Mamata Banerjee Netaji Remark: রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক অধিকার, জনগণনা প্রক্রিয়া এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে বিতর্ক— একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্র ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রশাসনিকভাবে বাধার মুখে ফেলা হচ্ছে এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, রাজনৈতিক সভা-মিছিল বা কর্মসূচি করার জন্য বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, একই ধরনের কর্মসূচির ক্ষেত্রে অন্যান্য রাজনৈতিক দল অনুমতি পেলেও তৃণমূল কংগ্রেসকে সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে সংবিধানে স্বীকৃত নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন ভোটার তালিকা ও জনগণনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, জনগণনার কাজ শুরু হলেও রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি। এতে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এই বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
সাংবাদিক বৈঠকের বড় অংশ জুড়েই উঠে আসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান নেতাকে অসম্মান করার যে কোনও প্রচেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর কথায়, নেতাজির অবদানকে অস্বীকার করা বা তাঁকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।
তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্বদের মর্যাদা রক্ষায় সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ দেশের বিশিষ্ট মনীষীদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা জাতির দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে চাপে রাখতে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক অধিকার, প্রশাসনিক ভূমিকা, ভোটার তালিকা, জনগণনা এবং নেতাজিকে ঘিরে বিতর্ক— এই পাঁচটি বিষয়কে সামনে রেখেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
