Tamil Nadu flood: বিরাম নেই বৃষ্টির। তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলায় লাগাতার বৃষ্টিতে নাজেহাল অবস্থা এলাকাবাসীর। তামিলনাড়ুর দক্ষিণের চার জেলা তিরুনেলভেলি, তুতিকোরিন, তেনকাশি এবং কন্যাকুমারীতে চলছে অবিরাম বৃষ্টি। একাধিক বাঁধ থেকে জল ছাড়ার ফলে নতুন করে জলের তলায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল। দুর্যোগের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে মৃত্যুর খবর মিলেছে। মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের এমনটাই জানা যাচ্ছে। চলছে উদ্ধারকাজ। বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে করে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ত্রাণ।
রাজ্যের বহু এলাকায় বন্যার জেরে পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। একাধিক জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। কৃষিক্ষেত জলের তলায় চলে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা। ওই এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন দুর্যোগে ত্রাণ বণ্টন ব্যবস্থায় নজরদারি করার জন্য বেশ কিছু মন্ত্রী এবং আমলাকে পাঠিয়েছেন। উদ্ধারকাজের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে ৫০ সদস্যের দু’টি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলী বাহিনীর দল। তাদের প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছেন উপদ্রুত এলাকাগুলিতে ত্রাণ কেন্দ্র এবং নৌকা প্রস্তুত রাখার। এই দুর্যোগের মধ্যে সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মৎস্যজীবীদের।
গত ৩ এবং ৪ ডিসেম্বর তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্র উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’। তারপর কেটে গিয়েছে দুই সপ্তাহ। মিগজাউমে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে ফিরে এসেছে স্বাভাবিক জনজীবন। এবার বন্যার কবলে পড়ল দক্ষিণের জেলাগুলি । এককথায় ঘূর্ণিঝড় মিগজাউম বিদায় নিলেও, বৃষ্টি ছাড়ছে না তামিলনাড়ুকে।
China: পৃথিবীর সব জল শুষে নিতে এটা কি নামাচ্ছে চীন? সমুদ্রের নীচের স্পঞ্জ শুষে নেবে বন্যার জল? চীনের ভয়ংকর টেকনোলজি, বাংলাদেশও কি এই পথেই হাঁটছে? দেখেছেন তো এই প্রাণীগুলোকে? এগুলো দিয়েই তৈরি হচ্ছে মাটির নিচের “স্পঞ্জ সিটি”? সুড়ঙ্গই ভরসা? এক লহমায় বদলে যাবে চীনের জীবন, দেশ নয়, নদীর গতিপথ ও বদলে দেবেন শি জিং পিং। টাকার খেল দেখবে গোটা পৃথিবী। জলের সঙ্গে লড়াই নয়। এবার কাঁটা দিয়েই কাঁটা তুলবে চীন। রেকর্ড বৃষ্টি, বন্যার ভয়ঙ্কর রুপ, ভূমিধস, চীন থেকে মুছে যাবে প্রকৃতির অভিশাপ। এবার বন্যা কন্ট্রোলে মাস্টারপ্ল্যান নামাচ্ছে চীন। সমাধানের নাম “স্পঞ্জ সিটি”। স্পঞ্জ সিটি হলো এমন এক ব্যবস্থা যেখানে শহরগুলো বন্যার জলকে স্পঞ্জের মতো শুষে নিতে পারে।বন্যার জলের স্রোতের গতি কমিয়ে আনতে পারে।
আজকাল বন্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয় পাইপ বসিয়ে, ড্রেন তৈরি করে বন্যার জলকে যত দ্রুত সম্ভব পার করে দেওয়ার। অথবা নদীর দুই কূলে কংক্রিট দিয়ে বাঁধাই করা হয়, যাতে বন্যার জল উপচে না পড়ে। কিন্তু স্পঞ্জ সিটিতে এর উল্টো কাজ করা হয়। কাজটা হয় মূলত তিন ভাগে। প্রথমত, স্পঞ্জের মধ্যে যেমন অনেক ছোট ছোট গর্ত দিয়ে জল শুষে নেওয়া হয়, এক্ষেত্রে তেমনভাবেই শহরের মধ্যে অনেক জলাশয় তৈরি করে বন্যার জল ধারণ করা হয়।bদ্বিতীয় কাজটি হলো জলের ধারা নিয়ন্ত্রণ। বন্যার জলকে লম্বালম্বি লাইন ধরে সরিয়ে না নিয়ে আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে জলকে প্রবাহিত হতে দেওয়া এবং গাছপালা, লতাগুল্ম দিয়ে জলের গতি কমিয়ে আনা। এর বাড়তি সুবিধে হলো, শহরের মধ্যে অনেক খোলা জায়গা তৈরি হবে, তৈরি হবে পার্ক, বন্য প্রাণীর বসবাসের জায়গা। জলজ লতাগুল্ম বন্যার জলের দূষণ কাটাতেও সাহায্য করবে। আর তৃতীয়টি হলো বন্যার জলের প্রস্থানের জায়গা, যেন জল নদী, লেক কিংবা সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। মোদ্দা কথা, আমরা প্রকৃতির অংশ। আর সেই প্রকৃতির কাছাকাছি ফিরে যাওয়ার পথ খুঁজে পেতে হবে আমাদের।
চীনের বন্যা পরিস্থিতির কথা কে না জানে? চীনা গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে বন্যায় বার্ষিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ শহর প্লাবনভূমিতে অবস্থিত যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মোকাবিলা করার জন্য কোনো না কোনো সমাধান দরকার ছিলই যে সমাধান সূত্র সামনে আনেন চীনের সবচেয়ে খ্যাতনামা নগর পরিকল্পনাবিদদের একজন ইউ কংজিয়ান। চীনের মেগাপ্রজেক্ট স্পঞ্জ সিটির জনক ২০১৫ সালের দিকে স্পঞ্জ সিটির ধারণাটি আমলে নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয় চীন সরকার। যেখানে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের সব মিউনিসপ্যাল এলাকার শতকরা ৮০ ভাগে স্পঞ্জ সিটি ধারণা অ্যাপ্লাই করতে হবে। বৃষ্টির জলের ৭০ শতাংশ পূনর্ব্যবহার করতে হবে। স্পঞ্জ সিটি যে কাজে দিচ্ছে তার প্রমাণ দেশটার অন্যান্য জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে। চীনের একটি বন্যাপ্রবণ শহর উহান। এটি ইয়াংসি নদী-তীরবর্তী শহর। স্পঞ্জ সিটির পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে শহরটিকে বেছে নেওয়া হয়। গত বছরের ৫ থেকে ৬ জুলাই উহানে রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টি থেকে সৃষ্ট বন্যার জল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরে যেতে শুরু হয়।
এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন খুব স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে ঝড়-বন্যা যেসব দেশে বেশি সেখানে কি স্পঞ্জ সিটি বিশেষ কোন কাজে লাগবে? কোন কোন বিশেষজ্ঞের মতামত তেমন কাজে আসে না যেসব জায়গায় হালকা বৃষ্টিপাত বা বন্যা হয় সেখানে স্পঞ্জসিটির ধারণা কার্যকর বেশি হয়। আরেকটা বড় প্রশ্ন হলো, অন্য কোনো দেশে কি স্পঞ্জ সিটি তৈরি করা যাবে? বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী স্পঞ্জ সিটির জনক ইউ কংজিয়ান বলছেন, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো বন্য-প্রবণ দেশে এটা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর এবং রাশিয়ায় একই ধরনের প্রকল্পের বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে তবে স্পঞ্জ সিটির সাফল্য বেশি দেখা যাচ্ছে চীনে। কারণ চীন সরকারের ভাণ্ডারে অঢেল অর্থ। ফলে চীনের পথে হেঁটে স্পঞ্জসিটি বানিয়ে মারাত্মক সব বন্যা থেকে রক্ষা পাওয়াই যায়। যে স্পঞ্জসিটির মূল মন্ত্র বন্যার জলে কেউ প্রাণ হারাবে না। এমনকি বর্ষার মৌসুমেও। এজন্য শুধু আমাদের শিখতে হবে কীভাবে জলের সাথে সন্ধি করে বেঁচে থাকতে হয়। বন্যা এলে তার সাথে খাপ খাওয়ানো শিখতে হবে।
সিকিমের লোনক হ্রদে ৩০ বছর ধরে কী জমে ছিল? ১০ তলার বাড়ির সমান গভীর লোনক হ্রদ আসলেই ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল আগেই তারপরও কি ঘটে গেল? আর কি কোনওদিনও নর্থ সিকিম যাওয়া সম্ভব?
সিকিমের রাস্তা কি এবার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল? বিপজ্জনক হ্রদের তালিকায় ছিল দক্ষিণ লোনক কেন জানেন? এই হ্রদে এমন কী আছে যা ভাসিয়ে দিতে পারে গোটা সিকিম রাজ্যটাকেই?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন আসলে এই হ্রদ আর টাইম বোমার মধ্যে বিশেষ পার্থর্ক্য নেই। লোনক হ্রদ ফেটে সিকিমে যে দুর্যোগ নেমে এসেছে তার নেপথ্যে ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ (GLOF) রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেটা আবার কি ভাবছেন তো? এর মানে হিমবাহ গলতে থাকায় হ্রদে বিপজ্জনক ভাবে জলের পরিমাণ বাড়তে থাকে। ফলে হ্রদের দেওয়ালে ক্রমশ চাপ বাড়তে থাকে, সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে হ্রদ ফেটে যায় কিন্তু এমনটা যে হতে পারে সেটা বারবার জানানো হয়েছিল আগাম সতর্কতাও দেওয়া হয়েছিল বিভিন্নভাবে। জিএলওএফ হয় তখনই যখন হিমবাহ গলা জল জমে সৃষ্ট হ্রদগুলি। অতিরিক্ত জল জমার কারণে বা ভূমিকম্পের মতো কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ফেটে যায়।
একটু বিস্তারিতভাবে বললে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট এই সংস্থাটি উপগ্রহচিত্রের মাধ্যমে পুরো সিকিমে ৩২০টি হিমবাহ হ্রদের সন্ধান পেয়েছে। যেগুলির মধ্যে ১৪টি বিপজ্জনক বলে জানিয়েছিল তারা। আর সেই বিপজ্জনক হ্রদের তালিকায় ছিল দক্ষিণ লোনক হ্রদও। লোনক হ্রদ লোনক হিমবাহ সৃষ্ট। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৭,১০০ ফুট উপরে লোনক হিমবাহটি রয়েছে। ২৬০ ফুট গভীর, প্রায় ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য আধ কিলোমিটার চওড়া এই হিমবাহটি লোনক হ্রদও ১৬৮ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এই হ্রদের আয়তন এবং গভীরতা দ্রুত বাড়ছিল যা রীতিমত চিন্তা ধরিয়ে দেয় বিজ্ঞানীদের। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোও জারি করেছিল সাবধানবাণী। বিশেষজ্ঞদের একাংশ এটাও বলছেন হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ হলেও এতে জল বেশি ছিল না কিন্তু গত পাঁচ দশকে এই হ্রদের গভীরতা দ্রুত বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে জলস্তরও।
বর্তমানে এই হ্রদের গভীরতা ১০ তলা বাড়ির সমান, দৈর্ঘ্যে আড়াই কিলোমিটার এবং প্রস্থে ৬০০ মিটার। হ্রদের এই দ্রুত পরিবর্তনে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন মেঘভাঙা বৃষ্টি হলে মহাবিপদ নেমে আসবে সিকিমে। একেবারে অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল সেই কথা যারা এখন নর্থ সিকিমে আটকে পড়েছেন সেসব পর্যটকেরা জানেনই না কীভাবে তারা ফিরবেন। চুংথাংয়ের অবস্থা মারাত্মক খারাপ। এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী লাচেন, লাচুং এবং চুংথাং এলাকা থেকে ১,৪৭১ জন পর্যটককে উদ্ধার করেছে জানা যাচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে উত্তর সিকিমে আটকে থাকা বেসামরিক নাগরিক ও পর্যটকদের। সিকিম আবার কবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে এই উত্তর কেউ জানে না।
সিকিম বিপর্যয়ের নেপথ্যে নেপাল চাঞ্চল্যকর তথ্য কেন লোনাক হ্রদের ফাটল ধরল? আসল কারণ ফাঁস, সিকিমে নিখোঁজের সংখ্যা রীতিমত আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। নেপাল কি কিছু লুকিয়েছিল ভারতের থেকে? ৫৪ মিনিটে চার বার ভূমিকম্প হয় নেপালে। নেপালের পরিস্থিতিই কি ভারতের সিকিমে ডেকে আনল এমন বিপর্যয়? এই একটা প্রশ্নতেই আটকে যাচ্ছে ভারতের বিজ্ঞানীরা। নেপাল কি চাইলে সাবধান করতে পারত উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোকে? নাকি যা ঘটে গেল তা ঘটতে পারে এমন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। সত্যিই কী মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতেই ফেটে গেল লোনাক হ্রদ?
উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ কাজের পাশাপাশিই বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। আর তাতেই উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তত্ত্ব। একাংশের বিজ্ঞানীরা বলছেন সিকিমের এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে থাকতে পারে নেপালের ভূমিকম্প। কবে হয়েছিল নেপালে ভূমিকম্প? তাতে সিকিমের ক্ষতি কীভাবে? অনেকেই জানেন সিকিমের ২৯ মাইল এলাকার কাছে বড়সড় ধস নামে ধসের জেরে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক (সাবেক ৩১এ জাতীয় সড়ক) এখন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সিকিমে এখন আটকে পড়েছেন পর্যটকেরা। তাদেরকে এয়ারলিফট করে বের করার কাজ চলছে। কারণ যেহেতু সিকিমের জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ। এর ফলে ফেরার পথও আপাতত অবরুদ্ধ রয়েছে।
এবার আসি নেপালের কথায়৷ ৩ অক্টোবর নেপালে ভূমিকম্প অনুভূত নয়। একবার নয় একঘন্টায় প্রায় ৪ বার। ভূমিকম্পটির উৎসস্ছিথল ভজহাং। পরপর ভূমিকম্পে নেপালে ক্ষতিগ্রস্ত বহু বাড়ি। ইসরোর স্যাটালাইট চিত্র থেকে তথ্য মিলিয়ে দক্ষিণ লোনাক হ্রদের আয়তন ১০০ হেক্টরেরও বেশি কমেছে। এই গায়েব হয়ে যাওয়া ১০০ হেক্টর জলই তিস্তা নদীর অববাহিকায় আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত করে। প্রাথমিকভাবে ভিলেন মনে করা হচ্ছে মেঘ ভাঙা বৃষ্টিকেই। যেমনটা ঘটেছিল ২০১৩ সালে কেদারনাথের বন্যার সময়। তবে সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের মতে সম্ভবত এমনটা ঘটেনি। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে কমিশনের এক আধিকারিক বলেছেন নিশ্চিত করে বলা কঠিন কিন্তু মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে এমন ঘটে না।
ওই আধইকারিক এর আগে দক্ষিণ লোনাক হ্রদ নিয়ে কাজ করেছেন। হ্রদটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন। তিনি সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের মতে হ্রদটির ফেটে যাওয়ার পিছনে নেপালের ভূমিকম্পের হাত থাকতে পারে। নেপালে হওয়া সবথেকে জোরালো ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.২। যা অনুভব করা গিয়েছিল উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকেও। এই ভূমিকম্প সিকিমে আকস্মিক বন্যার কারণ হতে পারে। এমনটা মনে করছেন ওয়াটার কমিশনের বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি আগে থেকেই হ্রদটি দুর্বল অবস্থায় ছিল। যে কোনও সময় ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। ফলে ভূমিকম্পের ফলে হ্রদটি ফেটে যাওয়া অস্বাভাবিক কোনও ঘটনা নয়।
বাঁকুড়ায় চিন্তা বাড়াচ্ছে দারকেশ্বর নদ। নদী ভেসে নিয়ে যাচ্ছে সব। ডিভিসি-এর জলে ভেসে গেল বাঁকুড়ার বিঘার পর বিঘা চাষের জমি। এই ক্ষতি কীভাবে সামলে উঠবেন তা বুঝতে পারছেন না কৃষকরা। বাজারে আনাজের দামে আগুন। আরেকটু বৃষ্টি হলে কোন সর্বনাশ হতে পারে বাঁকুড়াবাসীর? নদীতে সারাবছর হাঁটুজল থাকে, তাকে এখন চেনা দায়। জলের শব্দে দিশেহারা মানুষজন। এদিকে টানা বৃষ্টি চলছে। আর সেই বৃষ্টির কারণেই দারকেশ্বর নদ যেন ফুঁসছে। জলস্তর বেড়ে যাওয়ার কারণে ডুবে গেছে একাধিক সেতু।ডিভিসি আরও জল ছাড়লে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হবে?
দ্বারকেশ্বর নদ রীতিমতো বিধ্বংসী চেহারা নিয়েছে নদীতে প্রায় পাঁচ ফুট উচ্চতা বেড়েছে জলের প্রশাসনের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ এই নদ। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চাষ করেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে বাঁধে জলের পরিমাণ বিপুলভাবে বেড়ে যাওয়ায় ডিভিসি গত কদিন ধরে লাগাতার জল ছেড়ে চলেছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে বাঁকুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায়। কৃষকদের চাষের জমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিঘার পর বিঘা সবজি ও ধান জমি চলে গেছে জলের তলায়। বিপুল ক্ষতির মুখে এখানকার কৃষকরা। গরমে বাঁকুড়ায় চাষবাসের ক্ষেত্রে প্রবল সমস্যা দেখা দেয় তখনও ক্ষতির মুখ দেখতে হয় কৃষকদের। এবার পুজোর আগেই অসময়ের ভারী বর্ষণে আবার মাথায় হাত পড়ল।
যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। বাঁকুড়া জেলার বাজারগুলিতে আগুন দাম বাজারে ১০০ টাকা কেজি শসা, ২০০ টাকা কেজি লঙ্কা, ৮০ টাকা কেজি ফুলকপি। পুজোর আগে যে লাভের আশা তারা করেছিলেন তা আর হলনা। কমপক্ষে ৩০টি গ্রামের মানুষ চূড়ান্ত সমস্যায় পড়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল থেকে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ছাড়া জলের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনায় জেলার সোনামুখী, ইন্দাস ও পাত্রসায়ের ব্লকের নিচু এলাকাগুলিতে বন্যার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেই আশঙ্কা আপাতত কেটেছে বলে জানিয়েছে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। তবে বৃষ্টি আরো হলে কি পরিস্থিতি হবে সেই নিয়ে চিন্তা রয়ে যাচ্ছে।
ফুঁসছে তিস্তা। তছনছ হয়ে যাচ্ছে চারিদিক। বন্যার আশঙ্কায় কাঁপছে বাংলাদেশ। এই বুঝি সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেল। এক যুগ কেটে গেলেও শত আলাপ আলোচনা সব ব্যর্থ। সমাধান হয়নি তিস্তা চুক্তির। আর ফল ভুগছে তিস্তা পাড়ের সাধারণ মানুষ। ভারত নিরুপায় হয়ে ছাড়ছে হাজার হাজার কিউসেক জল। এবছর যেন সব লিমিট ক্রস করল। নজিরবিহীন ভাবে ছাড়া হচ্ছে জল। রেহাই পাবে না বাংলাদেশ। ক্ষতি হবে ডাবল ডাবল। ভীষণ খারাপ অবস্থায় মৌসুমী বায়ু। সাবধান হন এখনই।
একদিকে মেঘ ভাঙা বৃষ্টি, অপরদিকে হরপা বান। তছনছ হয়ে যাচ্ছে ভারতের সিকিম। তার এফেক্ট সরাসরি গিয়ে পড়ছে বাংলাদেশে। ফুঁসছে তিস্তা, আর ভয় ধরছে দুই বাংলার । ইতিমধ্যেই ভারতে ডুবেছে বহু এলাকা। জলের তলায় জাতীয় সড়ক। মারা যাচ্ছে মানুষ। উত্তরবঙ্গেও বন্যার তীব্র আশঙ্কা। নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। বারংবার মাইকিং চালিয়ে তিস্তা পাড়ের মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। এক কথায়, তিস্তার জলে ডুবছে ভারতের বহু অঞ্চল আর তার থেকে বাঁচতে হু হু করে জল ছাড়া হচ্ছে ডিভিসি থেকে।
এ কথা তো সবাই জানে। তিস্তা ব্যারাজের জল ছাড়া মানেই সেই জল গিয়ে বানভাসি ঘটাবে বাংলাদেশে। তার উপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ড্যাম ভেঙে যাওয়ায় দুকুল ছাপিয়ে পরিস্থিতি আরো বেসামাল। এখানে ভারতও অসহায়। কোনো দেশই চায় না প্রতিবেশী দেশের মারাত্মক ক্ষতি হোক। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই। প্রকৃতির কাছে সবাই ক্ষুদ্র।
এমত অবস্থায়, বাংলাদেশে আবার মরার উপর খাঁড়ার ঘা। দেশটার আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে ভিজবে রংপুর রাজশাহী ঢাকা ময়মনসিংহ খুলনা বরিশাল চট্টগ্রাম সিলেট বিভাগের বহু জায়গা। আবহাওয়ার বারংবার উলটপালটের কারণ একটাই। লঘুচাপ। লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের উপর ভীষণ সক্রিয় মৌসুমী বায়ু। প্রবল অবস্থায় রয়েছে উত্তর বঙ্গোপসাগরে।
এই মুহূর্তে জল যদি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাও বাংলাদেশের রংপুর লালমনিরহাট জেলা সহ উত্তর অঞ্চল অতিক্রম করে প্লাবিত হবে নিম্নাঞ্চল। বাংলাদেশের তিস্তা পাড়ের মানুষ ইতিমধ্যেই আতঙ্কিত। অনেকেই সতর্ক হয়ে নিজেদের মালামালসহ গবাদি পশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। চলছে সর্বক্ষণ মনিটরিং।
পরিস্থিতি এতটা খারাপ হত না। আসলে কয়েক দিনে পর পর ভারি বৃষ্টি, তার উপর সিকিমের তিস্তা নদীতে হঠাৎ বন্যা দেখা দিয়েছে। সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তিস্তা নদী প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। জলের চাপ সামলাতে দফায় দফায় ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বন্যা পরিস্থিতিতে এভাবে জল ছাড়ার ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু বিগত বছরের তুলনায় এ বছরটা যেন নজিরবিহীন। যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গাজলডোবা, দোমোহনী, মেখলিগঞ্জ, সহ বাংলাদেশের নিচু এলাকাগুলো।
খুব বেশি দিন হয়নি বাংলাদেশ সবে একটু বন্যা সামলে উঠেছে। ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টি হলেই তিস্তার জল ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাংলাদেশের নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুরের নিম্নাঞ্চল। বেশি বৃষ্টিপাত হলে, ফুঁসতে থাকে তিস্তা সহ ধরলা, দুধকুমার, বহ্মপুত্র । তাই তীব্র উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রংপুরের গঙ্গাছড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষ।
সোজা কথায়, যতদিন না তিস্তার জলের সুষ্ঠু সমাধান হচ্ছে ততদিনই এমন হবে। ভুগবে দুই দেশেরই মানুষ। সম্প্রতি ভারতের তরফ থেকেও তিস্তা চুক্তি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু তা এখনো ফলপ্রসূ হয়নি। রয়েছে আলাপ আলোচনা স্তরে। এই মুহূর্তে সুষ্ঠু পরিকল্পনা আর চুক্তি ছাড়া কোন পথ নেই। বর্ষার এই কটা দিন একটু সাবধান। সতর্ক থাকুন। নিরাপদে থাকুন।
Weather Update: জলে ভাসছে হাওড়া! বৃষ্টির সাথে ডিভিসির ছাড়া জলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে চলেছে? বাঁধ উপচে উদয়নারায়ণপুরে হু হু করে ঢুকছে জল। গ্রামের পর গ্রাম ভেসে যাচ্ছে আরেকটু বৃষ্টি হলেই এবার কি পার্শ্ববর্তী কলকাতা ডুববে? বৃষ্টি আর কতদিন চলবে! কী বলছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর? ডিভিসি থেকে জল ছাড়ায় বন্যার আশঙ্কা কলকাতার পার্শ্ববর্তী জেলায়। আমতা এবং উদয়নারায়ণপুরের পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। দফায় দফায় বৃষ্টিতে মুণ্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ এবং দামোদরের জলস্তর বাড়ছে।
কোথাও ভেসে যাচ্ছে বাড়ি কোথাও হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ছে। কিন্তু হাওড়ার পরিস্থিতি চিন্তা বাড়াচ্ছে প্রশাসনের। মুণ্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ এবং দামোদরের জলস্তর বাড়ছে তার মধ্যে মঙ্গলবার সকালেই ডিভিসি থেকে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এর ফলে নদীর ধারে বেশ কিছু নিচু কৃষিজমি জলে ভেসে গিয়েছে। দামোদর নদের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় উদয়নারায়ণপুরের হরালি, দাসপুর, সীতাপুর, সুলতানপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জল ঢুকছে। উদয়নারায়ণপুরের কুরচি ও টোকাপাড়া এলাকায় দামোদরের বাঁধ উপছে জলমগ্ন প্রায় ৮ টি গ্রাম। উদয়নারায়ণপুর ডিহিভুরসুট রাজ্য সড়কের উপর দিয়ে বইছে জল হাওড়ার ঠিক পার্শ্ববর্তী কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনার কী পরিস্থিতি?
মঙ্গলবার রাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপের জেরে এই বৃষ্টি যা বৃহস্পতিবার অবধি চলবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীগুলোর জলস্তর এর ফলে কলকাতার নিচু এলাকা গুলো জল জমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার থেকে দফায় দফায় ডিভিসির জল ছাড়ার ফলে নদীতে জলের চাপ বেড়েছে, বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে নদীগুলি। এদিকে ডিভিসি টানা জল ছাড়তে থাকায় চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। বিপদ বেড়েছে নদীর পাড়ে বসবাসকারীদের। এর মধ্যে আবারও কি ভারী বৃষ্টি হতে পারে? কী বলছে হাওয়া অফিস?
এই মুহূর্তে ঝড় বৃষ্টির কমার সম্ভাবনা নেই দক্ষিণবঙ্গে দক্ষিণের বেশ কিছু জেলা যেমন উত্তর ২৪ পরগনা , দক্ষিণ ২৪ পরগনা , নদিয়া , পূর্ব বর্ধমান , পশ্চিম বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে বাঁকুড়া ষ, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরে জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। পরিস্থিতির দিকে ক্রমাগত নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। আরো বৃষ্টি হলে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের কপালে বড় ভোগান্তি অপেক্ষা করছে। চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে নিচু এলাকার মানুষদের।
একদিকে হু হু করে জল ছাড়ছে ডিভিসি! অন্যদিকে ভারী বর্ষণ ৭ জেলায়! তবে কি পুজোর আগে বানভাসি হতে পারে রাজ্যের একাংশ? জরুরী বৈঠক নবান্নে! কি কি সতর্কতা জারি করা হলো? লাগাতার বৃষ্টি! বাংলার সঙ্গে সঙ্গে ঝাড়খন্ডেও গত কয়েকদিনে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে।আর যার ফলে রীতিমত ফুঁসছে একাধিক নদী।ভারী বৃষ্টিতে দামোদরের জল বাড়ায় মাইথন, পাঞ্চেত, এবং দুর্গাপুর ব্যারেজে বাড়ছে জলের চাপ। সেই জলের চাপ কমাতেই দফায় দফায় ছাড়া হচ্ছে জল।আবার ঝাড়খণ্ডে এবং বঙ্গে ভারী বৃষ্টির জেরে জল বাড়ছে অজয়, দামোদর সহ একাধিক নদীতে। যার জেরে হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, বীরভূম দুই বর্ধমান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে প্লাবনের আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই জল ঢুকেছে চাষের জমিতে।
সোমবার মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়। মাইথন থেকে ছাড়া হয় ৫৫ হাজার কিউসেক এবং পাঞ্চেত থেকে ছাড়া হয় ৭৫ হাজার কিউসেক জল। অন্যদিকে,দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ছাড়া হয়েছে মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৭৫ কিউসেক জল। ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকলেন মুখ্যসচিব। রাজ্যের ৭ জেলায় পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলাশাসক, পুলিশ সুপারদের নিয়ে সোমবার ছুটির দিনে জরুরি বৈঠক হলো নবান্নে। ইতিমধ্যেই ডিভিসি সংলগ্ন জেলাগুলিতে সর্তকতা জারি করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
টানা বৃষ্টিতে দারকেশ্বর নদে ডুবে গেছে বাঁকুড়ার একাধিক সেতু। পারাপার বন্ধ মীনাপুর ও ভাদুল সেতুতে। এছাড়াও চাষের ক্ষতি হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়। বাঁকুড়ার সোনামুখী পাত্রসায়ের ব্লকে, দামোদরের তীরবর্তী গ্রামগুলিতে ইতিমধ্যেই সতর্কতামূলক প্রচার শুরু হয়েছে। গ্রামে ঘুরে ঘুরে পঞ্চায়েতগুলির পক্ষ থেকে করা হচ্ছে মাইকিং।
অবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এখনই বৃষ্টি কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। আগামী বুধবার পর্যন্ত এভাবেই একনাগাড়ে বৃষ্টি হতে পারে বিভিন্ন জেলায়। তাই আগে থেকেই সতর্ক হচ্ছে ডিভিসি। বিভিন্ন ড্যামে জমা রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জল। যদি টানা আর কিছুদিন বৃষ্টি হয়, তাহলে বাধ্য হয়ে আরও বেশি জল ছাড়তে হবে ডিভিসিকে। এদিকে দামোদরের জল ছাড়ায় রাজ্যের নিম্ন অববাহিকা অঞ্চল, বিশেষত হাওড়া ও হুগলির মতো জেলাগুলিতে যেন তার কোনও প্রভাব না পড়ে, সেই দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
Weather Update: তলিয়ে যাচ্ছে বাংলা? ভয়ংকর বন্যায় ভাসছে কোন কোন জেলা? ৭ জেলায় বন্যা সতর্কতা জারি। দক্ষিণবঙ্গের রিস্ক বাড়ছে। বিপদ বাড়াচ্ছে ডিভিসির জল। জীবন বাঁচাতে এত এত মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ৩ থেকে ৫, বাংলার কপালে কোন ফাড়া? পূজোর মুখে এ কোন সর্বনাশ? উদ্বেগ উৎকণ্ঠার প্রতিটা মুহূর্ত কাটাচ্ছে বাংলার মানুষ। নিম্নচাপের একটানা বৃষ্টিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছে দক্ষিণবঙ্গ। পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি এবং হাওড়া ৭ জেলায় বন্যা সতর্কতা জারি করল নবান্ন। প্যালপিটিশন বাড়ছে।নিম্নচাপের এফেক্টে ঝাড়খণ্ডে এক টানা ভারী বৃষ্টি। আর তাতেই বানভাসি অবস্থা এরাজ্যের ৭ জেলার।
এক টানা বৃষ্টিতে জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। দুর্যোগের সঙ্গে ডিভিসির ছাড়া জলে বন্যার আশঙ্কা বাড়ছে। নির্দিষ্ট বহন ক্ষমতা পেরিয়ে গেলেই জল ছাড়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে মোট দেড় লক্ষ কিউসেক জল ছাড়বে ডিভিসি। এখানেই বিপদ। হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়ার একাংশে হলুদ সতর্কতা জারি। দেড় লক্ষ কিউসেকের বেশি জল ছাড়া হলে ওই চার জেলায় লাল সতর্কতা জারি করার কথা। নীচু এলাকা থেকে এতো এতো মানুষকে সরানোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন নিম্নচাপটার অবস্থান কোথায়? পরিস্থিতি কতটা ঘোরতর?
আবহাওয়া দফতর বলছে, নিম্নচাপ এখনও ঝাড়খণ্ডেই রয়েছে। তার গতি খুবই ধীর। সহজে ভাঙবে না, দুর্বল হবেৎনা এই ভারী নিম্নচাপ। বরং বাড়বে বৃষ্টি আর গোঁদের উপর বিষফোঁড়া। ইন্ডিয়ান মেটেরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের পূর্বাভাস ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত একটানা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। ড্যাম উপছে পড়ার আশঙ্কা। চিন্তার ভাঁজ বাংলার কপালে। আরও অন্তত ৩-৪ দিন প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা। বুধবার বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। সেদিন ৯ জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস কিন্তু, কবে থামবে বৃষ্টি থামবে? না, আপাতত আশার কোনও খবর নেই। তবে কি পুজোর আগেই বন্যা? বর্ষার শেষে এরকম ভারী বৃষ্টি কতটা রিস্কের?
আবহাওয়াবিদরা মতে, বর্ষার শেষে যদি ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়, তাহলে সেটা খারাপ ইঙ্গিত। কারণ নদীগুলোতে এ সময় জল বেশিই থাকে, তারওপর ভারী বৃষ্টির জল। এদিকে নিম্নচাপ ও দুর্বল হচ্ছে না, সরছেও না। আন্দাজ করতে পারছেন কোন বিপদ ঘটতে যাচ্ছে?না, ভয় পাবেন না। অলরেডি বিপর্যয় মোকাবিলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। সাবধানে থাকুন, সতর্ক থাকুন।
প্রায় বুক সমান জল বিষাক্ত সাপ এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। গত ৬ দিন ধরে এভাবেই জলে ডুবে রয়েছে বাংলার এই গ্রাম। যা দেখলে আপনার পুকুর মনে হতেই পারে। বন্যার জলে বাড়িঘর সব ডুবে গেছে পেটে খিদের জ্বালা। ঘরে নেই পর্যাপ্ত খাবার! পানীয় জলের কষ্ট কীভাবে জলের মধ্যে এই অভাবী মানুষগুলোর দিন কাটছে জানুন। কোথাও হাঁটু জল, তো কোথাও আবার বুক সমান। যে দিকেই চোখ যায় শুধু জল আর জল।
দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়। বৃষ্টি কমলেও বৃষ্টির জমা জল গ্রাম থেকে এখনও বের হয়নি। টানা বৃষ্টির জমা জলে প্রতি দিন আতঙ্কে কাটাতে হচ্ছে ওই এলাকার মানুষকে। জল নামার কোনও লক্ষণ নেই। কেউ স্থানীয় স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন তো কারোর আবার এই জলেই দিন কাটছে। পানীয় জলেরও হাহাকার স্থানীয় প্রশাসন পানীয় জলের ব্যবস্থা করলেও তা অনেক দূরে। বড় রাস্তা থেকে জল নিতে গেলে বুক সমান জল পার হতে হচ্ছে। রীতিমত দিশাহারা গ্রাম বাসিন্দারা।
উত্তরবঙ্গের প্রায় সর্বত্র প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। ফল উত্তরবঙ্গের নদীগুলি কম-বেশি সব কটিই প্রায় ফুঁসছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রধান তিন নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সহজে রাস্তাঘাট থেকে জল নামছে না। টাঙ্গন নদীর জল বিপদ সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। জেলার অপর দুই নদী পুনর্ভবা ও আত্রেয়ীর জলস্তরও অনেকটাই বেশি তাতেই বেশ কিছু এলাকায় জল রয়ে গিয়েছে। গ্রামবাসীরা একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন কিন্তু সেই স্কুলের মেঝেতেও জল।
বর্ষার ছুটির ঘণ্ট বেজে গিয়েছে। তবে এরই মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে জেলায় জেলায়। আর তাতেই দক্ষিণ দিনাজপুরের কপালে বড় ভোগান্তি। জল নেমে যাবে আর কদিন বাদে। কিন্তু এই মানুষগুলোর জীবনে দেখা অন্ধকার দিনগুলো রয়ে যাবে।সেই কষ্টকে বুকে আঁকড়ে ধরেই সারা জীবন বেঁচে থাকবে বংশীহারী ব্লকের মানুষরা।