Dinesh Trivedi Tarique Rahman Meeting: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যখন ধীরে ধীরে নতুন সমীকরণের দিকে এগোচ্ছে, তখনই সামনে এল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর যোগদান ঘিরে আলোচনা জোরদার হয়েছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের আমন্ত্রণটি বর্তমানে বিবেচনাধীন।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। বাংলাদেশের সদস্যপদ না থাকলেও ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে তাঁর দিল্লি সফর হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মুহূর্ত হতে পারে।
ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয়। তবুও ভারতের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক দিক থেকে এটি দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারিক রহমানকে নয়াদিল্লির সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সেটি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তারিক রহমান সম্মেলনে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ফলে এখন মূল প্রশ্ন—বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যদি দিল্লিতে যান, তাহলে কি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হবে? সেই সম্ভাবনাই এই আমন্ত্রণকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
দিনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক, কী বলছে ঢাকা?
বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দিনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের পর বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী জানান, ভারত থেকে পাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণ সরকার বর্তমানে পর্যালোচনা করছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ভারতীয় হাইকমিশনারকে তা জানানো হবে।
খলিলুর রহমান আরও জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছু ‘অস্বস্তি’ বা অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে এবং সেগুলি সমাধান করা জরুরি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই পক্ষই বিষয়গুলি সম্পর্কে অবগত এবং সম্পর্ককে আরও স্বাভাবিক করতে সেগুলির সমাধান প্রয়োজন।
অর্থাৎ, শুধু ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া নয়, তারিক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কের বৃহত্তর পরিসরেও আলোচনা হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
“দিল্লি তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত”
এর আগে দিনেশ ত্রিবেদী প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানকে নয়াদিল্লিতে স্বাগত জানাতে আগ্রহী। তাঁর বক্তব্য ছিল, সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর। তবে ভারতীয় পক্ষ তাঁর সফরের অপেক্ষায় রয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে স্বাগত জানাতে চায়।
১৮তম ব্রিকস সম্মেলন ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে হওয়ার কথা। সেই সম্মেলনে তারেক রহমানকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য বা পর্যবেক্ষক নয়, ফলে এই আমন্ত্রণের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
ভারতীয় হাইকমিশনারের এই বক্তব্যকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে দিল্লির আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা ইস্যু কি আলোচনায় আসবে?
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল বিষয় এখনও শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হয়ে রয়েছে।
তবে তারিক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকেও সম্পর্ক পুনর্গঠনের বিভিন্ন পদক্ষেপ সামনে এসেছে। নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দিনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগকেও সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফলে তারেক রহমান দিল্লিতে গেলে শেখ হাসিনা-সহ অমীমাংসিত বিষয়গুলি আলোচনায় আসবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনও নির্দিষ্ট বৈঠকের কর্মসূচি বা আলোচ্যসূচি নিশ্চিত করা হয়নি।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে?
গত কয়েক বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে একাধিক টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে। কিন্তু তারিক রহমানের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠক—সব মিলিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা স্পষ্ট।
দিনেশ ত্রিবেদীও দায়িত্ব নেওয়ার সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের সম্ভাব্য উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এখন কী সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ?
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট—ভারতের আমন্ত্রণ তারা পেয়েছে এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের বিদেশ সফরের অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গেও বিষয়টি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই দিল্লির আমন্ত্রণ গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
তবে ভারতীয় পক্ষ ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী। ফলে এখন নজর ঢাকার সিদ্ধান্তের দিকে।
তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিলে সেটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ হবে না; ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন পর্যায়ে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও তৈরি হতে পারে। আর সেই সম্ভাবনার মধ্যেই দিনেশ ত্রিবেদীর ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং দিল্লির আমন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দুই দেশের রাজনৈতিক মহল।
#DineshTrivedi #TariqueRahman #IndiaBangladeshRelations #BangladeshPolitics #BRICSSummit #BangladeshNews #IndiaNews #DiplomaticMeeting
