Tag: Gyanesh Kumar Protest

  • জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ

    জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ

    Gyanesh Kumar Resignation: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই দেশের একাধিক প্রান্তে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার দিল্লি, কলকাতা, মধ্যপ্রদেশ, পঞ্জাব এবং জম্মু-কাশ্মীরে বিরোধীদের বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। দিল্লির আইটিও এলাকায় জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে পোস্টার দেখা যায়। নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে দিল্লি কংগ্রেসের বিক্ষোভ ঘিরে আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন-বিয়োজন এবং সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল ও সংগঠনগুলি। এই প্রতিবাদের পটভূমিতে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের একাধিক আপত্তির কথা প্রকাশ্যে আসার বিষয়টিও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে।

    দিল্লি থেকে কলকাতা, একাধিক রাজ্যে বিক্ষোভ

    জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। দিল্লির আইটিও এলাকায় দেখা যায় তাঁকে নিশানা করে পোস্টার। সেখানে লেখা ছিল, ‘জ্ঞানেশ কুমার হটাও, নির্বাচন কমিশন বাঁচাও’। নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে দিল্লি কংগ্রেসের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বাড়ানো হয়।

    এর পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ৫ রাইসিনা রোড থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত মিছিলের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যেই এই প্রতিবাদ কর্মসূচি আরও জোরদার হয়েছে।

    জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভাতেও ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে কংগ্রেস বিধায়কেরা বিক্ষোভ করেন। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবি তোলা হয়। বিধায়কদের নিজেদের আসনে ফিরে যেতে বলেন স্পিকার আবদুর রহিম রাথের। পরে বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়।

    মধ্যপ্রদেশ ও পঞ্জাবেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

    মধ্যপ্রদেশের ভোপালেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে যুব কংগ্রেস। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে জমায়েত করে বিক্ষোভকারীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানান।

    পঞ্জাবেও একই ইস্যুতে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হয়। পঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানো, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে চণ্ডীগড়ে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিলের কর্মসূচি নেওয়া হয়।

    এরই মধ্যে ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস দেশজুড়ে একটি আবেদন কর্মসূচি শুরু করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানো, তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত এবং ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত নথি ও অভ্যন্তরীণ আপত্তি প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ আপত্তি ঘিরে বিতর্ক

    এই প্রতিবাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাঁদের আপত্তির মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বিয়োজন, নতুন ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত ফরমে পরিবর্তন এবং ভোটার তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয় ছিল। এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পরেই নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।

    এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধী পক্ষের একাংশ সংসদের দুই কক্ষেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও দলীয় সূত্রের দাবি উঠে এসেছে।

    অভিযোগের জবাব দিল নির্বাচন কমিশন

    তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলির ব্যাখ্যাও দিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রশাসনিক প্রশ্ন, মতামত এবং পরামর্শের আদানপ্রদান স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন-সহ সমস্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।

    দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে যে আপত্তির কথা প্রকাশ করা হয়েছিল, সেগুলিকে কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, লিখিত নোট, পর্যবেক্ষণ, কারিগরি পরামর্শ এবং অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষার প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কাজের অংশ।

    ভোটার তথ্য ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল ব্যবস্থার বিষয়েও কমিশন জানিয়েছে, এটি সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে পরিচালিত একটি সুরক্ষিত ও বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা নিরাপদ প্রবেশাধিকার ব্যবস্থার মাধ্যমে সেখানে কাজ করেন।

    ভোটার তালিকা, নাম বাদ দেওয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

    বিক্ষোভকারীদের অন্যতম অভিযোগ ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া এবং সেই সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার সুযোগ নিয়ে। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের আবেদন সংক্রান্ত ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

    বিরোধী পক্ষের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, সংশোধন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামো মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

    এই বিতর্কের মধ্যে কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। কেরল ও কর্নাটক-সহ বিভিন্ন রাজ্যে দলের নেতারা বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি বেঙ্গালুরুর হাই গ্রাউন্ডস থানায় অভিযোগ দায়ের করে জ্ঞানেশ কুমার এবং বিজেপি বিধায়ক অভয় পাটিলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। অভিযোগে যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা এবং ভোটাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    তবে এই অভিযোগগুলিও রাজনৈতিক পক্ষগুলির বক্তব্য হিসেবে সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের অবস্থান হল, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে।

    আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে রাজনৈতিক চাপ

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই শুক্রবারের বিক্ষোভগুলি রাজনৈতিক চাপ আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। দিল্লি থেকে কলকাতা, ভোপাল থেকে চণ্ডীগড় এবং জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা—একাধিক জায়গায় একই দাবিতে প্রতিবাদ হয়েছে।

    ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের আবেদন কর্মসূচিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের দাবি তোলা হয়েছে। একইসঙ্গে বিরোধী দলগুলির একাংশ সংসদের দুই কক্ষেই তাঁর বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

    অন্যদিকে, এই বিতর্ক নিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটির বৈঠকেও আলোচনা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।