লিখেছেন সুব্রত আচার্য ।।
India Bangladesh Relations: শেখ হাসিনাকে ঘিরে নয়াদিল্লির নীতি কি ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে নতুন বাধা তৈরি করছে? ভারতের নীতিনির্ধারক মহলে কি বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে মতের অমিল রয়েছে? আনন্দবাজার পত্রিকার ১৮ অগাস্টের প্রিন্ট সংস্করণে প্রকাশিত একটি কূটনৈতিক প্রতিবেদনে এই প্রশ্নগুলিই সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনের দাবি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের প্রাথমিক দিনক্ষণ প্রায় এক মাস আগেই ঠিক করা হয়েছিল। ২১ অগাস্ট তাঁর দিল্লি আসার সম্ভাবনা ধরে প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক সম্মেলনের রূপ নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। আনন্দবাজারের ভাষায়, হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলন “পুরো খেলাটাই ঘুরিয়ে দিয়েছে”।
প্রতিবেদনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ অবশ্য তারেকের সফর নয়। গুরুত্ব পেয়েছে ভারতের বাংলাদেশ-নীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে সমন্বয়ের প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিদেশ মন্ত্রক, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মধ্যে বাংলাদেশ নিয়ে বারবার মতের অমিল হচ্ছে কেন—সেই প্রশ্ন তুলেছে পত্রিকাটি।
আনন্দবাজার আরও মনে করিয়েছে, দিল্লির “নাকের ডগা দিয়ে” ঢাকার রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলেও ভারত সরকার তার আগাম আঁচ পায়নি। হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলনের সরকারি আয়োজক ভারত ছিল না—শুধু এই যুক্তিতে দিল্লি দায় এড়াতে পারবে কি না, তা নিয়েও কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে।
প্রথম কলকাতার আলোচিত টকশো ‘প্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গ’-এ ধারাবাহিকভাবে এই জায়গাটিই তুলে ধরা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের মাটিতে বসে তাঁকে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া—দুই বিষয়কে এক করে দেখা যায় না।
‘দায় এড়িয়েও প্রশ্নের মুখে ভারত; দিল্লিতে হাসিনার রাজনৈতিক বার্তা!’ শীর্ষক বিশ্লেষণে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, আয়োজক বেসরকারি সংস্থা হলেও এমন একটি সংবেদনশীল রাজনৈতিক ঘটনার কূটনৈতিক দায় দিল্লি সম্পূর্ণ এড়াতে পারে কি না।
‘হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যের দায় নিতে হবে দিল্লিকে; কঠোর অবস্থানে ঢাকা!’ পর্বে দেখানো হয়েছিল, হাসিনার রাজনৈতিক সক্রিয়তা ভারত–বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কীভাবে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।
আবার ‘দিল্লিকে সতর্ক করছে ভারতীয় গণমাধ্যমও—কেন সতর্ক করল, কোন ইস্যুতে করল?’ আলোচনায় সামনে আনা হয়েছিল আরও বড় প্রশ্ন—দিল্লি কি একজন নেত্রী ও একটি দলের সঙ্গে পুরনো সম্পর্ককেই বাংলাদেশের সামগ্রিক জনমত বলে ধরে নিচ্ছে?
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে সেই প্রশ্নেরই নতুন মাত্রা পাওয়া গেল। কূটনৈতিক সূত্রের ভিত্তিতে পত্রিকাটি জানিয়েছে, ভারত সরকারের একাংশ মনে করছে, বাংলাদেশের প্রশ্নে দিল্লির যে “আওয়ামী ভাষ্য” তৈরি হয়েছে, তা এবার কিছুটা লঘু করা প্রয়োজন।
ভারতের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। একদিকে শেখ হাসিনাকে দ্রুত প্রত্যর্পণের ঢাকার দাবি মেনে নেওয়া আইনি কারণে কঠিন। অন্যদিকে বিএনপি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চাইলে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তারেক রহমানের সফর শেষ পর্যন্ত হবে কি না, সেটি তাৎক্ষণিক প্রশ্ন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্ন আরও গভীর— ভারতের বাংলাদেশ-নীতি কি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করেই চলবে, না বাংলাদেশের সরকার, জনগণ এবং অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলির সঙ্গেও দিল্লি নতুন আস্থার সম্পর্ক তৈরি করবে? আনন্দবাজারের প্রতিবেদন বলছে, এই প্রশ্ন এখন শুধু ঢাকায় নয়, দিল্লির অন্দরেও উঠতে শুরু করেছে।
#IndiaBangladeshRelations #SheikhHasina #TariqueRahman #BangladeshPolitics #IndiaBangladesh #NewDelhi #DiplomaticRelations #SouthAsia
