Trump Iran Threat: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইরান আলোচনার টেবিলে না এলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর উপর বড় ধরনের হামলা চালাবে মার্কিন সেনা। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে মার্কিন অবস্থান নিয়েও নতুন করে নাটকীয় মোড় এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি ইরানের জন্য আরও ভয়াবহ হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে আমাদের লক্ষ্য, সেতুগুলিও ধ্বংস করা হবে। তারা যদি আলোচনায় না আসে, তাহলে অভিযান চলতেই থাকবে।” তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, “আমি না বলা পর্যন্ত মার্কিন হামলা বন্ধ হবে না।”
ইতিমধ্যেই টানা চতুর্থ দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। একইসঙ্গে ইরানের বন্দরগুলির উপর আবারও নৌ অবরোধ কার্যকর করার পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। ফলে গত ১৭ জুন হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়।
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলির কাছ থেকে তাদের পণ্যমূল্যের ২০ শতাংশ সমপরিমাণ নিরাপত্তা ফি নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়।
তবে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই অবস্থান থেকে খানিকটা সরে আসেন ট্রাম্প। তিনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক রাজা, আমির ও শীর্ষ নেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁদের প্রস্তাব, জাহাজের উপর অতিরিক্ত ফি আরোপের পরিবর্তে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে বহু বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
ট্রাম্প বলেন, “তাঁরা আমাকে বলেছেন, অন্য একটি পথে এগোনোই ভালো হবে। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল বিনিয়োগ করতে চান। আমারও মনে হয়, হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের জন্য কাউকে আলাদা করে ফি দিতে বাধ্য করা উচিত নয়।”
যদিও জাহাজের উপর ২০ শতাংশ নিরাপত্তা ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এসেছেন তিনি, তবুও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে বলে মার্কিন প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে মার্কিন হামলা এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের উপরও বড় প্রভাব পড়তে পারে। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে পড়ছে এবং গোটা বিশ্বের নজর এখন হরমুজ প্রণালী ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
#Trump #Iran #USIranConflict #HormuzStrait #MiddleEast #WorldNews #GlobalOilMarket #Airstrikes #DonaldTrump #BreakingNews
