Sheikh Hasina India Bangladesh Relations: শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বাংলাদেশে ফেরাকে ঘিরে নতুন আলোচনা। আনন্দবাজার পত্রিকার ৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দাবি, নিরাপত্তা, সম্মান ও চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যর্পণ না করার বার্তাও দিয়েছে ভারত।
প্রথম কলকাতা: ডিসেম্বর যত এগিয়ে আসছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অন্দরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা ততই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতেই তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে ঢাকাকে ভারতের বার্তা দেওয়ার দাবি সামনে এসেছে। প্রায় এক মাস আগে ভারতের গোয়েন্দা বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের দল ঢাকা সফর করে বাংলাদেশের প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল। সেই বৈঠকেই শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে বলে আনন্দবাজার পত্রিকার ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ প্রিন্ট সংখ্যায় দাবি করা হয়েছে।
মূলত তাঁর সঙ্গে কোনও অসম্মানজনক আচরণ না করা, গ্রেপ্তার করা হলে নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও খামতি না রাখার বিষয়টি ঢাকাকে জানানো হয়েছে বলে দাবি। আনন্দবাজার পত্রিকার ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত কোনও অবস্থাতেই বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যর্পণ করবে না—এমন অবস্থানও নাকি জানানো হয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতির পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের দিকটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ঢাকায় ভারতের গোয়েন্দা দলের বৈঠক, হাসিনার ফেরা নিয়ে কী বার্তা?
আনন্দবাজার পত্রিকার ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক মাস আগে ভারতের গোয়েন্দা বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের দল ঢাকা সফর করে। সেখানে বাংলাদেশের প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয় বলে দাবি করা হয়েছে। সেই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং সেই পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হবে।
ভারতের পক্ষ থেকে ঢাকাকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর সঙ্গে কোনও অসম্মানজনক আচরণ না করাই বাঞ্ছনীয়। অর্থাৎ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তাঁর নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি।
এর পাশাপাশি আরও দুটি বিষয়ের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে যদি বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে তাঁর নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে দাবি। একইসঙ্গে তাঁর চিকিৎসার ক্ষেত্রেও যেন কোনও খামতি না থাকে, সেই বিষয়টিও ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে ভারতের কথিত বার্তার কেন্দ্রে তিনটি বিষয় উঠে এসেছে—তাঁর সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ না করা, গ্রেপ্তার হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা রাখা। প্রতিবেদনে এগুলিকেই ঢাকার কাছে ভারতের অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের অবস্থান কী?
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লি থেকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দাবির মধ্যেই ভারত তাঁর প্রত্যর্পণ করবে কি না, সেই প্রশ্নও রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে গোয়েন্দা সূত্রের উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, ঢাকার বর্তমান প্রশাসনকে ভারতের পক্ষ থেকে জোরের সঙ্গে জানানো হয়েছে যে কোনও অবস্থাতেই বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ভারত প্রত্যর্পণ করবে না। এর পিছনে নয়াদিল্লির যুক্তি হিসেবে প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই চুক্তির শর্ত অনুসারে কোনও প্রত্যর্পণের অনুরোধ তখনই মঞ্জুর করা যেতে পারে, যখন আশ্রয়দাতা দেশ নিশ্চিত হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিচারের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র প্রত্যর্পণের অনুরোধ এলেই তা গ্রহণ করার বিষয় নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচার এবং আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টিও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই অবস্থানের মধ্যেই শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে দেশে তাঁর ফেরার দাবি এবং তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি রয়েছে, অন্যদিকে ভারত তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়ে কী অবস্থান নিচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের গোয়েন্দা প্রতিনিধিদল ঢাকায় গিয়ে এই অবস্থান জানিয়ে এসেছে।
‘উনি পারলে কালই দেশে ফেরেন’, হাসিনার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি
শেখ হাসিনা আদৌ বাংলাদেশে ফিরতে চান কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রতিবেদনে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রধান দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব।
হাসিনার দলের এক নেত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘উনি পারলে কালই দেশে ফেরেন।’ তাঁর দেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে এবং বাংলাদেশের জনগণের উপর তাঁর আস্থা রয়েছে বলেও ওই বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিনি দেশে ফেরার ব্যাপারে মনস্থির করেছেন।
তবে একই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাজনীতিতে শুধুমাত্র সাহস এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদ যথেষ্ট নয়; সুচিন্তিত পরিকল্পনাও প্রয়োজন। ভারতীয় গোয়েন্দাদের মতে, শেখ হাসিনা কীভাবে এবং কোন পথে বাংলাদেশে ফিরবেন, সেই পরিকল্পনা সম্ভবত এখনও আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব করে উঠতে পারেনি বলেও দাবি করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা যদি সত্যিই দেশে ফেরার ব্যাপারে প্রস্তুত থাকেন, তাহলে সেই প্রত্যাবর্তনের বাস্তব পরিকল্পনা কী? তাঁর নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে, দেশে ফিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আইনি প্রক্রিয়াগুলির মোকাবিলা কীভাবে হবে—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও স্পষ্ট নয় বলেই প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
অর্থাৎ, ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্যে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা সামনে এলেও প্রত্যাবর্তনের বাস্তব প্রস্তুতি নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধানই এখন শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে জঙ্গি উপস্থিতির দাবি, গোয়েন্দাদের উদ্বেগ কেন?
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা ছাড়াও বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আরেকটি উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে গোয়েন্দা সূত্রের উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে লস্কর-ই-তইবার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত চারজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা একসময় কাশ্মীরে সক্রিয় ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। হঠাৎ করে তারা বাংলাদেশে কী করছে, তা নিয়ে খোঁজখবর শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর হত্যাকাণ্ডের কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনও নেতার নিরাপত্তা এবং সেই নিরাপত্তাকে ঘিরে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি বোঝাতে প্রতিবেদনে ওই ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে একাধিক স্তরের ছবি উঠে এসেছে। একদিকে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তিনি দেশে ফিরতে চান এবং বাংলাদেশের মানুষের উপর তাঁর আস্থা রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের পক্ষ থেকে তাঁর নিরাপত্তা, সম্মান এবং চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্যর্পণের প্রশ্নে ভারতের অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
#SheikhHasinaIndiaBangladeshRelations #SheikhHasina #SheikhHasinaReturn #BangladeshPolitics #IndiaBangladeshRelations #SheikhHasinaIndia #BangladeshPoliticalNews #SheikhHasinaBangladeshReturn #IndiaBangladeshDiplomacy #BangladeshGovernment #IndianIntelligence #SheikhHasinaNews














