Tag: Joe Baiden

  • India-US relations: ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ফাটল, কপাল পুড়ল জো বাইডেনের!

    India-US relations: ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ফাটল, কপাল পুড়ল জো বাইডেনের!

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    India-US relations: ভারত ভুগছে বিদেশি আতঙ্কে! যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক। ভারত আর যুক্তরাষ্ট্রের গভীর বন্ধুত্ব, তাহলে কি এবার তিক্ততায় পরিণত হবে? হঠাৎ ভারতের বিরুদ্ধে খারাপ মন্তব্য কেন করছেন জো বাইডেন? নির্বাচনে জিততে গিয়ে, বন্ধুকেও শত্রু বানিয়ে দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারতও চুপ করে বসে নেই, নয়া দিল্লি কড়া জবাব দিল ওয়াশিংটনকে। এবার সম্পর্কের পরিণতি কোনদিকে এগোবে? ভারত রাশিয়ার সাথে জোট বাঁধলে, বিপদে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের আবহে সবটা সামলাতে নাজেহাল জো বাইডেন। এখন সাফাইয়ের মলম লাগাচ্ছে হোয়াইট হাউস। আদৌ কাজে আসবে তো?

     

    আশঙ্কাই কি তবে সত্যি হল? এতদিন ধরে জোর চর্চা চলছিল, হয়ত যুক্তরাষ্ট্র আর ভারতের সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। এবার তা যেন ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে বড় কথা বলে ফেললেন জো বাইডেন। যার ফলে তিক্ততা বাড়তে বাড়ে যুক্তরাষ্ট্র আর ভারতের মধ্যে। ভারতও যুক্তরাষ্ট্রের কথা চুপ করে বসে হজম করছে, এমনটাও নয়। ইতিমধ্যেই পাল্টা মোক্ষম জবাব দিয়ে দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এর আগেও দুই দেশের মধ্যে বিতর্কিত কথা নিয়ে নানান সমস্যা হয়েছে। যদিও কূটনৈতিক সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র ছাপ পড়েনি। কিন্তু দিনের পর দিন এমনটা হতে থাকলে, ভবিষ্যতে সম্পর্কের ফাটল ধরতেই পারে। ভারতে এখন নির্বাচন চলছে। সেই আবহে সম্প্রতি ভারতে কার্যকর হয়েছে সিএএ আইন। সেই অস্ত্রকে কাজে লাগিয়ে শাসক দল নেমেছে ভোটের ময়দানে। ভারতের এই সিএএ আইন নিয়ে বিশ্বজুড়ে কিন্তু কম চর্চা হচ্ছে না। সম্প্রতি সিএএ নিয়েও কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। আচ্ছা, আপনার কি মনে হয়? এরপরেও ভারত আর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ঠিক আগের মতই থাকবে? এর আগেও কিন্তু কথার জালে জড়িয়েছে ওয়াশিংটন। তখনো ভারত জবাব দিতে ছাড়েনি। কূটনৈতিক সম্পর্ক বাঁচাতে এবার যুক্তরাষ্ট্র যে সাফাই দিচ্ছে , সেই সাফাইতে কি আদৌ মলম লাগবে?

     

    আসলে কি ঘটনাটা হয়েছে শুনুন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে, জো বাইডেন বলেন , ভারত নাকি জেনোফোবিয়া বা বিদেশি আতঙ্কে ভুগছে। জো বাইডেনের কথায়, কেন চীন ক্রমশ অর্থনৈতিকভাবে স্থবির হয়ে পড়ছে? কেনই বা সমস্যায় পড়ছে জাপান? কেনই বা একই অবস্থায় রয়েছে রাশিয়া আর ভারত? কারণ তারা সবাই জেনফোবিক অর্থাৎ তারা অভিবাসীদের নাকি চায় না। অপরদিকে এই অভিবাসীরা শক্তিশালী করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রকে। এতগুলো প্রশ্নের পাশাপাশি বাইডেন কথা বলেছেন ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও।

     

    বাইডেনের এই দাবি সম্পূর্ণ নাকোচ করে দিয়েছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বলেন, ভারত কখনোই এমনটা নয়, বরং ভারত সব ধারার মানুষকে স্বাগত জানায়। এই প্রসঙ্গে মন্তব্যের পাল্টা দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিবরণ দেন। সিএএ কার্যকরের মাধ্যমে কিভাবে ভারতের সব ধরনের মানুষকে স্বাগত জানানো হচ্ছে সেটাও উল্লেখ করেন। জয়শঙ্করের কথায়, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এনেছেন নরেন্দ্র মোদী। এটাই প্রদর্শন করে যে, ভারত ঠিক কতটা মুক্তমনা। ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে,।ভারত সব সময় সকল ধারা, সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য দরজা খোলা রেখেছে। যারা বিপদে পড়ে ভারতে আসার প্রয়োজন অনুভব করেন, তাদের ভারত সব সময় স্বাগত জানায়। ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে বাইডেনের দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে, জয়শঙ্কর বলেন, জেনে রাখুন ভারতের অর্থনীতি কিন্তু মোটেই নড়বড়ে নয়।

     

    কিন্তু হঠাৎ বাইডেন এমন কথা বলতে গেলেন কেন? নিশ্চয়ই তো কোনো কারণ রয়েছে। নাকি চাপা রাগের বহিঃপ্রকাশ? আসলে চলতি বছরই রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। যেখানে লড়াইয়ে শামিল হবেন বাইডেন। শুরু হয়ে গিয়েছে তুমুল প্রস্তুতি। প্রত্যেক দেশের নির্বাচনের আগে লড়াইয়ের ময়দানে একটা করে হট টপিক থাকে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভোট প্রক্রিয়ায় অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে প্রবাসীদের বিষয়টি। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সেদেশে শুরু হয়ে গিয়েছে মেরুকরণ। বাইডেন প্রবাসীদের পক্ষে এবং এটাকেই এখন বড় অস্ত্র বলে মনে করছেন। অপরদিকে আবার ডোনাল্ড ট্রাম্প, অনেকটা প্রবাসী বিরোধী। তাই প্রবাসীদের দিকে একটু ঝোল টেনে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান উন্নতির অন্যতম কারণ প্রবাসী সহ এমন বহু মানুষ।

     

    যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক জৌলুসের অন্যতম কারণই হল, বিদেশিদের স্বাগত জানানো। যা উদার মানসিকতার নিদর্শন। আর এখানেই প্রবাসীদের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তুলনা করেন অন্যান্য কয়েকটা দেশের সঙ্গে। তোপ দাগেন ভারতের বিরুদ্ধেও। তবে রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে, বন্ধু রাষ্ট্র ভারত এবং জাপান সম্পর্কে যে নেতিবাচক মন্তব্য বাইডেনের মুখ ফসকে বেরিয়ে এসেছে তাকে কেন্দ্র করে এখন বিতর্কের ঝড়। নিজের দেশকে বড় করে দেখাতে গিয়ে বন্ধু রাষ্ট্রকে ছোট করা কখনোই উচিত নয় বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। যদিও এই ঘটনার পর ইতিমধ্যে সাফাই গাইতে শুরু করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হয়ে সাফাইতে, হোয়াইট হাউস মুখপাত্র বলেন, মিত্র রাষ্ট্র হিসেবে ভারতকে বাইডেন সম্মান করেন। বাইডেন আসলে সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলতে গিয়ে, একটি মন্তব্য করেছিলেন। বর্তমানে ভারত আর জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। বিগত তিন বছরে সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

     

    দেখুন, এই প্রথম নয় কিন্তু, এর আগেও ভারত আর যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা আবছা কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিল। মোদী জামানায় যুক্তরাষ্ট্রের পরম বন্ধু হয়ে উঠেছে ভারত। আবার ওদিকে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। ভারতের এই দুই বন্ধু রাষ্ট্র একে অপরের চরম বিরোধী। তবে এখানে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। জার্মানির মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে, এই বহুমুখী কূটনীতি নিয়ে প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছে নয়া দিল্লিকে। যদিও তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়শঙ্করের জবাব ছিল, ভারতের এই দক্ষতার তো প্রশংসা করা উচিত। বরং একমুখী সম্পর্ক রাখা অত্যন্ত কঠিন। তবে ভারত ব্যালান্স করলেও,।এই ব্যালেন্স এর নীতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কতটা পছন্দের এটা নিয়ে ভূ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। সম্প্রতি সিএএ কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগকে ভালো চোখে দেখেনি ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই আইন নিয়ে যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে, সেটা নিয়ে ওয়াশিংটন গভীরভাবে চিন্তিত। ভারতে কিভাবে এই আইন কার্যকর হবে, সেদিকে কড়া নজর রাখছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের এমন মন্তব্যে পাল্টা ভারত জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের নিজস্ব নীতি আছে। সেই নীতি বলে, দেশভাগের সময় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সাহায্য করা। ধর্ম জাতি পরিচয় সামাজিকতার ভিত্তিতে দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন বহু দেশেই রয়েছে। মূলত বিশ্বযুদ্ধের পর এইরকম আইনের ব্যবহার অনেকটা বেড়েছে। তাহলে ভারতের সিএএ নিয়ে কেন প্রশ্ন তুলছে পশ্চিমা দুনিয়া? এভাবেই তোপ দেগেছিলেন জয়শঙ্কর।

     

    গত বছরই কিন্তু কানাডার সঙ্গে ভারতের বিবাদের কিছুটা রেশ পড়েছিল ভারত মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। সেই সময় দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটি এক বার্তার মাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক নাকি বেশ খারাপ পর্যায়ে চলে যেতে পারে। যদিও বিষয়টা নিয়ে পরবর্তীকালে খুব একটা জলঘোলা হয়নি। ওয়াশিংটন নয়া দিল্লির পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু এখন পুরো বিষয়টাই যেন চলছে পুরো উপর উপর দিয়ে। ধীরে ধীরে ফাটল ধরছে দুই দেশের সম্পর্কে। এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। আশঙ্কা, ছোট ছোট ক্ষোভগুলো পুঞ্জিভূত হয়ে একদিন বড় আকারে বিস্ফোরণ ঘটাবে না তো?

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • India-China-Russia: টোটাল ফ্লপ যুক্তরাষ্ট্র, জোট বাঁধছে ভারত-চীন-রাশিয়া?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    India-China-Russia: পররাষ্ট্রনীতিতে কি ফ্লপ জো বাইডেন? জোট বাঁধছে ভারত, রাশিয়া আর চীন! ফিকে হয়ে যাচ্ছে চীন ভারতের শত্রুতা! এও কী সম্ভব? বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতির সামনে হঠাৎ এমন প্রশ্ন উঠছে কেন? বিশ্বে মার্কিনি মোড়লগিরি কমাতে এক হতে পারে দিল্লি, মস্কো আর বেজিং। ভবিষ্যতে এর ফলটা হতে পারে মারাত্মক। আখেরে লাভ কার বেশি? যুক্তরাষ্ট্রই সেরা, এই চেনা পুরনো অঙ্কটা আর কাজে আসবে না। চীন আর ভারতের দ্বন্দ্ব মেটাতে আগ্রহী রাশিয়া। ভারতকে পুতিনের এত পছন্দ কেন?

     

    ভারতে এখন চলছে লোকসভা নির্বাচন। গোটা বিশ্বের কাছে এই নির্বাচনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ক্ষমতায় কে আসছে, মোদী সরকার ক্ষমতায় ফিরবে, কি ফিরবে না, এটা এখন পাখির চোখ বিশ্বের বহু দেশের পররাষ্ট্রনীতির কাছে। তবে বিভিন্ন জরিপ এবং সমীক্ষার আভাস বলছে, হয়ত বা পুনরায় ক্ষমতায় আসতে পারে মোদী সরকার। আর মোদী সরকার ক্ষমতায় এলে লাভ হবে বহু দেশের। এমনটাই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ মোদী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন, যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন, ফ্রান্সের ইমানুয়েল ম্যাক্রো মত রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরো মজবুত হয়েছে। পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতিতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে ভারত একটা শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত পাচ্ছে। শুধু এশিয় দেশ নয়, মুসলিম প্রধান দেশ মিশর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও মজবুত হয়েছে ভারতের সম্পর্ক।

     

    আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে পারে এবার ভারত, চীন আর রাশিয়ার জোট। কি, এটা শুনে একটু অবাক লাগছে তো? কারণ চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের তিক্ততা কারোরই অজানা নয়। কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল করবেন, ভারতের কাছে প্রতিবেশী দেশগুলো ভীষণভাবে গুরুত্ব পায়। ভারত চলে ‘ প্রতিবেশী প্রথম ‘ নীতিতে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, দুই দেশ ভবিষ্যতে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে জোর দিতে পারে। লাভ কিন্তু দুই দেশেরই। হয়তো বা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা কমাতে, ভারত আর চীনের মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে পারে রাশিয়া। বদলে যেতে পারে পুরো ছক। একটা সময় মার্কিন জাতি সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি, এই ধারণা ফিকে হয়ে আসার সময় হয়ে এসেছে।

     

    দশকের পর দশক গোটা বিশ্বে মোড়লগিরি চালালেও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে মার্কিন আধিপত্য। যার মূলে কুঠারাঘাত করছে ডলারের দুর্বলতা। আসলে এই ডলারকে কেন্দ্র করেই তো এত কিছু। গত ২ দশকে বৈশ্বিক রিজার্ভে ডলারের শেয়ার ৭২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৮ শতাংশ। এই দুর্বলতার জায়গা থেকেই হয়ত, গোটা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রান্তে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধুমাত্র নিজের ক্ষমতার আধিপত্য বজায় রাখার জন্য। এই ধরুন, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা করা, ইরান আর ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইলের পাশে থাকা সহ এরকম বহু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে দেশটা। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময় কানাডা ভারতের দ্বন্দ্বে দিল্লির পাশে ছিল ওয়াশিংটন। আদতে এখানে যুক্তরাষ্ট্র চাইছিল ভূরাজনীতির দর কষাকষি করতে। চীনের বিরুদ্ধে ভারতকে প্রক্সি হিসেবে হয়তো ব্যবহার করতে চাইছে দেশটা। পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায়, ভারত অত্যন্ত স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং নীতিও নিরপেক্ষ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, চীন রাশিয়ার মতো শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো মার্কিনিদের টেক্কা দিতে ভারতকে পাশে পেতে চাইছে।

     

    সাম্প্রতিক সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা বিশ্ব ব্যবস্থার সামনে তুলে ধরেছে একটা বহুমুখী পথ। যেখানে একটা দেশ নয়, ক্ষমতা থাকতে পারে বহু দেশ। এশিয়া থাকতে পারে, ইউরোপ থাকতে পারে কিংবা মধ্যপ্রাচ্য। রাজনৈতিক স্বার্থে, ভারতকে এখন কাছে টানা লাভের বলে মনে করছে পরাশক্তি গুলো। কারণ ধীরে ধীরে গ্লোবাল পাওয়ার হয়ে উঠছে ভারত। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এমনি থেকেই বেশ ভালো। ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও কিন্তু ভারত অত্যন্ত নিরপেক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়ার মধ্যে ব্যালেন্স করেছে, এখনো করছে। মনে করা হচ্ছে, প্রযুক্তিগতভাবে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব দিচ্ছে, সেই জায়গায় ভারত চীন রাশিয়ার জোট একদিন নেতৃত্ব দিতে পারে। রাশিয়ার কাছে এখন বেস্ট অপশন হয়ে উঠেছে ভারত। তেল বিনিয়োগের পাশাপাশি বহু স্টার্টআপে অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে মস্কোর। ভারতের সেই সুযোগ হাত ছাড়াও করতে চাইছেন না পুতিন। হয়তো বা, কয়েক দশক পর কিংবা কয়েক বছর পর নিজের স্বার্থে রাশিয়া ভারত আর চীনের মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে পারে, এমনটাই আভাস দিচ্ছে ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

     

    ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে, যখন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার উপর একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল, তখন কিন্তু রাশিয়া তেল বিক্রির অন্যতম জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে ভারতকে। দিল্লির সঙ্গে আরও নৈকট্য বাড়ে মস্কোর। পাশাপাশি দুই দেশ সামরিক এবং প্রযুক্তি খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করে। কথা হয়, যৌথভাবে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র উৎপাদন এবং উন্নয়ন বিষয়েও। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের আকার অতিক্রম করেছে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। অঙ্কটা নেহাত কম নয়। আর এই প্রেক্ষাপটে, ভারত যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গতি প্রকৃতি নিয়ে নতুন করে আগ্রহী করে তোলে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির পর্যবেক্ষকদের। রাশিয়াকে কূটনৈতিকভাবে এক ঘরে করে দেওয়ার যে নীতি অনুসরণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, ভেস্তে যায় সেই প্ল্যান। ভূরাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান ভাবে চীনের যে প্রভাব বাড়ছে, তা মোকাবিলা করতে সাম্প্রতিক সময় ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে মনোযোগী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই হয়তো, কোথাও গিয়ে রাশিয়া আর ভারতের ঘনিষ্ঠতা হজম করে নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

     

    প্রসঙ্গত বলে রাখি, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগেই রুশ এস ৪০০ ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম কিনে নিয়েছিল ভারত। আর যেখানে ঘোর আপত্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। তারপর থেকে রাশিয়া আর ভারতের যে দ্বিপক্ষীয় ঘনিষ্ঠতা, তা একপ্রকার উপেক্ষা করে আসছে ওয়াশিংটন। যেন দেখেও দেখছে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের মূল টার্গেট, ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব কমানো। যেখানে ভারতকে অবশ্যই দরকার। ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চল ঘিরে চীনের হুমকি অথচ বেড়েই চলেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বারংবার চীনের ক্ষমতা দমানোর চেষ্টা করলেও, পোক্ত কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তাই বলা যেতেই পারে, চীনের ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পই বলুন, আর জো বাইডেন,পররাষ্ট্রনীতি কিছুটা হলেও ত্রুটিপূর্ণ। বাইডেনের ক্ষমতার মেয়াদ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত চীনকে ঘাটানোর সাহস পায়নি। শুধু তাই নয়, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ব্যাপারেও সেভাবে কোন কথা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র খুব দৃঢ়ভাবে নিজের উপর বিশ্বাস রাখে, হয়ত পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে তাদের নেওয়া কৌশল থেকে রাজনৈতিক ভাবে দেশটা লাভবান হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটা হচ্ছে কই? বর্তমানে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের যে অবস্থান, তাতে পশ্চিমা দেশগুলোকে নানান হুমকির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে বহু সমালোচকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আর ভারত এখনো পর্যন্ত একে অপরের নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। সেই তুলনায় ভারতের অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে রাশিয়া। আর রাশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক একদমই ভালো নয়। এরই মাঝে ব্রিকস সম্প্রসারণে এক জোটে কাজ করছে ভারত চীন আর রাশিয়া। স্বাভাবিকভাবেই, যুক্তরাষ্ট্র আর ভারতের সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়ে গিয়েছে হিসাব-নিকাশ।

     

    আর অপরদিকে যদি চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কথা বলা হয়, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধ কিন্তু এই দুই প্রতিবেশী দেশের সামনের দাঁড় করিয়েছে দুই ভিন্ন পরিস্থিতি। যার যোগ সূত্র হিসেবে কাজ করছে রাশিয়া। আপাতত এখন চীনকে কূটনৈতিকভাবে খুব একটা মাথা ঘামাতে হচ্ছে না। কারণ ইউক্রেন যুদ্ধের আগে বেজিংয়ের কাছে বৈশ্বিক ভূরাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল তাইওয়ান প্রণালী। তবে একের পর এক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, সেখান থেকে মনোযোগ সরে গিয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কর্মসূচি জুড়ে একদিকে রাশিয়া আর অন্যদিকে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের বহুদিনের অভিযোগ ছিল, চীন রাশিয়া জোটবদ্ধভাবে বিশ্বব্যাপী এক নতুন ক্ষমতা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে। এটা আশঙ্কা নয়, কিছুটা ভয়ও বটে। আর সেখানে এবার ভারতের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। কারণ রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক থাকায় পশ্চিমা বহু সংবাদ মাধ্যমের কড়া সমালোচনায় মুখে পড়তে হয়েছিল নয়াদিল্লিকে। যার জেরে ভারতের পক্ষে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করার একটু কঠিন হয়ে পড়ছে। ওই যে কথায় আছে না, শত্রুর শত্রু বন্ধু হয়, ঠিক তেমনই বন্ধুর বন্ধু মিত্র হতে পারে। আর এভাবেই একসময়, বিশ্বে রাজ করতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পিঠ থেকে যেতে পারে দেওয়ালে। ভবিষ্যতে ভারত চীন আর রাশিয়ার জোট কতটা মজবুত হবে, ভারতের সঙ্গে চীনের আদৌ সুসম্পর্কে পরিণত হবে কিনা, তার উত্তর তো সময় দেবে। তবে এই সম্ভবনাকে একেবারেই তুরি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আপনি কি বলেন?

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Iran-Israel Conflict: যুক্তরাষ্ট্রের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপাল ইরান, প্রতিশোধ নিল ফিলিস্তিনিদের হয়ে

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

     

    Iran-Israel Conflict: যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা চাপাচ্ছে, এটা চেনা ছবি। গোটা বিশ্ব জানে। কিন্তু এবার সেই ছকটা পাল্টাতে শুরু করেছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপাল ইরান। তেহরান ছেড়ে কথা বলল না যুক্তরাষ্ট্রকেও। পাল্টাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পাশা। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য বারংবার ইরানকে চাপে রাখতে চেয়েছে। একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে তেহরানের উপর। কিন্তু এবার তেহরান সুযোগ বুঝে যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে চাপাল নিষেধাজ্ঞা। পুরো উল্টো ভূরাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি। দেখছে গোটা বিশ্ব। সাম্প্রতিক সময়ে গোটা পশ্চিমা বিশ্ব যেভাবে কোনঠাসা হচ্ছে, তাহলে কি এই সময়টারই অপেক্ষা করছিল ইরান? সুযোগ বুঝে বড় চালটা চেলে দিল। এবার কী করবে যুক্তরাষ্ট্র? তাহলে কি ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত সরাসরি বেঁধেই যাবে? এই দুই দেশের মধ্যে এত শত্রুতার সম্পর্ক কেন জানেন? গোড়ার ইতিহাস জানলে বুঝতে পারবেন, কেন যুক্তরাষ্ট্রের উপর ইরানের এত রাগ। যুক্তরাষ্ট্র কি তাহলে ইরানকে ভয় পেয়ে চলে? কারণটা ঠিক কী? সম্প্রতি তেহরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র পাত্তা পাচ্ছে না কেন? এত সাহস কোথা থেকে পাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ?

     

    একটা সময় ছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের উপর জোটবদ্ধভাবে নতুন নিষেধাজ্ঞা আনার উদ্যোগ নিত। সেই সময় রাশিয়া হয়তো বা সাপোর্ট করত, কিংবা ইরানের হয়ে দু একটা কথা বলতো। কিন্তু বড় কোন স্টেপ নিতে দেখা যায়নি। এটা বলছি মাত্র কয়েক বছর আগেকার কথা। সাম্প্রতিক সময়ে নিষেধাজ্ঞার ট্রাম্প কার্ডটা যেন একটু বেশি খেলছে মধ্যপ্রাচ্য সহ পশ্চিমা দুনিয়ার দেশগুলো। অথচ কেউ কারোর নিষেধাজ্ঞাকে খুব একটা পরোয়া করে না, পাত্তাও দেয় না। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয়, একটা দেশ আর একটা দেশের উপর ঠিক কতটা বিরক্ত। একটা দেশ আর একটা দেশের নীতিকে মানছে না। হামাস ইসরায়েলের যুদ্ধের মাঝে গত ১৩ই এপ্রিল ইসরায়েলের উপর প্রথমবারের মতো সরাসরি হামলা করেছিল ইরান। যে হামলায় ইরান সিরিয়া এবং ইয়েমেন থেকে প্রায় ৩০০ টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন নিক্ষেপ করে ইরান। যদিও তার বেশিরভাগটাই ইসরায়েল এবং তার মিত্রদের দ্বারা ধ্বংস করা হয়। কিন্তু সেই সময় ইসরায়েলে হামলার পর, ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন করে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নেয়।

     

    এমনকি ঐক্যবদ্ধ কিছু দেশও এই উদ্যোগে নিয়েছিল। ওদিকে ইসরায়েল তার মিত্র দেশের প্রতি তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার অনুরোধ করে। যদিও তেহরানের ক্ষেপনাস্ত্র কর্মসূচির ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার যে মেয়াদ ছিল, তা শেষ হয়েছে গত অক্টোবরে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ সেই আগের নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখে। উপরন্তু যুক্ত করে আরো নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞা। যার মূল উদ্দেশ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সীমিত করা। যার প্রতিবাদও করেছে তেহারান। তবে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা খুব একটা দিতে দেখা যায়নি। কিন্তু এবার নিষেধাজ্ঞা চাপাল যুক্তরাজ্য আর যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় বড় কোম্পানির উপর । প্রসঙ্গত বলে রাখি, ইরানের উপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির সাথে প্রায় সমস্ত আমেরিকান বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হয়ত এতগুলো নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ নিতে তক্কে তক্কে ছিল ইরান। ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরাইলকে সমর্থন দেয়ার অভিযোগে এবার যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞ ঘোষণা করে দিল দেশটা।

     

    যেখানে ইরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা স্পষ্ট বলা হয়েছে এদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরাইলের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক পদক্ষেপ ব্যবস্থা হিসেবেই এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাত নাগরিক। যাদের মধ্যে অত্যন্ত বিশেষ ব্যক্তি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল ব্রায়ান পি ফেন্টন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ বাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সাবেক কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। অপরদিকে যুক্তরাজ্যের যে সমস্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তেহরান নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে রয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গ্র্যান্ট শ্যাপস, ব্রিটিশ আর্মি স্ট্রাটেজিক কমান্ডের কমান্ডার জেমস হকেনহাল। প্রতিষ্ঠান হিসেবে তেহরানের নিষেধাজ্ঞার কবলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন আর শেভরন। অপরদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে পার্কার মেগিট, এলবেইট সিস্টেমস এবং রাফায়েল ইউকে। শুধু তাই নয়, লোহিত সাগরে থাকা যুক্তরাজ্যের নৌ বাহিনীর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তেহেরান।

     

    বুঝতে পারছেন, দেখে দেখে গুরুত্বপূর্ণ পদের ব্যক্তিদের উপরেই নিষেধাজ্ঞা চাপালো ইরান। যেন প্রতিশোধের অপেক্ষা করছিল দেশটা। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কিন্তু বড়সড় লস খেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্য। এর ফলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ওই প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিরা ইরানের আর্থিক আর ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে কোনো প্রকার লেনদেন করতে পারবে না। ইরানে থাকা তাদের সমস্ত সম্পত্তির উপর একইভাবে নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে। এই ব্যক্তিগণ কিংবা প্রতিষ্ঠান কখনোই ইরানের কোন অঞ্চলে আর প্রবেশ করতে পারবে মা। যদিও এর ফলে ইরানের সঙ্গে থাকা তাদের চুক্তি কিংবা ইরানে থাকা তাদের সম্পদে ঠিক কতটা প্রভাব পড়তে চলেছে সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

     

    সোজা কথায়, ইরানের এহন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল যে, যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ইরানের অ্যাকশন শুরু। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ইরানকে সরাসরি কোন অ্যাকশন নিতে দেখা যায়নি। এবার হয়ত দেশটা পাল্টা আক্রমণ করতে শুরু করে দিয়েছে। অভিযোগ, গাজায় হামলা চলছে, আর তাতে নাকি মদদ দিচ্ছে এই দুটো দেশ। যুদ্ধের শুরু থেকে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে রয়েছে উপসাগরীয় দেশ ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ বলছে, ইসরায়েলে হামাস যে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছিল, সেই হামলার নেপথ্যে রয়েছে নাকি ইরান। এই দেশটার অস্ত্র আর প্রশিক্ষণ পেয়ে হামাস ইসরায়েলে এমন হামলা চালানোর সাহস পেয়েছে। আর সেই সমস্ত হামাসকে নির্মূলের নামে গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেল আবিব।

     

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কূটনৈতিক ভাবে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রকে অপমান করতেই ইরানের এমন চতুর কৌশল। যার আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটা নিষেধাজ্ঞা নামক অস্ত্রকে হাস্যকর জিনিসের রূপান্তর করতে চাইছে। যদি সাম্প্রতিক সময়ের দিকে তাকান, তাহলে ভালোভাবে বুঝতে পারবেন, এই নিষেধাজ্ঞা দিনের পর দিন যেন একটা কমদামি অস্ত্র হয়ে উঠেছে। কোনো দেশ শত্রুপক্ষ দেশের বিরুদ্ধে এই অস্ত্র প্রয়োগ করে সেই দেশের নীতিকে অস্বীকার করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। বিপরীত পক্ষ মানল কি মানলো না, সেসব গুরুত্বই পাচ্ছে না। একটা সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মানে ছিল একটা বড় কিছু ব্যাপার। বিশ্বের বহু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে রীতিমত ভয় পেত। আবার কেউবা সম্মান করত। এমনকি নিষেধাজ্ঞার ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অনুযায়ী কাজ করতেও বাধ্য হয়েছে বহু দেশ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, নিষেধাজ্ঞাকে যেন আর ভয় পাচ্ছেনা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।

     

    দেখুন, যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানের বৈরিতার ইতিহাস কিন্তু আজকের নতুন নয়। ১৯৫০ এর দশক থেকে এই দুই দেশের সম্পর্ক দিনের পর দিন অবনতি পথে। সংঘাত হচ্ছে ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের। আর সেখানে দলাদলি করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েছে ইরান আর যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশ নিয়েছে দুই পক্ষ। তবে এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এতটাই তিক্ত যে, ভবিষ্যতে এরা একে অপরের সাথেও সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতা শুরু হয়েছিল ১৯৫৩ সাল নাগাদ। সেই সময় ইরানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদেক চেয়েছিলেন তেল সম্পদকে সরকারিকরণ করতে। যার অধিকাংশটাই ছিল ব্রিটিশের নিয়ন্ত্রণে। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে ইরানিরা খুব একটা সুবিধা পেত না। তারপর হঠাৎ এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাকচ্যুত হন তৎকালীন ইরানের প্রধানমন্ত্রী। তারপরেই গুঞ্জন উঠে, এই অভ্যুত্থানের পিছনে নাকি রয়েছে মার্কিন আর ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের হাত। বিষয়টাকে আরো উসকে দেয়া হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে মোহাম্মদ রেজা শাহ ইরানের ক্ষমতায় আসেন। তখন তার প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন ইসলামপন্থী নেতা আয়াতুল্লাহু খামেনি।

     

    ৭০ দশকের দিকে ধীরে ধীরে ইরানের জনগণের একটা বড় অংশ রেজা শাহের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারপর ১৯৭৯ সাল থেকে ইরানের সুপ্রিম লিডার হয়ে ওঠেন খামেনি। সেই সময় ইরানের নতুন ইসলামী প্রজাতন্ত্রে আরো গাঢ় হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী মনোভাব। ওই বছরই খামেনি পন্থী বহু ছাত্র প্রবেশ করে তেহরানের মার্কিন দূতাবাসে। প্রায় ৪০০ দিনেরও বেশি জিম্মি করে রাখে ৫২ জন আমেরিকানকে।এই ঘটনার পরেই যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের জন্য ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের সম্পর্ক আরো তিক্ত হয়ে ওঠে ১৯৮০ সালে, ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরু হলে। যেখানে ইরাককে সাহায্য করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০০০ সাল নাগাদ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উপর নজর রাখতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তাই নয়, বাড়াতে থাকে আন্তর্জাতিক চাপ। যার কারণে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয় ইরানের তেল রপ্তানি এবং অর্থনীতি।

     

    ২০১৫ সাল নাগাদ ইরান তাদের পরমাণু কার্যক্রম সীমিত করতে সম্মতি হয়েছিল, কিন্তু শর্ত ছিল ইরানের উপর থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। কিন্তু ২০১৮ সাল নাগাদ সেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উপরন্তু বলেন, পরমাণু কর্মসূচি কমিয়ে আনতে হবে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত ও কর্মসূচি স্থগিত করতে ইরানকে আরেকটি নতুন চুক্তি করতে হবে। কিন্তু ইরান ট্রাম্পের সেই সিদ্ধান্ত মানেনি। তারপর থেকে দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা বাড়তেই থেকেছে। আর এখন তো সম্পর্ক পৌঁছেছে একদম খাদের কিনারে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, ভবিষ্যতে যদি ইরান আর যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, সেটা গোটা বিশ্বের কাছে নতুন কোন ঘটনা হবে না।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • রাশিয়া ভেঙে টুকরো টুকরো! যুক্তরাষ্ট্রের চালে ফতুর পুতিন ? সোনা পেল ইউক্রেন

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    রাতারাতি রাশিয়া ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল? যুক্তরাষ্ট্র কফিনে শেষ পেরেক টা পুতছে। রাশিয়ার মানুষগুলো এভাবে নিঃস্ব হয়ে গেল? মাথার উপরের ছাদটুকু থাকল না? খাবে কি? পায়ে দাঁড়াবে কি করে? ডিরেক্ট রাশিয়ার মেরুদন্ডে আঘাত। ছেড়ে দেবেন পুতিন? অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুরো হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রে বসেই মস্কো কে ফতুর করার প্ল্যান বাইডেনের। শীতের রাতে সোনা পেল ইউক্রেন। ভাগ্য কাকে বলে? দেখিয়ে দিলেন জেলেনেস্কি। নিষেধাজ্ঞার জালে জর্জরিত করার পরেও থামতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন কে সাহায্য করতে না পারলেও, ঘুরিয়ে কান ধরছেন জো বাইডেন। একটা চালেই বাজিমাৎ। রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র।

    এবার কি করবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন? বাইডেনের একটা সই কি ঘটালো? যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার বাইরে অবস্থিত কিন্তু রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ও সমর শিল্পের লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটা বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন এটা জানিয়েছেন। নতুন এই আদেশ রাশিয়ার খনি থেকে উৎপাদিত এবং কৃষিজ ভূমি থেকে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি নিষিদ্ধ করার অধিকারও দেয়।

    এমনকি ওই পণ্যগুলো যদি তৃতীয় কোনো দেশে রূপান্তরও করা হয় তারপরও। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন রাশিয়াকে যুদ্ধে পিছিয়ে দিতে বাণিজ্যিক লেনদেনে যেন ইন্টারেস্ট না দেখায় সেই কারণেই এই উদ্যোগ। না, চুপচাপ বসে পুরোটা দেখবেনা রাশিয়া। সহ্য করবেনা, সেটা সাফ সাফ বুঝিয়ে দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আটক করে রাখা রুশ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে মস্কো। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের উপর চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা মানেই যুদ্ধকে আরও বেশি উসকে দেওয়া। মনে রাখতে হবে ইউক্রেনকে পেছন থেকে সাপোর্ট করছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই রাশিয়ার উপর যুক্তরাষ্ট্রের এহেন যে কোনো পদক্ষেপ কে যে পুতিন ভালো চোখে দেখবেন না সেটাই স্বাভাবিক। তাই হয়তো মস্কো বলছে যে কোনও পরিস্থিতির জন্যই তারা রেডি। রুশ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা কোনও দেশকে রাশিয়া কখনও শান্তিতে থাকতে দেবে না। দিয়েছে প্রচ্ছন্ন হুমকি। বলেছে, পশ্চিমাদের কোনো সম্পদ তারাও বাজেয়াপ্ত করতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের একটা এত বড় পদক্ষেপ, পাল্টা মস্কোর এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মাঝেও গোটা বিশ্বের নজর টানছে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে। জানিয়ে রাখি, ইউক্রেইনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠজনদের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলো। আর, এবার যেন সব সীমা পার করে যুক্তরাষ্ট্র নিচে আরো কঠিন পদক্ষেপ। যা ইউক্রেনকেও চাপে ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উপর পুতিনের ক্ষোভের আঁচ রণাঙ্গনে ইউক্রেনের উপর পড়তেই পারে, এটা মনে রাখতে হবে জো বাইডেনকে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে লুকোনো পুতিনের ব্রক্ষ্মাস্ত্র, কোন মন্ত্রে ফতুর জো বাইডেন ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    পুতিনের নয়া মগজাস্ত্রে বাইডেন কাত? ইরান-সৌদি-আমিরাতেই লুকিয়ে সোনার চাবিকাঠি! অহংকারেই তছনছ বাইডেনের প্ল্যান? কাস্পিয়ান সাগরের অতলে লুকিয়ে পুতিনের ব্রহ্মাস্ত্র। মধ্যপ্রাচ্যে একটা সফর, অথর্ব করে দিল গোটা পৃথিবীকে? কোন অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মোক্ষম ঘুঁটি? পুতিনের একটা ক্লিকেই ১৮০ ডিগ্রী অ্যাঙ্গেলে ঘুরে গেল মধ্যপ্রাচ্য। সব হারিয়ে ফতুর? ২৩ কে ভুলবেননা জো বাইডেন।বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্র একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে? সম্প্রতি মস্কো সফরের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে পুতিনের দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার বৈঠক এর রেজাল্ট কতটা মারাত্মক হতে পারে ঘুণাক্ষরেও টের পেয়েছিল কি যুক্তরাষ্ট্র?

    না, ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকে বসার ঘটনা নতুন কিছু নয়। ইরান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট তেহরান এবং মস্কোতে প্রায়ই সফর করেন। তবে এই ক্রুশিয়াল সময়ে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের আধিপত্য যখন ফিকে হয়ে আসছে, সেই সময়ে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকের তাৎপর্য অনেক বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শুধু এই বৈঠক তো নয়। পুতিনের সৌদি আমিরাত সফরটাও কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না। তাহলে কি পশ্চিমা বিশ্বকে দূরে ঠেলে দেওয়ার প্ল্যানটা অলরেডি সেরে ফেলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন? যুক্তরাষ্ট্রকে আড়ালে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে কোন ডিল করেছে মস্কো? মধ্যপ্রাচ্যের ফিকে হয়ে আসছে পশ্চিমা আধিপত্য?

    বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বলছেন, ইরানই কেবল একমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশ নয়, যেটা মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী দুই মিত্র। এই দেশ দুটোর সঙ্গেও রাশিয়ার ভালো সম্পর্ক। অনেক দেশই ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের নিন্দা জানালেও, তা থেকে দূরে থেকেছে এই দেশ দুটো কিন্তু বাইডেন কোন পথে হাঁটছেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের পরিবর্তে শুধুমাত্র মার্কিন হীনম্মন্যতা এবং অহংকারের প্রতীক হিসেবে কাজ করেছেন জো বাইডেন সঙ্গে পুতিনের একের পর এক চাল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছেন বলেই মত বিশ্লেষকদের। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও নড়বড়ে হতে পারে। চান্স আছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের মতো মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত বিষয়ে সফল সহযোগিতার মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান-রাশিয়া যেভাবে সম্পর্ক মজবুত করেছে, ঠিক একই কায়দায় গাজা ইস্যুতেও রাশিয়া ও ইরান এক হয়ে গেলে? বিশেষ করে গাজায় ইসরাইলের ব্যাক টু ব্যাক হামলা বন্ধে তেহরান ও মস্কো আরও অ্যাক্টিভ হলে কি হবে যুক্তরাষ্ট্রের?

    শুধু যুদ্ধ নয়, ফোকাস যদি হয় বাণিজ্য? গত কয়েক বছরে ইরান এবং রাশিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তাই ইরান সামরিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা সম্প্রসারিত করতে চাইছে। এরমধ্যে, রাশিয়া ও ইরানের আসন্ন দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর একটি ইম্পরট্যান্ট বিষয় হবে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি ইরান থেকে রাশিয়ায় যেসব পণ্য রফতানি করার কথা এবং ইরান রাশিয়া থেকে যে পণ্য আমদানি করতে পারে সে বিষয়েও আলোচনা চলছে।তাছাড়া, দুই দেশের মধ্যেই কাস্পিয়ান সাগর রয়েছে। তাই এই কাস্পিয়ান সাগর ব্যবহার করে বাণিজ্য সহজ করা এখন দুই দেশের মেইন টার্গেট।পণ্য পরিবহনের জন্য সড়কপথের পাশাপাশি রেলপথের ব্যবহার বাড়ানো দরকার বলেও মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

    এছাড়া আরও অনেক রাজনৈতিক বিষয় রয়েছে, যা উভয় পক্ষের স্বার্থের জন্য সহায়ক। পশ্চিমাদের আগ্রাসন ঠেকাতেও ইরান ও রাশিয়ার মতো সমমনা দেশগুলো রাইসি ও পুতিনের নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ হতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের যা পরিস্থিতি তাতে যে সমস্ত সমীকরণ গুলো তৈরি হচ্ছে সবকিছুই আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে যাচ্ছে। এই প্রত্যেকটা সম্ভাব্য ঘটনার একটার পর একটা যদি বাস্তবায়িত হতে থাকে তাহলে সেটা বাইডেনের জন্য যথেষ্ট চাপের হবে।

     

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Trump disqualified from Election: নজিরবিহীন রায়! ‘অযোগ্য’ ট্রাম্প লড়তে পারবেন না নির্বাচনে, চাঁদ পেল বাইডেন

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Trump disqualified from Election: ২০২৪ এর নির্বাচনে লড়তে পারবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। রীতিমত নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে গেল আমেরিকার মাটিতে। জো বাইডেনের রাস্তা আরও পরিষ্কার। কেন হঠাৎ করে ট্রাম্পকে নির্বাচন থেকে বাদ দেয়া হল? কোন অপরাধে এত বড় শাস্তি?

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। কলোরাডোর সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার মার্কিন সংবিধানের বিদ্রোহ ধারার অধীনে ট্রাম্পকে রাষ্ট্রপতির জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেছে এবং রাষ্ট্রপতির প্রাথমিক ব্যালট থেকে সরিয়ে দিয়েছে। আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথম, ১৪তম সংশোধনীর ধারা ৩ ব্যবহার করে রাষ্ট্রপতি প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হল। এই ধারা বিদ্রোহ বা বিদ্রোহের সাথে জড়িত অফিসারদের পদে অধিষ্ঠিত হতে বাধা দেয়। আদালত সিদ্ধান্তে লিখেছে, ট্রাম্প ১৪ তম সংশোধনীর ধারা ৩ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদে থাকার অযোগ্য।

    ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ইউএস ক্যাপিটলে বিক্ষোভ ও হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কলোরাডো সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে। যেখানে আদালত দেখেছে যে, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমর্থকদের উসকানিতে ভূমিকা রেখেছেন। তাই পরের বছর রাজ্যের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে অযোগ্য ঘোষণা করা হয় তাকে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলেছেন, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মুহূর্তে অনেক মামলার মুখোমুখি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনেক রাজ্যে মামলা রয়েছে। যেখানে তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি করা হয়েছে। ছয়জন আবেদনকারীর আবেদনের ভিত্তিতে কলোরাডোর সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

    ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ব্যালট থেকে আটকানোর জন্য ছয়জন সেপ্টেম্বরে একটি মামলা করেছিলেন। পিটিশনে দাবি করা হয়, যে কোনও ব্যক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করতে পারবেন না, যিনি পূর্বে ফেডারেল অফিসের শপথ নিয়েছেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বা বিদ্রোহে জড়িত রয়েছেন। এই আবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর তার সমর্থকদের উসকানি দেওয়ার এবং ইউএস ক্যাপিটলে হামলার জন্য উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

    প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফলের পরে ক্যাপিটল হিলে সহিংসতার একাধিক অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে সহিংসতার তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। শ্রেণীবদ্ধ নথির ভুল ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক নথিতে মিথ্যা বলার অভিযোগেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। সোজা কথায়, ট্রাম্প এখন রয়েছেন বেশ জটিল পরিস্থিতিতে।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • Israel-Hamas war: পৃথিবী থেকে ছিটকে গেল ইসরাইল! গাজার বুকে জিওনকাঠি ? ১৫৩ বড় রহস্য

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Israel-Hamas war: পৃথিবী থেকে ছিটকে গেল ইহুদী ভূমি! গাজার বুকে অক্সিজেনের পাহাড়, কোন আকর্ষণে গোটা বিশ্ব জমে পাথর হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের মাটির নীচে? ১৫৩ সংখ্যাতেই বড় রহস্য, ১০ এ থাকলো কারা? নেতানিয়াহুর ভুল চালে ভারতের এই দামী সম্পদ হারালো ইসরাইল থেকে। বিপদ কাটাবে কে? জাতিসংঘের হাতে গাজা রক্ষার মূলমন্ত্র। মাটি কামড়ে বাঁচবে গাজা। প্রাণভোমরা কাদের হাতে? ফাঁড়া কাটছে না ইসরাইল এর বাইডেন ও ছুঁড়লেন শেষ অস্ত্র? বললেন, প্যালেস্টাইনের গাজায় ‘নির্বিচার’বোমা হামলা চালানোর কারণে ইসরাইল আন্তর্জাতিক সমর্থন হারাতে শুরু করেছে। নেতানিয়াহু ফল ও পেলেন হাতেনাতে। গাজা বাঁচবে নিজের কায়দায়।

    বিশ্ব দাঁড়ালো গাজার পাশে। দু মাসের যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গিয়েছে ইতিমধ্যেই। নিত্যদিন হতাহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতি বেড়েই চলেছে। সেই আবহে এবার গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে দাবি আরও জোরাল হল। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিল ভারত, বাংলাদেশ। গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে মৌরিতানিয়া আর মিশর একটা প্রস্তাব তুলেছিল। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় যে প্রস্তাবটি পাশ হয়ে যায়। ভারত, বাংলাদেশ সহ ১৫৩টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে।তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইরান, ফ্রান্স, জাপান, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব। পাশাপাশি সমস্ত পণবন্দি মানুষজনের নিঃশর্ত মুক্তির প্রস্তাবেও সমর্থন জমা পড়েছে। যেসব দেশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র, চেক প্রজাতন্ত্র, অস্ট্রিয়া, গুয়াতেমালা, লাইবেরিয়া, মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, পাপুয়া নিউগিনি আর প্যারাগুয়ে।

    ২৩টি দেশ ভোট দেয়নি। আর্জেন্টিনা, বুলগেরিয়া, কেপ ভার্দে, ক্যামেরুন, ইকুয়েটরিয়াল গিনি, জর্জিয়া, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, লিথুয়ানিয়া, মালাবি, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, নেদারল্যান্ডস, পালাউ, পানামা, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, দক্ষিণ সুদান, টোগো, টোঙ্গা, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, উরুগুয়ে। যদিও এই দেশগুলোর ভোটদান থেকে বিরত থাকা বিশেষ কোনো এফেক্ট ফেলেনি। কারণ গোটা বিশ্ব চায় বেঁচে থাকুক গাজা। বেঁচে থাকুক গাজার নিরীহ মানুষ। তাই গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটা যে পাশ হবে, তা আগেই ধারণা করা হচ্ছিল। তবে, এটাও ঠিক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাশ হওয়া প্রস্তাব মানা বাধ্যতামূলক নয়। তবু এর রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে গোটা বিশ্বের মনোভাব বোঝা যায়। কিন্তু, এরপর কোন পথে হাঁটবেন নেতানিয়াহু? বাইডেনের কথা মেনেই বদলাবেন স্ট্যান্ড পয়েন্ট? প্যালেস্টাইন নিয়ে অবিলম্বে অবস্থান পাল্টানো উচিত নেতানিয়াহুর, বলেছেন বাইডেন। তাহলে কি যুক্তরাষ্ট্র ও সরছে ইসরাইল থেকে?

    গত ৭ অক্টোবর গাজা থেকে হামাস ইজরায়েলের উপর হামলা চালানোর পর থেকে এখনও পর্যন্ত নেতানিয়াহু কে সমর্থন করে এসেছেন বাইডেন। মাঝে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বিরতির পক্ষে ঝুঁকলেও, এই প্রথম তাদের মধ্যে দূরত্ব চোখে পড়ছে। যখন কিনা সরাসরি ইজরায়েলের সমালোচনা করলেন বাইডেন গোড়ার দিকে অধিকাংশ দেশই ইজরায়েলের সমর্থনে এগিয়ে এসেছিল। কিন্তু যেভাবে নির্বিচারে গাজায় বোমাবর্ষণ করে চলেছে ইজরায়েল, তাতে সমর্থন হারাচ্ছে তারা। ঠিক এই কারণেই কি পরিস্থিতি বুঝে ইসরাইল থেকে নিজেদের দূরত্ব বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? তেমন হলে নেতানিয়াহুর বিপদ রোখে কে? কিভাবে নিশ্চিহ্ন হবে গাজার বুক থেকে হামাস? কিভাবে নিজেদের টার্গেট ফুল ফিল করবে আইডিএফ? অনেক দূর এগিয়ে গেছে ইসরাইল। এখান থেকে পেছানোর আর কোনো রাস্তা বাকি আছে কি?

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • US Election 2024: যুক্তরাষ্ট্রে ওলটপালট, নড়বড়ে বাইডেনের গদি! খেলা ঘুরিয়ে দেবে ট্রাম্প

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    US Election 2024: যুক্তরাষ্ট্রে আর কয়েক মাস পরেই নির্বাচন। মসনদে জো বাইডেন টিকে থাকবেন নাকি আবার স্বমহিমায় ফিরে আসবেন ট্রাম্প? প্রশ্নটা একটু বিতর্কিত। কারণ সমীক্ষা কিন্তু ভালো কথা বলছে না। কিছু সমীক্ষার পাল্লা ভারী ট্রাম্পের দিকে, কিছু সমীক্ষার পাল্লা বাইডেনের দিকে। বিতর্কিত সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখনো তার সমর্থকদের মধ্যে অটুট রয়েছে। রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে যেভাবে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে তাতে মনে হচ্ছে তিনি আবারও প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী হতে পারেন। আগামী বছরের মার্কিন নির্বাচনের আগে এক সমীক্ষায় ৬১ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পকে তাদের পছন্দের বলে মনে করেন।

    রয়টার্স/ইপসোস জনমত জরিপ অনুসারে, ট্রাম্প ২০২৪ সালে রিপাবলিকান রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের দৌড়ে তার শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছেন। বিবেক রামাস্বামী এবং নিকি হ্যালির মতো ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের প্রার্থীতাও ট্রাম্পের চেয়ে অনেক দুর্বল বলে মনে করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীও তার থেকে অনেক পিছিয়ে। রিপাবলিকান পার্টির ভোটারদের মধ্যে পরিচালিত একটি সমীক্ষায়, ৬১ শতাংশ ভোটার বলেছেন যে তারা জো বাইডেনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভোট দেবেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এবং প্রাক্তন দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর নিকি হ্যালি, মাত্র ১১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিল্পপতি বিবেক রামাস্বামী এই দৌড়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৫ শতাংশ ভোট।

    আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্তমানে অনেক ধরনের ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। কিন্তু অভিবাসন নীতি এবং বিতর্কিত বক্তব্য সত্ত্বেও, প্রজাতন্ত্রের ভোটারদের মধ্যে অটুট রয়েছে তার জনপ্রিয়তা। রিপাবলিকান ভোটারদের এক চতুর্থাংশেরও কম বলেছেন যে তারা বিশ্বাস করেন ট্রাম্প নির্বাচনী জালিয়াতি করেছেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইউএস ক্যাপিটলে আক্রমণ করার জন্য তার সমর্থকদের উস্কে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এ মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।

    তাই বলাই যায়, ২০২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুবই আকর্ষণীয় হতে চলেছে। প্রাক-নির্বাচন জরিপও তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সিএনএন-এর জরিপে জানা গেছে, মিশিগান ও জর্জিয়া-তে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওপরে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উভয় রাজ্যের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ বর্তমান রাষ্ট্রপতির কর্ম ও নীতি সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।

    নতুন জরিপ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য এই দুজনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে, জর্জিয়ার নিবন্ধিত ভোটারদের ৪৪ শতাংশ বাইডেনকে পছন্দ করবেন এবং ৪৯ শতাংশ ট্রাম্পকে পছন্দ করবেন। বাইডেন কিন্তু ২০২০ সালে খুব অল্প ব্যবধানে জর্জিয়ার নেতৃত্ব নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। মিশিগানের কথা বললে, বাইডেন এবং ট্রাম্পের মধ্যে পার্থক্য এখানে অনেক বেশি। যদিও মিশিগানে বাইডেন ব্যাপক ব্যবধানে জিতেছিলেন। তবে এবার বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। জরিপ অনুযায়ী, বাইডেন ৪০% সমর্থন পেলেও ট্রাম্প ৫০% সমর্থন পেয়েছেন। ১০% বলেছেন যে তারা কোনও প্রার্থীকে সমর্থন করবেন না। ২০২০ সালে যারা ভোট দেয়নি তারা ট্রাম্পকে বেছে নিয়েছেন।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • United States China: যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল বলয়ে জড়াচ্ছে চীন! গুয়ামই হাইভোল্টেজ যুদ্ধের মৌচাক, ২৪ এই যুদ্ধ ?

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    United States China: ইন্দো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মিসাইল বলয় বানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন ঘেঁষা দেশগুলোর মাটিতে কোন সিস্টেম পুঁতে দিচ্ছেন বাইডেন? ডিরেক্ট বেইজিং এর বুকে অ্যাটাকের প্ল্যান? গুয়াম’ই হাইভোল্টেজ যুদ্ধের মৌচাক। জাপান ফিলিপাইন জবুথবু। আমেরিকান নৌবাহিনী, সাগরের নীচে অস্ত্রে শান দিচ্ছে। চীনের মাটির নীচের খবর পেয়ে যাচ্ছে বাইডেনের দেশ। ২৪ এই ঘটবে বড় কিছু? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ছায়ায় জড়াচ্ছে চীন যুক্তরাষ্ট্র?সাগরের নীচে রকেট সিস্টেম বসিয়ে দিল আমেরিকা?এবার পালানোর পথ পাবেনা ড্রাগনের দেশ। ২৪ এর ধাক্কায় ভেঙে যাবে না তো সেই জিং পিং এর দেশ চীন?যুক্তরাষ্ট্রের ফুল প্রুফ প্ল্যান সাকসেসফুল হলে এবার কি যুদ্ধ অনিবার্য?

    চীনের একদম ভেতরের খবর চলে আসছে হোয়াইট হাউসের হাতে। চালের পাল্টা চাল দিতে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জলপথ গুলোতে চীনকে শায়েস্তা করার ছক বাইডেনের। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থল-ভিত্তিক মিডিয়াম রেঞ্জের মিসাইল মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যে অঞ্চলকে চোখে হারায় চীন, সেখানেই বিপদের নকশা আঁকছে ওয়াশিংটন। চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে স্নায়ুযুদ্ধের পর ওই অঞ্চলে প্রথমবারের মতো মিসাইল সিস্টেম বসাতে যাচ্ছে পেন্টাগন। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্যান্য প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬, টমাহক ক্রুজ মিসাইলের স্থল-ভিত্তিক ভার্সন মোতায়েন করা হবে। রেঞ্জ ৫০০ থেকে ২৭০০ কিলোমিটারের মধ্যে কিন্তু কেন এতো তড়িঘড়ি চীনকে নজরে বাঁধছে মার্কিন সেনা? একটু বুঝিয়ে বলি, স্নায়ুযুদ্ধের সময় ১৯৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল। নাম ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ট্রিটি বা আইএনএফ ট্রিটি।

    ২০১৯ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়, যে চুক্তিতে ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার রেঞ্জের স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র নিজেদের কাছে রাখা বা তৈরি নিষিদ্ধ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র যখন আইএনএফ ট্রিটির কারণে মিডিয়াম রেঞ্জের মিসাইল তৈরি থেকে শতহস্ত দূরে, তখন চীন এসব মিসাইল তৈরি ও উন্নত করার অবাধ সুযোগ পেয়ে গেছে। বেইজিং এখন ১ হাজার থেকে ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার রেঞ্জের আনুমানিক ১৫০০টি মিসাইল দিয়ে তার অস্ত্রাগার সাজিয়েছে। সেই খবর আছে পেন্টাগনের হাতে। তাই চুপ করে বসে থাকবে না যুক্তরাষ্ট্র এটাই স্বাভাবিক। অতএব, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের মিসাইল সক্ষমতা মোকাবিলা করতেই ওই অঞ্চলে মিসাইল সিস্টেম মোতায়েনের পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালেই ওই সিস্টেম মোতায়েন করবেন পেন্টাগন। কোথায়, কখন মার্কিন মিসাইল সিস্টেম মোতায়েন করা হতে পারে তা বিস্তারিত জানা যায়নি।

    যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে এক্ষেত্রে গুয়াম বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ছোট দ্বীপ গুয়াম। উত্তর কোরিয়া থেকে ৩৪০০ কিলোমিটার দূরে গুয়াম দ্বীপ অবস্থিত। এই দ্বীপটি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মূল ঘাঁটি। মার্কিন সেনা প্রাথমিকভাবে মার্কিন ভূখণ্ড গুয়ামেই মিডিয়াম রেঞ্জের মিসাইল মোতায়েন করবে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী এশীয় মিত্র দেশগুলোতে ওই সিস্টেম নামাবে বলে মনে করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বা চীনের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে এমন ক্ষমতার মিসাইল মোতায়েন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র তাই ভবিষ্যতে জাপানের ওকিনওয়া দ্বীপ থেকে তাইওয়ান ও ফিলিপাইন পর্যন্ত বিস্তৃত দ্বীপশৃঙ্খলে প্রচুর সংখ্যক মিসাইল মোতায়েন করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে, জাপান আর ফিলিপাইন আপাতত সেফ। আপাতত, জাপান এবং ফিলিপাইন নতুন করে মার্কিন অস্ত্র মোতায়েনে রাজি নয়। কারণ নতুন করে মার্কিন অস্ত্র মোতায়েন করা হলে চীনা লাল ফৌজের টার্গেটে পরিণত হওয়ার ভয় আছে এসব দেশের। এমনকি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনের ঘাঁটিগুলোকে চীনের বিরুদ্ধে স্ট্রাইক অপারেশনের জন্যেও ব্যবহার করবে না। প্ল্যান নেই। চীনা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কি কি নামাচ্ছে সেটাও জানা দরকার।

    ভ্রাম্যমান এবং আধুনিক মিসাইল ইউনিটগুলোর উপরেই ভরসা রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। জাহাজ বা বিমানের চেয়ে এগুলো সুবিধাজনক। এসব মিসাইল ইউনিট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং শত্রুদের আক্রমণ এড়াতে পারে। এসব মিসাইল ইউনিটের জন্য কোনো রানওয়ে বা বন্দরেরও প্রয়োজন হয় না। জোর কদমে প্রস্তুতি চলছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, মার্কিন সেনাবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে থেকে মনোযোগ সরিয়ে এবার চীন রাশিয়ার দিকে মনোনিবেশ করছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র শত্রুদেশের জাহাজগুলোর দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেক দূর এগিয়ে গেছে দেশটা। কনফিডেন্সিয়াল খবর, এশিয়ার সেনা ইউনিটগুলোতে প্রিসিসন স্ট্রাইক মিসাইল মোতায়েন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে এই মিসাইল সিস্টেম তৈরির কাজ চলছে। সঙ্গে থাকছে উচ্চ-গতিসম্পন্ন আর্টিলারি রকেট সিস্টেম এবং একাধিক লঞ্চ রকেট সিস্টেম। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র লং রেঞ্জের হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরির ফাইনাল স্টেপে পৌছে গেছি বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই সব কিছু চীনের জন্য কোন ভালো সিগন্যাল দিচ্ছে না। সেক্ষেত্রে ২০২৪ এ চীন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে কোন বিপর্যয় নেমে আসবে পৃথিবীর বুকে?

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

  • ড্রাগন ফোর্সের শরীরে কোন খতরনাক সিস্টেম ? বাইডেনের হাতে সুপারপ্ল্যান, তীক্ষ্ণ নজরেই চীন গায়েব

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    ড্রাগন সেনাদের শরীর খোকলা করে দিচ্ছে এই খতরনাক সিস্টেম। চীনের মাটিতে কিভাবে এই রোগ পুষেছেন শি জিং পিং? এতো এতো হীরে দিয়ে তাইওয়ান দ্বীপ কিনে নেবে চীন? উইকপয়েন্ট জানলেই গুপ্তধন পাবে বাইডেনের দেশ, রহস্যের দেশে এতো বড় ভুল লুকিয়ে রেখেছেন জিং পিং? জিং পিং এর সামর্থ্য শূন্য? বাইডেনের হাতে চীন গায়েবের সুপারপ্ল্যান? শত্রুদেশ এর একটা নজরেই ঘুরবে খেলা। তাইওয়ানের সামনে মূর্তিমান আতঙ্ক চীন। কিন্তু চীনের বুকে এত বড় উইক পয়েন্ট গোটা বিশ্বের নজর এড়িয়ে গেল? বাইডেনের একটা নজরে উল্টে যেতে পারে হিসেব। ধসে যেতে পারে, ড্রাগনের দেশ। কী সেই দুর্বলতা? চীনের অন্যতম দুর্বলতা সামরিক ত্রুটি। চীন কয়েক দশক ধরে তাদের সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ করেছে এটা ঠিক, দেশটির ২০ লক্ষ সেনা রয়েছে। এর বার্ষিক সামরিক বাজেট ২২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির ১ হাজার নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড থাকবে। এতোকিছুর পরেও চীনের সেনাদের সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।

    এই সমস্যাকে চীনা প্রেসিডেন্ট ‘শান্তি রোগ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন না এখানেই শেষ নয়। চীন প্রযুক্তিতে উন্নতি সাধন করলেও এর সামরিক সরঞ্জামের অনেক কিছুই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমেরিকার সেমিকন্ডাক্টর ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত উপাদানের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা চীনকে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও চরম সীমায় পৌঁছাতে দিচ্ছেনা। এদিকে দুর্নীতির কথাও শোনা যাচ্ছে চীন সরকারের প্রশাসনে। কয়েকদিন আগেই এই অভিযোগে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শ্যাংফুকে বরখাস্ত করা হয়। আর চীনা ইকোনমির আসল রূপটা গোটা বিশ্বের জানতে বাকি নেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক দুর্বলতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক দিয়েও চীন পিছিয়ে পড়ছে। বিদেশি বিনিয়োগ ও বেসরকারি বিনিয়োগের প্রতি চীন সরকার আগ্রহ না দেখানোয় এই সংকট আরও বাড়ছে। সঙ্গে বেকারত্ব, অতি বয়স্ক সমাজে পরিণত হওয়া মানে বুড়িয়ে যাওয়া। এসব সমস্যা রয়েছেই যাকে বলে একেবারে গোড়ায় গলদ। শি জিং পিং এর পরিকল্পনায় একের পর এক ভুল। সব মিলিয়ে চীন মোটেই ভাল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চীনের দিকে নজর দিলেও উইক পয়েন্ট নিয়ে আদৌ ভাবছে কি?

    ভুল হচ্ছে, প্রতিপক্ষ মোকাবিলায় চীনের সংকটের এখানেই শেষ নয়। মনে রাখতে হবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক তথা একনায়ক শাসনব্যবস্থা চীনের জন্য খারাপ—এবং বিশ্বের জন্যও বিপজ্জনক। সঠিক পরামর্শের অভাবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি ভুল করতে পারেন, যেমন ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে করেছেন। ইউক্রেনের মতো করে চীন যদি শেষ পর্যন্ত তাইওয়ানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাতে শি নিজের ক্ষমতাও হারাতে পারেন। তাই তিনি ওই কাজ সহজে করতে চাইবেন না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা কিন্তু চীনের গোয়েন্দারা বলছে, একদম ভেতরের খবর ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ানে হামলা চালাবে চীন। তার জন্য ফোর্সকে তৈরি হতে বলেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ ছাড়া দক্ষিণ চীন সাগরে প্রতিবেশী দেশ ও ভারতের সঙ্গে বিরোধের কারণে সেদিকেও নজর রাখতে হচ্ছে। চীনের আফ্রিকায় ঘাঁটি রয়েছে। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যেও ঘাঁটি করার চেষ্টা করছে। সবদিক থেকে চীন আরো বেশি পাওয়ারফুল হতে চাইছে। কিন্তু, কখনো চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গেলে বেইজিং এর দুর্বলতা গুলো জানা থাকলে বাই ট্রেনের সুবিধা অনেক।

    তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে আমেরিকার উচিত চীনের শক্তি ও দুর্বলতাকে আরও ভালোভাবে নজর দেওয়া। তবে, ইস্যু যদি তাইওয়ান হয় সেক্ষেত্রে তাইওয়ান স্বাধীনতার জন্য আমেরিকার উচিত চীনের সাথে নিউক্লিয়ার উইপনের কম্পিটিশন এড়িয়ে চলা। এ ক্ষেত্রে শক্তির দাপট দেখানোর বদলে চীনকে মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে আন্দাজ থাকা দরকার ওয়াশিংটনের। এটা ছাড়া, প্রেসিডেন্ট শি জিং পিংয়ের দুর্বলতা আমেরিকা সহ পশ্চিমাদের সুযোগ করে দিচ্ছে সঠিক পথে চীনকে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হতে। চিনতে টেক্কা দেওয়ার অনেক সুযোগ পশ্চিমা বিশ্বের হাতে।আগামী বছর চীন আমেরিকার সম্পর্কের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, জানুয়ারিতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হতে পারে চীন সমর্থিত প্রার্থী। তখন চীন যুক্তরাষ্ট্র ফেস টু ফেস হলে কি ঘটতে পারে? পশ্চিমা শক্তিকে মোকাবিলায় চীনের সামর্থ্য কতটুকু সেটা গোটা বিশ্বের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেদিকেই নজর গোটা বিশ্বের।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Exit mobile version