West Bengal School Curriculum: রাজ্যের স্কুলশিক্ষায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল শিক্ষা দপ্তর। পাঠ্যক্রমে সংশোধন, বিদ্যালয়ের পোশাক ও রঙের বিষয়ে স্বাধীনতা, জনগণনার সময় স্কুল পরিচালনা এবং শিক্ষক নিয়োগ—সব বিষয়েই বিস্তারিত অবস্থান স্পষ্ট করলেন শিক্ষামন্ত্রী।
সিলেবাস বদলের প্রস্তুতি, গড়া হল বিশেষ কমিটি, শিক্ষামন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু বদল নয়, বর্তমান সময়ের চাহিদা এবং ভবিষ্যতের দক্ষতার কথা মাথায় রেখেই নতুন সিলেবাস তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই সিলেবাস পর্যালোচনা কমিটি এবং পুনর্মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তাঁর কথায়, এই কমিটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রথম পর্যায়ে ২০২৭ সালে প্রকাশিত হওয়া পাঠ্যবইগুলির পর্যালোচনা করা হবে। এরপর ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষানীতির আলোকে বিস্তারিত সিলেবাস তৈরির কাজ শুরু হবে। বিভিন্ন মহল থেকে আসা মতামত ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ খতিয়ে দেখার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই এখনই সিলেবাসে কী থাকবে বা কী বাদ পড়বে, তা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি শিক্ষামন্ত্রী।
পুরনো পোশাক ও বিদ্যালয়ের রঙ ফিরিয়ে আনার সুযোগ
বিদ্যালয়ের পোশাক পরিবর্তন নিয়ে তিনি জানান, রাজ্যের সব বিদ্যালয়ের কাছ থেকে মতামত চাওয়া হয়েছে। কোনও বিদ্যালয় চাইলে তাদের পুরনো ঐতিহ্যবাহী পোশাক আবার চালু করতে পারবে।
শুধু পোশাক নয়, বিদ্যালয়ের ভবনের রঙ নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। তারা নিজেদের পছন্দের প্রস্তাব শিক্ষা দপ্তরে পাঠাবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
জনগণনার জন্য সকালের স্কুল? শিক্ষকদের প্রস্তাবেই ভাবনা
জনগণনার কাজের জন্য স্কুলে পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সকালের স্কুল চালুর প্রস্তাব সরকারের নয়। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে শিক্ষক প্রতিনিধিরাই এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
তাঁদের যুক্তি ছিল, কিছুদিন সকালের স্কুল চালু থাকলে দিনের বাকি সময় জনগণনার কাজ করা সম্ভব হবে এবং শিক্ষাদানও কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার বিষয়টি বিবেচনা করছে, তবে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
একই সঙ্গে তিনি জানান, জনগণনার কাজে অনেক বিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক বেশি সংখ্যক শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষা দপ্তরের শীর্ষ কর্তাদের নজরে আনা হয়েছে। কোথায় কীভাবে শিক্ষকদের ওপর চাপ কমানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
শিক্ষক নিয়োগে জোর দিচ্ছে সরকার
শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে ৩১ আগস্টের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি জানান, বিদ্যালয় পরিষেবার মাধ্যমে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশের কারণে মাঝপথে আটকে গিয়েছিল, সেটি এখন দ্রুত সম্পন্ন করার কাজ চলছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, যদি দেখা যায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও কারণে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না, তাহলে প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করা হবে।
এছাড়া গ্রুপ ‘সি’ পদের ফলাফলও প্রস্তুত রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তা প্রকাশ করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর কথায়, আদালতের নির্দেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই শিক্ষা দপ্তর প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দ্রুত কাজ এগিয়ে চলেছে।

