Tarique Rahman UNGA Speech: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, নিরস্ত্রীকরণ, ফিলিস্তিন, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
যুদ্ধ, সংঘাত ও বিশ্বশান্তি
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে অশান্তি ও মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তাঁর কথায়, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন এবং বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে পড়ছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
“যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত।
নিরস্ত্রীকরণের প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ফিলিস্তিন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান
ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়েও বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উদ্বেগ রয়েছে।
“আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কড়া বার্তা
রোহিঙ্গা সংকট ছিল বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ নয় বছরের বেশি সময় ধরে মায়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর ফলে বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মায়ানমারে এবং তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।
“বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি মায়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়াই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।”
রোহিঙ্গা সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় এবং কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে এটি একটি মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশের উদ্যোগ
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টিও গুরুত্ব পায় তাঁর বক্তব্যে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণে তেমন ভূমিকা না রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহন করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে আরও জোরালো পদক্ষেপের প্রত্যাশা জানানো হয়।
বাংলাদেশে পরিবেশ সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সৌরশক্তির ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বন্যার সমস্যা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সুন্দরবনে জলসরবরাহ ও প্রবাহ বৃদ্ধি, বৃহৎ জলাশয়ের মাধ্যমে জল সংরক্ষণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজের কথাও তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণই সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পর বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
দেশ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সরকার পুনরুদ্ধার, পুনঃস্থাপন ও পুনর্গঠন—এই তিনটি কৌশল অনুসরণ করছে বলেও জানান তিনি।
অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও তরুণদের নিয়ে পরিকল্পনা
বাংলাদেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরির কথাও উল্লেখ করেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে নতুন উদ্যোগের জন্য ৫ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নারী, পরিবার ও সামাজিক সুরক্ষা
দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী উল্লেখ করে নারী শিক্ষা, নারীদের কর্মসংস্থান এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরিকে সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীদের জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও জানান তিনি।
অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথাও বক্তব্যে তুলে ধরেন। প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে দেওয়া পারিবারিক কার্ডকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলা
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তারেক রহমান।
শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ এবং আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশ ব্যয় করার পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি।
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাগ, পোশাক এবং বিনামূল্যে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন।
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষা কার্যক্রমে খেলাধুলাকে বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান। সারাদেশে আয়োজিত একটি ফুটবল প্রতিযোগিতায় ২০ লক্ষের বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে আগামীর বিশ্বের ভবিষ্যৎ হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জীবপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশের কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতাকে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে তুলে ধরে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশের সুফল ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বার্তা
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান।
“রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে ক্ষমতাহীন রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।”
তিনি এমন একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, কল্যাণমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, যেখানে দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন।
তাঁর বক্তব্যে তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন, নারীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা এবং শিশুদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ তৈরির কথাও উঠে আসে।
Tarique Rahman UNGA Speech: জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বৃহস্পতিবার ভাষণ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতীয় সময় রাত ২:৩০ মিনিটে এই বক্তৃতা শোনা যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, তারেক রহমান তাঁর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর জাতিসংঘে বক্তব্য দেবেন। দেশের আবেগ, অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে তিনি বাংলা ভাষায় বক্তব্য দেবেন বলেও জানানো হয়েছে।
এদিন অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক একটি উচ্চ পর্যায়ের সভায়ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। নিউ ইয়র্কের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এর আগে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন তারেক রহমান।
Masoud Pezeshkian UNGA: রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করার অভিযোগ তুললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতরে বক্তব্যের সময় তিনি মিনাবের স্কুলে হামলায় নিহত শিশুদের ছবি তুলে ধরেন। পেজেশকিয়ান দাবি করেন, ইরান আত্মরক্ষা করেছে এবং কোনওভাবেই আত্মসমর্পণ করেনি। তাঁর বক্তব্যে ইরানের সাধারণ মানুষের উপর হামলার প্রসঙ্গও উঠে আসে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সাধারণ বিতর্কে দেওয়া এক যুদ্ধকালীন ভাষণে ইরানকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিযুক্ত করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলা এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকারের কথা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান কোনো সন্ত্রাসী রাষ্ট্র নয়, বরং দেশটি নিজেই চরম সন্ত্রাসবাদের শিকার।
ভাষণের শুরুর দিকেই মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্য উঠে দাঁড়িয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
মিনাব স্কুলে হামলা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ছবি প্রদর্শন বক্তব্যের সময় পেজেশকিয়ান হামলায় নিহত শিশুদের বড় বড় আলোকচিত্র এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একটি ছবি প্রদর্শন করেন। মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই যুদ্ধে ১৫০ জনেরও বেশি নিরপরাধ ইরানি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। পেজেশকিয়ান বলেন, “আমাদের দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কাপুরুষোচিত হামলায় নিরপরাধ মানুষ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। আমরা কেবল নিজেদের রক্ষা করেছি।”
ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সরাসরি জবাব দেন পেজেশকিয়ান। ট্রাম্পের সেই হুশিয়ারির একদিন পরেই ইরানি রাষ্ট্রপতি বলেন, “জনাব ট্রাম্প এবং যারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান, তাদের বোঝা উচিত যে বলপ্রয়োগের ভাষা মেনে না নিয়ে আমরা যেকোনো ধরনের আলোচনা ও কূটনীতির জন্য প্রস্তুত।”
‘আমরা নতজানু হইনি’ মার্কিন সামরিক হামলা সত্ত্বেও ইরান নতি স্বীকার করেনি বলে জোর দাবি জানান পেজেশকিয়ান। শক্ত ভাষায় তিনি ঘোষণা করেন, “হ্যাঁ, তারা আমাদের ওপর আঘাত হেনেছে, তবে আমরা কখনো নতজানু হইনি।”
ইরান পারমাণবিক শক্তি চায় উন্নয়নের জন্য, কোনো পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য নয়। তিনি বিশ্বমঞ্চে ইরানের বিরুদ্ধে চলা মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
Jaishankar AI Global South: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তন যেন বিশ্বের মধ্যে নতুন বিভাজন তৈরি না করে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার পার্শ্ববর্তী একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এমনই বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার ‘সমমনস্ক উন্নয়নশীল দেশ ও বন্ধু’ দেশগুলির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলির মধ্যে আরও সহযোগিতার ওপর জোর দেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়শঙ্করের বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ, এর বিকাশের গতি এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তন যাতে নতুন বৈষম্য বা বিভাজনের কারণ না হয়, সে বিষয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলির অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতার আহ্বান
বৈঠকে জয়শঙ্কর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, জলবায়ুজনিত ধাক্কা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ওপর বাড়তে থাকা চাপ মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে আরও সহযোগিতার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থনীতি, জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তার বিষয়গুলিও উঠে আসে।
জয়শঙ্কর বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থ এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের বাধা বা নিয়ন্ত্রণকে মেনে নেওয়া বা বৈধতা দেওয়া উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উন্নয়নের কেন্দ্রে রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা। জ্বালানির প্রাপ্যতা এবং দাম রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খাদ্য নিরাপত্তাকেও তিনি অভিন্ন লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে শস্য এবং সার সরবরাহের ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা দ্রুত মোকাবিলার প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
ন্যায্য বাণিজ্য ও শিল্পায়নের অধিকারের কথা
বৈঠকে জয়শঙ্কর ন্যায্য অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থার ওপরও জোর দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন বাণিজ্য ব্যবস্থা থাকা দরকার যা উন্নয়নশীল দেশগুলির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে এবং তাদের শুধুমাত্র ভোক্তায় পরিণত করবে না।
তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলির শিল্পায়নের অধিকার অস্বীকার করা উচিত নয়। অর্থাৎ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ এবং শিল্প গড়ে তোলার অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমুদ্রযাত্রী ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপর তিনি জোর দেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে জয়শঙ্করের বার্তা
জয়শঙ্করের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে যে পরিবর্তন আসছে, তা যেন নতুন বিভাজন তৈরি না করে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলির সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোতেও উন্নয়নশীল বিশ্বের অংশগ্রহণ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের গতি এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক চলছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের গতি এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রযুক্তি জগতের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যেও মতবিরোধ রয়েছে। সেই আলোচনার মধ্যে ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যানের নামও এসেছে।
রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে নিউ ইয়র্কে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সমাবেশের সময়ই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ আরও সামনে এসেছে। উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআই ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি প্রকাশের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বর্তমান পর্বকে নতুন মাত্রা দেওয়ার পর থেকেই এই প্রযুক্তির নিরাপদ বিকাশ নিয়ে আলোচনা চলছে। ওপেনএআই আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত নিরাপত্তা মানদণ্ড তৈরির আহ্বান জানিয়েছে, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ নিরাপদভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
এরই মধ্যে সোমবার রাষ্ট্রসংঘের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্যানেল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে ক্রমশ আরও সক্ষম হয়ে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০টিরও বেশি দেশের নেতারা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা পরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। মানুষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান তৈরির সম্ভাবনার কথাও সেখানে উঠে এসেছে।
গুতেরেসের আন্তর্জাতিক চুক্তির আহ্বান, ভিন্ন অবস্থানে ট্রাম্প
রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও মঙ্গলবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সরকার থেকে ক্ষমতা অল্প কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা এবং ব্যক্তির হাতে চলে যাওয়ার একটি বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
গুতেরেসের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে এবং এর পূর্ণাঙ্গ পরিণতি বোঝার ক্ষমতার থেকেও প্রযুক্তির বিকাশের গতি এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে সমঝোতার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের গতি কমানোর আহ্বানের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের গতি কমালে চিন প্রযুক্তির দৌড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
সোমবার সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যে জিতবে, সে-ই জিতবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বর্তমানে চিন এবং অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে রয়েছে এবং সেই অবস্থান ধরে রাখার জন্য তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন।
জয়শঙ্করের বক্তব্যে অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের সঙ্গে উন্নয়নশীল বিশ্বের অংশগ্রহণ এবং নতুন বিভাজন এড়ানোর বিষয়টিকেই সামনে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার পার্শ্ববর্তী এই বৈঠকে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোয় উন্নয়নশীল দেশগুলির অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।
Trump UNGA Speech: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান, পরমাণু অস্ত্র, সামরিক প্রস্তুতি, গাজা যুদ্ধ, বিভিন্ন দেশের সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ভেনেজুয়েলা, মাদকচক্র, মেক্সিকো, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড, ন্যাটো, জাতিসংঘের সংস্কার, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, অভিবাসন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মিত্রদের সহযোগিতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে নিয়ে কোনও নির্বাচনী হিসাবকে গুরুত্ব দেবে না। তাঁর বক্তব্য, ইরানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র পাবে না।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। যারা দাবি করছে যে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের ঘাটতি রয়েছে, তারা ভুল বলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এত বেশি গোলাবারুদ রয়েছে যে তার সবটুকু ব্যবহার করার কথাও কল্পনা করা কঠিন।
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় দ্রুত গতিতে অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে। অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই বড় আকারের গোলাবারুদ তৈরির কারখানা চালু হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের বড় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি ১৮টি কারখানা নির্মাণ করছে এবং কয়েকটি ইতিমধ্যেই চালুর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।
তিনি বলেন, এসব কারখানা চালু হলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ দ্রুত উৎপাদন করা সম্ভব হবে এবং মিত্র দেশগুলিকে আরও দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ করা যাবে।
ইরানের বিরুদ্ধে সব দেশকে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কার্যকর করার আহ্বান জানান ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করা, পরমাণু অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করা এবং সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে চাপ বজায় রাখা উচিত।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের আচরণ শক্তি বা আত্মবিশ্বাসের কারণে নয়, বরং দুর্বলতা ও মরিয়া অবস্থার কারণে হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বক্তব্য, সব দেশ একসঙ্গে দাঁড়ালে ইরানের সন্ত্রাসের দীর্ঘস্থায়ী হুমকি শেষ করা সম্ভব এবং তেলের দামও আরও কমে যেতে পারে।
গাজা যুদ্ধ ও জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে বক্তব্য
গাজা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এক বছর আগে তিনি যখন জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তখন গাজায় যুদ্ধ চলছিল এবং জিম্মিরা হামাসের সুড়ঙ্গে আটকে ছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় যুদ্ধের কোনও শেষ দেখা যাচ্ছিল না।
তিনি দাবি করেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নেওয়া প্রথম কয়েকটি পদক্ষেপ পরিস্থিতি বদলে দেয় এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গাজায় যুদ্ধ শেষ হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে এবং জীবিত ও মৃত—সব অবশিষ্ট জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
গাজা নিয়ে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার সর্বসম্মত সমর্থনের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। পাশাপাশি শান্তি বোর্ডের অনুমোদনের কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০টি দেশ ওই বোর্ডে যোগ দিয়েছে এবং তিনি সেই বোর্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।
গাজার ত্রাণ ও পুনর্গঠনের জন্য বিভিন্ন দেশ বিপুল অর্থ দিয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি কাতার, কুয়েত, কাজাখস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন এবং মরক্কোর কথা উল্লেখ করেন।
গাজাকে স্থিতিশীল করতে সেনা, পুলিশ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশগুলির মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, আলবেনিয়া, কসোভো, কাজাখস্তান, মিশর ও জর্ডানের নামও উল্লেখ করেন তিনি।
বিভিন্ন যুদ্ধ থামানোর দাবি
ট্রাম্প বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আটটি যুদ্ধ শেষ করতে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব সমঝোতা সম্ভব হয়েছে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বাণিজ্য, শুল্ক এবং শুল্ক আরোপের হুমকি-সহ বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে।
তিনি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও রুয়ান্ডা, পাকিস্তান ও ভারত, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এবং গাজার যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়েও তিনি বলেন, দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং এই যুদ্ধের সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার তরুণ, যাদের অধিকাংশই সেনা, নিহত হচ্ছে। যুদ্ধের ছবি দেখতে তাঁর ভালো লাগে না বলেও জানান তিনি।
ইরান প্রসঙ্গে আবারও তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমস্যার সমাধান একভাবে না একভাবে করা হবে এবং তা দ্রুত করার চেষ্টা করা হবে।
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান নিয়ে বক্তব্য
ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁর নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি বড় সামরিক অভিযান চালায়। তাঁর দাবি, অভিযানে একটি শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশ করে নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করা হয়।
এর পর থেকে ভেনেজুয়েলার শত শত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আরও ভালো ভবিষ্যৎ তৈরির জন্য কাজ করছে।
ট্রাম্প আরও জানান, গত মাসে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে একটি বড় চুক্তি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যই উপকারী হবে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম কমাতে সাহায্য করবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলাকে একসঙ্গে ধরলে বিশ্বের মোট তেলের ৬০ শতাংশের বেশি তাদের হাতে রয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার জন্য হুমকি তৈরি করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহার করে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা হবে বলেও জানান তিনি।
মাদকচক্র, মেক্সিকো ও কিউবা নিয়ে অবস্থান
ট্রাম্প বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি মাদকচক্রগুলিকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি মাদকচক্রগুলিকে পশ্চিম গোলার্ধের ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে তুলনা করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন।
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র মাদক বহনকারী নৌযানের বিরুদ্ধে বহুবার হামলা চালিয়েছে এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী, সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা মাদকের পরিমাণ ৯৭ শতাংশ কমেছে।
মেক্সিকো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটির প্রায় ২ হাজার মাইল সীমান্ত এমন কোনও এলাকার সঙ্গে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে শত্রুভাবাপন্ন মাদকচক্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মেক্সিকোকে নিজেদের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কিউবা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, সেখানে কমিউনিস্ট সরকার প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি কিউবাকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন।
গ্রিনল্যান্ড ও ন্যাটো নিয়ে ঘোষণা
গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, উত্তর আমেরিকার উত্তর সীমান্তের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ভূখণ্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হবে। তিনি জানান, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র দুটি বড় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করবে।
গ্রিনল্যান্ডে কোনও মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সামরিক উপস্থিতি বা সংবেদনশীল বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত অনুমতি ছাড়া করা যাবে না বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
ন্যাটো নিয়েও তিনি বলেন, জোটটি আগের তুলনায় শক্তিশালী হচ্ছে। সদস্য দেশগুলির প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও শুল্ক ক্ষমতা
রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও বলেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে হাজার হাজার মানুষ এই যুদ্ধে মারা যাচ্ছে।
তিনি জানান, কংগ্রেসের অনুমোদিত একটি নতুন আইনের মাধ্যমে তাঁকে নতুন শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তিনি সেই ক্ষমতা ব্যবহার করবেন।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার বহু বাস্তুচ্যুত শিশুকে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
জাতিসংঘের সংস্কার নিয়ে বক্তব্য
জাতিসংঘের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যাপক সংস্কারের কাজে যুক্ত রয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের বাজেট ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং জাতিসংঘের আমলাতন্ত্র থেকে ৪ হাজারের বেশি পদ বাদ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, জাতিসংঘের সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু নির্বাচিত না হওয়া আন্তর্জাতিক আমলাদের দ্বারা কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
তিনি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহণ সংস্থার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কার্বন কর আরোপের উদ্যোগেরও বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও বিশ্ব সরকার নেই এবং তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকাকালে কোনও বৈশ্বিক করও থাকবে না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিয়ে আপত্তি
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিয়েও ট্রাম্প কঠোর অবস্থান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্য বা অন্য কোনও ব্যক্তিকে এমন একটি আদালতে তদন্ত বা বিচার করা মেনে নেওয়া হবে না, যার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনও এখতিয়ার নেই।
তিনি ওই আদালতের সদস্য দেশগুলিকে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
মানবাধিকার নিয়েও জাতিসংঘের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় প্রকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থাকা সত্ত্বেও জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তনীতি এবং শিশুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত মার্কিন নীতির সমালোচনা করছেন।
অভিবাসন ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব
ট্রাম্প বলেন, অবৈধ অভিবাসন কোনও মানবাধিকার নয়। একই সঙ্গে একটি দেশের সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রাখার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র নিজের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এবং অন্য দেশগুলিরও নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার রয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা থেকে অপরাধী ও মাদকচক্রের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন নামের প্রস্তাব
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তে আরও যথাযথ শব্দ হিসেবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘অতিবুদ্ধিমত্তা’ ব্যবহার করা উচিত।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘কৃত্রিম’ শব্দটি এই প্রযুক্তিকে কৃত্রিম বা নকল বলে মনে করাতে পারে, যদিও প্রযুক্তিটি বাস্তবে অত্যন্ত শক্তিশালী।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে এই নতুন শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করা হবে। তাঁর বক্তব্য, অতিবুদ্ধিমত্তা শিল্পবিপ্লব বা ইন্টারনেটের থেকেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
তিনি বলেন, এই প্রযুক্তির কারণে যে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে তাঁর নীতি হবে প্রযুক্তির বিকাশ থামিয়ে দেওয়া নয়, বরং তার বিকাশকে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজন হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে নজরদারি রাখা।
ট্রাম্প দাবি করেন, অতিবুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চিনের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে এবং সেই অবস্থান বজায় রাখা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঐক্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা, জাতীয় ঐক্য এবং দেশের শক্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আড়াই শতাব্দী আগে যে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আমেরিকানরা লড়াই করেছিল, সেই স্বাধীনতা সহজে পাওয়া যায়নি এবং তা কখনও ছেড়ে দেওয়া হবে না।
তিনি জর্জ ওয়াশিংটনের সময়কার স্বাধীনতার লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, শুধু মহান আদর্শে বিশ্বাস করলেই হবে না; সেই আদর্শ রক্ষা করার জন্য ইচ্ছাশক্তি, সাহস ও শক্তিও প্রয়োজন।
ট্রাম্প জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলিকে একসঙ্গে শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ালে পৃথিবী আরও নিরাপদ ও ভালো জায়গায় পরিণত হতে পারে।
তিনি বলেন, দেশগুলির অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও উজ্জ্বল পৃথিবী তৈরি করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।
S Jaishankar UNGA: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের পাশে আয়োজিত বহুপাক্ষিক অংশীদারদের প্রথম সম্মেলনে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, বিশ্বব্যবস্থা বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, উত্তেজনা এবং সংঘাত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার শক্তি ধরে রাখতে বহুপাক্ষিকতার ভূমিকা আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
জয়শঙ্করের বক্তব্যে উঠে এসেছে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, জলবায়ু পদক্ষেপ, জলবায়ু ন্যায়বিচার, নতুন প্রযুক্তি, উন্নয়নের অর্থায়ন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সরবরাহ ব্যবস্থা, দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা এবং মহামারির প্রস্তুতির মতো একাধিক বিষয়। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—এই সমস্যাগুলির কোনওটিই এককভাবে সামলানো সম্ভব নয়; সহযোগিতার ইচ্ছা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
“বিশ্বব্যবস্থা চাপে”—বাড়ছে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা S Jaishankar UNGA
জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান সময়ে বিশ্ব এমন একটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কয়েক দশক ধরে বিশ্বে যে ভারসাম্যের পরিবর্তন ধীরে ধীরে হচ্ছিল, তা ছিল প্রত্যাশিত কাঠামোগত বিবর্তনের অংশ। কিন্তু অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাস্তব সংঘাত সেই পরিবর্তনকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্র দিয়েছে।
“আমরা এমন এক সময়ে মিলিত হচ্ছি, যখন বিশ্বব্যবস্থা চাপের মধ্যে রয়েছে। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব একটি ধারাবাহিক ভারসাম্য পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে, যা ছিল দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশিত একটি কাঠামোগত পরিবর্তন। কিন্তু চরম প্রতিযোগিতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাস্তব সংঘাত এই পরিবর্তনকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্র দিয়েছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই উত্তেজনাগুলি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মূল চেতনাই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালীভাবে নিজের ভূমিকা পালন করতে হবে।
“যদি এগুলিকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলতে দেওয়া হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মূল চেতনাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। সেই কারণেই এই সময়ে বহুপাক্ষিকতার পক্ষে আরও শক্তিশালীভাবে নিজের ভূমিকা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।”
শান্তি, জলবায়ু ও উন্নয়ন—সবকিছুর জন্য সহযোগিতা S Jaishankar UNGA
জয়শঙ্কর বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে থাকা সমস্যাগুলি শুধুমাত্র কূটনীতির বিষয় নয়। এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, জলবায়ু এবং উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
“এখানে যে বিষয়গুলি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সেগুলি শুধু শব্দ বা অভিব্যক্তি নয়, অত্যন্ত বাস্তব বিষয়। বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ, জলবায়ু পদক্ষেপ ও জলবায়ু ন্যায়বিচার, উদীয়মান প্রযুক্তি ও উন্নয়নের অর্থায়ন, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি এবং মহামারির জন্য প্রস্তুতি—সবকিছুই সহযোগিতার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।”
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বহু অর্জনই এসেছে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে। তাই এতদিনে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা রক্ষা করার পাশাপাশি আরও ভালো ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
“আমরা স্বীকার করি যে এখন পর্যন্ত আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তা কেবল সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। এখান থেকে শিক্ষা হল, আরও ভালো কিছুর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যা ভালো অর্জন করেছি, তা রক্ষা করতে হবে।”
সংঘাত চললেও নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান সম্ভব
জয়শঙ্কর আরও বলেন, বড় কোনও সর্বসম্মত সমাধানের অপেক্ষায় থেকে তাৎক্ষণিক সমস্যাগুলিকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। চলমান সংঘাতের মধ্যেও নির্দিষ্ট কিছু সমস্যার সমাধানে আলাদা উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
“এই লক্ষ্য বিভিন্ন ধরনের প্রচেষ্টা এবং একাধিক উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্জন করা যেতে পারে। চলমান সংঘাতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু দিক নিয়ে কাজ করা সম্ভব, একই সময়ে আমরা আরও বৃহত্তর শান্তির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারি।”
বিশ্ব অর্থনীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং অর্থ—এই চারটি ক্ষেত্রের সংকটকে তিনি আলাদা করে উল্লেখ করেন।
“জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং অর্থের চারটি সংকটকে নিজেদের মতো করে চলতে দেওয়া যায় না।”
নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কাঠামো ও নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রয়োজন
নতুন প্রযুক্তি ও নতুন সক্ষমতার সঙ্গে নতুন ধরনের উদ্বেগও তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, এই নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক কাঠামো এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি।
“যেখানে নতুন সক্ষমতা এবং নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়, সেখানে কাঠামো ও নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী যুক্তি রয়েছে। যেখানে সংকটের কেন্দ্রবিন্দু, আধিপত্য এবং বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে ঝুঁকি কমানো এবং বৈচিত্র্য আনার বিষয়টিকে উৎসাহিত করতে হবে।”
তিনি বলেন, যেসব দেশের স্বার্থের মধ্যে মিল রয়েছে, তাদের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন হলে একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, নিয়ম এবং স্বীকৃত মানদণ্ডকে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার কেন্দ্রে রাখতে হবে।
“আন্তর্জাতিক আইন, নিয়ম এবং মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলেই বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করবে।”
বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় সংস্কার জরুরি S Jaishankar UNGA
জয়শঙ্কর বলেন, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু তার পক্ষে কথা বলাই যথেষ্ট নয়, বাস্তব প্রয়োগও শক্তিশালী করতে হবে। সেই কারণেই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার প্রয়োজন।
“বহুপাক্ষিকতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে তার পক্ষে সমর্থন এবং তার বাস্তব প্রয়োগ—দুটিই শক্তিশালী করতে হবে। তাই সংস্কার করা বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা অপরিহার্য।”
তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে আরও বেশি অংশগ্রহণমূলক আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতার পক্ষে মত দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনগুলি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর আস্থা পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে।
“আরও বেশি অংশগ্রহণমূলক আলোচনা এবং আরও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ—দুটিই দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় হয়ে রয়েছে। এর ফলে জাতিসংঘ ব্যবস্থার যে আশা ও আশাবাদ স্পষ্টভাবে প্রয়োজন, তা তৈরি হবে এবং একসঙ্গে কাজ করার সংকল্প আরও শক্তিশালী হবে।”
জাতিসংঘের অধিবেশনের পাশে একাধিক বৈঠক
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে ভারতের বিভিন্ন কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবেই এই সম্মেলনে জয়শঙ্করের বক্তব্য আসে। এর পাশাপাশি তিনি একাধিক দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেন।
তিনি সুইজারল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ভারত ও সুইজারল্যান্ডের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়।
জয়শঙ্কর সমাজমাধ্যমে জানান, বৈঠকে বিশ্ব পরিস্থিতি এবং আরও ঘনিষ্ঠ বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনা হয়েছে।
এরপর তিনি নাউরুর রাষ্ট্রপতি ডেভিড আদেংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে ভারতের সঙ্গে নাউরুর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং ভারতের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
জয়শঙ্কর বলেন, নাউরুর সঙ্গে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে ভারত গুরুত্ব দেয় এবং উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের প্রতিশ্রুতি বজায় থাকবে।
এর আগে পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্রকে নিয়ে গঠিত ভিশেগ্রাদ গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের প্রথম বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও তিনি অংশ নেন। সেখানে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রতি বছর বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনাও আলোচনায় আসে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, যোগাযোগ এবং মানুষের চলাচলের পাশাপাশি ইউক্রেনের সংঘাত এবং উপসাগরীয় পরিস্থিতির মতো আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার জানান, ভিশেগ্রাদ গোষ্ঠীর দেশগুলি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের সমর্থনে রয়েছে।
Mithu Mukherjee: প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায়। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে গতরাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সত্তরের দশকে ‘মার্জিনা আবদুল্লা’ ছবিতে মার্জিনার চরিত্রে অভিনয় করে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন মিঠু। শুধু বাংলা নয়, হিন্দি ছবিতেও কাজ করেছেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯০ সালে ‘আশ্রিতা’ দিয়ে বড়পর্দায় ফেরেন। এরপরই অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ান অভিনেত্রী। তাঁর প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
‘নিশিকন্যা’, ‘মৌচাক’, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘হোটেল স্নো ফক্স’, ‘ভাগ্যচক্র’ ও ‘সন্ধি’-র মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে ‘মৌচাক’ ছবিতে তাঁর কণ্ঠে ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’ গানটি সত্তরের দশকের তরুণ-তরুণীদের কাছে প্রেমের এক পরিচিত প্রতীক হয়ে উঠেছিল। তাঁর অভিনয় ও সৌন্দর্যের মুগ্ধতায় অনুরাগীদের একাংশ তাঁকে ‘কলকাতার রেখা’ নামেও ডাকতেন।
Tarique Rahman US Visit: ঢাকা ট্রিবিউনের ২১ সেপ্টেম্বরের ডিজিটাল প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে মানুষের জন্য কাজ এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার সফর হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদি আমিন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের মূল লক্ষ্য কোনও আনুষ্ঠানিক আড়ম্বর নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ ও দেশের স্বার্থকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা। মাত্র ছয় দিনের সফরে চার দিন ধারাবাহিক বৈঠক, জাতিসংঘের কর্মসূচি ও কূটনৈতিক ব্যস্ততায় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে মানুষের জন্য কাজ এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার সফর হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদি আমিন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সফরে আড়ম্বর বা ক্ষমতা প্রদর্শনের পরিবর্তে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ২১ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক সমাজমাধ্যমের পোস্টে মাহদি আমিন সফরের সময়কাল, সফরসঙ্গীর সংখ্যা এবং কর্মসূচির ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো সফর হবে ছয় দিনের। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ও ফেরার জন্য দু’দিন এবং মূল কর্মসূচির জন্য হাতে থাকবে মাত্র চার দিন। এই চার দিনে একের পর এক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ব্যস্ততা থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সরকারি ভাবে সফরসঙ্গী ৩৫ জন, ১৫ জন মন্ত্রী-উপদেষ্টা
মাহদি আমিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি ভাবে সফরসঙ্গী থাকছেন মোট ৩৫ জন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন হলেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিশেষ সহকারী। বাকি ব্যক্তিরা নিরাপত্তা, সংবাদমাধ্যম এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের মতো প্রয়োজনীয় কাজে যুক্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সফরসঙ্গীর সংখ্যা নিয়েও মাহদি আমিন তাঁর বক্তব্যে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সফরটি সীমিত সংখ্যক সরকারি সফরসঙ্গী নিয়েই সম্পন্ন হবে। ৩৫ জনের এই তালিকায় একদিকে যেমন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা রয়েছেন, তেমনই সফরের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, সংবাদমাধ্যম এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ব সামলানোর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মীরাও রয়েছেন।
তাঁর বক্তব্যে এই সফরের ধরন বোঝাতে দুটি বিষয়কে পাশাপাশি রাখা হয়েছে। একদিকে তিনি বলেছেন, এটি আড়ম্বর প্রদর্শনের সফর নয়; অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বৈঠক ও কূটনৈতিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। সেই বক্তব্যের সঙ্গে মিল রেখেই ছয় দিনের সফরে সীমিত সরকারি সফরসঙ্গীর বিষয়টি সামনে এনেছেন তিনি।
‘আড়ম্বর নয়, মানুষের জন্য কাজ; ক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা’
মাহদি আমিন তাঁর বক্তব্যে সফরের উদ্দেশ্য বোঝাতে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আড়ম্বর অনুষ্ঠান নয়; মানুষের জন্য কাজ। ক্ষমতা প্রদর্শন নয়; বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ এবং দেশের স্বার্থ।
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি তারেক
মাহদি আমিন তাঁর সমাজমাধ্যমের পোস্টে বাংলাদেশের জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্বের পারিবারিক ধারার কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর তাঁদের সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
তিনি বলেছেন, একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের কথা, দেশের স্বার্থ, সরকারের নীতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলবেন। এই বিষয়টিকেও তিনি সফরের একটি বিশেষ দিক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
S Jaishankar UNGA: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিদেশ মন্ত্রক রবিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, নিউইয়র্কে আয়োজিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন এস জয়শঙ্কর।
২৬ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেবেন জয়শঙ্কর
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে এস জয়শঙ্করের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর। ওই অধিবেশনে ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বও দেবেন তিনি।
একাধিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, সফরকালে বিদেশমন্ত্রী বিভিন্ন বহুপাক্ষিক এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেবেন। অর্থাৎ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বে থাকবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
Tarique Rahman UNGA Address: ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন। বাংলায় দেওয়া এই ভাষণে তিনি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং তাঁর সরকারের গণতান্ত্রিক কর্মসূচির বিষয়গুলি তুলে ধরবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তারেক রহমান রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে পুনর্বাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন চাইবেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয়ে ধরে রাখার লক্ষ্যেই ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি আন্তর্জাতিক সমর্থনের আবেদন জানাবেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও তাঁর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর জলবায়ু সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি অংশ নেবেন। পরের দিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে একটি অধিবেশনেও বক্তব্য রাখবেন। জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির উদ্বেগ, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলি সেখানে গুরুত্ব পাবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান এবং ২৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাঁর এই সফর বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রথম জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন-অংশগ্রহণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তিনি বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরবেন বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিবের বক্তব্য জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তারেক রহমান বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে পুনর্বাসনের জন্য আরও জোরালো আন্তর্জাতিক সমর্থন চাইবেন তারেক রহমান। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে ধরে রাখতে ঢাকা এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান আসাদ আলম সিয়াম।
প্রসঙ্গত ২০১৭ সালে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান ও সহিংসতার মধ্যে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা মুসলিম বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর এই সংকটের শুরু। বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন। তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের সম্পদ ও পরিকাঠামোর উপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হয়েছে।
সফরের ফাঁকে কুয়েতের যুবরাজ এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী বৈষম্য সংকট মোকাবিলা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং বাংলাদেশের আয়োজিত মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া তারেক রহমান জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি, বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠীর সভাপতি, মায়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে তারেক রহমান মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ এবং উৎপাদন, পরিকাঠামো ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগের পাশাপাশি তরুণদের মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলি থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।