Suvendu Adhikari Vande Mataram: স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গান পরিবেশনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধী তা থামানোর চেষ্টা করেছিলেন—এমন অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের অভিযোগ, এই ঘটনায় শুধু জাতীয় গানের প্রতি নয়, ‘বন্দে মাতরম’-এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিও অসম্মান দেখানো হয়েছে।
তবে অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছে কংগ্রেস। দলের বক্তব্য, গান থামানোর কোনও চেষ্টা করা হয়নি। বরং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় তাঁর জন্য একটি চেয়ারের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছিল। ফলে স্বাধীনতা দিবসের আবহেই শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন রাজনৈতিক চাপানউতোরে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
‘বন্দে মাতরম’ ঘিরে কী ঘটেছিল?
দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধী গানটি মাঝপথে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজস্থানের চিতোরগড়ে একটি জনসভায় বিষয়টি নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও উঠে আসে।
“হাজার হাজার মানুষ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার জন্য গুলি ও লাঠির আঘাত সহ্য করেছেন, জেলে গিয়েছেন।”
অমিত শাহ আরও বলেন, ঘটনাটি মানুষ টেলিভিশনে দেখেছেন। তাঁর দাবি, যদি সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে অনুশোচনা থাকে, তাহলে তাঁর উচিত বঙ্কিমচন্দ্রের অমর আত্মা এবং দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া।
শুভেন্দুর নিশানায় সোনিয়া, কী বললেন তিনি?
এই বিতর্কে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। রাজ্য সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আপত্তি তোলার অভিযোগ করেন।
শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে এই ধরনের আপত্তি জাতীয়তাবোধ, দেশাত্মবোধ এবং গানটির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি অসম্মানের সামিল।
“এটি জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর স্রষ্টা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি অপমান।”
শুভেন্দু অধিকারী আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেস একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে সন্তুষ্ট করার জন্য তোষণের রাজনীতি করছে। তাঁর দাবি, ঘটনাটি কোনওভাবেই আড়াল করা সম্ভব নয় এবং গোটা দেশ বিষয়টি দেখেছে। এই ঘটনায় কংগ্রেসের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন নিয়ে সংসদে আইনও রয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, গান থামানোর চেষ্টা হয়নি
বিজেপির অভিযোগের পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাল্টা বক্তব্য সামনে এসেছে। দলের দাবি, ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ পরিবেশন বন্ধ করার কোনও চেষ্টা করা হয়নি।
কংগ্রেসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সেই সময় মল্লিকার্জুন খাড়গে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁকে বসার জন্য একটি চেয়ার দেওয়ার বিষয়েই সোনিয়া গান্ধী কথা বলছিলেন। অর্থাৎ ঘটনাটিকে গান থামানোর চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয় বলেই কংগ্রেসের বক্তব্য।
ফলে একই ঘটনার ব্যাখ্যা নিয়ে বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান তৈরি হয়েছে। বিজেপি যেখানে এটিকে জাতীয় আবেগ এবং ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখছে, কংগ্রেস সেখানে ঘটনাটির রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি তুলেছে।
বঙ্কিমচন্দ্রের উত্তরসূরিরও ক্ষমার দাবি
বিতর্কে এবার মুখ খুলেছেন বিজেপির বিধায়ক এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বংশধর সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনিও সোনিয়া গান্ধীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন।
তাঁর অভিযোগ, অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ অংশ গাওয়া নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল এবং তা থামানোর জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলার পাশাপাশি ইতিহাসের একটি পুরনো ভুলের পুনরাবৃত্তি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
এই বক্তব্যের ফলে বিতর্কটি আরও বিস্তৃত হয়েছে। কারণ ‘বন্দে মাতরম’-এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উত্তরসূরির পক্ষ থেকেও সরাসরি ক্ষমার দাবি ওঠায় রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে ঐতিহাসিক আবেগও যুক্ত হয়েছে।
সোনিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ
এদিকে কর্ণাটকের বিজেপি নেতা বিকাশ পুত্তুর সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনে বাধা দেওয়ার ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা এবং দেশের জাতীয় প্রতীকের প্রতি অপমানের শামিল।
অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত না হলে উচ্চ আদালতে ব্যক্তিগত অভিযোগ দায়ের করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে একটি গান পরিবেশনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন রাজনৈতিক বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য এবং আইনি অভিযোগের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
#SuvenduAdhikari #VandeMataram #VandeMataramRow #SoniaGandhi #AmitShah #BJP #Congress #IndianPolitics #PoliticalControversy
