Taslima Nasreen Kolkata Visit: প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় ফিরে আবেগঘন সময় কাটানোর পর ফের শহর ছাড়লেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কলকাতা ছাড়ার আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর সবচেয়ে বড় কষ্ট এখনও একই জায়গায় রয়ে গেছে—নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশে তিনি এখনও ফিরতে পারছেন না।
তসলিমা নাসরিন বলেন, কলকাতায় আসতে পারা তাঁর কাছে নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। দীর্ঘ ১৯ বছর পর এই শহরে ফিরে তিনি যেন নিজের পরিচিত পরিবেশ, ভাষা এবং সংস্কৃতির কাছাকাছি আসতে পেরেছেন। তবে এই আনন্দের মধ্যেও রয়ে গেছে গভীর আক্ষেপ। কারণ, তিনি এখনও নিজের দেশ বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার অধিকার পাননি।
তাঁর কথায়, নির্বাসনের জীবন তাঁকে আজও নিজের মাতৃভূমি থেকে দূরে রেখেছে। তিনি মনে করেন, একজন লেখকের নিজের দেশে স্বাধীনভাবে বসবাস করার অধিকার থাকা উচিত। কিন্তু নানা বিতর্ক, মৌলবাদী গোষ্ঠীর হুমকি এবং অতীতের ঘটনাবলির কারণে সেই সুযোগ এখনও তাঁর কাছে অধরাই থেকে গেছে।
কলকাতার সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক
তসলিমা নাসরিন বহুবার বলেছেন, ঢাকা যদি তাঁর প্রথম বাড়ি হয়, তবে কলকাতা তাঁর দ্বিতীয় বাড়ি। একই ভাষা, একই সংস্কৃতি এবং বাঙালিয়ানার টান তাঁকে বারবার এই শহরের কাছে টেনে এনেছে। কলকাতায় ফিরে তিনি জানান, এত বছর পরও শহরটির প্রতি তাঁর ভালোবাসা একটুও কমেনি।
তাঁর কথায়, কলকাতায় ফিরে তিনি যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন, তা তাঁকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। বহু মানুষ তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা তাঁর দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
কেন বাংলাদেশে ফিরতে পারছেন না?
১৯৯৪ সালে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে লেখা এবং মতপ্রকাশকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের পর বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। তারপর থেকে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে থেকেছেন এবং বর্তমানে ভারতেই বসবাস করছেন। কিন্তু জন্মভূমি বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ এখনও পাননি।
তাঁর দাবি, নির্বাসনের জীবন কোনও মানুষের স্বাভাবিক জীবন হতে পারে না। নিজের দেশ, পরিবার, শিকড় এবং ভাষার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা একজন মানুষের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা।
কলকাতা ছাড়লেও রয়ে গেল প্রত্যাবর্তনের আশা
কলকাতা সফর শেষ হলেও শহরটির প্রতি নিজের টান অটুট থাকবে বলে জানিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে আবার কলকাতায় আসবেন। একই সঙ্গে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা, একদিন যেন তিনি নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে নিজের দেশ বাংলাদেশেও ফিরতে পারেন।
তসলিমা নাসরিনের এই মন্তব্য আবারও দক্ষিণ এশিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, লেখকদের নিরাপত্তা এবং নির্বাসিত জীবনের বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
