লিখেছেন শীর্ষেন্দু চক্রবর্তী
First Kolkata Editor Threats: কথায় বলে, “ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।” আওয়ামি লিগের তথাকথিত ধান্দাবাজ, ফেরেববাজ, সুবিধাবাদী ও পলাতক নেতাদের একাংশের অবস্থাও যেন তেমনই। নিজের দেশে থাকতে তাঁরা যা করেছেন, বিদেশে আশ্রয় নিয়েও সেই স্বভাব বদলাতে পারেননি। এমনকি গত দেড়-দু’বছর ধরে যে দেশে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন, সেই দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই কুৎসা ছড়াচ্ছেন।
বিষয়টা একটু বিস্তারে আসি।
ফের আক্রান্ত ‘প্রথম কলকাতা’। নানাভাবে হুমকির মুখে পড়ছেন প্রথম কলকাতার সম্পাদক সুব্রত আচার্য। কখনও ফোনে। কখনও হোয়াটসঅ্যাপে। কখনও ফেসবুক কিংবা মেসেঞ্জারে। এমনকি সশরীরে অনুসরণ করার চেষ্টাও হয়েছে বলে অভিযোগ।
এগুলি কোনও অনুমান নয়। হুমকির বার্তা, ফোনের বিবরণ এবং সমাজমাধ্যমে ছড়ানো পোস্ট প্রথম কলকাতার কাছে রয়েছে। বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে সেই সমস্ত তথ্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের বারাসত, হাবরা, গোবরডাঙা এবং কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় থাকা আওয়ামি লিগের পরিচয় দেওয়া কয়েকজন এই প্রচারের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত কয়েকটি সমাজমাধ্যমের প্রোফাইলও একই কাজে নেমেছে।
প্রথম কলকাতা সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর একটি সংবাদমাধ্যম। এখানে ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ খবর যেমন বিস্তারিতভাবে সম্প্রচারিত হয়, তেমনই প্রতিবেশী বাংলাদেশের খবরও সমান গুরুত্ব পায়। আমরা গর্ববোধ করি, প্রথম কলকাতার দর্শকদের একটি বিরাট অংশ বাংলাদেশের মানুষ। তাঁরা এখানকার খবর দেখেন, বিশ্লেষণ শোনেন এবং স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত জানান।
কিন্তু এই জনপ্রিয়তা এক দিনে তৈরি হয়নি।
২০১৮ সালে প্রথম কলকাতার পথচলা শুরু। প্রথম থেকেই লক্ষ্য ছিল পরিষ্কার—ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা নয়, মানুষের প্রশ্ন ক্ষমতার কাছে পৌঁছে দেওয়া।
পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, নিয়োগে অনিয়ম এবং তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে প্রথম কলকাতা ধারাবাহিকভাবে খবর করেছে। আবার বিরোধী শিবির বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হিংসা কিংবা সাংগঠনিক দাপটের অভিযোগ উঠলেও তা এড়িয়ে যায়নি। তৃণমূল, বিজেপি, বাম কিংবা কংগ্রেস—কোনও দলকেই স্থায়ী বন্ধু অথবা স্থায়ী শত্রু হিসেবে দেখেনি প্রথম কলকাতা।
এই অবস্থান দ্রুত দর্শকদের নজর কাড়ে। জনপ্রিয়তার সঙ্গে চাপও আসে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে সুব্রত আচার্য এবং প্রথম কলকাতার বিরুদ্ধে পরপর মামলা হয়েছে। সুব্রতকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ভিডিয়ো সরিয়ে নেওয়ার জন্য ফোন এসেছে। স্থানীয় স্তরে ভয় দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে। তৎকালীন শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের রোষানলে পড়তে হয়েছে প্রথম কলকাতাকে। আইন-আদালতে দৌড়তে হয়েছে। তার পরেও প্রথম কলকাতা থামেনি। নিজের সম্পাদকীয় অবস্থান থেকেও সরে আসেনি।
২০২১ সালের পরে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভূকৌশলের জটিল বিষয় সহজ বাংলায় ব্যাখ্যা করার কাজ শুরু করে প্রথম কলকাতা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ধারাবাহিক প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ পশ্চিমবঙ্গের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বাঙালি দর্শকদের নজর কাড়ে। ক্রমে বাংলাদেশ, আমেরিকা, ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ার বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছেও পৌঁছে যায় এই সংবাদমাধ্যম।
প্রথম কলকাতা ব্র্যান্ডের নিজস্ব অনুসরণকারী এখন প্রায় ৫৫ লক্ষ। পরিচালিত সব ক’টি পেজ মিলিয়ে সেই সংখ্যা প্রায় ৮০ লক্ষ। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ২৫ জন সাংবাদিক, সংবাদকর্মী এবং সৃজনশীল পেশাজীবী। কোনও রাজনৈতিক দলের দয়ায় নয়, নিজেদের পরিশ্রম ও আয়ের উপর দাঁড়িয়েই তৈরি হয়েছে এই সংবাদ প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশের দর্শকদের বিপুল সাড়া পাওয়ার পরে প্রতিবেশী দেশটিকে নিয়ে আলাদা গুরুত্বে কাজ শুরু করে প্রথম কলকাতা। এখানেই একটি কথা পরিষ্কার করে বলা প্রয়োজন। প্রথম কলকাতা শুধু শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামি লিগের সমালোচনা করেনি।
শেখ হাসিনার সরকারের সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, পদ্মা সেতু, নতুন পরিকাঠামো, পোশাকশিল্প, নারীর অংশগ্রহণ এবং সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে বহু ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রথম কলকাতা। বাংলাদেশের ভাল খবর বিশ্বের বাঙালির কাছে পৌঁছে দিতে কখনও কার্পণ্য করা হয়নি।
কিন্তু একটি সরকারের ভাল কাজের প্রশংসা করার অর্থ সেই সরকারের সমস্ত সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা নয়।
নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা, বিরোধীদের রাজনৈতিক পরিসর, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাবের বিস্তার নিয়েও প্রথম কলকাতা প্রশ্ন তুলেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলি, দমননীতি এবং প্রাণহানির ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেছে।
এটাই সংবাদমাধ্যমের কাজ। ভালকে ভাল বলা। ভুলকে ভুল বলা।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও প্রথম কলকাতা সরাসরি কথা বলেছে। আওয়ামি লিগের সুবিধাবাদী রাজনীতি এবং ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা কিছু নেতার ভূমিকা বারবার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। নিজের দেশে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে কথাও বলা হয়েছিল।
একই সঙ্গে প্রথম কলকাতা বলেছিল, অবাধ নির্বাচনের সুযোগ পেলে বিএনপি বড় জয় পেতে পারে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে জামায়াতের সাফল্যের কারণও বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। কেন জামায়াতের সমর্থন বাড়ছে, তা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি বিএনপিকেও আত্মতুষ্ট না থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।
পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই বিশ্লেষণের সঙ্গে বাস্তবের যথেষ্ট মিল পাওয়া গিয়েছে। তার অর্থ এই নয় যে প্রথম কলকাতা বিএনপি কিংবা জামায়াতের সমর্থক। মানুষের রাজনৈতিক মনোভাব বোঝাই ছিল সেই বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য।
প্রথম কলকাতা কোনও নির্দিষ্ট দল অথবা নেতার হয়ে কথা বলে না। শেখ হাসিনা, মুহাম্মদ ইউনূস, তারেক রহমান, আওয়ামি লিগ, বিএনপি কিংবা জামায়াত—কেউ প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নন। একইভাবে দিল্লির বাংলাদেশনীতি নিয়েও প্রথম কলকাতা প্রশ্ন তুলেছে।
কারণ আমাদের কাছে কোনও রাজনৈতিক দলের স্বার্থ নয়, ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্কই প্রধান।
এই কাজ করতে গিয়ে কিছু অপ্রিয় কথা বলতেই হয়েছে। আগামী দিনেও বলতে হবে। আর সেই সত্যি কথাতেই আওয়ামি লিগের সুবিধাবাদী অংশের আঁতে ঘা লেগেছে।
সম্পাদক সুব্রত আচার্যের একের পর এক বিশ্লেষণ ফেসবুক ও ইউটিউবে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ দু’হাত তুলে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন। আওয়ামি লিগের পালিয়ে থাকা কয়েকজন নেতা সেই জনপ্রিয়তা মেনে নিতে পারেননি। এখনও পারছেন না।
তাঁরা হয়তো এখনও বিশ্বাস করেন, সুবিধা দিয়ে মানুষকে কিনে নেওয়া যায়। সবাইকে নিজেদের পক্ষে কথা বলানো যায়।
না, প্রথম কলকাতা বিক্রি হয়নি। বিক্রি হবে না।
এ প্রসঙ্গে আমার নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা বলা প্রয়োজন।
২০২৫ সালের পয়লা বৈশাখে ঢাকায় উপস্থিত ছিলাম আমি। পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র সংবাদ প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশের অন্যতম বড় এই অনুষ্ঠানের খবর সংগ্রহ করেছিলাম।
আজও সেই দিনগুলির কথা মনে পড়ে। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং আওয়ামি লিগের বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে দলের বহু নেতা, কর্মী ও সমর্থকের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তাঁদের মুখেই শুনেছিলাম শেখ হাসিনার আমলে বঞ্চনা, অবহেলা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের কথা।
আওয়ামি লিগের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের একাংশ অভিযোগ করেছিলেন, বছরের পর বছর দলের নাম ব্যবহার করে ক্ষমতাশালী নেতাদের একাংশ নানা অপকর্ম চালিয়েছেন। গোপালগঞ্জের জমি বিক্রি থেকে অন্য দল থেকে টাকা নিয়ে আওয়ামি লিগের সদস্য করানোর অভিযোগও তাঁদের কথায় উঠে এসেছিল। সংবাদ প্রতিদিন-এ সেই অভিজ্ঞতা এবং বক্তব্য বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
ঢাকার মাটিতে দাঁড়িয়েই বুঝেছিলাম, আওয়ামি লিগের সাধারণ কর্মী এবং ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা নেতাদের একাংশের মধ্যে দূরত্ব কতটা বেড়েছে।
পরবর্তী সময়ে কলকাতায় বসে বাংলাদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ নেতা মহম্মদ হাছান মাহমুদ একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হওয়ার পরে তাঁকে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করেছিলেন কারা জানেন? আওয়ামি লিগেরই নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের একাংশ।
শুধু সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য নয়। তাঁদের ক্ষোভ ছিল ব্যক্তি হাছান মাহমুদ এবং তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকার বিরুদ্ধে। অনেকেই বলেছিলেন, আওয়ামি লিগের বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী নেতাদের অন্যতম তিনি।
আসলে শেখ হাসিনা এবং তাঁর ক্ষমতাবলয়ের একাংশের জন্য দলের বহু সাধারণ কর্মী বারবার বঞ্চিত ও অবহেলিত হয়েছেন। অথচ সুবিধাবাদী নেতাদের একাংশ বিপুল অর্থসম্পদ নিয়ে বিদেশে চলে গিয়েছেন। তাঁদের কাজের দায় আজ বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশে থেকে যাওয়া সাধারণ কর্মীদের।
যাঁরা দলকে সত্যিই ভালবাসেন, তাঁরা এখনও বাংলাদেশে রয়েছেন। আর যাঁরা দলের ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন, তাঁদের একাংশ বিদেশে বসে সংবাদমাধ্যমকে হুমকি দিচ্ছেন। এটাই আওয়ামি লিগের বর্তমান দুর্ভাগ্য।
আওয়ামি লিগের শাসনকালে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রথম কলকাতা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেছে। শেখ হাসিনার সময়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অবস্থাও তুলে ধরেছে। আবার বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ইতিবাচক দিকগুলিকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে।
তার পরেও এখন প্রথম কলকাতাকে নিশানা করা হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে খোদ সম্পাদক সুব্রত আচার্যকে।
সুব্রতর আদি বাড়ি পূর্ববঙ্গে। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের প্রথম সারির একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিত্বও করেছেন। সাংবাদিকতার সূত্রে শুধু ঢাকা কিংবা ময়মনসিংহ নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সমাজ ও রাজনীতিকে কাছ থেকে দেখেছেন।
আরও একটি বিষয় খুব সচেতনভাবেই বলতে হচ্ছে। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ভারতীয় ব্যুরোর প্রধান হিসেবে কাজ করার পরেও ২০২১ সাল থেকে সুব্রত বাংলাদেশের ভিসা পাননি। আবেদন করেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন প্রশাসনের সময় ভিসা মেলেনি। বাংলাদেশের প্রশাসন বদলানোর পরেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। কেন ভিসা দেওয়া হয়নি, তার কোনও সরকারি ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়নি।
কিন্তু তার জন্য সুব্রত কিংবা প্রথম কলকাতা কখনও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি। কারণ কোনও সরকার অথবা রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করা আর একটি দেশের মানুষকে অপছন্দ করা এক বিষয় নয়।
কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের প্রাক্তন প্রেসসচিব ছিলেন তারিক চয়ন। সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাই ছিল তাঁর কাজ। স্বাভাবিকভাবেই সুব্রত, আমার কিংবা অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছবিও রয়েছে। এতে অস্বাভাবিকতার কী আছে?
একজন প্রেসসচিবের সঙ্গে একজন সাংবাদিকের ছবি কোনও আর্থিক সুবিধা কিংবা রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রমাণ হতে পারে না। রাজনীতিক, কূটনীতিক, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং সাংবাদিকদের নিয়মিত দেখা হয়। সেই ছবি প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে কুৎসার কাজে ব্যবহার করাই বরং অসৎ উদ্দেশ্যের পরিচয় দেয়।
আজও আওয়ামি লিগের কয়েকজন চুনোপুটির কুৎসায় ভয় পাবে না প্রথম কলকাতা। প্রয়োজনে সব ধরনের আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত।
শুধুমাত্র কিছু কথা মনে করিয়ে দিতে চাই।
প্রথমত, কাঁচের ঘরে বসে ঢিল ছুড়বেন না। আজ কুৎসা করছেন। কাল প্রথম কলকাতা যদি আপনাদের দুর্নীতি ও অপকর্মের খবর প্রমাণ-সহ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে, তখন উত্তর দিতে পারবেন তো?
দ্বিতীয়ত, ইতিমধ্যেই বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে। প্রথম কলকাতা আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। ভারতে পালিয়ে থাকা সংশ্লিষ্ট আওয়ামি নেতারাও প্রস্তুত তো?
তৃতীয়ত, যে বাড়িটি সুব্রতর নয়, সেই বাড়ির ছবি সুব্রতর বাড়ি বলে দেখিয়ে কুৎসা ছড়ানো হচ্ছে। আমরা সব দেখেছি। আগামী দিনে ছবি, ভিডিয়ো এবং তথ্য দিয়ে আপনাদের অপকর্ম সামনে আনা হলে সামলাতে পারবেন তো?
চতুর্থত, ভয় দেখিয়ে কিংবা কুৎসা ছড়িয়ে প্রথম কলকাতার মুখ বন্ধ করা যাবে না। ঠিককে ঠিক এবং ভুলকে ভুল বলা হবে।
তবে প্রথম কলকাতা পাল্টা কুৎসার পথে হাঁটবে না। ব্যক্তিগত প্রতিশোধও নেবে না। উত্তর দেওয়া হবে সংবাদে, তথ্যপ্রমাণে এবং আইনের পথে।
ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক আগামী দিনে যাতে আরও শক্তিশালী হয়, সেই কাজ প্রথম কলকাতা করে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ কলকাতা-সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আসবেন। থাকবেন। চিকিৎসা করাবেন। প্রয়োজনীয় কাজ করবেন। নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে ঘুরে বেড়াবেন।
ঠিক তেমনই কলকাতা এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ বাংলাদেশে যাবেন। সেখানে নিরাপদ ও সম্মানিত বোধ করবেন। এটাই হওয়া উচিত দুই প্রতিবেশী দেশের স্বাভাবিক সম্পর্ক।
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু দুই সরকারের সম্পর্ক নয়। এই সম্পর্কের ভিত ভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, শিক্ষা, পর্যটন, ব্যবসা এবং অসংখ্য পারিবারিক বন্ধন। কোনও দল, নেতা কিংবা সাময়িক রাজনৈতিক টানাপড়েনের চেয়ে এই সম্পর্ক অনেক বড়।
কুৎসা, হুমকি এবং ব্যক্তিগত অপপ্রচার দিয়ে হারানো রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পাওয়া যায় না। আওয়ামি লিগকে সত্যিই ভালবাসলে নিজেদের ভুল স্বীকার করুন। সাধারণ কর্মীদের পাশে দাঁড়ান। বাংলাদেশের মানুষের আস্থা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করুন।
বিদেশের মাটিতে বসে ভারতের নাগরিক এবং একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে হুমকি দিয়ে আওয়ামি লিগের কোনও উপকার করছেন না। বরং দলটির আরও ক্ষতি করছেন।
প্রথম কলকাতা কোনও দলের বিরুদ্ধে নয়। মানুষের অধিকারের পক্ষে। কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক ভণ্ডামির বিরুদ্ধে।
প্রথম কলকাতা বিক্রি হয়নি। ভয় পেয়ে থামেনি। ভবিষ্যতেও থামবে না।
ঠিককে ঠিক, ভুলকে ভুল বলা হবে। কোনও শিবিরের মন জোগাতে নয়—মানুষের অধিকার এবং ভারত-বাংলাদেশের স্থায়ী বন্ধুত্বের স্বার্থে।
লেখক সংবাদ প্রতিদিন-এর সিনিয়র সাংবাদিক। প্রথম কলকাতার নিয়মিত লেখক ও বিশ্লেষক। প্রথম কলকাতার টকশোতেও তিনি নিয়মিত অংশ নিয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে আলোচনা করেন। লেখায় প্রকাশিত মতামত তাঁর নিজস্ব।
#FirstKolkata #SubrataAcharya #EditorThreats #PressFreedom #MediaFreedom #JournalistSafety #Journalism #BangladeshPolitics #AwamiLeague #MediaThreats
