ভারতে কি বন্ধ হতে পারে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম? তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের কড়া বার্তার পর বাড়ছে জল্পনা

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বিতর্কে বড় মোড়! তিন দিনের আলটিমেটাম, বাড়ছে চাপ!

Meta Safe Harbour India concept showing Facebook and Instagram under legal scrutiny following the PM Modi video controversy

Meta Safe Harbour India: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এবার সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক সদস্য সংস্থার প্রধান নির্বাহীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে সংস্থার জন্য দেশে বর্তমানে যে আইনি সুরক্ষা রয়েছে, তা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও হঠাৎ করেই সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। কিছু সময় পরে সেটি আবার ফিরিয়ে আনা হলেও ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কোনও ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ ছিল না; প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই ভিডিওটি সাময়িকভাবে সরিয়ে গিয়েছিল। সেই সঙ্গে ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশও করা হয়।

তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক সদস্য। তাঁর দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বার্তা ভুলবশত সরিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তাই সংস্থার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত। অন্যথায় ভারতে সংস্থাটি যে বিশেষ আইনি সুরক্ষার সুবিধা ভোগ করছে, তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হবে।

এই বিশেষ আইনি সুরক্ষার ফলে কোনও ব্যবহারকারী যে বিষয়বস্তু প্রকাশ করেন, তার জন্য সরাসরি ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দায়ী করা হয় না। তবে শর্ত থাকে, অভিযোগ পাওয়ার পরে সংস্থাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং দেশের আইন মেনে চলতে হবে। সেই সুরক্ষা প্রত্যাহার হলে ব্যবহারকারীদের প্রকাশিত বিষয়বস্তুর জন্য সংস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যেতে পারে।

ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কীভাবে এই প্রযুক্তিগত ত্রুটি ঘটল এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সংস্থার কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জবাবদিহি, প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বার্তা পরিচালনার নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রযুক্তিগত ভুল হলেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
কেন ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে?

সংসদের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নিশিকান্ত দুবে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত ত্রুটির ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।

কমিটির দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বার্তা কয়েক ঘণ্টার জন্য সরিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তাই সংস্থার সর্বোচ্চ কর্তার প্রকাশ্যে ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া উচিত। সেই উদ্দেশ্যেই তিন দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কমিটির আরও অভিযোগ, এই ঘটনা শুধু প্রযুক্তিগত ভুল নয়, বরং দেশের ভাবমূর্তি ও প্রধানমন্ত্রীর জনসম্মুখে থাকা অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশেষ আইনি সুরক্ষা কী?

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারার আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলিকে একটি বিশেষ আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

এই ব্যবস্থার ফলে ব্যবহারকারীরা যে লেখা, ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেন, তার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সরাসরি দায়ী করা হয় না। তবে শর্ত হল, আইন মেনে চলতে হবে এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

যদি এই বিশেষ আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বেআইনি, মানহানিকর বা আইনবিরোধী বিষয়বস্তুর জন্য সংস্থা এবং তাদের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করা সম্ভব হবে।

কমিটি জানিয়েছে, নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না এলে সরকারের কাছে বিশেষ আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হতে পারে।

অন্যদিকে, প্রযুক্তি সংস্থা এখনও তাদের আগের অবস্থানেই অনড়। তাদের দাবি, ভিডিওটি সরিয়ে যাওয়ার ঘটনা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল।

এই ঘটনাকে ঘিরে ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জবাবদিহি, প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা এবং বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়।

#Meta #FacebookIndia #InstagramIndia #SafeHarbour #MarkZuckerberg #PMModi #IndiaTech #SocialMedia #ITAct #NewsOffBeat

Exit mobile version