Tag: India-Bangladesh Relationship

  • India-Bangladesh Relationship: প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই হাসিনার সাথে মোদীর একান্ত বৈঠক! মিটবে কী দুই দেশের সমস্যা?

    India-Bangladesh Relationship: প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই হাসিনার সাথে মোদীর একান্ত বৈঠক! মিটবে কী দুই দেশের সমস্যা?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    India-Bangladesh Relationship: তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসে প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটা শেখ হাসিনার সাথেই করবেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের লক্ষ্যে, ঢাকা থেকে দিল্লি এসেছেন শেখ হাসিনা। যদি বলা হয়, ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন? তাহলে উত্তরটা প্রথমেই হবে, ভীষণই ভালো। কিন্তু বাংলাদেশের বহু সমালোচক থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অন্দরে ভারতের সম্পর্কে ভাবমূর্তি কিছুটা নেতিবাচক। সোজা কথায়, ভারতের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে। বছরের পর বছর অমীমাংসিত হয়ে পড়ে রয়েছে তিস্তা চুক্তি। সীমান্ত হত্যা নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের মানুষকে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরাতে দেখা যায়। বাংলাদেশের বহু সমালোচক মনে করেন, দুই দেশের সম্পর্কে ভারতের স্বার্থ যতটা সুরক্ষিত হয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কিন্তু ততটা হয়নি। এটা কি আদৌ ঠিক? মোদী-হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কোন কোন বিষয় আলোচনা হতে পারে? মিটবে কি, দুই দেশের মধ্যে থাকা সমস্যা গুলো?

     

    ৯ই জুন রবিবার নরেন্দ্র মোদীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর, শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর একান্ত বৈঠক হওয়ার কথা। এছাড়াও ভারতের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আয়োজিত নৈশভোজে যোগদান করবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। প্রশ্নটা এখানেই, ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কিছু মানুষের যে ক্ষোভ রয়েছে, যে দাবি রয়েছে, এই বৈঠকে কি সেই দাবিগুলো উঠতে পারে? ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে যে যে সমস্যাগুলো রয়েছে তার সুরাহা কবে হবে? দেখুন, ভারত আর বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে প্রতিবেশী দেশ গুলোর ক্ষেত্রে রোল মডেল বলে মনে করা হয়। বিগত দুই দশকে, দুই দেশের সম্পর্ক যেভাবে উন্নতি শিখরে পৌঁছেছে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, কূটনৈতিক সম্পর্ক শুধু দুই সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ হতে পারে না, তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে দুই দেশের জনগণও।

     

    ২০২৪ সালটা দুই দেশের জন্যই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনা যেমন বাংলাদেশে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় এসেছেন, অপরদিকে নরেন্দ্র মোদীও তৃতীয় মেয়াদে পুনরায় ভারতে সরকার গড়তে চলেছেন। দুই দেশের জনগণের জনপ্রিয়তার নিরিখে দুজনেই এগিয়ে। সেখানে এই বৈঠকে দুই দেশের জনগণের ভালো মন্দের বিষয়টা আসা স্বাভাবিক। ভারতের পররাষ্ট্র নীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব বিগত দেড় দশকে ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবেও ভারতকে বহুবার বলতে শোনা গিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের সবথেকে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। বিগত বছরগুলোতে সংযোগ, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, স্থল ও সমুদ্রসীমার বিরোধ নিরসন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সহ অভিন্ন নদী গুলোর জল বন্টন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। কিন্তু সবটাই যে নিষ্পত্তি হয়েছে, এমনটা নয়। সীমান্ত বিরোধ মিটলেও অস্বস্তি রয়ে গিয়েছে সীমান্তে হত্যা নিয়ে। প্রায় এক যুগ কেটে গিয়েছে, কিন্তু এখনো খোলেনি তিস্তা চুক্তির জট।

     

    যা নিয়ে বিস্তর ক্ষোভ রয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে। এই বিষয়গুলো নিয়েও বৈঠকে কথা হতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। এছাড়াও ভারত বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গা চুক্তির কার্যকাল শেষ হবে ২০২৬ সালে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটির মেয়াদ ছিল ৩০ বছর। হিসাব অনুযায়ী, এই চুক্তি নতুন ভাবে নবায়ন করার জন্য দিল্লি আর ঢাকার হাতে আর খুব একটা বেশি সময় নেই। তাই বড় মাপের কিংবা কোন গুরুত্বপূর্ণ জল বণ্টন চুক্তির কথা নিয়ে আলোচনা হতে পারে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে। এছাড়াও বর্তমানে নিম্নমুখী বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। অর্থনৈতিক দিক থেকেও দেশটা একটু কোণঠাসা। তাই তো দেশটার বহু অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, এই মুহূর্তে বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণদাতা দেশ কিংবা নানা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে আলোচনা করতে হবে। এমত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত কি ধরনের ভূমিকা নেয় সেদিকে নজর রয়েছে অর্থনীতিবিদদের। যদিও বাংলাদেশের বহু কূটনৈতিক মনে করেন, বাংলাদেশ এখন এমন কোন গভীর সংকট নেই, যার কারণে ভারতের কাছ থেকে সাহায্য চাইতে হবে।

     

    এছাড়াও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে কাজ করছে চীন ফ্যাক্টর। বলা হয়ে থাকে, বাংলাদেশে চীন কতটা প্রভাব বিস্তার করছে কিংবা ঢাকাকে বেজিং কীভাবে নিজের কাছে টানার চেষ্টা করছে, সেদিকে নয়া দিল্লির নজর থাকে। যদিও প্রকাশ্যে এই নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য হয় না। অপরদিকে বাংলাদেশও ভারত আর চীনের মধ্যে একটা ভারসাম্যের কূটনীতি বজায় রাখার চেষ্টা করে। নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, মোদী-হাসিনার বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে আরো মজবুত করবে। তবে দুই দেশের মধ্যে থাকা সমস্যাগুলোর সমাধান কতটা হবে, তা বৈঠকের পরেই জানা যাবে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • India-Bangladesh: ভারতের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নেন ওপার বাংলার মানুষ ! জানেন কোথায় ?

    India-Bangladesh: ভারতের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নেন ওপার বাংলার মানুষ ! জানেন কোথায় ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    India-Bangladesh: ভারতের এমন একটি জায়গা রয়েছে যেখানের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশী। জানেন জায়গাটি কোথায় ? জায়গাটির নামই বা কি ? জায়গাটির নাম শুনলে অবাক হবেন। জায়গাটির নাম ঢাকাপাড়া। নাম শুনে হয়তো অনেকেই ভাববেন জায়গাটি হয়তো বাংলাদেশের ঢাকার কোন জায়গা। আদতে তা কিন্তু নয়। জায়গাটি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার রানাঘাটের শান্তিপুরের একটি এলাকা। সেখানকার বেশিরভাগ মানুষ ও তাদের পূর্বপুরুষরা এসেছেন বাংলাদেশের ঢাকা কিংবা বৃহত্তর ঢাকা এলাকায়। আর সেই কারণেই জায়গাটির নাম ঢাকাপাড়া।

     

    এখানে প্রায় ২ থেকে আড়াই লক্ষ মানুষ বসবাস করেন। এবং তাদের প্রত্যেকেরই শিকড় ওপার বাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশে। শান্তিপুর নদীয়া জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নাম। জানা গেছে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এই জেলার অধিকাংশ মানুষই ১৯৭১ সালের আগে কিংবা তার কিছু পরে বা দেশভাগের সময় বিভিন্ন বাস্তবতার স্বীকার হয়ে তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এবং তারপর থেকেই তারা ভারতের নাগরিকত্ত্ব নিয়ে সরাসরি গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের উৎসবে সরাসরি সামিল হয়েছেন। সেই চিত্রই দেখা গেলো চলতি লোকসভা ভোটের চতুর্থ দফায়।

     

    রানাঘাটের পাশাপাশি এদিন ভোট হয়েছে নদীয়া জেলার আর একটি অন্যতম জায়গা কৃষ্ণনগড়েও। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই দুই সংসদীয় আসনে সরাসরি ভোট নির্ধারণ করেন ওপার বাংলা থেকে আসা নাগরিকরা। এখানকার ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জনপ্রতিনিধি নির্ণয়ে নিয়ন্ত্রক ভূমিকা পালন করেন। সেখানকার মানুষজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ভারতে থাকলেও জন্মস্থানের টানকে তারা ভুলতে পারেননি।

     

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

     

     

  • India-Bangladesh Relationship: পারস্পরিক সহযোগিতা হবে আরো গভীর, ভারত-বাংলাদেশের এফওসিতে তিস্তা জলের প্রসঙ্গ

    India-Bangladesh Relationship: পারস্পরিক সহযোগিতা হবে আরো গভীর, ভারত-বাংলাদেশের এফওসিতে তিস্তা জলের প্রসঙ্গ

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    India-Bangladesh Relationship: সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ডামাডোলের শেষ নেই। যার সঙ্গে বারংবার জড়িয়েছে ভারতের প্রসঙ্গ। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে পরাশক্তিগুলো কি ভাবছে, কি ভাবছে না তা নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক আলোচনায় বারংবার এসেছে বাংলাদেশের নাম। যদিও ভারত প্রথম থেকেই বলে এসেছে, দেশটার নির্বাচন এক্কেবারে অভ্যন্তরীণ বিষয়। দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্বের নীতিতে চলে। এবার পরস্পরের সহযোগিতা আরো গভীর করার উপর জোর দিল দুই দেশ। আলোচনায় উঠে এল তিস্তার জল বণ্টনের প্রসঙ্গ।

    ২৪ শে নভেম্বর শুক্রবার নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ভারত ফরেন অফিস কনসাল্টেশন (এফওসি)। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক হায়দ্রাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব ভারতের জি২০ প্রেসিডেন্সির অধীনে একমাত্র দক্ষিণ এশিয়ার নেতা হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে “জি২০ লিডারস সামিটে” আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এফওসি মূলত বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় পর্যালোচনা করার লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত আলোচনার জন্য একটি মূল প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে এবং দুই দেশের জনগণের বৃহত্তর সুবিধার জন্য পারস্পরিক স্বার্থের নতুন উপায়গুলি অন্বেষণ করে থাকে।

    উভয় পররাষ্ট্র সচিব বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং ২০২৩ সালের অগ্রগতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা সংযোগ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সম্প্রতি কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন যে, এই ধরণের সহযোগিতা শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাস্তব ফলাফল প্রতিফলিত করে। দুই পররাষ্ট্র সচিব উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, আঞ্চলিক সংযোগ, আঞ্চলিক পাওয়ার গ্রিড সংযোগ, নিরাপত্তা ও জল সংক্রান্ত সমস্যা, কনস্যুলার ও সাংস্কৃতিক বিষয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর জোর দিয়েছেন। উভয় পক্ষ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি শান্তিপূর্ণ সীমান্তে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা উচিত।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম বিষয় গুলি হল, তিস্তা চুক্তি এবং অভিন্ন নদীর জল বণ্টন চুক্তির প্রাথমিক সমাপ্তি, বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্য থেকে বাণিজ্য বাধা দূর করা এবং দুই দেশের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি যোগাযোগ সম্প্রসারণের জন্য ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য তার প্রতিপক্ষকে অনুরোধ করেছেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভারতের সহায়তাও চেয়েছেন।

    অপরদিকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা বাংলাদেশকে বিশ্বস্ত প্রতিবেশী হিসেবে অভিহিত করে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সাউথ এবং জি-২০ এর ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের প্রশংসা করেছেন। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে নেতৃত্বের অঙ্গীকারের আশ্বাস দিয়েছেন এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছেন।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • India-Bangladesh Relationship: একেই বলে বন্ধুত্ব, ভারতের জন্য দুই বন্দর খুলে দিল বাংলাদেশ! চাঙ্গা হবে অর্থনীতি

    India-Bangladesh Relationship: একেই বলে বন্ধুত্ব, ভারতের জন্য দুই বন্দর খুলে দিল বাংলাদেশ! চাঙ্গা হবে অর্থনীতি

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    India-Bangladesh Relationship: একেই বলে বন্ধুত্ব, ভারতের জন্য দুই বন্দর খুলে দিল বাংলাদেশ। বাড়বে বাণিজ্য, বৃদ্ধি পাবে দুই দেশের যোগাযোগ। দুই দেশই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে মরিয়া। আখেরে লাভ দুই দেশের। ভারতের শত্রু চীনের সঙ্গে বাংলাদেশে হাত মেলালেও, শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন ভারতের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক। বাংলাদেশ বেজিংয়ের তালে গা ভাসায় নি। বাংলাদেশের একটা ছাড়পত্রে খুশির আবহ ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে। ভারত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম আর মংলা বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। সহজ হবে পণ্য আমদানি রপ্তানি। ভারতকে মানতে হবে একগুচ্ছ নিয়ম।

    বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার নিয়ে বহুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। এমনকি ভারত বাংলাদেশের মধ্যে এই নিয়ে চুক্তি হয়। সব দিক বিবেচনা করতে করতে বাংলাদেশ কাটিয়ে দিয়েছে বেশ কয়েকটা বছর। সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড স্থায়ী ট্রানজিট আদেশ অনুযায়ী ২০১৮ সালের স্বাক্ষরিত দুই দেশের চুক্তির অধীনে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কার্গোর ট্রান্স শিপমেন্ট হবে বলে জানিয়েছে। ভারত পণ্য রপ্তানি আমদানির জন্য ব্যবহার করতে পারবে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর। মূলত বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান বন্দর এই চট্টগ্রাম, যেখান থেকে দেশটির প্রায় 90% এর বেশি বৈদেশিক বাণিজ্য হয়ে থাকে। বঙ্গোপসাগরে থাকা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মংলা। এবার ভারত ট্রানজিট ও কার্গো ট্রান্স শিপমেন্টের জন্য এই দুই বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। প্রচুর উপকার পাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাজ্যগুলি। বিপুল খরচ বাঁচবে ভারতের, খুব সহজে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে পৌঁছে যাবে পণ্য।

    এনবিআর এর স্থায়ী আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে হওয়া ‘এগ্রিমেন্ট অন দ্যা ইউজ অফ চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অফ গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া’ আর আওতায় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর। সেই অনুযায়ী ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট পণ্যের কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ সরকার এই আদেশ জারি করেছে। ভারত এবার থেকে বাংলাদেশের এই দুটি বন্দর ব্যবহার করে নিজের দেশে সহজে পণ্য পরিবহন করতে পারবে। যার জন্য খোলা হয়েছে ১৬টি ট্রানজিট রুট। সেই রুটের তালিকায় রয়েছে মংলা-আখাউড়া-আগরতলা, চট্টগ্রাম-আখাউড়া-আগরতলা, তামাবিল-ডাউকি, বিবিরবাজার-শ্রীমন্তপুর এবং শেওলা-সুতারকান্দি।

    যে যে নিয়ম ভারত কে মানতে হবে

    ট্রান্সশিপমেন্টের ক্ষেত্রে অপারেটরকে বাংলাদেশ কাস্টমস থেকে পাঁচ বছরের জন্য লাইসেন্স নিতে হবে। বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ এমন কোন পণ্য পরিবহন করা যাবে না। সাত দিনের বেশি বাংলাদেশের বন্দরে ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য রাখা যাবে না। বন্দরে যখনই পণ্য পৌঁছাবে তার ২৪ ঘন্টার মধ্যে সেই খবর জানাতে হবে বাংলাদেশ কাস্টমসকে। এছাড়াও কাস্টমসের কাছে জমা দিতে হবে বিল অফ এনট্রি, কমার্শিয়াল ইনভয়েস এবং প্যাকিং লিস্ট সহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট। পরিশোধ করতে হবে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কাস্টমস ডিউটি। ফ্রি এবং চার্জের উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। প্রত্যেকটি পণ্য সিল করতে হবে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে।

    ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশে ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বন্দর আর স্থলপথ ব্যবহার করে খুব সহজে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে। এখানে খরচ কম, আবার সময়ও বাঁচবে। অপরদিকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের আয় হবে বাংলাদেশের। সম্প্রতি ভারত এবং বাংলাদেশ নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে নানান পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের পর বেশ কয়েকটি যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে। বন্ধ হয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি আন্তসীমান্ত রেলপথের পুনরুজ্জীবন, নদীপথে জলপথ ব্যবস্থার সংযোগ এবং পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের বন্দরগুলি ব্যবহার করার অনুমতি সহ নানান কাজ চালাচ্ছে দুই দেশ।

    শুধু যোগাযোগ কিংবা বাণিজ্যিক নয়, প্রতিরক্ষার দিক থেকেও দুই দেশ হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চায়। ভারতে তিন দিনের সফরে এসেছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান। ২৭ এপ্রিল দিল্লিতে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ভারতীয় প্রতিপক্ষ জেনারেল মনোজ পান্ডের একটি বৈঠক হয়েছে। কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ, সন্ত্রাস বিরোধী সহযোগিতা, সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, আন্তকার্যকারিতা এবং শক্তিশালীকরণ সংক্রান্ত নানান বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল, দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে থাকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। আশা করা হচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরো মজবুত হবে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমর্থনের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার ভাগাভাগি করে নিয়েছে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম