জাতিসংঘে ট্রাম্পের আট বড় বার্তা, ইরান যুদ্ধ থেকে নির্বাচন—কী বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

Trump UNGA Speech highlighting Iran war, US foreign policy and election remarks

Written by

in

Trump UNGA Speech: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান, পরমাণু অস্ত্র, সামরিক প্রস্তুতি, গাজা যুদ্ধ, বিভিন্ন দেশের সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ভেনেজুয়েলা, মাদকচক্র, মেক্সিকো, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড, ন্যাটো, জাতিসংঘের সংস্কার, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, অভিবাসন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মিত্রদের সহযোগিতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা

ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে নিয়ে কোনও নির্বাচনী হিসাবকে গুরুত্ব দেবে না। তাঁর বক্তব্য, ইরানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র পাবে না।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। যারা দাবি করছে যে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের ঘাটতি রয়েছে, তারা ভুল বলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এত বেশি গোলাবারুদ রয়েছে যে তার সবটুকু ব্যবহার করার কথাও কল্পনা করা কঠিন।

ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় দ্রুত গতিতে অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে। অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই বড় আকারের গোলাবারুদ তৈরির কারখানা চালু হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের বড় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি ১৮টি কারখানা নির্মাণ করছে এবং কয়েকটি ইতিমধ্যেই চালুর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।

তিনি বলেন, এসব কারখানা চালু হলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ দ্রুত উৎপাদন করা সম্ভব হবে এবং মিত্র দেশগুলিকে আরও দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ করা যাবে।

ইরানের বিরুদ্ধে সব দেশকে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কার্যকর করার আহ্বান জানান ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করা, পরমাণু অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করা এবং সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে চাপ বজায় রাখা উচিত।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের আচরণ শক্তি বা আত্মবিশ্বাসের কারণে নয়, বরং দুর্বলতা ও মরিয়া অবস্থার কারণে হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বক্তব্য, সব দেশ একসঙ্গে দাঁড়ালে ইরানের সন্ত্রাসের দীর্ঘস্থায়ী হুমকি শেষ করা সম্ভব এবং তেলের দামও আরও কমে যেতে পারে।

গাজা যুদ্ধ ও জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে বক্তব্য

গাজা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এক বছর আগে তিনি যখন জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তখন গাজায় যুদ্ধ চলছিল এবং জিম্মিরা হামাসের সুড়ঙ্গে আটকে ছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় যুদ্ধের কোনও শেষ দেখা যাচ্ছিল না।

তিনি দাবি করেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নেওয়া প্রথম কয়েকটি পদক্ষেপ পরিস্থিতি বদলে দেয় এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গাজায় যুদ্ধ শেষ হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে এবং জীবিত ও মৃত—সব অবশিষ্ট জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

গাজা নিয়ে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার সর্বসম্মত সমর্থনের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। পাশাপাশি শান্তি বোর্ডের অনুমোদনের কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০টি দেশ ওই বোর্ডে যোগ দিয়েছে এবং তিনি সেই বোর্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।

গাজার ত্রাণ ও পুনর্গঠনের জন্য বিভিন্ন দেশ বিপুল অর্থ দিয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি কাতার, কুয়েত, কাজাখস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন এবং মরক্কোর কথা উল্লেখ করেন।

গাজাকে স্থিতিশীল করতে সেনা, পুলিশ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশগুলির মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, আলবেনিয়া, কসোভো, কাজাখস্তান, মিশর ও জর্ডানের নামও উল্লেখ করেন তিনি।

বিভিন্ন যুদ্ধ থামানোর দাবি

ট্রাম্প বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আটটি যুদ্ধ শেষ করতে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব সমঝোতা সম্ভব হয়েছে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বাণিজ্য, শুল্ক এবং শুল্ক আরোপের হুমকি-সহ বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে।

তিনি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও রুয়ান্ডা, পাকিস্তান ও ভারত, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এবং গাজার যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়েও তিনি বলেন, দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং এই যুদ্ধের সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার তরুণ, যাদের অধিকাংশই সেনা, নিহত হচ্ছে। যুদ্ধের ছবি দেখতে তাঁর ভালো লাগে না বলেও জানান তিনি।

ইরান প্রসঙ্গে আবারও তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমস্যার সমাধান একভাবে না একভাবে করা হবে এবং তা দ্রুত করার চেষ্টা করা হবে।

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান নিয়ে বক্তব্য

ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁর নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি বড় সামরিক অভিযান চালায়। তাঁর দাবি, অভিযানে একটি শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশ করে নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করা হয়।

এর পর থেকে ভেনেজুয়েলার শত শত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আরও ভালো ভবিষ্যৎ তৈরির জন্য কাজ করছে।

ট্রাম্প আরও জানান, গত মাসে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে একটি বড় চুক্তি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যই উপকারী হবে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম কমাতে সাহায্য করবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলাকে একসঙ্গে ধরলে বিশ্বের মোট তেলের ৬০ শতাংশের বেশি তাদের হাতে রয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার জন্য হুমকি তৈরি করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহার করে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা হবে বলেও জানান তিনি।

মাদকচক্র, মেক্সিকো ও কিউবা নিয়ে অবস্থান

ট্রাম্প বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি মাদকচক্রগুলিকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি মাদকচক্রগুলিকে পশ্চিম গোলার্ধের ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে তুলনা করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন।

ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র মাদক বহনকারী নৌযানের বিরুদ্ধে বহুবার হামলা চালিয়েছে এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী, সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা মাদকের পরিমাণ ৯৭ শতাংশ কমেছে।

মেক্সিকো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটির প্রায় ২ হাজার মাইল সীমান্ত এমন কোনও এলাকার সঙ্গে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে শত্রুভাবাপন্ন মাদকচক্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মেক্সিকোকে নিজেদের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কিউবা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, সেখানে কমিউনিস্ট সরকার প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি কিউবাকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন।

গ্রিনল্যান্ড ও ন্যাটো নিয়ে ঘোষণা

গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, উত্তর আমেরিকার উত্তর সীমান্তের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ভূখণ্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হবে। তিনি জানান, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র দুটি বড় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করবে।

গ্রিনল্যান্ডে কোনও মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সামরিক উপস্থিতি বা সংবেদনশীল বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত অনুমতি ছাড়া করা যাবে না বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

ন্যাটো নিয়েও তিনি বলেন, জোটটি আগের তুলনায় শক্তিশালী হচ্ছে। সদস্য দেশগুলির প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও শুল্ক ক্ষমতা

রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও বলেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে হাজার হাজার মানুষ এই যুদ্ধে মারা যাচ্ছে।

তিনি জানান, কংগ্রেসের অনুমোদিত একটি নতুন আইনের মাধ্যমে তাঁকে নতুন শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তিনি সেই ক্ষমতা ব্যবহার করবেন।

ইউক্রেন ও রাশিয়ার বহু বাস্তুচ্যুত শিশুকে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

জাতিসংঘের সংস্কার নিয়ে বক্তব্য

জাতিসংঘের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যাপক সংস্কারের কাজে যুক্ত রয়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের বাজেট ১৫ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং জাতিসংঘের আমলাতন্ত্র থেকে ৪ হাজারের বেশি পদ বাদ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, জাতিসংঘের সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু নির্বাচিত না হওয়া আন্তর্জাতিক আমলাদের দ্বারা কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহণ সংস্থার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কার্বন কর আরোপের উদ্যোগেরও বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও বিশ্ব সরকার নেই এবং তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকাকালে কোনও বৈশ্বিক করও থাকবে না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিয়ে আপত্তি

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিয়েও ট্রাম্প কঠোর অবস্থান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্য বা অন্য কোনও ব্যক্তিকে এমন একটি আদালতে তদন্ত বা বিচার করা মেনে নেওয়া হবে না, যার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনও এখতিয়ার নেই।

তিনি ওই আদালতের সদস্য দেশগুলিকে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

মানবাধিকার নিয়েও জাতিসংঘের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় প্রকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থাকা সত্ত্বেও জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তনীতি এবং শিশুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত মার্কিন নীতির সমালোচনা করছেন।

অভিবাসন ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব

ট্রাম্প বলেন, অবৈধ অভিবাসন কোনও মানবাধিকার নয়। একই সঙ্গে একটি দেশের সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রাখার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র নিজের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এবং অন্য দেশগুলিরও নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা থেকে অপরাধী ও মাদকচক্রের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন নামের প্রস্তাব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তে আরও যথাযথ শব্দ হিসেবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘অতিবুদ্ধিমত্তা’ ব্যবহার করা উচিত।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘কৃত্রিম’ শব্দটি এই প্রযুক্তিকে কৃত্রিম বা নকল বলে মনে করাতে পারে, যদিও প্রযুক্তিটি বাস্তবে অত্যন্ত শক্তিশালী।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে এই নতুন শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করা হবে। তাঁর বক্তব্য, অতিবুদ্ধিমত্তা শিল্পবিপ্লব বা ইন্টারনেটের থেকেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

তিনি বলেন, এই প্রযুক্তির কারণে যে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে তাঁর নীতি হবে প্রযুক্তির বিকাশ থামিয়ে দেওয়া নয়, বরং তার বিকাশকে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজন হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে নজরদারি রাখা।

ট্রাম্প দাবি করেন, অতিবুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চিনের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে এবং সেই অবস্থান বজায় রাখা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঐক্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা, জাতীয় ঐক্য এবং দেশের শক্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আড়াই শতাব্দী আগে যে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আমেরিকানরা লড়াই করেছিল, সেই স্বাধীনতা সহজে পাওয়া যায়নি এবং তা কখনও ছেড়ে দেওয়া হবে না।

তিনি জর্জ ওয়াশিংটনের সময়কার স্বাধীনতার লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, শুধু মহান আদর্শে বিশ্বাস করলেই হবে না; সেই আদর্শ রক্ষা করার জন্য ইচ্ছাশক্তি, সাহস ও শক্তিও প্রয়োজন।

ট্রাম্প জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলিকে একসঙ্গে শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ালে পৃথিবী আরও নিরাপদ ও ভালো জায়গায় পরিণত হতে পারে।

তিনি বলেন, দেশগুলির অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও উজ্জ্বল পৃথিবী তৈরি করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।

#TrumpUNGASpeech #DonaldTrump #UNGA #TrumpIranWar #TrumpForeignPolicy #TrumpElection #USElection #IranConflict #UnitedStates

Exit mobile version