লিখেছেন সুব্রত আচার্য
সম্পাদক, প্রথম কলকাতা
India Bangladesh Relations: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে কোনও একজন নেতা কিংবা একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিপদ নিয়ে ‘প্রথম কলকাতা’ বরাবর সতর্ক করেছে। এত দিন এই আশঙ্কাকে কেউ কেউ অতিরঞ্জিত সমালোচনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এবার একই উদ্বেগ উঠে এল ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা—সম্পাদকীয় পাতায়।
৮ আগস্ট ‘এই সময়’-এর সম্পাদকীয়র শিরোনাম—“আতিথ্যের মাশুল”। উপশিরোনাম আরও তাৎপর্যপূর্ণ’ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ব্যক্তিকেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়”।
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার মানবিক ও রাজনৈতিক যুক্তি থাকতে পারে। বাংলাদেশে তাঁর বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু তাঁকে আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের মাটিকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্যের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া—এক বিষয় নয়।
সমস্যাটি ঠিক এখানেই।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন ভারত সরকার করেনি। সেখানে প্রকাশিত বক্তব্যকেও নয়াদিল্লি সমর্থন করে না। কিন্তু কূটনীতিতে শুধু সরকারি ব্যাখ্যাই শেষ কথা নয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ঘটনাটিকে কীভাবে দেখছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকার মনে যদি এই ধারণা তৈরি হয় যে দিল্লি শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক মঞ্চ দিচ্ছে, তবে তার প্রভাব পড়বে দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাসে। সম্পাদকীয়টি যথার্থই বলেছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে “কোনও একক ব্যক্তি বা স্বার্থের কাছে বন্ধক রাখা যায় না”।
শেখ হাসিনার সরকার অতীতে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতকে সহযোগিতা করেছে। সেই ইতিহাস অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু আজকের বাংলাদেশ শুধু শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ নয়। সেখানে নতুন রাজনৈতিক শক্তি, নতুন সরকার এবং নতুন জনমত তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে পুরনো সমীকরণ আঁকড়ে থাকলে কৌশলগত ক্ষতি ভারতেরই হবে।
দিল্লিকে তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তার বাংলাদেশনীতি কি একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে চলবে, না বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেবে?
বন্ধুকে আশ্রয় দেওয়া মানবিকতা। কিন্তু একজন বন্ধুর জন্য গোটা প্রতিবেশীর আস্থা হারানো- দূরদর্শী কূটনীতি নয়।
#IndiaBangladeshRelations #SheikhHasina #BangladeshPolitics #IndiaForeignPolicy #IndiaBangladeshTies #SouthAsiaPolitics
