Taslima Nasrin Return to Kolkata: লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনার দাবিতে ফের সরব হল একাংশ নাগরিক সমাজ ও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় মতামতদাতারা। সম্প্রতি একটি দীর্ঘ মতামতমূলক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে তসলিমা নাসরিনকে কলকাতার বাইরে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি বাংলার প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাক্স্বাধীনতার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর কলকাতার পার্ক সার্কাসে তসলিমা নাসরিনকে ঘিরে বিক্ষোভ এবং অশান্তির পর তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করে। পরে ২০১১ সালে সরকার পরিবর্তনের পরও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি বলেও ওই মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, নতুন সরকারও তাঁর কলকাতায় ফেরার পথ সুগম করার উদ্যোগ নেয়নি।
বাংলার দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি—বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস—উভয়েই সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে তসলিমা নাসরিনের মতো বিতর্কিত লেখককে বাংলায় ফিরিয়ে আনতে আগ্রহ দেখায়নি। যদিও এই অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির নিজস্ব অবস্থান নয়, বরং লেখকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
মতামতটিতে ভারতের সংবিধানের ১৯(১)(এ) অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বাক্স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক অধিকার এবং কোনও লেখকের মতের সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও তার জবাব হওয়া উচিত যুক্তি ও লেখনীর মাধ্যমে, প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা বা সামাজিক চাপের মাধ্যমে নয়।
বর্তমানে তসলিমা নাসরিন দিল্লিতে ভারতের রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে বসবাস করছেন। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, দিল্লিতে বসবাসের অনুমতি থাকলেও বাংলা ভাষার লেখিকা হিসেবে কলকাতায় তাঁর বসবাসের সুযোগ কেন নেই।
তসলিমা নাসরিনকে কলকাতায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, তাঁর প্রত্যাবর্তন কেবল একজন লেখকের ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, বরং বাক্স্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা এবং ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের প্রতিও বাংলার অঙ্গীকারের প্রতীক হতে পারে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই দাবিগুলি মূলত একটি মতামতমূলক সামাজিক মাধ্যম পোস্টের অংশ। তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন নিয়ে রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বর্তমানে কোনও নতুন সরকারি ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি। তাই বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের পরিসরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
#TaslimaNasrin #Kolkata #FreedomOfExpression #FreeSpeech #WestBengal #Secularism #HumanRights #BengaliWriter #PoliticalDebate
