Abhijeet Dipke: নাগপুরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নাম। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে তাঁকে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া (আঠাওয়ালে)-তে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর পরই পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন দীপক। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে রাজনৈতিক অবস্থানের এমন পরিবর্তন, যা তিনি নিজের সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্নের আকারে তুলে ধরেছেন।
আটওয়ালের কী প্রস্তাব?
রামদাস আটওয়ালে, যিনি রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া (আঠাওয়ালে)-র প্রধান এবং কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের শরিক, অভিজিৎ দীপককে সরাসরি রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আটওয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, দীপক একজন তরুণ ও সক্রিয় আম্বেদকরবাদী। তাই তাঁর উচিত রাজনীতিতে প্রবেশ করে ড. বাবাসাহেব আম্বেদকরের ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সমাজ ও দলকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা নেওয়া।
অর্থাৎ, যে তরুণ মুখটি সাম্প্রতিক সময়ে যুবসমাজ, শিক্ষা, চাকরি এবং সরকারি ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়ে সরব হয়ে জাতীয় আলোচনায় উঠে এসেছে, তাঁকেই এবার সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দেওয়া হল।
‘এক মাস আগেই কি দেশবিরোধী ছিলাম?’
আটওয়ালের প্রস্তাব সামনে আসতেই অভিজিৎ দীপক সামাজিক মাধ্যমে একটি কটাক্ষপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। তাঁর ইনস্টাগ্রাম বার্তার সারমর্ম ছিল—“মাত্র এক মাস আগেই তো আমি তোমাদের কাছে দেশবিরোধী ছিলাম?”
এই মন্তব্যের মধ্যেই রয়েছে তাঁর আপত্তির মূল সুর। অর্থাৎ, যে সময় তাঁর নেতৃত্বাধীন আন্দোলন সরকারের বিভিন্ন নীতি ও ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছিল, তখন তাঁকে নিয়ে দেশবিরোধী তকমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অথচ অল্প সময়ের মধ্যেই সেই একই ব্যক্তিকে আবার দলীয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে—এই বৈপরীত্যই দীপক সামনে আনতে চেয়েছেন।
তবে আটওয়ালের প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয়ে দীপক কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। তাঁর প্রতিক্রিয়া মূলত রাজনৈতিক অবস্থানের এই পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
কীভাবে আলোচনায় এলেন অভিজিৎ দীপক?
২০২৬ সালে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে অভিজিৎ দীপকের উত্থান ঘটে। প্রথমে ব্যঙ্গাত্মক সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হলেও পরবর্তীতে এটি যুবসমাজের শিক্ষা, চাকরি, পরীক্ষাব্যবস্থা এবং সরকারি জবাবদিহি নিয়ে সরব একটি আন্দোলনের রূপ নেয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আন্দোলনের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী যুক্ত হয়েছিলেন।
দীপক নিজেও আগে জানিয়েছিলেন যে তাঁর লক্ষ্য সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করা নয়; বরং যুবসমাজের সমস্যাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং রাজনৈতিক দলগুলির উপর চাপ তৈরি করা। জুনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তাঁদের উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক দলগুলিকে তার রাজনৈতিক মূল্য দিতে বাধ্য করা।
ফলে আটওয়ালের সাম্প্রতিক আমন্ত্রণকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—দীপক কি আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে দলীয় রাজনীতির পথে হাঁটবেন, নাকি আগের অবস্থানেই থেকে চাপ সৃষ্টিকারী জনআন্দোলন হিসেবে কাজ করবেন?
আটওয়ালের বক্তব্যে আরও কী উঠে এসেছে?
শুধু দীপককে দলীয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান নয়, রামদাস আটওয়ালের বক্তব্যে জাতীয় রাজনীতির আরও কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে। তিনি জানান, বিজেপির সাংগঠনিক পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় খুব শিগগিরই রদবদল হতে পারে। বিজেপি এবং তার সহযোগী এনসিপি থেকে নতুন মুখ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এর পাশাপাশি শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি-র আট সাংসদকেও জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান আটওয়ালে। তাঁর বক্তব্য, শরদ পওয়ার যদি শাসক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত না নেন, তাহলে ওই সাংসদদের জোট সরকারের সঙ্গে আসা উচিত।
‘এক মাস আগেই কি দেশবিরোধী ছিলাম?’
আটওয়ালের প্রস্তাবের পর অভিজিৎ দীপকের প্রতিক্রিয়াই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। তিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন—“এক মাস আগেই তো আমি তোমাদের কাছে দেশবিরোধী ছিলাম?”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে দীপক মূলত রাজনৈতিক অবস্থানের বৈপরীত্যের দিকটি সামনে আনতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, কিছুদিন আগেই তাঁর আন্দোলন এবং অবস্থানের কারণে তাঁকে দেশবিরোধী বলে আক্রমণ করা হয়েছিল। অথচ এখন তাঁকেই একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তাই সরাসরি প্রস্তাব গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার বদলে তিনি প্রথমেই সেই পুরনো বিতর্কের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে কার্যত প্রশ্ন রয়েছে—রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছে কার, তাঁর, নাকি তাঁকে নিয়ে মন্তব্য করা ব্যক্তিদের?
#AbhijeetDipke #RamdasAthawale #RPIA #RepublicanPartyOfIndia #CockroachJantaParty #IndianPolitics #MaharashtraPolitics #PoliticalNews #AmbedkaritePolitics #YouthPolitics #PoliticalControversy #IndiaNews #LatestPoliticalNews #MaharashtraNews #IndianYouth #PoliticalUpdate #BreakingNews #PoliticsIndia
