Tag: Amit Shah

  • ‘ভোট চুরি, আইন চুরি, প্রতিষ্ঠান চুরি’: জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে ফের সরব রাহুল গান্ধী

    ‘ভোট চুরি, আইন চুরি, প্রতিষ্ঠান চুরি’: জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে ফের সরব রাহুল গান্ধী

    Rahul Gandhi Election Commission allegations: ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। রাহুল গান্ধী বলেন, “ভোট চুরি” থেকেই শুরু হয় “আইন চুরি”। কারণ যদি ভোট চুরি হয়ে যায়, তবে আইনি কাঠামো নষ্ট হয়। আর আইন চুরি হলে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলি চুরি হয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, চুরি হওয়া ভোটের ওপর ভিত্তি করে কোনো সংসদ সদস্য যদি সংসদে বসে থাকেন, তবে তাঁদের তৈরি করা যেকোনো আইন সম্পূর্ণ বেআইনি।

    তিনি অভিযোগ করেন যে দেশের প্রতিটি নির্বাচনকে প্রভাবিত ও কারচুপি করা হচ্ছে। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “আবকি বার, ৪০০ পার” স্লোগানের কথা উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী বলেন যে, সরকারবিরোধী হাওয়া থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের আত্মবিশ্বাস কীভাবে সম্ভব।

    রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রাহুল গান্ধী বলেন, যেকোনো সরকারের ক্ষেত্রেই জনগণের মধ্যে সরকারবিরোধী হাওয়া তৈরি হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বা ভারতীয় জনতা পার্টির ক্ষেত্রে কোনো এক অজানা কারণে তা দেখা যায় না। এই প্রসঙ্গে তিনি সাদ্দাম হোসেনের ইরাক বা কিম জং উনের উত্তর কোরিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, একমাত্র সেখানে কোনো সরকারবিরোধী আন্দোলন বা হাওয়া থাকে না।

    তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দুজন কমিশনার বুদ্ধিমানের মতো কাজ করেছেন। পাশাপাশি রাহুল গান্ধী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, যা-ই ঘটুক না কেন, এই অপরাধের প্রতিবাদ না করে তাঁরা ছেড়ে দেবেন না।

    #RahulGandhi #ElectionCommission #PMModi #AmitShah #Congress #IndianPolitics #VoteChori #SIRRow

  • প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে শুভেচ্ছার বন্যা, অমিত শাহ-রাজনাথদের বার্তায় কী উঠে এল?

    Narendra Modi Birthday: প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দেওয়া শুভেচ্ছা ও বার্তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে অমিত শাহ, রাজনাথ সিং-সহ একাধিক মন্ত্রীর বক্তব্যও সামনে এসেছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জীবন কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও দূরদর্শিতার প্রতীক। কর্মকে সাধনা এবং দেশসেবাকে জীবনের লক্ষ্য করে মোদীর জীবন ত্যাগ, তপস্যা ও অটল সংকল্পের এক অনন্য কাহিনি। তাঁর সেবাময় ও নিষ্ঠাপূর্ণ যাত্রা কোটি দেশবাসীর কাছে অনুপ্রেরণা। ঈশ্বরের কাছে তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি এবং তাঁর নেতৃত্বে ২০৪৭ সালের উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে দেশ যেন আরও এগিয়ে যায়।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত উন্নত ভারতের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। তাঁর নেতৃত্বে সুশাসন ও জনসেবাকে দেশের উন্নয়নযাত্রার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। পরিকাঠামো, ডিজিটাল সংযোগ, জনকল্যাণ, উদ্ভাবন ও উদ্যোগের ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশসেবায় তাঁর অব্যাহত শক্তি কামনা করেছেন রাজনাথ সিং।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর জন্য তাঁরা প্রার্থনা করেন, কারণ তিনি দেশকে উন্নত ভারতের লক্ষ্যের দিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেছেন, কঠিন সময়ের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশকে উন্নত ভারতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় হওয়া প্রতিটি টাকার ক্ষেত্রে জনকল্যাণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন তিনি।

    বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন বলেছেন, নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছরের জনসেবার যাত্রা অনন্য। জনসেবাই দেশসেবা—এই নীতিই তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব দেশকে নতুন দিশা ও শক্তি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে তিনি দেশবাসীকে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে নিজেদের বাড়িতে আশীর্বাদের প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    #NarendraModiBirthday #PMModiBirthday #NarendraModi #RajnathSingh #AmitShah #NirmalaSitharaman #KirenRijiju #NitinNabin #BirthdayWishes #IndiaNews

  • দার্জিলিং পাহাড়ে এবার কি মিটবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জট? অমিত শাহের বড় ঘোষণা

    Permanent Political Solution: করে উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। উত্তরবঙ্গ সফরের শেষ দিনে শিলিগুড়ির সুকনায় পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে উঠে এসেছে পাহাড়বাসীর স্বতন্ত্র পরিচয়, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, প্রশাসনিক অধিকার এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    অমিত শাহের বৈঠকের মূল বিষয় ছিল দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, পাহাড়বাসীর স্বতন্ত্র পরিচয়, সাংবিধানিক মর্যাদা এবং রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নগুলি বৈঠকে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাঁদের নিজস্ব দাবিও তুলে ধরেছেন।

    বৈঠকে কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই সমস্যার সমাধান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই খোঁজা হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে যে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে, তার ভিত্তি হবে দেশের সাংবিধানিক কাঠামো। এই অবস্থানটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাহাড়ের রাজনৈতিক দাবির সঙ্গে বহু বছর ধরেই পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো এবং আলাদা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে।
    বৈঠকের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হল বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন পঙ্কজ কুমার সিং, যিনি আগে কেন্দ্রীয় সরকারের পাহাড় বিষয়ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি সাবেক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা আধিকারিকও। কমিটির মূল দায়িত্ব হবে সম্ভাব্য চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমঝোতার কাঠামো তৈরি করা এবং তার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা।
    সুকনায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পাহাড়ের একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং, গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের সভাপতি মন ঘিসিং, পাহাড় বিষয়ক রাজ্য মন্ত্রী বিশাল লামা এবং একাধিক বিধায়ক ও আঞ্চলিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।

    বৈঠকের পর দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে প্রতিনিধিরা গঠনমূলকভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পক্ষ থেকেও বৈঠককে ইতিবাচক এবং সন্তোষজনক বলে বর্ণনা করা হয়েছে। পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতপার্থক্য থাকলেও এবার আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে এগোনোর বার্তা এসেছে।

    দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি একটি দীর্ঘস্থায়ী বিষয়। বহু বছর ধরে এই দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছয়নি। আগে দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিল এবং পরে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতো প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হলেও পাহাড়ের রাজনৈতিক দাবি পুরোপুরি মেটেনি। এই প্রেক্ষাপটেই বর্তমান উদ্যোগকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, কী পরিকল্পনা জানালেন অমিত শাহ

    Chicken’s Neck Security: পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা নিয়ে বড় দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের এই গুরুত্বপূর্ণ করিডরকে নিরাপদ রাখতে তৈরি করা হয়েছে একটি ত্রিকোণীয় সুরক্ষা গ্রিড। চোপড়া, কিশানগঞ্জ এবং ধূপড়িকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে শিলিগুড়ি করিডরজুড়ে নিরাপত্তা উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    শাহের বক্তব্যে উঠে এসেছে সীমান্ত নিরাপত্তা, কাঁটাতার নির্মাণের জন্য জমি, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং শিলিগুড়ি করিডরের পরিকাঠামো শক্তিশালী করার মতো একাধিক বিষয়। পাশাপাশি জমি হস্তান্তর নিয়ে রাজ্য সরকারের পূর্ববর্তী ভূমিকা নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্যের এই অংশগুলি রাজনৈতিক অভিযোগ ও দাবি হিসেবেই সামনে এসেছে।

    শিলিগুড়ি করিডর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, শিলিগুড়ি করিডর এমন একটি সংবেদনশীল এলাকা, যার সঙ্গে ভারতের আটটি রাজ্যের যোগাযোগের বিষয় জড়িত। একইসঙ্গে নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশের সীমান্ত এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

    এই সরু ভূখণ্ডের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ তৈরি হয়। ফলে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার প্রভাব শুধু একটি জেলা বা একটি রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।

    এই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা একটি কৌশলগত বিষয়। শাহের বক্তব্যে সেই গুরুত্বই বারবার উঠে এসেছে।

    কী এই ত্রিকোণীয় সুরক্ষা গ্রিড?

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা জোরদার করতে চোপড়া, কিশানগঞ্জ এবং ধূপড়ি—এই তিনটি ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই তিনটি জায়গা থেকে পুরো করিডরের উপর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিরাপত্তা কেন্দ্রীভূত না রেখে করিডরের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা উপস্থিতি তৈরি করাই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য বলে শাহের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে।

    তবে এই ‘ত্রিকোণীয় সুরক্ষা গ্রিড’-এর নির্দিষ্ট বাহিনী কাঠামো, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা বা অপারেশনাল পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই এই ব্যবস্থার কার্যকরী কাঠামো নিয়ে অতিরিক্ত কোনও দাবি না করে, শাহ যে তিনটি ঘাঁটির কথা বলেছেন, সেটুকুই নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

    ৫৬০ একর জমি নিয়ে কী বললেন শাহ?

    শিলিগুড়ি করিডরকে আরও শক্তিশালী করার প্রসঙ্গে অমিত শাহ জমির বিষয়টিও সামনে আনেন। তাঁর দাবি, ভারতের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির জন্য ৫৬০ একর জমি প্রয়োজন ছিল।

    এই জমি নিয়ে পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন তিনি। শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া যায়নি বলেই সীমান্ত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু কাজ আটকে ছিল।

    এই প্রসঙ্গে তিনি বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রশংসা করেন। তাঁর দাবি, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১১২৯ একর জমি দেওয়া হয়েছে। আরও ২৯ একর জমি বাকি ছিল এবং সেটিও দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গিয়েছে বলে তিনি জানান।

    এখানে উল্লেখযোগ্য, জমি সংক্রান্ত এই পরিসংখ্যান এবং পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি অমিত শাহের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হচ্ছে; সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের পাল্টা বক্তব্য এই তথ্যের মধ্যে নেই।

    সীমান্তে কাঁটাতার নিয়েও বড় দাবি

    সীমান্ত নিরাপত্তার প্রসঙ্গে অমিত শাহ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন—সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ। তাঁর বক্তব্য, অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে কাঁটাতার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সেই কাজ দীর্ঘদিন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

    শাহের বক্তব্যে এই জমির সমস্যাকে সীমান্ত নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। তাঁর মতে, নিরাপত্তা বাহিনী থাকলেই নিরাপত্তা সম্পূর্ণ হয় না; প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    এই প্রসঙ্গেই তিনি রাজ্য সরকারের জমি দেওয়ার বিষয়টিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

    শুধু বাহিনী নয়, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের উপরও জোর

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন—শুধু সেনা বা নিরাপত্তা সংস্থার উপস্থিতি দিয়ে কোনও এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও প্রয়োজন।

    অর্থাৎ সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত রয়েছে।

    এই কারণেই সীমান্ত এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিরাপত্তার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা থাকলে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব—এমন ধারণাই এই বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে।

    দিল্লি-শিলিগুড়ি রেল করিডর নিয়েও পরিকল্পনার কথা

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অমিত শাহ ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে দিল্লি-শিলিগুড়ি রেল করিডর তৈরির পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছেন।

    এই ধরনের যোগাযোগ পরিকাঠামো তৈরি হলে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হতে পারে। একইসঙ্গে কৌশলগত দিক থেকেও দ্রুত যোগাযোগের পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

    তবে এই রেল করিডরের প্রকল্পের বিস্তারিত রুট, সময়সীমা বা নির্মাণের নির্দিষ্ট পর্যায় সম্পর্কে এখানে অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে এটিকে কেন্দ্রীয় বাজেট-সংক্রান্ত ঘোষণার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    অমিত শাহের বক্তব্যে শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে—ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড, সীমান্ত পরিকাঠামোর জন্য জমি এবং কাঁটাতার নির্মাণ। এর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও নিরাপত্তা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন তিনি।

    ‘চিকেনস নেক’ ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রের নজর নতুন নয়। তবে এবারের সফরে ত্রিকোণীয় সুরক্ষা গ্রিডের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরে অমিত শাহ যে বার্তা দিয়েছেন, তা হল—শিলিগুড়ি করিডরকে নিরাপত্তার দিক থেকে আরও শক্তিশালী করার উপর কেন্দ্র বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

    #chickensnecksecurity #siliguricorridor #amitshah #bordersecurity #westbengal #ssb #indiansecurity

  • ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে সোনিয়ার বিরুদ্ধে সরব অমিত শাহ-শুভেন্দু, ক্ষমা চাওয়ার দাবি

    Suvendu Adhikari Vande Mataram: স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গান পরিবেশনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধী তা থামানোর চেষ্টা করেছিলেন—এমন অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের অভিযোগ, এই ঘটনায় শুধু জাতীয় গানের প্রতি নয়, ‘বন্দে মাতরম’-এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিও অসম্মান দেখানো হয়েছে।

    তবে অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছে কংগ্রেস। দলের বক্তব্য, গান থামানোর কোনও চেষ্টা করা হয়নি। বরং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় তাঁর জন্য একটি চেয়ারের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছিল। ফলে স্বাধীনতা দিবসের আবহেই শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন রাজনৈতিক চাপানউতোরে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

    ‘বন্দে মাতরম’ ঘিরে কী ঘটেছিল?

    দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধী গানটি মাঝপথে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেয়।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজস্থানের চিতোরগড়ে একটি জনসভায় বিষয়টি নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও উঠে আসে।

    “হাজার হাজার মানুষ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার জন্য গুলি ও লাঠির আঘাত সহ্য করেছেন, জেলে গিয়েছেন।”

    অমিত শাহ আরও বলেন, ঘটনাটি মানুষ টেলিভিশনে দেখেছেন। তাঁর দাবি, যদি সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে অনুশোচনা থাকে, তাহলে তাঁর উচিত বঙ্কিমচন্দ্রের অমর আত্মা এবং দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া।

    শুভেন্দুর নিশানায় সোনিয়া, কী বললেন তিনি?

    এই বিতর্কে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। রাজ্য সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আপত্তি তোলার অভিযোগ করেন।

    শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে এই ধরনের আপত্তি জাতীয়তাবোধ, দেশাত্মবোধ এবং গানটির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি অসম্মানের সামিল।

    “এটি জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর স্রষ্টা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি অপমান।”

    শুভেন্দু অধিকারী আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেস একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে সন্তুষ্ট করার জন্য তোষণের রাজনীতি করছে। তাঁর দাবি, ঘটনাটি কোনওভাবেই আড়াল করা সম্ভব নয় এবং গোটা দেশ বিষয়টি দেখেছে। এই ঘটনায় কংগ্রেসের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেন তিনি।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন নিয়ে সংসদে আইনও রয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, গান থামানোর চেষ্টা হয়নি

    বিজেপির অভিযোগের পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাল্টা বক্তব্য সামনে এসেছে। দলের দাবি, ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ পরিবেশন বন্ধ করার কোনও চেষ্টা করা হয়নি।

    কংগ্রেসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সেই সময় মল্লিকার্জুন খাড়গে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁকে বসার জন্য একটি চেয়ার দেওয়ার বিষয়েই সোনিয়া গান্ধী কথা বলছিলেন। অর্থাৎ ঘটনাটিকে গান থামানোর চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয় বলেই কংগ্রেসের বক্তব্য।

    ফলে একই ঘটনার ব্যাখ্যা নিয়ে বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান তৈরি হয়েছে। বিজেপি যেখানে এটিকে জাতীয় আবেগ এবং ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখছে, কংগ্রেস সেখানে ঘটনাটির রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি তুলেছে।

    বঙ্কিমচন্দ্রের উত্তরসূরিরও ক্ষমার দাবি

    বিতর্কে এবার মুখ খুলেছেন বিজেপির বিধায়ক এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বংশধর সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনিও সোনিয়া গান্ধীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন।

    তাঁর অভিযোগ, অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ অংশ গাওয়া নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল এবং তা থামানোর জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলার পাশাপাশি ইতিহাসের একটি পুরনো ভুলের পুনরাবৃত্তি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

    এই বক্তব্যের ফলে বিতর্কটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। কারণ ‘বন্দে মাতরম’-এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উত্তরসূরির পক্ষ থেকেও সরাসরি ক্ষমার দাবি ওঠায় রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে ঐতিহাসিক আবেগও যুক্ত হয়েছে।

    সোনিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ

    এদিকে কর্ণাটকের বিজেপি নেতা বিকাশ পুত্তুর সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনে বাধা দেওয়ার ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা এবং দেশের জাতীয় প্রতীকের প্রতি অপমানের শামিল।

    অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত না হলে উচ্চ আদালতে ব্যক্তিগত অভিযোগ দায়ের করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    ফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে একটি গান পরিবেশনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন রাজনৈতিক বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য এবং আইনি অভিযোগের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    #SuvenduAdhikari #VandeMataram #VandeMataramRow #SoniaGandhi #AmitShah #BJP #Congress #IndianPolitics #PoliticalControversy

  • একই ফ্রেমে মোদী, শাহ ও রাহুল! বিয়ের আসরে বিরল রাজনৈতিক মুহূর্ত

    PM Modi Amit Shah Rahul Gandhi: রাজনীতির মঞ্চে যাঁদের একে অপরের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায়, সেই নেতারাই যখন একই অনুষ্ঠানে পাশাপাশি উপস্থিত হন, তখন স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়ে সেই মুহূর্ত। দিল্লিতে এমনই এক বিরল রাজনৈতিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল একটি বিয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। একই অনুষ্ঠানে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক প্রথম সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে।

    অনুষ্ঠানটি ছিল রাষ্ট্রবাদী কংগ্রেস পার্টির সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের মেয়ে রেবতী সুলের বিয়ের দিল্লির রিসেপশন অনুষ্ঠান। মুম্বইয়ে জুন মাসে রেবতীর সঙ্গে নাগপুরের শিল্পপতি সারং লাখানির বিয়ে হয়েছিল। সেই বিয়েরই জাঁকজমকপূর্ণ দিল্লির রিসেপশন অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় ৬, জনপথে।

    একই অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা

    সংসদে যে নেতাদের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত, তাঁদেরই একই অনুষ্ঠানে সৌজন্যের আবহে দেখা যায়। অমিত শাহ অনুষ্ঠানে এসে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর রাহুল গান্ধী, তাঁর মা সোনিয়া গান্ধী এবং বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে মঞ্চে আসেন। সুপ্রিয়া সুলে তাঁদের নবদম্পতির পাশে দাঁড় করিয়ে দেন। ফলে একসঙ্গে দেখা যায় গান্ধী পরিবারের সদস্যদের।

    এর কিছু পরেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি শরদ পওয়ার ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং পরে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান। রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সৌজন্যের এই ছবি ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

    অমিত শাহের সঙ্গে একই ফ্রেমে রাহুল গান্ধী

    এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত দৃশ্য ছিল অমিত শাহ ও রাহুল গান্ধীর একই পরিসরে উপস্থিতি। সংসদে একাধিক বিষয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেওয়া দুই নেতাকে অনুষ্ঠানের মঞ্চের কাছাকাছি দেখা যায়। অমিত শাহ যখন মঞ্চে ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন, তখন কয়েক ফুট দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাহুল গান্ধী।

    এটি মূলত একটি পারিবারিক বিয়ের সংবর্ধনা, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন।

    মোদী-রাহুল-সোনিয়া, এক অনুষ্ঠানে একাধিক পরিচিত মুখ

    শুধু বিজেপি ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারাই নন, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। অখিলেশ যাদবের সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর সৌজন্য বিনিময়ের দৃশ্যও নজরে আসে। পাশাপাশি প্রফুল পটেল, এস জয়শঙ্কর, দীপেন্দ্র হুডা, হরদীপ সিং পুরী, চিরাগ পাসোয়ান, গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত, রেণুকা চৌধুরী, প্রবেশ বর্মা, গিরিরাজ সিংহ এবং রামদাস আঠাওয়ালের মতো নেতারাও অনুষ্ঠানে ছিলেন।

    এমনকি ক্রীড়াজগতের পরিচিত মুখ পি টি ঊষা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ফলে এটি কার্যত একটি উচ্চপ্রোফাইল রাজনৈতিক ও সামাজিক সমাবেশে পরিণত হয়।

    বিয়ের অনুষ্ঠানেই মিলল ভিন্ন রাজনৈতিক ছবির দেখা

    ভারতের রাজনীতিতে নির্বাচনী লড়াই, সংসদীয় বিতর্ক এবং রাজনৈতিক আক্রমণ প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা। সেই আবহে কোনও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শিবিরের নেতাদের পাশাপাশি দেখা গেলে তা স্বাভাবিকভাবেই আলাদা মাত্রা পায়।

    এই অনুষ্ঠানের ছবিও সেই কারণেই বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। একদিকে ছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, অন্যদিকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রবাদী কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা শরদ পওয়ার এবং তাঁর কন্যা সুপ্রিয়া সুলে। ফলে রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে সৌজন্য ও পারস্পরিক শুভেচ্ছার অন্য ছবি সামনে এল।

  • বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ? ১২ আগস্ট সংসদে কী ঘোষণা হতে পারে?

    FCRA Amendment Bill 2026: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী ১২ আগস্ট লোকসভায় বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা বা তা পেশ হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিল নিয়ে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে পারেন বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

    এই সম্ভাবনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্য, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলির মধ্যে উদ্বেগ ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মিজোরাম সরকার জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিলের বর্তমান খসড়ায় এমন কিছু ধারা রয়েছে, যা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

    কী এই বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন?

    এই আইন মূলত বিদেশ থেকে কোনও ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ বা অনুদান গ্রহণ এবং তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। সরকারের দাবি, এর উদ্দেশ্য দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষা, পাশাপাশি বিদেশি অর্থের অপব্যবহার রোধ করা।

    কী কী পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে?

    প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলির উপর আরও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া—

    কোনও সংস্থার বিদেশি অনুদান গ্রহণের অনুমতি বাতিল, সমর্পণ বা মেয়াদ শেষ হলে তাদের অর্থ ও সম্পদের দেখভালের জন্য কেন্দ্র মনোনীত কর্তৃপক্ষ নিয়োগ করতে পারবে।
    বিদেশি অনুদানের ব্যবহার এবং সম্পদের ব্যবস্থাপনায় সরকারের তদারকি আরও বাড়তে পারে।
    নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও কঠোর করার প্রস্তাবও রয়েছে।
    কেন আপত্তি মিজোরামের?

    মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার প্রস্তাবিত সংশোধনীর কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্যের প্রধান গির্জা সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে।

    সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাজ্য সরকার এবং গির্জা সংগঠনগুলি যৌথভাবে কেন্দ্রের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেবে। সেখানে সংশোধনী বিলে পরিবর্তনের সুপারিশ করা হবে। বর্তমান খসড়া অপরিবর্তিত থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও তাদের মত।

    সংসদে কী হতে পারে?

    সংসদের চলতি অধিবেশনে এই বিল নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। সংসদের অচলাবস্থার মধ্যেও ১২ আগস্ট বিলটি লোকসভায় আলোচনার জন্য আসতে পারে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিল?

    এই সংশোধনী কার্যকর হলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অলাভজনক সংগঠনের কাজের ধরনে বড় প্রভাব পড়তে পারে। সরকারের মতে, এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন বিধিনিষেধের ফলে কিছু সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

    এখন নজর ১২ আগস্টের লোকসভা অধিবেশনের দিকে। সেদিন বিলটি উপস্থাপিত বা আলোচিত হলে এর চূড়ান্ত রূপ এবং ভবিষ্যৎ প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা মিলবে।

    #FCRAAmendmentBill2026 #AmitShah #LokSabha #FCRA #ForeignFunding #Parliament #IndiaPolitics #Mizoram #HomeMinistry

  • তরুণদের স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ বুঝতে হবে, বললেন অজিত দোভাল

    Ajit Doval Freedom Statement: স্বাধীনতা মানেই যা ইচ্ছে তাই করার অধিকার নয়—এমনই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। শনিবার পুনেতে এক অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘লোকমান্য তিলক জাতীয় পুরস্কার’ প্রদান করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দোভাল বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। তাই তরুণদের উচিত লোকমান্য তিলকের আদর্শ, সংগ্রাম এবং জাতি গঠনের ভাবনা গভীরভাবে উপলব্ধি করা।

    দোভাল বলেন, আজকের তরুণ প্রজন্ম যে স্বাধীন পরিবেশে বড় হয়েছে, তা লোকমান্য তিলকের সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই সময়ের কঠিন পরিস্থিতি, সীমাবদ্ধতা এবং সংগ্রাম আজকের প্রজন্মের পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন।

    তিনি বলেন, “লোকমান্য তিলকের জীবন ও চরিত্রকে সত্যিকারের বুঝতে হলে সেই সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের তাঁর ভাবনা ও দেশ গঠনের আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।”

    স্বাধীনতার অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “অনেক তরুণ মনে করতে পারেন, ভারত সবসময় এমনই ছিল। আবার কেউ কেউ স্বাধীনতাকে যা খুশি তাই করার অধিকার বলে মনে করতে পারেন। কিন্তু স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ তা নয়।”

    দোভালের বক্তব্যে উঠে আসে দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের বিষয়টিও। তাঁর মতে, স্বাধীনতা শুধু ব্যক্তিগত অধিকার নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দেশের প্রতি দায়িত্ব, শৃঙ্খলা এবং সমাজের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি অজিত দোভালের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রশংসা করে বলেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির নেপথ্যে দোভালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বহু সিদ্ধান্তে তিনি একজন দক্ষ ও বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন অমিত শাহ।

    এদিকে, পুনেতে এই অনুষ্ঠানের দিনই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অমিত শাহের সফরকে ঘিরে বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঠেকাতে একাধিক নেতা-কর্মীকে আগে থেকেই নোটিস দেওয়া হয় এবং অনেককে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়। দলটির পরিকল্পনা ছিল কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানো।

    তবে সেই রাজনৈতিক আবহের মধ্যেও অনুষ্ঠানে অজিত দোভালের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল স্বাধীনতার সঠিক অর্থ উপলব্ধি করা এবং তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল জাতি গঠনের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান। তাঁর মতে, স্বাধীনতা কেবল অধিকার ভোগের বিষয় নয়, বরং তা দেশের প্রতি কর্তব্য ও মূল্যবোধ রক্ষারও অঙ্গীকার।

    #AjitDoval #FreedomStatement #LokmanyaTilakAward #AmitShah #NationalSecurity #IndiaNews #Youth #NationBuilding #Pune #BreakingNews

  • শাহের সফরে দিশাবদল

    Amit Shah Kolkata Visit: নিজস্ব প্রতিবেদন: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের দু’মাসের মাথায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতা সফর নতুন সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার স্পষ্ট করে দিল। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন দ্রুত কার্যকর করা, বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধ, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পথে অগ্রসর হওয়া এবং অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা—ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীর মঞ্চ থেকে এই বিষয়গুলিকেই সামনে আনলেন শাহ।

    নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে ভারতে আসা প্রকৃত শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ করা হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে সরানোর জন্য কেন্দ্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।”

    পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা এবং মতুয়া-অধ্যুষিত অঞ্চলের রাজনীতিতে এই বক্তব্যের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। নাগরিকত্ব আইন কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয়। সরকার গঠনের পরে কলকাতার মঞ্চ থেকে সেই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পূর্ণ করার ঘোষণা প্রশাসনিক তৎপরতারও ইঙ্গিত দিয়েছে।

    শাহের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। তাঁর কথায়, “অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অপরাধ দমনে কঠোর আইন—শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার কাজ শুরু হয়েছে।”

    সফরের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে রাজ্যের সরকারি পরিসরে প্রতিষ্ঠা করা। ৬ জুলাই নিউ টাউনের ইকো পার্কে তাঁর ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অমিত শাহ। দেশের মধ্যে শ্যামাপ্রসাদের সর্বোচ্চ মূর্তি হিসেবে এটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    পরে কলকাতার স্মরণানুষ্ঠানে যোগ দেন শাহ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ একাধিক নেতা।

    শ্যামাপ্রসাদের জীবন ও রাজনৈতিক অবদান রাজ্যের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ৬ জুলাইকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় ভাষায় শিক্ষার প্রসারে শ্যামাপ্রসাদের ভাবনা বাস্তবায়নের উপরও জোর দেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, “স্থানীয় ভাষার প্রতি শ্যামাপ্রসাদের যে আগ্রহ ছিল, তা পূরণ করার সময় এসেছে। শুভেন্দুজির নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ সেই লক্ষ্য অর্জন করবে।”

    অমিত শাহের এই সফর তাই শুধুমাত্র একটি জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকেনি। নাগরিকত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষা থেকে শিক্ষা, ইতিহাসচর্চা এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি—পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের নীতি কোন দিকে এগোবে, তার একটি প্রাথমিক রূপরেখা কলকাতা থেকেই তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
    #AmitShah #KolkataVisit #BJP #WestBengalPolitics #CAA #UniformCivilCode #IllegalImmigration #SyamaPrasadMukherjee #PoliticalNews #BengalNews

  • Anupam Hazra: শাহ-নাড্ডা ফিরতেই পদ খোয়ালেন অনুপম, ফেসবুকে বোমা ফাটিয়ে লিখলেন “সব আগের মত “..

    ।। প্রথম কলকাতা ।।

    Anupam Hazra: দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না অনুপম হাজরার। বিভিন্ন ইস্যুতে বেসুরো গাইছিলেন তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সত বিজেপি কর্মীদের কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে বলে বারে বারে অভিযোগ করে এসেছেন অনুপম হাজরা। সম্প্রতি লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ কর্মসূচির অনুষ্ঠানেও দুর্নীতি হয়েছে বলে সরব হতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। আর এই সব বিতর্কের আবহেই বিজেপির কেন্দ্রীয় পদ থেকে তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল। বিজেপির মহাসচিব অরুণ সিং এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানান, সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডার নির্দেশেই সরানো হয়েছে অনুপম হাজরাকে।

    দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পদক্ষেপ করলেও চুপ করে বসে থাকার পাত্র যে তিনি নন তা ফের একবার স্পষ্ট করলেন তিনি। পদ খোয়ানোর পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় বোমা ফাটালেন তিনি। অনুপম লিখেছেন, ‘‘দল বলেছে, কিছু শর্ত মেনে চললে আবার সব আগের মতো।’’ অনুপমের দাবি, শর্তসাপেক্ষে তাঁকে বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদকের পদ ফিরিয়ে দিতে চেয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

    দীর্ঘদিন ধরেই ‘চোরমুক্ত বিজেপি চাই’ বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাম্পেন চালাচ্ছেন অনুপম হাজরা। লক্ষ কন্ঠে গীতাপাঠ কর্মসূচীতে অনুপমের মন্তব্যকে ভালোচোখে দেখেনি দল। সেই কারণেই গতকাল শাহ-নাড্ডার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই রীতিমতো ‘বেসুরো’ হয়ে উঠেছিলেন অনুপম। স্রেফ রাজ্য নেতৃত্বের সমালোচনা নয়, বোলপুর তৃণমূলের ধরনা মঞ্চের সামনেও চলে গিয়েছিলেন। বেশ কয়েকদিন ধরেই দলকে অস্বস্তিতে ফেলার মতো মন্তব্য করে চলছিলেন অনুপম। সব কিছু একসঙ্গে জড়ো করে যেন অপেক্ষা করছিল বিজেপির শীর্ষ নেতারা। সুযোগ বুঝে কোপ মারা হল শাহের বৈঠকের পরই।

     

    খবরে থাকুন, ফলো করুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায়

    সব খবর সবার আগে, আমরা খবরে প্রথম

Exit mobile version