সমঝোতায় আসেনি ইসরায়েল আর হামাস। আর এখনো আসছে না। আর মাঝখান থেকে অত্যন্ত করুণ দুর্দশায় পড়েছে গাজা বাসী। আর আল আকসা মসজিদ নিয়ে তো এই দুই পক্ষের মধ্যে বিতর্কের শেষ নেই। ইসরাইলের দাবি ইহুদিদের পবিত্র ধর্মীয় স্থান ধ্বংস করে নাকি এখানে মসজিদ স্থাপন করা হয়েছিল। আর অপরদিকে হামাসের দাবি, এই মসজিদকে অপবিত্র করেছে ইসরায়েলি দখলদাররা। আর তারই প্রতিশোধ হিসেবে তারা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের উপর। ৭ই অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা মনে করিয়ে দেয়, প্রায় ৫০ বছর আগে ১৯৭৩ সালের কথা। যখন মিশর আর সিরিয়া একজোট হয়ে ইসরায়েলের উপর আচমকা হামলা চালিয়েছিল । এই ঘটনা ছিল মধ্যপ্রাচ্যের একটা বড় ঘটনা। মুহূর্তে বেঁধে যায় যুদ্ধ। আর ঠিক তার ৫০ তম বার্ষিকীর একদিন পরেই নজিরবিহীন ভাবে ইসরায়েলে আক্রমণ চালায় হামাস।

     

    হামাসের বল বাড়াচ্ছে যে যে দেশ

    প্রথম থেকেই হামাসের সাপোর্টে আছে ইরান সিরিয়া আর ইয়েমেন। কারণ ইরান সিরিয়া লেবাননে যে ইসলামিক গোষ্ঠী গুলো সমাসের কট্টর সমর্থক। তালিকায় রয়েছে হিজবুল্লাহ মিলিশিয়া আর হুথি। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলের উপর হামাসের হয়ে প্রতিশোধ নিতে কম হামলা চালাচ্ছে না হিজবুল্লাহ। শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশে হামাসের বিপুল সমর্থক রয়েছে। এমনকি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি কাতারও বেশ সহানুভূতিশীল। আর ওদিকে আরব লীগ মরক্কো সৌদি আরব এই সংঘাতে ইসরাইলকে সংযম রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে, অর্থাৎ পরোক্ষভাবে সাপোর্ট করছে হামাসকে। আর যদি মুদ্রার উল্টোপিটের কথা বলেন, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ব্রিটেন কানাডা জাপানসহ বেশ কয়েকটা দেশ হামাস মনে করে একটা সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবে। মধ্যপ্রাচ্যে হামাসের সব থেকে বড় পৃষ্ঠপোষক দেশ বলে মনে করা হয় কাতারকে। ২০১২ সালে প্রথম রাষ্ট্রনেতা হিসেবে হামাসের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন কাতারের আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি। এ পর্যন্ত দেশটি নাকি হামাসকে প্রায় ২০০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে। অঙ্কটা নেহাত কম নয়। আর হামাসের আরেক পৃষ্ঠপোষক হল তুরস্ক। এছাড়াও ক্ষেপণাস্ত্র সহ সমরাস্ত্র প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করে ইরান। শোনা যায়, সুদান আর মিশরের মাধ্যমেও গাজায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রপাচার হয়ে থাকে।

     

    এখন গাজা ঘিরে যেন চলছে হামাসের মরণপণ লড়াই। এই গাজা উপত্যকা বলতে বোঝায়, ইজরায়েল মিশর ভূমধ্যসাগরের মধ্যে প্রায় ৪১ কিমি দীর্ঘ আর ১০ কিমি প্রশস্ত অঞ্চল। বর্তমানে পশ্চিম তীর আর গাজা এগুলো ফিলিস্তিনি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ১৯৪৮ সালের ইসরায়েল রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা পেলেও, যে সমস্ত রাষ্ট্র এখনো ইসরায়েলের অস্তিত্বকে স্বীকার করে না, তারা এই অঞ্চলকে উল্লেখ করে ফিলিস্তিন হিসেবে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিরাও গাজা, পশ্চিম তীর পূর্ব জেরুজালেমকে একসাথে ফিলিস্তিন নামে ডাকে। গাজা বিশ্বের অন্যতম একটা ঘন বসতি এলাকা, যেখানে বসবাস করেন প্রায় ২৩লক্ষ মানুষ। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে গাজার সাধারণ মানুষ। এই মুহূর্তে যুদ্ধ বিরতি ছাড়া আর অন্য কোন রাস্তা নেই। তবে সেই আশা অনেকটা আলেয়ার মতো।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Israel-Hamas War: নতুন শক্তিতে ফিরছে হামাস, গাজায় ইসরায়েলের বেকার চেষ্টা!

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Israel-Hamas War: পিছু হটেও যেন হার মানছে না হামাস। এত সহজে ফিলিস্তিনের এই গোষ্ঠী হাল ছাড়বে বলে মনে হচ্ছে না। গাজায় একের পর এক হামলা চালিয়ে যে যে এলাকা ইসরায়েল ‘হামাস মুক্ত’ বলে ঘোষণা করছে, সেই এলাকায় আবার নতুন করে সংঘটিত হচ্ছে হামাস। হামাস দমন করতে মার্কিন সিনেটরের মুখে চাঞ্চল্যকর বক্তব্য। ফিরে আসতে পারে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়ঙ্কর স্মৃতি। মনে পড়ে? হিরোশিমা আর নাগাসাকির কথা? ঠিক তেমনটাই হবে না তো গাজার সঙ্গে? কোন মারাত্মক হামলার প্ল্যান করছে ইসরায়েল? দ্বিধা বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র। গাজা নাকি ইসরায়েল, কোন পক্ষে কথা বলছে বোঝাই যাচ্ছে না। ইসরায়েলকে বড়সড় হামলার প্ল্যান কষে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রেরই ক্ষমতাধর কিছু মানুষ। কিন্তু কেন? এক মুখে দুরকম কথার কারণটাই বা কি? হামাসও নাছোড়বান্দা। গাজার এক চুল মাটিও ছাড়তে নারাজ। তাহলে কি ইসরায়েলের প্ল্যানেই বড়সড় ভুল? আদৌ হামাসকে হারাতে পারবে তো? জোর লড়াই নেতানিয়াহুর।

     

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হামলার পুনরাবৃত্তি হবে গাজায়!

    ১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ হত্যালীলার কথা কে না জানে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র জিততে, জাপানের উপর মারাত্মক হামলা চালিয়েছিল। রীতিমত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল হিরোসিমা আর নাগাসাকি শহর। ক্ষতবিক্ষত দুই শহর এখনো সেই মর্মান্তিক স্মৃতি ভুলতে পারেনি, বরং তা বয়ে নিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। সেই দুর্ঘটনা এবার গাজায় ঘটতে চলেছে না তো? মার্কিন সিনেটরের মুখের কথায় ভয় পেয়ে পাচ্ছে কূটনৈতিক মহল। যে পারমাণবিক যুদ্ধের কথা শুনলেই গোটা বিশ্ব ভয় পায় তারই রিপিট হবে না তো?।গত সাত মাস ধরে গাজায়, কীভাবে ইসরায়েল স্থল অভিযান চালাচ্ছে, তা তো জানেনই। আর তার মাত্রা তীব্র হয়েছে রাফাতে গিয়ে। লক্ষ্য একটাই, ফিলিস্তিনের হামাসকে নির্মূল করা। কিন্তু সাত মাসে এখনো পর্যন্ত ধরাশায়ী হয়নি হামাস। এমত পরিস্থিতিতে গাজায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হওয়া হিরোশিমা আর নাগাসাকির ঘটনার রিপিট করতে বললে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তাঁর কথায়, এখন ইসরায়েল আর হামাসের মধ্যে যে যুদ্ধ চলছে তা হলো একটা অস্তিত্বের যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের জয় পাওয়ার জন্য ঠিক যা যা প্রয়োজন, তাই করতে হবে। ঠিক যেভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছিল, ঠিক তেমনভাবে। তিনি কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি। এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গাজায় বেসামরিক হতাহতের জন্য দায়ী হামাস। আর এই যুদ্ধে যতক্ষণ না ইসরায়েল জিতছে, ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেটা যে কোন মূল্যেই হোক না কেন।

     

    আরো বলেন, পার্ল হারবারে হামলার পর যখন যুক্তরাষ্ট্র জার্মান আর জাপানিদের সঙ্গে যুদ্ধে ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছিল, তখন কিন্তু অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিল মারাত্মক বোমা হামলাকে। টার্গেটে রেখেছিল হিরোশিমা আর নাগাসাকিকে। সুতরাং ইসরায়েলকে টিকে থাকার জন্য যা প্রয়োজন তাই করতে হবে। বুঝতে পারছেন? মার্কিন সিনেটরের এমন এই কথা ঠিক কতটা সমালোচনা হতে পারে। যে সময়ে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এমনকি জাতিসংঘ পর্যন্ত গাজায় বেসামরিক মানুষের উপর ইসরায়েলের হামলার বিরোধিতা করছে। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, একটা বৃহৎ আকারের মানবিক বিপর্যয়ের। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে মার্কিন সিনেটরের বক্তব্যকে ভালো চোখে দেখছে না কূটনৈতিক মহল। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পর্যন্ত গাজায় বেসামরিক মানুষের উপর হামলার বিরুদ্ধে গিয়ে কথা বলছেন। অথচ তাঁরই দেশের সিনেটর হাঁটছে উল্টো পথে। বোঝাই যাচ্ছে, মার্কিন ওই সিনেটর ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক। কারন তিনি নিজের দেশের প্রেসিডেন্ট অর্থাৎ বাইডেনেরও তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর কথায়, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের যে অস্ত্র বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছে, সেটা নাকি উচিত হয়নি। উল্টে তাঁর অভিযোগ, হামাস গাজার বেসামরিক নাগরিকদের ব্যবহার করছে মানবঢাল হিসেবে।

     

    ইসরায়েল-হামাস সংঘাতে দ্বিধাবিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র

    যদি গত এক সপ্তাহে ইসরায়েল এবং হামাসের দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের গতিবিধি দেখেন, তাহলে একটু ঘেঁটে যেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি অবশ্যই চাইছে। কিন্তু ইসরায়েলের পক্ষে নাকি হামাসকে প্রচ্ছন্নভাবে সাপোর্ট করছে তা পরিষ্কার নয়। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের কথায়, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের রাফায় ইসরায়েলি হামলা হামাসকে নির্মূল করতে পারবে না। পাশাপাশি রাফাতে ইসরায়েলের হামলা উস্কে দেবে, অরাজকতাকে। ব্লিঙ্কেনের গলায় কিন্তু প্রায় ইসরায়েল বিরোধী মন্তব্য। এছাড়াও ইসরায়েলি বাহিনীর হামাস যোদ্ধাদের চেয়ে বেশি বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে বলে যে মত নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে, তার সঙ্গেও একমত ব্লিঙ্কেন। আরো বলেন, রাফায় যদি পূর্ণমাত্রায় অভিযান হয়, তাহলে কিন্তু অবিশ্বাস্য রকম ভাবে হতাহতের ঘটনা ঘটবে। ইসরায়েল গাজার কিছু এলাকা হামাস মুক্ত করলেও, উত্তর গাজার ওই নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় আবার ফিরে এসেছে হামাস। ওদিকে রাফার অবস্থা ভীষণ শোচনীয়। পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলের বোমা হামলার কারণে, ইতিমধ্যেই সেখান থেকে সরে যেতে হয়েছে প্রায় তিন লক্ষ গাজা বাসীকে। এমনটাই বলছে জাতিসংঘ।

     

    নতুন শক্তি নিয়ে ফিরছে হামাস

    এখনো পর্যন্ত হাড় হাল ছাড়েনি হামাস। বরং পিছু হটে আবার সংঘটিত হচ্ছে এই গোষ্ঠী। অপরদিকে জবাব দিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাদের। ইসরায়েলের টার্গেট রাফা, কারণ এটাই নাকি এখন গাজায় হামাসের সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি। তাই দিনের পর দিন অভিযান জোরদারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে ইসরায়েল। গাজার বেশ কয়েকটি এলাকায় মুখোমুখি লড়াই চলছে দুই পক্ষের। গেল সপ্তাহে শেষের দিকেও গাজার উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সরাসরি যুদ্ধ হয়েছে ইসরায়েলির সেনা আর হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে। রাফা অভিযানের পর থেকে, একইভাবে লড়াই হচ্ছে গাজার উত্তর অঞ্চলে। তবে এই চিত্রটা একদমই নতুন নয়। গত সাত মাসের যুদ্ধে গাজায় এটা একটা অত্যন্ত পরিচিত চিত্র। ইসরায়েল একের পর এক অভিযান চালিয়ে গাজার এক একটি এলাকায় ঘোষণা করছে হামাস যোদ্ধা মুক্ত হিসেবে। কিন্তু তা বেশি সময়ের জন্য স্থায়ী হচ্ছে না। শোনা যাচ্ছে, হামাসও খুব শীঘ্রই আবার সংঘটিত হয়ে লড়াইয়ে ফিরে আসছে। এমনকি ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে হামাস যোদ্ধারা সত্যি সত্যি মিলিত হচ্ছেন। আর সেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাচ্ছে তারা। গত বছরের ৭ই অক্টোবর অতর্কিতভাবে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছিল হামাস। নিহত হয়েছিল প্রচুর ইসরায়েলি। এখনো পর্যন্ত শতাধিক ইসরাইলি নাগরিক বন্দী রয়েছে হামাসের হাতে। আর তাদেরকে উদ্ধার করতে আর হামাসকে নির্মূল করতে মরণপণ লড়াই চালাচ্ছে ইসরায়েল। ব্যর্থ যুদ্ধ বিরতি আলোচনা। এবার দেখার শেষ হাসি কে হাসে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Israel-Hamas War: ভয়ঙ্কর চাপে ইসরায়েল, এক্ষুনি যুদ্ধ থামাতে হবে! যুক্তরাষ্ট্রের বড় দাবি

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Israel-Hamas War: বিশ্রী রকম চাপে জর্জরিত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। টানাটানি হচ্ছে তাঁর গদি নিয়ে। এই মুহূর্তে গাজায় যুদ্ধ না থামলে কপাল পুড়তে পারে তাঁর। সেই চাপে, ভিতরে ভিতরে আলোচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। জো বাইডেন বলেই দিলেন, একটা শর্তে এক্ষুনি থেমে যাবে গাজা যুদ্ধ। স্বস্তি পাবে গাজার মানুষগুলো। কিন্তু হামাস ইসরায়েলের কথা মানবে তো? যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের সম্পর্কের ফাটল জিতিয়ে দিচ্ছে হামাসকে! গাজা বাসীর করুণ অবস্থা, জল পর্যন্ত নেই। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বাইডেনের কথায় মিলল বড় স্বস্তি।

     

    •ইসরায়েল জুড়ে বিক্ষোভ, ভয়ঙ্কর চাপে নেতানিয়াহু

    আসলে জিম্মি মুক্তির বিষয়ে ভয়ঙ্কর চাপে রয়েছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। হামাসের হাতে বন্দিদের অবিলম্বে মুক্তির জন্য এবং নেতানিয়াহু সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ইসরায়েল জুড়ে বিক্ষোভ করছে হাজার হাজার মানুষ। যা আশঙ্কা করা হয়েছিল হয়ত সেটাই হতে চলেছে। এই যুদ্ধ নাড়িয়ে দিতে পারে নেতানিয়াহুর গদি। বিষয়টা কিন্তু শুধুমাত্র এখানেই থেমে থাকেনি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয় সামনে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা । গাজায় জিম্মিদের পরিবার ইসরায়েলে তেল আবিবের পাশাপাশি আন্দোলন করছে সিজারিয়া, রেহোভোত এবং হাইফা সহ অন্যান্য শহরে। জিম্মিদের পরিবারের কিছু কিছু সদস্যরা রীতিমত তীব্র সমালোচনা করছে নেতানিয়াহুর। তাদের মতে, শুধুমাত্র নেতানিয়াহুর কারণেই নাকি জিম্মি চুক্তি হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, তিনি নাকি ইসরায়েলকে সাফল্যও পেতে দিচ্ছেন না। তাদের দাবি, অবিলম্বে হামাসের কাছ থেকে জিম্মিদের মুক্ত করতে হবে। আর তাদের মুক্ত করতে হবে নেতানিয়াহুর কাছ থেকে। মানে আন্দোলনকারীরা আর মনে প্রাণে মেনে নিতে পারছে না নেতানিয়াহুর সরকারকে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই মুহূর্তে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে ইসরায়েলের। বেগতিক দেখে জিম্মি চুক্তি নিয়ে কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে। তাই হঠাৎ করেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এত বড় বয়ান দিলেন। হামাস জিম্মিদের মুক্তি দিলেই গাজায় অবিলম্বে কার্যকর হবে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি।

     

    গাজায় শুধুই হাহাকার, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

    গত বছরের ৭ই অক্টোবর ফিলিস্তিনের হামাস গোষ্ঠী দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রবেশ নজিরবিহীন হামলা চালায়। হত্যা করে প্রায় ১২০০ ইসরায়েলি। পাশাপাশি, গাজায় বন্দি করে নিয়ে আসে প্রায় ২৫০ ইসরায়েলি এবং বিদেশি নাগরিককে। তারপর থেকে হামাসকে নির্মূল করতে আর ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন নেতানিয়াহু। নভেম্বরে সাত দিনের যুদ্ধবিরতিতে প্রায় ১১০ জন ইসরায়েলিকে হামাস মুক্তি দিলেও, এখনো কিন্তু তাদের কাছে শতাধিক বন্দি রয়েছে। আর ওদিকে ইসরায়েলি হামলায়, গাজায় মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার। আহতের সংখ্যা প্রায় ৭৮ হাজারের বেশি। ইরানের কিছু সংবাদ মাধ্যমের দাবি, গাজায় নিহতর সংখ্যা আরও বেশি। কারণ হামলার সময় বহু এলাকায় ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে অসংখ্য মৃতদেহ। গাজার বেশিরভাগ অঞ্চলই এখন পুরোপুরি ইসরায়েলের কবলে। যেখানে ২০ লক্ষেরও বেশি ফিলিস্তিনি কষ্ট পাচ্ছেন জ্বালানি থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, খাবার আর জলের অভাবে। গাজার হাসপাতালগুলোর অবস্থা তো আরো ভয়ঙ্কর। না আছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, না আছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নার্স। ওষুধে চলছে চরম হাহাকার। কঠিন দুর্দশার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি মহিলা। বিশেষ করে যাদের ছোট সন্তান হয়েছে, কিংবা যারা সদ্য সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, তাদের অবস্থা আরো শোচনীয়। শিশুদের জন্য ন্যূনতম দুধ পর্যন্ত কিনতে পারছেন না। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ এর মত বলছে, গাজায় এই মুহূর্তে প্রায় ১ লক্ষ ৫৫ হাজার অন্তঃসত্বা ভুগছে জলশূন্যতায়।

     

    হামাস জিম্মিদের মুক্তি দিলেই, যুদ্ধ বিরতি সম্ভব : জো বাইডেন

    এমত পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতিটা ভীষণ দরকার বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে শুরু করে অধিকাংশ দেশ। একদিকে মানবিক বিপর্যয় আরেক দিকে দুর্ভিক্ষ, আপাতত এর মাঝেই আটকে রয়েছে গাজা। দেখুন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান, ইসরায়েল হামাস। আর এখানে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে ওয়াশিংটন। এই সংঘাতের কথা আসলেই বারংবার চলে আসছে জো বাইডেনের নাম। তিনি বড় গলায় বলেছেন, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সব জিম্মিকে যদি হামাস মুক্তি দেয়, তাহলে যুদ্ধ বিরতি সম্ভব। সিয়াটেলের একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে তাঁর এমন কথায়, ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা বিশ্বে। তাহলে কি সত্যি যুদ্ধবিরতি হবে? যার আশায় প্রতিটা সেকেন্ড যেন এক একটা দিনের মতো গাজা বাসীর কাছে। মানুষগুলো চাতক পাখির মত চেয়ে আছে, কবে যুদ্ধ থামবে। সত্যি বলতে, গাজার অধিকাংশ মানুষ তাদের পরিবার হারা সর্বস্ব খুইয়ে প্রায় নিঃস্ব। তাদের কাছে যুদ্ধ বিরতি তো দূর, যুদ্ধ বিরতির আলোচনাও যেন একটা বড় পাওনার মতো। বাইডেন আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছেন, তিনি যেমনটা বলছেন ঠিক তেমনটাই হয়তো হতে পারে। আর এটা নির্ভর করছে হামাসের উপর। যদি হামাস জিম্মি মুক্তি দেয়, তাহলে যুদ্ধ বিরতি শুরু হয়ে যাবে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, হয়ত সম্প্রতি যে ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন হচ্ছে। তা নিয়ে তো দুই দেশের মধ্যেই আলোচনা হচ্ছিল। এর আগেও আলোচনা হয়েছিল যুদ্ধ বিরতি নিয়ে, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। যেখানে হামাস যুদ্ধ বিরতিতে রাজি ছিল, কিন্তু ইসরায়েল নয়। কারণ হামাসের সব শর্ত ইসরায়েলের পক্ষে মানা সম্ভব হয়নি। দেখতে দেখতে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ চলছে দীর্ঘ সাত মাস। যুদ্ধ শুরুর এক মাসের মাথায় হামাস আর ইসরায়েলের মধ্যে সাত দিনের একটা যুদ্ধ বিরতি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু তা সফলতার মুখ দেখেনি। এবার বাইডেনের কথায় দেখা দিল নতুন আশার আলো।

     

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বন্ধুত্ব শত্রুতার পথে!

    বাইডেনের কথা সত্যি হলেও হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখন উঠে পড়ে লেগেছে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি করতে। এখানে জড়িয়ে ওয়াশিংটনের প্রেস্টিজ ইস্যু। ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও চলে যাচ্ছে দেশটা। যেখানে গোটা বিশ্ব গত চার দশকে ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় বন্ধন দেখেছে, গভীর বন্ধুত্ব দেখেছে, একে অপরকে পাশে দাঁড়াতে দেখেছে, সেই জায়গাতেই তো এখন ফাটল। আন্তর্জাতিক মহলের।প্রশ্ন, তাহলে কি বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে শত্রুতায়? তাই এত বড় পাল্টি খেতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ? হামাসের হয়ে সরাসরি কথা না বললেও ইসরায়েলের প্রতি যে যুক্তরাষ্ট্র একেবারেই সন্তুষ্ট নয়, তা কিন্তু সাম্প্রতিক বিবৃতি আর তাদের কর্মকাণ্ডে বুঝিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। মূলত মার্কিন আর ইসরায়েলের যে জোট, তার মূল ভিত্তি অস্ত্র সহায়তা। বলা যেতেই পারে, বাইডেনের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের বক্তব্যে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, তথা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূ রাজনৈতিক কৌশলগত সম্পর্কে দেখা দিয়েছে একটা বড় চিড়। গত ৪ দশকে যুক্তরাষ্ট্র কোন অবস্থাতেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। বরং সব পরিস্থিতিতে সহযোগিতা করেছে। এমনটা হলো এই প্রথমবার। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই মুহূর্তে যুদ্ধ না থামলে, গাজায় আরও বড় বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। ক্রমবর্ধমান যে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, যার জেরেদেশী এবং বিদেশী নানামুখী চাপের মুখোমুখি রয়েছে ওয়াশিংটন। গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বাইডেনের নিজ দল ডেমোক্রেটিক পার্টি, আর বিরোধী দল ইজরাইলপন্থী রিপাবলিকান পার্টির তোপের মুখে রয়েছে তিনি।

     

    বাইডেনের কথায়, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বলেছেন যুদ্ধ বিরোধী এখন পুরোটাই নির্ভর করছে হামাসের উপর। যদি হামাদ জিম্মিদের ছেড়ে দেয় তাহলে সেই দিন থেকেই গাজায় ইসরায়েলি অভিযান বন্ধ হয়ে যাবে। তারপর দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে যুদ্ধ বিরতি। ওদিকে হামাস ইসরায়েলের বিভিন্ন সংগঠনের উদ্দেশ্যে এক বার্তায় লিখেছে, মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া প্রস্তাব ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে। শুধু তাই নয়, প্রস্তাবের উল্লেখিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে। ফলে কোর্টের বল এখন পুরোপুরি রয়েছে ইসরায়েলের হাতে। সারমর্মে এটাই বলা যায়, হামাস তার সিদ্ধান্তে অনড়। ওদিকে ইসরাইল তার সিদ্ধান্তে। সমঝোতা কিন্তু হয়নি। কেউ কারোর জায়গা থেকে এক চুলও সরে আসেনি। এমত অবস্থায় নয় হামাসকে ইজরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে, না হয় ইসরায়েলকে হামাসের চুক্তি মেনে নিতে হবে। তবেই কিন্তু যুদ্ধ যুদ্ধ বিরতি হওয়া সম্ভব। না হলে আপাতত গাজা বাসীর দুঃখ দুর্দশা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোন রাস্তা নেই।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Israel and America Relationship:  ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ফাটল, গাজায় নামছে অন্ধকার! হামাসের মারাত্মক স্টেপ 

    ।। প্রথম কলকাতা।।

    Israel and America Relationship: ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বে নরম সুর। ইসরায়েল আর হামাস যুদ্ধের মাঝে যেন ফেঁসে গেলেন জো বাইডেন। রাফায় হামলা চালাতে বদ্ধপরিকর ইসরায়েল, আর তা শুরুও করে দিয়েছে। যেখানে প্রথম থেকে ইসরায়েলের পাশে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, এখন সেই যুক্তরাষ্ট্র বেঁকে দাঁড়াচ্ছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ইসরায়েলকে মার্কিন অস্ত্রের চালান বন্ধের হুমকি দিলেন বাইডেন। ঘরে আর বাইরের চাপ সামলাতেই কি বাইডেনের এমন পাল্টি? নাকি সত্যি সত্যিই তিনি গাজায় হত্যালীলা থামাতে চান? গাজার অবস্থা তো ভীষণ শোচনীয়, হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ আছে আর মাত্র তিন দিনের, তারপর কী হবে? হামাসও ইসরায়েলের শর্ত মানতে নারাজ। কোন দিকে এগোচ্ছে গাজাবাসীর ভবিষ্যত?

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কথায়, ইসরায়েল যদি ফিলিস্তিনের গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর অর্থাৎ রাফায় বড়সড় অভিযান চালায়, তাহলে কিন্তু ওয়াশিংটন ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত করবে। অথচ এই যুক্তরাষ্ট্র কয়েকদিন আগেই ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহের জন্য মোটা টাকা বরাদ্দ করেছিল। সে নিয়ে তখন কম আলোচনা জল্পনা হয়নি। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তেই এবার টলে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। যখন ইসরায়েল আর হামাসের যুদ্ধ বেঁধে ছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র গোটা বিশ্বের সামনে এসে বুক ফুলিয়ে বলেছিল, তারা ইসরায়েলের পাশে আছে। আজ সেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বাইডেন সংবাদমাধ্যমে এসে হুঁশিয়ারি দিল ইসরায়েলকে। কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির সমস্ত অঙ্ক। যে যার পিঠ বাঁচাতে মুহূর্তে বদলে ফেলছে নিজেদের সিদ্ধান্ত গুলো। দেখতে দেখতে প্রায় সাত মাস হয়ে গেল গাজা যুদ্ধ। গত ৭ ই অক্টোবর থেকে ইজরায়েল বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ। এমত জায়গায় দাঁড়িয়ে, বাইডেন কিন্তু প্রায় স্বীকার করেই নিয়েছেন, গাজায় বেসামরিক মানুষ হত্যায় ইসরায়েল মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করছে। আর খটকাটা তো এখানেই। তাহলে কি গোটা বিশ্ব জানতে পেরে যাচ্ছে, মার্কিন অস্ত্রে চলছে গাজা হামলা, অর্থাৎ ঘুর পথে ইসরায়েলের পাশাপাশি চরম ক্ষোভের মুখে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র।।আর সেই ভয়েই কি হঠাৎ করে, বাইডেন তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে ফেললেন? যে ইসরায়েলকে এতদিন বন্ধু বলতেন, যে ইসরায়েলের পাশে থাকার বারংবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আজ সেই ইসরায়েলকে সতর্ক করছেন, হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। গাজায় বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার বিষয়ে বাইডেন দুঃখ প্রকাশও করেছেন। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র মনে প্রাণে চাইছে যাতে হামাস আর ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়। কিন্তু আলোচনা থেকে যাচ্ছে আলোচনার পর্যায়ে। আর ওদিকে মার খাচ্ছে রাফা বাসী। মিশরের সীমান্তে থাকা এই শহরে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক আশ্রয় নিয়েছেন। ইসরায়েলের ধারণা, এখানেই লুকিয়ে আছে হামাসের বেশ কয়েকটা ব্যাটেলিয়ন। তাই ইসরায়েল এখানে পুরো কদমে সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত। এই বড়সড় মানবিক বিপর্যয় আটকাতে যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ইসরায়েলে একটা মার্কিন বোমার বড় চালান স্থগিত করে। এরপর বাইডেন এখন সরাসরি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন নেতানিয়াহুকে। স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, যদি ইসরাইয়েল রাফা অভিযানে যায়, তাহলে তিনি দেশটিতে কোনরকম অস্ত্র সরবরাহ করবেন না। নেতানিয়াহু কিন্তু বারংবার তার কথার মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন,রাফা অভিযানে তিনি থেমে থাকবেন না। তাই এই পরিস্থিতিতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন জো বাইডেন। এমনটাই দাবি মার্কিন কর্মকর্তাদের। তবে হ্যাঁ, বাইডেন কিন্তু আর একটা কথা রিপিট করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টি থেকে সরে যাবে না।

    গত সপ্তাহে ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্র যে বোমার চালানটি স্থগিত করেছে ওটা মূলত জাহাজ মারফত পাঠানোর কথা ছিল। ছিল প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ ২ হাজার পাউন্ড আর ১৭ লক্ষ ৫০ পাউন্ড ওজনের বোমা। আসলে যুক্তরাষ্ট্র বেশ রেগে রয়েছে ইসরায়েলের উপর। কারণ ইসরায়েলকে বহুবার যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রাফায় হামলা আর ক্ষেত্রে বেসামরিক লোকজনের কথা মানবিক দিক থেকে ভাবতে। কিন্তু ইসরায়েল সেই ব্যবস্থা নেয়নি। শুধু তাই নয়, সে সম্পর্কে কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি তেল আবিবের। তাই ধরে নেয়াই যায়, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এই মুহূর্তে পাত্তা দিচ্ছে না। ডোন্ট কেয়ার ভাব করে এড়িয়ে যেতে চাইছে বাইডেনকে। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাফায় যুক্তরাষ্ট্রের বার্তাকে পুরোপুরি বিবেচনায় নিচ্ছে না ইসরায়েল। তাই যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের প্রস্তাবিত অস্ত্রের চালান পাঠানোর ক্ষেত্রে বিষয়টা পুনর্বিবেচনা করে, তারপর সেটা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় । পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের প্রশাসন কর্মকর্তাদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, রাখায় ইসরায়েলের বড়সড় স্থল অভিযানের বিরুদ্ধে। কারণ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১০ লক্ষের বেশি ফিলিস্তিনি। যাদের অন্যত্র যাওয়ার জায়গা নেই। আপাতত রাফায় ওই বেসামরিক মানুষদের মানবিক চাহিদা ইসরায়েল কিভাবে মেটাবে এবং কিভাবে শুধুমাত্র হামাসের বিরুদ্ধে আলাদা অভিযান পরিচালনা করবে, সেই নিয়ে নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাও চলছে। কিন্তু সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সম্পূর্ণভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের ভয়, যদি ওই বোমাগুলো ইসরায়েল পেয়ে যেত আর তা যদি রাফায় ব্যবহার হত, বুঝতে পারছেন? আন্তর্জাতিক অংকটাই পুরো বদলে যেত। বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ক্ষোভ গিয়ে পড়ত ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের উপর।

    ওদিকে কিন্তু আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সহ যুদ্ধ বিরতি আলোচনা অব্যাহত থাকলেও, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এখনো বন্ধ রয়েছে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাফা ক্রসিং। যুদ্ধ বিরতি আলোচনায় অংশ নিতে মিশরের রাজধানী কায়রোতে রয়েছে ইসরায়েল এবং হামাসের প্রতিনিধি দল। কিন্তু দুই দল আলোচনা করে সমঝোতায় আসতে পারেনি বলেই শোনা যাচ্ছে। একপক্ষ অপরপক্ষের সম্পূর্ণ দাবি মানতে পারছে না। আর ওদিকে হামলা থেকে বাঁচতে মরিয়া হয়ে রাফা ছাড়ছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনা। শোনা যাচ্ছে, প্রায় ৪৮ ঘণ্টায় রাফা ছেড়েছেন ৫০ হাজার বাসিন্দা। যাদের মধ্যে অনেকেই দেইর আল-বালাহ এলাকায় তাবু টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। গাজার অবস্থা ভীষণ শোচনীয়। যেহেতু অবরুদ্ধ গাজার দক্ষিণের হাসপাতাল গুলোতে আপাতত মাত্র ৩ দিনের জ্বালানি আছে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইসাস। সীমান্ত বন্ধ থাকায় গাজায় জাতিসংঘের তরফ থেকে পাঠানো কোন ত্রাণ কিংবা জ্বালানিও ঢুকতে পারছে না। আর পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে বন্ধ হতে বসেছে মানবিক সব সেবা। ৩ দিন চলার মত হাসপাতালগুলোতে জ্বালানি আছে, তাও খুব দ্রুত শেষ হতে যায়। আসলে গাজায় যে পথ দিয়ে ত্রাণ প্রবেশ করবে সেই রাস্তাটাই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েল প্রশাসন।

    দেখুন, এই গাজা হামলাকে কেন্দ্র করেই কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ছায়া যুদ্ধ চলছে ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। বারংবার একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার করলেও, ফল হচ্ছে উল্টো। একে অপরের উপর যে বিরক্ত, তা প্রকাশ পাচ্ছে দুই দেশের কাজে। কয়েক মাস আগে যখন জাতিসংঘে গাজার যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাব পাস হয়েছিল, তখন তীব্র বিরোধিতা করে ইসরায়েল। আর ওই প্রস্তাব পাসের পরেই ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল করেছিল তেল আবিব। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ধীরে ধীরে নেতানিয়াহু আর বাইডেনের সম্পর্কের টানাপোড়েন গিয়ে ঠেকছে তলানিতে। এবার শুধু প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসার অপেক্ষা। আশঙ্কা, এভাবেই ভেঙে যেতে পারে বাইডেন প্রশাসন আর নেতানিয়াহুর মধ্যে গড়ে ওঠা বিশ্বাসের দেওয়াল। যদি এই সংকট সাবধানতার সঙ্গে সমাধান না করা হয়, তবে কিন্তু পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে এগোতে পারে। কারণ ইসরায়েলকে রক্ষা করার যে দীর্ঘ মার্কিন নীতি মেনে চলার কথা বলেছিলেন বাইডেন, সেখান থেকে তাহলে সরে আসছে না তো? যুক্তরাষ্ট্র পড়েছে ভালো রকম সাঁড়াশি চাপে। গাজায় শুরু হওয়া তান্ডব থামানোর জন্য শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র রাষ্ট্র গুলো নয়, বরং নিজের দল ডেমোক্র্যাটদেরও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়ছে। ওদিকে গাজায় যুদ্ধ এখনই থামবে বলে তো মনেই হচ্ছে না। কারণ ইসরায়েলকে আর কোনো রকম ছাড় না দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে হামাস। স্পষ্ট বলেছে, হামাসের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাবের বাইরে কোন শর্ত তারা মেনে নেবে না। অর্থাৎ এই মুহূর্তে ইসরায়েল আর হামাসের মধ্যে সমঝোতা হওয়াটা খুব মুশকিল।

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Israel-Hamas War: রাফায় হামলা করেও হারবে ইসরায়েল? বড় ফাঁদ হামাসের

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Israel-Hamas War: গাজার (Gaza) রাফায় (Rafah) হামলা কি তবে ভুল সিদ্ধান্ত? তাড়াহুড়ো করে ফেলছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। হামাস পেতেছে বড় ফাঁদ। চুক্তি না হলে, যুদ্ধ করা বেকার। চাপ দিচ্ছে মিশরও (Egypt)। কারোর কথা শুনতে চাইছেন না নেতানিয়াহু, হামাস নির্মূল করতে উঠে পড়ে লেগেছে। আর এখানেই গন্ডগোল করে ফেলছেন যুদ্ধের স্ট্র্যাটেজিতে। হামাসের হাতে বন্দি ইসরায়েলের মানুষ, মুক্তি পাওয়ার রাস্তা তাহলে কি এবার বন্ধ হয়ে যাবে? রাফায় কী এমন আছে, যাকে কেন্দ্র করে গোটা বিশ্ব জুড়ে এত হইচই? আস্তে আস্তে সবার সমর্থন হারাচ্ছে ইসরায়েল, রাফা অভিযান একটা বড় ভুল স্টেপ হয়ে গেল না তো? হামাস ওদিকে কোন ফন্দি এঁটেছে?

     

    ইসরায়েল বলেছিল, হামাস যদি জিম্মি চুক্তি করে, তাহলে রাফাতে আর হামলা চালাবে না। কিন্তু সেই সব চুক্তি কোথায় গেল? রাফাতে কিন্তু ইসরাইল হামলা শুরু করে দিয়েছে। যাতে আতঙ্কে জাতিসংঘ। মানবতার ধ্বস নেমেছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থা। ইসরায়েলের টার্গেট এখন একটাই, সেটা হলো রাফা। হামাসকে জব্দ করার মূল অস্ত্র রাফাকেই আপাতত টার্গেট করেছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। কারোর কথাই শুনছেন না। কাউকেই গ্রাহ্য করছে না। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তোপের মুখেও পড়ছে ইসরায়েল। কিন্তু হামাসের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত এক কথায় অনড়। স্বাভাবিকভাবেই, এখন ভেস্তে যেতে পারে যুদ্ধ বিরতির পরিকল্পনা। শোনা যাচ্ছে, সম্প্রতি হামাসের হামলায় নিহত ইসরাইলি পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন নেতানিয়াহু।

     

    তারপরেই তিনি বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত সব লক্ষ্য অর্জিত হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে। তার আগে যুদ্ধ বন্ধের ভাবনা ইসরায়েলের বিবেচনায় আপাতত নেই। সম্পূর্ণ জয় পেতে ইসরায়েলি বাহিনী প্রবেশ করেছে রাফাতে। সেখানে থাকা হামাসের ব্যাটালিয়নকে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। সেক্ষেত্রে চুক্তি হোক আর, না হোক। সেদিকে তাকিয়ে বসে নেই ইসরায়েল। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হচ্ছে, আপাতত স্বজন হারানো ইসরাইলিরা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। এখানে কিন্তু ইসরাইলের জাতীয় স্বার্থ জড়িয়ে, সেই জায়গা থেকে নেতানিয়াহুর পিছুপা হটার সম্ভাবনা ভীষণ কম।

     

    আজ ইসরায়েল এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু কয়েকদিন আগে পর্যন্ত ইসরায়েল জানিয়েছিল, যদি হামাস জিম্মি চুক্তি করে, তাহলে গাজার একমাত্র নিরাপদ স্থল অর্থাৎ রাফাতে ইসরাইলি বাহিনী কোন হামলা চালাবে না। এমনটাই জানিয়েছিলেন ইজরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ। জিম্মিদের মুক্তি নাকি ইসরায়েলের কাছে এখন প্রধান বিষয়। কিন্তু হঠাৎ করে সেই অঙ্কটা এখন বদলে গিয়েছে। ইসরায়েল পাল্টে ফেলেছে তার সিদ্ধান্ত। কাজে আসেনি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিরতি প্রচেষ্টার পরিকল্পনা। গতবছরের ৭ অক্টোবর থেকে চলছে হামাস আর ইসরায়েলের যুদ্ধ। প্রাণে বাঁচতে গাজার লাখ লাখ ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছে সীমান্ত শহর রাফাতে।

     

    ইসরায়েলের দাবি, যদি হামাসকে পুরোপুরি হারাতে হয়, তাহলে হামলা চালাতে হবে রাফাতে। কারণ এখানে রয়ে গিয়েছে হামাসের চারটে ব্যাটালিয়ন। হামাসকে সমুলের নির্মূল করাই এখন নেতানিয়াহুর একমাত্র টার্গেট। গতবছর ৭ই অক্টোবর যখন ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাস হামলা চালিয়েছিল, তখন নিহত হন ইসরায়েলের প্রায় ১,২০০ জন মানুষ। হামাস জিম্মি করে ইসরায়েলের প্রায় ২৫৩ জনকে। যার মধ্যে ১০৫ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয় নভেম্বরে।। ধারণা করা হয়, এখনো নাকি হামাসের কাছে প্রায় ১৩০ জনেরও বেশি জিম্মি রয়েছেন। আর তাদেরকে জীবিত ছাড়িয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু। আপাতত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হামাসের সঙ্গে চুক্তি হোক বা না হোক গাজার রাফাতে হামলা চলবেই।

     

    আচ্ছা এই যে বারংবার রাফার কথা বলা হচ্ছে, কেন গাজার এই রাফা এত গুরুত্বপূর্ণ? একটু ভেবে দেখেছেন, ইসরায়েল যুদ্ধ করছে হামাসের বিরুদ্ধে, কিন্তু প্রাণপণে হামলা চালাতে চাইছে ছোট্ট একটা শহর রাফাত। যেটি রয়েছে গাজার দক্ষিণে। শহরটা একদমই ছোট। এখানে হামলা চালানো ইসরায়েলের কাছে একদমই কঠিন কাজ নয়। আর রাফা হামলাকে কেন্দ্র করে আতঙ্কে গোটা বিশ্ব। মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ হামাস-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর, গোটা গাজার বাস্তুচ্যুতরা ভিড় করেছে এই শহরটিতে। প্রায় ৬৪ বর্গ কিলোমিটারের এই শহরে ১৪ লক্ষ এরও বেশি মানুষের বাস। এই শহরটাই এখন ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে। আসলে কি বলুন তো, গাজা উপত্যকার আয়তন প্রায় ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার। যেখানে যুদ্ধের আগে বাস করতেন প্রায় ২১ লক্ষের বেশি ফিলিস্তিনি। যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ বাস্তুচ্যুত শুধুমাত্র আশ্রয় নিয়েছেন রাফা শহরে। এটি গাজা উপত্যকা আর মিশরের সীমান্তবর্তী একটা শহর।

     

    ইসরায়েলের ধারণা, রাফায় রয়েছে হামাসের চারটি ব্রিগেড। আর তাই এখানে আরো জোরদার করতে চাইছে, বিমান আর স্থলপথের হামলা। শুধু তাই নয়, কৌশলগত কারণে ইসরায়েল রাফা শহরকে ফাঁকা করতে চাইছে। যদিও সেখানকার বাসিন্দাদের চূড়ান্ত অবস্থা কি হবে, কিংবা আদৌ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন কিনা, সেই বিষয়ে কিন্তু কোন ধরনের বিবৃতি দেয়নি তেল আবিব। ভয়াবহ আশঙ্কায় দিন কাটছে রাফাবাসীর। প্রসঙ্গত বলে রাখি, এখানে একটা ইম্পর্টেন্ট বিষয় রয়েছে। গোটা বিশ্ব জানে, ইসরায়েলের সাথে মিশরের সম্পর্ক প্রায় আদায় কাঁচকলায়। একে অপরকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটু এড়িয়ে চলে। আর সেই মিশর পাশে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিনিদের। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েল চাইছে রাফা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে মিশরের সিনাই উপত্যকার দিকে ঠেলে দিতে। যদি এমনটা হয়, তাহলে বিঘ্নিত হতে পারে মিশরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা। যদি কোন দেশে হঠাৎ করে নতুন করে প্রায় ১৪ লক্ষ শরণার্থী প্রবেশ করে, তাহলে সেটা চাপ সৃষ্টি করবে, এটাই স্বাভাবিক।

     

    কারণ ইতিমধ্যে মিশরে প্রায় এক লক্ষের বেশি ফিলিস্তিনি শরণার্থী হিসেবে রয়েছেন। তাই মিসির রাফা সীমান্তের কাছে ইসরাইলি অভিযানে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বদ্ধপরিকর। কায়রো প্রশাসন মোতায়ন করেছে প্রায় ৪০টি ট্যাংকসহ বহু সাঁজোয়া যান। বিষয়টা এখানেই শেষ নয়। মিশর রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে রেখেছে, যদি ইসরাইলি বাহিনী রাফায় হামলা চালায়, তাহলে তার পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর। ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক ভাবে মিশরের ভূমিতে প্রবেশ করালে, লঙ্ঘন হতে পারে প্রায় ৪০ বছরের পুরনো ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি। আপাতত রাফাকে নিরাপদ বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। শহরটিতে মানুষকে বেঁচে থাকতে হচ্ছে হামলার সাথে লড়াই করে। দিন কাটছে অমানবিক পরিবেশে। অত্যন্ত দুর্বিষহভাবে।

     

    জাতিসংঘের প্রধান তো বলেই দিয়েছেন, রাফায় ইসরায়েল হামলা হবে ফিলিস্তিনিদের জন্য একটা বড় বিপর্যয়ের ঘটনা। সহজ সত্যি টা হল, রাফাতে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থল অভিযান ট্র্যাজেডির থেকে কম কিছু হবে না। ইতিমধ্যেই, গাজায় হামলার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন প্রায় ৭৭ হাজারের বেশি। যুক্তরাষ্ট্র তার বহু মিত্রদের সাথে ইসরায়েলকে সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সায় দিচ্ছে যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাবের দিকে। কিন্তু এখন এসব কি ডোন্ট কেয়ার ভেবে নিয়েছেন নেতানিয়াহু। লক্ষ্য, রাফাতে প্রবেশ করে হামাস ব্যাটেলিয়ান গুলোকে ধ্বংস করা। শোনা যাচ্ছে, এই বিষয়ে জো বাইডেনের এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধবিরতি নিয়ে কি কথা হয়েছে কিংবা রাফা হামলা নিয়ে কোন কথা হয়েছিল কিনা, তা এখনো পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতে, হামাসের ২৪টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৮ টি ব্যাটালিয়নকে ভেঙে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। কিন্তু এখনো রাফায় রয়ে গিয়েছে হামাসের চারটি ব্যাটালিয়ন। আর তাদেরকে ধ্বংস করতেই এই রাফা অভিযান।

     

    আন্তর্জাতিক মহলে কিন্তু গুঞ্জন উঠেছে, এই রাফাযুদ্ধে নেতানিয়াহু হয়তো জিততে পারবেন না। কি, শুনে একটু হতবাক হলেন তো? হয়তো অনেকেই ভাবছেন, এই রাফা হামাস যুদ্ধের শেষ অধ্যায়। আর এই অভিযানের মধ্য দিয়ে হয়তো হামাসের পতনও হবে। এই ধারণাটা পুরো বদলে যেতে পারে অর্থাৎ পুরো ওলটপালট হয়ে যেতে পারে নেতানিয়াহুর যুদ্ধের অঙ্কটা। কিন্তু এখন দেশের ভিতরে কিংবা বাইরের কোন মিত্রের পরামর্শ শুনছেন না তিনি। ওদিকে রাফায় ইসরায়েল অভিযান শুরু করুক কিংবা না করুক, বন্দী মুক্তির ব্যাপারে কিন্তু নিজেদের সিদ্ধান্তে হামাস একদম অনড় । কারণ বন্দী মুক্ত করতে গেলে একমাত্র রাস্তা উভয় পক্ষের মধ্যে হওয়া চুক্তি। অপরদিকে গোটা বিশ্বে প্রবলভাবে বাড়ছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের সমর্থন। ক্ষোভ বাড়ছে ইসরায়েলের উপর। এত যুদ্ধ করেও কিন্তু নেতানিয়াহু হামাসের হাত থেকে ইসরাইলি বন্দীদের মুক্ত করতে পারেননি। আর সেটা সম্ভব হবে একমাত্র চুক্তির মাধ্যমে। এবার দেখার ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Iran-Israel Conflict:বিপদে ইসরায়েল, গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু! গাজায় হামলা করে বড় ভুল? 

    ।। প্রথম কলকাতা।।

    Iran-Israel Conflict: যে কোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার হয়ে যেতে পারেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু! এ কি বিপদে পড়ল ইসরায়েল? সাহায্য নিতে ছুটল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। মহাচাপে যুক্তরাষ্ট্রও। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে গোটা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আন্দোলন। তাহলে কি গাজায় হামলা করে বড় ভুল করে ফেলল? এবার বড় মাশুল গুনতে হবে না তো নেতানিয়াহুকে? ইসরায়েলকে চারিদিক থেকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে শত্রুপক্ষ। সবাই গিয়ে হাত মেলাচ্ছে ইরানের সাথে। ইসরায়েল আর হামাস যুদ্ধ উস্কে দিচ্ছে বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা মানছে না মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ, আর এখানেই মার খাচ্ছে ইসরায়েল। হু হু করে বাড়িয়ে ফেলছে শত্রু সংখ্যা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে বড় পানিশমেন্ট পেতে চলেছে না তো ইসরায়েল? যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুকে আদৌ বাঁচাতে পারবে তো? নাকি আশঙ্কায়ই সত্যি হবে? সত্যি সত্যি নেতানিয়াহু গ্রেফতার হয়ে যাবেন না তো?

    একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী গ্রেফতার হওয়া মানে বুঝতে পারছেন, তাও আবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে। গোটা বিশ্বজুড়ে বিষয়টা নিয়ে হৈচৈ পড়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এমন একটা আদালত, যখন কোন দেশের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযোগ আসে, আন্তর্জাতিক ইস্যু জড়িয়ে থাকে, তখন এমন পদক্ষেপ নিতে পারে। ব্যাপারটা একেবারেই সাধারণ নয়। আপাতত নেতানিয়াহুর সামনে রয়েছে পাহাড় সমান অভিযোগ। গাজায় হামলা শুরুর পরেই থেকেই একের পর এক ফাঁড়ায় পড়েছে ইসরায়েল। আর তার সাথেই আবার লেজুড় হিসেবে জুড়ে গিয়েছে ইরানের সাথে সংঘাত। যার জেরে উত্তাল গোটা মধ্যপ্রাচ্য। ইসরায়েল এখন কোন দিক সামলাবে? একদিকে হামাস,তো আরেক দিকে ইরান। তার পিছনে রয়েছে একের পর এক সশস্ত্র গোষ্ঠী। যারা নিজেদেরকে প্রকাশ্যে হামাসের বন্ধু বলে দাবি করছে, আর ইসরায়েলকে দাবি করছে শত্রু বলে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অর্থাৎ আইসিসি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীসহ তার সরকারের অন্য বহু সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে পারে। দেখা দিয়েছে তুমুল সম্ভবনা। আর সেই গ্রেফতারি পরোয়ানা ঠেকাতে কম চেষ্টা করছেন না নেতানিয়াহু। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে যারা হামাসকে সাপোর্ট করে, ইরানকে সাপোর্ট করে, তারা তো রীতিমত বিষয়টাকে উপভোগ করছেন। সমালোচকরা কেউ কেউ নেতানিয়াহুর এমন অবস্থা দেখে বলছেন, এভাবেই হয়তো পতন হবে ইসরায়েলের। ওদিকে আবার নেতানিয়াহু দমে যাওয়ার পাত্র নন। এক বিবৃতিতে বলেই দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নাকি ইসরায়েলের সহজাত এবং আত্মরক্ষার অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে। সেটা কখনোই মেনে নেবে না ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতন্ত্র এবং বিশ্বের একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের জব্দ করার এটা একটা হুমকি, যা অত্যন্ত আপত্তিজনক। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তিনি কিংবা তার সামরিক কর্মকর্তারা কখনোই মাথা নত করবেন না। এত কিছু হয়ে যাওয়ার পরেও, নেতানিয়াহু এখনো পর্যন্ত গাজা হামলা বন্ধ নিয়ে কোন রকমের বার্তা দেননি। হামাসের সাথে সমঝোতায় আসার একটা আভাস পাওয়া গিয়েছে মাত্র। কিন্তু গাজার মানুষদের কি হবে? বা গাজার রাফা উপত্যকায় আপাতত হামলা বন্ধ হবে কিনা, সেই বিষয়ে কোন ইতিবাচক বার্তা দেয়নি ইসরায়েল।

    ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের যে সমস্ত অভিযোগ রয়েছে, তা কিন্তু এই গাজা উপত্যকাকে কেন্দ্র করে। গত ৭ অক্টোবর, ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর, ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্য একটাই, হামাসকে সমূলে নির্মূল করা। কিন্তু মাঝখান দিয়ে ভুক্তভোগী হচ্ছেন গাজার বহু সাধারণ মানুষ। গত জানুয়ারিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে ইসরায়েলকে গণহত্যা মূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এবং গাজায় বেসামরিক মানুষদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ইসরায়েল আর হামাসের যুদ্ধে নিহত হয়েছেন প্রায় ৩৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, যাদের অধিকাংশই নারী আর শিশু। আহত হয়েছে প্রায় ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ। আপাতত শোনা যাচ্ছে, মিশর আর কাতারের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যুদ্ধ বিরতি যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল তাতে নাকি আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দিয়েছে ইসরায়েল। কিন্তু গাজাবাসী এখনো সেই ফল পায়নি। এসবের মাঝে আবার ফিলিস্তিনের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফায় শুরু হয়েছে ইসরায়েলের হামলা।

    বিষয়টা যখন পুরো বিশ্বের কাছে একটা আলাদা নজরে চলে আসছে, তখন নিজেকে সেফ সাইডে রাখতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেই দিয়েছেন, গাজার বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করে কিংবা বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা না রেখে যদি রাফাতে ইসরায়েল বড় আকারে অভিযান চালায় তাহলে বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করবে না। এর আগেও গাজায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের জন্য অনুরোধ করেছিলেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট আব্বাস রাফাহতে। বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন করছি, যাতে ইসরায়েল রাফা অভিযান বন্ধ করে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রই এমন একটা দেশ যা ইসরায়েলকে অপরাধ করা থেকে বিরত রাখতে পারে। রাফা এমন একটা জায়গা যেখানে ছোট্ট পরিসরে হামলা হলেও বড়সড় মানবিক বিপর্যয় ঘটবে। কারণ গাজা হামলার পর থেকে বহু ফিলিস্তিনি এই এলাকায় এসে আশ্রয় নিয়েছে। এবার হয়ত তারা গাজা উপত্যকা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে।

    সবদিক থেকে একটু একটু করে এবার চাপে পড়ছে ইসরায়েল। শুধু তাই নয়, যে যুক্তরাষ্ট্রকে পরম বন্ধু বলে মনে করত, কাছের বন্ধু ভাবত সেই দেশেও কিন্তু ইজরায়েল এখন কাঠগড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে সামান্য হলেও চিড় ধরেছে। যার প্রমাণ গোটা যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে চলা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েল বিরোধী বিক্ষোভ। যুক্তরাষ্ট্রের বহু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেছে ফিলিস্তিনি পন্থীরা। তাদেরকে গ্রেফতার করতে রীতিমত নাজেহাল যুক্তরাষ্ট্র পুলিশ। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও। বুঝতে পারছেন, এই পুরো গন্ডগোলের সূত্রপাতে কেন রয়েছে গাজা?স্বাভাবিকভাবেই, তার প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্দরমহলেও। ইসরায়েল তার বিপদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে শোনা যাচ্ছে। নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে ফোন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা থেকে বাঁচতে পথ খুঁজছেন। কিন্তু সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, যুক্তরাষ্ট্র কতটা সাহায্য করতে পারবে, এটা একটা বড় প্রশ্ন। কারণ এখানে মানবাধিকারের বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। তার উপর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বলে কথা। এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র অফিশিয়ালি এই নিয়ে কোনো বিবৃতি জারি করেনি। এমত পরিস্থিতিতে যে ইসরায়েলের পাশে আছে কিংবা ইসরায়েলকে সমর্থন করছে সেই বিষয়ে কোন বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি জো বাইডেনকে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন , হয়তো বা যুক্তরাষ্ট্র একটু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কারণ যে দেশ বারংবার বহু দেশকে মানবাধিকারের পাঠ শেখায়, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি ইসরায়েলকে সাপোর্ট করে তাহলে বিরোধিতা আরো বাড়বে।

    গুঞ্জন বলছে, এই মুহূর্তে আইসিসি গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তদন্ত করছে। যার কারণে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি নিয়ে প্রচণ্ড চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু। বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নেমেছেন কূটনৈতিক যুদ্ধে। আর এই বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও গাজার একমাত্র নিরাপদ অঞ্চল অর্থাৎ রাফায় ইসরাইল সেনারা এখনো হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যা আরো বড় বিপদ খাঁড়া করতে পারে ইসরায়েলের সামনে। যদিও ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, হামাস যদি জিম্মি মুক্তি চুক্তি করে, তাহলে গাজায় শেষ নিরাপদ স্থলে অর্থাৎ রাফায় ইসরাইলি সেনারা আর হামলা চালাবে না। তবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হবে, তা এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলের বহু কূটনৈতিকরা মনে করছে, হয়তো কিছুদিনের মধ্যে ওয়ারেন্ট জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নেতানিয়াহুকে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি হতে হবে না। কিন্তু এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিশ্বমঞ্চে একটা বড়সড় ধাক্কা। ইসরায়েলের মিত্র এবং আইসিসির সদস্যের উপর কাজ করার জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

    https://youtu.be/rvAsWNATlHw?si=ocPqm0XOK21OqmMR

    আজ যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেঁধেছে, যদি বলা হয় তার মূল সূত্রপাতটা কোথায় বা তার গোড়াটা কোথায়? তাহলে গাজা উপত্যকার নাম নিলে খুব একটা ভুল হবে না। দেখুন, এই গাজা হামলার পর থেকেই কিন্তু ইসরায়েলের উপর বেশ ক্ষেপেছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ওদিকে ইয়েমেনের হুতির মতো বহু সশস্ত্র সংগঠন। যারা সরাসরি ভাবে যুক্ত রয়েছে ইরানের সাথে। ইরান থেকে সামরিক এবং অর্থনৈতিক সাহায্য পায়। এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখনো পর্যন্ত ইসরায়েলের উপর হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েলকে গাজা উপত্যকার পাশাপাশি সামলাতে হচ্ছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলাকে। সাথে ইরান তো রয়েইছে। সাম্প্রতিক সময়ে, ইরান যেভাবে কৌশলে মধ্যপ্রাচ্যের সহ বিশ্বের বহু দেশের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক বাড়াচ্ছে, তাতেও বেশ চাপে পড়েছে ইসরায়েল। এই মুহূর্তে যুদ্ধ যদি বাঁধে, তাহলে ইসরায়েল বলুন আর ইরান, এদের অন্যান্য দেশের সাপোর্টের যথেষ্ট প্রয়োজন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের একটা বড় অংশের সাপোর্ট পেয়ে বসে আছে ইরান। তাই পশ্চিমী দুনিয়ার দিকে একটু বেশি ঝুঁকছে ইসরায়েল। মরার উপর খাঁড়ার ঘা এর মত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আশঙ্কা। কূটনৈতিক সমালোচকরা মনে করছেন, যত দিন যাচ্ছে ইসরায়েল যেন আটকে পড়েছে শত্রু দেশগুলোর মাঝে। বাঁচতে গেলে হয়তো বা গাজায় হামলা বন্ধ করতে হবে, হামাসের সাথে বসে একটা সুষ্ঠু আলোচনায় আসতে হবে। না হলে, যদি এমনটাই হতে থাকে তাহলে পরিণতি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। দাম দিতে হতে পারে গোটা বিশ্বকে।

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Hamas Reject Ceasefire Formula: যুদ্ধ উসকে দিল হামাস, যুদ্ধবিরতিতে না! চাইছে টা কী?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Hamas Reject Ceasefire Formula: গাজায় এখনো জারি রয়েছে হামলা, ওদিকে শত আলাপ আলোচনার পরেও কিন্তু হামাস কিংবা ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে আসতে চাইছে না। প্রাণ যাচ্ছে বহু নিরীহ মানুষের। ক্ষতি হচ্ছে এই দুই তরফের। এসবের মাঝেই যুদ্ধকে আবার উসকে দিয়ে বড় বার্তা দিল হামাস। নবভারত টাইমসের রিপোর্ট বলছে, হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) তাদের ক্ষমতা ছাড়ার শর্তে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে অস্বীকার করেছে। মিশরের দুই নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স সোমবার জানিয়েছে, মিশর হামাস এবং পিআইজের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, তারা যদি গাজা উপত্যকায় ক্ষমতা থেকে আলাদা হয়ে যায়, তাহলে সেখানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হতে পারে।

    মিশর জানিয়েছে, উভয় সংস্থাই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। হামাস এবং পিআইজে ৭ অক্টোবর বন্দী আর জিম্মিদের মুক্তি ছাড়া অন্য কোনো ছাড়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। হামাস এবং পিআইজে-এর কমান্ডারদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে জিম্মিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত কিন্তু আর কোনো শর্ত মানবে না। হামাস এবং পিআইজে নেতারা কায়রোতে মিশরীয় মধ্যস্থতাকারীদের সাথে পৃথক আলোচনা করছেন। যেখানে মিশর এবং কাতার বলেছে, এই প্রস্তাবে জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধবিরতি এবং গাজায় নেতৃত্বের একটি বড় পরিবর্তনের সাথে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, মিশরও রেজুলেশনে হামাসকে আশ্বস্ত করেছে যে তাদের সদস্যদের অনুসরণ করা হবে না বা তাদের বিচার করা হবে না। হামাস এবং পিআইজে উভয়ই প্রস্তাবের বেশিরভাগ শর্তে সম্মত হয়নি। উভয় সংস্থার মতে, ইসরায়েলের উচিত যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করা, যার বিনিময়ে তারা তাদের বন্দীদশা থেকে ১০০ জনেরও বেশি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। এ ছাড়া এসব সংগঠন গাজা ছাড়ার শর্ত বা অন্যান্য শর্ত মানছে না।

    কায়রোতে আলোচনায় অংশ নেওয়া হামাস কমান্ডার রয়টার্সকে বলেছেন, তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে তার আগ্রাসন ও গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। এই বিষয়ে তারা মিশরীয় ভাইদের সাথে আলোচনা করছে। দাবি, তাদের জনগণের জন্য সাহায্য অবশ্যই বাড়াতে হবে। এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে, উত্তর এবং দক্ষিণের সমস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে। আগ্রাসন বন্ধ হয়ে গেলে এবং সহায়তা বাড়লে হামাস বন্দী বিনিময় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। পিআইজেও চুক্তির জন্য একই শর্ত পেশ করেছে, যেখানে অনেক জিম্মি রয়েছে বলেও জানা গেছে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  •  Israel-Hamas war: যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নেবে না হামাস! গাজা নয় গোটা পৃথিবীর জন্য বাড়ছে টেনশন

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     Israel-Hamas war: গাজার মাটিতে ইসরাইলের বিষবৃক্ষ। নেতানিয়াহুর কোন মন্ত্রে কুঁকড়ে যাচ্ছে হামাস? প্যালেস্টাইনি জঙ্গিগোষ্ঠীর শর্ত মাটিতে মিশিয়ে ছাড়বে আইডিএফ কে। এবার ইসরাইল আরও শক্ত। কোন কূলে ভিড়বে হামাস? দম ফুরাচ্ছে? নেতানিয়াহুর সুপার মুভে তোলপাড় গাজা। হামাসের সঙ্গে ইসরাইলের ডিমান্ডে আকাশ পাতাল ফারাক। দিনরাত এক করে গাজার বুকে অভিশাপ এঁকে দিচ্ছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সাফ কথা, যতক্ষণ না পণবন্দিরা মুক্তি পাচ্ছে আর হামাস সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ততক্ষণ যুদ্ধ চলবে। কিন্তু, যুদ্ধের আড়াই মাস পর রং বদলাচ্ছে হামাস। হঠাৎ করেই যুদ্ধবিরতি? কেন ইসরাইল দু চোক্ষের বিষ? প্যালেস্টাইনি জঙ্গি সংগঠন হামাস জানিয়েছে, প্যালেস্টাইনিদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না করা হলে তারা যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অংশ নিতে চায় না।

    প্রশ্ন হলো ৭ই অক্টোবর যে হামাস ইহুদি ভূমি লক্ষ্য করে গুচ্ছ গুচ্ছ রকেট ছুঁড়েছিল তারাই কিনা যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটতে চাইছে? আইডিএফ এর জন্য কি আরো বড় কোনো ফাঁদ? নেতানিয়াহু ট্র্যাপে জড়াতে নারাজ পয়েন্টে খেলছেন। একটা সহজ বাছাই করতেই হবে হামাসকে। হয় আত্মসমর্পণ করতে হবে নাহলে শেষ হয়ে যেতে হবে। মুক্তি দিতে হবে পণবন্দীদের। এছাড়া আর কোনও অপশন নেই। জয় না আসা পর্যন্ত ইসরাইল লড়বে। একদম স্ট্রেটকাট কথা নেতানিয়াহুর। বোঝাই যাচ্ছে পুরো বিষয়টার শেষ দেখে ছাড়বেন নেতানিয়াহু। মনে করিয়ে দিই, কয়েকদিন আগেও একটা যুদ্ধবিরতি হয়েছিল হামাস এবং ইসরায়েল মধ্যে। কিন্তু এবার চেনা ছকের বাইরে হাঁটতে চাইছে ইসরাইল। দেখতে দেখতে আড়াই মাস পেরিয়ে গেছে। ইজরায়েল-হামাস সংঘর্ষ থামার কোনও লক্ষণই নেই। এই পরিস্থিতিতে হামাসের সাঙ্ঘাতিক শর্ত সামনে এসেছে।

    দুটো শর্ত, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের অবসান ঘটাতে হবে। মোদ্দা কথা, হামাস সাময়িক বিরতির সঙ্গে আর একমত নয়। তারা শুধু স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। তাছাড়া প্যালেস্টাইনি মানুষদের জন্য মানবিক ত্রাণের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এই দুই শর্ত মানা না হলে তারা নতুন করে আর কোনো পণবন্দী মুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছুক না। কিন্তু হোয়াইট হাউস ও আশা নিয়ে বসে আছে। গোটা বিশ্ব চাইছে যুদ্ধ বন্ধ হোক। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে কার্যত ঠান্ডা করে দিচ্ছে। যুদ্ধের এফেক্ট পড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন সেক্টরে। মানুষের সমস্যা বাড়তে শুরু করেছে যুদ্ধের কারণে। কিন্তু তারপরেও নেতানিয়াহুর ভ্রুক্ষেপ নেই। ইসরাইল নিজের ফর্মে রয়েছে যা আগামী দিনে শুধু গাজা নয়, গোটা পৃথিবীর জন্য মারাত্মক টেনশনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Exit mobile version