‘আপনার এনটিএ কী করেছে দেখুন’, মোদীকে নিশানা রাহুলের

ইউজিসি-নেট নিয়ে ফের বিতর্ক, তিন বিষয়ে নতুন পরীক্ষা!

UGC NET Retest announced for English, Commerce and Sociology subjects after question paper errors

UGC NET Retest: ইউজিসি-নেট পরীক্ষা ঘিরে ফের বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইংরেজি, বাণিজ্য ও সমাজতত্ত্ব—এই তিন বিষয়ের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের একাধিক ত্রুটি সামনে আসার পর নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যালোচনায় প্রশ্নপত্রে তথ্যগত, ভাষাগত এবং অনুবাদজনিত সমস্যা ধরা পড়েছে। এর পরেই তিনটি বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি নিশানা করে তিনি জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—যে পরীক্ষার মাধ্যমে দেশের বহু তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়, সেই পরীক্ষার ব্যবস্থাপনায় বারবার সমস্যা দেখা দিলে তার দায় কে নেবে?

তিন বিষয়ে নতুন পরীক্ষা কেন?

ইউজিসি-নেটের ইংরেজি, বাণিজ্য এবং সমাজতত্ত্ব বিষয়ের পরীক্ষাকে ঘিরে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। প্রশ্নপত্রের মান, প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি, ভাষা এবং অনুবাদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়।

পর্যালোচনার পরে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা জানায়, সমস্যাগুলি এমন পর্যায়ের যে শুধুমাত্র ভুল প্রশ্ন বাদ দিয়ে বা উত্তরপত্র সংশোধনের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই তিনটি বিষয়েই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুনরায় পরীক্ষা হবে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর। যে পরীক্ষার্থীরা আগে এই তিন বিষয়ের পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাঁদের নতুন করে পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত কোনও ফি দিতে হবে না। একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ইংরেজি, বাণিজ্য এবং সমাজতত্ত্ব বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাকি ৮৪টি বিষয়ের পরীক্ষা এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ছে না।

প্রশ্নপত্র নিয়ে ঠিক কী অভিযোগ উঠেছিল?

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি এবং প্রশ্নপত্রের ভাষাগত সমস্যা। বিশেষ করে ইংরেজি ও সমাজতত্ত্বের প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।

একাধিক প্রতিবেদনে পরীক্ষার্থীদের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে যে ইংরেজি বিষয়ের প্রশ্নপত্রে আগের পরীক্ষার বহু প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি দেখা গিয়েছিল। সমাজতত্ত্বের ক্ষেত্রেও বানান, ভাষা এবং প্রশ্নের উপস্থাপন নিয়ে অভিযোগ ছিল। কিছু পরীক্ষার্থী এমন প্রশ্ন নিয়েও আপত্তি তুলেছিলেন, যেগুলি নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে তাঁদের সন্দেহ ছিল।

এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়টি শুধু একটি ভুল প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কারণ ইউজিসি-নেট এমন একটি পরীক্ষা, যার ফলাফল উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রশ্নপত্রে বড় ধরনের ত্রুটি হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়ে পরীক্ষার্থীদের উপর।

‘মোদীজি, আপনার এনটিএ কী করেছে দেখুন’, সরব রাহুল

নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরেই রাহুল গান্ধী এই বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে সামনে এনেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ করে তিনি জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

রাহুলের বক্তব্যের মূল অভিযোগ, দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি পড়ুয়াদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। ইউজিসি-নেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাতেও যদি প্রশ্নপত্র নিয়ে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয় এবং পরে নতুন করে পরীক্ষা নিতে হয়, তাহলে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হবে।

রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্য মূলত পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে কেন্দ্র করে। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের সমস্যার কথাও উঠে এসেছে। তিনি মনে করেন, জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির ক্ষেত্রে ভুলের সুযোগ অত্যন্ত কম, কারণ কয়েকটি প্রশ্নের ত্রুটিও পরীক্ষার্থীর ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ইউজিসি-নেট শুধু একটি সাধারণ চাকরির পরীক্ষা নয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে জুনিয়র গবেষণা বৃত্তির যোগ্যতা, সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগের যোগ্যতা এবং কিছু ক্ষেত্রে পিএইচডিতে ভর্তির যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার সরকারি তথ্যেও ইউজিসি-নেটের এই উদ্দেশ্যগুলি উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই একটি পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের সময়, প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রশ্নও জড়িয়ে যায়। অনেক পরীক্ষার্থী ইতিমধ্যেই দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় বসেছিলেন। নতুন পরীক্ষা মানে তাঁদের আবার একই প্রস্তুতির মধ্যে ফিরতে হবে।

অবশ্য জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে ফল প্রকাশের চেয়ে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া বেশি ন্যায়সঙ্গত হতে পারে। বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যালোচনার পরে সংস্থাও সেই পথই বেছে নিয়েছে। অতিরিক্ত ফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে পরীক্ষার্থীদের।

শুধু তিন বিষয়, বাকি পরীক্ষার্থীদের কী হবে?

এই সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—পুরো ইউজিসি-নেট পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি। শুধুমাত্র ইংরেজি, বাণিজ্য এবং সমাজতত্ত্ব বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বাকি ৮৪টি বিষয়ের পরীক্ষা এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকছে।

ফলে যে পরীক্ষার্থীরা অন্য বিষয়ের পরীক্ষা দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন পরীক্ষার কোনও নির্দেশ নেই। অন্যদিকে তিনটি বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের আবার পরীক্ষায় বসতে হবে।

এখন তাঁদের প্রধান প্রশ্ন, নতুন পরীক্ষার ফল কবে প্রকাশিত হবে এবং তার সঙ্গে সামগ্রিক ইউজিসি-নেটের ফল প্রকাশের সময়সূচিতে কোনও পরিবর্তন হবে কি না। কারণ এই পরীক্ষার ফলের সঙ্গে গবেষণা, অধ্যাপনা এবং উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পরিকল্পনা যুক্ত থাকে।

সব মিলিয়ে ইউজিসি-নেটকে ঘিরে নতুন করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে একটি বড় প্রশ্ন—জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের আস্থা কীভাবে অটুট রাখা যাবে? ভুল ধরা পড়ার পর সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পরীক্ষার্থীদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভবিষ্যতে এমন ত্রুটি কীভাবে ঠেকানো হবে। আর সেই প্রশ্নকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার করে কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন রাহুল গান্ধী।

#UGCNET #UGCNETRetest #UGCNET2026 #NTA #NationalTestingAgency #RahulGandhi #NarendraModi #ExamControversy #UGCNETExam #EducationNews

Exit mobile version