প্রথম কলকাতা : ওড়িশার যুবককে উদ্ধার করল বাংলাদেশ! হারানো স্মৃতির গল্পে চমকে গেল দুই দেশ । দেশজুড়ে যখন SIR (Special Intensive Revision) নিয়ে তুমুল আলোচনা—কেউ চিন্তিত, কেউ আতঙ্কিত—ঠিক সেই সময়েই বাংলাদেশ থেকে ফিরে এল এক অবিশ্বাস্য মানবিক গল্প। স্মৃতি হারিয়ে দশ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ওড়িশার যুবক সুদাম হেমরমকে খুঁজে পেলেন এক বাংলাদেশি সমাজকর্মী! সীমান্তহীন এই উদ্ধারকাহিনি আজ দুই বাংলার মধ্যে মানবতার এক নতুন সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
🔹 কে এই সুদাম হেমরম?
ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার বাসিন্দা, বয়স প্রায় ৪০। এক দশক আগে তিনি হঠাৎই নিখোঁজ হন। পরিবার সব খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। স্মৃতি হারানোয় নিজের পরিচয়, বাড়ির ঠিকানা—সব ভুলে গিয়েছিলেন সুদাম।
🔹 বাংলাদেশে কীভাবে এলেন তিনি?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ওড়িশা ও বাংলাদেশের কোনো সীমান্তই তো নেই! তাহলে কীভাবে তিনি এলেন সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে? দুর্ঘটনা, মানবপাচার, নাকি অন্য কোনও অজানা কারণ—এ নিয়েই এখন চলছে নানা জল্পনা।
🔹 মানবতার হাত বাড়ালেন দুই দেশের মানুষ
বাংলাদেশের সমাজকর্মী মো. আবদুল গনি ফিতু নিজের গ্রামে সুদামকে ঘুরে বেড়াতে দেখে সন্দেহ করেন। তিনি তাকে আশ্রয় দেন, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তোলেন। কথাবার্তার সময় সুদামের মুখে বারবার শোনা যায় “জয় জগন্নাথ!”—এই সূত্রেই আব্দুলের মনে সন্দেহ হয়, তিনি ভারতেরই কেউ।
সন্দেহ নিশ্চিত করতে আব্দুল যোগাযোগ করেন বাংলাদেশ হ্যাম রেডিওর সঙ্গে, যারা দ্রুত যোগাযোগ করে ওয়েস্ট বেঙ্গল ও ওড়িশা হ্যাম রেডিও নেটওয়ার্কের সঙ্গে। সেখানেই মিলল প্রমাণ—হ্যাঁ, তিনি ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার নিখোঁজ ব্যক্তি সুদাম হেমরম।
🔹 উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হলেন ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যরা
ঘটনাটি জানার পর ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল–এর ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বোর্ডের সংগঠক উৎপল রায় তৎপর হয়ে ওঠেন।
তিনি সরাসরি চিঠি লেখেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্ত্রিকে এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনকে। উৎপল রায়ের আবেদনের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চিত করে—সুদাম আসলেই ভারতীয় নাগরিক।
🔹 শিকড়ের টান, মানবতার জয়
এখন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই সুদাম ফিরবেন নিজের দেশে, নিজের পরিবারে। দশ বছর পর ছেলের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় দিন গুনছে ময়ূরভঞ্জের এক সাঁওতাল পরিবার।
এই ঘটনার পর একটাই প্রশ্ন দেশজুড়ে—
“একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ কীভাবে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের নজর এড়িয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়লেন?”
যদিও উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে প্রমাণিত এক সত্য—
মানুষ হারায়, কিন্তু মানবতা হারায় না।
সুদাম হেমরমের গল্প সেই মানবতার প্রতীক, যা আজ দুই দেশের সীমান্তকেও অতিক্রম করেছে।
