Tarique Rahman Delhi Visit: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন দিল্লি সফর নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদপত্র দ্য হিন্দু। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, দুই দেশের কর্মকর্তারা আবারও এই সফর নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। নভেম্বরের কোনো এক সময়ে তারেক রহমানের দিল্লি সফর আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। সফরের সম্ভাব্য আলোচ্যসূচি নিয়েও দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কথাবার্তা চলছে বলে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপড়েনের পরেই সরকারি পর্যায়ে এই যোগাযোগ ফের সক্রিয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
নভেম্বরের সফর নিয়ে ফের আলোচনা
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের কোনো এক সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা সফরের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণের পাশাপাশি আলোচ্যসূচি নিয়েও কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদপত্রটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে টানাপড়েনের পর্ব তৈরি হয়েছিল, তার পরেই সরকারি পর্যায়ে এই যোগাযোগ আবার সক্রিয় হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং ডিসেম্বরে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেটির নবীকরণ-সহ একাধিক বিষয় সম্ভাব্য আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারে বলে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের অধিবেশনের পর দিল্লি সফরের সম্ভাবনা
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে যাবেন। এরপর অক্টোবর এবং নভেম্বরে তাঁর একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। সেই কর্মসূচির মধ্যেই কোনো একটি সময় দিল্লি সফরের সূচি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ, দিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা নতুন করে শুরু হলেও সফরের নির্দিষ্ট দিন এখনও চূড়ান্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়নি। নভেম্বরের কোনো একটি সময়কে সামনে রেখে দুই দেশের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সূচি এবং সফরের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করছেন বলেই দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক টানাপড়েনের পর সরকারি যোগাযোগ
দিল্লি সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার আগে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে টানাপড়েনের একটি পর্ব তৈরি হয়েছিল। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকার পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও ভারত এখনও সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি বলে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর সেই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল বলে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই টানাপড়েনের পরেই দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ ফের সক্রিয় হয়েছে বলে সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের বৈঠক এবং সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর আলোচনা
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লিতে নিযুক্ত হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের পানিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ভারত আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেকের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ওই সম্মেলনে কোনও প্রতিনিধি পাঠায়নি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তখন জানিয়েছিলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে দ্বিপাক্ষিক সফরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
২০১৮ সালের দিল্লি সফর থেকে ২০০৯-২০২৪-এর যোগাযোগ
দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে নতুন করে যোগাযোগের আলোচনার মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে ২০১৮ সালের একটি ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বছর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের তিন নেতা—আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবির—নয়া দিল্লি সফর করেছিলেন।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ভারতের মনোভাব বোঝার জন্য তারেক রহমান ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে একজন দূতকে ভারতে পাঠিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই যোগাযোগকে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার সরকারের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও ভারতের মধ্যে হওয়া আগের যোগাযোগের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হয়েছিল।
#tariquerahman #tariquerahmandelhivisit #tariquerahmanindiavisit #bangladeshindiarelations #indiabangladeshrelations #newdelhivisit #bangladeshprimeminister #gangawatertreaty #indiabangladeshdiplomacy













