Bengali Bhokattta Kite Tradition: বিশ্বকর্মা পুজোর আকাশে রঙিন ঘুড়ি উঠলেই একটা শব্দ যেন নিজে থেকেই ছাদ পেরিয়ে গলি, পাড়া, মাঠ আর শহরের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে—“ভো-কাট্টা!” একটি ঘুড়ির সঙ্গে আর একটি ঘুড়ির সুতোয় প্যাঁচ, কয়েক মুহূর্তের টানাপড়েন, তারপর আচমকা একটি সুতো ছিঁড়ে যেতেই চারদিক থেকে সেই চেনা চিৎকার। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, ‘ভোকাট্টা’ শব্দটি এল কোথা থেকে? এর ‘ভো’ কোথা থেকে, ‘কাট্টা’-রই বা উৎস কী? এটি কি নিছক ঘুড়ি কাটার সময়ের উল্লাসধ্বনি, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও ভাষার দীর্ঘ যাত্রা?
এই প্রশ্নের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল, ‘ভোকাট্টা’-র নিশ্চিত ব্যুৎপত্তি এখনও প্রতিষ্ঠিত নয়। পুরনো অভিধান বা নির্ভরযোগ্য ভাষাতাত্ত্বিক নথিতে এর প্রথম ব্যবহার নিয়ে স্পষ্ট প্রমাণও সহজে মেলে না। ফলে শব্দটির ইতিহাস বলতে গেলে আমাদের যেতে হয় ঘুড়ির লড়াই, কলকাতার পুরনো পাড়া, লোকমুখের ভাষা এবং বিশ্বকর্মা পুজোর উৎসব-সংস্কৃতির দিকে। আর সেখানেই তৈরি হয় এক আশ্চর্য গল্প—একটি শব্দ কীভাবে ধীরে ধীরে একটি উৎসবের স্মৃতির অংশ হয়ে উঠল।
‘ভোকাট্টা’ আসলে কী—একটি শব্দ, না ছাদভরা উল্লাস?
ঘুড়ির লড়াইয়ে ‘ভোকাট্টা’ বলতে সাধারণত বোঝানো হয় প্রতিপক্ষের ঘুড়ির সুতো কেটে দেওয়া। দুই ঘুড়ি আকাশে মুখোমুখি হলে মাঞ্জা দেওয়া সুতোর মধ্যে শুরু হয় প্যাঁচ। এক পক্ষ টান বাড়ায়, অন্য পক্ষ ঢিল দেয়। কয়েক মুহূর্তের এই লড়াইয়ের শেষে একটি সুতো কেটে গেলেই হেরে যাওয়া ঘুড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাতাসে ভেসে যেতে থাকে।
আর ঠিক তখনই জয়ী পক্ষের ছাদ থেকে ভেসে আসে—“ভোকাট্টা!”
বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে এই শব্দের ব্যবহার যে দীর্ঘদিনের, তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০১৬ সালের একটি প্রতিবেদনে বিশ্বকর্মা পুজোর ঘুড়ির লড়াইয়ের প্রসঙ্গে সরাসরি ‘ভোকাট্টা’ শব্দের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে কাটা ঘুড়ির পিছনে ছুটে যাওয়া এবং সেই সময় চারদিক থেকে ভেসে আসা উল্লাসের কথাও বলা হয়েছে।
অর্থাৎ এটি কোনও একক পাড়ার মুখের কথা নয়; বাংলার ঘুড়ি-সংস্কৃতির বিস্তৃত পরিসরেই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
তবে এখানেই বড় প্রশ্ন—‘ভোকাট্টা’ শব্দটি তৈরি হল কীভাবে?
এই জায়গাতেই ইতিহাস নিশ্চিত তথ্য থেকে অনুমানের দিকে চলে যায়।
‘ভো’ কোথা থেকে এল? ‘কাট্টা’-র সঙ্গে কি অন্য ভাষার যোগ রয়েছে?
‘ভোকাট্টা’ শব্দটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হল ‘ভো’। ‘কাট্টা’ অংশটির সঙ্গে ‘কাটা’ বা ‘কেটে দেওয়া’-র সম্পর্ক আছে বলে অনুমান করা সহজ। ঘুড়ির লড়াইয়ের ভাষাতেও ‘কাটা’, ‘কাটাকাটি’, ‘সুতো কাটা’, ‘ঘুড়ি কাটা’—এই শব্দগুলি বহুদিন ধরে ব্যবহৃত।
কিন্তু ‘ভো’?
এই অংশটির উৎস নিয়ে কোনও সর্বসম্মত ভাষাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। কেউ কেউ শব্দটিকে উত্তর ভারতীয় ঘুড়ির লড়াইয়ের মুখের ভাষার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ‘ও কাটা’ বা ‘ভো কাটা’-র মতো কোনও উচ্চারণ লোকমুখে বদলে গিয়ে ‘ভোকাট্টা’ হয়েছে—এমন একটি ব্যাখ্যা প্রচলিত। আবার কোথাও ‘ভো-কাট্টা’কে হিন্দি-উর্দু প্রভাবিত ঘুড়ির ভাষার অংশ বলেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে এই ব্যুৎপত্তি নিশ্চিত প্রমাণিত নয়।
এই সতর্কতাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ লোকভাষার ক্ষেত্রে একটি শব্দ বহু প্রজন্ম ধরে মুখে মুখে চলতে চলতে তার মূল উচ্চারণ বদলে ফেলতে পারে। কোনও শব্দের প্রথম লিখিত রূপ পাওয়া না গেলে তার জন্মমুহূর্ত নির্দিষ্ট করাও কঠিন।
তাই ‘ভোকাট্টা’কে সরাসরি কোনও একটি ভাষা থেকে এসেছে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক হবে না। বরং বলা যায়, ঘুড়ির লড়াইয়ের বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত একটি লোকমুখের উল্লাসধ্বনি ধীরে ধীরে নিজস্ব অর্থ তৈরি করেছে।
এখানে ‘কাটা’ অর্থটি স্পষ্ট। কিন্তু ‘ভো’ অংশটি এখনও রহস্যের জায়গাতেই রয়েছে।
আরও মজার বিষয় হল, ‘ভোকাট্টা’ শুধু কাটা ঘুড়ির মুহূর্তের চিৎকার নয়। সময়ের সঙ্গে শব্দটি এমনভাবে জনপ্রিয় হয়েছে যে কখনও কাটা ঘুড়িকেও ‘ভোকাট্টা’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ যে ঘুড়ির নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে, সেটিও হয়ে উঠেছে ‘ভোকাট্টা ঘুড়ি’। এই ব্যবহার দেখায়, এক সময়ের উল্লাসধ্বনি কীভাবে ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট অর্থবাহী কথ্য শব্দে পরিণত হয়েছে।
ঘুড়ির ইতিহাস কোথা থেকে, আর কলকাতায় এল কীভাবে?
‘ভোকাট্টা’-র ইতিহাস বুঝতে হলে আগে ঘুড়ির ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়।
ঘুড়ির প্রাচীন ইতিহাস ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরেও বিস্তৃত। চিনে বহু শতাব্দী আগে ঘুড়ি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুড়ি বিনোদন, উৎসব এবং প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে ওঠে। ভারতেও মুঘল আমল থেকে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রচলনের কথা বিভিন্ন ঐতিহাসিক আলোচনায় উঠে এসেছে।
বাংলা ও কলকাতার ক্ষেত্রে ঘুড়ির জনপ্রিয়তা নিয়ে একাধিক ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা রয়েছে। একটি বহুল প্রচলিত মত অনুযায়ী, উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলায় ঘুড়ি ওড়ানোর চল বিশেষভাবে বাড়ে। আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রচলনকে প্রায় ১৮৫০ সালের সময়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কলকাতা ও গ্রামবাংলার কিছু বিত্তশালী জমিদার পরিবার বিশ্বকর্মা পুজোর উৎসবকে ঘিরে ঘুড়ি ওড়ানো শুরু করেছিল।
অন্য একটি প্রচলিত ঐতিহাসিক ব্যাখ্যায় নবাব ওয়াজিদ আলি শাহের মেটিয়াবুরুজে আগমনের কথা বলা হয়। ১৮৫৬ সালে কলকাতায় এসে তিনি মেটিয়াবুরুজে বসতি গড়েন। তাঁর সঙ্গে উত্তর ভারতীয় সংস্কৃতির নানা উপাদানও কলকাতার জীবনে প্রবেশ করে। ঘুড়ি ওড়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর পর্বকে কলকাতার ঘুড়ি-সংস্কৃতির বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ওয়াজিদ আলি শাহের আগেই বাংলায় কেউ ঘুড়ি ওড়াতেন না। বরং বিষয়টি হল—উনিশ শতকে কলকাতার নগরজীবনে ঘুড়ি আরও দৃশ্যমান ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বাবুসমাজ, জমিদারবাড়ি, পাড়ার ছাদ এবং পরে সাধারণ মানুষের বিনোদনের সঙ্গে ঘুড়ি জড়িয়ে পড়ে।
আর ঘুড়ির সঙ্গে যখন প্রতিযোগিতা এল, তখন প্রয়োজন হল আলাদা ভাষারও। লাটাই, মাঞ্জা, প্যাঁচ, ঢিল, টান, কাটাকাটি—একের পর এক শব্দ তৈরি হতে থাকল। সেই একই কথ্য জগতের মধ্যে ‘ভোকাট্টা’-র জায়গা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে ঘুড়ির যোগ কোথায়?
এখানেই গল্পটি সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
আজ বাংলায় বিশ্বকর্মা পুজো আর ঘুড়িকে আলাদা করে ভাবা কঠিন। সকাল থেকেই ছাদে লাটাই, আকাশে রঙিন ঘুড়ি, পাশের বাড়ির সঙ্গে প্যাঁচ এবং কাটা পড়লেই ‘ভোকাট্টা’—এই দৃশ্য এক সময় বিশ্বকর্মা পুজোর পরিচিত ছবি ছিল।
কিন্তু বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে ঘুড়ির সম্পর্কের কোনও একক, প্রাচীন ধর্মীয় বিধান পাওয়া যায় না। বরং এর পিছনে রয়েছে একাধিক সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা।
একটি জনপ্রিয় পৌরাণিক ব্যাখ্যায় বলা হয়, বিশ্বকর্মা দেবতাদের জন্য উড়ন্ত রথ তৈরি করেছিলেন। সেই উড়ন্ত রথের স্মরণ থেকেই বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে আকাশে ঘুড়ি ওড়ানোর রীতি তৈরি হয়েছে—এমন কথা প্রচলিত। তবে এই ব্যাখ্যার কোনও প্রামাণ্য প্রাচীন ধর্মীয় সূত্র দেখানো কঠিন। এমন কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বকর্মা পুজো মূলত কারিগর, শ্রমজীবী মানুষ, কারখানা ও যন্ত্রপাতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি উৎসব। উনিশ ও বিশ শতকে কলকাতা এবং আশপাশের শিল্পাঞ্চলে এই পুজো ক্রমশ সামাজিক উৎসবের রূপ পায়।
তার সঙ্গে যুক্ত হয় ছুটির দিনের আনন্দ, পাড়ার জমায়েত এবং শরতের পরিষ্কার আকাশ।
ফলে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ঘুড়ি ওড়ানোর জনপ্রিয়তার পিছনে সম্ভবত একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে—ঋতুর আবহাওয়া, উৎসবের ছুটি, পাড়ার সামাজিকতা, ঘুড়ি-সংস্কৃতির বিস্তার এবং বিশ্বকর্মাকে ঘিরে কারিগরি ও নির্মাণের প্রতীকী ধারণা।
এই কারণেই ‘ভোকাট্টা’ও ধীরে ধীরে বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে জুড়ে যায়। আসলে শব্দটি বিশ্বকর্মা পুজোর জন্য তৈরি হয়নি; ঘুড়ির লড়াইয়ের শব্দ হিসেবে আগে থেকেই ব্যবহৃত হয়ে থাকলে, বিশ্বকর্মা পুজোর ঘুড়ি-উৎসবই তাকে আরও দৃশ্যমান করেছে।
‘ভোকাট্টা’ শুধু শব্দ নয়, একটি হারিয়ে যেতে বসা পাড়ার স্মৃতি
এক সময় বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ঘুড়ি ওড়ানো ছিল শুধু বিনোদন নয়, পাড়ার সামাজিক উৎসবও। বাড়ির ছাদ থেকে পাশের ছাদে প্রতিযোগিতা, কাটা ঘুড়ির পিছনে ছোটদের দৌড়, লাটাই হাতে বড়দের ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে তৈরি হত এক দিনের আলাদা পৃথিবী।
আনন্দবাজারের পুরনো প্রতিবেদনগুলিতে সেই ছবির উল্লেখ রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে, বিশ্বকর্মা পুজোর সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকেই ঘুড়ি ওড়ানো শুরু হয়ে যেত। আবার কোথাও দেখা যায়, পুজোর দিন সকাল থেকে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিযোগিতা চলত এবং একটি ঘুড়ি কেটে দিলে অন্য ছাদ থেকে ‘ভোকাট্টা’ ধ্বনি উঠত।
অর্থাৎ ‘ভোকাট্টা’ শব্দটির ইতিহাস কেবল অভিধানের পাতায় খুঁজলে হয়তো তার পুরো গল্প পাওয়া যাবে না। এর আসল ইতিহাস ছড়িয়ে আছে মানুষের মুখে, পুরনো ছাদের স্মৃতিতে, ঘুড়ির দোকানে, মাঞ্জার সুতোয় এবং সেই কাটা ঘুড়ির পিছনে ছুটে যাওয়া শিশুদের দৌড়ে।
আর সেই কারণেই শব্দটির ইতিহাস এত আকর্ষণীয়।
কারণ এটি কোনও রাজদরবারের ঘোষণাপত্রে জন্ম নেওয়া শব্দ নয়। কোনও প্রাচীন শাস্ত্রেও তার নিশ্চিত জন্মকথা লেখা নেই। বরং ঘুড়ির লড়াইয়ের উত্তেজনার মধ্যে, মানুষের মুখে মুখে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শব্দটি নিজের অর্থ তৈরি করেছে।
অভিধানে এখনও ধোঁয়াশা, কিন্তু মানুষের মুখে ‘ভোকাট্টা’ অমর
সবচেয়ে সতর্ক সিদ্ধান্তটি তাই এমন হতে পারে—‘ভোকাট্টা’ শব্দটির নির্দিষ্ট ব্যুৎপত্তি এখনও নিশ্চিত নয়। এর ‘কাট্টা’ অংশের সঙ্গে ঘুড়ি কাটার সরাসরি সম্পর্ক অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং লোকব্যবহারেও স্পষ্ট। কিন্তু ‘ভো’ অংশটির উৎস নিয়ে নির্ভরযোগ্য প্রাচীন নথি ছাড়া কোনও একটি ভাষা বা শব্দকে চূড়ান্ত উৎস বলে ঘোষণা করা ঠিক হবে না।
‘ভোকাট্টা’, ‘ভো কাট্টা’, ‘ভো-কাট্টা’, এমনকি সম্ভাব্য বানানভেদ ধরে উনিশ শতক ও বিশ শতকের প্রথম দিকের সংবাদপত্র খুঁজলে হয়তো কোনও পুরনো সূত্র পাওয়া যেতে পারে। সেই অনুসন্ধানই একদিন শব্দটির ইতিহাসকে আরও নির্দিষ্ট করে দিতে পারে।
তবে নথির ঘাটতি থাকলেও লোকজ ব্যবহারের ইতিহাস যথেষ্ট স্পষ্ট। আজও বাংলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুড়ি কাটা গেলে ‘ভোকাট্টা’ শব্দটি শোনা যায়। সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনেও মেদিনীপুর থেকে বর্ধমান—বিভিন্ন জায়গায় ঘুড়ির লড়াইয়ের সঙ্গে শব্দটির ব্যবহার নথিভুক্ত হয়েছে।
তাই ‘ভোকাট্টা’কে শুধু একটি চিৎকার বললে তার গুরুত্ব কমিয়ে দেখা হয়।
এটি বাংলার ঘুড়ি-সংস্কৃতির একটি জীবন্ত শব্দ। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিযোগিতা, জয়, পরাজয়, ছাদের আড্ডা, পাড়ার উৎসব, শিশুর দৌড় এবং শরতের আকাশ।
বিশ্বকর্মা পুজোর দিন যখন একটি ঘুড়ি আকাশে অন্যটিকে হারিয়ে দেয়, সুতো ছিঁড়ে কাটা ঘুড়িটি যখন বাতাসে ভেসে যায়, তখন ছাদ থেকে যে শব্দটি উঠে আসে—“ভোকাট্টা!”—সেটি আসলে শুধু একটি ঘুড়ির পতনের ঘোষণা নয়।
সেটি বাংলার এক পুরনো পাড়ার উৎসব-স্মৃতির প্রতিধ্বনি।
#bengalibhokatttakitetradition #bhokattta #bhokatttawordhistory #bengalikitehistory #kitefighting #vishwakarmapuja #bengaliculture #kolkatakiteculture #kiteculture














