Tag: Donald Trump

  • জাতিসংঘে ট্রাম্পের আট বড় বার্তা, ইরান যুদ্ধ থেকে নির্বাচন—কী বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

    Trump UNGA Speech: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান, পরমাণু অস্ত্র, সামরিক প্রস্তুতি, গাজা যুদ্ধ, বিভিন্ন দেশের সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ভেনেজুয়েলা, মাদকচক্র, মেক্সিকো, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড, ন্যাটো, জাতিসংঘের সংস্কার, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, অভিবাসন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মিত্রদের সহযোগিতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়।

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা

    ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে নিয়ে কোনও নির্বাচনী হিসাবকে গুরুত্ব দেবে না। তাঁর বক্তব্য, ইরানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র পাবে না।

    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। যারা দাবি করছে যে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের ঘাটতি রয়েছে, তারা ভুল বলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এত বেশি গোলাবারুদ রয়েছে যে তার সবটুকু ব্যবহার করার কথাও কল্পনা করা কঠিন।

    ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় দ্রুত গতিতে অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে। অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই বড় আকারের গোলাবারুদ তৈরির কারখানা চালু হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের বড় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি ১৮টি কারখানা নির্মাণ করছে এবং কয়েকটি ইতিমধ্যেই চালুর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।

    তিনি বলেন, এসব কারখানা চালু হলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ দ্রুত উৎপাদন করা সম্ভব হবে এবং মিত্র দেশগুলিকে আরও দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ করা যাবে।

    ইরানের বিরুদ্ধে সব দেশকে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কার্যকর করার আহ্বান জানান ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করা, পরমাণু অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করা এবং সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে চাপ বজায় রাখা উচিত।

    ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের আচরণ শক্তি বা আত্মবিশ্বাসের কারণে নয়, বরং দুর্বলতা ও মরিয়া অবস্থার কারণে হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বক্তব্য, সব দেশ একসঙ্গে দাঁড়ালে ইরানের সন্ত্রাসের দীর্ঘস্থায়ী হুমকি শেষ করা সম্ভব এবং তেলের দামও আরও কমে যেতে পারে।

    গাজা যুদ্ধ ও জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে বক্তব্য

    গাজা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এক বছর আগে তিনি যখন জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তখন গাজায় যুদ্ধ চলছিল এবং জিম্মিরা হামাসের সুড়ঙ্গে আটকে ছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় যুদ্ধের কোনও শেষ দেখা যাচ্ছিল না।

    তিনি দাবি করেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নেওয়া প্রথম কয়েকটি পদক্ষেপ পরিস্থিতি বদলে দেয় এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গাজায় যুদ্ধ শেষ হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে এবং জীবিত ও মৃত—সব অবশিষ্ট জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    গাজা নিয়ে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার সর্বসম্মত সমর্থনের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। পাশাপাশি শান্তি বোর্ডের অনুমোদনের কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০টি দেশ ওই বোর্ডে যোগ দিয়েছে এবং তিনি সেই বোর্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।

    গাজার ত্রাণ ও পুনর্গঠনের জন্য বিভিন্ন দেশ বিপুল অর্থ দিয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি কাতার, কুয়েত, কাজাখস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন এবং মরক্কোর কথা উল্লেখ করেন।

    গাজাকে স্থিতিশীল করতে সেনা, পুলিশ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশগুলির মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, আলবেনিয়া, কসোভো, কাজাখস্তান, মিশর ও জর্ডানের নামও উল্লেখ করেন তিনি।

    বিভিন্ন যুদ্ধ থামানোর দাবি

    ট্রাম্প বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আটটি যুদ্ধ শেষ করতে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব সমঝোতা সম্ভব হয়েছে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বাণিজ্য, শুল্ক এবং শুল্ক আরোপের হুমকি-সহ বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে।

    তিনি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও রুয়ান্ডা, পাকিস্তান ও ভারত, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এবং গাজার যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন।

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়েও তিনি বলেন, দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং এই যুদ্ধের সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার তরুণ, যাদের অধিকাংশই সেনা, নিহত হচ্ছে। যুদ্ধের ছবি দেখতে তাঁর ভালো লাগে না বলেও জানান তিনি।

    ইরান প্রসঙ্গে আবারও তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমস্যার সমাধান একভাবে না একভাবে করা হবে এবং তা দ্রুত করার চেষ্টা করা হবে।

    ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান নিয়ে বক্তব্য

    ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁর নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি বড় সামরিক অভিযান চালায়। তাঁর দাবি, অভিযানে একটি শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশ করে নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করা হয়।

    এর পর থেকে ভেনেজুয়েলার শত শত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আরও ভালো ভবিষ্যৎ তৈরির জন্য কাজ করছে।

    ট্রাম্প আরও জানান, গত মাসে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে একটি বড় চুক্তি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যই উপকারী হবে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম কমাতে সাহায্য করবে।

    তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলাকে একসঙ্গে ধরলে বিশ্বের মোট তেলের ৬০ শতাংশের বেশি তাদের হাতে রয়েছে।

    ট্রাম্পের বক্তব্য, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার জন্য হুমকি তৈরি করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহার করে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা হবে বলেও জানান তিনি।

    মাদকচক্র, মেক্সিকো ও কিউবা নিয়ে অবস্থান

    ট্রাম্প বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি মাদকচক্রগুলিকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছে।

    তিনি মাদকচক্রগুলিকে পশ্চিম গোলার্ধের ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে তুলনা করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন।

    ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র মাদক বহনকারী নৌযানের বিরুদ্ধে বহুবার হামলা চালিয়েছে এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী, সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা মাদকের পরিমাণ ৯৭ শতাংশ কমেছে।

    মেক্সিকো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটির প্রায় ২ হাজার মাইল সীমান্ত এমন কোনও এলাকার সঙ্গে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে শত্রুভাবাপন্ন মাদকচক্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মেক্সিকোকে নিজেদের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    কিউবা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, সেখানে কমিউনিস্ট সরকার প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি কিউবাকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন।

    গ্রিনল্যান্ড ও ন্যাটো নিয়ে ঘোষণা

    গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, উত্তর আমেরিকার উত্তর সীমান্তের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ভূখণ্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে।

    তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হবে। তিনি জানান, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র দুটি বড় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করবে।

    গ্রিনল্যান্ডে কোনও মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সামরিক উপস্থিতি বা সংবেদনশীল বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত অনুমতি ছাড়া করা যাবে না বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

    ন্যাটো নিয়েও তিনি বলেন, জোটটি আগের তুলনায় শক্তিশালী হচ্ছে। সদস্য দেশগুলির প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও শুল্ক ক্ষমতা

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও বলেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে হাজার হাজার মানুষ এই যুদ্ধে মারা যাচ্ছে।

    তিনি জানান, কংগ্রেসের অনুমোদিত একটি নতুন আইনের মাধ্যমে তাঁকে নতুন শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তিনি সেই ক্ষমতা ব্যবহার করবেন।

    ইউক্রেন ও রাশিয়ার বহু বাস্তুচ্যুত শিশুকে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

    জাতিসংঘের সংস্কার নিয়ে বক্তব্য

    জাতিসংঘের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যাপক সংস্কারের কাজে যুক্ত রয়েছে।

    তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের বাজেট ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং জাতিসংঘের আমলাতন্ত্র থেকে ৪ হাজারের বেশি পদ বাদ দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাম্প বলেন, জাতিসংঘের সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু নির্বাচিত না হওয়া আন্তর্জাতিক আমলাদের দ্বারা কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

    তিনি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহণ সংস্থার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কার্বন কর আরোপের উদ্যোগেরও বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও বিশ্ব সরকার নেই এবং তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকাকালে কোনও বৈশ্বিক করও থাকবে না।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিয়ে আপত্তি

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিয়েও ট্রাম্প কঠোর অবস্থান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্য বা অন্য কোনও ব্যক্তিকে এমন একটি আদালতে তদন্ত বা বিচার করা মেনে নেওয়া হবে না, যার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনও এখতিয়ার নেই।

    তিনি ওই আদালতের সদস্য দেশগুলিকে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    মানবাধিকার নিয়েও জাতিসংঘের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় প্রকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থাকা সত্ত্বেও জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তনীতি এবং শিশুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত মার্কিন নীতির সমালোচনা করছেন।

    অভিবাসন ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব

    ট্রাম্প বলেন, অবৈধ অভিবাসন কোনও মানবাধিকার নয়। একই সঙ্গে একটি দেশের সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রাখার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তাঁর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র নিজের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এবং অন্য দেশগুলিরও নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার রয়েছে।

    তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা থেকে অপরাধী ও মাদকচক্রের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন নামের প্রস্তাব

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তে আরও যথাযথ শব্দ হিসেবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘অতিবুদ্ধিমত্তা’ ব্যবহার করা উচিত।

    তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘কৃত্রিম’ শব্দটি এই প্রযুক্তিকে কৃত্রিম বা নকল বলে মনে করাতে পারে, যদিও প্রযুক্তিটি বাস্তবে অত্যন্ত শক্তিশালী।

    ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে এই নতুন শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করা হবে। তাঁর বক্তব্য, অতিবুদ্ধিমত্তা শিল্পবিপ্লব বা ইন্টারনেটের থেকেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

    তিনি বলেন, এই প্রযুক্তির কারণে যে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে তাঁর নীতি হবে প্রযুক্তির বিকাশ থামিয়ে দেওয়া নয়, বরং তার বিকাশকে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজন হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে নজরদারি রাখা।

    ট্রাম্প দাবি করেন, অতিবুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চিনের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে এবং সেই অবস্থান বজায় রাখা হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঐক্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য

    ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা, জাতীয় ঐক্য এবং দেশের শক্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আড়াই শতাব্দী আগে যে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আমেরিকানরা লড়াই করেছিল, সেই স্বাধীনতা সহজে পাওয়া যায়নি এবং তা কখনও ছেড়ে দেওয়া হবে না।

    তিনি জর্জ ওয়াশিংটনের সময়কার স্বাধীনতার লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, শুধু মহান আদর্শে বিশ্বাস করলেই হবে না; সেই আদর্শ রক্ষা করার জন্য ইচ্ছাশক্তি, সাহস ও শক্তিও প্রয়োজন।

    ট্রাম্প জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলিকে একসঙ্গে শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ালে পৃথিবী আরও নিরাপদ ও ভালো জায়গায় পরিণত হতে পারে।

    তিনি বলেন, দেশগুলির অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও উজ্জ্বল পৃথিবী তৈরি করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।

    #TrumpUNGASpeech #DonaldTrump #UNGA #TrumpIranWar #TrumpForeignPolicy #TrumpElection #USElection #IranConflict #UnitedStates

  • হোয়াইট হাউসে তিন সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ ট্রাম্পের, আরও নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি

    Trump White House Media Ban: যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে কার্যক্রম চালাতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাও। শুক্রবার ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তাঁর অভিযোগ, এই সংবাদমাধ্যমগুলি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও তাঁর প্রশাসন সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে ভুয়ো ও মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।

    ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোনও একটি নির্দিষ্ট প্রতিবেদনের কারণে নয়, বরং গত কয়েক বছরে ওই সংবাদমাধ্যমগুলির প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

    সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওকে কেন নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প?

    ট্রাম্পের অভিযোগ, তাঁর প্রশাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় ওই সংবাদমাধ্যমগুলি নিয়মিত ভুয়ো ও মনগড়া তথ্য প্রকাশ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, তাঁর প্রশাসন কিংবা দেশকে নিয়ে সংবাদ করার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলিকে ক্রমাগত মিথ্যা ও কল্পিত তথ্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

    ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ভুয়ো খবর প্রচার করে বলে তিনি যেসব সংবাদমাধ্যমকে মনে করেন, তাদের তালিকায় আরও নাম যুক্ত হতে পারে। পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত কোনও একটি নির্দিষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়নি। বরং কয়েক বছর ধরে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনের সামগ্রিক প্রভাবের কারণেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

    তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তুষ্ট। হোয়াইট হাউসকে ‘জনগণের বাড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, জনগণের বাড়িতে ওই সংবাদমাধ্যমগুলিকে ঢুকতেই দিতে হবে—এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।

    আরও সংবাদমাধ্যমের নাম করলেন ট্রাম্প

    সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর মতে আরও কোন সংবাদমাধ্যম ভুয়ো খবর প্রকাশ করে। জবাবে তিনি ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউইয়র্ক টাইমসের নাম উল্লেখ করেন।

    ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, ভবিষ্যতে এই সংবাদমাধ্যমগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাওয়ের পর আরও সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে দূরে রাখার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

    তবে ট্রাম্পের ঘোষণা প্রকাশ্যে আসার পরও শুক্রবার বিকেলে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউস থেকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। ফলে ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কীভাবে এবং কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

    সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে উঠল প্রশ্ন

    ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে মতপ্রকাশ এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে। সেই কারণে কোনও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বা দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের পরিসর থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট প্রথম সংশোধনী ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামেল জেফার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রথম সংশোধনীর অধীনে হোয়াইট হাউসের সংবাদমাধ্যমের পরিসর একটি ‘জনপরিসর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে কোনও সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি বা প্রতিবেদনের কারণে তাকে সেখান থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ প্রেসিডেন্টের নেই বলে তাঁর দাবি।

    অর্থাৎ ট্রাম্পের ঘোষণাকে ঘিরে এখন শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, সাংবিধানিক প্রশ্নও সামনে এসেছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কার্যকর হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    সিএনএনের পাল্টা বক্তব্য

    ট্রাম্পের ঘোষণার পর সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালন করা তাদের সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে সংস্থাটি। সিএনএনের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সরকারের কোনও ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহ করার অধিকার তাদের রয়েছে।

    সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলে তা সংবাদ সংগ্রহের সেই সাংবিধানিক অধিকারের উপর বেআইনি আঘাত হবে। সিএনএন তাদের হোয়াইট হাউসের সংবাদদাতা দলের প্রতিবেদনকে ন্যায্য ও নির্ভুল বলে উল্লেখ করেছে।

    অর্থাৎ ট্রাম্প যে অভিযোগ তুলে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করেছেন, সিএনএন তা মেনে নেয়নি। বরং সংবাদ সংগ্রহের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার কথা জানিয়েছে তারা।

    পলিটিকোর অবস্থানও স্পষ্ট

    পলিটিকোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির বক্তব্য, তারা হোয়াইট হাউস এবং ভবিষ্যতের প্রশাসনগুলির বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশ করে যাবে।

    একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে থাকা নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে পলিটিকো।

    অন্যদিকে, এমএস নাও ট্রাম্পের ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে তিনটি সংবাদমাধ্যমের মধ্যে সিএনএন এবং পলিটিকো প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানালেও এমএস নাওয়ের পক্ষ থেকে তখনও কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

    ট্রাম্পের ঘোষণার পর হোয়াইট হাউসের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে ট্রাম্প তিনটি সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলি সংবাদ সংগ্রহের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার কথা বলেছে। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার চেষ্টা হলে তা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।

    #TrumpWhiteHouseMediaBan #TrumpMediaBan #WhiteHousePressBan #CNN #Politico #MSNOW #DonaldTrump #WhiteHouseMedia #PressFreedom #FirstAmendment #USPolitics

  • জন্মদিনে আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছাবার্তার কেন্দ্রবিন্দু নরেন্দ্র মোদী

    PM Modi Birthday: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মদিনে দেশ-বিদেশ থেকে একের পর এক শুভেচ্ছাবার্তা এসেছে। বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর জন্মদিন পালন করছেন প্রধানমন্ত্রী। এই উপলক্ষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারত ও রাশিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে তাঁর সফরের সময় ভারতীয় পক্ষের আতিথেয়তার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

    দুই নেতার আলোচনায় বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলেও তাঁর বার্তায় উঠে এসেছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছিয়াত্তরতম জন্মদিনে দুবাই থেকেও এল বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তা। বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফায় ঝলমল করে উঠল—

    “হ্যাপি বার্থডে মোদী”

    আলোর ঝলকে বুর্জ খলিফায় ভেসে উঠল “হ্যাপি বার্থডে মোদী” লেখা।

    #pmmodibirthday #narendramodi #pmmodi #modibirthday #putin #trump #indiarussiarelations #indiausrelations #worldleaders #birthdaywishes

  • ভারত-চিন একসঙ্গে গড়তে পারে বহুপাক্ষিক বিশ্ব! জেফ্রি স্যাক্সের বিস্ফোরক মন্তব্যে কি চাপে ট্রাম্প?

    India China Multilateral World: বিশ্ব রাজনীতির দ্রুত বদলে যাওয়া সমীকরণের মধ্যে ভারত ও চিনের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ জেফ্রি স্যাক্স। তাঁর মতে, ভারত ও চিন একসঙ্গে কাজ করলে সত্যিকারের বহুপাক্ষিক বিশ্ব গড়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় একক কোনো শক্তির প্রভাবের বদলে একাধিক শক্তিশালী দেশের ভূমিকা যে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেই বাস্তবতার কথাই তুলে ধরেছেন তিনি। ইন্ডিয়া টুডেতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থনীতিবিদ জেফ্রি স্যাক্স এমনই দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ও চিন একসঙ্গে কাজ করলে বহুপাক্ষিক বিশ্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হতে পারে। একইসঙ্গে ব্রিকসের ভূমিকা এবং আমেরিকার বিদেশনীতি নিয়েও নিজের মত তুলে ধরেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে জেফ্রি স্যাক্স বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তন, ভারত-চিন সম্পর্ক এবং ব্রিকসের ভূমিকা নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বহুমেরু বিশ্বের ধারণা। তিনি মনে করেন, চিনের নিজের স্বার্থেই ভারতের সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়লে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্তির ভারসাম্য আরও স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি আমেরিকার বিদেশনীতি, একতরফা পদক্ষেপ এবং দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক নীতিরও সমালোচনা করেন।

    ভারত-চিন একসঙ্গে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জেফ্রি স্যাক্স

    জেফ্রি স্যাক্সের বক্তব্যে ভারত ও চিনের সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, এই দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বহুপাক্ষিকতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চিনের যথেষ্ট স্বার্থ রয়েছে ভারতের সাফল্যের সঙ্গে। অর্থাৎ, ভারত শক্তিশালী হলে শুধু ভারতেরই লাভ হবে না, চিনের কাছেও তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই জায়গা থেকেই দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে তিনি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন।

    জেফ্রি স্যাক্সের মতে, বিশ্বের শক্তির কাঠামো ইতিমধ্যেই বহুমেরু হয়ে উঠেছে। তাঁর বক্তব্যে আমেরিকা, রাশিয়া, ভারত এবং চিন—এই চার দেশকে প্রধান শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই চার শক্তির উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বাস্তব চরিত্রকে স্পষ্ট করে। ফলে বিশ্বকে শুধুমাত্র একটি শক্তির প্রভাবের মধ্যে দেখার পরিবর্তে একাধিক শক্তির সহাবস্থানকে স্বীকার করাই বাস্তবসম্মত।

    ভারত ও চিনের একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনাকে তাই তিনি শুধু দুই দেশের সম্পর্কের বিষয় হিসেবে দেখেননি। তাঁর বক্তব্যে এটি আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যের সঙ্গেও যুক্ত। দুই দেশ যদি নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার পথ খুঁজে নিতে পারে, তাহলে বহুপাক্ষিক বিশ্বের ধারণা আরও শক্তিশালী হতে পারে—এমনটাই তাঁর বক্তব্যের মূল সুর।

    একক শক্তির বদলে বহুমেরু বিশ্বই বাস্তবতা

    জেফ্রি স্যাক্স স্পষ্টভাবে বহুমেরু বিশ্বের ধারণার পক্ষে কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বহুমেরুতা এখন আর ভবিষ্যতের কোনো সম্ভাবনা নয়, বরং এটি প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক শক্তিশালী দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কাঠামোকেও এগোতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

    এই প্রসঙ্গে তিনি আমেরিকার বিদেশনীতি এবং একতরফা পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এককভাবে নেওয়া সিদ্ধান্ত, শুল্ক আরোপ এবং সামরিক হস্তক্ষেপের মতো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ভারসাম্যের পরিবর্তে সংঘাত ও চাপ বাড়াতে পারে। এর বিপরীতে একাধিক শক্তির মধ্যে সহযোগিতা এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা আরও কার্যকর হতে পারে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

    জেফ্রি স্যাক্সের বক্তব্যে বহুপাক্ষিকতার অর্থ শুধু কয়েকটি দেশের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ নয়। বরং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের স্বার্থ, ভূমিকা এবং মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি কাঠামো হিসেবেই তিনি বিষয়টিকে দেখেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্বে একক আধিপত্যের ধারণার পরিবর্তে একাধিক শক্তির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হওয়াই বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ভারত ও চিনের মতো দুটি বড় দেশের ভূমিকা তাই তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে—এমন ধারণাই তিনি সামনে রেখেছেন।

    ব্রিকসকে কেন পাল্টা ভারসাম্যের শক্তি হিসেবে দেখছেন

    জেফ্রি স্যাক্সের বক্তব্যে ব্রিকসও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে। তাঁর মতে, ব্রিকস বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এবং অর্থনৈতিক উৎপাদনেরও প্রায় অর্ধেক প্রতিনিধিত্ব করে। এই কারণেই তিনি ব্রিকসকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা ভারসাম্যের শক্তি হিসেবে দেখেছেন।

    তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুল্ক, একতরফা সিদ্ধান্ত এবং সামরিক হস্তক্ষেপের মতো পদক্ষেপের বিপরীতে ব্রিকস বহুপাক্ষিকতার ধারণাকে সামনে রাখে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে যদি একাধিক শক্তির অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালনা করা যায়, তাহলে একতরফা সিদ্ধান্তের প্রভাব কমানো সম্ভব হতে পারে।

    ব্রিকসের ভূমিকা নিয়ে জেফ্রি স্যাক্সের এই ব্যাখ্যার মধ্যে ভারত ও চিনের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, দুই দেশই ব্রিকসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ভারত ও চিনের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতা এই বৃহত্তর কাঠামোর কার্যকারিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে—তাঁর বক্তব্য থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

    তিনি ব্রিকসকে কোনো একক দেশের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং একতরফা নীতির বিরুদ্ধে একটি পাল্টা ভারসাম্য হিসেবে দেখেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন শক্তির সমানতালে অংশগ্রহণ এবং বহুপাক্ষিকতার গুরুত্ব তুলে ধরা।

    রাশিয়া ও ইরান নিয়ে কী বললেন জেফ্রি স্যাক্স

    ব্রিকসের মধ্যে রাশিয়া ও ইরানের অবস্থান নিয়েও সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন ওঠে। এই প্রসঙ্গে জেফ্রি স্যাক্স দীর্ঘদিন ধরে চলা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জন্য আমেরিকার নীতিকে দায়ী করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান উত্তেজনাগুলিকে শুধু রাশিয়া, ইরান বা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির মাধ্যমে দেখা ঠিক হবে না।

    তিনি মনে করেন, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে চলা আমেরিকার এমন কিছু নীতি, যার লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদের প্রাধান্য বজায় রাখা। একইসঙ্গে তিনি ন্যাটোর সম্প্রসারণের বিষয়টিকেও দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

    জেফ্রি স্যাক্সের বক্তব্যে তাই রাশিয়া ও ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা এসেছে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক নীতির প্রেক্ষাপটে। তাঁর মতে, বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলির মধ্যে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বদলে যদি একক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

    এই জায়গাতেই তাঁর বহুমেরু বিশ্বের ধারণা আবার সামনে আসে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একাধিক শক্তির মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করা গেলে দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। রাশিয়া ও ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতেও তিনি সেই বৃহত্তর কাঠামোকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।

    আমেরিকার নীতির সমালোচনা, সামনে বহুপাক্ষিকতার প্রশ্ন

    সাক্ষাৎকারে জেফ্রি স্যাক্স আমেরিকার বিদেশনীতি নিয়ে সরাসরি সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে একতরফা পদক্ষেপ, শুল্ক এবং সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়গুলি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের নীতি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিবর্তে চাপ এবং বিরোধ বাড়াতে পারে।

    এর বিপরীতে তিনি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, পৃথিবীর প্রধান শক্তিগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালিত করতে হবে যেখানে একাধিক দেশের ভূমিকা স্বীকৃত হয়।

    এই ভাবনার কেন্দ্রেই রয়েছে ভারত ও চিন। জেফ্রি স্যাক্স মনে করেন, এই দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে বহুপাক্ষিক বিশ্ব গঠনের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চিনের জন্যও ভারতের সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার জায়গা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাতেও তার প্রতিফলন ঘটতে পারে।

    জেফ্রি স্যাক্সের বক্তব্যে আমেরিকা, রাশিয়া, ভারত এবং চিনকে চারটি প্রধান শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই চার শক্তির উপস্থিতিই তাঁর মতে বর্তমান বহুমেরু বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সেই বাস্তবতাকে অস্বীকার না করে সহযোগিতা ও ভারসাম্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই তিনি বলেছেন।

    জেফ্রি স্যাক্সের বক্তব্যে তিনটি বিষয় স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে—ভারত ও চিনের সম্ভাব্য সহযোগিতা, ব্রিকসের বহুপাক্ষিক ভূমিকা এবং একতরফা বিদেশনীতির সমালোচনা। তাঁর মতে, ভারত ও চিন একসঙ্গে কাজ করতে পারলে বহুপাক্ষিক বিশ্বের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে। একইসঙ্গে ব্রিকস একতরফা সিদ্ধান্ত, শুল্ক এবং সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা ভারসাম্যের ভূমিকা নিতে পারে বলেও তিনি মনে করেন। দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ব্যাখ্যাতেও তিনি বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখেছেন।

    #IndiaChinaMultilateralWorld #JeffreySachs #IndiaChinaRelations #BRICS #DonaldTrump #MultipolarWorld #GlobalOrder #GEOPOLITICS

  • জম্মু-কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বার্তা দিলেন মার্কিন দূত! সফর ঘিরে কি বদলাচ্ছে আমেরিকার অবস্থান?

    Sergio Gor Kashmir: ভারতের জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থানকে কার্যত গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। বুধবার জম্মু-কাশ্মীর সফরে গিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “কাশ্মীর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

    দুই দিনের জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ সফরের প্রথম পর্বে শ্রীনগরে পৌঁছে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন গোর। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাশ্মীরের সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

    এই সফর বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এই প্রথম ভারতের শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক কাশ্মীরে গেলেন। তিনি একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্বও পালন করছেন।

    কাশ্মীর নিয়ে কী বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত?

    শ্রীনগরে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সার্জিও গোর বলেন, কাশ্মীর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইসঙ্গে তিনি জানান, এই অঞ্চলে তাঁর এটাই প্রথম সফর এবং জায়গাটিকে তাঁর কাছে অত্যন্ত সুন্দর বলে মনে হয়েছে।

    এই বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই যে, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারত বরাবর যে অবস্থান তুলে ধরে এসেছে, মার্কিন দূতের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। যদিও তাঁর বক্তব্যকে কোনও নতুন নীতিগত ঘোষণা হিসেবে ব্যাখ্যা করার আগে আরও সরকারি অবস্থান সামনে আসা প্রয়োজন।

    ওমর আবদুল্লার সঙ্গে বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা?

    গোর ওমর আবদুল্লার বৈঠককে উষ্ণ এবং ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে খুবই উষ্ণ আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁরা আগ্রহী।

    এই সাক্ষাৎ শুধু সৌজন্য বৈঠক হিসেবে দেখার পরিবর্তে বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জম্মু-কাশ্মীর বর্তমানে ভারতের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সরাসরি সফর স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে।

    সফর ঘিরে কেন বাড়ছে কূটনৈতিক গুরুত্ব?

    সার্জিও গোরের এই সফর এমন একটি সময়ে হচ্ছে, যখন দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত পরিস্থিতি নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর কাশ্মীর সফর তাঁর কূটনৈতিক দায়িত্বের ক্ষেত্রেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    তবে অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা বা আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে এই সফর থেকে কোনও নির্দিষ্ট নতুন সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হল, কাশ্মীরকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখার মন্তব্য এবং নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত।
    #SergioGor #Kashmir #JammuAndKashmir #IndiaUSRelations #USAmbassador #India #KashmirNews #Diplomacy #DonaldTrump

  • শান্তি নাকি যুদ্ধ? ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বড় বার্তা

    Trump Iran New Strikes: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ এখনও রয়েছে এবং সেই সম্ভাবনাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ট্রাম্পের কথায়, “আমরা শুধু জিততে চাই।” তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য দীর্ঘ যুদ্ধ নয়, বরং এমন একটি ফলাফল নিশ্চিত করা যাতে তাদের কৌশলগত উদ্দেশ্য সফল হয়।

    তিনি আরও জানান, পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি মিত্র দেশের অনুরোধে আপাতত সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখা হয়েছে। ওই দেশগুলি চায়, শেষবারের মতো আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধানের চেষ্টা করা হোক। তাই নতুন হামলার আগে কূটনৈতিক উদ্যোগকে কিছুটা সময় দেওয়া হচ্ছে।

    সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে স্থায়ী সমাধান এবং যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়গুলি গুরুত্ব পাচ্ছে।

    অন্যদিকে, ইরানও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নতুন করে কোনও সামরিক হামলা হলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বৈঠকে একই বার্তা দিয়েছেন।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির উপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইসরায়েলও সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। যদিও এই বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক সম্মতি বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

    ফলে এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর কূটনৈতিক আলোচনার দিকেই। আলোচনা সফল হলে নতুন সামরিক সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতে পারে, আর তা ব্যর্থ হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

    #Trump #Iran #MiddleEast #USIranConflict #WorldNews #BreakingNews #MilitaryAction #GlobalPolitics

  • ‘ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে কেউ পারবে না’, আমেরিকাকে বড় হুঁশিয়ারি! হরমুজ ঘিরে কি আরও ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কা?

    Iran Strait of Hormuz Warning: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাত এবার নতুন করে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের দিকে বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকির জেরে আশঙ্কা বাড়ছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে তেল পরিবহণ আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হতে পারে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—ইরান যদি তেল বিক্রি করতে না পারে, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলিও যেন স্বাভাবিকভাবে তেল রপ্তানি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করবে তেহরান। তাঁর বক্তব্য, এই সংঘাত এখন ‘সব অথবা কিছুই নয়’-এর পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হামলা হলে ইরানের সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছেন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন শুধু সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং তেলের দামের উপরও পড়তে পারে।

    হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের কড়া বার্তা

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর ফিরিয়ে নেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম শর্ত হল আমেরিকান বাহিনীর উপস্থিতি না থাকা।

    গালিবাফের বার্তায় আরও বলা হয়েছে, যে পরিস্থিতিতে ইরান নিজে তেল বিক্রি করতে পারবে না, সেই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কোনও দেশকেও তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্যের সারকথা হল, ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এই অঞ্চলের পরিকাঠামোও নিরাপদ থাকবে না এবং হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়েও তেহরান নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবে না।

    এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ইরান এখন হরমুজ প্রণালীকে শুধু একটি জলপথ হিসেবে দেখছে না। বরং এই অঞ্চলকে নিজেদের কৌশলগত নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অবস্থান নিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও পৌঁছতে পারে।

    ট্রাম্পের পাল্টা হুমকি, জাহাজে হামলা হলে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের বার্তা

    ইরানের এই হুঁশিয়ারির আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী কোনও জাহাজে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনও অস্ত্র দিয়ে হামলা করলে আমেরিকা পাল্টা ইরানের একটি সেতু অথবা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা করবে।

    ট্রাম্পের হুমকির মধ্যে রাজধানী তেহরানের আশপাশের পরিকাঠামোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা যে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ধরনের পাল্টা হামলার নীতি বাস্তবায়িত হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের কাছে উদ্বেগের বিষয় হল, হরমুজ প্রণালীতে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এর সঙ্গে যদি সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়, তাহলে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    একের পর এক হামলা, বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা

    এই সময়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক দফায় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের সামরিক অভিযান আঞ্চলিক জলপথে বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হুমকি কমানোর লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

    অন্যদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরানের উপর যে কোনও ধরনের আগ্রাসন হলে তার জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পরিকাঠামোতে হামলা হলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আরও শক্তিশালী এবং নির্ণায়ক হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

    ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দেশের পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক শহরের কাছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরাক সীমান্তের কাছে একটি হামলায় হতাহতের খবরও সামনে এসেছে। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। কুয়েতের সামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলা মোকাবিলার দাবি করেছে।

    ফলে পরিস্থিতি এখন একাধিক স্তরে জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে ইরান ও আমেরিকার সরাসরি সংঘাত, অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং তৃতীয়দিকে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

    তেলের বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

    হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছয়। ফলে এই পথে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাহত হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

    ইরানের পক্ষ থেকে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তার অর্থ হল তেহরান নিজের তেল রপ্তানি বন্ধ বা সীমিত হলে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলির তেল রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে পারে। ইতিমধ্যেই এই সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

    শুধু তেল নয়, পরিবহণ খরচ বাড়লে তার প্রভাব খাদ্য, শিল্পপণ্য এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন সামগ্রীর দামেও পড়তে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। এই কারণেই হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিকে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং এটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে।

    শুধু হরমুজ নয়, লোহিত সাগরেও বাড়ছে উদ্বেগ

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব শুধু হরমুজ প্রণালীতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব জলপথ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত হুথি গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে ওই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়েও আশঙ্কা বাড়ছে। ফলে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিবহণ আরও বড় সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে জাহাজ সংস্থাগুলি বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হলে পণ্য পরিবহণের সময় এবং খরচ উভয়ই বেড়ে যেতে পারে। বিমা খরচও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর।

    ফলে ইরানের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি এবং ট্রাম্পের পাল্টা হুমকি এখন শুধুমাত্র দুই দেশের কূটনৈতিক সংঘাত নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা।

    সামনে কি আরও বড় সংঘাত?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত কি আরও বিস্তৃত হবে? নাকি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে? আপাতত প্রকাশ্য বক্তব্যে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় বলে মনে হচ্ছে।

    ইরানের বক্তব্য, তাদের নিরাপত্তা ও তেল রপ্তানির অধিকার নিশ্চিত না হলে তারা পিছিয়ে যাবে না। অন্যদিকে আমেরিকাও হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার অবস্থানে রয়েছে। এই মুখোমুখি অবস্থান যত দীর্ঘ হবে, ততই বাড়বে সংঘাতের অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্য।

    সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, একটি ছোট ঘটনা থেকেও বড় ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া শুরু হতে পারে। কোনও জাহাজে হামলা, কোনও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে আঘাত বা ভুল বোঝাবুঝি—যে কোনও একটি ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও দ্রুত অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

    এই মুহূর্তে তাই গোটা বিশ্বের নজর হরমুজ প্রণালীর দিকে। কারণ ইরানের ‘আমরা না পারলে কেউ পারবে না’ বার্তা এবং ট্রাম্পের পাল্টা সামরিক হুমকি—দুইয়ের সংঘাতে যদি সত্যিই তেল সরবরাহ ও সমুদ্রপথ দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হয়, তাহলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রতিটি অর্থনীতিতে পৌঁছতে পারে।

  • হুমকি, যুদ্ধ আর মৃত্যুভয়— শান্তি আলোচনার নেপথ্যে যা জানালেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী

    Iran US Peace Talks: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলাকালীন প্রতিটি মুহূর্তে প্রাণ হারানোর আশঙ্কায় থাকতে হয়েছে— এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আলোচনার টেবিলে বসেও মনে হতো যে যে কোনও মুহূর্তে বৈঠকের উপর বোমা হামলা হতে পারে। এমনকি পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়ও মনে হতো, সেটিই হয়তো শেষ কথা।

    ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফকে তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনি কি কখনও এমন বৈঠকে বসেছেন যেখানে মনে হয়েছে, যে কোনও মুহূর্তে গোটা বৈঠকটাই বোমায় উড়ে যেতে পারে? পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় কি কখনও ভেবেছেন, এটাই হয়তো শেষবার?”

    ‘চাপ নয়, আলোচনাই একমাত্র পথ’

    আরাঘচির দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল সামরিক হুমকি দিয়ে ইরানকে নতজানু করানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু তেহরান সেই চাপের কাছে মাথা নত করেনি।

    তিনি বলেন, “শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মতো অযৌক্তিক দাবি আমরা মানিনি। আমরা দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছিলাম। আলোচনার মাধ্যমে যখন তারা তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি, তখন যুদ্ধের পথ বেছে নেয়।”

    আরও বলেন, “আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, কিন্তু হুমকি বা প্রলোভন দেখিয়ে কিছু আদায় করতে পারবেন না।”

    ‘আমরা ভেনেজুয়েলা নই’

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো ভেনেজুয়েলার মতো নয়। তাঁর কথায়, “এটি ভেনেজুয়েলা নয় যে একজনকে সরিয়ে দিলেই পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ইরানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো বহুস্তরীয়। একজন নেতাকে সরালেই রাষ্ট্র ভেঙে পড়বে না।”

    তিনি আরও দাবি করেন, ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানকে পরাজিত করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল। বরং আলোচনার টেবিলে ইরানের দৃঢ় অবস্থানই তাদের যুদ্ধের পথে ঠেলে দেয়।

    যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। সোমবার টানা নবম দিনের মতো ইরানে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

    ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বান্দার মাহশাহর এবং বান্দার ইমাম খোমেইনি-সহ একাধিক শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

    অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, তারা সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় মার্কিন বিশেষ বাহিনীর ঘাঁটিতে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান।

    এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এখনও পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।

    #IranUSPeaceTalks #geopolitics #usa

  • যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের স্বপ্নে বড় ধাক্কা? গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য এক লক্ষ ডলারের জামানত বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন

    Trump Green Card Bond: যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের (গ্রিন কার্ড) স্বপ্ন দেখা লাখো মানুষের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বাধা তৈরি হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এমন একটি নতুন প্রস্তাব বিবেচনা করছে, যেখানে বিদেশ থেকে আবেদন করা নির্দিষ্ট কিছু গ্রিন কার্ড প্রার্থীকে ১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকারও বেশি) পর্যন্ত ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হতে পারে। প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে এটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

    কেন আনা হচ্ছে এই প্রস্তাব?

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন অভিবাসীরা যেন সরকারি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হন এবং নিজেদের খরচ নিজেরাই বহন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য। প্রশাসনের দাবি, এতে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর অভিবাসীদের উৎসাহিত করা যাবে।

    কারা এই নিয়মের আওতায় আসতে পারেন?

    আলোচনায় থাকা পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জামানতের নিয়ম মূলত বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে।

    তবে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক হবে কি না, কোন দেশগুলো প্রথম পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হবে, কিংবা কী মানদণ্ডে আবেদনকারী নির্বাচন করা হবে—এসব বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রথমে সীমিত কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) এটি চালুর কথা ভাবা হচ্ছে।

    জামানতের অর্থ কীভাবে ফেরত মিলবে?

    প্রস্তাব অনুযায়ী, আবেদনকারী বা তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী আত্মীয় এই অর্থ জমা দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে। তবে নাগরিকত্ব পেতে সাধারণত কমপক্ষে পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় লাগে।

    ভারতীয়দের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?

    ভারত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ পারিবারিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। তাই এই নীতি কার্যকর হলে ভারতীয় আবেদনকারীদের ওপরও বড় আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। যদিও এখনও ভারতের নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় অঙ্কের জামানত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক আবেদনকারীকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

    আগেও কড়াকড়ি বাড়িয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন

    এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি কঠোর করার ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে নাগরিকত্বের আবেদন ফি বৃদ্ধি, গ্রিন কার্ড যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা এবং কিছু ভিসা আবেদনকারীর জন্য ফেরতযোগ্য ভিসা বন্ড চালুর মতো একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নতুন প্রস্তাব সেই নীতিকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

    সমালোচকদের আপত্তি

    অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের একাংশের দাবি, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া ধনী ব্যক্তিদের জন্য সহজ হলেও কম আয়ের আবেদনকারীদের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাঁদের মতে, এটি একটি “অর্থের বিনিময়ে সুযোগ” ধরনের ব্যবস্থা তৈরি করবে, যা সমান সুযোগের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এটি এখনও আইনে পরিণত হয়নি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি পর্যায়ে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    #Trump #GreenCard #USImmigration #DonaldTrump #VisaPolicy #ImmigrationNews #UnitedStates #GlobalNews #GreenCardBond

  • যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের সংঘাত

    Iran US Conflict: নিজস্ব প্রতিবেদন: ১৩ জুলাই পর্যন্ত ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ কার্যত নতুন করে তীব্র সংঘাতের পর্যায়ে পৌঁছেছে। জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতি এখন প্রায় অকার্যকর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা জানালেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার দরজা খোলা রেখেছেন।

    সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার, নৌ ও বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনায় নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। ফলে সংঘাতের প্রভাব ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

    সংঘাতের কেন্দ্র এখন হরমুজ প্রণালী। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নৌ-নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলছে। অন্যদিকে ইরানও এই জলপথে নিজের কর্তৃত্ব দাবি করছে। এর ফলে জাহাজ চলাচল কমেছে এবং আন্তর্জাতিক তেলবাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    পাকিস্তান, কাতার ও মিশর মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা। পরিস্থিতি তাই পূর্ণাঙ্গ শান্তি নয়, বরং হামলা ও আলোচনার মাঝামাঝি এক অনিশ্চিত পর্যায়ে রয়েছে।

Exit mobile version