Tag: India News

  • ভারতের তরফে তারেক রহমানকে দু’বার আমন্ত্রণ

    ভারতের তরফে তারেক রহমানকে দু’বার আমন্ত্রণ

    Tarique Rahman India Visit: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত থেকে দু’টি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। এমনই দাবি করা হয়েছে হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে।

    এর মধ্যে একটি ছিল দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ। অন্যটি ছিল বঙ্গোপসাগরীয় বহুমুখী কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ।

    তবে গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তারেক রহমান যোগ দেননি।

    তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কী জানাল দিল্লি

    তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সওয়াল জানান, এখনও বাংলাদেশের তরফে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। পরে বঙ্গোপসাগরীয় বহুমুখী কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্যও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

    অর্থাৎ, তারেক রহমানের কাছে ভারত থেকে দু’টি পৃথক আমন্ত্রণ পৌঁছেছিল—একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এবং অন্যটি বঙ্গোপসাগরীয় বহুমুখী কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য।

    ব্রিকসের আমন্ত্রণ নিয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের এই বক্তব্যের আগে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁর বক্তব্য ছিল, আমন্ত্রণটি দেওয়া হয়েছিল বঙ্গোপসাগরীয় বহুমুখী কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের চেয়ারম্যানকে।

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীকে নয়, ওই আঞ্চলিক উদ্যোগের চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য পৃথক আমন্ত্রণও দেওয়া হয়েছিল।

    ভারত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল এবং বঙ্গোপসাগরীয় বহুমুখী কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশকে সম্মেলনের বিশেষ পর্বে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই উদ্যোগের সদস্য দেশগুলি হল বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।

    এখনও ভারত সফর করেননি তারেক রহমান

    ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনও পর্যন্ত তারেক রহমান ভারতের উদ্দেশে কোনও সরকারি দ্বিপাক্ষিক সফর করেননি।

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বহুপাক্ষিক মঞ্চের মাধ্যমে নয়, সরাসরি দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের মধ্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে নতুন কর্মসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ঢাকা।

    হুমায়ুন কবির এর আগে জানিয়েছিলেন, দুই দেশ পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সময়সূচিতে একমত হওয়ার পর তারেক রহমানের ভারত সফর হবে। ২৩ আগস্ট থেকে তিন দিনের একটি সফরের প্রস্তাব ছিল। তবে সেই সফর পরে পিছিয়ে দেওয়া হয়।

    তারেক রহমানের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি

    তারেক রহমানের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে উঠে এসেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। ২১ সেপ্টেম্বর তাঁর নিউইয়র্ক যাওয়ার কথা রয়েছে।

    সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি তুলে ধরার কথা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথাও রয়েছে।

    বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন। এবারের অধিবেশনের মূল ভাবনা হল, আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন সামলানো এবং সকলের জন্য কার্যকর একটি রাষ্ট্রপুঞ্জ গড়ে তোলা।

    #TariqueRahman #TariqueRahmanIndiaVisit #IndiaBangladeshRelations #BangladeshPrimeMinister #IndiaInvitation #BilateralVisit #BRICSSummit #BIMSTEC #BangladeshNews #IndiaNews #DiplomaticRelations

  • বিপদের সময় বাংলাদেশে পাঠানো হলো বিদ্যুত ও ডিজেল তেল

    India Bangladesh Relations: ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই আদানি গ্রুপের বিদ্যুতের পাশাপাশি এবার ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল তেলও পাঠানো হলো পরশি দেশটিতে। কয়েকদিন আগে তারেক রহমান সরকারের এক মন্ত্রী আগামি মাস থেকে দেশে বিদ্যুৎ সংকটের কথা বলেছিলেন। মন্ত্রীর আশঙ্কা হটিয়ে দিয়ে বিপদের দিনের বন্ধু ভারত বাংলাদেশের সংকট কাটাতে বিদ্যুত ও ডিজেল পাঠালো। এরফলে বিদ্যুৎ পরিষেবা বাংলাদেশে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
    অবশ্য গত কয়েকদিন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয় ভারত। দীর্ঘ বছর ধরে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে মোট ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট ও সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে। এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এসএনএ চার্জ বিষয়ক চুক্তি হচ্ছে। এর বাইরে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের।
    এদিকে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন বা ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।পাইপলাইনের ৭২তম চালানের অংশ হিসেবে এই ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেল ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার মো. রবিউল জানান, গত রবিবার ডিজেল হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। মঙ্গলবার বিকালে তা শেষ হয়। শেখ হাসিনার শাসনামলে ২০১৮ সালে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারত ১৫ বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানির বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে পাইপলাইনটি উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ এ লাইনের মাধ্যমে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭ টন ডিজেল আমদানি করেছে।
    আমদানিকৃত এই জ্বালানি রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি প্রতিষ্ঠান-পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির মধ্যে প্রায় সমপরিমাণে বিতরণ করা হয়।
    উল্লেখ্য, পাইপলাইনের বাংলাদেশ অংশটি ১২৬ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি পঞ্চগড়, নীলফামারী ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে পার্বতীপুরে পৌঁছেছে।

    #IndiaBangladeshRelations #IndiaBangladesh #BangladeshPowerCrisis #DieselSupply #IndiaDiesel #AdaniPower #BangladeshElectricity #EnergyCrisis #IndiaNews #BangladeshNews #CrossBorderEnergy

  • মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ‘ঘর ঘর তিরঙ্গা’ যাত্রা, দেশপ্রেমের বার্তায় সামিল হাজারো মানুষ

    Har Ghar Tiranga Rally:‘ঘর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির সূচনা করে দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতার চেতনাকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর থেকে তিরঙ্গা যাত্রার সূচনা করে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার প্রথমবারের মতো রাজ্যজুড়ে বৃহৎ আকারে ‘ঘর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি পালন করছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু জাতীয় পতাকা বিতরণই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোকসজ্জা এবং স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে একাধিক দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ এবং দেশের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি জানান, রাজ্যজুড়ে কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সৃজনশীল প্রতিযোগিতা এবং স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। তাঁর কথায়, এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু উৎসব পালন নয়, আগামী প্রজন্মের মনে দেশপ্রেমের বীজ আরও দৃঢ়ভাবে রোপণ করা।

    ভবানীপুরে আয়োজিত তিরঙ্গা যাত্রায় অংশ নেওয়া সকল কর্মী-সমর্থক, সাধারণ মানুষ এবং দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই কর্মসূচিকে আরও সফল করেছে।

    ১০ আগস্টের মহা তিরঙ্গা যাত্রার ডাক

    মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ১০ আগস্ট বিকেল ৩টায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে কলকাতার রেড রোডে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির সামনে থেকে শুরু হবে এক ঐতিহাসিক মহা তিরঙ্গা যাত্রা। এই পদযাত্রা বিজয় স্তম্ভ (সাত নম্বর গেট) পর্যন্ত যাবে বলে তিনি জানান।

    তিনি রাজ্যের সমস্ত দেশপ্রেমিক নাগরিককে দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে এই ঐতিহাসিক তিরঙ্গা যাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় পতাকা কোনও রাজনৈতিক দলের নয়, এটি সমগ্র দেশের গর্ব এবং প্রতিটি ভারতীয়ের আত্মমর্যাদার প্রতীক।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তার উল্লেখ

    ভাষণে শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিও বার্তারও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ‘ঘর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিকে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই বার্তাকে সামনে রেখেই পশ্চিমবঙ্গেও সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

    সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

    মুখ্যমন্ত্রী এই কর্মসূচি সফল করার জন্য রাজস্থানের প্রবীণ নেতা রাজেন্দ্র রাঠোর, মন্ত্রী তাপস রায়, বিধায়ক শঙ্কর সিকদার, শিশির বাজোরিয়া, দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য, রাজ্যের মন্ত্রী দীপক বর্মন, নেত্রী পারমিতা দত্ত, বিধানসভা ইনচার্জ নিতাই শীল-সহ দলের সকল নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

    এছাড়াও তিনি পুলিশ প্রশাসন, সরকারি আধিকারিক এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বক্তব্যের শেষে তিনি সকলকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান এবং ‘ঘর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার আবেদন জানান।

  • ১৯ বছর পর কলকাতাকেও বিদায়! ছাড়ার আগে মন খুলে বললেন তসলিমা নাসরিন, কেন এখনও ফিরতে পারছেন না বাংলাদেশে?

    Taslima Nasreen Kolkata Visit: প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরে আবেগঘন সময় কাটানোর পর ফের শহর ছাড়লেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কলকাতা ছাড়ার আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর সবচেয়ে বড় কষ্ট এখনও একই জায়গায় রয়ে গেছে—নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশে তিনি এখনও ফিরতে পারছেন না।

    তসলিমা নাসরিন বলেন, কলকাতায় আসতে পারা তাঁর কাছে নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। দীর্ঘ ১৯ বছর পর এই শহরে ফিরে তিনি যেন নিজের পরিচিত পরিবেশ, ভাষা এবং সংস্কৃতির কাছাকাছি আসতে পেরেছেন। তবে এই আনন্দের মধ্যেও রয়ে গেছে গভীর আক্ষেপ। কারণ, তিনি এখনও নিজের দেশ বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার অধিকার পাননি।

    তাঁর কথায়, নির্বাসনের জীবন তাঁকে আজও নিজের মাতৃভূমি থেকে দূরে রেখেছে। তিনি মনে করেন, একজন লেখকের নিজের দেশে স্বাধীনভাবে বসবাস করার অধিকার থাকা উচিত। কিন্তু নানা বিতর্ক, মৌলবাদী গোষ্ঠীর হুমকি এবং অতীতের ঘটনাবলির কারণে সেই সুযোগ এখনও তাঁর কাছে অধরাই থেকে গেছে।

    কলকাতার সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক

    তসলিমা নাসরিন বহুবার বলেছেন, ঢাকা যদি তাঁর প্রথম বাড়ি হয়, তবে কলকাতা তাঁর দ্বিতীয় বাড়ি। একই ভাষা, একই সংস্কৃতি এবং বাঙালিয়ানার টান তাঁকে বারবার এই শহরের কাছে টেনে এনেছে। কলকাতায় ফিরে তিনি জানান, এত বছর পরও শহরটির প্রতি তাঁর ভালোবাসা একটুও কমেনি।

    তাঁর কথায়, কলকাতায় ফিরে তিনি যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন, তা তাঁকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। বহু মানুষ তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা তাঁর দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

    কেন বাংলাদেশে ফিরতে পারছেন না?

    ১৯৯৪ সালে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে লেখা এবং মতপ্রকাশকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের পর বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। তারপর থেকে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে থেকেছেন এবং বর্তমানে ভারতেই বসবাস করছেন। কিন্তু জন্মভূমি বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ এখনও পাননি।

    তাঁর দাবি, নির্বাসনের জীবন কোনও মানুষের স্বাভাবিক জীবন হতে পারে না। নিজের দেশ, পরিবার, শিকড় এবং ভাষার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা একজন মানুষের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা।

    কলকাতা ছাড়লেও রয়ে গেল প্রত্যাবর্তনের আশা

    কলকাতা সফর শেষ হলেও শহরটির প্রতি নিজের টান অটুট থাকবে বলে জানিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে আবার কলকাতায় আসবেন। একই সঙ্গে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা, একদিন যেন তিনি নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে নিজের দেশ বাংলাদেশেও ফিরতে পারেন।

    তসলিমা নাসরিনের এই মন্তব্য আবারও দক্ষিণ এশিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, লেখকদের নিরাপত্তা এবং নির্বাসিত জীবনের বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

  • লোহিত সাগরে হামলার নেপথ্যে কারা? জানুন হুথিদের আসল পরিচয়

    Who Are Houthis Yemen: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ বাড়ছে উত্তেজনা। তারই মধ্যে লোহিত সাগরে (রেড সি) হামলার মুখে পড়েছে ভারতীয় পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। ইয়েমেনের জলসীমার কাছে একটি প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এমএসভি ফাইজে নূরে ওলিয়া নামের জাহাজটি উল্টে ডুবে যায়। জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিক—যাঁদের মধ্যে ১৩ জন ভারতীয় এবং একজন ইয়েমেনি নাগরিক—ইয়েমেনের নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে উদ্ধার হন।

    এই ঘটনার পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সরাসরি এই হামলার জন্য হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। প্রশ্ন উঠছে—কারা এই হুথিরা? কেন বারবার লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালাচ্ছে?

    কারা এই হুথি?

    হুথি, যাদের আনসার আল্লাহ (Ansar Allah) নামেও পরিচিত, ইয়েমেনের একটি শিয়া ইসলামপন্থী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন। ১৯৯০-এর দশকে উত্তর ইয়েমেনে বসবাসকারী জায়েদি শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার দাবিতে এই সংগঠনের উত্থান হয়।

    প্রথমদিকে তাদের মূল দাবি ছিল রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং উত্তর ইয়েমেনে বেশি স্বায়ত্তশাসন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনে পরিণত হয়।

    কীভাবে শুরু হয় সংঘাত?

    ২০০০ সালের শুরুর দিকে হুথিরা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহ-এর সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। তাদের লক্ষ্য ছিল উত্তর ইয়েমেনের সা’দা (Sa’dah) প্রদেশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

    ২০১১ সালে আরব বসন্ত আন্দোলনের জেরে প্রেসিডেন্ট সালেহ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর আবদরাব্বুহ মনসুর হাদি ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট হন। কিন্তু তাঁর আমলেও হুথিরা বিদ্রোহ চালিয়ে যায়।

    কীভাবে ইয়েমেনের রাজধানী দখল করে হুথিরা?

    ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা উত্তর ইয়েমেন থেকে অগ্রসর হয়ে রাজধানী সানা দখল করে। এরপরই শুরু হয় ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ।

    হুথিদের দখলের মুখে প্রেসিডেন্ট হাদি পদত্যাগ করলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তাঁকে দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যেতে হয়। এরপর থেকেই হাদি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্বাসিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচিত হন।

    ইরানের সঙ্গে কী সম্পর্ক?

    হুথিরা নিজেদের ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষের অংশ বলে দাবি করে। এই জোটে রয়েছে—

    লেবাননের হিজবুল্লাহ
    গাজার হামাস
    ইরান-সমর্থিত আরও কয়েকটি গোষ্ঠী

    এই জোটের মূল লক্ষ্য পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব কমানো।

    পশ্চিমা দেশ ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে ইরান হুথিদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। যদিও ইরান এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে।

    সৌদি আরবের সঙ্গে কেন সংঘাত?

    ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে, যাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা যায়।

    তারপর থেকে সৌদি জোট এবং হুথিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ চলছে। ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি হলেও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি।

    কেন লোহিত সাগরে হামলা চালায় হুথিরা?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকার মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে।

    হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

    ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার বলেছে, হুথিদের এই হামলা শুধু জাহাজে আক্রমণ নয়, বরং—

    বন্দরগুলোর নিরাপত্তা বিপন্ন করছে,
    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করছে,
    আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে,
    ইয়েমেনের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করছে।
    ভারতীয় জাহাজে হামলা নিয়ে কী বলেছে ইয়েমেন?

    ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রক এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে “হুথিদের সন্ত্রাসী হামলা” বলে উল্লেখ করেছে।

    তাদের দাবি, হুথিরা দীর্ঘদিন ধরে—

    শহরে হামলা চালাচ্ছে,
    বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণ করছে,
    রপ্তানি ব্যাহত করছে,
    লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালী এবং এডেন উপসাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে।
    ভারতের প্রতিক্রিয়া

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, জাহাজটি একটি প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবে যায়। তবে ইয়েমেনের নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের দ্রুত তৎপরতায় জাহাজের সব ১৪ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজা যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের আবহে হুথিরা এখন কেবল ইয়েমেনের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী নয়, বরং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও সেই উদ্বেগকেই আরও জোরালো করে তুলেছে।

  • ভারতের স্পষ্ট বার্তা: শেখ হাসিনার দিল্লির অনুষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই

    Sheikh Hasina Delhi Event: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভার্চুয়াল বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দিল্লিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের কোনও ভূমিকা বা সংশ্লিষ্টতা নেই।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ৫ আগস্ট দিল্লিতে যে অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে, সেটি সম্পূর্ণভাবে একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগ। এর সঙ্গে ভারত সরকার বা কোনও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি আরও জানান, ওই অনুষ্ঠানে যে মতামত প্রকাশ করা হবে, তারও কোনও দায়ভার ভারত সরকারের নয়।

    জানা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (FCCSA) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়ার পরই নয়াদিল্লি এই ব্যাখ্যা দেয়।

    এদিকে, বাংলাদেশ সরকার দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলিকে শেখ হাসিনার নির্ধারিত বক্তব্য সম্প্রচার বা প্রকাশ না করার নির্দেশ দিয়েছে। ঢাকার দাবি, আদালতের একটি নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর বক্তব্য প্রচার করা আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশ আগেই ভারতের কাছে আবেদন জানিয়েছে। তবে ভারত বরাবরই জানিয়ে এসেছে, প্রত্যর্পণের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় বিবেচনা করা হচ্ছে।

    #SheikhHasinaDelhiEvent #SheikhHasina #IndiaBangladeshRelations #BangladeshPolitics #IndiaNews #BangladeshNews #SouthAsia #DelhiEvent

  • বিদেশে চিকিৎসার পথে নতুন জট, অভিষেকের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    Abhishek Banerjee Foreign Travel Case: চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের পর এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই বিষয়ে সরাসরি কোনও নির্দেশ না দিয়ে মামলাটি ফের কলকাতা হাইকোর্টে পাঠিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

    সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসার আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টই এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

    এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিল, প্রথমে রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএমে চিকিৎসা করাতে হবে। সেখানকার চিকিৎসকদের রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার পরই বিদেশে চিকিৎসার আবেদন নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    হাইকোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শীর্ষ আদালত সেই আবেদনে হস্তক্ষেপ না করে মামলাটি ফের কলকাতা হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেয়।

    সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশ যেতে পারবেন কি না, সেই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টকে এক সপ্তাহের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    ফলে আপাতত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করানোর বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই নির্ভর করছে। এখন আদালতের সেই সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলসহ সংশ্লিষ্ট সকলের।

    #AbhishekBanerjee #SupremeCourt #CalcuttaHighCourt #ForeignTravel #EyeTreatment #TMC #WestBengal #IndiaNews #CourtOrder #Politics

  • তরুণদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    Narendra Modi Anti Drug Campaign: দেশের যুবসমাজকে মাদকের কুফল সম্পর্কে সতর্ক করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ক্ষণিকের নেশা একজন মানুষের পুরো জীবন, ভবিষ্যৎ এবং কর্মজীবন ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই দেশের তরুণদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে সব ধরনের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    রবিবার ‘নেশামুক্ত যুব উন্নত ভারত সংকল্প অভিযান’-এর সূচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেন, দেশের তরুণরাই ভারতের ভবিষ্যৎ। উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার এই সময়ে যুবসমাজকে ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর কথায়, মাদক সাময়িক আনন্দ দিলেও শেষ পর্যন্ত তা একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেয়।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের তরুণদের মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ রাখা জাতির ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। সেই কারণে মাদকবিরোধী এই অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি যুবসমাজকে আহ্বান জানান।

    বক্তৃতায় সীমান্তপারের মাদক পাচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদী। যদিও তিনি কোনও দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবু বলেন, “শত্রু দেশগুলি তাদের সন্ত্রাস ছড়ানোর পরিকল্পনায় মাদক পাচারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। কারণ তারা জানে, ভারতের তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ।”

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মাদক শুধু ব্যক্তিকে নয়, সমাজ এবং দেশের নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইকে জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

    মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির উপায় হিসেবেও ভারতীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুশীলনের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিয়মিত যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    উল্লেখ্য, শনিবার মাইসুরুতে রামকৃষ্ণ মিশনের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়েও প্রধানমন্ত্রী তরুণদের দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। রবিবারের কর্মসূচিতেও সেই বার্তাই পুনরায় তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নত ভারত গড়তে হলে যুবসমাজকে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী এবং মাদকমুক্ত থাকতে হবে।
    #NarendraModi #DrugFreeIndia #AntiDrugCampaign #YouthOfIndia #ViksitBharat #DrugAwareness #IndiaNews #PMModi #HealthyYouth #News

  • জয় গোস্বামী থেকে নারীর অধিকারের পক্ষে জোরালো সওয়াল তসলিমা নাসরিনের

    Taslima Nasreen Joy Goswami Controversy: তসলিমা নাসরিন বলেন, তিনি নিজেই জয় গোস্বামীকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাই জয় গোস্বামীকে নিয়ে যে প্রতিবাদ হয়েছে, সেটিকে তিনি শুধু কবির অপমান হিসেবে দেখছেন না, নিজের প্রতিও অসম্মান বলে মনে করছেন।

    তিনি জানান, দর্শকদের একাংশের প্রবল আপত্তির কারণে জয় গোস্বামীকে শেষ পর্যন্ত মঞ্চে উঠতে দেওয়া যায়নি। উপস্থিত আয়োজক এবং অন্যরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও উত্তেজনা থামেনি।

    তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক মানুষেরই কোনো বক্তার কথা শোনার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই না শোনার অধিকারও রয়েছে। কিন্তু কাউকে কথা বলতে না দেওয়া বা বাধা সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক আচরণ নয়।

    তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে জয় গোস্বামীর নাম ঘোষিত ছিল না। ফলে কেউ আপত্তি জানালে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তবে সেই প্রতিবাদের ধরনকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন এবং আয়োজকদের কাছেও নিজের অসন্তোষের কথা জানান।

    তসলিমা বলেন, তাঁর মূল বক্তব্য ছিল বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের পক্ষে। কিন্তু যাঁরা সেই বক্তব্যকে সমর্থন করছিলেন, তাঁদেরই একাংশ আবার জয় গোস্বামীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, এই অবস্থান পরস্পরবিরোধী।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি কেউ সত্যিই মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন, তাহলে ভিন্ন মতের একজন কবি বা লেখকের বক্তব্য শোনার সুযোগও দিতে হবে। শুধু নিজের পছন্দের মতকে সমর্থন করলেই বাক্‌স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো হয় না।

    তসলিমা জানান, এই ঘটনায় তাঁর ব্যক্তিগতভাবে খুব খারাপ লেগেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে কলকাতায় এ ধরনের পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না এবং সাংস্কৃতিক পরিসরে সবাই ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।

    তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ একে অপরের থেকে আলাদা হতে পারে। কিন্তু সেই কারণে কারও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা থাকা জরুরি।

    নিজের কলকাতায় ফিরে আসার প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, অতীতে এক সরকার তাঁকে শহর ছাড়তে বাধ্য করেছিল। পরে আরেক সরকারের আমলেও তিনি কলকাতায় ফিরতে পারেননি। বর্তমান সরকার তাঁকে ফের আসার সুযোগ দিয়েছে—এটিকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।

    তিনি বলেন, তিনি কলকাতায় এসে কথা বলতে পেরেছেন, এতে তিনি আনন্দিত। তবে শুধু নিজের জন্য এই স্বাধীনতা চান না; তাঁর বিশ্বাস, যাঁদের মতামত আলাদা, তাঁরাও যেন একইভাবে নির্ভয়ে কথা বলার সুযোগ পান।

    বক্তৃতার শেষদিকে তিনি নারীর অধিকার প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ভারতে হিন্দু নারীদের উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির অধিকারের জন্য আইনগত সংস্কার হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশেও সব ধর্মের নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে এবং সেই লক্ষ্যেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছেন।

    #TaslimaNasreen #JoyGoswami #FreedomOfExpression #WomensRights #EqualRights #Kolkata #BengaliLiterature #IndiaNews #FreeSpeech

  • তরুণদের স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ বুঝতে হবে, বললেন অজিত দোভাল

    Ajit Doval Freedom Statement: স্বাধীনতা মানেই যা ইচ্ছে তাই করার অধিকার নয়—এমনই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। শনিবার পুনেতে এক অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘লোকমান্য তিলক জাতীয় পুরস্কার’ প্রদান করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দোভাল বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। তাই তরুণদের উচিত লোকমান্য তিলকের আদর্শ, সংগ্রাম এবং জাতি গঠনের ভাবনা গভীরভাবে উপলব্ধি করা।

    দোভাল বলেন, আজকের তরুণ প্রজন্ম যে স্বাধীন পরিবেশে বড় হয়েছে, তা লোকমান্য তিলকের সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই সময়ের কঠিন পরিস্থিতি, সীমাবদ্ধতা এবং সংগ্রাম আজকের প্রজন্মের পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন।

    তিনি বলেন, “লোকমান্য তিলকের জীবন ও চরিত্রকে সত্যিকারের বুঝতে হলে সেই সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের তাঁর ভাবনা ও দেশ গঠনের আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।”

    স্বাধীনতার অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “অনেক তরুণ মনে করতে পারেন, ভারত সবসময় এমনই ছিল। আবার কেউ কেউ স্বাধীনতাকে যা খুশি তাই করার অধিকার বলে মনে করতে পারেন। কিন্তু স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ তা নয়।”

    দোভালের বক্তব্যে উঠে আসে দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের বিষয়টিও। তাঁর মতে, স্বাধীনতা শুধু ব্যক্তিগত অধিকার নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দেশের প্রতি দায়িত্ব, শৃঙ্খলা এবং সমাজের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি অজিত দোভালের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রশংসা করে বলেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির নেপথ্যে দোভালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বহু সিদ্ধান্তে তিনি একজন দক্ষ ও বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন অমিত শাহ।

    এদিকে, পুনেতে এই অনুষ্ঠানের দিনই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অমিত শাহের সফরকে ঘিরে বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঠেকাতে একাধিক নেতা-কর্মীকে আগে থেকেই নোটিস দেওয়া হয় এবং অনেককে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়। দলটির পরিকল্পনা ছিল কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানো।

    তবে সেই রাজনৈতিক আবহের মধ্যেও অনুষ্ঠানে অজিত দোভালের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল স্বাধীনতার সঠিক অর্থ উপলব্ধি করা এবং তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল জাতি গঠনের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান। তাঁর মতে, স্বাধীনতা কেবল অধিকার ভোগের বিষয় নয়, বরং তা দেশের প্রতি কর্তব্য ও মূল্যবোধ রক্ষারও অঙ্গীকার।

    #AjitDoval #FreedomStatement #LokmanyaTilakAward #AmitShah #NationalSecurity #IndiaNews #Youth #NationBuilding #Pune #BreakingNews

Exit mobile version