Tag: Kashmir

  • জম্মু-কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বার্তা দিলেন মার্কিন দূত! সফর ঘিরে কি বদলাচ্ছে আমেরিকার অবস্থান?

    জম্মু-কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বার্তা দিলেন মার্কিন দূত! সফর ঘিরে কি বদলাচ্ছে আমেরিকার অবস্থান?

    Sergio Gor Kashmir: ভারতের জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে নয়াদিল্লির অবস্থানকে কার্যত গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। বুধবার জম্মু-কাশ্মীর সফরে গিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “কাশ্মীর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

    দুই দিনের জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ সফরের প্রথম পর্বে শ্রীনগরে পৌঁছে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন গোর। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাশ্মীরের সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

    এই সফর বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এই প্রথম ভারতের শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক কাশ্মীরে গেলেন। তিনি একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্বও পালন করছেন।

    কাশ্মীর নিয়ে কী বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত?

    শ্রীনগরে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সার্জিও গোর বলেন, কাশ্মীর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইসঙ্গে তিনি জানান, এই অঞ্চলে তাঁর এটাই প্রথম সফর এবং জায়গাটিকে তাঁর কাছে অত্যন্ত সুন্দর বলে মনে হয়েছে।

    এই বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই যে, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারত বরাবর যে অবস্থান তুলে ধরে এসেছে, মার্কিন দূতের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। যদিও তাঁর বক্তব্যকে কোনও নতুন নীতিগত ঘোষণা হিসেবে ব্যাখ্যা করার আগে আরও সরকারি অবস্থান সামনে আসা প্রয়োজন।

    ওমর আবদুল্লার সঙ্গে বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা?

    গোর ওমর আবদুল্লার বৈঠককে উষ্ণ এবং ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে খুবই উষ্ণ আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁরা আগ্রহী।

    এই সাক্ষাৎ শুধু সৌজন্য বৈঠক হিসেবে দেখার পরিবর্তে বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জম্মু-কাশ্মীর বর্তমানে ভারতের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সরাসরি সফর স্বাভাবিকভাবেই নজর কেড়েছে।

    সফর ঘিরে কেন বাড়ছে কূটনৈতিক গুরুত্ব?

    সার্জিও গোরের এই সফর এমন একটি সময়ে হচ্ছে, যখন দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত পরিস্থিতি নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর কাশ্মীর সফর তাঁর কূটনৈতিক দায়িত্বের ক্ষেত্রেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    তবে অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা বা আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে এই সফর থেকে কোনও নির্দিষ্ট নতুন সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হল, কাশ্মীরকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখার মন্তব্য এবং নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত।
    #SergioGor #Kashmir #JammuAndKashmir #IndiaUSRelations #USAmbassador #India #KashmirNews #Diplomacy #DonaldTrump

  • কাশ্মীরের অফবিট ডেস্টিনেশন চাটপাল।

    কাশ্মীরের অপরূপ প্রকৃতির মাঝে লুকিয়ে থাকা অদেখা একটি গ্রাম চাটপাল । পর্যটকদের ভিড় থেকে দূরে, চাটপাল এমন একটি জায়গা যেখানে প্রকৃতির নিঃশব্দ সুরে মিশে যাওয়া যায়। এটি শুধু অনাবিল সৌন্দর্য আর শান্তির জন্য, যা একবার দেখলে জীবনের স্মৃতিতে চিরদিন থেকে যায়।

     

    পেহেলগাম এক কাছে  চাটপাল। যাকে চট্টোবলও বলা হয়। সত্যিই এমন এক জায়গা যার নাম অনেকের একেবারে অজানা। পেহেলগামে বছরে হাজার হাজার পর্যটক এলেও এখানে আসেনা তেমন কেউই। ছুটির দিন ছাড়া বিশেষ লোকজন ও দেখা যায়না।    সবুজ পাহাড়, শান্ত নদী আর অপরূপ প্রকৃতির কোলে চাটপাল যেন এক রূপকথার গ্রাম ।

     

    প্রাকৃতিক শোভায় পেহেলগাম ও চাটপাল হুবহু যেন এক। আশেপাশের গ্রামের মানুষদের জন্য এটা সুন্দর পিকনিক স্পট , আপনি যদি ভিড় থেকে দূরে অফবিট কোন শান্তির জায়গা খোঁজেন তাহলে এর থেকে ভালো জায়গা আর পাবেন না । এখানে গিয়ে খোলা প্রান্তরের পাশে নদীর স্রোত ছাড়া দেখার কিছু না থাকলেও যে শান্তি পাবেন তা কিছু অংশে কম না । 

     

    গ্রামের কিছুটা আগেই পাকা রাস্তা শেষ হয় গাড়ি রেখে হেঁটে ঘুরে আসতে পারবেন পুরো গ্রাম, হোটেল না থাকলেও রয়েছে সরকারি রেস্ট হাউশ, বাচ্চাদের জন্য রয়েছে একটি পার্ক। সাথে পাবেন স্থানীয়দের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাদের জীবনযাত্রা দেখার সুযোগ ।  আপনার পরবর্তী গন্তব্য যদি প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যাওয়া হয় , তবে চাটপাল আপনার জন্য সেরা।

     

    চাটপালের হৃদয় হলো এর  বাসিন্দারা। তাদের উষ্ণতা  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও গভীর করে তোলে।

    তারা আপনাকে আগলে রাখবে। সত্যি, এই জায়গার মতোই সুন্দর সেখানকার মানুষগুলো।

    প্রতিবেদন – রিমিতা রায়

  • Poonch Rajauri Terror Attack: পুঞ্চ-রাজৌরি সেনাবাহিনীর ফাঁদ, ২ বছরে ৩৪ সেনা শহিদ! সন্ত্রাসীরা লুটছে বিস্তর সুযোগ

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Poonch Rajauri Terror Attack: জঙ্গি হামলায় উত্তপ্ত কাশ্মীর। বীর সেনাদের রক্তে ভিজছে মাটি। কিন্তু বিশেষ কয়েকটা এলাকাতেই বারংবার কেন জঙ্গি আক্রমণ? কেনই বা এই এলাকাগুলো হয়ে উঠছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ফাঁদ? বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজৌরি-পুঞ্চ এলাকায়, সন্ত্রাসীরা তল্লাশি অভিযানে বের হওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়কে আক্রমণ করে। এই হামলায় কয়েকজন জওয়ান শহীদ হন, তিনজন গুরুতর আহত হন। বলা হচ্ছে, ডেরা কি গালি-বাফলিয়াজ রুটে ঘন জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা হঠাৎ করেই নিরাপত্তা বাহিনীর জিপসি ও ট্রাকে গুলি চালাতে শুরু করে। হামলার পর সন্ত্রাসীরা আবারও ঘন জঙ্গলে চলে যায়। এক মাসের মধ্যে সেনা সদস্যদের ওপর এটি দ্বিতীয় বড় হামলা। ঠিক এক মাস আগে, ২২ নভেম্বর, রাজৌরির বাজিমাল এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা হয়েছিল। সেই ঘটনায় দুই ক্যাপ্টেন সহ পাঁচ সেনা শহিদ হন।

    নবভারত টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৩ সালে, সন্ত্রাসীরা এই এলাকায় ৬টি হামলা চালিয়েছে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, এই বছর পুঞ্চ-রাজৌরি সেক্টরে এনকাউন্টারে ১৯ সেনা জওয়ান শহিদ হয়েছেন। দুই বছরে এই সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৪। এই হামলার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর সংলগ্ন জম্মুর রাজৌরি-পুঞ্চ এলাকা কেন সেনাবাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠল?

    ঘন জঙ্গল সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল

    সেই ২০১৯ সাল থেকে, জম্মু ও কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর আক্রমণাত্মক অনুসন্ধান অভিযান সন্ত্রাসীদের ব্যাকফুটে ফেলেছে। এ বছর এখন পর্যন্ত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৪৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। উপত্যকা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পরে, সন্ত্রাসীরা পীর পাঞ্জাল রেঞ্জের দক্ষিণে রাজৌরি এবং পুঞ্চ জেলার জঙ্গলকে তাদের ঘাঁটি বানিয়েছিল। রাজৌরি এবং পুঞ্চের একটি অংশও পিওকে-র সাথে সংযুক্ত। ৪,৩০৪ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত POK-এর এই এলাকায় জম্মুতে অনুপ্রবেশ করা সহজ। উভয় জেলার ঘন বন সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। রাজৌরির ডেরা কি গালি এবং বাফলিয়াজের মধ্যে ১২ কিলোমিটার প্রসারিত জঙ্গল এতটাই ঘন যে যানবাহন নিয়ে সেখানে প্রবেশ করা সহজ নয়। সেনা অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা সহজেই পাকিস্তানে চলে যায়। এই এলাকায় প্রাকৃতিক গুহাও রয়েছে, যেখানে সন্ত্রাসীরা লুকিয়ে থাকে এবং সহজেই ক্যাম্প করে। ২০২১ সালে, ভাটাধুলিয়ান জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার পর, ২১ দিন ধরে অনুসন্ধান অভিযান চালানো হয়েছিল, কিন্তু সন্ত্রাসীদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    তথ্যদাতাদের বিশ্বাসঘাতকতা

    পুঞ্চ এবং রাজৌরি অঞ্চলে পাকিস্তানে আত্মীয়-স্বজন রয়েছে এমন বিপুল সংখ্যক লোক রয়েছে। সন্ত্রাস যখন চরমে, তখন সুরানকোট, ভাট্টা ধুরিয়ান, থানা মান্ডির মতো এলাকাগুলো ছিল আইএসআই-এর কেন্দ্র। LOC-এর কাছাকাছি হওয়ায়, পাকিস্তানি সেনারা সহজেই সন্ত্রাসীদের কাছে রসদ, গোলাবারুদ এবং নগদ অর্থ সরবরাহ করে। আত্মীয়তার কারণে এ এলাকার গ্রামে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গড়ে তোলা সহজ। বলা হয়, অনেকবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে গোয়েন্দারা। অনেক সময় মানুষ ভয়ে সন্ত্রাসীদের সমর্থন করতে বাধ্য হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে দুই যুবককে হত্যা করেছিল সন্ত্রাসীরা। ২১ ডিসেম্বরের হামলার ঘটনায়ও তথ্যদাতাদের সঠিক তথ্য না দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। জঙ্গলে অতর্কিত অবস্থায় পড়ে থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসীদের লুকিয়ে থাকার কথা নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানো হয়।

    ২২-২৩ নভেম্বর বাজিমালে পাঁচ সেনা শহীদ হওয়ার পর সেনাবাহিনী দীর্ঘ অনুসন্ধান অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা উচ্চতা থেকে হামলা চালাতে থাকে। যখনই নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা হয়, তখনই পুঙ্খানুপুঙ্খ রেকি করার পরই তা করা হয়। একের পর এক লড়াইয়ের খুব কম সুযোগ রয়েছে। ৫ মে, রাজৌরির কেশরী হিল এলাকায় উচ্চতার পরিণতিও ভোগ করতে হয়েছিল সেনাবাহিনীকে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সৈন্যরাও সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত, যারা হামলাকারীদের অবস্থান পরিবর্তন করে লুকিয়ে থাকতে বলে। অন্যদিকে, কাশ্মীর উপত্যকার তুলনায় এই এলাকায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি কম।

     

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • India Pakistan: POK দখলে মোদীর প্রথম স্টেপ! পাকিস্তান যা করে ফেলল জানলে অবাক হবেন

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    India Pakistan: POK নিয়ে শাহের হুঁশিয়ারিতে রেসপন্স কী পাকিস্তানের? প্রতিক্রিয়া জানাটা জরুরী তাহলে তো বুঝবেন খেলা শুরু। পাকিস্তান ভয় পেল নাকি রুখে দাঁড়াল কাশ্মীর বাঁচাতে? পিওকে কীভাবে গেছিল পাকিস্তানের কাছে জানা আছে আপনার? পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখলে মোদীর এটা প্রথম ধাপ। এ কি পাকিস্তান ভয় পেয়ে গেল নাকি? যে কাশ্মীর নিয়ে এত বছর দাপিয়েছে পাকিস্তান এবার ব্যাকফায়ার হয়ে গেল পুরোটাই। পাকিস্তান কি ভারতের কাশ্মীর নেবে, ভারত পাল্টা দখল করবে পিওকে। আচ্ছা ইদানিং পাকিস্তানকে আর কাশ্মীর নিয়ে কথা বলে না কেন? মোদীর একের পর এক উত্থান দেখে থরহরিকম্প নাকি ISI? অমিত শাহ ভারতের সংসদের দাঁড়িয়ে পিওকে দখলের ব্লুপ্রিন্ট দিয়ে দেওয়ার পর সীমান্ত পেরিয়ে সেই খবর ইসলামাবাদের কানে পৌঁছতে খুব বেশি সময় লাগেনি। সেখানকার সরকার, সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থা সর্বোপরি পাকিস্তানের জনতা কী বলছে এরপর? সত্যিই কি নেহরুর জন্যই পিওকে আজ পাকিস্তানের হাতে?

    ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও কাশ্মীর নিয়ে তখনও মীমাংসা হয়নি। কাশ্মীরের রাজা হরি সিং তখনও স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু হঠাত করে কাশ্মীরের ওপর আক্রমণ করে দেয় পাকিস্তানি ফোর্স। অবশ্য ফোর্স না বলে পাশতুন উপজাতি বাহিনী বললে বেটার। এরপরই মাউন্টব্যাটেনের প্রস্তাব মেনে ‘ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশনে’ স্বাক্ষর করেন হরি সিং। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অংশ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে শুরু হয় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ। এতদিন যে লড়াইয়ে পাশতুন বাহিনীর সঙ্গে লড়ছিল ‘জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর স্টেট ফোর্সেস’ এবার সেই লড়াইয়ে অংশ নিল ভারতীয় সেনা। ১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর শুরু হয় যুদ্ধ। চলেছিল ১ বছর ২ মাস ২ সপ্তাহ সময়কাল ধরে। পরে ১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়। তার আগে ১৯৪৮ সালেই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায়।

    যুদ্ধবিরতির পর নিয়ন্ত্রণরেখা তৈরি হয়ে যায় কিন্তু জারি থেকে যায় বিতর্ক। পাক অধিকৃত কাশ্মীর আর পুনরুদ্ধার করা যায়নি কেন সেই সময় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন নেহরু? সেই প্রশ্নটাই সংসদে তুলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অবাক করা ঘটনা শুনবেন শাহের এই হুঁশিয়ারির পর পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক একেবারেই চুপ। পাকিস্তানের তরফ থেকে টুঁ শব্দটাও করা হয়নি কার্যত, কিন্তু কেন? পাকিস্তান কি পাল্টা কোনও প্ল্যান করছে, নাকি মোদী-শাহের এমন আত্মবিশ্বাস পাকিস্তানের মুখে সেলোটেপ লাগিয়ে দিয়েছে। এরইমধ্যে ভারতের বিদেশমন্ত্রক থেকে বড় বয়ান বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন এটা নিয়ে কাউকে জবাবদিহিতা করবে না ভারত। পিওকে ভারতেরই অংশ আর এটা জলের মতো পরিস্কার। এটা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর নিজেদের মত বদলানোর কোনও প্রয়োজন ভারতের নেই। পাকিস্তান কি এরপরও চুপ থাকবে?

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Amit Shah: মোদীর POK দখলের প্ল্যান রেডি! অমিত শাহ প্রকাশ্যে আনলেন বিগ স্ট্র্যাটেজি, পাকিস্তান কাঁপছে

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Amit Shah: POK ফেরানোর প্ল্যান রেডি করে ফেললেন মোদী। POK আমাদের! পাকিস্তানকে প্রকাশ্যে হুঙ্কার অমিত শাহ আইনি প্রক্রিয়া নাকি যুদ্ধ কীভাবে ফেরানো হবে পাক অধিকৃত কাশ্মীর? সংসদে দাঁড়িয়ে ব্লুপ্রিন্টের খোলসা করলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অর্জুনের লক্ষ্যভেদের মতই পাক অধিকৃত কাশ্মীর একমাত্র টার্গেট মোদীর। পিওকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে শেষপর্যন্ত যাবেন নরেন্দ্র মোদী সেটাই হাতেনাতে প্রমাণ হয়ে গেল আরও একবার, কিন্তু এত বছর আগের হওয়া কাশ্মীরের একটা ভুখন্ড ভারত পাকিস্তানের থেকে ফেরাবে কীভাবে? কী পরিকল্পনা রয়েছে দিল্লির এনিয়ে? ধোঁয়াশা কাটছে ধীরে ধীরে। শুধুই হুঙ্কার গর্জন আর ভোটের জন্য প্রচার নয় পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে বড় পরিকল্পনা রেডি হয়ে গিয়েছে। সাংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে দিলেন পাক-অধিকৃত কাশ্মীর আমাদের আর এই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের জন্য জম্মু কাশ্মীর বিধানসভায় ২৪ আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে এর মানে কী?

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন এর মানেটা খুব পরিস্কার, মোদী সরকার পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানের থেকে ছিনিয়ে আনবেই ভারত। আর সেজন্য আগে থেকে বিধানসভাও রেডি করে রাখা হচ্ছে। পাকিস্তান কি কোনওভাবে তা আটকাতে পারবে? এটা কি সম্ভব? আগে সবমিলিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় ১০৭টি আসন ছিল। সেটা বেড়ে হচ্ছে এখন ১১৪। একটু ভেঙে বললে বিধানসভায় জম্মুর আসনসংখ্যা ৩৭ থেকে বেড়ে ৪৩ হচ্ছে। কাশ্মীরের আসন সংখ্যা ৪৬ থেকে হচ্ছে ৪৭। আর পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জন্য ২৪টি আসন থাকছে। কূটনৈতিক মহল বলছে এমনিতেও তো পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষেরা পাক সেনাবাহিনী অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ভারতের সঙ্গেই জুড়তে চাইছে।

    একইসঙ্গে এদিন পিওকে নিয়ে কংগ্রেস ও নেহেরুর পদক্ষেপের নিন্দাও করেন শাহ। শাহের দাবি, পাক অধিকৃত কাশ্মীর আজও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবেই থাকত। শুধু প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর দুটি ভুলের জন্য অধিকৃত কাশ্মীর আজ ভারতের সঙ্গে নেই। নেহেরুর প্রথম ভুল, আমাদের সেনা যখন যুদ্ধে জিতছিল তখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা এবং সেটাকে কার্যকর করা। আর তিনটে দিন পর যুদ্ধবিরতি হলেও আজ পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের সঙ্গে থাকত। নেহেরুর দ্বিতীয় ভুল, ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যুকে রাষ্ট্রসংঘে নিয়ে যাওয়া। একইসঙ্গে অমিত শাহ বলেন ‘‘ওই দু’টি সিদ্ধান্তকে নেহরুপন্থার বিপর্যয় হিসেবে বলা হয় আমি তা সমর্থন করি আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি নেহরুর ওই ভুলগুলির কারণেই কাশ্মীরকে এত দীর্ঘ সময় ধরে ভুগতে হয়েছে’’।

    নেহরুর নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আক্রমণ শানানোয় সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন কংগ্রেসের নেতারা। এখানেই শেষ নয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিস্থিতি নিয়ে পরিস্কার বলে দেন জম্মু কাশ্মীরে ২০২৬ পর্যন্ত নো টেরর প্ল্যান চালু হয়ে যাবে। এর মানে কাশ্মীরের থেকে খুঁজে খুঁজে সন্ত্রাসকে সাফ করবে মোদী সরকার। এবার দেখার ঠিক কীভাবে পিওকে দখলের প্ল্যান অ্যাকশনে পরিণত করে মোদী-শাহ জুটি।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • কুখ্যাত লস্কর স্নাইপারের গেম ওভার কীভাবে ? ২৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপারেশন ইন্ডিয়ান আর্মির

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    কাশ্মীরে লস্করের কুখ্যাত স্নাইপার খতম। স্পেশাল মিশনে তাক ভারতে পাঠায় পাকিস্তান। ৪ সেনাকর্মীর মৃত্যুর বদলা নিতে ২৪ ঘন্টাই এনাফ। রুদ্ধশ্বাস অপারেশন ইন্ডিয়ান আর্মির রাজৌরির ঘন জঙ্গলে। আতঙ্কের শেষ নভেম্বর উপত্যকায় কড়া অ্যাকশন শুরু। সে একবার টার্গেট করলে বেঁচে ফিরত না কেউ। ভারতীয় সেনার চার চারজন জওয়ানকে একা শেষ করেছে লস্করের এই স্নাইপার। কাশ্মীরের ঘন জঙ্গলে এর জন্যই দাপিয়ে বেড়াত লস্কর-ই-তৈবা। এবার একেবারে শিকড় সুদ্দুই উপড়ে ফেলল ইন্ডিয়ান আর্মি। যেন সেনারা পণ করে নিয়েছিলেন এর বদলা না নিয়ে ছাড়বেন না তারা। রাতভর অপারেশন বেলা বাড়তেই বড় সাফল্য। বৃহস্পতিবার সকালে সেনার গুলিতে খতম হয় পাকিস্তানি এক জঙ্গি। আর তারপরই জানা যায় লস্করের শীর্ষপদে ছিল কুয়ারি নামের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ সন্ত্রাসবাদী যার জেরে এই মিশনে লস্কর বড় লস হয়ে গেল।

    সেনা সূত্রে জানা যাচ্ছে রাজৌরির কালাকোট জঙ্গলে মূলত ঘাঁটি গেঁড়েছিল ওই লস্কর জঙ্গি। স্পেশাল মিশনে তাকে উপত্যকায় পাঠায় পাকিস্তান। সীমান্ত ডিঙিয়ে পাঠানো হয়েছিল স্থানীয় পার্বত্য এলাকায়। জঙ্গি তৎপরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সেনার দাবি করে নিহত জঙ্গি ছিল আইইডি বিশেষজ্ঞ। এমনকি ভালো লেভেলের স্নাইপার প্রশিক্ষণও ছিল তার। পাহাড়ে গুহায় লুকিয়ে ক্রমাগত কাজ চালাচ্ছিল কুয়ারি, কিন্তু উপত্যকায় কবে ঢুকল এই জঙ্গি? একগুচ্ছ ইনফরমেশন উঠে এসেছে সেনার হাতে। বুধবার ২২ নভেম্বর জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার সোলকি অঞ্চলে জঙ্গিদের নিকেশ করতে অভিযান শুরু করেছিল সেনাবাহিনী। গোয়েন্দা বিভাগের খবরের ভিত্তিতেই তৈরি হয় গোটা নকশা। সেইমতো গোটা এলাকাজুড়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেন জওয়ানরা। তার পরই সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে তীব্র গুলির লড়াই হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। আর সংঘর্ষে শহিদ হন এক মেজর ও দুই জওয়ান। পরে আরও এক সেনাকর্মীর মৃত্যু হয়।

    রাজৌরির ঘন জঙ্গলে রাতভর অপারেশন চললেও ভোরের আলো ফুটতেই এ সার্চ অপারেশনের গতি বাড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। ব্যাস তার কয়েকঘন্টার মধ্যেই সেনাকর্মীদের বলিদানের বদলা। তথ্য বলছে ২০২৩ সালে ৮১ জন সন্ত্রাসবাদীকে খতম করেছে ভারতীয় সেনা। লড়াইয়ে প্রাণ গিয়েছে ২৭ জন নিরাপত্তাকর্মী। কাশ্মীরের ৩ জেলায় ২৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। ১৫ জন জওয়ান শহিদ হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যেভাবে জম্মু কাশ্মীরে সেনা অপারেশন চালিয়ে লস্করের টপ টপ কমান্ডারকে ধরাশায়ী করে দিয়েছে তাতে। এখন উপত্যকা জঙ্গি তৎপরতা চালানো বেশ চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের জন্য সেজন্যই তো একেবারে যেসব জঙ্গি এখন গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে তাদেরকেই কাজে লাগাচ্ছে লস্কর। কুয়ারি নাম এই লস্কর জঙ্গিও গত এক বছর ধরে রাজৌরি-পুঞ্চ সেক্টরে আত্মগোপন করেছিল বলে সেনা সূত্রে খবর মিলছে। ডাংরি ও কান্দিতে হামলার সঙ্গেও জড়িত ছিল এই জঙ্গিই। তাকে খতম করা মানে যে ভারতীয় সেনার জন্য বড় সাফল্য এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • পুলওয়ামায় ফের জঙ্গি হামলা ? কোন গুপ্ত খাজানা আছে এখানে! বড় চমক কাশ্মীরে

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    কাশ্মীরের পুলওয়ামা থেকে বড় খবর! আবার কোনও অ্যাটাক। কেন জঙ্গিরা বারবার পুলওয়ামাকেই টার্গেট করে? এমন কি আছে এই এলাকায়? ঠিক কত জঙ্গির লুকিয়ে থাকার খবর মিলছে? ২০১৯ সালে যে পুলওয়ামায় ৪০ট তাজা প্রাণ শহিদ হয়েছিল সেই পুলওয়ামাকে আসলে বলা হয় আনন্দ অব কাশ্মীর। কিন্তু সেখান থেকেই খবর আসছে বড়সড় এনকাউন্টারের। দিওয়ালির আবহের মধ্যেই ঘটতে পারে কোনও অঘটন? বারবার পাকিস্তানের টার্গেট পুলওয়ামাই কেন হয়?জম্মু ও কাশ্মীরে চলছে জঙ্গিদমন অভিযান। শনিবার দুপুর থেকে সেই পুলওয়ামা জেলার পারিগাম এলাকায় শুরু হয় এনকাউন্টার। কোনও বড় জঙ্গি লুকিয়ে থাকার খবর মিলছে নাকি?পুলওয়ামার ঘন জঙ্গলে ঢাকা এলাকাতেই কি জঙ্গিদের ডেরা।

    পুলওয়ামার ভুগোল নিয়ে যারা খুঁটিনাটি সবটাই জানেন। তারা বলছেন উপত্যকার এই জেলাতে জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকাটা বেশ সহজ। এর পাশে ঘন জঙ্গল আর তার থেকে বড় সুবিধা। এই ম্যাপ দেখলে বুঝবেন লাইন অব কন্ট্রোলের অনেকটাই কাছে কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলা। কাশ্মীরের বাকি জেলার মতই এখানেও স্থানীয়দের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহার করে। তাদের বাড়িতেই জঙ্গিদের আশ্রয় নেওয়ার বহু খবর আগেও সামনে এসেছে। এলওসি থেকে তাই কোনওমতে অনুপ্রবেশ করে এই জেলায় গা ঢাকা দেওয়াটা খুব কঠিন নয়। পুলওয়ামা এলাকায় এবার জঙ্গিদের গতিবিধির খবর ছিল ভারতীয় সেনার কাছে। তার ভিত্তিতেই শুরু হয় অভিযান। সেনা ও পুলিশের যৌথ বাহিনী সেখানে পৌঁছতেই জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে জানা যায় গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে রেখেছে যৌথ বাহিনী। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি শীতের আগে এই অনুপ্রবেশই বাড়তে থাকে। কারণ শীত পড়ার পর চরম পরিমাণে তুষারপাত শুরু হয়ে যায় পুলওয়ামা ও তার সংলগ্ন এলাকায়।

    বুদগাম-পুঞ্চ, শ্রীনগর দিয়ে ঘেরা পুলওয়ামায় মোট ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষের বাস। আর তাদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ মানুষের ধর্মই ইসলাম। হিন্দুদের সংখ্যা এই এলাকায় ৫ শতাংশেরও কম কিন্তু জানেন কি এসব সত্ত্বেও পুলওয়ামা কাশ্মীরের এমন এক জেলা যার ভূমিকা কাশ্মীরের অর্থনীতিতে মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৯ তৈরি হয়েছিল কাশ্মীরের জেলা পনবনগম। সেখান থেকে নাম বদলে পুলগাম তারপর পুলওয়ামা। এই জেলাকে বলা হয় রাইস বোল অব কাশ্মীর। কারণ এখানে উপত্যকার সবথেকে বেশি চাল উৎপাদন  হয়। শুধু তাই নয় সবথেকে বেশি দুধ পাওয়া যায় এই পুলওয়ামায়। কাশ্মীরের সবথেকে ভালো কোয়ালিটির কেশরও মেলে এই জেলাতেই।

    ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর এই জেলার নিরাপত্তা অনেক বেশি বাড়িয়ে দেওয়া হয়। উরির চেয়েও ভয়াবহ জঙ্গি হানা হিসেবে একে বিবেচনা করা হয়েছিল। দায় স্বীকার করেছিল জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। তার আগের দিনই পুলওয়ামার স্কুলে বিস্ফোরণে আহত হয়েছিল ১০ ছাত্র। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফের জঙ্গি হামলা হয় ভূস্বর্গে। তবে ভারত ও ছাড়েনি নিয়েছিল তার বদলা। পুলওয়ামায় হামলার ১২ দিন পর আকাশপথে প্রত্যাঘাত হানে ভারত। ২১ মিনিটের নিখুঁত অপারেশন। ১৯৭১-এর পর প্রথমবার পাকিস্তানে ঢুকে পাকিস্তানকে জবাব দেয় নয়াদিল্লি। জইশ-ই -মহম্মদের কন্ট্রোল রুম উড়িয়ে দেয়। বায়ুসেনার ১২টি মিরাজ যুদ্ধবিমান।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • কাশ্মীরে কেন ঠাঁই হয়নি রাজা হরি সিংয়ের! ঝড়ঝাপটা ভরা জীবন, শেষে কে পেল ক্ষমতা ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    কাশ্মীরের রাজা হরি সিংয়ের ঠাঁই কেন হয়নি উপত্যকায়? কাশ্মীরকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত করার চরম ফল পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বড় ঝড়ঝাপটা, একের পর এক শোকের শিকার হয়েছিলেন হরি সিং। নেহেরু বা জিন্না নয় কে ছিলেন হরি সিংয়ের কাছের মানুষ? কাশ্মীরের ইতিহাসের কথা উঠলেই মহারাজা হরি সিংয়ের কথা ওঠে কিন্তু তিনি কেমন ছিলেন? রাজা হয়ে এমন কোন বড় কাজ করেছেন? কাশ্মীরবাসীদের জীবনে তার অবদান কী তাঁর ব্যক্তিগত জীবন আসলে কতটা রহস্যে ভরা ছিল? জানেন মহাত্মা গান্ধীর কতটা কাছের ছিলেন রাজা হরি সিং? তাঁর পুত্র করণ সিং এখন কোথায় কাশ্মীরে থাকেন নাকি? তথ্য বলে বিলাসবহুল জীবন থাকা সত্ত্বেও জীবনের শেষ দিনগুলোতে কাশ্মীরে ঠাঁই হয়নি হরি সিংয়ের।

    রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার আদর্শে চলা রাজা হরি সিং কাশ্মীরে এনেছিলেন যা না হলে কাশ্মীরিরা আজ বোধহয় শিক্ষার আলো পেতেন না। ডোগরা রাজপুত বংশে হরি সিংহের জন্ম ১৮৯৫-এর ২৩ সেপ্টেম্বর। এই ডোগরা বংশ প্রথমে ছিল শিখ শাসকদের সেনাদলে। তারপর ব্রিটিশদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাকে সম্বল করে ক্ষমতাদখল করে। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ শিখদের পরে তারাই হয়ে ওঠে উপত্যকার শাসক। আর এই বংশের প্রথম শাসক ছিলেন গুলাব সিংহ জামওয়াল। গুলাব সিংহের উত্তরাধিকার-ধারায় রাজা অমর সিংহ জামওয়ালের পুত্র হরি সিংহ চোদ্দ বছর বয়সে তিনি তাঁর বাবাকে হারান। সেই অবস্থায় তাঁর শিক্ষার দায়িত্ব নেয় ব্রিটিশ সরকার। মেজর এইচ কে ব্রার ছিলেন ব্রিটিশ সরকার নিযুক্ত হরি সিংয়ের অভিভাবক। অজমেঢ়ের মেয়ো কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। তারপর ছিল তাঁর সেনা-প্রশিক্ষণের পালা যা হয় দেহরাদূনের তৎকালীন ইম্পেরিয়াল ক্যাডেট কর্পস-এ।

    পড়াশোনা বা ঐশ্বর্যে কোনও খামতি না থাকলেও হরি সিংয়ের ব্যক্তিগত জীবনে ছিল নানান ঝড়ঝাপটা। চার বার বিবাহ হয়েছিল। হরি সিংহের বিয়ের দু’বছর পরে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মারা যান তাঁর প্রথম রানি। তারপর দ্বিতীয় বিবাহ মাত্র পাঁচ বছরের দাম্পত্যের পরে মৃত্যু হয় নিঃসন্তান দ্বিতীয় স্ত্রীর। তৃতীয় রানিও ছিলেন সন্তানহীনা। পুত্রসন্তানের জন্ম দেন চতুর্থ রানি কাংড়ার তারা দেবী সাহিবা। বিয়ের তিন বছর পরে ১৯৩১ সালে জন্ম হয় হরি সিংহ ও তারা দেবীর একমাত্র পুত্র করণ সিংয়ের। ১৯৫০ সালে ভেঙে যায় রাজা হরি সিংহের চতুর্থ বিয়ে। রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষতার পথে চলা হরি সিং বারবার বিরোধীতা করেছিলেন মুসলিম লিগের। আবার কংগ্রেস বা জওহরলাল নেহরুরও ঘনিষ্ঠ ছিলেন না তিনি। কাকা প্রতাপ সিংহের মৃত্যুর পরে ১৯২৫ সালে সিংহাসনে অভিষেক হয় হরি সিংহের। এই সালটা অনেকেরই জানা তবে হরি সিং নিজের রাজত্বে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছিলেন। আইন জারি করেছিলেন বাল্যবিবাহ রোধে নিম্নবর্গের জন্য খুলে দিয়েছিলেন ধর্মস্থানের দরজাও।

    হরি সিং কোনওদিনই চাননি ভারত বা পাকিস্তান কোনও দিকেই অন্তর্ভূক্ত হোক কাশ্মীর কিন্তু পাকিস্তান সেনার হামলা থেকে নিজের প্রদেশকে রক্ষা করতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহায্য নেওয়া ছাড়া তাঁর আর কোনও‌ উপায় ছিল না। অথচ দেখুন কাশ্মীরের এত বড় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হরি সিংয়ের শেষ ঠাঁই একেবারেই উপত্যকায় হয়নি। ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিস্থিতি সবই হরি সিংহের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিল। তিনি বাধ্য হন ছেলে কর্ণ সিংহকে যুবরাজ ঘোষণা করতে। পরিস্থিতির চাপে কাশ্মীর ছাড়তে বাধ্য হন হরি সিংহ। তখন ক্ষমতায় আসেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা শেখ আবদুল্লা। আর হরি সিং কোথায় গেলেন জানেন? ক্ষমতাচ্যুত হরি সিংহের জীবনের শেষ দিনগুলো কেটেছিল আরবসাগরের তীরে। সাবেক বম্বে শহরে যা এখন মুম্বই। সেখানেই প্রয়াত হন ১৯৬১-র ২৬ এপ্রিল। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চিতাভস্ম ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরে অস্থি বিসর্জন করা হয়েছিল জম্মুর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তাওয়ই নদীতে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • কাশ্মীরের যখের ধনই পাকিস্তানের চাই! এমন কী আছে এই উপত্যকায় ? ছলচাতুরির ইতিহাস স্বাক্ষী

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    কাশ্মীরে এমন কোন গুপ্তধন আছে যা পেতে এত মরিয়া পাকিস্তান? কাশ্মীর পেলে কী লাভ ইসালামাবাদের? কেন কাশ্মীর এতটা গুরুত্বপূর্ণ ভারত-পাকিস্তানের জন্য? শুধু হরি সিংয়ের কাহিনী জানলেই হবে না নেপথ্যে ছিল অনেক বড় লাভের অঙ্ক। চীনের হাতে কাশ্মীরের একটা পার্ট কীভাবে চলে গেল? উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার ভারতের ৪৭ শতাংশ মুসলিমের বাস এই ৩ রাজ্যে কৈ এই রাজ্যগুলোকে তো নিজেদের দখলে করার চেষ্টা করেনা পাকিস্তান? কাশ্মীরে এমন কি সম্পদ আছে যা নিয়ে এত টানাটানি? শুধুই কি কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য?

    রাজা হরি সিং নিজে ডোগরা সম্প্রদায়ের হয়ে শাসন করেছিলেন এক মুসলিম রাজত্ব। পাকিস্তানের অতিলোভেই তারা হারিয়ে ফেলেছিল কাশ্মীর। কাশ্মীরের যে অংশ ভারতের তা পাকিস্তানের হাতে থাকলে অর্থনীতি নিয়ে আর ভাবতে হত না এমনটাই দাবি করেন বহু বিশেষজ্ঞ। ভাববেন না শুধুমাত্র কাশ্মীরে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বলেই পাকিস্তানের নজর কাশ্মীরের দিকে। আসলে অঙ্ক কষা হয়েছিল যা অনেক কম মানুষই জানেন কাশ্মীর আসলে কতটা বড় জানেন? ১৯২৫ সালে অবিভিক্ত কাশ্মীরের গদিতে বসেন রাজা হরি সিং কিন্তু রাজনৈতিক ভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স যা আজকের খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে আসা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে তাড়াতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহায্য নেওয়া ছাড়া তাঁর আর কোনও উপায় ছিল না তাঁর কাছে। পরিস্থিতির ফলস্বরূপ ১৯৪৭-এর ২৬ অক্টোবর ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাসেশনে স্বাক্ষর করেছিলেন হরি সিং জিন্না অবশ্য বলেছিলেন এসব চুক্তি তিনি মানেন না।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন না মানার যথেষ্ট কারণ আছে। যেহেতু কাশ্মীরে তখনও হিন্দুদের থেকে মুসলিমসংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল জম্মুতে ছিল মূলত হিন্দুদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাই পাকিস্তান আপাদমস্তক মুসলিম দেশ হওয়ায় তাদের দিকেই কাশ্মীরের জনগনকে ঝোকানোর চেষ্টা করে জিন্নার দেশ। আসলে কাশ্মীরে এমন কিছু সম্পদ রয়েছে তা পাকিস্তানের হাতে এলে মালামাল হয়ে যাবে তারা যদিও কাশ্মীরের একটা পার্ট গিলগিট বালটিস্তান যা পাক অধিকৃত কাশ্মীরেই অবস্থিত। তা পাকিস্তানের কাছে থাকা সত্ত্বেও তারা কিছুই বিশেষ করতে পারেনি। ঝিলাম, সিন্দু, রাভি, চেনাব, ঝেলাম, তাওই পাঁচ নদী বয়ে যায় কাশ্মীর দিয়ে। পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশ কৃষিকার্যের জন্য অনুকূল। একবার এই পাঁচ নদীর পুরোপুরি দখল পেলে পাকিস্তান অনেক বেশি শস্যশ্যামলা হয়ে উঠতে পারে। দ্বিতীয়ত কাশ্মীরে থাকা ব্যাপক পরিমাণে খনিজ সম্পদ ও কাঠ ইসলামাবাদের আসলে চোখ সেদিকেই কাশ্মীরে এই নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে বড়বড় হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট।

    এবার বুঝতে পারছেন কাশ্মীর দখল কেন পাকিস্তানের স্বপ্ন। বর্তমানে কাশ্মীরের ১৩২৯৭ স্কোয়ার কিমির এলাকা গিলগিট রয়েছে পাকিস্তানের হাতে। প্রায় ৪ মিলিয়ন মানুষের বসবাস সেখানে। ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে তা দখল করে পাকিস্তান। এদিকে ৩৭২৪৪ স্কোয়ার কিমি আকসাই চীন কাশ্মীরের আরেকটা অংশ রয়েছে চীনের অধীনে। ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে চীন কাশ্মীরের আকসাই-চীন অংশটি নিজেদের দখলে করে নেয়। আর তার পরের বছর পাকিস্তান কাশ্মীরের ট্রান্স-কারাকোরাম অঞ্চলও চীনের হাতে ছেড়ে দেয়। বর্তমানে পাকিস্তানের যা অর্থনৈতিক অবস্থা তাতে পাকিস্তানের বহু মানুষেরই দাবি কাশ্মীর কাড়ার মতো ক্ষমতা পাকিস্তানের আর নেই, শেষ বরং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনগনের দাবি তারা ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়। পাকিস্তানের অত্যাচার তারা আর মেনে নিতে পারছেন না। তাই কাশ্মীর দখল যে স্বপ্ন যুগ যুগ ধরে দেখছে জিন্নার দেশ। সেটা যে স্বপ্ন থেকে যাবে তা বলাই বাহুল্য।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • গাজা প্রসঙ্গে কাশ্মীর, পাকিস্তানকে ওপেন চ্যালেঞ্জ ভারতের। ব্যাপক তরজা রাষ্ট্রপুঞ্জেও

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    “গাজা পার্ট টু” জম্মু-কাশ্মীর? এক টুকরো জমিকে হাইফাই নিরাপত্তায় বাঁধছে ভারত। শ্রীনগরের মাটিতে কাশ্মীর বাঁচানোর মন্ত্র। গোপনে কোন ছক কষছে ভারত? রাষ্ট্রপুঞ্জেও প্যালেস্টাইন প্রসঙ্গে কাশ্মীর, ভারত রীতিমতো ধুয়ে দিল পাকিস্তানকে। কীসের আতঙ্কে সিঁটিয়ে উপত্যকা। এই টোটকাতেই গাজার ভয়কে জয় করবে কাশ্মীর। গাজার আতঙ্ক ফিরবে কাশ্মীরে? চান্স কতটা?পাকিস্তান উপত্যকায় ভয়ের বীজ বপন করলেও ভারত তা নির্মূল করতে জানে। শ্রীনগরের মাটিতে তোড়জোড় শুরু ভারতের। ঘটতে যাচ্ছে বড় কিছু। গাজা পার্ট টু এর আতঙ্ক উপড়ে ফেলতে সাংঘাতিক স্টেপ নিল মোদী সরকার।

    সম্প্রতি রাষ্ট্রপুঞ্জে প্যালেস্টাইন প্রসঙ্গে উঠে আসে কাশ্মীরের কথা। রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের স্থায়ী সদস্য মুনির আক্রম সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে বলে বসেন, “প্যালেস্টাইন ও কাশ্মীরের অধিকৃত এলাকার বাসিন্দাদের উপরে অত্যাচার চালাচ্ছে যে সব রাষ্ট্র, এই নিরাপত্তা পরিষদেই তাদের মিত্র রাষ্ট্রেরা রয়েছে”। নাম উল্লেখ না-করলেও পাক প্রতিনিধির মন্তব্যের অন্যতম তির যে ভারতের দিকেই ছিল, তা নিয়ে ডাউট ছিল না। তাই ছেড়ে কথা বলেনি ভারতও। এর পাল্টা দিয়ে ভারতের প্রতিনিধি রবীন্দ্র বলেছেন, ‘একটি বিশেষ দেশের স্বভাবই হচ্ছে এ ধরনের মন্তব্য করা, কিন্তু ভারত সেই প্রসঙ্গে কোনও কথা বলবে না। যে ভূখণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা ভারতীয় রাষ্ট্রের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং আমাদের দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, মন্তব্য ভারতীয় প্রতিনিধির। ভারতের কাছে কাশ্মীরের গুরুত্ব আলাদা। তাই ইজ়রায়েল-প্যালেস্টাইন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে কাশ্মীরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চায় প্রশাসন। এই বিষয়ে অলরেডি শ্রীনগরে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠকও হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ‘গাজা’ হবে না তো জম্মু কাশ্মীর?

    এই ভাবনা থেকেই মূলত নিরাপত্তা নিয়ে প্ল্যানিং শুরু। জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরে ১৫ কর্পসের সদর দফতরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামিদিনে যদি বিক্ষোভ শুরু হয় উপত্যকায়, তবে কীভাবে তা প্রতিরোধ সম্ভব, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়। আলোচনা করা হয়েছে বিদেশি জঙ্গিদের গতিবিধি ও হিংসায় উসকানিতে তাদের ভূমিকা নিয়েও। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নরের উপদেষ্টা আর আর ভাটনগর, সেনাবাহিনীর নর্থান কম্যান্ডের কম্যান্ডার উপেন্দ্র দ্বিবেদী, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল সহ একাধিক শীর্ষকর্তা। টিভি৯ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর এক আধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অবস্থানগতভাবে কাশ্মীর ও গাজা অনেকটাই এক হওয়ায়, গাজার পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছেন উপত্যকাবাসী। নিরাপত্তা বাহিনীর আশঙ্কা, জম্মু-কাশ্মীরে ফের একবার বিক্ষোভ-অশান্তি শুরু হতে পারে। বিঘ্নিত হতে পারে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সেই কারণেই পরিস্থিতি মোকাবিলার ছক কষতে আগেভাগেই বৈঠক করা হল। কাশ্মীরকে গাজা হতে দেবেনা মোদী সরকার। আর তাই এই গ্র্যান্ড প্ল্যানিং।

    প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের অগস্ট মাসে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ অবলুপ্তি ও জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর উপত্যকার পথেঘাটে বিক্ষোভ-অশান্তি অনেকটাই কমে গিয়েছে। কিন্তু, জম্মু-কাশ্মীরে স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা একধাক্কায় অনেকটা কমলেও, উল্টোদিকে বিদেশি, বিশেষ করে পাকিস্তানি জঙ্গির গতিবিধি ও সন্ত্রাসে যোগ অনেকটাই বেড়েছে। চলতি বছরে উপত্যকায় ৪৬ জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে, এর মধ্যে ৩৭ জনই পাকিস্তানি। বিগত ৩৩ বছরে এই প্রথম স্থানীয় জঙ্গির তুলনায় চারগুণ বেশি বিদেশি জঙ্গিকে খতম করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। কিন্তু তারপরেও রিস্ক নিতে চাইছে না মোদী সরকার। এক চিলতে জায়গা, তা নিয়েই দুই দেশের মধ্যে দশকের পর দশক ধরে বিরোধ, শত্রুতা। নতুন করে যুদ্ধ বেধেছে ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনের জঙ্গি গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে। যে যুদ্ধে বলি হচ্ছে গাজা স্ট্রিপ, সেখানকার নিরপরাধ মানুষ। একদিকে যেমন হামাস গাজা স্ট্রিপ থেকে হামলা চালাচ্ছে, তেমনই বদলা নিতে গাজা স্ট্রিপে গোলাবর্ষণ করছে ইজরায়েল সেনা। দুই দেশের টানাপোড়েনে আখেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাজাই। আর গাজায় এই সঙ্কটই উদ্বেগ তৈরি করেছে জম্মু-কাশ্মীর নিয়েও। কিন্তু ভারত যে তার জন্য তৈরি হচ্ছে, আঁটঘাট বাঁধছে সেটাও দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Exit mobile version