দার্জিলিং পাহাড়ে এবার কি মিটবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জট? অমিত শাহের বড় ঘোষণা

Chicken's Neck Security through triangular security grid across the Siliguri Corridor. দার্জিলিং পাহাড়ে Permanent Political Solution-এর বড় বার্তা, অমিত শাহের বৈঠকের পর গঠিত বিশেষ কমিটি

Permanent Political Solution: করে উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। উত্তরবঙ্গ সফরের শেষ দিনে শিলিগুড়ির সুকনায় পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে উঠে এসেছে পাহাড়বাসীর স্বতন্ত্র পরিচয়, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, প্রশাসনিক অধিকার এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অমিত শাহের বৈঠকের মূল বিষয় ছিল দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, পাহাড়বাসীর স্বতন্ত্র পরিচয়, সাংবিধানিক মর্যাদা এবং রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নগুলি বৈঠকে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাঁদের নিজস্ব দাবিও তুলে ধরেছেন।

বৈঠকে কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই সমস্যার সমাধান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই খোঁজা হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে যে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে, তার ভিত্তি হবে দেশের সাংবিধানিক কাঠামো। এই অবস্থানটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাহাড়ের রাজনৈতিক দাবির সঙ্গে বহু বছর ধরেই পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো এবং আলাদা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে।
বৈঠকের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হল বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন পঙ্কজ কুমার সিং, যিনি আগে কেন্দ্রীয় সরকারের পাহাড় বিষয়ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি সাবেক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা আধিকারিকও। কমিটির মূল দায়িত্ব হবে সম্ভাব্য চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমঝোতার কাঠামো তৈরি করা এবং তার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা।
সুকনায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পাহাড়ের একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং, গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের সভাপতি মন ঘিসিং, পাহাড় বিষয়ক রাজ্য মন্ত্রী বিশাল লামা এবং একাধিক বিধায়ক ও আঞ্চলিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকের পর দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে প্রতিনিধিরা গঠনমূলকভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পক্ষ থেকেও বৈঠককে ইতিবাচক এবং সন্তোষজনক বলে বর্ণনা করা হয়েছে। পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতপার্থক্য থাকলেও এবার আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে এগোনোর বার্তা এসেছে।

দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি একটি দীর্ঘস্থায়ী বিষয়। বহু বছর ধরে এই দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছয়নি। আগে দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিল এবং পরে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতো প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হলেও পাহাড়ের রাজনৈতিক দাবি পুরোপুরি মেটেনি। এই প্রেক্ষাপটেই বর্তমান উদ্যোগকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Exit mobile version