২০২৯-এর আগে বড় প্রস্তুতি! নীতিন নবীনের নতুন দল ঘোষণা, বিজেপিতে বড় সাংগঠনিক রদবদল—স্মৃতি থেকে পীযূষ, কার কাঁধে কোন দায়িত্ব?

BJP National Office Bearers announced under BJP President Nitin Nabin, with Smriti Irani, Vasundhara Raje, Ram Madhav and Baijayant Panda receiving key organisational responsibilities

BJP National Office Bearers: ভারতীয় জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠনে বড়সড় রদবদল। দলের জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের নেতৃত্বে নতুন জাতীয় পদাধিকারীদের দল ঘোষণা করা হয়েছে। ১৭ আগস্টের এই ঘোষণায় ১৩ জন জাতীয় সহ-সভাপতি, ৮ জন জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ১৬ জন জাতীয় সম্পাদক নিয়োগ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি তুলনামূলক নতুন মুখকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে নজরকাড়া নামগুলির মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে, রাম মাধব এবং বৈজয়ন্ত পাণ্ডা। অন্যদিকে পীযূষ গোয়ালকে জাতীয় কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সম্বিত পাত্রকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্মৃতি ইরানিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, সাধারণ সম্পাদক হলেন তিনি

নতুন দলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় স্মৃতি ইরানির নাম। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে মোট আটজন জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন এবং স্মৃতি ইরানি তাঁদের অন্যতম।

দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় সাধারণ সম্পাদকের পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্মৃতি ইরানিকে এই দায়িত্ব দেওয়াকে বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্বেরই ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আগামী দিনের রাজনৈতিক প্রস্তুতি, সাংগঠনিক বিস্তার এবং নির্বাচনী কৌশলের ক্ষেত্রে নতুন সাধারণ সম্পাদকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আগের কাঠামোয় আটজন জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে কোনও মহিলা ছিলেন না। নতুন দলে স্মৃতি ইরানির অন্তর্ভুক্তি সেই ছবিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বসুন্ধরা রাজে, রাম মাধব, বৈজয়ন্ত পাণ্ডা—সহ-সভাপতি পদে একাধিক পরিচিত মুখ

নতুন জাতীয় সহ-সভাপতিদের তালিকাতেও রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নাম। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে, রাম মাধব এবং বৈজয়ন্ত পাণ্ডাকে জাতীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে।

রাম মাধবের সংগঠন পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশেষ করে বিজেপি এবং আরএসএসের মধ্যে সমন্বয় ও সাংগঠনিক কাজের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বহু বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অন্যদিকে বৈজয়ন্ত পাণ্ডাও দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক এবং নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।

বসুন্ধরা রাজের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দীর্ঘ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে নতুন কেন্দ্রীয় দলে অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

নতুন কাঠামোয় মোট ১৩ জন জাতীয় সহ-সভাপতি রয়েছেন।

পীযূষ গোয়াল পেলেন কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব

নতুন দলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়ালকেও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে বিজেপির জাতীয় কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে।

একটি বড় রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সাংগঠনিক অর্থনীতি এবং বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনী ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে এই পদ সরাসরি যুক্ত।

পীযূষ গোয়ালের প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে তাঁকে সংগঠনের আর্থিক দায়িত্ব দেওয়া নতুন দলের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

একই সঙ্গে সম্বিত পাত্রকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৬ জন জাতীয় সম্পাদক, নতুন মুখেও জোর

নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় ১৬ জন জাতীয় সম্পাদকও নিয়োগ করা হয়েছে। অর্থাৎ বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে শুধু শীর্ষ পদগুলিতেই পরিবর্তন হয়নি, তার নিচের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক স্তরেও বড় রদবদল করা হয়েছে।

এই নতুন কাঠামোকে বিজেপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দলের সামনে একাধিক রাজ্যে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজ্যভিত্তিক সংগঠন, সামাজিক সমীকরণ, যুব নেতৃত্ব এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া হতে পারে।

নীতিন নবীনের নতুন দল গঠনের আগে বিজেপির অন্দরে দীর্ঘ সময় ধরে সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস নিয়ে আলোচনা চলছিল। জুন মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নতুন দলে প্রজন্মগত পরিবর্তন, লিঙ্গভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব, জাতিগত ভারসাম্য এবং অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

২০২৯-এর আগে সংগঠন শক্ত করার বড় প্রস্তুতি?

নীতিন নবীন বিজেপির জাতীয় সভাপতি হওয়ার পর থেকেই তাঁর নিজস্ব সাংগঠনিক দল নিয়ে জল্পনা চলছিল। জুন মাসে দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নতুন কাঠামোয় তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি আগামী দিনে নির্বাচন হতে চলা রাজ্যগুলিকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্য ছাড়াও রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগঢ়ের মতো রাজ্যগুলির সাংগঠনিক গুরুত্ব নিয়েও তখন আলোচনা হয়েছিল। অর্থাৎ নতুন দল গঠন শুধুমাত্র পদবদলের বিষয় নয়; এর পিছনে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রস্তুতির পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিকে বিজেপির নতুন জাতীয় পদাধিকারীদের ঘোষণাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও স্বাগত জানিয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, তিনি নতুন দলকে অভিজ্ঞতা, তারুণ্যের শক্তি এবং তৃণমূল স্তরের সংযোগের সমন্বয় হিসেবে তুলে ধরেছেন।

সব মিলিয়ে নীতিন নবীনের নেতৃত্বে বিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় দল এখন সাংগঠনিকভাবে আরও সক্রিয় হওয়ার পথে। ১৩ সহ-সভাপতি, ৮ সাধারণ সম্পাদক এবং ১৬ সম্পাদককে নিয়ে তৈরি এই নতুন কাঠামোয় স্মৃতি ইরানি, বসুন্ধরা রাজে, রাম মাধব, বৈজয়ন্ত পাণ্ডা এবং পীযূষ গোয়ালের মতো পরিচিত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সামনে দলের সংগঠন কীভাবে এগোয় এবং নতুন পদাধিকারীরা কোন কোন রাজ্যে কী দায়িত্ব পান, সেটিই এখন নজরে।

Exit mobile version