Maitree Express Train Service: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ ফের চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে। মৈত্রী এক্সপ্রেসসহ তিনটি আন্তঃদেশীয় ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর বিষয় বৈঠকে উঠতে পারে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতি মিললে পরিষেবা ফের শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ ফের চালুর সম্ভাবনা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা হতে চলেছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকে বন্ধ থাকা সীমান্তপারের যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা নিয়ে এবার বৈঠকে বসতে চলেছেন দুই দেশের রেল আধিকারিকরা। মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস এবং মিতালী এক্সপ্রেস ফের চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
পিটিআই সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের রেল আধিকারিকরা ঢাকায় ভারতীয় রেল আধিকারিকদের সঙ্গে দুই দিনের বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেনের পরিষেবা পুনরায় চালু করা। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে আগামী মাসের মধ্যেই ট্রেন পরিষেবা ফের শুরু হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার আগে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
২০২৪ থেকে বন্ধ যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ (Maitree Express Train Service)
২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং বন্ধন এক্সপ্রেসের পরিষেবা জুলাই ২০২৪-এ স্থগিত করা হয়েছিল। পরে সেই স্থগিতাদেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়। মিতালী এক্সপ্রেসও ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শেষবার ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। এরপর সেটি আর ভারতে ফিরে আসেনি।
এই পরিস্থিতিতে এবার ফের যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি আলোচনার টেবিলে আসছে। বাংলাদেশের রেল আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী দিনের বৈঠকে তিনটি ট্রেনের পরিষেবা পুনরায় চালু করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা সীমান্তপারের যাত্রীবাহী রেল পরিষেবা নিয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষ ফের আলোচনার পথে এগোচ্ছে।
তবে এই মুহূর্তে ট্রেন পরিষেবা চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যায়নি। বৈঠকে আলোচনা এবং দুই পক্ষের সম্মতির পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ফলে আলোচনা শুরু হলেও পরিষেবা ঠিক কবে থেকে চালু হবে, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে আগামী মাসের মধ্যেই পরিষেবা ফের শুরু হতে পারে।
মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী—তিন ট্রেন নিয়েই আলোচনা (Maitree Express Train Service)
আসন্ন আলোচনায় যে তিনটি ট্রেনের পরিষেবা নিয়ে কথা হবে, তার মধ্যে রয়েছে মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস এবং মিতালী এক্সপ্রেস। মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে যাতায়াত করে। বন্ধন এক্সপ্রেসের সঙ্গে যুক্ত কলকাতা ও খুলনা রুট। আর মিতালী এক্সপ্রেস আগে ঢাকা ও নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে চলাচল করত।
এই তিনটি ট্রেনই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। ২০২৪ সালে পরিষেবা বন্ধ হওয়ার পর থেকে এগুলির চলাচল আর শুরু হয়নি। এবার তাই আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের রেল আধিকারিকদের বৈঠককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের এক রেল আধিকারিকের বক্তব্য থেকে জানা গেছে, আসন্ন আন্তঃসরকারি রেল বৈঠকে মৈত্রী, বন্ধন এবং মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়টি আলোচনার মধ্যে থাকবে। অর্থাৎ, তিনটি পুরনো রেল পরিষেবাকেই ফের চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
তবে আলোচনার পরই পরিষেবা চালু হয়ে যাবে এমন নয়। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের অনুমোদন পাওয়ার পরেই যাত্রীবাহী ট্রেনগুলি পুনরায় চলাচল শুরু করতে পারবে। তাই বৈঠকের ফলাফল এবং পরবর্তী সরকারি অনুমোদনের দিকেই এখন নজর থাকবে।
নতুন রেলপথের প্রস্তাবও উঠতে পারে (Maitree Express Train Service)
শুধু বন্ধ হয়ে থাকা তিনটি ট্রেন চালুর বিষয়ই নয়, আসন্ন বৈঠকে নতুন রেল সংযোগ নিয়েও প্রস্তাব আসতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাজশাহী ও কলকাতার মধ্যে একটি নতুন রেলপথের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের একটি প্রস্তাবও আলোচনায় আসতে পারে। বর্তমানে যে রুটে ট্রেনটি চলাচল করত, তার পরিবর্তে নবনির্মিত পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ, আসন্ন আন্তঃসরকারি রেল বৈঠকে একদিকে যেমন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা ফের চালুর বিষয়টি আলোচনায় থাকবে, তেমনই নতুন রেল সংযোগ এবং বিদ্যমান রুটের পরিবর্তনের প্রস্তাবও উঠতে পারে। তবে এগুলিও এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
পিটিআই সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে মৈত্রী, বন্ধন এবং মিতালী এক্সপ্রেস আগামী মাসের মধ্যেই ফের চালু হতে পারে। কিন্তু তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের অনুমোদন অপরিহার্য। ফলে বৈঠকের পরবর্তী সিদ্ধান্তই ঠিক করবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেনের ভবিষ্যৎ।
এই মুহূর্তে নিশ্চিত বিষয় একটাই—মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস ফের চালুর সম্ভাবনা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের রেল আধিকারিকরা আলোচনায় বসতে চলেছেন। পরিষেবা কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনও চূড়ান্ত নয়।
#maitreeexpresstrainservice #maitreeexpress #indiabangladeshtrain #bangladeshindiarailway #crossbordertrain #passengertrain #dhakakolkata













