Journalists Attacked in Kolkata Protest: জাতীয় যোগ্যতা নির্ধারণ পরীক্ষা নিয়ে অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে কলকাতায় আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল এবং পরে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহক আক্রান্ত এবং হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ, ধর্মতলা এলাকায় সরাসরি সম্প্রচারের সময় একদল বিক্ষোভকারী কয়েকজন সাংবাদিককে ঘিরে ধরে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন কটূক্তি করা হয় বলেও অভিযোগ। কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, আক্রান্ত সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহকদের চিকিৎসার জন্য কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।
আক্রান্ত এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির অভিযোগ, প্রায় দশ মিনিট ধরে তাঁদের হেনস্থা করা হয়। তাঁর দাবি, ক্যামেরাম্যানকেও মারধর করা হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের কেন এভাবে নিশানা করা হল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাটি নিছক হেনস্থা নয়, বরং তাঁদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছিল।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, কোনও রাজনৈতিক আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কেন আক্রমণের মুখে পড়তে হবে? সাংবাদিকরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি খবর সম্প্রচার করছিলেন। সেই সময় তাঁদের ঘিরে ধরে হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন বিক্ষোভকারী সাংবাদিকদের ‘গোদী সংবাদমাধ্যম’ বলে কটূক্তি করেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে স্লোগানও দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় একাধিক সাংবাদিক আহত হন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই আহত সাংবাদিকদের দেখতে হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং গোটা ঘটনার নিন্দা করেন। সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন এবং তাঁদের ওপর এই ধরনের হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ঘটনার সময় পুলিশ যথেষ্ট সংযমের পরিচয় দিয়েছে। একইসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আহত সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, হামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় কলকাতা প্রেস ক্লাবের তরফেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই আন্দোলন কর্মসূচিতে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাই যেন হামলাকারীদের প্রধান নিশানা হয়ে উঠেছিলেন। এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
কলকাতা প্রেস ক্লাবের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়া গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। মতের অমিল থাকতেই পারে, কোনও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বা সম্প্রচারের সঙ্গে কারও মতপার্থক্যও থাকতে পারে। কিন্তু তার জেরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের একাংশ অবশ্য হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, তাঁদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং সাংবাদিকদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছেন, তাঁরা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ফলে হামলাকারীরা আদৌ বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ ছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। একদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের একাংশ দাবি করছেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে বদনাম করার জন্য হামলার ঘটনাকে আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান করার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, কোনও আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যদি আক্রান্ত হন, তাহলে তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? মতের অমিল বা কোনও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের প্রতি ক্ষোভ থাকলেও সাংবাদিকদের ওপর হামলা কি কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য? এই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে আয়োজিত এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, হামলাকারীরা তাঁদের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত নন। অন্যদিকে আক্রান্ত সাংবাদিকদের বক্তব্য, তাঁরা ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করার সময়ই হামলার শিকার হয়েছেন। ফলে প্রকৃতপক্ষে কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁদের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
#JournalistsAttacked #KolkataProtest #KolkataNews #JournalistAttack #MediaAttack #PressFreedom #JournalistSafety #ProtestNews #MediaFreedom #IndiaNews #NEETProtest
