Tag: India

  • ব্রিকস আসলে কী? সদস্য নয় বাংলাদেশ, তবু কেন এত গুরুত্বপূর্ণ আউটরিচ?

    ব্রিকস আসলে কী? সদস্য নয় বাংলাদেশ, তবু কেন এত গুরুত্বপূর্ণ আউটরিচ?

    Bangladesh BRICS Outreach: বাংলাদেশ ব্রিকসের স্থায়ী সদস্য (Bangladesh BRICS Outreach) না হলেও আউটরিচ মঞ্চে তার উপস্থিতি ভারত ও ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে। ব্রিকসের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ, ভারতের ভূমিকা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্ভাবনা ঘিরে সামনে আসছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    ব্রিকস ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চিন—চারটি দ্রুত-বর্ধনশীল অর্থনীতিকে ঘিরে একটি ধারণা। আজ সেই ধারণা অনেক বড় এক ভূরাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ২০০১ সালে অর্থনীতিবিদ জিম ও’নিলের তৈরি করা ‘ব্রিক’ ধারণা থেকে শুরু করে ২০০৯ সালের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন, দক্ষিণ আফ্রিকার যোগদান এবং পরবর্তী সম্প্রসারণ—ব্রিকসের পথচলা আসলে বিশ্ব অর্থনীতি ও কূটনীতির বদলে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ গল্প। বর্তমানে ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশ নিয়ে এই জোট বিশ্বের প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ জনসংখ্যা, ৪০ শতাংশ বিশ্ব উৎপাদন এবং ২৬ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিনিধিত্ব করে।

    এই পরিবর্তিত ব্রিকস কাঠামোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ২০২৬ সালের ভারত-আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে প্রশ্ন শুধু ব্রিকসে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনীতি, চিন-ভারত সমীকরণ এবং বাংলাদেশের বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য।

    ব্রিকসের জন্ম থেকে আজকের বিস্তার (Bangladesh BRICS Outreach)

    ব্রিকসের ইতিহাস বুঝতে হলে শুরুতে ফিরে যেতে হয় ২০০১ সালে। সেই সময় গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদ জিম ও’নিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চিনকে বোঝাতে ‘ব্রিক’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তখন এটি কোনও রাজনৈতিক জোট ছিল না; বরং দ্রুত বেড়ে ওঠা অর্থনীতিগুলিকে নিয়ে একটি অর্থনৈতিক ধারণা ছিল। পরে এই ধারণাই রাষ্ট্রগুলির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার মঞ্চে পরিণত হয়। ২০০৬ সালে চার দেশের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয় এবং ২০০৯ সালের ১৬ জুন রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন।

    এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্ত হওয়ায় ‘ব্রিক’ থেকে ‘ব্রিকস’ নামটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় পাঁচ দেশের কাঠামো বজায় থাকার পর ২০২৩ সালের জোহানেসবার্গ শীর্ষ সম্মেলনে আরও বড় সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এবং ইন্দোনেশিয়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পূর্ণ সদস্য হয়। পাশাপাশি ২০২৫ সালে বেলারুশ, বলিভিয়া, কাজাখস্তান, কিউবা, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম অংশীদার দেশ হিসেবে যুক্ত হয়।

    এই সম্প্রসারণের ফলে ব্রিকসের চরিত্রও বদলেছে। এটি আর কেবল কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতির সমন্বয় নয়; বরং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দেশকে নিয়ে বৃহত্তর গ্লোবাল সাউথের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। এর পাশাপাশি ২০১৪ সালে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রেও নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়েছে।

    আউটরিচ অধিবেশন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    ব্রিকসের আউটরিচ ব্যবস্থা শুরু থেকেই ছিল না। ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধরনের সংলাপের আয়োজন করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা তার আঞ্চলিক বাস্তবতা সামনে রেখে আফ্রিকান ইউনিয়ন ও আফ্রিকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দেশের নেতাদের সঙ্গে ব্রিকসের মূল বৈঠকের পাশাপাশি একটি বিশেষ সংলাপের সুযোগ তৈরি করেছিল। এরপর আয়োজক দেশগুলি নিজেদের অঞ্চল ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃত্বকে ব্রিকসের সঙ্গে যুক্ত করার এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে থাকে।

    ২০১৪ সালে ব্রাজিলের ফোর্তালেজা সম্মেলনে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলির সঙ্গে সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে রাশিয়ার উফা সম্মেলনে ইউরেশিয়া ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক সামনে আসে। ২০১৬ সালে ভারতের গোয়া সম্মেলনে বিমসটেক দেশগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই অধিবেশনে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেন। ২০১৭ সালে চিনের শিয়ামেন সম্মেলনে এই ধারণা আরও বিস্তৃত হয়ে ‘ব্রিকস প্লাস’ কাঠামোর দিকে যায়।

    আউটরিচের গুরুত্ব এখানেই। কোনও দেশ পূর্ণ সদস্য না হয়েও ব্রিকসের আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং অর্থায়নের মতো বিষয়ে বৃহত্তর সংলাপ তৈরি হয়। একইসঙ্গে আয়োজক দেশের কাছেও এটি হয়ে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক হাতিয়ার।

    ২০২৬ সালে ভারতের আউটরিচের তাৎপর্য

    ২০২৬ সালে ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সম্মেলনের মূল ভাবনা—সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বকে কেন্দ্র করে নির্মাণ। এই সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    এখানে বাংলাদেশের আমন্ত্রণকে শুধু একটি সম্মেলনে উপস্থিতির বিষয় হিসেবে দেখলে আউটরিচের কূটনৈতিক গুরুত্বের একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। কারণ বাংলাদেশ এখানে শুধু নিজের দেশের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, একটি আঞ্চলিক সংগঠনের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবেও বৃহত্তর আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই জায়গাটিই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের কাছে ব্রিকস কেন কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের ব্রিকস নীতির কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন। অর্থাৎ কোনও একটি শক্তির সঙ্গে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে আবদ্ধ না রেখে একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। ব্রিকস ভারতকে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে একই বহুপাক্ষিক মঞ্চে কাজ করার সুযোগ দেয়। আবার একই সময়ে পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গেও ভারতের নিজস্ব কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক বজায় থাকে।

    ভারতের জন্য ব্রিকসের আরেকটি বড় ক্ষেত্র হল গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্ব। বিশ্বব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার—এই বিষয়গুলিতে ভারত ব্রিকসকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

    অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ব্রিকস ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বিকল্প উন্নয়ন অর্থায়নের একটি কাঠামো তৈরি করেছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ভারতের ৩২টি প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন করা হয়েছে। মেট্রো, দ্রুতগামী গণপরিবহণ, সড়ক, সেতু, জল ও নিকাশি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এই অর্থ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    চিনের সঙ্গে ভারতের জটিল সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ব্রিকস একটি আলাদা মাত্রা তৈরি করে। দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বা মতপার্থক্য থাকলেও বহুপাক্ষিক মঞ্চে যোগাযোগের একটি কাঠামো বজায় থাকে। একইভাবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং নতুন সদস্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য ও বাজারের সুযোগ ভারতের কূটনৈতিক পরিসরকে আরও বিস্তৃত করে।

    বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে, আর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ কী? (Bangladesh BRICS Outreach)

    বাংলাদেশের জন্য ব্রিকসের গুরুত্ব (Bangladesh BRICS Outreach) মূলত তিনটি স্তরে দেখা যায়—অর্থনীতি, ভূরাজনীতি এবং আঞ্চলিক কূটনীতি।

    প্রথমত, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির সম্মিলিত অর্থনৈতিক শক্তি বাংলাদেশের কাছে নতুন বাজার ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণের পথে থাকায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন অর্থায়নের বিকল্প পথ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্যপদে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং চিন ও রাশিয়া এই আগ্রহকে সমর্থন করেছে।

    দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান তাকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে সামনে আনে। ব্রিকসের বিস্তৃত কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তাই শুধু অর্থনৈতিক নয়; এর সঙ্গে বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং বৃহত্তর এশীয় ভূরাজনীতির প্রশ্নও যুক্ত।

    তৃতীয়ত, বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ভারসাম্যের কূটনীতি। একদিকে ভারত, অন্যদিকে চিন; পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুকে একসঙ্গে সামলে এগোতে হবে। প্রদত্ত তথ্যেই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়’ ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই জায়গায় ব্রিকস বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাব্য অতিরিক্ত কূটনৈতিক মঞ্চ। কিন্তু আউটরিচে আমন্ত্রণ পাওয়া এবং পূর্ণ সদস্য হওয়া এক বিষয় নয়। আউটরিচ অংশগ্রহণ বৃহত্তর সংলাপের সুযোগ তৈরি করে; পূর্ণ সদস্যপদের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া ও সমঝোতা প্রয়োজন।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন কূটনৈতিক জানালা কি ব্রিকস? (Bangladesh BRICS Outreach)

    ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রয়োজন সামনে আসে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের ব্রিকস আউটরিচে বাংলাদেশের আমন্ত্রণকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক জানালা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যদি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন, তাহলে ব্রিকসের মতো একটি বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে বিমসটেক ও ব্রিকসের মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগের প্রশ্নটিও সামনে আসবে। ২০১৬ সালের গোয়া সম্মেলনের পর ভারত-বিমসটেক-ব্রিকস সংযোগের যে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছিল, ২০২৬ সালে তা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

    এখানে ভারতের স্বার্থও স্পষ্ট। প্রতিবেশী দেশগুলিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বিশ্বব্যাপী মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত করা ভারতের প্রতিবেশনীতি এবং গ্লোবাল সাউথ নেতৃত্বের ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গোপসাগরীয় দেশকে ব্রিকসের আউটরিচে যুক্ত করা সেই কৌশলেরই অংশ হতে পারে।

    অন্যদিকে বাংলাদেশের কাছেও এই অংশগ্রহণের মূল্য রয়েছে। সদস্য না হয়েও ব্রিকসের বৃহত্তর আলোচনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া যায়। ভারত, চিন, রাশিয়া এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির সঙ্গে একই মঞ্চে সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি হয়। ফলে এটি বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ নয়; বরং নিজের বহুমুখী কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার একটি সুযোগ।

    একবিংশ শতাব্দীর অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে বিশ্বজুড়ে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা দক্ষিণের উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্রিকস আর শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন উদীয়মান ও বিকাশমান অর্থনীতিকে আলোচনার পরিসরে আনার জন্য ব্রিকসের বৈঠকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সম্প্রসারিত আলোচনা অধিবেশন। দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ ভারত ও বাংলাদেশের সামনে আলাদা হলেও পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কৌশলগত সুযোগ তৈরি করেছে। ভারত এই মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নিজের আঞ্চলিক নেতৃত্বকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাচ্ছে।

    বিমসটেককে গুরুত্ব দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগ

    বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিমসটেকের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। ভারত এই আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও গভীর করার সুযোগ পায়।

    ব্রিকসের সম্প্রসারিত আলোচনায় বিমসটেকের সদস্য দেশগুলির উপস্থিতি তাই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। ভারতের জন্য এটি আঞ্চলিক নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার একটি পথ। বাংলাদেশের জন্যও এর গুরুত্ব কম নয়। কারণ বাংলাদেশ একইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

    ফলে ব্রিকসের সম্প্রসারিত আলোচনায় বাংলাদেশের উপস্থিতি শুধু একটি দেশের অংশগ্রহণ হিসেবে দেখা যায় না। এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ, উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলিও বৃহত্তর আলোচনার পরিসরে আসতে পারে।

    বাংলাদেশের কূটনীতির ক্ষেত্রে এই সুযোগ (Bangladesh BRICS Outreach) বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনও একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকসের সম্প্রসারিত আলোচনা সেই বহুমুখী কূটনীতির একটি কার্যকর ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

    এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন বাজার, বিনিয়োগ, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পারে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থের মতো বিষয়েও নিজেদের অবস্থান বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ পায়।

    ব্রিকসের সম্প্রসারিত আলোচনা ভারত ও বাংলাদেশের সামনে দুই ধরনের সুযোগ তৈরি করছে। ভারতের জন্য এটি আঞ্চলিক নেতৃত্বকে বিশ্বমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ। বাংলাদেশের জন্য এটি কোনও নির্দিষ্ট জোটে আবদ্ধ না হয়েও বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ। এই দুই স্বার্থ যদি পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগোয়, তাহলে আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে এই সম্প্রসারিত আলোচনার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।

    #bangladeshbricsoutreach #brics #bricssummit #bangladesh #india #bricsoutreach #narendramodi

  • কোন দেশের একমাত্র পরিচয় কি তার সামরিক এবং অর্থনৈতিক শক্তিতে লুকিয়ে?

    Mohan Bhagwat Vishwaguru: টরন্টোয় হিন্দু বিশ্ববন্ধু সমাবেশে মোহন ভাগবতের বার্তা, শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়ার প্রতিযোগিতার বদলে মানবসেবা, বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান, আশ্রয়দান ও জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার ঐতিহ্যকেই ভারতের বিশ্বগুরু হয়ে ওঠার মূল শক্তি বলে তুলে ধরলেন তিনি।

    বিশ্বের দরবারে কোনও দেশের পরিচয় কি শুধু তার সামরিক শক্তি, অর্থনীতি কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব দিয়ে তৈরি হয়? নাকি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দীর্ঘ ঐতিহ্যও একটি দেশের আন্তর্জাতিক পরিচয়ের ভিত্তি হতে পারে? কানাডার টরন্টোয় এক অনুষ্ঠানে এই প্রশ্নেরই অন্যরকম উত্তর তুলে ধরলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর বক্তব্য, ভারত ‘মহাশক্তি’ হওয়ার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে ওঠেনি; বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো, জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া, বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেওয়া এবং বৈচিত্র্যকে সম্মান করার ঐতিহ্যের মধ্য দিয়েই ভারতের এই পরিচয় তৈরি হয়েছে।

    টরন্টোয় আয়োজিত ‘হিন্দু বিশ্ব বন্ধু—বন্ধুত্বের মাধ্যমে বিশ্বকে আপন করে নেওয়া’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত ভারতের সভ্যতাগত ভাবনা, মানবিকতা, বৈচিত্র্য এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর ধারণাকে সামনে আনেন। অনুষ্ঠানে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ থেকে দুই হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন বলে আয়োজকদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

    ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার অর্থ শক্তির প্রদর্শন নয়

    মোহন ভাগবতের বক্তব্যের মূল জায়গাটি ছিল ভারতের বিশ্বপরিচয়। তাঁর দাবি, ভারত অতীতে কোনও দেশ দখল করে বা রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করে নিজের প্রভাব তৈরি করেনি। বরং জ্ঞান, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে ভারতীয় সভ্যতার প্রভাব বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই কারণেই তাঁর মতে, ভারতের ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার ধারণাকে কেবল শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়।

    টরন্টোর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভারতকে কেউ মহাশক্তি বলতে পারেন, কিন্তু ভারতের ঐতিহাসিক পরিচয় শুধুমাত্র সেই শক্তির উপর দাঁড়িয়ে তৈরি হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের জন্য কাজ করা এবং নিজের সভ্যতাগত মূল্যবোধের মাধ্যমে অন্যদের উপকার করাই ভারতের দীর্ঘ ঐতিহ্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে ভাগবত আসলে ‘বিশ্বগুরু’ শব্দটির একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার অর্থ অন্যের উপর কর্তৃত্ব করা নয়; বরং প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানো। অর্থাৎ ক্ষমতার জায়গা থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার বদলে মানবিক দায়িত্বের জায়গা থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ভাবনাকেই তিনি সামনে এনেছেন।

    আশ্রয় দেওয়ার ঐতিহ্য থেকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

    নিজের বক্তব্যে ভারতের ইতিহাসের বিভিন্ন উদাহরণও তুলে ধরেন ভাগবত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোল্যান্ডের শরণার্থীদের জামনগরের মহারাজার আশ্রয় দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ঐতিহ্য ভারতের সমাজ ও সভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসের অংশ।

    শুধু অতীত নয়, আধুনিক সময়ের ঘটনাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সময় ভারতীয় সামরিক বিমানে শুধু ভারতীয় নাগরিকদের নয়, আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের উদ্ধার করার উদাহরণ দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে এই ঘটনাগুলি ভারতের আন্তর্জাতিক মানবিক ভূমিকার উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে।

    ভাগবতের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ভারতে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আশ্রয় পাওয়ার ইতিহাস। তিনি মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদি এবং পারসি সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে নিপীড়নের মুখে পড়া মানুষ ভারতে আশ্রয় পেয়েছেন। তাঁর মতে, এই সহাবস্থান ও আশ্রয়ের ঐতিহ্য ভারতের সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

    এখানেই তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে মানবিকতার প্রশ্নটি যুক্ত হয়ে যায়। কোনও রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি কেবল তার অর্থনৈতিক পরিসর বা সামরিক সক্ষমতার উপর নির্ভর করে না—দুর্যোগ, যুদ্ধ কিংবা বিপদের সময়ে সেই দেশ অন্যদের জন্য কী করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ভাগবত তাঁর বক্তব্যে সেই দিকটিই গুরুত্ব দিয়েছেন।

    বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, বললেন ভাগবত

    টরন্টোর বক্তব্যে ভারতীয় সমাজের বৈচিত্র্য নিয়েও কথা বলেন আরএসএস প্রধান। তাঁর মতে, বহু ভাষা, বহু সম্প্রদায়, বহু বিশ্বাস ও নানা জীবনধারা ভারতীয় বাস্তবতার স্বাভাবিক অংশ। এই বৈচিত্র্যকে তিনি ঐক্যের বিরোধী হিসেবে দেখার বদলে ঐক্যেরই একটি প্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

    তিনি বলেন, বৈচিত্র্য প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রকাশ, আর ঐক্য তার ভিতরের বাস্তবতা। তাই ভিন্নতাকে মুছে ফেলার বদলে তাকে গ্রহণ ও সম্মান করার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে ‘গ্রহণ’ এবং ‘সম্মান’-এর উপর বিশেষ জোর ছিল।

    এই প্রসঙ্গে তিনি ‘হিন্দু’ শব্দটিরও নিজের ব্যাখ্যা দেন। তাঁর মতে, হিন্দুত্বকে কোনও নির্দিষ্ট ভাষা, উপাসনার পদ্ধতি বা জীবনযাপনের ধরন দিয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি এমন একটি ধারণার কথা বলেন যেখানে অন্যকে সম্মান করা এবং বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

    এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আরএসএস দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় সমাজ, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে নিজেদের ব্যাখ্যা সামনে রেখে এসেছে। টরন্টোর বক্তৃতায় সেই বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যার সঙ্গে মানবিকতা ও বৈচিত্র্যের প্রসঙ্গকে পাশাপাশি রাখা হয়েছে।

    ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর বার্তা

    মোহন ভাগবতের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া ধারণাগুলির একটি ছিল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’। অর্থাৎ, সমগ্র পৃথিবীকে একটি পরিবার হিসেবে দেখার ভাবনা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের চেহারা, ভাষা, সংস্কৃতি বা জীবনযাপনে পার্থক্য থাকলেও মানবিকতার জায়গায় মানুষের মধ্যে একটি মৌলিক ঐক্য রয়েছে।

    এই ধারণার ভিত্তিতেই তিনি অন্যের সেবা করাকে দায়িত্ব হিসেবে দেখেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজের উন্নতির সঙ্গে অন্যের কল্যাণের বিষয়টিও যুক্ত থাকা উচিত। একটি দেশ যত বেশি উন্নত হবে, সেই উন্নতির সুফল যদি বৃহত্তর মানবসমাজের কাজে লাগে, তবেই সেই উন্নতির অর্থ আরও গভীর হয়।

    টরন্টোর অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুও ছিল বন্ধুত্ব, সংলাপ, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং যৌথ দায়িত্ব। কানাডার দশটি প্রদেশ থেকে দুই হাজারের বেশি সদস্যের উপস্থিতির কথা জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে কানাডিয়ান হিন্দুস ফর আউটরিচ, রিলেশনস অ্যান্ড ডায়ালগ বা CHORD; ১৭৫টিরও বেশি সংগঠন এতে সহযোগিতা করেছিল।

    ফলে ভাগবতের বক্তব্য শুধু ভারতকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে তুলে ধরার দাবি নয়, প্রবাসী ভারতীয় ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক যোগাযোগের বার্তাও বহন করেছে।

    #MohanBhagwat #Vishwaguru #RSS #India #Toronto #HinduVishwaBandhu #VasudhaivaKutumbakam #IndianCivilisation #ServiceToHumanity

  • জ্বালানির জন্য ভারতের দ্বারস্থ বাংলাদেশ! রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই দিল্লির কাছে বাড়তি ডিজেলের আবেদন

    Bangladesh India Diesel Supply: একদিকে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দু’বছর পূর্তিতে তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, সেই সময়েই জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য ভারতের দ্বারস্থ হয়েছে বাংলাদেশ। ডিজেলের বাড়তি সরবরাহ চেয়ে দিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।

    বৃহস্পতিবার ঢাকার সচিবালয়ে ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা, বিশেষ করে জ্বালানি খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠক শেষে বাংলাদেশের জ্বালানিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে সেই সরবরাহ আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে ভারতের কাছে। তাঁর মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    এছাড়া তিনি বাংলাদেশের গ্যাস পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। মন্ত্রীর দাবি, গ্যাসের ঘাটতির কারণে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করায় সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি ধাপে ধাপে আবার চালু করা হচ্ছে।

    বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ এলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তদন্তে দেখা গেছে, বিদ্যুতের ব্যবহার অনুযায়ীই বিল এসেছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, জুন মাস থেকে বিদ্যুতের নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

    এদিকে, সম্প্রতি ভারত থেকে আমদানি করা চালের একটি অংশের মান নিয়ে বাংলাদেশে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, চালের একটি অংশ মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। সেই চাল ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতির খবর প্রকাশ্যে আসে। এর মধ্যেই আবার ভারতের কাছেই অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের আবেদন জানানো হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে।

    অন্যদিকে, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর অনুরোধের বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে এখনও প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা কীভাবে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

    সামগ্রিকভাবে, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহের মধ্যেও জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বার্তাই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এই বৈঠক থেকে। আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, তা এখন কূটনৈতিক মহলের অন্যতম আলোচনার বিষয়।

  • ভারতের কড়া নজরে বাংলাদেশ! বাড়তে পারে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের চাপ

    India Anti-Dumping Investigation on Bangladesh PET Film: ভারত ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে ফের নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এবার বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্য পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) ফিল্ম-এর বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে ভারত। এই পণ্য মূলত খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, পানীয় এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্যের প্যাকেজিং তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় উৎপাদকদের অভিযোগ, বাংলাদেশ, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে অত্যন্ত কম দামে এই পণ্য ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে, যার ফলে দেশীয় শিল্প মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

    ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজ (DGTR) ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং আগামী ৬ আগস্ট ভার্চুয়াল মাধ্যমে মৌখিক শুনানির দিনও ঘোষণা করেছে। যদিও এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে ভারত চাইলে এই পণ্যের উপর অতিরিক্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে পারে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।

    কেন তদন্ত শুরু করল ভারত?

    ভারতের অভিযোগ, বাংলাদেশ, চীন এবং থাইল্যান্ড থেকে ডাম্পিং মূল্যে পিইটি ফিল্ম ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে। অর্থাৎ উৎপাদন খরচের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দামে এই পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

    ভারতীয় উৎপাদকদের দাবি, বিদেশি সংস্থাগুলি কম দামে পণ্য বিক্রি করায় ভারতীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির বাজার সংকুচিত হচ্ছে এবং তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ ডিজিটিআর তদন্ত শুরু করেছে।

    অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক কী?

    অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক হল এমন একটি অতিরিক্ত আমদানি কর, যা কোনও দেশ তখনই আরোপ করে যখন তাদের মনে হয় বিদেশি সংস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে অত্যন্ত কম দামে পণ্য বিক্রি করে স্থানীয় শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে ডাম্পিং হয়েছে এবং তার ফলে ভারতীয় শিল্পের ক্ষতি হয়েছে, তাহলে ভারত সরকার ওই পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক বসাতে পারে। আবার অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ না মিললে তদন্তও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    ৬ আগস্ট কী হবে?

    ভারতের ডিজিটিআর আগামী ৬ আগস্ট একটি ভার্চুয়াল মৌখিক শুনানির আয়োজন করেছে।

    এই শুনানিতে অংশ নেবেন—

    বাংলাদেশের রপ্তানিকারক সংস্থাগুলি
    ভারতীয় উৎপাদকরা
    আমদানিকারক সংস্থাগুলি
    সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজন

    শুনানির আগে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিজেদের পরিচয়, প্রতিষ্ঠানের তথ্য, ই-মেল, মোবাইল নম্বর, দেশের কোড এবং প্রতিনিধিদের তথ্য জমা দিতে হবে। মৌখিক বক্তব্য দেওয়ার পর সেই বক্তব্য লিখিত আকারেও জমা দিতে হবে।

    এরপর লিখিত যুক্তি, পাল্টা বক্তব্য এবং প্রমাণ যাচাই করে তদন্ত এগোবে।

    বাংলাদেশের কোন সংস্থা এই তদন্তে রয়েছে?

    এই মামলায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রয়েছে আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেড।

    অন্যদিকে ভারতের আবেদনকারী তিনটি সংস্থা হল—

    চিরিপাল পলি ফিল্মস লিমিটেড
    ইস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
    ভ্যাকমেট ইন্ডিয়া লিমিটেড

    এছাড়াও নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

    আকিজ কী বলছে?

    বাংলাদেশের অন্যতম বড় পিইটি ফিল্ম প্রস্তুতকারক আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেড অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

    প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কর্ণধার শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, তাদের রপ্তানি সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক এবং কোনওভাবেই ডাম্পিং করা হয়নি।

    তিনি বলেন, শুনানিতে তারা সমস্ত তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।

    বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান কী?

    বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে।

    তিনি বলেন, ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হবে যাতে পিইটি ফিল্মের উপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ না করা হয়।

    সরকার খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করবে বলেও জানান তিনি।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পিইটি ফিল্ম?

    পিইটি ফিল্ম বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্য।

    ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত আকিজ বায়াক্স ফিল্মস কারখানায় এই পণ্য উৎপাদিত হয়।

    প্রতিষ্ঠানটির দাবি—

    বছরে প্রায় ১০ হাজার টন পিইটি ফিল্ম রপ্তানি হয়।
    উৎপাদনের বড় অংশ দেশীয় বাজারেও বিক্রি করা হয়।
    কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৪২ হাজার টনেরও বেশি।

    প্যাকেজিং শিল্পে এই পণ্যের চাহিদা বিশ্বজুড়েই দ্রুত বাড়ছে।

    বিশ্ববাজারে কত বড় এই শিল্প?

    ভারতভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ওরিয়ন মার্কেট রিসার্চ-এর ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী,

    বর্তমানে বিশ্ব পিইটি ফিল্ম বাজারের আকার প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
    ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাজার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    ফলে এই শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনাও যথেষ্ট বড় বলে মনে করা হচ্ছে।

    এর আগেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তদন্ত করেছে ভারত

    এটাই প্রথম নয়।

    ভারত এর আগেও বাংলাদেশের একাধিক পণ্যের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত করেছে।

    এর মধ্যে রয়েছে—

    পাট ও পাটজাত পণ্য (২০১৭ সাল থেকে শুল্ক কার্যকর)
    হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
    ফ্লোট গ্লাস
    ফিশিং নেট

    এছাড়া একসময় রহিমআফরোজের ব্যাটারি নিয়েও ভারত অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল।

    পরে বিষয়টি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-তে যাওয়ার পর ভারত সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে।

    বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD)-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে পণ্য রপ্তানি করা বাস্তবসম্মত নয়।

    তার বক্তব্য, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের উচ্চ ব্যয়ের কারণে বাংলাদেশের উৎপাদন খরচ বরং বেড়েছে।

    তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে বাংলাদেশকে আবারও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে। অতীতেও এমন পদক্ষেপে ইতিবাচক ফল মিলেছিল বলে তিনি মনে করেন। আগামী ৬ আগস্টের শুনানির পর তদন্ত আরও এগোবে।

    #India #Bangladesh #PETFilm #AntiDumping #TradeNews #DGTR #Exports #BangladeshExports #IndiaBangladesh #BusinessNews

  • বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য! পাকিস্তানের অস্বস্তি বাড়ছে কেন?

    Balochistan Independence: পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ বেলুচিস্তানকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একটি ভিডিও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু বেলুচ জাতীয়তাবাদী নেতা বেলুচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং ভারতের কাছে এই নতুন সত্তাকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই স্বাধীনতার দাবি এখনও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয় এবং স্বাধীনভাবে যাচাইও করা যায়নি।

    কী দাবি করা হয়েছে?
    বেলুচ জাতীয়তাবাদী নেতারা পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ‘রিপাবলিক অব বেলুচিস্তান’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি—

    বেলুচিস্তানের অধিকাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
    নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা হয়েছে।
    নিজস্ব পতাকা, জাতীয় সংগীত ও মুদ্রা গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।
    ভারত-সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চাওয়া হয়েছে।
    কেন বেলুচিস্তান গুরুত্বপূর্ণ?

    বেলুচিস্তান পাকিস্তানের আয়তনের সবচেয়ে বড় প্রদেশ। প্রাকৃতিক গ্যাস, তামা, সোনা-সহ বিপুল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চল কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এই প্রদেশেই রয়েছে গোয়াদর বন্দর, যা চীনের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি)-এর অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ফলে বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি শুধু পাকিস্তান নয়, চীন ও সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত।

    পাকিস্তানের সামনে কেন বড় চ্যালেঞ্জ?

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান বর্তমানে একাধিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যার মুখোমুখি।

    বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন
    সশস্ত্র হামলা ও বিদ্রোহ
    পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অস্থিরতা
    বিভিন্ন সীমান্তে নিরাপত্তা চাপ

    এই পরিস্থিতিকে পাকিস্তানের জন্য অন্যতম বড় নিরাপত্তা সংকট হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতের সামনে কী প্রশ্ন?

    প্রশ্ন তোলা হয়েছে—

    ভারত কি বেলুচ আন্দোলনকে সমর্থন করবে?
    নাকি দীর্ঘদিনের নীতি অনুযায়ী অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখিয়েই অবস্থান নেবে?

    এটি এখন কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

    স্বাধীনতার দাবির সত্যতা কতটা?

    এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি মনে রাখা জরুরি।

    বর্তমানে—

    বেলুচিস্তানকে কোনও দেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
    জাতিসংঘও এ ধরনের কোনও স্বীকৃতি দেয়নি।
    পাকিস্তান সরকারও এই দাবিকে স্বীকার করেনি।
    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাও বলছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্বাধীনতার দাবিগুলি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    অর্থাৎ, বেলুচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণার দাবি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চললেও, সেটি এখনও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বা নিশ্চিত বাস্তবতা নয়।

    #BalochistanIndependence #Pakistan #Balochistan #AsimMunir #Geopolitics #SouthAsia #BreakingNews #India

  • মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধেই কি সবচেয়ে বড় ধাক্কা ভারতের? সামনে এল চার ভয়ংকর আশঙ্কা

    Hormuz Strait India Trade: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং কৌশলগত পরিকল্পনার উপর। ভারতের অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিকল্প রুট, নতুন বাণিজ্যিক করিডর এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে ভারতকে শুধু জ্বালানি নয়, সামগ্রিক অর্থনীতি ও বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

    হরমুজ প্রণালির বিকল্প রুটে জোর দিচ্ছে ভারত

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি। এই রুট দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এই পথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় ভারতসহ একাধিক দেশ বিকল্প রুটের সন্ধান শুরু করেছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলির মধ্যে রয়েছে পাইপলাইন ও স্থলপথে তেল পরিবহনের পরিকল্পনা। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ইতিমধ্যেই হরমুজ এড়িয়ে তেল পরিবহনের কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। এই মডেল দেখে কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ইরাকও ভবিষ্যতে বিকল্প পাইপলাইন ও রেলপথ গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

    চাবাহার বন্দরের গুরুত্ব বেড়েছে, তবে অনিশ্চয়তাও বাড়ছে

    ইরানের চাবাহার বন্দর দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের কৌশলগত স্বার্থের অন্যতম কেন্দ্র। পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চাবাহার প্রকল্প নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদারদের সঙ্গেও ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে চাবাহারকে ঘিরে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এখন আরও সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে।

    ঝুঁকি সত্ত্বেও সমুদ্রপথে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে ভারত

    হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা থাকলেও ভারত এখনও এই অঞ্চলে তার বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করেনি। এলপিজি ট্যাঙ্কার, অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার এবং কনটেইনার জাহাজ-সহ একাধিক ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এই রুটে চলাচল করছে।

    বিশ্বের অনেক শিপিং সংস্থা ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প পথ বেছে নিলেও ভারত এখনও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা করছে। তবে নিরাপত্তা ব্যয়, বীমার খরচ এবং পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়তে পারে?

    ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম চাহিদা আমদানিনির্ভর, যার বড় অংশই আসে ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত-সহ উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে।

    হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিলে—

    অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
    আমদানি ব্যয় বেড়ে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেতে পারে।
    কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
    দেশে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে শিল্প ও সাধারণ মানুষের উপর।
    রেমিট্যান্স ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে প্রভাব

    মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় কর্মরত। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ওই অঞ্চলের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয়দের কর্মসংস্থান ও দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের উপরও। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    বাব আল-মান্দেব প্রণালিও নতুন উদ্বেগ

    হরমুজের পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এই জলপথে বাধা তৈরি হলে ইউরোপমুখী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। ফলে ভারতের রপ্তানি, আমদানি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

    ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—কূটনৈতিক ভারসাম্য

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতকে একইসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সামলাতে হচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা, অন্যদিকে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী অংশীদারদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বজায় রাখা।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভারসাম্য রক্ষা করাই আগামী দিনে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ও বাণিজ্যিক কৌশলের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ভারতের কাছে শুধু একটি আন্তর্জাতিক সংকট নয়, এটি জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত একটি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ। তাই বিকল্প জ্বালানি রুট, নতুন বন্দর, বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব—সব ক্ষেত্রেই ভারতকে এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। আগামী কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করবে ভারতের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ।

  • মহাকাশে নিজস্ব স্পেস স্টেশন স্থাপন করতে যাচ্ছে ভারত।

    ভারত নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো।

    বিশ্বের মাত্র তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন বর্তমানে মহাকাশে নিজস্ব স্পেস স্টেশন পরিচালনা করে। এবার চতুর্থ দেশ হিসেবে ভারতও মহাকাশে নিজস্ব স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো) এই লক্ষ্য অর্জনের পথে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। গত বৃহস্পতিবার ইসরো সফলভাবে ‘টার্গেট’ এবং ‘চেজার’ নামে দুটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে।

    সকালে শ্রীহরিকোটা লঞ্চপ্যাড থেকে প্রেরিত একটি বিশেষ রকেটের মাধ্যমে স্যাটেলাইট দুটি মহাকাশে পাঠানো হয়। প্রতিটির ওজন ২২০ কেজি, এবং সেগুলো মহাকাশে একসঙ্গে পরিচালিত হবে। ইসরোর কর্মকর্তাদের মতে, এই স্যাটেলাইটগুলোকে ‘স্পেস ডকিং এক্সপেরিমেন্ট’ (স্পেডেক্স) প্রকল্পের আওতায় ব্যবহার করা হবে।

    ইসরোর মহাকাশবিজ্ঞানী জয়ন্ত মূর্তি বলেছেন, “চাঁদে অভিযানের মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী মিশন সফল করতে এবং মহাকাশ গবেষণায় আরও উন্নতি আনতে ভারতের নিজস্ব স্পেস স্টেশন স্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই প্রকল্পটি আমাদের ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করবে।”

    স্পেডেক্স পরীক্ষার উদ্দেশ্য মহাকাশে দুই স্যাটেলাইটকে একক সত্তা হিসেবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করা। বিশেষ করে, পৃথিবীর অক্ষপথে এই স্যাটেলাইটগুলো সফলভাবে স্থাপন এবং পরিচালনার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।

    ইসরো সূত্রে জানা গেছে, স্যাটেলাইটগুলোর একটি বিশেষ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মহাশূন্যের মাইক্রো গ্র্যাভিটির প্রভাব পরীক্ষা করা হবে। স্যাটেলাইটের ভেতরে মাটি ও বিভিন্ন বীজ রাখা হয়েছে, যা অঙ্কুরোদগমের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করবে।

    এ প্রকল্পের ঘোষণা ইসরো প্রথম দিয়েছিল গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বেশ কয়েকবার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। প্রথম দুই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও তৃতীয় প্রচেষ্টায় সফল হয় ইসরো। এই সাফল্য ভারতীয় মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটবার্তায় বলেন, “আজকের সাফল্য আমাদের মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায়। আমরা গর্বিত।”

    ইসরো ইতিমধ্যেই মহাকাশ গবেষণায় কয়েকটি যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে ‘চন্দ্রযান ৩’ অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে সফল অবতরণ ঘটিয়েছিল ভারত। একই বছরের সেপ্টেম্বরে সূর্য অধ্যয়নের জন্য ‘আদিত্য-এল ১’ মিশন সফলভাবে পরিচালনা করে।

    মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ভারতের এই অগ্রযাত্রা শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই নয়, বরং বৈশ্বিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানকেও আরও সুসংহত করেছে। মহাকাশে নিজস্ব স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে ভারত ভবিষ্যতে মহাকাশবিজ্ঞানে নতুন নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী।

  • Iran-India: ভারতের কাছে ইরান আগে নাকি ইসরায়েল? দিল্লিকে চমক দেখাল তেহরান

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Iran-India: ইরান মুক্তি দিল ভারতীয় নাবিকদের। কিন্তু কোন যুক্তিতে? কূটনৈতিক কৌশলে ভারতের বাজিমাত। ভারতের কাছে ইরান আগে নাকি, ইসরায়েল? ভারত আর ইরানের যেন মাখো মাখো ভাব। যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচক্ষু টলাতে পারছে না দুই দেশের সম্পর্কের ভিত। বন্ধুত্বের কোন নীতিতে চলছে ভারত আর ইরান? একদিকে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র, আরেকদিকে ইরান, এই দুইয়ের মাঝে কীভাবে ব্যালেন্স করছে নয়া দিল্লি? ইরান ভারতকে এত গুরুত্ব দেয় কেন? দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা জানলে হাঁ হয়ে যাবেন, বুঝতে পারবেন কেন তেহেরান আর নয়া দিল্লি একে অপরকে এতটা সম্মান করে।

     

    ভারতীয় নাবিকদের মুক্তি দিল ইরান

    ভারতের পাঁচ বন্দী নাবিককে ফেরালো ইরান। সবাই বলছে এটা নরেন্দ্র মোদির কূটনীতির জোর। ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতের বিন্দুমাত্র আঁচ পড়েনি ভারত আর ইরানের সম্পর্কে। গত ১৩ই এপ্রিল দুবাইয়ের উপকূলে ইসরায়েলের একটা কার্গো জাহাজ আটক করেছিল ইরানের ইসলামিক রেভেলিউশনারি গার্ড কর্পস। গত এপ্রিল মাস থেকে কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ। এমত পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে, ওই জাহাজ আটক করেছিল তেহরান। যেখানে ২৫ নাবিক এর মধ্যে ১৭ জনই ছিলেন ভারতীয়। যার মধ্যে ছিলেন একজন মহিলা নাবিক। আটক হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যেই ভারতীয় ওই মহিলা নাবিককে মুক্তি দেয় ইরান। দেশে ফিরে ওই মহিলা নাবিক জানান, বন্দি থাকলেও ভারতীয় নাবিকদের নাকি কোন অসুবিধাই হয়নি। আটকে পড়া বাকি ১৬ জন নাবিককেও খুব দ্রুত মুক্তি দেওয়া হবে। তিনি দেশে ফিরলেও বাকিরা এতদিন আটক ছিলেন। তবে ইরান বহু আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, কেবল ভারতীয় নয় অন্য নাবিকরাও খুব শীঘ্রই মুক্তি পাবে। দেরি না করে দ্রুত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফোন করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আবদোল্লাহিয়ানকে। ভারতের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সহযোগিতার জন্য ইরান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ইরানের অর্থমন্ত্রীও জানিয়েছেন, মানবিক দিক থেকে বিচার করে ওই জাহাজে আটক নাবিকদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। প্রথমে ভারতীয় মহিলা নারীকে দেশে পাঠানো হলেও, বাকিদের মুক্তি নিয়ে শুরু হয়ে যায় কূটনৈতিক টানাপোড়েন। বহু আলোচনার পরে দেখা মিলল আশার আলো। নথি সংক্রান্ত কাজকর্ম এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর, মুক্তি পেল ভারতের পাঁচ নাবিক। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতের সঙ্গে ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ এক সম্পর্ক রয়েছে, তাই ভারতীয় নাবিকদের প্রথম থেকেই সাহায্য করেছে ইরানের প্রশাসন। আর এই বিষয়টাকেই ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

     

    ভারত ইরানের সম্পর্ক এত গভীর কেন?

    যদি বলেন, ভারত আর ইরানের সম্পর্কটা ঠিক কতটা গভীর? না, এই প্রশ্নের উত্তরটা কয়েকটা শব্দে বলা যাবে না। বছর চারেক আগে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তৎকালীন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি পালন করে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছরের পূর্তি উৎসব। সেই সময় দিল্লি আর তেহেরানের যে গলায় গলায় ভাবছিল, এখনো কিন্তু তা রয়েছে। তবে ইরান আর ভারত, এই দুই দেশের সম্পর্ক দুই তরফ থেকেই টিকিয়ে রাখা কিন্তু মুখের কথা নয়। কারণ একটাই, দুই দেশের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো একে অপরের শত্রুপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র ভারতের মিত্র রাষ্ট্র, কিন্তু তার রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে ভারত ইরানের সাথে ব্যালেন্সের করে বজায় রেখেছে কূটনৈতিক সম্পর্ক। অপরদিকে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র বলুন, আর ইসরায়েল বলুন, এই দুই রাষ্ট্রের সম্পর্ক একদমই ভালো নয়। একটা সময় কূটনৈতিক শিবিরের একাংশ মনে করত, ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের আবহে তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরো নিবিড় করার সিদ্ধান্ত কিংবা তা প্রচার করা, ভারতের জন্য যথেষ্ট চাপের। ইরানের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে নয়া দিল্লিকে হাঁটতে হচ্ছে একটা সরু তারের উপর দিয়ে। ভারতকে একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত আর বাণিজ্যিক যোগাযোগ বজায় রাখতে হচ্ছে, পাশাপাশি ইরানকেও পাশে রাখা বড্ড দরকার। কারণ ইরানের চাবাহার বন্দর ব্যবহার করে আফগানিস্তান তথা পশ্চিম এশিয়ার বৃহৎ বাজারে প্রবেশ করেছে ভারত। চাবাহার বন্দর ব্যবহার নিয়েও কিন্তু ভারতের প্রতি যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে ইরানের। আসলে দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতার মূল সিক্রেট হল, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জোর।

     

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী ইরান

    এই তো গত বছরের কথা, ইরান নিজে থেকে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো উন্নত করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। সেই সময় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে রীতিমত বৈঠক করেন ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। দুই দেশের অর্থনৈতিক কিংবা বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যেই সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর জোর দেয় ইরান। এমনকি ইরানের সুখ দুঃখের অংশীদারও হয়েছে নয়া দিল্লি। চলতি বছরের একদম শুরুর দিকে যখন ইরানে জোড়া বিস্ফোরণ ঘটে, তখন সেই সংকটে তেহেরানর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। আসলে কি বলুন তো, দুই দেশের কূটনৈতিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যেহেতু বহুদিনের, তাই সেই জায়গা থেকে ভারত কিংবা ইরান উভয়পক্ষ একটা আদর্শ নীতি মেনে চলে। যদি অপরিশোধিত তেল আমদানির কথা বলি, তাহলে একসময় ইরান ছিল ভারতের শীর্ষ তালিকায়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর সেই আমদানি কমিয়ে নয়া দিল্লি বাধ্য হয়েছিল বিকল্প উৎস খুঁজতে। তবে হ্যাঁ, সাউথ ব্লকের কাছে ইরান প্রসঙ্গ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। কারণ ইরানের চক্ষুশূল ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক সবাই জানে। কয়েক মাস আগে যখন ইরান আর ইসরায়েল নতুন করে সংঘাতে জড়িয়েছে, তখন প্রশ্ন উঠেছিল, ভারত কোন পক্ষ নেবে? এই প্রশ্নে নাকি নয়া দিল্লি বেশ উদ্বিগ্ন। তবে ভারত এখনো পর্যন্ত দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া কিংবা না নেওয়ার বিষয়ে কোনো বড়সড় নীতিগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়নি।

     

    ইরান ইসরায়েলের সংঘাতে ভারত কী চায়?

    ভারত আর ইরানের সম্পর্ক বেশ পুরনো। সেই ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর, দুই দেশই সেই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে গেছে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পরেও কিন্তু দুই দেশের সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। নিষেধাজ্ঞার কারণে, ইরান থেকে ভারত তেল কিনতে না পারলেও, টলানো যায়নি দুই দেশের সম্পর্ক। উপরন্তু ২০২২ সালে দুই দেশ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ইরানে রয়েছে ভারতের বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ। ২০১৮ সাল নাগাদ চাবাহার বন্দরসহ দুই দেশের মধ্যে প্রায় নটি চুক্তি একসাথে স্বাক্ষরিত হয়। যে তালিকায় রয়েছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, শক্তি , যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহায়তার মতো বিষয়গুলি। এমনকি ভিসা নীতি সরলতার করতেও দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে চুক্তি। সত্যি বলতে, ভারতের সামনে এখন ‘বিকশিত ২০৪৭’ এর লক্ষ্য। যেখানে ভারত নিজেকে প্রকাশ করতে চায় বিশ্বমিত্র হিসেবে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ইরান আর ইসরায়েলের সংঘাতে ভারতের কাছে একটু অস্বস্তিকর হয়তো হতে পারে, কিন্তু ভারত কখনই চায় না ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ হোক। উপরন্তু দুই বন্ধু রাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করতেও রাজি নয়া দিল্লি।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • India-Iran Relationship: ইরানে ভারতের জ্যাকপট, দেখে শিখছে পাকিস্তান! দিল্লি-তেহরানের বন্ধুত্বটা দেখুন  

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    India-Iran Relationship: ইরানের ক্ষেত্রে ভারতের পররাষ্ট্র নীতিটা ঠিক কেমন? বন্ধুত্বের নাকি শত্রুতার? ইরানের সাথে ভারতের বড় চুক্তি। দেখে শিখছে পাকিস্তান। পাত্তা পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান পাকিস্তানের থেকে কেন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতকে? ব্যাপারটা কী? দিল্লির সাথে তেহরানের মাখোমাখো সম্পর্ক ভেস্তে দিচ্ছে চীনের বড় প্ল্যান। ইরান-ইসরায়েলের সংঘাতের মাঝে, কীভাবে ব্যালেন্স করছে ভারত? ইরানের চাবাহার আসল জ্যাকপট। কী আছে এখানে? ইরান ভারতের সম্পর্ক দেখে শিক্ষা নিচ্ছে অন্য দেশগুলো। তাহলে ভারতীয় জাহাজে হুথি হামলায় কেন চুপ ইরান? এবার বেরিয়ে এলো আসল কারণ। ভারতের নির্বাচন মিটলেই, ফাইনাল ইরানের সাথে বড় ডিল।

    একটা সোজা হিসাব শুনুন। ইরান ভারতের জন্য ঠিক কতটা ইম্পরট্যান্ট একটা রাষ্ট্র, বুঝতে পারবেন। ইরানের দক্ষিণ দিকে রয়েছে চাবাহার বন্দর। যে বন্দর নিয়ে ভারত আর ইরানের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে চলছে আলোচনা। এই একটা বন্দর আরো দৃঢ় করতে পারে ভারত-ইরান সম্পর্ক । বন্দরটি রয়েছে ওমান উপসাগরের একদম মুখে, আর এটাই ইরানের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর। ইরানকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে তুলে ধরেছে এই চাবাহার। অবস্থান ইরান পাকিস্তান সীমান্তের পশ্চিমে। এখান থেকে কিছুটা দূরে গেলেই পাকিস্তানের গদর বন্দর। যেখানে চীনের প্রভাব প্রবল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চাবাহার আর গদর, এই দুই বন্দর কিন্তু পরস্পর প্রতিস্পর্ধি। দুটোই গভীর সমুদ্র বন্দর। এখন না হয়, ইরান আর পাকিস্তান একে অপরের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে বন্ধুত্বের সম্পর্কে এসেছে। কিন্তু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক একদমই ভালো ছিল না। এমনকি একে অপরের ভূখণ্ডে হামলা করতেও দুবার ভাবেনি। আরে এত ঝামেলার মূল সূত্রপাত, দুই দেশের মধ্যে হওয়া বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা। যেখানে ইন্ধন জুগিয়েছে এই দুই বন্দর। ইরানের কাছে চাবাহার বন্দর এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ভাবতেও পারবেন না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিকি দুনিয়া যদি ইরানকে কোনঠাসা করেও দেয়, তাহলেও কিন্তু তেহেরান অতি সহজে এই বন্দরের মাধ্যমে বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবে। ইরানের পাশাপাশি ভারতের কাছে চাবাহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বন্দর হয়ে উঠেছে। দেখুন, আফগানিস্তান আর মধ্য এশিয়ার মাটিতে যদি বলা হয় ভারতের বাণিজ্যের অন্যতম বাধা কি? তাহলে প্রথমেই চলে আসবে পাকিস্তানের নাম। পাকিস্তানি ভূখণ্ড ভারত ব্যবহার করতে পারে না। সেক্ষেত্রে আফগানিস্তান আর মধ্য এশিয়ার দেশগুলির কাছে ভারতকে পৌঁছাতে গেলে পাকিস্তানকে টপকে যেতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই ভারতকে ঘুরতে হবে অনেকটা পথ। আর সেই জটিল পথকে সোজা করে দিয়েছে ইরান। সোজা কথায় ইরানের চাবাহার বন্দর। ভারত যখন অবিভক্ত ছিল, তখনও কিন্তু ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ ছিল ইরান। তারপর দেশ ভাগ হলে, ইরান তথা মধ্য এশিয়া আর ভারতের মাঝে সড়কপথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পাকিস্তান। যদিও সেই সময় ভারতের অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়েনি। কিন্তু বর্তমানে বাণিজ্যের বিস্তার জালের মতো ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। নব্বইয়ের দশক থেকে ইরানের সঙ্গে বাড়তে থাকে দিল্লির যোগাযোগ। দুই দেশের সম্পর্ক আরো গাঢ় হয়, ১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর। কারণ ভারত আর ইরান দুই দেশই পাকিস্তানের মদদ পুষ্ট তালিবানি সংগঠন এবং তার কার্যকলাপের ঘোর বিরোধী ছিল। তারপর তো চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে পাকিস্তানে তৈরি করে ফেলে গদর বন্দর। তখন ভারতের কাছে বেস্ট অপশন হয়ে ওঠে ইরানের সাহায্য আর চাবাহার বন্দর। বলা হয়ে থাকে, ইরানের এই বন্দর তৈরিতে ভারতের সাহায্য রয়েছে। ২০১৬ সালে চাবাহার নিয়ে ইরান ভারত আর আফগানিস্তানের মধ্যে চুক্তিও হয়েছিল। বহুবার চাবাহার বন্দর দিয়ে আফগানিস্তানের পণ্য ঢুকেছে ভারতে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা মাঝখানে একটু ভালো চোখে দেখছিল না ইরান। সমালোচক মহলের অভিযোগ, তাই হয়তো ভারতের বহু প্রকল্পে ইরান হ্যাঁ জানাতে একটু দেরি করছিল। তার উপর আফগানিস্তানে তালিবান সরকার গঠনের পর আবার নতুন করে ধাক্কা খায় ভারত-ইরান সম্পর্ক। তবে দুই দেশের সম্পর্ক এখন উন্নতির পথে। চাবাহার বন্দরের উন্নয়নের খাতে ভারতের তরফে বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, ওই বন্দর দিয়ে আফগানিস্তানে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন গম পাঠানোর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    তাই তো বিশেষজ্ঞেরদের একাংশের মতে, আফগানিস্তানকে বেজিংয়ের কবলে পড়া থেকে আটকাতে চাইছেন নয়া দিল্লি। তাই নজরে রয়েছে ইরানও। সম্প্রতি ভারতীয় কূটনীতিদের একটি দল কাবুলে গিয়ে তালিবান সরকারের বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। অর্থাৎ আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে ইরানের চাবাহার বন্দরের মাধ্যমে ভারত বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়াতে বেশ উদগ্রীব। চাবাহার বন্দর নিয়ে ভারত ইরানের মধ্যে আলোচনা বহু বছরের। বছর ছয়েক আগে, এই বন্দর বাণিজ্য বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা সহ ইরানের সঙ্গে প্রায় নয়টি চুক্তি হয়েছিল। যেখানে গুরুত্ব পেয়েছে শক্তি, যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহায়তার মত প্রচুর বিষয়। এছাড়াও দুই দেশই ভিসা নিতে সরল করতে চুক্তিও করেছিল। তবে হয়তো আর অপেক্ষা নয়, ভারত এবং ইরানের মধ্যে ২ দশকেরও বেশি সময় ধীরগতির আলোচনার পর এবার চাবাহার বন্দর নিয়ে একটা দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। হয়তো সেটা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত হয়েছে। কিন্তু ভারতের সাধারণ নির্বাচনের পর এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভবনা প্রবল। তারপর ভারতের কাছে আরো প্রশস্ত হবে ইরানের এই বন্দর।

    সোজা কথায়, ভারত এখন আরব দুনিয়ায় চলছে অত্যন্ত ভারসাম্য রেখে। সেই আরব আর ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় কিংবা তার আগে থেকেই যদি বলা হয়, তাহলে তেহরানের ঘোরশত্রু তেল অভিভ। ইরান আর ইসরায়েলের শত্রুতা কে না জানে। কিন্তু ভারত মাঝে থেকেও কোন পক্ষকে বেছে নেয়নি। থেকেছে নিরপেক্ষ। তাহলে নিশ্চয়ই ভাবছেন, ইরানের সঙ্গে ভারতের যে এত বন্ধুত্বের কথা বলা হচ্ছে, তাহলে সাম্প্রতিক সময় যে বারংবার হুথি বিদ্রোহের কথা উঠে আসছে, সেখানে ইরান কেন নিশ্চুপ? হুথিরা তো ইরান সমর্থিত, অথচ তাদের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না ভারতের জাহাজও। দেখুন, এটা নিয়ে কিন্তু ভারত ইরানকে নালিশ জানিয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তেহরানকে বলেছে, শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক নয়, ভারতের শক্তি সম্পদ এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের ক্ষেত্রেও এই হামলাগুলো এক একটা বড় আঘাত। এর মাধ্যমে কোন পক্ষেরই লাভ হচ্ছে না। দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রীর মধ্যে একটা উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও হয়। ইরান আর ভারত একে অপরকে বারংবার সাপোর্ট করেছে। তার প্রমাণ সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাস।

    এখন না হয় সমঝোতার মাধ্যমে ইরান আর পাকিস্তানের বন্ধুত্ব হয়েছে, কিন্তু চলতি বছরের প্রথম দিকেই তো ইসলামাবাদ আর তেহরান একে অপরকে হামলা করতে রীতিমত মুখিয়ে ছিল। পাকিস্তানে ইরানের হামলা প্রসঙ্গে ইরানকেই সমর্থন করেছিল ভারত। যদিও সরাসরি নয়, অনেকটা ঘুর পথে। পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীর ঘাঁটিতে ইরান এয়ারস্ট্রাইক চালালে, শুরু হয় দুই দেশের কূটনৈতিক লড়াই। তখন ভারত বলেছিল, বিষয়টা সম্পূর্ণ ইরান আর পাকিস্তানের বিষয়। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে যদি বলা হয় তাহলে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত রয়েছে জিরো টলারেন্স নীতিতে। সেখানে ভারতের অবস্থান একেবারেই আপোষহীন। যখন নিজেদের আত্মরক্ষায় কোন দেশ কোন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে, সেই বিষয়টা আমরা বুঝি। এই যে আমরা বুঝি, এর মানে কিন্তু অনেকটা ঘুর পথে ইরানকে সাপোর্ট করেছিল ভারত। এমনটাই মনে করেছিলেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আর যদি মুদ্রার উল্টো পিঠের কথা বলি, তাহলেও কিন্তু ভারত আর পাকিস্তান দ্বন্দ্বে কখনোই ইরান পাকিস্তানকে সাপোর্ট করেনি। বরং সব সময় ব্যালেন্স করে চলেছে। থেকেছে নিরপেক্ষ অবস্থানে। এইতো কয়েকদিন আগেই পাকিস্তান সফরে এসেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি। তখন পাকিস্তান কাশ্মীর বিরোধ নিয়ে কথা বলতে চাইলেও, ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রসঙ্গটা ঘুরপথে এড়িয়ে গিয়েছেন। তার মানে এটাই স্পষ্ট, পাকিস্তান আর ভারতের বিরোধের মাঝে ইরান কোন কথা বলতে চাইছে না।

    বর্তমানে যুদ্ধের আখড়ায় পরিণত হয়েছে লোহিত সাগর। এই বাণিজ্য রুটে একদিকে রয়েছে হুতি গোষ্ঠী, অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাঁড়িয়েছে ইসরাইলের পক্ষে। আর এখানে ঢুকে পড়েছে ইরানও। তেহরান তো বরাবরই হুথি গোষ্ঠীকে সমর্থন করে আসছে। তবে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র, হুথি আর ইসরায়েলের সংঘাতের মাঝে অটুট রয়েছে ভারত আর ইরানের বন্ধুত্ব। এইতো, ২০২২- ২৩ অর্থবছরে ভারত আর ইরানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিল প্রায় ২.৩৩ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২১.৭৬ শতাংশ। ভারত থেকে মূলত ইরানে রপ্তানি হয় বাসমতি চাল, চা, চিনি, তাজা ফল, ওষুধ, কোমল পানীয়, ডাল সহ বহু পণ্য। ওদিকে আবার ইরান থেকে ভারতে আসে মিথানল, পেট্রোলিয়াম বিটুমিন, আপেল, তরলীকৃত প্রোপেন, শুকনো খেজুর, অজৈব/জৈব রাসায়নিক, বাদাম প্রভৃতি।তবে হ্যাঁ, এখানে একটা চিন্তার বিষয় রয়েছে। গত পাঁচ বছরের হিসেবে ইরান আর ভারতের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। তাইতো দুই দেশ একে অপরের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কে বাড়াতে আগ্রহী।

    https://youtu.be/8rSkp5H-NTQ?si=UG-1Kou95gW25Jyw

    এই জায়গায় দাঁড়িয়ে, সমালোচক মহলে জোর গুঞ্জন উঠেছে, লেখালেখিও হচ্ছে, পাকিস্তান নাকি ফলো করছে ভারতকে। ভারতের মতো ইরানের প্রতি একটা স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণের আপ্রাণ চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্রমাগত পাচ্ছে নিষেধাজ্ঞার হুমকি। ভারত কিন্তু পশ্চিমা চাপ থাকা সত্ত্বেও, রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। শুধু তাই নয়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যেও রয়েছে তারা শীর্ষে। পাকিস্তানও হয়তো এবার ভারতের পদাঙ্ক অনুসরণ করার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যেই ইরানের সাথে ইসলামাবাদ বাণিজ্য বাড়াতে বেশ কয়েকটি চুক্তি করেছে। উপেক্ষা করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ।

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Iran-Israel Conflict Effect: ইরান ইসরায়েলের যুদ্ধে ফেঁসে গেল ভারত-বাংলাদেশ, প্রচুর ক্ষতি

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Iran-Israel Conflict Effect: মারাত্মক যুদ্ধ বাঁধবে ইরান আর ইসরায়েলের মধ্যে। তক্কে তক্কে আছে দুই দেশ। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আর দেরি নেই! বিশাল এফেক্ট পড়তে চলেছে ভারত আর বাংলাদেশে। ইরান ইসরায়েলের যুদ্ধে বড় লস। যা ক্ষতি হতে চলেছে ভাবতেও পারবেন না। আবারো বাংলাদেশের উপর আসতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশিরা সাবধান।

    সিরিয়ার দামেস্কে ইরানের কনস্যুলটে চলে প্রাণঘাতী হামলা। ইসরায়েলের ধারণা, লেবানন আর সিরিয়ায় নিজেকে আড়াল করে অস্ত্র সরবরাহ করছে ইরান। তাই রাগও কম ছিল না। অবশেষে দুই পক্ষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হল এই যুদ্ধের ইঙ্গিত। ইরান জানে, তার পায়ের তলার মাটি ঠিক কতটা শক্তিশালী। তাই তো ইসরায়েলের মতো দেশে প্রায় ৪০ টার মতো মিসাইল আর দুটো বিস্ফোরক ড্রোন ছোঁড়ার সাহস পেয়েছে। অর্থাৎ ইরান বুঝিয়ে দিল, তারা প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত। ইসরায়েলকে ছেড়ে কথা বলবেন না। আর এভাবেই সত্যি হল যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু বলেই দিয়েছিল, ইসরায়েলের উপরে ইরান হামলা করতে চাইছে। আর তখনই হুঁশিয়ারি দিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সুরক্ষা দেবে। ইসরায়েলকে সমর্থন করবে। ইরানকে কখনোই সফল হতে দেবে না। কিন্তু দেখুন, ইরান কম শক্তিশালী দেশ নয়। মধ্যপ্রাচ্যের যতগুলি শক্তিশালী দেশ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ইরান। দেশটার ভাঁড়ার সজ্জিত অত্যাধুনিক অস্ত্রে। যদি ইসরায়েল আর ইরানের যুদ্ধ হয়, তাহলে সেটা হবে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই। আঁচ পড়বে গোটা মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে। একটার সঙ্গে একটা জুড়ে রয়েছে। যদি এশীয় দেশের কথা বলি, তাহলে ভারত এবং ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেও এই অনাগত যুদ্ধের মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

    গোটা বিশ্ব জানে, এর ফলাফল কতটা ভয়াবহ হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই বড় বড় পরাশক্তির রাষ্ট্র নেতারা বেশ উদ্বিগ্ন। এই যুদ্ধ বাঁধার বিপক্ষে। তড়িঘড়ি সামলাতে চাইছে পরিস্থিতি। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রীকে ফোন করে পরিস্থিতি শান্ত করতে চেষ্টা করেছেন। পশ্চিম এশিয়ায় কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখার পক্ষে ভারত। এমনি থেকেই ভারত যুদ্ধ নয়, শান্তির পক্ষে। একইভাবে ইরান এবং ইসরায়েলের উত্তেজনার নিরসন চায় বাংলাদেশও।

    এবার আসা যাক এই যুদ্ধের এফেক্টের কথায়। যুদ্ধ বাঁধলে ভারতের উপর বড় প্রভাব পড়তে চলেছে। বাদ যাবে না বাংলাদেশও। ইরান এবং ইসরায়েল দুই দেশের সঙ্গেই ভারতের ভালো সম্পর্ক। গত বছর জি টোয়েন্টি সম্মেলনে ঘোষণা হয়েছিল ভারত মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপ আর্থিক করিডোরের কথা। যার লক্ষ্য, এশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে একটা সংহতি গড়ে তোলা। যার মধ্যে যুক্ত থাকবে একাধিক স্টক হোল্ডার। বর্তমানে এই উদ্যোগ একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই জায়গাটায় ভারত কিন্তু বড় ধাক্কা খেতে পারে। পাশাপাশি সমস্যার মুখে পড়তে পারে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক বিষয়। প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে পারে ভারত-ইসরায়েল-সংযুক্ত আরব আমিরশাহী আর আমেরিকার সম্পর্ক। তাই এই বিষয়ে ভারত কিন্তু একেবারেই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।

    শুধু ভারতই বা কেন, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই এফেক্টেড হবে। যদি বাংলাদেশের কথা বলি, বড় সমস্যার মুখে পড়তে পারে। এমনি থেকেই বেশ কয়েক মাস হয়ে গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত। হামাস আর ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা চলছিল, ও তা আরো বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই, আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়বে জ্বালানি তেলের দাম। এমনি থেকেই তো বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে। সেই সংকট মেটাতে হিমশিমও খাচ্ছে। এরপর যদি জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়ে, তাহলে ধাক্কা খেতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি। কান টানলে মাথা টানার মতো, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের উপর। তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে বাড়বে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা মানেই কিন্তু সেখানে কর্মসংস্থান কমবে। বাংলাদেশের বহু মানুষ প্রবাসী হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশে কাজের সঙ্গে যুক্ত। যদি কর্মী ছাটাই এর ঘটনা ঘটে, রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে বড়সড় আঘাত খাবে বাংলাদেশ। কূটনৈতিক চাপেও পড়তে পারে। কারণ, বহুবার দেখা গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র নিজের বন্ধু বলয় বাড়াতে বাংলাদেশকে হাতে রাখতে চাইছে। এটা মূলত একটা ভূ রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি। কোথাও গিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে প্রেসার ক্রিয়েট করবে, যাতে বাংলাদেশ ইরানের বিপক্ষে থাকে, আর ইসরায়েলের পক্ষে যায়। যদিও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে নিজেদের মতো করে। কিন্তু একটা দুমুখো কূটনৈতিক চাপে পড়তে পারে দেশটা।

    বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বিষয়টা নিয়ে বেশ আশঙ্কায় রয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এভাবেই যুদ্ধের সূচনাটা হয়ে গেল। কারণ ইসরায়েল পাল্টা প্রতিশোধ ঠিকই নেবে। এমনটাই বলছে অতীত অভিজ্ঞতা। এখানে আরও একটা বড় ব্যাপার আছে। ইরান ইসরায়েলে আক্রমণ করার পর, পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। বলে দিয়েছে যেন যুক্তরাষ্ট্র এই বিরোধ থেকে দূরে থাকে। কিন্তু এটা কি সম্ভব বলুন? যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বদ্ধপরিকর ইসরায়েলের পাশে থাকার জন্য। তার উপরে ইরানের সাথে সম্পর্ক মোটেই ভালো নয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই কথা জাস্ট তোয়াক্কাই করবে না। উল্টে ইরানের হামলার কঠোর নিন্দা করেছে এবং তলে তলে ইসরায়েলের সাথে পাল্টা হামলার হয়তো প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে।

    https://youtu.be/F28-HrAK4LA?si=9rO67KgRc8iFrp1c

    কয়েকদিন ধরেই ইরান বারবার বলছিল, তারা ইসরায়েলের উপর প্রতিশোধ নেবে। আর সেটা করেও দেখালো। ইসরায়েল সেই আক্রমণ ঠেকালো আয়রন ডোম দিয়ে। ইরান একদিকে বুঝিয়ে দিল, তারা পাল্টা আক্রমণ করতে জানে। আরেক দিকে, গোটা পরিস্থিতি সামলাতে আর গোটা বিশ্বের কাছে ভালো সাজতে যুক্তরাষ্ট্রকে জানাল, কেবল আত্মরক্ষার জন্য ইসরায়েলের উপর হামলা চালিয়েছে। আপাতত দুই দেশ চুপ করে আছে ঠিকই। কিন্তু যে কোনো মুহূর্তে একে অপরের উপর অতর্কিত হামলা চালাতে পারে। তাই থমথমে গোটা পরিবেশ। বাতাসে ছড়িয়েছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আতঙ্ক। ইসরায়েল বলেই দিয়েছে, তারা সময় করে ঠিক ইরানের থেকে এই হামলার সঠিক মূল্য বুঝে নেবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন, এটাও কিন্তু হুঁশিয়ারি। সম্মুখ চ্যালেঞ্জ। এবার অ্যাকসেপ্ট করার অপেক্ষা।

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Exit mobile version