মার্কিন নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি শুরু, আগামী মার্কিন নির্বাচনে কারা হতে পারেন প্রার্থী?

হোয়াইট হাউসের পথে নতুন লড়াই, ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য মুখ কারা?

2028 US Presidential Election potential Democratic candidates preparing for the White House race through campaign events, political meetings, and public appearances across the United States.

2028 US Presidential Election: ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনও দুই বছরেরও বেশি দূরে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নির্বাচনী আবহ তৈরি হতে শুরু করেছে এখনই। বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্দরেই সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। কেউ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে রাজনৈতিক সফর করছেন, কেউ বই প্রকাশ করছেন, কেউ আবার নির্বাচনী তহবিল শক্তিশালী করছেন। সব মিলিয়ে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে এগিয়ে থাকার লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবিধান অনুযায়ী দুই মেয়াদ পূর্ণ করার পর ২০২৮ সালে আর নির্বাচনে লড়তে পারবেন না। ফলে রিপাবলিকানদের নতুন মুখের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। যদিও এখনও পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য মুখদের নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে।

গভর্নরদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা

ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা।

অ্যান্ডি বেশিয়ার

কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার বর্তমানে ডেমোক্রেটিক গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান। রিপাবলিকান-প্রধান কেনটাকির মতো অঙ্গরাজ্যে পরপর দু’বার জয়ী হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা রয়েছে।

তিনি ইতিমধ্যেই সাউথ ক্যারোলাইনা, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং আইওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ভোটের অঙ্গরাজ্য সফর করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক তহবিলেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য অর্থ।

শক্তি: রিপাবলিকান অধ্যুষিত রাজ্যে জয়ী হওয়ার অভিজ্ঞতা।

দুর্বলতা: জাতীয় পর্যায়ে এখনও তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত।

গ্যাভিন নিউসম

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমকে অনেকেই ডেমোক্রেটদের অন্যতম শক্তিশালী মুখ হিসেবে দেখছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম কড়া সমালোচক হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। সম্প্রতি নিজের স্মৃতিকথাও প্রকাশ করেছেন।

শক্তি: ট্রাম্প-বিরোধী অবস্থানের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত।

দুর্বলতা: ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ কর, বাড়ির মূল্য এবং গৃহহীন সমস্যা নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে রিপাবলিকানরা।

জে বি প্রিৎসকার

ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিৎসকারও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। বিশ্বখ্যাত হোটেল ব্যবসায়ী পরিবারের উত্তরাধিকারী হওয়ায় নির্বাচনী অর্থ সংগ্রহে তাঁর বড় সুবিধা রয়েছে।

শক্তি: ব্যক্তিগত সম্পদের কারণে আর্থিকভাবে শক্তিশালী।

দুর্বলতা: অতিরিক্ত ধনী হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

জশ শাপিরো

পেনসিলভানিয়ার জনপ্রিয় গভর্নর জশ শাপিরোও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পেনসিলভানিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য। সেখানে তাঁর জনপ্রিয়তা তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

শক্তি: নির্বাচনী ভাগ্য নির্ধারণী অঙ্গরাজ্যে জনপ্রিয় নেতা।

দুর্বলতা: ইজরায়েলপন্থী ভাবমূর্তির কারণে দলের একাংশের সমর্থন হারাতে পারেন।

আরও যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে

সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আরও রয়েছেন— ওয়েস মুর (মেরিল্যান্ডের গভর্নর), গ্রেচেন হুইটমার (মিশিগানের গভর্নর)। যদিও দু’জনেই এখনও প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দেননি।

আবারও কি লড়বেন কমলা হ্যারিস?

২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হওয়ার পরও প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ২০২৮ সালের নির্বাচনে ফের লড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন।

শক্তি: জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত পরিচিত মুখ এবং এখনও ডেমোক্রেট ভোটারদের বড় অংশের সমর্থন রয়েছে।

দুর্বলতা: পরপর তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করলে ভোটারদের মধ্যে ক্লান্তি তৈরি হতে পারে।

পিট বুটিগেগও প্রস্তুত

পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিগেগ ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলো সফর শুরু করেছেন।

রাজনৈতিক বিতর্কে দক্ষতার জন্য তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় হলেও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

মার্ক কেলিকে নিয়েও বাড়ছে জল্পনা

নাসার সাবেক নভোচারী এবং অ্যারিজোনার সিনেটর মার্ক কেলিকে সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাঁর নির্বাচনী তহবিলও সবচেয়ে শক্তিশালীদের মধ্যে অন্যতম।

শক্তি: গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের জনপ্রিয় নেতা এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে।

দুর্বলতা: দলের প্রগতিশীল অংশের সমর্থন পুরোপুরি নাও পেতে পারেন।

প্রগতিশীল শিবিরের বড় মুখ আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ

ডেমোক্রেটিক দলের তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন।

নিজেকে তিনি গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন।

শক্তি: তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

দুর্বলতা: রিপাবলিকানদের মতে তিনি অতিরিক্ত বামপন্থী।

রাম ইমানুয়েলও আলোচনায়

বারাক ওবামার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ এবং শিকাগোর প্রাক্তন মেয়র রাম ইমানুয়েলও নির্বাচনে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

যদিও বর্তমান জনমত জরিপে তাঁর সমর্থন খুবই কম।

চমক দেখাতে পারেন নতুন মুখও

মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাস বলছে, শুরুর দিকের নির্ধারিত জনমত সবসময় শেষ ফল নির্ধারণ করে না।

২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রচার শুরু করেছিলেন, তখন তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি। একইভাবে বিল ক্লিনটনও প্রথমদিকে খুব কম সমর্থন পেয়েছিলেন। পরে দু’জনেই প্রেসিডেন্ট হন।

তাই বর্তমান তালিকার বাইরেও কোনও নতুন মুখ শেষ মুহূর্তে উঠে আসতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

চূড়ান্ত লড়াই শুরু হবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের লড়াই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এরপরই সম্ভাব্য প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারে নামতে পারেন।

এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও, অ্যান্ডি বেশিয়ার, গ্যাভিন নিউসম, জশ শাপিরো, জে বি প্রিৎসকার, কমলা হ্যারিস, মার্ক কেলি, পিট বুটিগেগ এবং আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ—এই কয়েকটি নামই ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য মুখ হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে তাঁদের রাজনৈতিক পদক্ষেপই ঠিক করে দেবে, শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের দৌড়ে কারা এগিয়ে থাকবেন।

#2028USElection #DemocraticParty #KamalaHarris #GavinNewsom #MarkKelly #JoshShapiro #PeteButtigieg #WhiteHouse #USPolitics #Election2028

Exit mobile version