Taslima Nasreen Joy Goswami Controversy: তসলিমা নাসরিন বলেন, তিনি নিজেই জয় গোস্বামীকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাই জয় গোস্বামীকে নিয়ে যে প্রতিবাদ হয়েছে, সেটিকে তিনি শুধু কবির অপমান হিসেবে দেখছেন না, নিজের প্রতিও অসম্মান বলে মনে করছেন।
তিনি জানান, দর্শকদের একাংশের প্রবল আপত্তির কারণে জয় গোস্বামীকে শেষ পর্যন্ত মঞ্চে উঠতে দেওয়া যায়নি। উপস্থিত আয়োজক এবং অন্যরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও উত্তেজনা থামেনি।
তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক মানুষেরই কোনো বক্তার কথা শোনার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই না শোনার অধিকারও রয়েছে। কিন্তু কাউকে কথা বলতে না দেওয়া বা বাধা সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক আচরণ নয়।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে জয় গোস্বামীর নাম ঘোষিত ছিল না। ফলে কেউ আপত্তি জানালে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তবে সেই প্রতিবাদের ধরনকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন এবং আয়োজকদের কাছেও নিজের অসন্তোষের কথা জানান।
তসলিমা বলেন, তাঁর মূল বক্তব্য ছিল বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের পক্ষে। কিন্তু যাঁরা সেই বক্তব্যকে সমর্থন করছিলেন, তাঁদেরই একাংশ আবার জয় গোস্বামীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, এই অবস্থান পরস্পরবিরোধী।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি কেউ সত্যিই মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন, তাহলে ভিন্ন মতের একজন কবি বা লেখকের বক্তব্য শোনার সুযোগও দিতে হবে। শুধু নিজের পছন্দের মতকে সমর্থন করলেই বাক্স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো হয় না।
তসলিমা জানান, এই ঘটনায় তাঁর ব্যক্তিগতভাবে খুব খারাপ লেগেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে কলকাতায় এ ধরনের পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না এবং সাংস্কৃতিক পরিসরে সবাই ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ একে অপরের থেকে আলাদা হতে পারে। কিন্তু সেই কারণে কারও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা থাকা জরুরি।
নিজের কলকাতায় ফিরে আসার প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, অতীতে এক সরকার তাঁকে শহর ছাড়তে বাধ্য করেছিল। পরে আরেক সরকারের আমলেও তিনি কলকাতায় ফিরতে পারেননি। বর্তমান সরকার তাঁকে ফের আসার সুযোগ দিয়েছে—এটিকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, তিনি কলকাতায় এসে কথা বলতে পেরেছেন, এতে তিনি আনন্দিত। তবে শুধু নিজের জন্য এই স্বাধীনতা চান না; তাঁর বিশ্বাস, যাঁদের মতামত আলাদা, তাঁরাও যেন একইভাবে নির্ভয়ে কথা বলার সুযোগ পান।
বক্তৃতার শেষদিকে তিনি নারীর অধিকার প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ভারতে হিন্দু নারীদের উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির অধিকারের জন্য আইনগত সংস্কার হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশেও সব ধর্মের নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে এবং সেই লক্ষ্যেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছেন।
#TaslimaNasreen #JoyGoswami #FreedomOfExpression #WomensRights #EqualRights #Kolkata #BengaliLiterature #IndiaNews #FreeSpeech
