Trump Iran Nuclear Deal:মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের উত্তাপ বাড়ছে। একের পর এক সামরিক হামলা, পাল্টা হামলা, কূটনৈতিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। প্রশ্ন উঠছে, এই সংঘাত কি শুধুই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তা ধীরে ধীরে গোটা বিশ্বকে আরও বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে?
অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের মতে, বর্তমান উত্তেজনার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত। ২০১৮ সালে তিনি ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নেন। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ত হতে শুরু করে।
কেন ভেঙে দেওয়া হয়েছিল ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি? (Trump Iran Nuclear Deal)
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, ওই চুক্তি ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থনের বিষয়টি ওই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাই আরও কঠোর ও বিস্তৃত নতুন চুক্তির দাবি তোলে আমেরিকা।
চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পর ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন। তেলের রপ্তানি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এর জবাবে ইরানও ধীরে ধীরে চুক্তির একাধিক শর্ত মানা বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার মূল লক্ষ্য কী? (Trump Iran Nuclear Deal)
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার কৌশল শুধু ইরানকে ঘিরে নয়। এর পেছনে আরও কয়েকটি বড় ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে।
প্রথমত, আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইজরায়েলের সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক করা।
দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব কমিয়ে আমেরিকার প্রভাব বজায় রাখা।
তৃতীয়ত, বিশ্বের তেলের বাজার এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নিজের কৌশলগত অবস্থান অটুট রাখা।
এই কারণেই শুধু সামরিক অভিযান নয়, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ এবং বাণিজ্যিক নীতিকেও একসঙ্গে ব্যবহার করছে আমেরিকা।
যুদ্ধ কি আরও বড় আকার নিতে পারে?
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকা ও ইরান উভয় পক্ষই সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। ইরানের ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলিও বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকাও মধ্যপ্রাচ্যে নিজের সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করেছে।
তবে এখনও পর্যন্ত উভয় পক্ষের সরকারি অবস্থান থেকে এমন ইঙ্গিত মিলেছে যে তারা পূর্ণাঙ্গ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়াতে চায়। তবুও হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা যত বাড়বে, ভুল সিদ্ধান্ত বা ভুল হিসাবের কারণে বড় সংঘাতের ঝুঁকিও তত বাড়বে।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা কতটা বাস্তব? (Trump Iran Nuclear Deal)
“তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ” শব্দটি প্রায়ই রাজনৈতিক আলোচনা ও সংবাদে উঠে আসে। কিন্তু বাস্তবে কোনও সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধ বলতে হলে বহু শক্তিধর দেশকে সরাসরি বড় পরিসরে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হয়। বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্যই উদ্বেগজনক, তবে এটিকে এখনই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলা যায় না।
তবে যদি এই সংঘাতে ইরান, আমেরিকা, ইসরায়েল ছাড়াও রাশিয়া, চীন বা অন্য বড় শক্তিগুলি সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণেই গোটা বিশ্বের নজর এখন কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই।
ইতিহাস কী বলছে? (Trump Iran Nuclear Deal)
ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া কিংবা লিবিয়ার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, শুধু সামরিক শক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান আনা অত্যন্ত কঠিন। যুদ্ধ অনেক সময় তাৎক্ষণিক সামরিক সাফল্য দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে নতুন অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং মানবিক বিপর্যয় তৈরি করে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—সংঘাত কি আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি আরও বড় আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হবে?
বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক চাপই নির্ধারণ করবে এই সংঘাত সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আরও বড় আকার নেবে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে এখন উদ্বেগের সঙ্গে নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।
